Tag: geopolitics

geopolitics

  • S Jaishankar: ‘ভারত কখনও ইউরোপকে বিপদে ফেলেনি’, রুশ তেল ইস্যুতে পশ্চিমকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘ভারত কখনও ইউরোপকে বিপদে ফেলেনি’, রুশ তেল ইস্যুতে পশ্চিমকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার জন্য পশ্চিমা দেশগুলির সমালোচনার মুখে বারবার পড়তে হয়েছে ভারতকে। তবে সেই সমালোচনার জবাবে আবারও দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডে আয়োজিত ‘কুলতারান্তা টকস্’ (Kultaranta Talks)-এ এক আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রে তিনি ভারতের জ্বালানি নীতির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন এবং ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।

    ‘ভারত তেল কেনে দাম এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে’

    ফিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সহকারী বিদেশমন্ত্রী লানা নুসেইবেহর সঙ্গে ‘ইমার্জিং পাওয়ার্স অ্যান্ড দ্য নিউ জিওপলিটিক্যাল কম্পিটিশন’ (Emerging Powers and the New Geopolitical Competition) শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন জয়শঙ্কর। সেখানে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ভারত কেন রুশ তেল আমদানি বাড়িয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি তেল কিনি তার দাম এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে।” বিদেশমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারী অঞ্চল হলেও সেই সময় ইউরোপীয় দেশগুলি বিপুল পরিমাণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল কিনতে শুরু করে। ফলে ভারতের জন্য বিকল্প উৎস খুঁজে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। জয়শঙ্করের কথায়, “সেই সময় বাজারে যে তেল সহজলভ্য ছিল, তার বড় অংশই ছিল রুশ তেল। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলি কার্যত মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বড় অংশ কিনে নিচ্ছিল। পরিস্থিতিই আমাদের একটি নির্দিষ্ট দিকে যেতে বাধ্য করেছিল।”

    ‘নৈতিকতার প্রশ্নে’ ইউরোপকে পাল্টা আক্রমণ

    আলোচনার সময় সঞ্চালক ভারতের এই নীতির মধ্যে কোনও ‘নৈতিক অস্পষ্টতা’ বা ‘মোরাল অ্যাম্বিগুইটি’ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন। জবাবে জয়শঙ্কর ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতি তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “কোনও ইউরোপীয় দেশ ভারতীয় অস্ত্রের আক্রমণের শিকার হয়নি। কিন্তু আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি, ইউরোপীয় অস্ত্র ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে— এমন উদাহরণ রয়েছে।” বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করে আসছে যে, ইউরোপের একাধিক দেশ পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে, যেগুলি পরবর্তীতে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। জয়শঙ্কর আরও বলেন, “বহু বছর ধরে ইউরোপীয় দেশগুলি এমন অস্ত্র বিক্রি করেছে যা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ ভারত কখনও এমন কোনও কাজ করেনি যা ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে।”

    ইউরোপের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন

    রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও ইউরোপের নিজেদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জয়শঙ্কর। তিনি মনে করিয়ে দেন, ইউরোপীয় দেশগুলি দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছিল এবং এখনও বিভিন্ন উপায়ে রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশগুলির মধ্যে অন্যতম ভারতের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ করা একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও তুলে ধরলেন

    জয়শঙ্কর আলোচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক বাজারে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা এড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভারতকে রুশ তেল কেনার বিষয়ে উৎসাহিত করেছিল। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, ভারতের রুশ তেল আমদানির সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র জাতীয় স্বার্থের কারণেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে।

    ভারতের জ্বালানি কৌশলের বড় পরিবর্তন

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া যখন ছাড় মূল্যে তেল বিক্রি শুরু করে, তখন ভারত সেই সুযোগ গ্রহণ করে। ফলে গত কয়েক বছরে রাশিয়া ভারতের অন্যতম বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশই রাশিয়া থেকে আসে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে—

    • ● ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
    • ● আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সত্ত্বেও দেশীয় জ্বালানির দাম তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
    • ● বৈশ্বিক তেল বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে ভারত।
    • ● ভারতের কৌশলগত স্বার্থ ও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    বহুমুখী কূটনীতির বার্তা

    জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও স্পষ্ট করে দিল যে, ভারত বর্তমান বহুমেরু বিশ্বের বাস্তবতায় নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পশ্চিমা চাপ কিংবা ভূ-রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে থেকে ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বাধীনতার নীতি বজায় রেখেই নয়াদিল্লি তার জ্বালানি ও বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করতে চায়। ফিনল্যান্ডের মঞ্চ থেকে দেওয়া জয়শঙ্করের বক্তব্য শুধু রুশ তেল ইস্যুতেই নয়, বরং ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক, বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতি এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

  • China: ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, সহযোগী অংশীদার’, বলল চিন, সম্পর্ক উন্নতির বার্তা বেজিংয়ের

    China: ‘ভারত প্রতিযোগী নয়, সহযোগী অংশীদার’, বলল চিন, সম্পর্ক উন্নতির বার্তা বেজিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে (India) ‘প্রতিযোগী নয়, বরং সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তা দিল চিন (China)। বেজিং এও জানিয়েছে, দুই দেশের উন্নয়নকে একে অন্যের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। চিন-ভারত-রাশিয়ার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষেও সওয়াল করেছে ড্রাগনের দেশ।

    চিনা বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (China)

    চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, “ভারত ও চিন সীমান্ত-সহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে।” তাঁর মতে, ইউরেশিয়ার তিন প্রধান শক্তি—চিন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির স্বার্থেই নয়, বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। লিন জিয়ান জানান, বর্তমানে ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি মোটের ওপর স্থিতিশীল রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তিনি এও বলেন, “চিন ও ভারতের উচিত একে অন্যকে প্রতিযোগী হিসেবে নয়, সহযোগী হিসেবে দেখা এবং পারস্পরিক উন্নয়নকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।”

    কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে চিনের বক্তব্য

    তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মতপার্থক্যকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত, যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) ঘিরে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থার পর সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে (China)। উভয় দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে শি জিনপিংয়ের দেশ। বেজিং জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মতপার্থক্যের অবসান হওয়া উচিত। ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহংও এক্স হ্যান্ডেলে একই বার্তা দিয়ে বলেন, “ভারত ও পাকিস্তান চিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। তাদের উচিত আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।” প্রসঙ্গত, সীমান্তপার সন্ত্রাস-সহ একাধিক ইস্যুকে (India) কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে (China)।

     

  • Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    Pakistan: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের, বেআব্রু শাহবাজ শরিফের দেশের ‘দ্বিচারিতা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখোশ খুলে গেল পাকিস্তানের (Pakistan)! বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা এবং দ্বিমুখী আচরণ পাকিস্তানের মূল বৈশিষ্ট্য (US Attacks)। শাহবাজ শরিফের দেশের প্রকৃত চরিত্রের আর একটি উদাহরণ হল পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছিল। এই একই সময়ে তারা ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে সংঘাত চলছে, তার ‘মধ্যস্থতাকারী’র ভূমিকাও পালন করছিল। ১১ মে প্রকাশিত সিবিএস নিউজের (CBS News) রিপোর্টে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানগুলিকে মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে তাদের বিমানঘাঁটিতে রাখার অনুমতি দিয়েছে।

    পাকিস্তানের দ্বিচারিতা (Pakistan)

    রিপোর্টে বলা হয়, “এই সব পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, ইরান তাদের অবশিষ্ট সামরিক ও বিমানসম্পদকে ক্রমবর্ধমান সংঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছিল, যদিও একই সময়ে আধিকারিকরা প্রকাশ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করার কয়েকদিন পরেই ইরান তাদের সামরিক বিমান, যার মধ্যে একটি আরসি-১৩০ (RC-130) গোয়েন্দা বিমানও ছিল, পাকিস্তানে সরিয়ে নেয়। এই সব বিমান রাখা হয় পাকিস্তানের নূর খান এয়ারবেসে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরে’ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এই বিমানবন্দর (US Attacks)।

    বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন

    প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই হইচই পড়ে যায় বিশ্ব-রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই। এর জবাবে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক ১২ মে এক বিবৃতিতে রিপোর্টটিকে ‘ভুল ও অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করে। তাদের দাবি, শান্তি-আলোচনা চলাকালীনই কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কিছু ইরানি ও মার্কিন বিমান পাকিস্তানে এসেছিল। পাকিস্তান সাফ জানিয়ে দেয়, ইরানি বিমানগুলির সঙ্গে তাদের কোনও সামরিক প্রস্তুতি বা সুরক্ষা ব্যবস্থার সম্পর্ক নেই। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানি বিমানগুলি যুদ্ধবিরতির সময় পাকিস্তানে আসে। তবে এগুলির সঙ্গে কোনও সামরিক পরিকল্পনার সম্পর্ক নেই। এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর ও বিভ্রান্তিকর (US Attacks)।”

    মার্কিন সেনেটরের বক্তব্য

    মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে লেখেন, যদি এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নতুনভাবে মূল্যায়ন করা উচিত (Pakistan)। তিনি বলেন, “যদি এই খবর ঠিক হয়, তাহলে ইরান, আমেরিকা ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করতে হবে।” বস্তুত, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণের শিকার। একদিকে পাকিস্তান ইরানের সামরিক বিমানকে আশ্রয় দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে শান্তি আলোচনায় তারা অগ্রাধিকার দিয়েছে আমেরিকার স্বার্থকেই।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ির অভিযোগ, পাকিস্তান নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়। তিনি বলেন, “পাকিস্তান সবসময় ট্রাম্পের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়, আমেরিকার বিরুদ্ধে কিছু বলতে চায় না।” তাঁর আরও অভিযোগ, আমেরিকা প্রথমে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। এর মধ্যে লেবাননে ইজরায়েলি হামলা বন্ধ এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও ছিল। যদিও পরে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। অভিযোগ, পাকিস্তান এই তথ্য গোপন করেছে (Pakistan)।

    শরিফের করা খসড়া সংস্করণ ফাঁস অনলাইনে

    এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের করা এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের খসড়া সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয় (US Attacks)। সেখানে লেখা ছিল ‘ড্রাফট-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক্সে লেখা মেসেজ’ (Draft – Pakistan’s PM Message on X)। পরে অবশ্য সংশোধিত পোস্ট প্রকাশিত হয়। যদিও ততক্ষণে পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শান্তি আলোচনা চলার সময়ই ইজরায়েল সম্পর্কে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। ইজরায়েলকে তিনি ‘অভিশাপ’, ‘মানবতার ক্যানসার’ ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত করেন। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে ফেলেন তিনি।

    সমালোচকদের বক্তব্য

    এপ্রিলের শেষের দিকে পাকিস্তান ইরানের জন্য ছ’টি বাণিজ্যপথ খুলে দেয়। এর ফলে মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও ইরান বিকল্প পথে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে আমেরিকার চাপ। সমালোচকদের একটা বড় অংশের মতে, পাকিস্তান প্রকৃতপক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে না, বরং ইরান-আমেরিকা সংঘাতকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে (Pakistan)। একদিকে তারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলেছে। ফলে পাকিস্তানকে অনেকে ‘মধ্যস্থতাকারী’ নয়, বরং ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেই মনে করছেন (US Attacks)।

     

  • Trump China Visit: চিন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, কী কারণে বেজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    Trump China Visit: চিন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প, কী কারণে বেজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনদিনের চিন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump China Visit)। ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চিনে থাকবেন তিনি। বহুচর্চিত এই রাষ্ট্রীয় সফর ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Xi Jinping) বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পা রাখেননি চিনে। ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও এটিই প্রথম চিন সফর। যদিও তাঁর প্রথম মেয়াদের ২০১৭ সালের সফরের পর এটিই প্রথম তাঁর চিন-যাত্রা।

    সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষার আড়ালে চাপ! (Trump China Visit)

    চিন সম্পর্কে নানা সময় কড়া ভাষায় মন্তব্য করলেও, ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে প্রশংসা করতে দেখা গিয়েছে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। গত সপ্তাহেও তিনি শি-কে ‘ভালো মানুষ’ এবং ‘বুদ্ধিমান মানুষ’ বলে উল্লেখ করেন। জানিয়ে দেন, তাঁদের মধ্যে ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির খবরাখবর যাঁরা রাখেন, তাঁদের মতে, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষার আড়ালে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠক এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে কূটনৈতিক সাফল্যে রূপ দিতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্পের দেশ। ট্রাম্পের বেজিং সফরের ওপর সবচেয়ে বড় ছায়া ফেলেছে ইরান সঙ্কট। কয়েক সপ্তাহ ধরে হোয়াইট হাউস চেষ্টা করছে যাতে চিন তেহরানের ওপর তার প্রভাব খাটিয়ে মার্কিন-সমর্থিত সমাধান নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। তা না হলেও, অন্তত যাতে হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়া হয়, সেজন্য চাপ সৃষ্টি করে।

    মার্কিন প্রভাবের সীমাবদ্ধতা

    যদিও এই যুদ্ধে আমেরিকা সরাসরি পরাজিত হয়নি, তবে এই সংঘাত মার্কিন প্রভাবের সীমাবদ্ধতার কঙ্কালসার চেহারাটাই বেআব্রু (Xi Jinping) করে দিয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অশান্তির প্রভাব পড়লেও, এখনও যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেনি ওয়াশিংটন। ট্রাম্প অবশ্য (Trump China Visit) মচকাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “আমি এর শেষ দেখতে চাই।”  অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ ওই প্রণালী ফের চালু করতে যে তিনি মরিয়া, তা স্পষ্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্যেই। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। কারণ তিনি তেহরানের (ইরানের রাজধানী) সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। আধিকারিকদের মতে, ওই প্রস্তাবে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু সমঝোতার ইঙ্গিত ছিল। যদিও ট্রাম্প সেটিকে ‘জঞ্জাল’ বলে উড়িয়ে দেন। এহেন আবহে ওয়াশিংটন তাকিয়ে রয়েছে বেজিংয়ের সাহায্যের দিকে। চিন ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার এবং এখনও বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল কেনে। তাই তেহরানের ওপর তাদের এমন প্রভাব রয়েছে, যা আমেরিকারও নেই।

    বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞের বক্তব্য

    হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিনা (Xi Jinping) বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ আলেহান্দ্রো রেয়েস বলেন, “ট্রাম্প আলোচনায় প্রবেশ করছেন দুর্বল অবস্থান থেকে। ট্রাম্পের চিনকে প্রয়োজন চিনের তুলনায় বেশি (Trump China Visit)।” তিনি এও বলেন, “ট্রাম্প একটি বিদেশনীতি-সংক্রান্ত সাফল্য চান। এমন একটি সাফল্য, যা দেখাবে তিনি শুধু বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন না, বরং স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করতে চাইছেন।” এদিকে, ট্রাম্পের চিন সফরের আগে উত্তেজনা কমানোর তেমন কোনও ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান। ইরানের নয়া সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি বলেন, “মিস্টার ট্রাম্প, কখনও ভাববেন না যে ইরানের বর্তমান শান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আপনি বিজয়ীর বেশে বেজিংয়ে ঢুকতে পারবেন।” অন্যদিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ফের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ থেকে স্পষ্ট সংঘাত এখনও শেষ হয়নি (Trump China Visit)।

    ইরান ইস্যুতে চিনের সাহায্য বিনামূল্যে!

