Tag: GDP Growth rate

GDP Growth rate

  • IMF India GDP Forecast: বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে ছুটবে ভারত! ২০২৭ সালে জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭%

    IMF India GDP Forecast: বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে ছুটবে ভারত! ২০২৭ সালে জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭%

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (IMF)। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করল সংস্থাটি। শুধু চলতি অর্থবর্ষ নয়, ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষেও ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতা, পরিষেবা ক্ষেত্রে শক্তিশালী কার্যকলাপ এবং অর্থনীতির ধারাবাহিক গতি এই আশাবাদের মূল কারণ।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.১ শতাংশে উন্নীত করেছিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। এবার আইএমএফ-এর পূর্বাভাস বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের ইতিবাচক মনোভাবকেই তুলে ধরল।

    কেন ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াল আইএমএফ?

    আইএমএফ-এর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি আউটলুক (World Economic Outlook) রিপোর্টের সাম্প্রতিক আপডেটে বলা হয়েছে, প্রত্যাশার তুলনায় ভারতের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের ধারাবাহিক বৃদ্ধি অর্থনীতিকে গতি জুগিয়েছে।

    সংস্থাটির মতে, ভারতের বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—

    • ● বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার: দেশের বিপুল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান বাজার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে সহায়তা করছে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তি: পরিষেবা ক্ষেত্রে স্থিতিশীল কার্যকলাপ জিডিপি বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি।
    • ● অনুকূল জনসংখ্যাগত পরিস্থিতি: কর্মক্ষম জনসংখ্যার সম্ভাবনা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির বৃদ্ধিকে সমর্থন করতে পারে।
    • ● কাঠামোগত সংস্কার: ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সংস্কার দেশের উৎপাদনশীলতা ও বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে।

    আইএমএফ-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সমস্ত উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে ভারত এমন একটি অর্থনীতি হিসেবে উঠে আসছে, যার বৃদ্ধির গতি আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

    বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত?

    ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বৃদ্ধির তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয় বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে। ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির পূর্বাভাস আইএমএফ সামান্য বাড়িয়ে ৩.১ শতাংশ করেছে। জুলাইয়ের পূর্বাভাস ছিল ৩ শতাংশ। ২০২৭ সালের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ৩.৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    অর্থাৎ, বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার যেখানে ৩ শতাংশের আশপাশে, সেখানে ভারতের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেশটির তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরছে। এই কারণেই বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধিতে ভারতের ভূমিকা আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও বৃদ্ধির আশা

    বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরশীল ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    আইএমএফ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তির উপর ভর করে ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল থেকেছে।

    তবে তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। অপরিশোধিত তেলের আমদানি ব্যয় বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহণ ও উৎপাদন খরচের উপর চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ইতিবাচক পূর্বাভাসের পাশাপাশি জ্বালানির দামের গতিপ্রকৃতিও নজরে রাখতে হবে।

    ২০২৬ সালে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলার হতে পারে অপরিশোধিত তেলের দাম

    আইএমএফ-এর অনুমান অনুযায়ী, ব্রেন্ট, দুবাই ফতেহ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—এই তিন ধরনের অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ২০২৬ সালে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলার হতে পারে। ২০২৫ সালের তুলনায় তা প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।

    ২০২৭ সালে অবশ্য তেলের গড় দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৩৯ ডলারে নেমে আসতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।

    ভারতের অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চস্তরে থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের মূল্যবৃদ্ধি, চলতি খাতের ভারসাম্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে।

    জার্মানি ও ব্রিটেনের বৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়াল আইএমএফ

    শুধু ভারত নয়, কয়েকটি উন্নত অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে আইএমএফ। ২০২৬ সালে জার্মানির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস জুলাইয়ের ০.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে। ব্রিটেনের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১.৩ শতাংশ হয়েছে।

    সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালে উন্নত অর্থনীতিগুলির বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.১ শতাংশ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির সামগ্রিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমানো হয়েছে। জুলাইয়ে এই গোষ্ঠীর জন্য ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধির অনুমান করা হলেও, বর্তমানে তা কমিয়ে ৩.৭ শতাংশ করা হয়েছে।

