Tag: Foreign Policy

Foreign Policy

  • PM Modi in New Zealand: ‘ভারত শুধু বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড’ নিউজিল্যান্ডে শিল্পমহলের সামনে বার্তা মোদির

    PM Modi in New Zealand: ‘ভারত শুধু বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড’ নিউজিল্যান্ডে শিল্পমহলের সামনে বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এখন শুধু একটি বড় বাজার নয়, বরং বিশ্বের প্রবৃদ্ধির অন্যতম ‘লঞ্চপ্যাড’। নিউজিল্যান্ড সফরে সে দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী মহলের সামনে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in New Zealand)। একই সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ডের সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পরিষেবা এবং দক্ষ জনশক্তির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন মোদি। দুই দিনের নিউজিল্যান্ড সফরের অংশ হিসেবে ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড বিজনেস অ্যান্ড স্পোর্টস এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র নয় মাসের রেকর্ড সময়ে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, বলেও বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।

    ভারতের উন্নয়ন-যাত্রার অংশীদার

    প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তিনি বলেন, “এটি শুধু বিনিয়োগ নয়, ভারতের উন্নয়নের যাত্রার অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার। ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, “বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারতের ভিত্তি এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ব্যাপক পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারত অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সংস্কার, কর্মদক্ষতা এবং রূপান্তর— এই তিন স্তম্ভের উপরই আমাদের শাসনব্যবস্থা দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারতে রয়েছে নীতিগত স্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। তাই বিশ্বের উদ্দেশে আমাদের বার্তা স্পষ্ট— ভারত শুধু একটি বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড।”

    ভারতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ

    দেশে বিনিয়োগের নতুন সুযোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি জানান, স্মার্ট সিটিজ মিশনের অধীনে দেশের ১০০টি শহরে ৮,০০০-রও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নগর পরিবহণ, জল ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সংস্থাগুলিকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও ভারতে ক্যাম্পাস স্থাপনের আমন্ত্রণ জানান। নিউজিল্যান্ডের মাওরি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের প্রাচীন সভ্যতার মূল্যবোধ এবং মাওরি সংস্কৃতির মধ্যে প্রকৃতি, সমাজ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি একই ধরনের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে মাওরি ব্যবসায়ীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ

    পরে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন আয়োজিত এক নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, গত বছর লাক্সনের ভারত সফরের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করছেন। মোদির কথায়, “আমার পূর্বসূরিরা অনেক ভালো কাজ অসম্পূর্ণ রেখে গিয়েছিলেন। সেই কাজগুলিই আমি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছি।” এদিন দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করে এবং ‘ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ: রোডম্যাপ টু ২০৩০’ গ্রহণ করে। এই রোডম্যাপে বাণিজ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ৭ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার ব্যাপারেও উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

    লাক্সন-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ১০টি সমঝোতা স্মারক

    লাক্সন-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ১০টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সাক্ষর হয়েছে। প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, কৃষি, ক্রীড়া, শিক্ষা ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী ও নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিকস সহায়তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, হাইড্রোগ্রাফি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলা, পশুপালন ও দুগ্ধ শিল্প, পর্যটন, ক্রীড়া, সামুদ্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কেও একাধিক সমঝোতা হয়েছে। এছাড়াও মেরিটাইম সিকিউরিটি ডায়ালগ চালু করা, ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভ (IPOI)-এর সামুদ্রিক নিরাপত্তা অংশে নিউজিল্যান্ডের যোগদান, গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্সে সদস্যপদ গ্রহণ, নাগাল্যান্ড ও উত্তরাখণ্ডে কিউইফ্রুট সেন্টার অফ এক্সেলেন্স স্থাপন, অ্যান্টার্কটিকা গবেষণা এবং খাদ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করা হয়েছে।

  • PM Modi in New Zealand: চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা মোদির

    PM Modi in New Zealand: চার দশক পর নিউজিল্যান্ডে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সফরকে ঐতিহাসিক আখ্যা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৪০ বছর পর নিউজিল্যান্ডে পা পড়ল ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi in New Zealand)। শুক্রবার অকল্যান্ডে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও। ১৯৮৬ সালের পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করেননি। এই দীর্ঘ বিরতির পর মোদির সফর দুই দেশের মধ্যে পুরনো বন্ধুত্বকে নতুন করে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে সফরের শুরু হয়। দুই নেতা হাত মিলিয়ে কথা বলেন এবং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    ‘ঐতিহাসিক’ সফর আখ্যা মোদির

