Tag: Geopolitical crisis

  • US-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা, মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলে ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান হানা ওয়াশিংটনের

    US-Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা, মার্কিন সেনার মৃত্যুর বদলে ইরানে ঝাঁকে ঝাঁকে বিমান হানা ওয়াশিংটনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত ইরান-আমেরিকা সংঘাত (US-Iran War)। ক্রমশ জোরালো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। জর্ডনে ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় খেপে ছিল ওয়াশিংটন। তারই জেরে শনিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় বিমান হামলা চালাল আমেরিকা। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতেই এই অতর্কিত হামলা বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি।

    প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ওয়াশিংটন (US-Iran War)

    গত শুক্রবার জর্ডনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন, চারজন গুরুতর জখম হন। একজন এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম সরাসরি ইরানি হামলায় মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এর ঠিক পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘তাৎক্ষণিক ও কঠোর শাস্তি’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। ফলস্বরূপ, রবিবারের এই ভয়াবহ মার্কিন বিমান হামলা।

    অকেজো শান্তি চুক্তি, প্রচ্ছন্ন হুমকি মোজতবা খামেনেইর!

    আমেরিকার এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে ‘ক্ষমার অযোগ্য শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, মাত্র এক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটিও ইরান বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা চুক্তি ভঙ্গ করায় ইরান আর কোনও শর্ত মানতে বাধ্য নয়।

    ইরাক- কুয়েতেও যুদ্ধের আঁচ

    আমেরিকা ও ইরানের এই সংঘাতের (US-Iran War) রেশ আছড়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলিতেও। ইরাকের ইরবিল অঞ্চলে কুর্দিশ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। অন্যদিকে, কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জল শোধন প্ল্যান্ট (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) এবং তেল শোধনাগারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এর ফলে কুয়েতে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কুয়েত তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং জর্ডন ও সৌদি আরবও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।

    বিপাকে বিশ্ব অর্থনীতি

    হরমুজ প্রণালী (Hormuz) দিয়ে সারা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে এই প্রণালীর দখল নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের (US-Iran War) ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা। অসামরিক পরিকাঠামো এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলির জোট (GCC) ইরানকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে দায়ী করেছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন এক সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিতে চলেছে, যা পুরো বিশ্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

  • India GDP Ranking: বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিগুলির একটি ভারত, বলছে আইএমএফ

    India GDP Ranking: বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিগুলির একটি ভারত, বলছে আইএমএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অল্প সময়ের জন্য বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছিল ভারত। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের (IMF) ২০২৫–২৬ সালের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী ফের ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে ভারত। যদিও (India GDP Ranking) দেশটি এখনও বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিগুলির একটি। তবে এই অবস্থান পতনের পেছনে বড় কোনও অর্থনৈতিক কারণ নেই, এটি মূলত পরিসংখ্যানগত।

    আইএমএফের হিসেব (India GDP Ranking)

    আইএমএফের এপ্রিল ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক আউটলুক (World Economic Outlook) অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ৩.৯২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে ব্রিটেনের অর্থনীতি প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার এবং জাপানের ৪.৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে ভারতের জিডিপি ছিল ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ব্রিটেনের ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি ছিল। তাহলে ভারতের অবস্থান কমল কেন? যদিও ভারতের জিডিপি টাকার হিসেবে ২০২৪ সালে ছিল ৩১৮ ট্রিলিয়ন। ২০২৫ সালে এটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৬.৫ ট্রিলিয়নে। ডলারের নিরিখে হিসেব করলে তাকে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়।

