Tag: Foreign contribution regulation act

Foreign contribution regulation act

  • Hindus Under Attack: হিন্দু আচার, ধর্মান্তর, হিংসায় বিপন্ন হিন্দুরা, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: হিন্দু আচার, ধর্মান্তর, হিংসায় বিপন্ন হিন্দুরা, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, ধর্মীয় স্থাপনায় চুরি এবং বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week)। আসুন, ৫ থেকে ১১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত  সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে।

    ধর্মান্তরের অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা (Hindus Under Attack)

    পুনের ঐতিহাসিক মহাত্মা ফুলে ওয়াড়ায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ মেধা কুলকার্নির ঐতিহ্যবাহী বট পূর্ণিমার আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তথাকথিত প্রগতিশীল মহলের একাংশের সমালোচনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইতিহাস ও জাতিভিত্তিক বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলায় জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগকে ঘিরে দুটি পৃথক মামলার জেরে উত্তেজনা বেড়েছে। প্রথম মামলাটি জুনের শুরুতে এক বিশিষ্ট ওষুধ ব্যবসায়ীর ছেলেকে কেন্দ্র করে দায়ের হয়। দ্বিতীয় ঘটনাটি সামনে আসে জুলাইয়ের শুরুতে, যেখানে একটি রাজপুত পরিবার তাদের ৩৫ বিঘা পৈতৃক জমি দখলের হুমকি এবং ধর্মান্তরের চাপের অভিযোগ তোলে। উভয় ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যরা বাঘরার যোগ সাধনা আশ্রমের প্রধান স্বামী যশবীর মহারাজের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি পুলিশি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে প্রয়োজনে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন (Hindus Under Attack)।

    কৃষি উৎসবকে কেন্দ্র করে হিংসা

    কর্নাটকের হাভেরি জেলার হাঙ্গাল তালুকের নরেগাল গ্রামে শতাব্দীপ্রাচীন সনাতনী কৃষি উৎসব কারা হুন্নিমে উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, একটি বিবাদকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইসলামি সম্প্রদায়ের একদল দুষ্কৃতী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী হিন্দুদের ওপর বিনা প্ররোচনায় হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় অন্তত আটজন জখম হন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। কর্নাটকেরই বেঙ্গালুরুর জিগানিতে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বছর তিরিশের অক্ষতা ইন্দরাগির দেহ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বাড়িটি বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের সঙ্গী জনৈক নানা সাব এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি। কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের কেশর আমদানি এবং তিলক পরার রীতি নিয়ে করা মন্তব্যকে ঘিরে (Hindus Under Attack) বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, বিশ্বের অধিকাংশ কেশর ইসলামি দেশগুলি থেকে আমদানি হয়, তাই হিন্দুদের তিলক পরা বন্ধ করা উচিত। সমালোচকদের মতে, অধিকাংশ হিন্দুই দৈনন্দিন তিলকের জন্য বিশুদ্ধ কেশর ব্যবহার করেন না, ফলে তাঁর বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন

    এদিকে, বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় নিবন্ধন থাকলেই আর বিদেশি অর্থ নেওয়া সাধারণ অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে না। এখন থেকে বিদেশি অনুদানের উদ্দেশ্য, অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে। নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থপুষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের একাংশ আপত্তি জানিয়েছে (Roundup Week)। একই সঙ্গে ধর্মান্তর, রাজনৈতিক প্রচার এবং আন্দোলনে বিদেশি অর্থ ব্যবহারের ওপর সরকারের কড়াকড়িও চর্চায় এসেছে। চেন্নাইয়ের তাম্বরমে বছর ছাপ্পান্নর মহম্মদ ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়েছে বছর বারোর এক নাবালিকাকে টানা চার মাস ধরে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে। নির্যাতিতার বাবা তাঁরই গুদামের কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে শিশু সুরক্ষা এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে (Hindus Under Attack)।

