Tag: France Protests

France Protests

  • France Unrest Threat: ফ্রান্সে অশান্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, আশঙ্কা প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধানের

    France Unrest Threat: ফ্রান্সে অশান্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, আশঙ্কা প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে সামাজিক অস্থিরতা আগামী দিনে আরও ঘন ঘন এবং হিংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করলেন দেশটির প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধান পিয়ের ব্রোশঁ। তাঁর দাবি, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও দাঙ্গার সময় কট্টর বামপন্থী কর্মী এবং অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকার তরুণ মুসলিমদের একসঙ্গে সক্রিয় (France Unrest Threat) হতে দেখা যাচ্ছে। এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সমন্বয় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন (Mass Migration) তিনি।

    গত সপ্তাহে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য ফিগারো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রোশঁ বলেন, ফ্রান্সের সামাজিক ও জনবিন্যাসগত টানাপোড়েন সম্পর্কে যাঁদের ধারণা রয়েছে, তাঁদের কাছে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনা মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়। তাঁর মতে, সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা এবং জাতীয় আনুগত্যের অভাববোধে ভোগা কিছু মানুষের কারণে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে দেশের জনশৃঙ্খলা।

    দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে ব্রোশঁ ইজরায়েল, হাঙ্গেরি ও পর্তুগালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাতের দশকে ভিয়েতনামে জুনিয়র কূটনীতিক থাকাকালীন সায়গনের পতনের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএসই-র প্রধান ছিলেন এই প্রাক্তন কূটনীতিক।

    দাঙ্গায় সংগঠকের ভূমিকা নিচ্ছে কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠীগুলি (France Unrest Threat)

    ব্রোশঁর দাবি, কট্টর বামপন্থী সংগঠনগুলির সাংগঠনিক ক্ষমতাকে তিনি আগে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। বিশেষ করে ব্ল্যাক ব্লক এবং অ্যান্টিফা-র মতো গোষ্ঠীগুলি ফ্রান্সের বড় শহরগুলিতে অস্থিরতা তৈরির ক্ষেত্রে ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, রাস্তায় বিক্ষোভ বা সংঘর্ষের সময় এই সংগঠনগুলি নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করতে সক্ষম।

    তাঁর ব্যাখ্যা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শগত মতপার্থক্য থাকলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তারা কৌশলগতভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। কট্টর বামপন্থীরা আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করে, অন্যদিকে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ সংখ্যার জোর এবং রাস্তায় সংঘর্ষের শক্তি জোগায়।

    অর্থাৎ, এটি কোনও ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং স্বার্থের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা সাময়িক সমঝোতা। ব্রোশঁর মতে, অভিন্ন আদর্শ না থাকলেও এই ধরনের সমন্বয় বিক্ষোভকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলায় পরিণত করতে পারে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরাসি প্রশাসন ও পুলিশের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে।

    এই পরিস্থিতি বোঝাতে প্রাক্তন চিনা প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইয়ের নামে প্রচলিত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করেছেন ব্রোশঁ। তাঁর কথায়, “তারা একই বিছানায় ঘুমোয়, কিন্তু তাদের স্বপ্ন এক নয়।”

    সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে তরুণ মুসলিমরাও

    ব্রোশঁর দাবি, প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রী এবং অভিজ্ঞ দাঙ্গাকারীরা কট্টর বামপন্থীদের আন্দোলনের প্রথম সারির শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তাঁদের অনেকেই ইউরোপীয় মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। অন্যদিকে, অভিবাসী অধ্যুষিত শহরতলির তরুণ মুসলিমদেরও পরবর্তী পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

    সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও দাঙ্গার বিভিন্ন দৃশ্যের উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জনতার মুখে বারবার আরবি শব্দ “ওয়াল্লাহ” শোনা গিয়েছে। শব্দটির অর্থ, “আল্লাহর নামে শপথ করছি।” সাক্ষাৎকারে মুসলিম অভিবাসন এবং ফরাসি সমাজে তাঁদের একীভূত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে (France Unrest Threat)।

