Tag: Gaganyaan Astronaut Designat

  • Palakkad To Space: ‘গডস ওন কান্ট্রি’ থেকে মহাকাশ জয়! কেরালার এক জেলা থেকেই বিশ্ব কাঁপানো ৩ নভোচারী

    Palakkad To Space: ‘গডস ওন কান্ট্রি’ থেকে মহাকাশ জয়! কেরালার এক জেলা থেকেই বিশ্ব কাঁপানো ৩ নভোচারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের মহাকাশ মানচিত্রে আজ অনন্য উচ্চতায় ভারত। তবে এবারের গৌরবগাথা কোনও একক রকেটের উৎক্ষেপণ বা উপগ্রহের কক্ষপথ জয়ের নয়; এবারের ইতিহাস তৈরি হয়েছে মানুষের মেধা, গভীর পারিবারিক ও আঞ্চলিক শিকড়ের মেলবন্ধনে। কেরালার ‘গডস ওন কান্ট্রি’ খ্যাত পালাক্কাদ (Palakkad) জেলা আজ বিশ্বমঞ্চে এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। একটিমাত্র জেলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তিনজন বিখ্যাত মহাকাশচারীর নাম, যা আমেরিকা বা রাশিয়ার মতো পরাশক্তি বাদ দিলে পৃথিবীর আর কোনও অঞ্চলের ক্ষেত্রে ভাবাই যায় না। পাশাপাশি, আগামী ১৫ জুলাই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসা (NASA) নভোচারী ড. অনিল মেনন রাশিয়ার ‘সয়ূজ এমএস-২৯’ (Soyuz MS-29) মহাকাশযানে চেপে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (ISS) উদ্দেশ্যে তাঁর প্রথম মহাকাশ যাত্রা শুরু করতে চলেছেন।

    পালাক্কাদের সেই তিন ‘মহাকাশ বীর’ (Palakkad To Space)

    ড. অনিল মেনন (নাসা নভোচারী ও গবেষক)- আমেরিকায় বেড়ে উঠলেও ড. অনিল মেননের শিকড় কেরালার পালাক্কাদেই (Palakkad)। তাঁর বাবা ভারতীয় এবং মা ইউক্রেনীয়। অনিল একাধারে একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এবং মার্কিন স্পেস ফোর্সের কর্নেল। মহাকাশে যাওয়ার আগে তিনি ভারতের পোলিও নির্মূল অভিযানেও মাঠপর্যায়ে কাজ করেছিলেন। আগামী ১৫ জুলাই কাজাখস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে দীর্ঘ ৮ মাসের এক বৈজ্ঞানিক মিশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন।

    আন্না মেনন (ইতিহাস সৃষ্টিকারী বাণিজ্যিক মহাকাশচারী)- ড. অনিল মেননের স্ত্রী আন্না মেনন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্পেসএক্সের (SpaceX) ঐতিহাসিক ‘পোলারিস ডাউন’ মিশনের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছেন। বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক স্পেসওয়াক (spacewalk) এবং পৃথিবী থেকে রেকর্ড দূরত্বে পাড়ি দেওয়া নারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বর্তমানে তিনি নাসার মহাকাশচারী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। অনিল ও আন্না বর্তমান বিশ্বের অন্যতম এক বিরল এবং সফল ‘মহাকাশচারী দম্পতি’।

    এয়ার কমোডোর প্রশান্ত বালকৃষ্ণ নায়ার (ভারতের গগনযান বীর)- গৌরবের মুকুটে সবচেয়ে বড় পালকটি হলেন ভারতের নিজস্ব ‘গগনযান’ মিশনের অন্যতম প্রধান মহাকাশচারী এয়ার কমোডোর প্রশান্ত বালকৃষ্ণ নায়ার। তিনিও পালাক্কাদেরই সন্তান। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর স্বপ্নের অন্যতম প্রধান মুখ তিনি।

    হিউস্টন থেকে পালাক্কাদ

    আমেরিকার হিউস্টনে প্রশিক্ষণের সময় অনিল মেনন এবং প্রশান্ত নায়ারের মধ্যে এক চমৎকার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। অনিলের এই ঐতিহাসিক যাত্রার প্রাক্কালে প্রশান্ত নায়ার ও তাঁর স্ত্রী (অভিনেত্রী লেনা) একটি অত্যন্ত আবেগঘন শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। প্রশান্ত লিখেছেন, “ভাই অনিল এবং প্রিয় আন্না… এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারা অত্যন্ত আবেগপূর্ণ একটি বিষয়। ভারত এবং কেরালার মাটির সঙ্গে তোমাদের এই টান আমরা সবসময় মনে রাখব। তোমরা দুজনে মিলে সত্যিই একটি সম্পূর্ণ মহাকাশচারী পরিবার”।

    ভারতের মহাকাশ যাত্রার এক প্রতীকী বৃত্ত পূরণ

    মালয়ালি তথা সমগ্র ভারতবাসীর জন্য এই উদযাপনের আনন্দ আরও দ্বিগুণ। কারণ, ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’ (ISRO)-এর জন্ম হয়েছিল কেরালারই এক প্রত্যন্ত মাছ ধরার গ্রাম ‘থুম্বা’ (Thumba)-তে। আর আজ কেরালারই এক জেলা থেকে উঠে আসা তিন ব্যক্তিত্ব বৈশ্বিক মহাকাশ গবেষণার মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন। আমেরিকার নাসা, রাশিয়ার রশকমস কিংবা ভারতের ইসরো- সংস্থা যাই হোক না কেন, পালাক্কাদের এই তিন নক্ষত্র প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎ রূপায়ণে ভারতের ভূমিকা এখন আর শুধু প্রযুক্তি সরবরাহে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানব অভিযানের নেতৃত্বেও ভারত আজ প্রথম সারিতে।

LinkedIn
Share