    তবে ইরান ইস্যুতে চিনের সাহায্য বিনামূল্যে আসবে না। বেজিং হয়তো ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করবে, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে। প্রসঙ্গত, চিন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে মনে করে। তাইপের (তাইওয়ানের রাজধানী) সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরুদ্ধে বারবার সোচ্চার হয়েছে চিন। মনে রাখতে হবে, ওয়াশিংটনের নীতিতে সামান্য পরিবর্তনও এশিয়ায় মার্কিন মিত্রদের উদ্বিগ্ন করতে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের কূটনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বেজিং হয়তো তাইওয়ানের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি শিথিল করার চেষ্টা করবে। তাই এই বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, চিনের সহযোগিতার বিনিময়ে কতদূর আপস করতে প্রস্তুত ট্রাম্প। শি-ট্রাম্প বৈঠকের আর একটি বড় বিষয় হবে বাণিজ্য, বিশেষ করে গত বছরের তীব্র শুল্কযুদ্ধের পর (Xi Jinping)।

    হাতিয়ার যখন বিরল খনিজ রফতানি

    এই বৈঠকের পথ তৈরি হয় অক্টোবর মাসে বুসানে, যখন দুই দেশ ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছিল। সেই সংঘাতে চিনা পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক পৌঁছেছিল ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত (Trump China Visit)। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চিন বিরল খনিজ (Rare Earth Minerals) রফতানিতে কড়াকড়ি করে। এসব খনিজ আমেরিকার প্রযুক্তি কোম্পানি ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিনের কড়াকড়ির জেরে আমেরিকার কয়েকটি কারখানায় দেখা দেয় বড় ধরনের উৎপাদন সমস্যা। এই অচলাবস্থা দেখিয়ে দেয়, চিন এখন আমেরিকার অর্থনীতির কৌশলগত খাতগুলিতেও আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। বর্তমানে উভয় পক্ষই অন্তত সাময়িকভাবে সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে আগ্রহী। চিন মার্কিন প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও রফতানি নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা চায়। আর ওয়াশিংটন চায় চিন আরও বেশি করে মার্কিন পণ্য কিনুক, প্রতিশ্রুতি দিক নয়া লগ্নির (Trump China Visit)।

    সংঘর্ষের সুতোয় জড়িয়ে গিয়েছে সব

    সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলোচিত বিমান চুক্তি। জানা গিয়েছে, চিন ৫০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এবং আরও কয়েক ডজন ওয়াইড-বডি বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ২০১৭ সালের পর এটাই হবে চিনের সবচেয়ে বড় বোয়িং কেনা। আমেরিকা আরও চাইছে চিন যেন সয়াবিন, মুরগি, গরুর মাংস, কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস-সহ মার্কিন কৃষি ও জ্বালানি পণ্যের আমদানি ব্যাপকভাবে বাড়ায় (Xi Jinping)। বিশ্লেষকদের মতে, চিনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার এখনও তাদের বিরল খনিজ সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ। বেজিং বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য আমেরিকাকে দীর্ঘমেয়াদি বিরল খনিজ সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে পারে, যদিও সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত সরবরাহ সীমিত রাখবে (Trump China Visit)। এই কৌশলগত প্রভাবই ট্রাম্পের চিন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হয়ে উঠতে পারে, যেখানে কূটনীতি, বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা – সব একসঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে সংঘর্ষের সুতোয়।

     

  • Vikram Misri: হোয়াইট হাউসে বৈঠক মিশ্রি-রুবিওর, আগামী মাসে ভারত সফরে মার্কিন বিদেশ সচিব

    Vikram Misri: হোয়াইট হাউসে বৈঠক মিশ্রি-রুবিওর, আগামী মাসে ভারত সফরে মার্কিন বিদেশ সচিব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করতে জোরদার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (Vikram Misri)। এরই প্রেক্ষিতে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি হোয়াইট হাউসে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর (Marco Rubio) সঙ্গে বৈঠকে বসেন। দুই দেশের ওই বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলেই খবর। এই বৈঠক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রগুলিতে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই আলোচনা হয়েছে, যখন সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে উভয় দেশই তাদের কৌশলগত অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে।