    বহির্বিশ্বের ছবি

    বহির্বিশ্বের ছবিটাও খুব একটা ভিন্ন নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচারের অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছেন স্বঘোষিত সাংবাদিক পিটার ফ্রিডরিখ। অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে তিনি আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ঘুরে সিটি কাউন্সিল-সহ বিভিন্ন জনমঞ্চে হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন। আটলান্টা, পালো অল্টো-সহ একাধিক শহরে তাঁর বক্তব্যের টার্গেট হয়েছে হিন্দুদের বিভিন্ন সংগঠন, যার মধ্যে কোয়ালিশন অব হিন্দুস অব নর্থ আমেরিকাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির দাবি, তাঁর অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং হিন্দু সমাজের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যেই এই প্রচার চালানো হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ কেবল প্রত্যক্ষ হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন দেশে (Roundup Week) সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেও বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে, তামাম বিশ্বে (Hindus Under Attack) খুব একটা সুখে নেই হিন্দুরা।

     

  • FCRA 2026: বিদেশি অনুদানে ধর্মান্তরণে নিষেধাজ্ঞা, এনজিওগুলির উপর নজরদারি আরও কড়া করল কেন্দ্র

    FCRA 2026: বিদেশি অনুদানে ধর্মান্তরণে নিষেধাজ্ঞা, এনজিওগুলির উপর নজরদারি আরও কড়া করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশি অনুদানের ব্যবহার নিয়ে নজরদারি আরও কঠোর করতে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (FCRA)-এর অধীনে নতুন সংশোধিত বিধি জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এই নতুন নিয়মে প্রথমবার স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিদেশি অনুদান কোনওভাবেই ধর্মান্তরণ-সংক্রান্ত কার্যকলাপে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বিদেশি অনুদানের ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, কিছু বিদেশি অর্থপুষ্ট বেসরকারি সংস্থা (NGO), ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মিশনারি সংগঠন সমাজসেবা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আড়ালে ধর্মান্তরণের কাজে বিদেশি অনুদান ব্যবহার করছে। বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের পর কেন্দ্র এফসিআরএ-র নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    এফসিআরএ (FCRA)-র ইতিহাস

    বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (Foreign Contribution (Regulation) Act) প্রথম চালু হয় ১৯৭৬ সালে। উদ্দেশ্য ছিল, বিদেশি অর্থ যাতে দেশের রাজনীতি, সামাজিক কাঠামো বা জাতীয় স্বার্থকে প্রভাবিত করতে না পারে। ২০১০ সালে আইনটি সংশোধিত হয়। এরপর ২০২০ এবং ২০২৬ সালে আরও গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে নিবন্ধন করতে হয়। এই নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং পরে তা নবীকরণ করতে হয়।

    নিবন্ধনের সময় জানাতে হবে উদ্দেশ্য ও কাজের ক্ষেত্র

    সেবা ইন্টারন্যাশনালের জাতীয় কোষাধ্যক্ষ রাকেশ মিত্তলের দাবি, নতুন সংশোধনের ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলির কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হবে। এখন থেকে নিবন্ধন বা নবীকরণের আবেদন করার সময় সংস্থাকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে কোন উদ্দেশ্যে বিদেশি অনুদান নেওয়া হচ্ছে এবং কোন রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সেই অর্থ ব্যয় করা হবে। যেসব সংস্থার ইতিমধ্যেই এফসিআরএ নিবন্ধন রয়েছে, তাদেরও এক বছরের মধ্যে নিজেদের ঘোষিত উদ্দেশ্য নতুন নিয়ম অনুযায়ী হালনাগাদ করে কেন্দ্রকে জানাতে হবে।

    পাঁচটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়েছে কার্যক্রম

    সংশোধিত নিয়মে বিদেশি অনুদানে পরিচালিত কার্যক্রমকে পাঁচটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়েছে— ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, শিক্ষামূলক, অর্থনৈতিক। এর অধীনে একাধিক উপ-বিভাগও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ২২টি উপ-শ্রেণি রাখা হয়েছে। তবে সংবিধান, মৌলিক অধিকার, মৌলিক কর্তব্য ও নাগরিক সচেতনতা সংক্রান্ত কর্মসূচি পরিচালনা করতে হলে তা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হতে হবে। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ১৮টি উপ-শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় ঐতিহ্যভিত্তিক সমকালীন শিল্পকলার প্রসারের অনুমতি থাকলেও রাজনৈতিক বা মতাদর্শভিত্তিক বিষয়বস্তু নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ধর্মীয় কার্যক্রমে ধর্মান্তরণে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা

    নতুন সংশোধনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ধর্মীয় কার্যক্রমের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ। ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, সৎসঙ্গ, ধর্মীয় আলোচনা, ধ্যান শিবির, ধর্মীয় সাহিত্য প্রকাশ, উপাসনালয় নির্মাণ এবং তীর্থযাত্রীদের সুবিধা প্রদানের মতো কার্যক্রমের অনুমতি থাকলেও, নিয়মে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ধর্মান্তরণ-সংক্রান্ত কোনও কার্যকলাপ বিদেশি অনুদানে করা যাবে না।

    বিদেশি নাগরিক থাকলে নিবন্ধনে কড়াকড়ি

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে বিদেশি নাগরিক থাকলে সাধারণভাবে সেই সংস্থাকে এফসিআরএ নিবন্ধন দেওয়া হবে না। এছাড়া বিদেশি অনুদানের পরবর্তী কিস্তি পাওয়ার আগে আগের প্রাপ্ত অর্থের অন্তত ৭৫ শতাংশ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যয় হয়েছে বলে দেখাতে হবে। সংস্থাগুলিকে তাদের ওয়েবসাইট, সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, প্রকাশনা এবং ট্রাস্টি, পরিচালক, অংশীদার ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্যও সরকারকে জানাতে হবে। ফলে পরিচালনাকারী ব্যক্তিদের আইনগত জবাবদিহিও বাড়বে।

    সরকারের লক্ষ্য কী?

    সেবা ভারতীর জাতীয় সম্পাদক রমেন্দ্র সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য বিদেশি অনুদানের ব্যবহারে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা। সরকারের মতে, বিদেশি অনুদান শুধুমাত্র যে উদ্দেশ্যে অনুমোদিত হয়েছে, সেই কাজেই ব্যবহার করা উচিত।

    কত সংস্থার লাইসেন্স বাতিল হয়েছে?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন এবং বাধ্যতামূলক বার্ষিক রিপোর্ট জমা না দেওয়ার অভিযোগে প্রায় ২১,৯৩৩টি এনজিওর এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে অথবা তাদের নবীকরণের আবেদন খারিজ হয়েছে। ফলে এসব সংস্থা আর বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

    একাধিক সংস্থা তদন্তের মুখে

    গত কয়েক বছরে বিদেশি অনুদান ব্যবহারের অভিযোগে একাধিক সংস্থা তদন্তের মুখে পড়েছে। ২০১৬-১৭ সালে মার্কিন সংস্থা কমপ্যাশন ইন্টারন্যাশনাল (Compassion International)-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের এফসিআরএ নবীকরণ আটকে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিসন ইন্ডিয়া (World Vision India) এবং গসপেল ফর এশিয়া (Gospel for Asia)-সহ একাধিক বিদেশি অর্থপুষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আসে। ২০২১ সালে মাদার টেরেসা প্রতিষ্ঠিত Missionaries of Charity-র FCRA নবীকরণও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়। সম্প্রতি, ২০২৬ সালের জুনে বেঙ্গালুরু পুলিশ মার্কিন মিশনারি সংস্থা দ্য টিমোথি ইনিসিয়েটিভ (The Timothy Initiative)-র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, বৈধ এফসিআরএ নিবন্ধন ছাড়াই বিদেশি অনুদান গ্রহণ এবং মিশনারি কার্যক্রমে তা ব্যবহারের অভিযোগে ৯২ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আরও কঠোর নজরদারির পথে কেন্দ্র