    অকল্যান্ডে পা রাখার পরেই নিজের নিউজিল্যান্ড সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ দেন। তিনি লেখেন, “কিছুক্ষণ আগেই অকল্যান্ডে পৌঁছলাম। বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী লাক্সনকে ধন্যবাদ। এই সফর ঐতিহাসিক, কারণ চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডে এলেন।” নিজের পোস্টের সঙ্গে সফরের কিছু ছবিও শেয়ার করেন মোদি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অকল্যান্ডে কমিউনিটি ভাষণ নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ড বন্ধুত্বের সব দিক নিয়ে আলোচনার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। আগামী কাল অকল্যান্ডে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানেও ভাষণ দেব।” শুক্রবার অকল্যান্ডে বিমান থেকে নামার পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। দুই নেতা একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গন করেন। লাক্সনের আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। দীর্ঘ ৪০ বছর পর এটিই নিউজিল্যান্ডে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির কর্মসূচি

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অকল্যান্ডে দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসবেন। গত দু’বছরে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি, বিশেষ করে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কতটা উন্নতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে দেখবেন তাঁরা। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, অকল্যান্ডে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদি সেখানকার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও কথা বলবেন। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মজবুত সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে তিনি প্রবাসী ভারতীয়দের এক বড় সমাবেশে ভাষণও দেবেন। এই বছরের এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) সই হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ক্রিস্টোফার লাক্সন যখন ভারত সফরে এসেছিলেন, তখন দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নয়াদিল্লিতে বৈঠক হয়েছিল।

    ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট

    সফরের সবচেয়ে বড় খবর হল ভারত-নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (FTA) নিয়ে অগ্রগতি। দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ায় উভয় দেশই উচ্ছ্বসিত। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হলে দুই দেশের বাণিজ্য অনেক বেড়ে যাবে। বিশেষ করে কৃষি পণ্য, দুগ্ধজাত দ্রব্য, আইটি সেবা, শিক্ষা এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস লাক্সন বলেন, “ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রধানমন্ত্রী মোদির সফর আমাদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এফটিএ চুক্তি দুই দেশের অর্থনীতির জন্য গেম চেঞ্জার হবে।” অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক নয়, সাংস্কৃতিক ও মানুষের মধ্যে সংযোগও গভীর। এই সফর সেই বন্ধনকে আরও মজবুত করবে।” দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে কয়েক বিলিয়ন ডলারের। ভারত নিউজিল্যান্ড থেকে দুধ, মাংস, ফলমূল এবং ওয়াইন আমদানি করে, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ভারত থেকে ওষুধ, আইটি সেবা, টেক্সটাইল এবং মেশিনারি পায়। চুক্তির ফলে শুল্ক হ্রাস পাবে, যা উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক হবে। সফরের এজেন্ডায় শুধু বাণিজ্য নয়, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি সহযোগিতাও রয়েছে।

    বিনা শুল্কে বাণিজ্য

    ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ভারত–নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তি (India New Zealand Trade Deal) কার্যকর হলে প্রথম দিন থেকেই নিউজিল্যান্ডের ভারতের উদ্দেশে রফতানির ৫৭ শতাংশ পণ্যের ওপর কোনও শুল্ক (ট্যারিফ) থাকবে না। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত–নিউজিল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।

    ইন্দো-প্যাসিফিক সফরের শেষ পর্ব

    নিউজিল্যান্ড সফরটি প্রধানমন্ত্রী মোদির তিন দেশব্যাপী ইন্দো-প্যাসিফিক সফরের শেষ পর্যায়। এর আগে তিনি ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন), উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবং একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলার লক্ষ্যকেও এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মোদির নিউজিল্যান্ড সফর এবং সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

     

     

     

     

  • Rahul Gandhi: রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় কীভাবে? দোটানায় কংগ্রেস

    Rahul Gandhi: রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় কীভাবে? দোটানায় কংগ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ভারত। দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি-বিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে (Modi Govt) পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশকে। এমতাবস্থায় বিরোধী দল (Rahul Gandhi) কংগ্রেস এক অভ্যন্তরীণ দ্বিধার সম্মুখীন। রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, নিরন্তর তা-ই ভেবে চলেছেন শতাব্দী-প্রাচীন দল কংগ্রেসের মাথারা।

