Tag: fta

fta

  • India New Zealand FTA: ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, কী কী সুবিধে মিলবে?

    India New Zealand FTA: ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, কী কী সুবিধে মিলবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করল ভারত ও নিউজিল্যান্ড। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে (India New Zealand Relation) একটি বিরাট কৌশলগত মাইলফলক। ১৬ মার্চ ২০২৫ সালে শুরু হয়ে রেকর্ড সময়ে সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে সমর্থন (India New Zealand Relation)

    এই অংশীদারিত্বের একটি প্রধান স্তম্ভ হল, আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড ভারতকে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে সাহায্য করবে। ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য পরিকল্পিত এই মূলধন প্রবাহ। চুক্তিতে উৎপাদন, পরিকাঠামো, পরিষেবা এবং উদ্ভাবন খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চুক্তিটি নিউজিল্যান্ডের ১০০ শতাংশ ট্যারিফ লাইনে শুল্ক তুলে দিয়ে ভারতীয় শিল্পকে তাৎক্ষণিক প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই শূন্য-শুল্ক সুবিধা সরাসরি শ্রমনির্ভর খাতগুলিকে সাহায্য করবে। এর মধ্যে রয়েছে বস্ত্রশিল্প, পোশাক শিল্প, চামড়া শিল্প, জুতো শিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং অটোমোবাইল শিল্প। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় ভারত গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন উপকরণে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কাঠের লগ, কোকিং কয়লা এবং ধাতব স্ক্র্যাপ।

    ওষুধ শিল্পের জন্য নিয়ন্ত্রক অনুমোদন

    জানা গিয়েছে, এই চুক্তি ভারতীয় ওষুধ শিল্পের জন্য নিয়ন্ত্রক অনুমোদন দ্রুত করবে। বিশ্বমানের সমমানের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিদর্শন রিপোর্ট গ্রহণ করা হবে। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভবিষ্যতমুখী কাঠামো গড়ে তুলেছে, যেখানে (FTA) ভারতকে বৈশ্বিক প্রতিভার প্রধান সরবরাহকারী দেশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে (India New Zealand Relation)। এদিকে, একটি নতুন অস্থায়ী কর্মসংস্থান প্রবেশ পথ চালু করা হয়েছে, যেখানে যে কোনও সময় ৫,০০০ ভারতীয় পেশাজীবীর জন্য নির্দিষ্ট কোটা থাকবে। এর অধীনে রয়েছে, আইটি, স্বাস্থ্যসেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, আয়ূষ চিকিৎসক, যোগ প্রশিক্ষক এবং ভারতীয় শেফ। এই চুক্তির ফলে সংখ্যাগত সীমা ছাড়াই ভারতীয় শিক্ষার্থীরা উন্নত পোস্ট-স্টাডির অধিকার পাবে। এসটিইএম ব্যাচেলর ও মাস্টার্স স্নাতকরা সর্বোচ্চ ৩ বছর কাজ করতে পারবেন, ডক্টরাল গবেষকরা সর্বোচ্চ ৪ বছর কাজ করতে পারবেন।

    ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে ভিসা

    দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে ১,০০০ ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে ভিসাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষার জন্য এই এফটিএতে কঠোর ব্যতিক্রম ও সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে (FTA)। সংবেদনশীল বিভিন্ন খাতকে বাজার প্রবেশাধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুধ, ক্রিম, চিজ, দই, চিনি, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ এবং মসলা (India New Zealand Relation)। কেবল বাণিজ্য নয়, এই চুক্তি উৎপাদনশীলতা অংশীদারিত্বে জোর দিয়েছে। আপেল, কিউই ফল এবং মধুর জন্য উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রযুক্তি হস্তান্তর ও গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতীয় কৃষকদের আয় বাড়ানোই এর লক্ষ্য।

    কী বললেন পীযূষ গোয়েল?

    এই সহযোগিতার সঙ্গে কোটা এবং ন্যূনতম আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে নিউজিল্যান্ডের পণ্যের সীমিত বাজার প্রবেশাধিকারও যুক্ত থাকবে (FTA)। ভারত ১১৮টি খাতজুড়ে পরিষেবা সুবিধা অর্জন করেছে এবং ১৩৯টি উপ-খাতে মোস্ট ফেভারর্ড নেশন (MFN) প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। প্রধান ক্ষেত্রগুলি হল, আইটি-সক্ষম পরিষেবা, পেশাগত পরিষেবা, নির্মাণ এবং পর্যটন। এর ফলে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ সৃষ্টি হবে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য গড়ে তোলা।” তিনি এও বলেন, “এই চুক্তি ভারতের যুবসমাজ, উদ্যোক্তা এবং কৃষকদের জন্য বৈশ্বিক সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে (India New Zealand Relation)।”

  • India-UK Trade Deal: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মে মাসে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ বিকিকিনি

    India-UK Trade Deal: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মে মাসে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ বিকিকিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) আগামী মে মাসে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল। তিনি জানান, গত বছরের জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত এই বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (CETA)-র অধীনে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানি পণ্যে ব্রিটিশ বাজারে (India-UK Trade Deal) শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার মিলবে। এর বদলে ভারত ব্রিটিশ কিছু পণ্যের উপর, যেমন গাড়ি ও হুইস্কি, শুল্ক কমাবে। আগরওয়াল বলেন, “আমরা আশা করছি মে মাসের মধ্যেই এই চুক্তি কার্যকর হবে। নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঠিক হয়নি, কারণ যুক্তরাজ্যের পক্ষেও কিছু আলোচনা বাকি রয়েছে।”