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের সংশোধিত এফসিআরএ বিধি ভারতের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে। প্রথমবার ধর্মান্তরণকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদেশি অনুদানের উদ্দেশ্য, ব্যবহার, কার্যপরিধি এবং সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি সম্পর্কেও বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলিকে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়মের আওতায় কাজ করতে হবে।

  • FCRA Violation: ঘুষ দিয়ে এনজিও-র কারবার! দেশজুড়ে হানা সিবিআইয়ের, নজরে কেন্দ্রীয় আধিকারিক

    FCRA Violation: ঘুষ দিয়ে এনজিও-র কারবার! দেশজুড়ে হানা সিবিআইয়ের, নজরে কেন্দ্রীয় আধিকারিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্তাদের ঘুষ দিয়ে দিব্যি চলছিল এনজিওর (NGO) কারবার। সেই কারবারের পর্দাফাঁস করতে দেশজুড়ে শুরু সিবিআই (CBI) তল্লাশি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (ministry of home affairs) বিদেশি বিভাগের কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে ঘুষ(bribe) নিয়ে এনজিও-র লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগেরই তদন্ত করতে দেশের ৪০টি জায়গায় হানা দেয় সিবিআই।

    দেশের সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে এনজিও। এগুলির বেশ কয়েকটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও উঠেছে। আবার লাইসেন্স পেয়েও পরে আর তা পুনর্নবীকরণ করেনি বেশ কিছু এনজিও। অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিদেশি বিভাগের কয়েকজন আধিকারিককে ঘুষ দিয়ে চলছে এনজিওগুলির এই রমরমা কারবার।

    সিবিআইয়ের এক মুখপাত্র জানান দিল্লি, রাজস্থান, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, কোয়েম্বটুর এবং মাইসোর সহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলেছে। তিনি জানান, এনজিও-র প্রতিনিধি, মিডিলম্যান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কয়েকজন আধিকারিক ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (Foreign contribution regulation act ) লঙ্ঘন করছে। ঘুষের বিনিময়ে তাঁরা বিভিন্ন এনজিওকে সুবিধাও পাইয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। এই সব অভিযোগের সারবত্তা জানতেই তল্লাশি অভিযান চলছে বলে জানান ওই আধিকারিক। সংবাদমাধ্যমকে ওই আধিকারিক বলেন, প্রায় আধ ডজন সরকারি আধিকারিক ও অন্যান্য কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তল্লাশি চালানোর সময়। হাওলার মাধ্যমে ২ কোটির কাছাকাছি টাকা লেনদেন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট বিভাগটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফরেনার্স ডিভিশনের একটি অংশ। এনজিওতে যে বিদেশি অনুদান আসে, তার অনুমতি দেয় এই বিভাগ। এরা যেমন এনজিওগুলির লাইসেন্স দেয়, তেমনি লাইসেন্স পুনর্নবীকরণও করে। এই বিভাগে কর্মরতদের একাংশের বিরুদ্ধেই উঠেছে ঘুষ নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ। সেই অভিযোগের কিনারা করতেই দেশজুড়ে চলছে সিবিআইয়ের তল্লাশি অভিযান।

    জানা গিয়েছে, দেশে রেজিস্টার্ড এনজিও রয়েছে ১৬ হাজার ৮৯০টি। সরকার বাতিল করেছে ২০ হাজার ৬৭৯ এনজিও-র লাইসেন্স। ১২ হাজার ৫৪০ এনজিও তাদের লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করেনি বলেও অভিযোগ। সূত্রের খবর, সিবিআই অভিযুক্ত আধিকারিকদের গ্রেফতার করতে পারে। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই আধিকারিকদের গ্রেফতার করতে পারলেই জানা যাবে কীভাবে ঘুষের বিনিময়ে চলছে এনজিও-র রমরমা কারবার।

     

LinkedIn
Share