    কংগ্রেসে ফাটল (Rahul Gandhi)

    ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং দেশে জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি এই দ্বন্দ্বকে ফের একবার সামনে নিয়ে এসেছে। এই মুহূর্তটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে শুধু কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা নয়, বরং দলের অভ্যন্তর থেকেই উঠে আসা তীব্র মতপার্থক্য। এই বিভেদের কেন্দ্রে রয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতির কড়া সমালোচনা করেন। তবে এই সমালোচনার জবাব শুধু শাসকদলই দেয়নি, কংগ্রেসেরই বহু প্রবীণ নেতাও এর বিরোধিতা করেছেন।

    রাহুলের বেফাঁস মন্তব্য

    রাহুল মোদি সরকারের বিদেশনীতিকে “সমঝোতাপূর্ণ” এবং “ক্ষতিগ্রস্ত” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এহেন মন্তব্যটি করেন ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষিতে। তিনি আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, দাবি তুলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনির হত্যার ঘটনার নিন্দে করার। তবে এই অবস্থান দলের ভেতরেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রবীণ নেতা শশী থারুর সম্পূর্ণ ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, “ভারতের অবস্থান একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনীতির উদাহরণ।” তাঁর বক্তব্যে কূটনীতির একটি সূক্ষ্ম ও বাস্তববাদী বোঝাপড়া ফুটে ওঠে, যেখানে বৈশ্বিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করাটা ভীষণভাবে জরুরি (Rahul Gandhi)।

    দ্বিধা বিভক্ত কংগ্রেস

    এই মতপার্থক্য শুধু কথার লড়াই নয়, এটি কংগ্রেসের ভেতরে দুটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত—একটি রাজনৈতিক বিরোধিতার ভিত্তি, অন্যটি কৌশলগত বাস্তববাদ (Modi Govt)। থারুর একা নন। প্রবীণ নেতা আনন্দ শর্মা সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপকে “পরিপক্ব ও দক্ষ” বলে প্রশংসা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক সঙ্কটকালে জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিদেশনীতি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। কংগ্রেস নেতা মনীশ তেওয়ারিও বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি সামলাতে সরকার সম্ভবত সঠিক কাজই করছে।” বস্তুত, এটি বিরোধী শিবিরের এক নেতার বিরল স্বীকারোক্তি।

    দেশীয় ইস্যুতেও বিভাজন

    দেশীয় ইস্যুতেও বিভাজন দেখা গিয়েছে। এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের ক্ষেত্রে কমল নাথ ঘাটতির দাবি নাকচ করে দেন, যা দলের বৃহত্তর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন, “সঙ্কটের একটি ধারণা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এতে আদতে উপকৃত হচ্ছে বিজেপি। কারণ এটি শাসক বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিচ্ছি।” রাহুলের দলের এই বিরোধিতা নতুন কিছু নয়। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরে চালু হওয়া অপারেশন সিঁদুরের পরেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল (Rahul Gandhi)। রাহুল সরকারের “রাজনৈতিক সদিচ্ছা” নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, কংগ্রেসেরই থারুর এবং তেওয়ারি প্রকাশ্যে অভিযানকে সমর্থন করেন, প্রশংসা করেন সেনাবাহিনীর। তাঁদের এই অবস্থানকে দলীয় সীমার বাইরে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে (Modi Govt)।

    থারুর ও তেওয়ারির অন্তর্ভুক্তি

    সরকার যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল গঠন করে, সেখানে থারুর ও তেওয়ারির অন্তর্ভুক্তি কংগ্রেস নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। থারুরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকায় একটি প্রতিনিধিদলের প্রধান করা হলে এই অস্বস্তি আরও প্রকট হয় (Rahul Gandhi)। সংসদে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিতর্কেও থারুর এবং তেওয়ারিকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়াও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাত আবারও এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন সামনে নিয়ে এসেছে। ভারতের পরিমিত ও কৌশলী কূটনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলেও উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। আনন্দ জানান, এই নীতি ভারতকে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করেছে। তিনি পারস্য (আধুনিক ইরান)-এর সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। (Rahul Gandhi)