    ব্রোশঁর বর্ণনা অনুযায়ী, একটি দিনের মধ্যেই কীভাবে বিক্ষোভের চরিত্র বদলে যেতে পারে, তার একটি ধারাবাহিক চিত্র রয়েছে। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণ মিছিল হতে পারে। এরপর কট্টর বামপন্থী কর্মীদের একাংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়তে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে শহরতলির তরুণ মুসলিমদের একাংশ লুটপাটে অংশ নিতে পারে বলে তাঁর দাবি।

    এই প্রক্রিয়াকে তিনি বহুস্তরীয় মহাকাশযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেখানে একের পর এক জ্বালানি-সহায়ক অংশ মহাকাশযানকে গতি জোগায় এবং কাজ শেষ হলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন গোষ্ঠীকে একই সময়ে সক্রিয় হতে হবে, এমন কোনও প্রয়োজন নেই। তাদের পর্যায়ক্রমিক অংশগ্রহণই অশান্তিকে দীর্ঘায়িত করার পক্ষে যথেষ্ট।

    রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকট

    ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে মুসলিম অভিবাসন এবং জনসংখ্যার পরিবর্তন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ব্রোশঁ। তাঁর দাবি, আগামী বছরগুলিতে ফ্রান্সের জনসংখ্যায় ইউরোপের বাইরের দেশগুলি থেকে আসা জনগোষ্ঠীর প্রভাব বাড়বে। এর ফলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দূরত্বও ক্রমশ কমতে পারে।

    জনসংখ্যা সংক্রান্ত কিছু পূর্বাভাসের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ফ্রান্সে ইউরোপের বাইরের জনগোষ্ঠীর শিশু জন্মের হার মোট জন্মের সংখ্যার অর্ধেকের বেশি হতে পারে। ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার ক্ষেত্রেও এই জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে বলে তাঁর পূর্বাভাস। তাঁর মতে, এই জনবিন্যাসগত পরিবর্তন দেশের ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ সামাজিক পরিবেশে হিংসাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হতে পারে। বিষয়টিকে নিছক আশঙ্কা নয়, বরং নিশ্চিত পরিণতি হিসেবেই দেখছেন তিনি।

    ফ্রান্সে হিংসা ও লুটপাটের ঘটনা রাষ্ট্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দুর্বল করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধান। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকরা কর দেন মূলত এই আশায় যে রাষ্ট্র তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে। কিন্তু প্রশাসন যদি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বলে প্রতীয়মান হয়, তা হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি মানুষের বিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে।

    সামাজিক আস্থার বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র

    এই আস্থার সংকটকে ব্যাঙ্ক থেকে একযোগে আমানত তুলে নেওয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন ব্রোশঁ। তাঁর কথায়, হিংসা হল সামাজিক আস্থার বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র। আর সামাজিক আস্থাই সম্মিলিত কল্যাণের মূল ভিত্তি। তাঁর সতর্কবার্তা, হিংসার শিকার মানুষের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন, এমনকী অসম্ভবও হয়ে উঠতে পারে।

    সাম্প্রতিক বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির সংশ্লিষ্টতায় সংঘটিত অশান্তির মধ্যেও সংযম বজায় রাখার জন্য সাধারণ ফরাসি নাগরিকদের প্রশংসা করেছেন ব্রোশঁ। তাঁর মতে, পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতা এবং হিংসা ও লুটপাটের চাপ সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।

    পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে

    তবে এই সংযমকে চিরস্থায়ী বলে ধরে নেওয়া উচিত নয় বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, সাধারণ মানুষ যদি মনে করতে শুরু করেন যে রাষ্ট্র তাঁদের নিরাপত্তা দিতে অক্ষম এবং নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব তাঁদের নিজেদেরই নিতে হবে, তা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ ও অপূরণীয় পরিণতির দিকে এগোতে পারে।