    চুক্তির ফলে ভারতের লাভ

    দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির ফলে ব্রিটেনের বাজারে ভারতের বেশ কিছু কৃষিজাত এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য আমদানির জন্য কোনও শুল্ক লাগবে না। নতুন চুক্তি অনুসারে, হলুদ, গোলমরিচ, এলাচের মতো কৃষিপণ্য এবং আমের শাঁস, আচার, ডালের মতো প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যগুলি ব্রিটিশ বাজারে বিনা শুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। পাশাপাশি ভারতীয় মৎস্যজীবীরাও উপকৃত হবেন। ভারতের চিংড়ি, টুনা মাছ-সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য বিনা শুল্কে ব্রিটেনের বাজারে আমদানি করা যাবে। এই চুক্তির ফলে ভারত থেকে রফতানি হওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্যই ব্রিটেনের বাজারে বিনাশুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে। তবে স্থানীয়দের স্বার্থের কথা ভেবে আপেল, চিজ, দুগ্ধজাত পণ্য চুক্তির আওতায় আনেনি ভারত। এগুলি আমদানির ক্ষেত্রে কর ছাড় থাকছে না।

    ব্রিটেনের লাভ

    অন্য দিকে ব্রিটেন থেকে ভারতে রফতানি করা বিভিন্ন পণ্যের উপর দফায় দফায় শুল্ক কমিয়ে আনা হবে। এতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে ব্রিটেনের খাদ্য এবং পানীয় প্রস্তুতকারী ক্ষেত্র। এর মধ্যে রয়েছে রয়েছে ব্রিটেনের স্কচ হুইস্কি। বর্তমানে ব্রিটেনের স্কচ হুইস্কির উপর ভারতীয় বাজারে ১৫০ শতাংশ হারে শুল্ক নেওয়া হয়। নতুন চুক্তিতে এই শুল্ক প্রথম ধাপে কমিয়ে ৭৫ শতাংশ করা হবে। তার পরে এক দশকের মধ্যে শুল্ক আরও কমিয়ে ৪০ শতাংশ করে দেওয়া হবে।ব্রিটেন থেকে আমদানি করা স্কচ হুইস্কির এবং জিনের পাশাপাশি জাগুয়ার, ল্যান্ডরোভারের মতো গাড়ি, মেডিক্যাল যন্ত্র, প্রসাধনী, চকোলেট, নরম পানীয়ও সস্তা হবে। ব্রিটেন থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিন গাড়ির উপর বর্তমানে ১১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। সেটি কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে নতুন চুক্তিতে। ফলে বৈদ্যুতিন গাড়ির দামও কমতে পারে ভারতে।

    ভারতের বাণিজ্য চুক্তি সমূহ

    এছাড়াও তিনি জানান, ওমান-এর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি আগামী ১ জুনের মধ্যে কার্যকর হতে পারে। গত ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও চামড়াজাত দ্রব্যসহ ভারতের ৯৮ শতাংশ রফতানি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে ভারত ওমানের খেজুর, মার্বেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে। আগরওয়াল আরও বলেন, নিউজিল্যান্ড-এর সঙ্গে ভারতের এফটিএ আগামী ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই চুক্তির লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং ভারতীয় পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, আগামী ১৫ বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি চলতি বছরেই সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। সরকারের লক্ষ্য, এই চুক্তি আগামী অর্থবছরের শেষের আগেই কার্যকর করা। অন্যদিকে কানাডা-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। মে মাসে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান বাণিজ্য সচিব।

  • Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুদিনের সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভ (Deputy PM Manturov)। আজ, ২ এপ্রিল ভারত সফরে এসেছেন তিনি, যা দুই দিনের একটি সরকারি সফর। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। তিনি ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতিত্ব করবেন, যা আদতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক্স-এ (X) একটি পোস্টে জানায়, “রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান এবং ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতি ডেনিস মান্তুরভকে নয়াদিল্লিতে আন্তরিক স্বাগত। সফরের সময় তিনি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। অংশ নেবেন অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়ও।”

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা (Russia)

    ভারতে রাশিয়ার দূতাবাসের তরফেও তাঁর আসার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, চলতি সফরে রুশ নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক আলোচনা হবে। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মান্তুরভ বলেন, “এই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সামগ্রিক সম্প্রসারণ (Deputy PM Manturov)।” তিনি এও বলেন, “পারস্পরিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, লজিস্টিক চেন শক্তিশালী করা, বাজারে প্রবেশের সুযোগ উন্নত করা এবং নতুন বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পকে উৎসাহিত করা—এই বিষয়গুলি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গৃহীত ২০৩০ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হবে।”

    সফরের বহুমুখী গুরুত্ব

    নয়াদিল্লতে থাকার সময় মান্তুরভ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন, যা এই সফরের বহুমুখী গুরুত্বকে তুলে ধরে। এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে (Deputy PM Manturov)। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। এর মধ্যে রাশিয়ার রফতানি ছিল ৬৩.৮ বিলিয়নেরও বেশি, আর ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ৫ বিলিয়নের কম। এই ভারসাম্যহীনতার প্রধান কারণ ভারতীয় বাজারে সস্তা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের আমদানি বৃদ্ধি।

    ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ

    ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের তেল আমদানির মাত্র ২.৫ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। ২০২৪–২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৫.৮ শতাংশ হয়েছে। এটি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা মোকাবিলা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের একটি কৌশলের অংশ (Deputy PM Manturov)। ভারত ও রাশিয়া এখন জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ছাড়াও নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফাইন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা। এছাড়া বাণিজ্যের কাঠামোগত বাধা দূর করা এবং ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের (EAEU) সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারত একই সঙ্গে তার জ্বালানি আমদানির উৎস ২৭ দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪১ দেশে সম্প্রসারণ করেছে, যাতে নির্ভরতা কমে।

    ব্রিকস সম্মেলন

    রাশিয়ার উপ-বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রে রুডেনকো জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। তিনি জানান, মস্কো এই সম্মেলনে ঐকমত্য গঠনে ভারতের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে। তিনি আরও জানান, রাশিয়া ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পেট্রোল রফতানি নিষিদ্ধ করলেও বর্তমানে যে তেল চুক্তি রয়েছে, তাকেও সম্মান করবে (Deputy PM Manturov)। রুডেনকো বলেন, “ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে নিয়মিত এবং ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীও সুবিধাজনক সময়ে রাশিয়া সফর করবেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে এসেছিলেন। এবার পরবর্তী সম্মেলন মস্কোয় হবে। সেখানেই ফের একবার মুখোমুখি হতে পারেন পুতিন-মোদির (Deputy PM Manturov)।

     

  • PM Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণ মোদির, তেরঙায় সেজে উঠেছে ‘নেসেট’

    PM Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইজরায়েলি সংসদে ভাষণ মোদির, তেরঙায় সেজে উঠেছে ‘নেসেট’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইজরায়েলে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের পর এটি তাঁর দ্বিতীয় ইজরায়েল সফর। বুধবার বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) ও তাঁর স্ত্রী সারা। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বরণ করতে গোটা ইজরায়েল জুড়ে প্রস্তুতি চলছে। এই সফরে মোদি ইজরায়েলের সংসদ ‘নেসেট’-এ ভাষণ দেবেন। ইজরায়েলের আইনসভায় ভাষণ দেওয়া তিনিই হবেন প্রথম ভারতীয় নেতা। ইজরায়েলের সংসদ ভবন ত্রিবর্ণ পতাকার রঙে সজ্জিত করা হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি মোদি ইয়াদ ভাশেমে—ইজরায়েলের হলোকস্ট স্মৃতিসৌধে—গিয়ে অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি জমানায় নিহত ৬০ লক্ষ ইহুদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর তিনি ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠক করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন।

    মোদি জমানায় ভারত-ইজরায়েল নৈকট্য (PM Modi)

    ১৯৫০ সালে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় ভারত। যদিও তার পরেও কয়েক দশক ধরে সম্পর্ক ছিল সতর্ক ও সীমিত। মোদির আমলে সেই অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে (Benjamin Netanyahu)। ২০১৭ সালে তাঁর সফর ছিল প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ইজরায়েল সফর, যা লো-প্রোফাইল সম্পর্ক থেকে প্রকাশ্য কৌশলগত অংশীদারিত্বে উত্তরণের সূচনা করে। এরপর থেকে প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, উদ্ভাবন, কৃষি ও উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৭ সালের সফর ছিল একটি মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত (PM Modi)।

    “দুই বৈশ্বিক নেতার শক্তিশালী জোট”

    নেতানিয়াহু একাধিকবার মোদিকে “প্রিয় বন্ধু” এবং ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ককে “দুই বৈশ্বিক নেতার শক্তিশালী জোট” বলে বর্ণনা করেছেন—যা ইজরায়েলে দলীয় বিভাজন পেরিয়ে সাড়া ফেলেছে। প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সফর আগামী দশকের জন্য ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সহযোগিতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। নেসেটে ভাষণ এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য আলোচনার ফল পশ্চিম এশিয়া এবং তার বাইরেও ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে (Benjamin Netanyahu)।

    মোদির বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় ইজরায়েলের বিরোধী দলও

    ইজরায়েলের বিরোধী শিবির আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট মেটানোর আহ্বান জানায় যাতে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেসেট ভাষণে উপস্থিত থাকতে পারে। আজকের মেরুকৃত বিশ্বে এটি একটি বিরল ঘটনা। বিরোধী দলনেতা নেতানিয়াহুকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেন, যেন মোদির সংসদীয় ভাষণে বিরোধীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয় এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা যেন জাতীয় গুরুত্বের মুহূর্তকে ক্ষুণ্ণ না করে। চিঠিতে বলা হয়, “এমন এক ঐতিহাসিক ভাষণে নেসেট যেন বিরোধী দলের উপস্থিতি থেকে বঞ্চিত না হয় (PM Modi)।”