    অবমূল্যায়নের পূর্বাভাসও রয়েছে

    এই পতন ঘটেছে যদিও টাকার হিসেবে নামমাত্র বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৯ শতাংশ। পার্থক্যটি মূলত জিডিপি গণনার পদ্ধতিতে।আইএমএফ দেশগুলির জিডিপি ডলারের ভিত্তিতে র‍্যাঙ্ক (India GDP Ranking)করে। অর্থাৎ স্থানীয় মুদ্রার জিডিপিকে ডলারের বিনিময় হারের ভিত্তিতে রূপান্তর করা হয়। এই সময়ে টাকার মান ২০২৪ সালে প্রতি ডলারে ৮৪.৬ থেকে ২০২৫ সালে ৮৮.৫-এ নেমে এসেছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে আরও অবমূল্যায়নের পূর্বাভাসও রয়েছে। পরিসংখ্যান মন্ত্রক ২০২২–২৩ থেকে ২০২৩–২৪ পর্যন্ত চার বছরে নামমাত্র জিডিপি ২.৮ শতাংশ থেকে ৩.৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে সংশোধন করেছে, যা অর্থনীতির আকারকে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখিয়েছে (IMF)।

    আইএমএফের পূর্বাভাস

    বিনিময় হার পরিবর্তনের ফলে র‍্যাঙ্কিং প্রভাবিত হয়েছে। সম্প্রতি টাকা দুর্বল অবস্থায় ছিল, ডলারের মূল্যমানের প্রেক্ষিতে লেনদেন হয়েছে ৯৪–৯৫ টাকার মধ্যে। পরে ৯৩.৩৯-এ স্থিতিশীল হয়েছে। এর কারণ হল পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি। বিদেশি পুঁজির বহিঃপ্রবাহ এবং হেজিং খরচ বৃদ্ধিও টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ পাউন্ড তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় ব্রিটেন তার অবস্থান ধরে রেখেছে (India GDP Ranking)। আইএমএফের (IMF) পূর্বাভাস, এই অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। ২০২৬ সালে ভারত ষষ্ঠ স্থানে থাকবে (প্রায় ৪.১৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা ব্রিটেনের ৪.২৬ মার্কিন ডলার ট্রিলিয়নের নীচে। তবে ২০২৭ সালে ভারত আবার চতুর্থ স্থানে উঠবে (৪.৫৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার), টপকে যাবে ব্রিটেনকে।

    অর্থনীতিবিদদের অভিমত

    অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৮ সালে ভারত জাপানকে ছাড়িয়ে যেতে পারে (৫.০৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বনাম ৪.৭৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)। ২০৩১ সালের মধ্যে ভারত দৃঢ়ভাবে তৃতীয় স্থানে পৌঁছতে পারে (৬.৭৯  ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার), সেই সময় জাপান থাকবে ৫.১৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে এই ব্যবধান খুবই কম (ব্রিটেনের ক্ষেত্রে প্রায় ১১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, জাপানের ক্ষেত্রে মাত্র ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), ফলে ফল অনেকটাই নির্ভর করবে প্রবৃদ্ধি এবং মুদ্রার ওঠানামার ওপর।
    তবে র‍্যাঙ্কিংয়ে পরিবর্তন হলেও, আইএমএফের মতে, ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবেই থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি ৬.১৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে এবং তৃতীয় স্থানে (IMF) থাকা জার্মানির সঙ্গে ব্যবধান কমবে (India GDP Ranking)।

    জিডিপির বেস ইয়ারে পরিবর্তন

    জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকবে (৩৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২৭.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে জিডিপির বেস ইয়ার ২০১১–১২ থেকে ২০২২–২৩-এ পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে নতুন হিসেব অনুযায়ী অর্থনীতির আকার আগের তুলনায় ছোট দেখা যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ’২৬ অর্থবর্ষের জিডিপি পুরানো সিরিজে ৩৫৭ ট্রিলিয়ন টাকা থেকে নতুন সিরিজে ৩৪৫.৫ ট্রিলিয়ন টাকায় নেমে এসেছে। আইএমএফও তাদের পূর্বাভাস কমিয়েছে, ২০২৭ সালের জিডিপি অনুমান ৪.৯৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ৪.৫৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার করা হয়েছে।

     

LinkedIn
Share