    সব মিলিয়ে ব্রোশঁর সতর্কবার্তা, কট্টর বামপন্থীদের সাংগঠনিক তৎপরতা, অভিবাসী অধ্যুষিত শহরতলির তরুণদের একাংশের সংঘর্ষে অংশগ্রহণ এবং ক্রমবর্ধমান জনবিন্যাসগত পরিবর্তন—এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবে ফ্রান্সের জনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সংহতি আগামী দিনে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে (France Unrest Threat)।

    উল্লেখ্য, জনসংখ্যা পরিবর্তন, অভিবাসন এবং ভবিষ্যৎ সংঘর্ষ নিয়ে ব্রোশঁ যে পূর্বাভাস দিয়েছেন, সেগুলি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও আশঙ্কা। এগুলিকে (Mass Migration) প্রতিষ্ঠিত পরিসংখ্যানগত সত্য বা নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

     

  • France Protests: ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা! প্যারিস-সহ একাধিক শহরে কার্ফু

    France Protests: ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা! প্যারিস-সহ একাধিক শহরে কার্ফু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার একাধিক সমস্যা ঘিরে উত্তপ্ত ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিস-সহ মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে বিক্ষোভ ঘিরে হিংসা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক এবং দেশটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, এমন ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে প্যারিসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিক্ষোভের এলাকা এড়িয়ে চলা, জনবহুল স্থানে না যাওয়া এবং ফরাসি প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ, কী জানানো হয়েছে?

    বুধবার সন্ধ্যায় জারি করা পরামর্শে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় স্তরে কার্ফু জারির বিষয়টি বিবেচনা করে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসের তরফে আরও বলা হয়েছে, যেখানে বিক্ষোভ চলছে, সেই এলাকাগুলি থেকে দূরে থাকতে হবে। ফরাসি প্রশাসন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশিকা জারি করছে, তা যথাযথভাবে মেনে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    বিক্ষোভের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে পরিবহণ পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। তাই যাতায়াতের পরিকল্পনা করার আগে সরকারি সূত্র থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার কথা বলেছে দূতাবাস। বিশেষ করে পর্যটক, পড়ুয়া, কর্মসূত্রে ফ্রান্সে থাকা ভারতীয় এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এই সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ।

    জরুরি প্রয়োজনে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ও ইমেল:

    • ● ফোন: +33 6 48 34 00 63

    • ● ইমেল: cons.paris@mea.gov.in

    কেন অশান্ত ফ্রান্স? ক্ষোভের কেন্দ্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষা

    ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অশান্তির পিছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। সেই অসন্তোষ থেকেই শুরু হওয়া বিক্ষোভের একাংশ হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।

    প্যারিস, মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে বিক্ষোভ চলাকালীন লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়েছে। কয়েকটি বড় শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় এখনও কার্ফু জারি রয়েছে।

    এই অশান্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ। স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাব, পরিকাঠামোর দুর্বলতা এবং শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীর ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ তুলেছে পড়ুয়াদের একাংশ। বিশেষত আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলির স্কুলে এই সমস্যাগুলি বেশি প্রকট বলে দাবি উঠেছে।

    পাশাপাশি, দীর্ঘক্ষণ স্কুলে থাকতে হওয়া নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে। অনেক ক্ষেত্রে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলের সময়সূচি ক্লান্তিকর হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতির জটিলতা এবং সেই ব্যবস্থার ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

    অর্থাৎ, এই বিক্ষোভ শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এর পিছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি পরিষেবার মান এবং শিক্ষার সুযোগ নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষও।

    দু’রাত শান্তি, তবুও কাটেনি উদ্বেগ

    সপ্তাহান্তে অশান্তির পর পরপর দু’রাত ফ্রান্সে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে তাতে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। একাধিক বড় শহরের কিছু অংশে কার্ফু এখনও বহাল রয়েছে। নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ও শনিবার আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলির পাশাপাশি ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ফ্রান্সে বড়সড় আন্দোলনের জন্ম দেওয়া ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলির তরফেও বিক্ষোভের ডাক এসেছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছিল। সেই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও ফরাসি প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের কারণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় জমায়েত হলে অশান্তি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, শনিবার বড় নিরাপত্তা অভিযান