    অস্থির অঞ্চলে ধারাবাহিকতার প্রতীক মোদি

    এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, ইজরায়েলে মোদিকে কেবল দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয় না, তাঁকে কৌশলগত ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইজরায়েলের রাজনৈতিক পরিসর জুড়ে মোদি এমন এক নেতা হিসেবে সম্মান পান, যিনি ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, সংকটের সময় ইজরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন, আবার একইসঙ্গে প্যালেস্তাইন ইস্যু ও গাজায় মানবিক উদ্বেগের ক্ষেত্রে ভারতের নীতিগত অবস্থানও বজায় রেখেছেন। এই ভারসাম্য তাঁকে একক কোনও ইজরায়েলি সরকারের গণ্ডির বাইরে গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে (Benjamin Netanyahu)। নেতানিয়াহুর কাছে মোদি একটি অস্থির অঞ্চলে ধারাবাহিকতার প্রতীক, বিরোধী শিবিরের কাছে তিনি সরকার-নিরপেক্ষ এক দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের প্রতীক। তাই মোদির নেসেট ভাষণের সময় বিরোধী নেতারাও উপস্থিত থাকতে চান। তাঁর ভাষণকে দলীয় রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে নয়, বরং ইজরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের দিকনির্দেশক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে (PM Modi)।

     

  • India US Relation: কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত, রুবিওকে সাফ বলেছিলেন ডোভাল

    India US Relation: কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত, রুবিওকে সাফ বলেছিলেন ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদির সরকার (Modi Govt) কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তিতে যেতে রাজি নয়। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের তপ্ত পর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে নীরবে কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে এ কথা বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি (India US Relation)। ভারত–আমেরিকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপটে ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে এই তথ্য। ভারত যে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয় ঠারেঠোরে।

    ভারতের বার্তা (India US Relation)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছিলেন, হোয়াইট হাউস যদি শত্রুতাপূর্ণ ভাষা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল থেকে সরে না আসে, তবে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়টুকু অপেক্ষা করতে ভারত প্রস্তুত। এই বার্তাটি দেওয়া হয় সেপ্টেম্বরের শুরুতেই, যে সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তীব্র চাপের মধ্যে ছিল। একদিকে আমেরিকার আরোপিত দণ্ডমূলক শুল্ক, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া প্রকাশ্য মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সেই সময় ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতিকে অবজ্ঞাসূচক ভাষায় কটাক্ষ করেছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রেখে ভারত পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অর্থ জোগাচ্ছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ভারতীয় রফতানির (India US Relation) ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করে। ডোভাল সাফ জানিয়ে দেন, ভারত এই তিক্ততা কাটিয়ে আবারও বাণিজ্য আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী, তবে তা হতে হবে প্রকাশ্য অপমান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। তিনি আরও জানান, অতীতেও ভারত কঠিন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছে এবং প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার সামর্থ্য তার রয়েছে (Modi Govt)।

    সুর নরম ট্রাম্প প্রশাসনের

    এই আলোচনার অল্প সময়ের মধ্যেই সুর নরম হতে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসনের। ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে তাঁকে ফোন করে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন—যা আগের বক্তব্যগুলির তুলনায় এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের। পরবর্তীকালে দুই নেতা একাধিকবার কথা বলেন, যার ফলে ধীরে ধীরে নতুন করে সম্পর্ক জোরদারের পথ তৈরি হয়। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একটি বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছেছে, যার ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে আসবে এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত পৃথক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়াবে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। তবে মোদি সরকার এখনও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি বা কোনও লিখিত (India US Relation) চুক্তি প্রকাশ করেনি।

    একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত

    এই ঘোষণা নয়াদিল্লির কিছু শীর্ষ আধিকারিককেও বিস্মিত করে, যা প্রমাণ করে যে কূটনৈতিক আলোচনা কতটা নীরবে এগিয়েছে (Modi Govt)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হঠাৎ এই চুক্তি বৃহত্তর কৌশলগত প্রেক্ষাপটের দিকেও ইঙ্গিত করে, যা ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ২০২৫ সালে ভারত ব্রিটেনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে। চলতি বছরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গেও একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং সর্বশেষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত হয়। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। এর পরই ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে স্বীকার করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ভারতকে চিনের কাছে হারিয়ে ফেলছে।

    এই সব পদক্ষেপ মিলিয়ে স্পষ্ট হয়, ভারত তার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করছে এবং কেবল ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল নয়।এই বিস্তৃত কৌশলই সম্ভবত আমেরিকার ওপর সম্পর্ক মেরামতের চাপ বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতির পরিণতি এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই অচলাবস্থা থেকে ভারত আরও (Modi Govt) শক্তিশালী দরকষাকষির অবস্থানে বেরিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত (India US Relation) চুক্তির ভালো দিকটিই আদায় করেছে।

     

  • EU Trade Agreement: ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, মোদির চালে কুপোকাত তিন দেশ

    EU Trade Agreement: ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, মোদির চালে কুপোকাত তিন দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি (EU Trade Agreement) শুধু প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যেই নয়, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভারত–ইইউয়ের (India) এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব শুধু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আমেরিকা এবং তুরস্কের গায়েও লাগবে এর আঁচ।

    ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহার (EU Trade Agreement)

    এই চুক্তির আওতায় ইইউ থেকে ভারতে রফতানি হওয়া পণ্যের ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতির ওপর সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্যে ২২ শতাংশ এবং ওষুধে ১১ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক—যেগুলি ধাপে ধাপে প্রায় পুরোপুরিই তুলে নেওয়া হবে। ইউরোপীয় বিয়ারের ওপর শুল্ক কমিয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে। পাশাপাশি রাসায়নিক দ্রব্য, বিমান ও মহাকাশযানের ক্ষেত্রে প্রায় সব পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হবে। ইইউয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউয়ের রফতানি দ্বিগুণ হতে পারে এবং ইউরোপীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে। অবশ্য এই চুক্তি ভারতের প্রতিপক্ষ দেশগুলির জন্য নেতিবাচক প্রভাবও বয়ে আনবে।

