Tag: Foxconn in India

  • Foxconn in Bengaluru: প্রায় ৮০ শতাংশই মহিলা! ৩০ হাজার কর্মী নিয়োগ করল ফক্সকন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র সাফল্য

    Foxconn in Bengaluru: প্রায় ৮০ শতাংশই মহিলা! ৩০ হাজার কর্মী নিয়োগ করল ফক্সকন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাইওয়ানের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ফক্সকন (Foxconn in Bengaluru) বেঙ্গালুরুর কাছে দেবনহল্লিতে তাদের নতুন আইফোন অ্যাসেম্বলি কারখানায় মাত্র আট–নয় মাসের মধ্যে প্রায় ৩০,০০০ কর্মী নিয়োগ করেছে। দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রে এটি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুতগতির কারখানা সম্প্রসারণের উদাহরণ। এই দ্রুত নিয়োগ অ্যাপলের উৎপাদন ঘাঁটি চিনের বাইরে বৈচিত্র্যময় করার কৌশলকে স্পষ্ট করে। আনুমানিক ৩০০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই কারখানায় কর্মীদের প্রায় ৮০ শতাংশই মহিলা। সূত্রের দাবি, অধিকাংশ কর্মীর বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে এবং অনেকেই প্রথমবারের মতো কর্মজীবনে পা রেখেছেন।

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’য় ফক্সকনের সহায়তা

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্মার্টফোনের দাপটে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। ভারত থেকে মোবাইল ফোন রফতানি ১ লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত বছরের তুলনায় যা বেড়েছে ৫৫ শতাংশ। যা এক কথায় অবিশ্বাস্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম এই সাফল্যের পথ তৈরি করেছে। এই নীতির হাত ধরেই ভারত এখন আমেরিকায় স্মার্টফোন রফতানিতে চিনকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। আমেরিকার বাজারে বিক্রি হওয়া মোট স্মার্টফোনের ৪৪ শতাংশই এখন ভারতে তৈরি। যার পিছনে ফক্সকনের এক বড় হাত রয়েছে। একটা সময় ভারত মোবাইল ফোনের জন্য মূলত আমদানির উপর নির্ভর করত। কিন্তু পিএলআই স্কিম সেই ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। পিএলআই স্কিম ভারতে উৎপাদন ও ভারত থেকে স্মার্টফোন রফতানিতে এক নব জোয়ার নিয়ে এসেছে। এর ফলে আগামীতে আরও বড় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    কর্মীদের প্রায় ৮০ শতাংশই মহিলা

    চলতি বছরের এপ্রিল–মে মাসে কারখানাটিতে ট্রায়াল প্রোডাকশন শুরু হয়, যেখানে আইফোন ১৬ মডেল অ্যাসেম্বল করা হয়। সূত্রের খবর, এখানে সর্বশেষ আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স উৎপাদন শুরু হয়েছে। উৎপাদিত আইফোনের ৮০ শতাংশেরও বেশি বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। আগামী বছরে পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ শুরু করলে এই ইউনিটে কর্মসংস্থান ৫০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। কারখানা চত্বরে ছয়টি বড় ডরমিটরি রয়েছে, যার বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যেই মহিলা কর্মীদের জন্য চালু হয়েছে। বাকি পরিকাঠামোর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে চলছে। সম্প্রসারণ সম্পূর্ণ হলে এক জায়গায় এত বেশি মহিলা কর্মীর উপস্থিতি ভারতের আর কোনও সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকবে না বলে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। প্রতিবেশী রাজ্যগুলি থেকেও বিপুল সংখ্যক মহিলা কর্মী এখানে কাজ পেয়েছেন।

    স্বয়ংসম্পূর্ণ টাউনশিপ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা

    সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ টাউনশিপ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে আবাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ও বিনোদনের সুবিধা থাকবে। কর্মীরা বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা ও ভর্তুকিযুক্ত খাবার পাচ্ছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, গড় মাসিক বেতন প্রায় ১৮,০০০ টাকা, যা মহিলা ব্লু-কলার কর্মীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি। বেঙ্গালুরু প্রকল্পে ফক্সকনের বিনিয়োগ প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা। সম্পূর্ণরূপে চালু হলে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রেই এটি ভারতের বৃহত্তম কারখানায় পরিণত হবে। শুধু উৎপাদন ফ্লোরই প্রায় ২.৫ লক্ষ বর্গফুট জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এই নতুন ইউনিটটি তামিলনাড়ুতে ফক্সকনের প্রথম আইফোন কারখানাকেও ছাপিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৪১,০০০ কর্মী কাজ করেন। সরকারি আধিকারিকরা এটিকে উৎপাদন খাতে জিডিপির অংশ বাড়ানোর কেন্দ্রের উদ্যোগের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে জোর