    এলপিজি সংক্রান্ত মন্তব্য

    কমল নাথের এলপিজি সংক্রান্ত মন্তব্যও দেখায় যে দলের সব নেতা কেন্দ্রীয় অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। এই পরিস্থিতিতে দলে রাহুলের নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে। এটি আর কোনও বিচ্ছিন্ন মতভেদ নয়, বরং এমন একটি প্রবণতা, যেখানে অভিজ্ঞ নেতারা তাঁর অবস্থানের সঙ্গে নিঃশর্তভাবে একমত হতে অনিচ্ছুক, বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে। থারুর, আনন্দ, কমল নাথ ও তেওয়ারির মতো অভিজ্ঞ নেতাদের প্রকাশ্য মতবিরোধ কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ঐকমত্যের কঙ্কালসার চেহারাটাই তুলে ধরে (Modi Govt)।ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে কংগ্রেস যেন নিজেদের নেতৃত্বকেই যাচাই করছে। এতে দলের সমালোচনার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।

    বড় চ্যালেঞ্জ

    রাজনৈতিক যোগাযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে এই অসঙ্গতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি বিরোধী দলের শক্তি আসে সুসংহত ও পরিষ্কার বার্তা থেকে। কিন্তু যখন দলের প্রবীণ নেতারা ভিন্ন বা পরিমিত মতামত দেন, তখন দলের অবস্থান বিভক্ত হয়ে যায়। কংগ্রেসের এই সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন। সেটি হল, জাতীয় স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ না করে কীভাবে সরকারের সমালোচনা করা যায় (Rahul Gandhi)? থারুর ও শর্মার মতো নেতারা দ্বিদলীয় (bipartisan) দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে, যেখানে ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, রাহুলের অবস্থান বেশি আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক একটি কৌশলের প্রতিফলন, যা কখনও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হতে পারে। কংগ্রেসের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার—নেহরুর নিরপেক্ষ আন্দোলন থেকে নরসিমা রাওয়ের অর্থনৈতিক সংস্কার—এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস

    বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, দল কি তার কৌশলগত ঐতিহ্যকে আধুনিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারবে? অপারেশন সিঁদুর থেকে ইরানের সংঘাত—সব মিলিয়ে কংগ্রেস এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে এক সন্ধিক্ষণে (Modi Govt)। একদিকে আক্রমণাত্মক বিরোধিতা, অন্যদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের সংযত ও বাস্তববাদী অবস্থানের ঘূর্ণিপাকেই ঘুরপাক খাচ্ছে কংগ্রেস (Rahul Gandhi)। এই মতপার্থক্য যদি গঠনমূলক আলোচনার রূপ নেয়, তবে তা ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু যদি এটি গভীর বিভাজনে পরিণত হয়, তবে তা কংগ্রেস ও ভারতের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। বর্তমান সময়ে যখন ভূ-রাজনীতি ও দেশীয় রাজনীতি ক্রমশ জড়িয়ে যাচ্ছে, তখন সুসংহত ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান উপস্থাপন করার ক্ষমতাই নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা।

     

  • BJP: “ফরেন পলিশির ‘এফ’ পর্যন্ত জানেন না রাহুল গান্ধী”, তোপ বিজেপির

    BJP: “ফরেন পলিশির ‘এফ’ পর্যন্ত জানেন না রাহুল গান্ধী”, তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “রাহুল গান্ধী অভ্যাসগত মিথ্যেবাদী ও অপরাধী।” বুধবার ঠিক এই ভাষায়ই কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতিকে নিশানা করল বিজেপি (BJP)। গেরুয়া শিবিরের জাতীয় মুখপাত্র অজয় আলোক চিন প্রসঙ্গে সরকারের ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেস নেতার সার্কাস মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন।

    ‘এফ’ পর্যন্ত জানেন না (BJP)

    তিনি বলেন, “বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পরেও ওই কংগ্রেস নেতা প্রশ্ন তোলেন, অথচ তিনি বিদেশ নীতির (ফরেন পলিশি) এফ পর্যন্ত জানেন না। তবুও বারবার প্রশ্ন তোলেন।” অলোক বলেন, “যখন আমাদের বিদেশমন্ত্রী এসসিও বৈঠকের জন্য চিন যান এবং যদি তিনি চিনের বিদেশমন্ত্রী ও দেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেন, তাহলে তিনি কার সঙ্গে দেখা করবেন? ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে?” প্রসঙ্গত, এই ইতালিতেই রাহুলের মামাবাড়ি।

    রাহুল গান্ধীর বিতর্কিত মন্তব্য

    জয়শঙ্করের চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারত ও চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করার একটি সংবাদ প্রতিবেদন ট্যাগ করে রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার বলেন, “বিদেশমন্ত্রী ভারতের বিদেশনীতি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে একটি পুরোপুরি সার্কাস চালাচ্ছেন।”