    তুরস্কে তোলপাড়

    অপারেশন ‘সিঁদুরে’র পর ভারত ও তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই অভিযানের সময় আঙ্কারা পাকিস্তানকে ড্রোন ও লয়টারিং অ্যামুনিশন সরবরাহ করেছিল। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি তুরস্কের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, ইইউ–তুরস্ক কাস্টমস ইউনিয়নের চুক্তি অনুযায়ী, ইইউ যে কোনও অংশীদার দেশের সঙ্গে যে অভিন্ন বহির্শুল্ক নির্ধারণ করে, তা অনুসরণ করতে হয় তুরস্ককে। এ নিয়ে তুরস্ক আগে থেকেই ইইউর কাছে আপত্তি জানিয়ে আসছে। যদিও এখনও কোনও রফাসূত্র বের হয়নি। তাই সমাধান হয়নি সমস্যারও। ইইউ যখন কোনও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) অংশীদার—যেমন ভারতের—জন্য শুল্ক কমায়, তখন তুরস্ককেও সেই দেশের জন্য একই শুল্কছাড় দিতে বাধ্য হতে হয়। কিন্তু ভারত তুরস্কের ক্ষেত্রে পাল্টা কোনও শুল্কছাড় দিতে বাধ্য নয়। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটিই দেখার (EU Trade Agreement)।

    বিপাকে বাংলাদেশ

    তুরস্কের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়বে ভারতের পড়শি বাংলাদেশের ওপরও। কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর বেশি এবং বাংলাদেশের ওপর কম শুল্ক আরোপের কারণে ভারতীয় কোম্পানিগুলি তাদের উৎপাদন ঘাঁটি বাংলাদেশে স্থানান্তর করতে পারে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হওয়ায় বাংলাদেশ ইইউতে রফতানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়, যেখানে ভারতকে তুলনামূলকভাবে বেশি শুল্ক দিতে হত (India)। এর ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল (EU Trade Agreement)। ইইউয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “ভারত খুব দ্রুত ইউরোপে বস্ত্র রফতানি ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৩০–৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পারে। আমাদের সবসময় প্রশ্ন করা হত, বাংলাদেশ কীভাবে ইউরোপে এত বেশি রফতানি করে। তারা শূন্য-শুল্ক সুবিধা পেয়েছে এবং ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার দখল করেছে।” ইইউয়ের বাজারে ভারতীয় পোশাক রফতানি যখন বাংলাদেশের পণ্যের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে, তখন মূল্য ও মানের দিক থেকে বাংলাদেশের বাজারের অংশীদারিত্ব যে কমবে, তা এক প্রকার নিশ্চিত (EU Trade Agreement)।

     পাকিস্তান কুপোকাত

    টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা দুর্বল অর্থনীতির পাকিস্তানও ইইউয়ের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে ক্ষুব্ধ। ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পাকিস্তান-সমর্থিত খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দিল্লিকে খালিস্তানি তৎপরতার বিরুদ্ধে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ করে দেবে (India)। কানাডা, জার্মানি ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলিকে ঘাঁটি করে গড়ে ওঠা খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলির ধারণা, ইইউ এবং ভারতের এই ঘনিষ্ঠতা তাদের আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর হবে। ভারত–ইইউ প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের আওতায় সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতাও রয়েছে, যা খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে (EU Trade Agreement)।

    এদিকে, এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও অসন্তুষ্ট। ওয়াশিংটনের চাপ সত্ত্বেও ভারত নতি স্বীকার না করায় ভারত–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য সত্ত্বেও নয়াদিল্লি তার অবস্থান বদলায়নি। এখন ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি ট্রাম্পের ওপর তার সমর্থক ও রাজনৈতিক নেতাদের চাপ আরও বাড়াবে। কারণ আমেরিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ (India) কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি হাতছাড়া করছে (EU Trade Agreement)।

     

  • India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    India EU FTA: “ইইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে ভারতই লাভবান হবে”, বলছেন মার্কিন বাণিজ্য কর্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর এই চুক্তিতে (India EU FTA) ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।” কথাগুলি বললেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা। তাঁর মতে, এই চুক্তিটি ইউরোপীয় বাজারে ভারতের প্রবেশাধিকার আরও বাড়িয়ে দিয়ে নয়াদিল্লিরই সুবিধে করে দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, “এই চুক্তিতে ভারতই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। চুক্তি কার্যকর হলে নয়াদিল্লি কার্যত গোল্ডেন টাইম উপভোগ করবে।” তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত চুক্তির কিছু খুঁটিনাটি আমি দেখেছি। সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয় এতে ভারতই এগিয়ে থাকবে। তারা ইউরোপের বাজারে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।”

    ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে (India EU FTA)

    প্রস্তাবিত চুক্তির বিস্তারিত দিকগুলির উল্লেখ করে গ্রিয়ার বলেন, “শুনে মনে হচ্ছে, এতে ভারতের জন্য অতিরিক্ত কিছু অভিবাসন সুবিধাও থাকতে পারে। আমি নিশ্চিত নই, তবে ইইউয়ের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ইউরোপে ভারতীয় শ্রমিকদের যাতায়াত বা মোবিলিটি নিয়ে কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে আমার ধারণা, এই চুক্তির ফলে ভারত বেশ বড় সুবিধা পেতে চলেছে।” মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে। একে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি যৌথ বাজার তৈরি হবে এবং বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করার লক্ষ্যে একটি রূপান্তরধর্মী পাঁচ বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে (India EU FTA)।

