Tag: Foreign Investment

Foreign Investment

  • PM Modi’s Foreign Tours: মোদির বিদেশ সফরে প্রতি এক টাকা খরচের বিনিময়ে ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে ভারতে, রাজ্যসভায় হিসেব দিল কেন্দ্র

    PM Modi’s Foreign Tours: মোদির বিদেশ সফরে প্রতি এক টাকা খরচের বিনিময়ে ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে ভারতে, রাজ্যসভায় হিসেব দিল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফর নিয়ে সংসদে বড় তথ্য দিল কেন্দ্রীয় সরকার। গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচের তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে অনেক বেশি। কেন্দ্রের দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরে কেন্দ্রের মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮২.৯২ কোটি। একই সময়ে, অর্থাৎ এপ্রিল ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ভারতে এসেছে ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩১.৬৯ লক্ষ কোটি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)। চলতি বছরে একাধিক দেশে সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সফরে কত টাকা খরচ হয়েছে, তা রাজ্যসভায় স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র। ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৪.৫ কোটি।

    কোথায় কত টাকা থরচ হয়েছে

    বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চিন-সহ মোট ২৩টি দেশ সফরে ১৮০ কোটিরও বেশি টাকা খরচ হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে মোট ৭৪টি বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা। ২০১৪ থেকে ২০১৮ এই চার বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রায় খরচ হয়েছিল প্রায় ২ হাজার কোটি। ২০২০ থেকে ২০২৫-এই পাঁচ বছরে খরচ কমে দাঁড়ায় ২৫৮ কোটি। সে তুলনায় ২০২১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচ কমেছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদেশ সফরের খরচ এবং এই সফরগুলির জেরে দেশে আসা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা জানান, চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মোট ৬টি সরকারি বিদেশ সফরে গিয়েছেন। এই সফরগুলিতে তিনি ১৩টি দেশে সফর করেছেন এবং তাতে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে ৭৪.৫ কোটি টাকা।

    কত টাকা এফডিআই এসেছে

    কেন্দ্রের তরফে যে হিসেব দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়, ডলার প্রতি ৮৩ টাকা বিনিময় হার ধরে হিসেব করলে দেখা যায়, বিদেশ সফরে প্রতি ১ টাকা খরচের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৬৫,৬২০, অর্থাৎ প্রায় ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩১.৬৯ লক্ষ কোটি। তবে এটি শুধুমাত্র একটি গাণিতিক তুলনা। সরকারের পক্ষ থেকে কোথাও দাবি করা হয়নি যে, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ফলেই এই বিনিয়োগ এসেছে বা দুইয়ের মধ্যে সরাসরি কোনও কারণ-ফল সম্পর্ক রয়েছে।

    বিদেশ সফরে কত খরচ হয়েছে

    করোনা মহামারির পর ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ২০২১: ৩টি বিদেশ সফর, ব্যয় ৩৬.১২ কোটি
    ২০২২: ৭টি সফর, ব্যয় ৫৫.৮৩ কোটি
    ২০২৩: ৬টি সফর, ব্যয় ৯৩.৬৩ কোটি
    ২০২৪: ১১টি সফর, ব্যয় ১০৯.৫১ কোটি
    ২০২৫: ১১টি সফর, ব্যয় ১৮৭.৮৩ কোটি

    সব মিলিয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৩৮টি বিদেশ সফরে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮২.৯২ কোটি। এছাড়া ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত বিদেশ সফরে ৭৪.৫৯ কোটি ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে সরকার। তবে এই অঙ্ক চূড়ান্ত নয়। জুন মাসের ফ্রান্স সফরের ব্যয় এখনও সংকলনের পর্যায়ে রয়েছে এবং কয়েকটি দেশের সফরের বিল নিষ্পত্তির কাজ বাকি রয়েছে।

    বিদেশ সফরের গুরুত্ব নিয়ে সরকারের বক্তব্য

    বিদেশ মন্ত্রক (MEA) রাজ্যসভায় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বিদেশ সফর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার একটি প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক মাধ্যম। সরকারের মতে, এসব সফরের সময় স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, উদ্ভাবন এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    একাধিক ক্ষেত্রে মউ স্বাক্ষর