    প্যারিসে বৃহস্পতিবারের জন্য পরিকল্পিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে বুধবার জানিয়েছে শহরের পুলিশ। জননিরাপত্তার ঝুঁকি এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভ চলাকালীন এবং তার পরে আটক হওয়া ২,৫০০ জনের মধ্যে ১৭৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও ৯১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। শনিবার ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। বিক্ষোভের আড়ালে ছোট ছোট দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর হিংসাত্মক কার্যকলাপ যাতে ফের বড় আকার না নেয়, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

    প্রশাসনের আশঙ্কা, অল্প কয়েকটি গোষ্ঠীর হিংসাত্মক কার্যকলাপও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা সামনে এসেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

    ইতালিতেও ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা

    ফ্রান্সের আগে চলতি সপ্তাহেই ইতালিতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করেছিল সেখানকার ভারতীয় দূতাবাস। ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে ওই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

    সেখানেও ভারতীয় নাগরিকদের জনবহুল এলাকা এবং বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখার কথা বলা হয়।

    ফ্রান্স ও ইতালি—দুই দেশেই বিক্ষোভের জেরে ভারতীয় দূতাবাসগুলির এই সতর্কবার্তা বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

    ফ্রান্সে যাওয়া ভারতীয়দের কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয়দের পাশাপাশি পর্যটক ও পড়ুয়াদেরও কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    • ● বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলুন: মিছিল, জমায়েত বা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে, এমন এলাকায় যাবেন না।

    • ● কার্ফুর নিয়ম মানুন: স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী চলাফেরা করুন।

    • ● যাতায়াতের খবর রাখুন: ট্রেন, বাস এবং অন্যান্য পরিবহণ পরিষেবার সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে সরকারি সূত্র থেকে জেনে নিন।

    • ● সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করুন: স্থানীয় প্রশাসন ও ভারতীয় দূতাবাসের নতুন বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন।

    • ● জরুরি যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখুন: প্রয়োজন হলে দ্রুত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

    সব মিলিয়ে, ফ্রান্সে আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন করে বিক্ষোভের ডাক এবং কয়েকটি শহরে কার্ফু বহাল থাকায় উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েক দিনে প্রশাসন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তার উপরই নির্ভর করছে অশান্তি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে। ফ্রান্সে থাকা ভারতীয়দের ক্ষেত্রে তাই আপাতত সতর্কতা, সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • France Protest: বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, পুড়ল ১৪০ বছরের ঐতিহাসিক টাউন হল

    France Protest: বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, পুড়ল ১৪০ বছরের ঐতিহাসিক টাউন হল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে ফ্রান্সজুড়ে (France Protest) সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চরম মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এক তীব্র বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু হয়েছে। রাজধানী প্যারিস সহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে এই আন্দোলন চরম হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের জেরে ফ্রান্সের (France Protest) লিমোগেস শহরের প্রায় ১৪০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক টাউন হল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অবাক করা বিষয় হলো, যে ভবনটি অতীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধ সফলভাবে পার করে টিকে ছিল, তা আধুনিক ফ্রান্সের এই সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেল না।
    বিক্ষোভের কারণ ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি
    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। এর প্রতিবাদে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। তবে এই আন্দোলন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মুখোশধারী কিছু বিক্ষোভকারী জোর করে সরকারি ভবন ও বিভিন্ন দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। রাজধানী প্যারিস, মার্সেই, নিস, লিমোগেস এবং বোর্দোসহ বহু শহরে ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ১৫০ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া সেন্ট-এটিয়েন শহরে পুলিশের ছোঁড়া গ্রেনেডের আঘাতে এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরের হাত উড়ে গেছে।
    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
    ফ্রান্সের (France Protest) প্রধানমন্ত্রী এই চরম মাত্রার হিংসার তীব্র নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যারা সরকারি অফিস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনি শাস্তি দেওয়া হবে। সামনেই দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচন থাকায় এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বর্তমান সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করে এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনকেই দায়ী করেছে।
LinkedIn
Share