    গ্রিয়ারের বক্তব্য

    এই চুক্তি গ্লোবাল মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানির ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯৭ শতাংশের বেশি রফতানির ওপর শুল্ক হ্রাস করা হবে। তবে আমেরিকার শীর্ষ বাণিজ্য কর্তা এই অগ্রগতির গুরুত্ব কিছুটা খাটো করে দেখান। তাঁর মতে, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিকল্প বাজার খুঁজতে বাধ্য করছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আরও কঠোর বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করছে (India EU FTA)। গ্রিয়ার বলেন, “কৌশলগতভাবে এটা বোঝা জরুরি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং কার্যত অন্য দেশগুলির জন্য আমাদের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এক ধরনের ফি আরোপ করেছেন। ফলে এসব দেশ তাদের অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য নতুন বাজার খুঁজছে। সেই কারণেই ইইউ ভারতের দিকে ঝুঁকছে।” তিনি এও বলেন, “ইইউ অত্যন্ত বাণিজ্যনির্ভর।”

    কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা

    গ্রিয়ারের মতে, কম খরচের শ্রমশক্তির সুবিধা নিয়ে এই চুক্তি ভারতের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াবে, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কার্যত গ্লোবালাইজেশনকে আরও জোরদার করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে বিশ্বের দুটি প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক নিখুঁত উদাহরণ বলে অভিহিত করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি আমাদের নিজস্ব বিশ্বে মানুষ ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত করতে সহায়ক হবে।” তিনি বলেন, “ভারত এগিয়ে এসেছে, আর ইউরোপ সত্যিই আনন্দিত। কারণ ভারত সফল হলে বিশ্ব আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হয়, এবং তার সুফল আমরা সবাই পাই।”

    ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিক

    এদিকে, এই চুক্তি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চর্চার খোরাক জুগিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যমই এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যের দিকে আলোকপাত করেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের হেডলাইন হল, “ট্রাম্পের ছায়ায়, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ”। এখানে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের বাণিজ্য সম্পর্ক যখন ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি আরও গভীর হচ্ছে (India EU FTA)। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার আবহে ইউরোপ ও ভারত একটি ‘ব্লকবাস্টার’ বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। সিএনএন বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তুলে ধরে জানিয়েছে, ট্রাম্পের নীতিতে আঘাতপ্রাপ্ত ভারত ও ইউরোপ একে অপরের দিকে ঝুঁকছে, যাকে তারা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। যদিও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতীকী গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে।

    সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল চুক্তিটির ব্যাপ্তি তুলে ধরে জানিয়েছে, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাক্ষরিত জনসংখ্যাভিত্তিক সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। একই সঙ্গে এটি এমন এক বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে ট্রাম্প-যুগের শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় বড় অর্থনীতিগুলি বিকল্প বাণিজ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সিএনবিসি বারবার এই চুক্তিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন, ইউরোপের গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ রফতানির সম্ভাবনা এবং আমেরিকা–ভারত ও আমেরিকা–ইইউ বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে ভারতীয় বস্ত্র ও পরিষেবা খাতের জন্য উন্নত বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেছে। এনবিসি একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া একটি ‘ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, পাশাপাশি ইউরোপকে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ দেয় (India EU FTA)।

    ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’

    দ্য ডিপ্লোম্যাট এটিকে ‘ট্রাম্প-পরবর্তী, বহুমেরুকেন্দ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি ভারতের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনকে ইউরোপের শিল্পভিত্তির সঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামো নতুনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারত ও ইইউয়ের মধ্যে প্রায় দুই দশক ধরে চলা বাণিজ্য আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হল। এর সমাপ্তি এমন একটা সময়ে হল, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ড সংযুক্তির বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন (যদিও পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন)। ইইউয়ের জন্য আমেরিকা এখনও সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। ফলে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্য আনার দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে শুধু শুল্ক বা বাজার প্রবেশাধিকারের চুক্তি হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মুখে বড় অর্থনীতিগুলি কীভাবে একক দেশের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প জোট গড়ে তুলছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে (India EU FTA)। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটির তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব মাঝারি হতে পারে, যদিও এর ভূরাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। এটি ভারত ও ইউরোপকে স্বাধীন, স্থিতিশীল এবং সক্ষম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

  • India EU Relation: ইইউ-র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা মোদির, “সব চুক্তির জননী” বললেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট

    India EU Relation: ইইউ-র সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা মোদির, “সব চুক্তির জননী” বললেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে (India EU Relation) চূড়ান্ত হল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তি (Trade Deal)। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একথা জানান। অনিশ্চিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই উভয় পক্ষ এই চুক্তিতে এগিয়েছে। প্রায় দু’দশক ধরে দফায় দফায় আলোচনা চলার পর এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ধীরে ধীরে তার বৃহৎ ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বাজারকে ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করবে। ইইউ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

    বাণিজ্য সচিবের বক্তব্য (India EU Relation)

    বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল সোমবার জানান, ভারত এবং ইইউয়ের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা সফল হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ভারতে ইইউয়ের রফতানি প্রায় দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভারতের পরিষেবা খাতে, বিশেষ করে আর্থিক পরিষেবা, সামুদ্রিক পরিষেবা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার পাবে ইউরোপীয় সংস্থাগুলি। এতে নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কর্মসংস্থানও বাড়বে (India EU Relation)।

    শুল্ক বাতিল বা হ্রাস পাবে

    জানা গিয়েছে, ইইউর পণ্য রফতানির ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণ বাতিল বা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হবে, ইউরোপীয় পণ্যের ওপর বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে, ভারতের পক্ষ থেকে কোনও বাণিজ্যিক অংশীদারকে দেওয়া সবচেয়ে বড় বাজার-উন্মুক্তকরণ, ফলে ইইউ রফতানিকারীদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হবে, আর্থিক ও সামুদ্রিক পরিষেবা-সহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইইউ পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক প্রবেশাধিকার, রফতানি আরও দ্রুত ও সহজ করতে শুল্ক প্রক্রিয়া সরলীকরণ, ইউরোপীয় বৌদ্ধিক সম্পত্তি, যেমন ট্রেডমার্ক সুরক্ষা এবং ছোট ও মাঝারি ইউরোপীয় ব্যবসার জন্য আলাদা অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা (Trade Deal)।

    মোদি থেকে উরসুলা— কে কী বললেন?

    ভারত এবং ইইউ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মানুষ একে সব চুক্তির জননী (মাদার অফ অল ডিলস্) বলে অভিহিত করছে। এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপের জনগণের জন্য বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এটি বিশ্বের দুই প্রধান অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক নিখুঁত উদাহরণ। এই চুক্তিটি বিশ্ব জিডিপির (GDP) ২৫ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,  “এই চুক্তি উৎপাদন এবং পরিষেবা—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের গতি আনবে।” ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “আজ ইউরোপ ও ভারত ইতিহাস সৃষ্টি করছে। আমরা সব চুক্তির জননী স্বাক্ষর করেছি। দুই বিলিয়ন মানুষের জন্য একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল তৈরি হল, যেখানে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে। এটি কেবল শুরু। আমাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে (India EU Relation)।” ২৬ জানুয়ারি দিল্লিতে আয়োজিত প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথিদের একজন ছিলেন উরসুলা ফন ডার লায়েন। তিনি অনুষ্ঠান থেকে একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে লিখেছিলেন, “একটি সফল ভারত বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করে তোলে। আর এতে আমরা সবাই উপকৃত হই (Trade Deal)।”

    কবে কার্যকর হবে চুক্তি

    যদিও ভারত এবং ইইউ আলোচনা চূড়ান্ত করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তবে এটি কার্যকর হবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে। এর আগে চুক্তির আইনি দিকটি খতিয়ে দেখতে পাঁচ থেকে ছ’মাস সময় লাগবে। এরপর আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল (India EU Relation)। ভারত এবং ইইউ যখন এই বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে, তখনও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা চলছিল। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সংবাদ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ইউরোপীয় দেশগুলি ভারত থেকে পরিশোধিত রুশ তেলজাত পণ্য কিনে কার্যত নিজেদের বিরুদ্ধেই একটি যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে।”

     

  • EU Chief: “আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে”, বললেন ইইউ প্রধান

    EU Chief: “আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে”, বললেন ইইউ প্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।” মঙ্গলবার দাভোসে এ কথাই বললেন ইইউয়ের প্রধান (EU Chief) উরসুলা ফন ডার লায়েন। তিনি বলেন, “এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তবে আমরা একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির (FTA) দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছি। কেউ কেউ একে সব চুক্তির জননী বলছেন। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি মানুষের একটি বাজার গড়ে উঠবে, যা বৈশ্বিক মোট জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করবে।” ইইউর বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

    ফন ডার লায়েনের বক্তব্য (EU Chief)

    ফন ডার লায়েন জানান, এই বাণিজ্য উদ্যোগের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগও যুক্ত রয়েছে। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠক শেষে আগামী সপ্তাহান্তে তিনি ভারত সফরে যাবেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্যই হল, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, “ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং সহযোগিতা গভীর করার জন্য এখনও উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে।” উরসুলা ফন ডার লায়েন (EU Chief) ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে অন্যতম প্রধান অতিথি। ভারত সফরকালে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কস্তার সঙ্গে তিনি যৌথভাবে ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ১৬তম ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্বও করবেন।

    প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি

    ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিকে ইউরোপের বৈশ্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ফন ডার লায়েন বলেন, “ইউরোপ বিশ্বজুড়ে অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবসা করতে উন্মুক্ত এবং সক্রিয় সম্পৃক্ততা বজায় রাখবে।”
    তিনি বলেন, “ইউরোপ সব সময় বিশ্বকেই বেছে নেবে, এবং বিশ্বও ইউরোপকে বেছে নিতে প্রস্তুত”। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইইউর দৃঢ় সংকল্পের কথাও বলেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও জানিয়েছিলেন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যার আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, তা হবে ভারতের স্বাক্ষরিত সবচেয়ে বড় চুক্তি। তিনি বলেন, “আমি এখন পর্যন্ত সাতটি চুক্তি সম্পন্ন করেছি, সবই উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে। কিন্তু এটি হবে সব চুক্তির জননী।”