    চিন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের বৃদ্ধির গতি নিয়ে সংশয়

    উদীয়মান অর্থনীতিগুলির সামগ্রিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমার অন্যতম কারণ চিন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের মতো দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ধীরগতির বৃদ্ধি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সংকোচনের আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও অন্যান্য বড় উদীয়মান অর্থনীতির দুর্বল সম্ভাবনা সামগ্রিক গোষ্ঠীর বৃদ্ধির উপর চাপ তৈরি করছে।

    অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ

    আইএমএফ-এর আগেও এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB), অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD) এবং দুই আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা  এসঅ্যান্ডপি  (S&P) ও ফিচ্ (Fitch) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় ৭ শতাংশের আশপাশে রেখেছে বা বাড়িয়েছে। জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের শক্তিশালী গতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতাকে এই মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

    ভারতের অর্থনীতির সামনে কী বার্তা?

    আইএমএফ-এর পূর্বাভাস বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা। অভ্যন্তরীণ বাজার, পরিষেবা ক্ষেত্র এবং কাঠামোগত সংস্কারের উপর নির্ভর করে বৃদ্ধির গতি ধরে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় ভারতের সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার যথেষ্ট বেশি। তবে এই পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ফলাফল হিসেবে দেখা উচিত নয়।

    আন্তর্জাতিক সংঘাত, অপরিশোধিত তেলের দাম, বিশ্ববাণিজ্যের পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, আইএমএফ-এর নতুন পূর্বাভাসে স্পষ্ট—বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারত আপাতত তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে। এখন নজর থাকবে, এই সম্ভাবনা বাস্তব অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে কতটা প্রতিফলিত হয়।

  • GDP Growth Rate: মার্কিন শুল্ক-চাপের মধ্যেও আগামী অর্থবর্ষে স্থিতিশীল থাকবে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি

    GDP Growth Rate: মার্কিন শুল্ক-চাপের মধ্যেও আগামী অর্থবর্ষে স্থিতিশীল থাকবে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্য যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চড়া শুল্ক নীতির কারণে চাপে রয়েছে, ঠিক সেই সময়েও ভারতের (India) অর্থনীতি আগামী অর্থবর্ষে স্থিতিশীল গতিতে (GDP Growth Rate) এগিয়ে যাবে বলেই আশা কেন্দ্রীয় সরকারের। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার হতে পারে ৭.৪ শতাংশ। এই পূর্বাভাস ভারতের অর্থনীতির দৃঢ়তা ও বহিঃবিশ্বের চাপ মোকাবিলার ক্ষমতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি (GDP Growth Rate)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি না করলেও, তার নেতিবাচক প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারবে না বলেই কেন্দ্রের ধারণা। সরকারের মতে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা এবং আর্থিক সংস্কারের ফলে ভারত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে ভারত (India)। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, বাণিজ্য উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারতের এই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি অ্যাডভান্স অনুমান। এই হার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) পূর্বাভাস ৭.৩ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষে নথিভুক্ত ৭.৩ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে ২০২৩-২০২৪ অর্থবর্ষে দেখা ৯.২ শতাংশের শক্তিশালী বৃদ্ধির তুলনায় এটি এখনও কম (GDP Growth Rate)।

    অ্যাডভান্স জিডিপি অনুমান

    পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI) বুধবার প্রকাশ করেছে প্রথম অ্যাডভান্স জিডিপি অনুমান। এই পরিসংখ্যান বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্লুমবার্গের অর্থনীতিবিদদের সমীক্ষায় গড় পূর্বাভাস ছিল ৭.৫ শতাংশ, যা সরকারি অনুমানের খুব কাছাকাছি (India)। সরকারি আধিকারিকরা জানান, ভবিষ্যতে এই সংখ্যাগুলি সংশোধিত হতে পারে। কারণ, জিডিপি গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। এই পরিবর্তনের প্রভাব ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে এবং চূড়ান্ত জিডিপি তথ্য অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার পর প্রকাশ করা হবে।