    পুরোপুরি নির্মিত হলে বেঙ্গালুরুর কারখানায় প্রায় এক ডজন আইফোন অ্যাসেম্বলি লাইন থাকতে পারে, যেখানে বর্তমানে প্রায় চারটি লাইন চালু রয়েছে। ২০২১ সালে চালু হওয়া প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) প্রকল্পের সহায়তায় অ্যাপল ধীরে ধীরে ভারতে আইফোন উৎপাদন বাড়াচ্ছে। সরকারি সূত্রের মতে, মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের অধীনে অ্যাপলের ভারতীয় কার্যক্রম সরকার ও শিল্পের সফল অংশীদারিত্বের উদাহরণ। কয়েক বছর আগেও এত দ্রুত ও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ কল্পনাতীত ছিল। ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে অ্যাপলের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারত এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। বর্তমানে সব আইফোন মডেলই উৎপাদনের শুরু থেকেই ভারতে তৈরি হচ্ছে এবং সেগুলি বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করা হচ্ছে। ভারতে অ্যাপলের সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক প্রায় ৪৫টি সংস্থায় পৌঁছেছে। এছাড়াও, কর্মী উন্নয়নের ক্ষেত্রে অ্যাপল তাদের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত মহিলা কর্মীরা—যাঁদের অধিকাংশই উচ্চ মাধ্যমিক বা পলিটেকনিক পাশ—আইফোন অ্যাসেম্বলি লাইনে যোগ দেওয়ার আগে প্রায় ছয় সপ্তাহের অন-দ্য-জব প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

  • Foxconn in UP: ভারতে বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ, উৎপাদন বাড়াতে সক্রিয় ফক্সকন

    Foxconn in UP: ভারতে বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ, উৎপাদন বাড়াতে সক্রিয় ফক্সকন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অ্যাপলের সর্ববৃহৎ গ্লোবাল ভেন্ডর ফক্সকন উত্তর ভারতের গ্রেটার নয়ডার যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের ধারে ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। যেখানে তারা তাদের প্রথম একক ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট স্থাপন করতে চায় বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পটি বেঙ্গালুরুতে নির্মাণাধীন ফক্সকনের (Foxconn in UP) দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্লোবাল ইউনিটের থেকেও বড় হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

    প্রকল্পটি আলোচনার পর্যায়ে

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্থার এক কর্তা জানান, “এখনও নির্ধারণ হয়নি যে, এই প্ল্যান্টে ঠিক কী ধরনের পণ্য উৎপাদন হবে, তবে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে।” আরেকটি সূত্রে খবর, এই জমি এইচসিএল-ফক্সকন এর ওএসএএসটি (OSAT) সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের কাছাকাছি এলাকাতেই অবস্থিত, যা বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ওই আধিকারিকের কথায়, “গত বছর ভারত সরকার ৩০০ একর জমি ফক্সকন (Foxconn in UP) ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব করেছিল। সেই জমিতেই এই মুহূর্তে আলোচনার প্রাথমিক স্তরে আছে প্রকল্পটি।”

    স্ট্র্যাটেজিক অবস্থান

    যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে, যা গ্রেটার নয়ডা থেকে আগ্রা পর্যন্ত বিস্তৃত, এই জমিগুলো যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (YEIDA) আওতায় পড়ে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট নীল শাহ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড ট্যারিফ এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ফক্সকনের জন্য ভারতের মতো দেশে নতুন ম্যানুফ্যাকচারিং হাব গড়ে তোলা একটি নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ।” তিনি আরও বলেন, “ফক্সকনের জন্য ভারতের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের কাছাকাছি অবস্থান তাকে স্মার্ট ডিভাইস থেকে শুরু করে অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রিতেও সুযোগ করে দেবে।” ভারতকে বৈশ্বিক রফতানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা ফক্সকনের এই নতুন বিনিয়োগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। “ভারত ইতিমধ্যেই একটি শক্তিশালী বাজার এবং সরবরাহ চেইন রি-অ্যালাইনমেন্টের ফলে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে” বলে জানান শাহ। তিনি বলেন, “নয়ডা ক্লাস্টার এখন চেন্নাইয়ের মতো একটি শক্তিশালী ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, স্থানীয় দক্ষ জনবল এবং সাপ্লায়ারদের একটি বড় চেইন রয়েছে।” তাঁর দাবি, ফক্সকন এখন শুধুমাত্র স্মার্টফোনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। গত বছর ভারতে সফরের সময় ফক্সকন চেয়ারম্যান ইয়াং লিউ জানিয়েছিলেন, কোম্পানির লক্ষ্য তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রিক ভেহিকল, এনার্জি এবং ডিজিটাল হেলথ সেক্টরের জন্য উৎপাদনে অংশ নেওয়া।

LinkedIn
Share