    গোয়েল এও বলেন, “আমরা একটি অত্যন্ত ভালো চুক্তি পাচ্ছি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগ্রহের ক্ষেত্রগুলিতেও আমরা তাদের জন্য আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিচ্ছি। এটি অবশ্যই উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হতে হবে। সবচেয়ে ভালো দিক হল, আমরা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করি না, আমাদের স্বার্থ ভিন্ন।” গোয়েলের আগে, বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, উভয় পক্ষ ২৪টি অধ্যায়ের মধ্যে ২০টির আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং ২৬ জানুয়ারির (FTA) মধ্যে আলোচনার বাকি অংশ শেষ করার চেষ্টা চলছে (EU Chief)।

  • India Oman Relation: ব্রিটেনের পরে এবার ভারত-ওমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ‘‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

    India Oman Relation: ব্রিটেনের পরে এবার ভারত-ওমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ‘‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সলতে পাকানোর কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। শেষমেশ স্বাক্ষরিত হল ভারত-ওমান মুক্ত (India Oman Relation) বাণিজ্য চুক্তি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয় এই চুক্তি (FTA)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত ও ওমানের যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি ভারতের শিল্পজাত রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ওমানে আমদানি শুল্ক কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শূন্য থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। ওই প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্য গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ শুল্ক হারে ওমানে ঢোকে। তবে বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ব্যাপকভাবে ভিন্ন, এবং কিছু নির্দিষ্ট পণ্য যেমন নির্দিষ্ট ধরনের মাংস, মদ ও তামাকজাত দ্রব্যের ওপর খুব বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়।

    জিটিআরআইয়ের বক্তব্য (India Oman Relation)

    জিটিআরআই জানিয়েছে, সিইপিএ-এর আওতায় এই শুল্কগুলি বাতিল বা হ্রাস করা হলে ওমানের বাজারে ভারতীয় শিল্পজাত রফতানির প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা এক লপ্তে অনেকখানি বেড়ে যাবে। প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে, “সিইপিএ-এর আওতায় শুল্ক বিলোপের ফলে ভারতীয় শিল্পজাত রফতানির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান উন্নত হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হলে ওমানের তুলনামূলকভাবে ছোট বাজারে পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন ও বৈচিত্র্যকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।” বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ভারত ও ওমানের মধ্যে যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) আগামী কয়েক দশক ধরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে (India Oman Relation) রূপ দেবে।” তিনি একে উভয় দেশের “সম্মিলিত ভবিষ্যতের নকশা” বলে অভিহিত করেন।

    ভারত–ওমান বাণিজ্যিক সম্মেলন

    মাস্কাটে অনুষ্ঠিত ভারত–ওমান বাণিজ্যিক সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে থাকা সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং ভারতকে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার জন্য স্টার্টআপগুলিকেও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আজ আমরা একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, যার প্রতিধ্বনি আগামী কয়েক দশক ধরে শোনা যাবে। যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (CEPA) একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের মধ্যে নতুন আস্থা ও নতুন উদ্যম সঞ্চার করবে। এটি আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যতের একটি নকশা। এই চুক্তি আমাদের বাণিজ্য বাড়াবে, বিনিয়োগে নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং প্রতিটি খাতে নতুন সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে (FTA)।”

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আজকের এই ভারত–ওমান শীর্ষ সম্মেলন ভারত–ওমান অংশীদারিত্বকে একটি নতুন দিক, নতুন গতি দেবে এবং একে নয়া উচ্চতায় পৌঁছতে সাহায্য করবে। এতে আপনাদের সকলেরই বড় ভূমিকা রয়েছে।” তিনি জানান, সাত বছর পরে ওমান সফরে এসেছেন তিনি। ব্যবসায়ী নেতাদের অংশগ্রহণ তাঁকে বিশেষভাবে উৎসাহিতও করছে। তিনটি দেশের সফরের অংশ হিসেবে ওমানে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী তাঁর অর্থনৈতিক বক্তব্যকে ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং শতাব্দীপ্রাচীন সামুদ্রিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা ভারত–ওমান ব্যবসা ও বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আপনারা সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী, যার ইতিহাস (India Oman Relation) শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমৃদ্ধ। সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই আমাদের পূর্বপুরুষরা একে অপরের সঙ্গে সামুদ্র পথে বাণিজ্য করে আসছেন।” তিনি বলেন, “মাণ্ডভি ও মাস্কাটের মধ্যবর্তী আরব সাগর এক শক্তিশালী সেতুতে পরিণত হয়েছে। আজ আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, সমুদ্রের ঢেউ রূপান্তর ঘটাতে পারে, ঋতু বদলাতে পারে, কিন্তু ভারত–ওমান বন্ধুত্ব প্রতি ঋতুতেই আরও দৃঢ় হয় এবং প্রতিটি ঢেউয়ের সঙ্গে নতুন উচ্চতায় পৌঁছয়।”

    কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দুই দেশের এই সম্পর্ক বিশ্বাস ও দীর্ঘস্থায়িত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমাদের সম্পর্ক বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, বন্ধুত্বের শক্তিতে এগিয়ে চলেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে। আজ আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্ণ হয়েছে (FTA)। এটি কেবল ৭০ বছর পূর্তির উদ্‌যাপন নয়, এটি এমন একটি মাইলফলক, যেখানে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।” প্রসঙ্গত, এর আগে ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ব্রিটেনেরও (India Oman Relation)।

LinkedIn
Share