    সংসদে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মহাকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন, সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ, সমালোচনামূলক খনিজ, গ্রিন হাইড্রোজেন, স্টার্টআপ সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি এবংইউপিআই-সহ ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, ভুটান, সাইপ্রাস, ইথিওপিয়া ও গায়ানাসহ একাধিক দেশের সঙ্গে এই চুক্তিগুলি হয়েছে। সরকারের দাবি, এসব উদ্যোগ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

    ২০২৫ সালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সফর

    সরকার জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদির আমেরিকা সফর ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল। ওই সফরে ২৫.৫ কোটিরও বেশি সরকারি টাকা খরচ হয়েছিল। আর ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে নরওয়ে সফরে। যেখানে মোট খরচের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফরের ব্যয় এবং তার বিনিময়ে দেশের অর্থনীতি কতটা লাভবান হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই সফরগুলির মাধ্যমে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • Assam: অসমে প্রথমবার ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক, খুলছে উত্তর-পূর্বে উন্নয়ন-লগ্নির নতুন দোর!

    Assam: অসমে প্রথমবার ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক, খুলছে উত্তর-পূর্বে উন্নয়ন-লগ্নির নতুন দোর!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের কূটনৈতিক ইতিহাসে সূচনা হতে চলেছে এক নয়া অধ্যায়ের। এই প্রথমবার রাজধানী নয়াদিল্লির বাইরে অসমের (Assam) গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারত-জাপান বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন (Japan Summit)। জুলাই মাসেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অসম সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অংশ নেবেন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ (Assam)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ আরও গতি পাবে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে আন্তর্জাতিক স্তরে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগের প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখা হয়। ফলে গুয়াহাটিতে এই শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে জাপান, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পরিকাঠামোগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অসম-সহ গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেই অনুমান। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে অসমকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হবে। রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ, দক্ষ যুবশক্তি এবং দ্রুত উন্নয়নশীল পরিকাঠামো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর

    জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধি পেলে পরিবহণ ব্যয় ও সময় কমবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের পক্ষে একটা বড় সমস্যার সমাধানে করবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সানায়ে তাকাইচির এটি হবে প্রথম ভারত সফর। তাঁর সঙ্গে ভারতে আসবেন ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষ শিল্পপতি ও কর্পোরেট প্রতিনিধি। প্রতিনিধি দলে থাকবেন সুজুকি মোটরের প্রেসিডেন্ট তোশিহিরো সুজুকি, ইতোচু কর্পোরেশন এবং টয়োটা সুশোর শীর্ষ আধিকারিকরাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সানায়ে তাকাইচির বৈঠকে শুধু পরিকাঠামো নয়, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, সাপ্লাই চেন (Japan Summit) রেজিলিয়েন্স, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে (Assam)। এই বৈঠকের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতে উৎপাদন শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে নয়া  বিনিয়োগের দ্বার খুলে দিতে পারে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের।

    আরও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা

    ইতিমধ্যেই জাপান অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতে একাধিক পরিকাঠামো, এবং যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা করছে। ২০২৩ সালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার ভারত সফরে ঘোষিত ‘বে অফ বেঙ্গল–নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেন কনসেপ্ট’ উত্তর-পূর্ব ভারতকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উৎপাদন ও লজিস্টিক্স কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিল। এদিকে, টাটা গোষ্ঠীর সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ইউনিট, রিলায়েন্সের ডেটা সেন্টার এবং আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বড় শিল্প লগ্নি শুরু হয়েছে অসমে। ফলে জাপানি সংস্থাগুলির আরও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে (Assam)। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ভারত-জাপান অংশীদারিত্ব উত্তর-পূর্ব ভারতে নিরাপত্তা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে অসম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও কৌশলগত মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করবে, এবং (Japan Summit) জাপান আত্মপ্রকাশ করবে এই অঞ্চলের (Assam) অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে।

     

LinkedIn
Share