    প্রসঙ্গত, সেনাবাহিনী সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের হয় মানহানির মামলা। লখনউ আদালত তাঁকে জামিনও দেন। এর ঠিক দু’দিন পরেই লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে “অভ্যাসগত মিথ্যেবাদী ও অপরাধী” বলে দেগে দিলেন অলোক (BJP)। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী প্রায়ই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করে থাকেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি রাহুলের মন্তব্যটি তুলে ধরেন। বলেন, খুনের দালালি এবং চিনারা আমাদের সৈন্যদের পেটাচ্ছে।” এসবের মাধ্যমে তিনি সেনাবাহিনীকে অপমান করেছেন বলে দাবি ওই বিজেপি নেতার।

    সংবিধানের প্রস্তাবনায় জরুরি অবস্থার সময় ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ও ‘সমাজতান্ত্রিক’ শব্দ দুটো সংযোজন নিয়ে আরএসএস পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানোর প্রেক্ষিতে অলোক বলেন, “এই বিষয়টি দেশে অবশ্যই বিতর্কের বিষয় হওয়া উচিত। কারণ সংশোধনটি বিআর আম্বেদকরের জন্য একটি অপমান ছিল এবং সেই সময় বিরোধী নেতারা জেলে ছিলেন (BJP)।”

  • Vladimir Putin: মোদি দেশপ্রেমিক, ওঁর নেতৃত্বে ভারতের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে, জানালেন পুতিন

    Vladimir Putin: মোদি দেশপ্রেমিক, ওঁর নেতৃত্বে ভারতের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে, জানালেন পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুতিনের (Vladimir Putin) গলায় মোদি স্তুতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) আমলে ভারতের (India) যে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে তাও মনে করিয়ে দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার (Russia) ভালদাই ডিসকাসন ক্লাবের বার্ষিক সভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন পুতিন। তাঁর বক্তৃতার সিংহভাগ জুড়েই ছিল মোদি-প্রশস্তি। মোদির নেতৃত্বে ভারতের উন্নতির পাশাপাশি তিনি যে একজন দেশপ্রেমিক, তারও উল্লেখ করেন ভ্লাদিমির পুতিন। মোদির স্বাধীন বিদেশ নীতিরও প্রশংসা করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।

    মস্কোর ভালদাই ডিসকাসন ক্লাবের ওই বার্ষিক সভায় এদিন পুতিনের (Vladimir Putin) গলায় শুধুই মোদির প্রশংসা! পুতিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অনেক কিছুই হয়েছে। তিনি একজন দেশপ্রেমিক। তাঁর মেক ইন ইন্ডিয়ার আদর্শ অর্থনীতি এবং নীতির ক্ষেত্রে ভীষণ কার্যকরী। ভারতের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে তাঁরা গর্ববোধ করতেই পারেন।

    এক সময় ব্রিটিশ শাসনে থাকা দেশটি যে বর্তমানে প্রভূত উন্নতি করেছে, তাও স্মরণ করিয়ে দেন পুতিন (Vladimir Putin)। তিনি বলেন, বিকাশের ক্ষেত্রে ভারত ব্যাপক উন্নতি করেছে। ব্রিটিশ শাসন থেকে তার উত্তরণ হয়েছে আজকের ভারতে। প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মানুষ এবং তার উন্নয়নের কারণে ভারত বিশ্ববাসীর শ্রদ্ধা ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

    আরও পড়ুন:ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে রাশিয়ায় যুক্ত করতে চলেছেন পুতিন?

    এর পরেই পুতিনের (Vladimir Putin) গলায় শোনা যায় ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের কথা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, বহু দশকের ঘনিষ্ঠ মিত্রতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে উভয়ের মধ্যে। আমাদের মধ্যে কখনওই কঠিন কোনও সমস্যা হয়নি। পরস্পরকে সমর্থন করে গিয়েছি। এখনও তাই হচ্ছে। পুতিন বলেন, আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতেও তাই হবে। মোদির আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারতে সারের জোগান ৭.৬ গুণ বাড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন পুতিন। কৃষিক্ষেত্রে বাণিজ্য দ্বিগুণ হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