    বিনিয়োগেও গতি আসার সম্ভাবনা

    নমিনাল বা নামমাত্র হিসেবে ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ হতে পারে, যেখানে তার আগের অর্থবর্ষে এই হার ছিল ৯.৭ শতাংশ। রিয়েল গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড বা জিভিএ (GVA) বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.৩ শতাংশ, যা আগের বছরের ৬.৪ শতাংশের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে, নমিনাল জিভিএ বৃদ্ধির হার অনুমান করা হয়েছে ৭.৭ শতাংশ (India)। ভারতের মোট জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে থাকা ব্যক্তিগত ভোগব্যয় ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে ৭ শতাংশ হারে বাড়তে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য ধীরগতির। সরকারি ব্যয় ৫.২ শতাংশ বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এটি গত অর্থবর্ষের ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি (GDP Growth Rate)। বেসরকারি বিনিয়োগেও গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে এই খাতে বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ হতে পারে।

    ম্যানুফ্যাকচারিং খাত

    উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত, যা জিডিপির ক্ষেত্রে প্রায় ১৩ শতাংশ অবদান রাখে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে বাড়তে পারে  ৭ শতাংশ হারে। এটি আগের বছরের ৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় বড়সড় উন্নতি। নির্মাণ খাতের বৃদ্ধি ৭ শতাংশে নামতে পারে, যেখানে আগের বছর এই হার ছিল ৯.৪ শতাংশ (India)। কৃষি খাতে বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৩.১ শতাংশ। এই খাত ভারতের ৪০ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থান জোগায় এবং ইঙ্গিত দিচ্ছে স্থিতিশীল উৎপাদনের। দেশীয় অর্থনীতির জোরালো বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের রফতানি ক্ষেত্রেও দেখা গেল অপ্রত্যাশিত শক্তি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের পণ্য রফতানি বছরে বছরে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে দ্রুততম বৃদ্ধি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চলতি বছরের শুরুতেই প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল আমেরিকা (GDP Growth Rate)।

    ভারতের মোট রফতানির পরিমাণ

    বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ভারতের মোট রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা অক্টোবরের তীব্র পতন থেকে বড়সড় ঘুরে দাঁড়ানো। একই সঙ্গে আমদানি প্রায় ২ শতাংশ কমেছে, মূলত সোনা, তেল ও কয়লার আমদানি হ্রাস পাওয়ায়। এর ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি নেমে এসেছে প্রায় ২৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা জুনের পর সর্বনিম্ন (India)। চড়া শুল্ক সত্ত্বেও ভারতের সবচেয়ে বড় একক রফতানি বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির নেতৃত্ব দিয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, রত্ন ও গয়না এবং ওষুধ শিল্প (GDP Growth Rate)। বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানান, শুল্ক বাধা সত্ত্বেও মার্কিন বাজারে ভারতের রফতানি গতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

    চিনে রফতানি

    এদিকে, চিনেও ভারতের রফতানি নজরকাড়াভাবে বেড়েছে। নভেম্বরে চিনে রফতানি ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যার প্রধান চালক ইলেকট্রনিক্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী। স্পেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও তানজানিয়ার মতো দেশেও রফতানি বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে ভারতের। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের রফতানির এই স্থিতিস্থাপকতার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস ও কিছু খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় রফতানিকে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি দুর্বল রুপির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্য আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে (GDP Growth Rate)। এছাড়া, গত বছর লোহিত সাগর সংকটের জেরে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ধাক্কা লাগায় তুলনামূলক কম ভিত্তির ওপর এবছর বৃদ্ধি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে (India)।

    রফতানি বাজার বৈচিত্র্যের ওপর জোর

    ভারত সরকারও রফতানি বাজার বৈচিত্র্যের ওপর জোর দিচ্ছে। ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (EFTA) দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি মেক্সিকো এবং ওমানের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। ইউরেশিয়া ও মধ্য এশিয়ার বাজারেও নতুন সুযোগ খুঁজছে নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে জিডিপি পূর্বাভাস ও রফতানি তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুল্ক চাপ, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বদলে যাওয়া বাণিজ্য বাস্তবতার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল বৃদ্ধির পথে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দিকে (India) এগোতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বৈদেশিক বাণিজ্য – দুই-ই অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে ভরসা জোগাচ্ছে (GDP Growth Rate)।

LinkedIn
Share