    মোদির নেতৃত্বে ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি এদিন পুতিন (Vladimir Putin) আমেরিকা ও তার দোসরদের একহাত নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমেরিকা ও তার সঙ্গীরা যে কাজ করছে, তার ফল ভুগতে হবে তাদেরও। তিনি বলেন, একমাত্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যদি এক লক্ষ্যে জোট বাঁধে তাহলেই উদ্ভূত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা সম্ভব। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, পশ্চিমী বিশ্ব যে খেলা খেলছে, তাকে আমি নিশ্চিতভাবে বলব বিপজ্জনক, রক্তাক্ত ও নোংরা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।  

  • S Jaishankar: ভোট রাজনীতি দেশের স্বার্থকে প্রভাবিত করবে, সেই দিন আর নেই, বললেন এস জয়শঙ্কর 

    S Jaishankar: ভোট রাজনীতি দেশের স্বার্থকে প্রভাবিত করবে, সেই দিন আর নেই, বললেন এস জয়শঙ্কর 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগে ভোটের রাজনীতি বিদেশনীতি (Foreign Policy) ঠিক করত। এখন আর সেই দিন নেই। ইজরায়েল তার প্রমাণ। নিজের বইয়ের গুজরাতি সংস্করণ প্রকাশের অনুষ্ঠানে এমনটাই বললেন বিদেশমন্ত্রী (Foreign Minister) এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। তিনি বলেন, “ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইনের মধ্যে বিরোধ বহু বছর ধরে চলে আসছে। আমাদের কিছু রাজনৈতিক বিষয় রয়েছে। আমরা আর ইজরায়েলের সঙ্গে নেই। নরেন্দ্র মোদিই (Narendra Modi) ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ইজরায়েলে গিয়েছেন। গোটা দেশ যানে সেই সম্পর্ক থেকে আমাদের কত লাভ হতে পারত। কিন্তু ভোট রাজনীতি দেশের স্বার্থকে প্রভাবিত করবে সেই দিন আর নেই।” 

    আরও পড়ুন: চারদিনের সফরে ভারতে শেখ হাসিনা, মোদির সঙ্গে বৈঠকে নজরে জলবণ্টন

    ভারতের জনসংখ্যা নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের জনসংখ্যার বৃদ্ধি অতি দ্রুত কমছে। এর অন্যতম কারণ শিক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা। দিন দিন আমাদের দেশে পরিবারের আকার ছোট হচ্ছে। এটা বিবর্তনের একটা অংশ। জোর করে জনসংখ্যার নিয়ন্ত্রণ ভয়ঙ্কর। আমরা অনেক দেশেই দেখি লিঙ্গ ভারসাম্য নেই। এতে সমাজের কোনও উপকার হয় না। গণতন্ত্রের কিছু সমস্যাও রয়েছে। মানুষ কখনও কখনও হতাশ হয়ে পড়ে। অনেক অসুবিধা থাকলেও অগণতন্ত্রের থেকে গণতন্ত্র যেকোনও মুহূর্তে ভালো। জনসংখ্যার মতো বিষয়গুলিকেও গণতান্ত্রিকভাবে দেখতে হবে। যারা জোর করেছে তারা এখন পস্তাচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যখন বিদেশে যান, তখন সেই দেশের উন্নয়ন দেখেন। দেখেন কী কাজ হচ্ছে। ট্রেন, বুলেট ট্রেন তারই ফসল। উনি খেয়াল করেছেন কীভাবে সাউথ কোরিয়া দুষিত নদী পরিষ্কার করে। উনি যখন সিঙ্গাপুরে ছিলেন, তখন বার্লিন রেলওয়ে স্টেশনে যান। সেখান থেকে স্মার্ট সিটির পরিকল্পনা নিয়ে আসেন। সরকারের ভাবনা বদলেছে। বাইরের দেশে ভালো যা ঘটছে আমরা তা আমাদের জনগণের সামনে এনে হাজির করছি।” 

    আরও পড়ুন: আগামী সাত বছরেই বিশ্ব অর্থনীতিতে ৩ নম্বরে ভারত?

    এদিনের অনুষ্ঠানে রাশিয়া থেকে পণ্য কেনার বিষয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, “মানুষ ভারতের অবস্থা বুঝবে না। এখানকার আয়-ব্যয়ও বুঝবে না। রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে বিদেশ নীতির থেকেও আমরা গুরুত্ব দিয়েছি জনগণের সুবিধায়। নরেন্দ্র মোদির নির্দেশ ছিল দেশবাসীর বিষয়ে আমাদের আগে ভাবতে হবে।”  

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

LinkedIn
Share