    আলোচনার বিষয় (Vikram Misri)

    আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার নয়া উদ্যোগ, বিশেষ করে সাম্প্রতিক শুল্ক-সংক্রান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষিতে। উভয় পক্ষ এখন ২০২৬ সালের একটি বাণিজ্য সমঝোতা এগিয়ে নেওয়া, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং উন্নত উৎপাদন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো উদীয়মান খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায়, একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে। এই বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (critical minerals) নিয়ে সহযোগিতা, যা এখন বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিযোগিতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Vikram Misri)। এই সম্পদগুলি জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য। ভারত ও আমেরিকা একটি স্থিতিশীল ও বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে। উভয় দেশ যৌথ সামরিক মহড়া বাড়াচ্ছে, পারস্পরিক সামঞ্জস্য উন্নত করছে এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি ভাগাভাগির সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছে (Vikram Misri)। এই আলোচনা ফের একবার কোয়াড্রিল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়লগের গুরুত্ব তুলে ধরে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে (Marco Rubio)। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের সময়ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় বৃহত্তর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে, উভয় দেশ উদীয়মান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সমন্বয় করার সুযোগ পেয়েছে। জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করা, সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা এবং সম্ভাব্য বৈশ্বিক উত্তেজনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া—এই বিষয়গুলি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল, যা সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার অভিন্ন ইচ্ছাকে নির্দেশ করে (Vikram Misri)।

    সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো

    মিশ্রির আলিশন হুকারের সঙ্গে সমান্তরাল বৈঠকে ডিসেম্বরের ফরেন অফিস কনসালটেশনসের পরবর্তী অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রগুলিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনায় (Marco Rubio)। এদিকে, রুবিও আগামী মাসে ভারত সফরে আসবেন বলে খবর। একে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই সফর বৃহত্তর কৌশলগত আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যার মধ্যে সম্ভাব্য কোয়াড পর্যায়ের বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এবং এটি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন উদ্যোগের পথ খুলে দিতে পারে।

    সব মিলিয়ে, এই আলোচনা একটি পরিণত অংশীদারিত্বের ইঙ্গিত দেয়, যা ভূ-রাজনীতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অভিন্ন স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত। বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি (Marco Rubio) স্থিতিশীল ও বহু- মেরু আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গঠনে ক্রমশ আরও বেশি কাছাকাছি আসছে (Vikram Misri)।

     

  • Iran: ‘সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি-স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারে ভারত’, আশা ইরানের

    Iran: ‘সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি-স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারে ভারত’, আশা ইরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে তাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের এহেন দাবি খারিজ করে দিয়েছে ইরান (Iran)। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এসব প্রতিবেদন ভিত্তিহীন। ইরানের মতে, বৈশ্বিক তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে (India Global Powers) বৃহত্তর একটি কৌশলের অংশ এটি। ভারতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আবদুল মাজিদ হাকিম এলাহি, বিহারের পাটনায় এক শোকসভায় অংশ নিতে গিয়ে এ কথা বলেন।

    এলাহির সাফ কথা (Iran)

    এলাহি সাফ জানিয়ে দেন, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় পাকিস্তানের কোনও ভূমিকাই নেই। তিনি বলেন, “ইসলামাবাদের  মধ্যস্থতায় কোনও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে না। কিছু পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ভুয়ো খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে বৈশ্বিক বাজারকে প্রভাবিত করা যায়।” তাঁর মতে, মধ্যস্থতার দাবি বাড়িয়ে বলা হয়েছে। এটি করা হয়েছে  কূটনৈতিক অগ্রগতির একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করতে এবং প্রকৃত আলোচনার অভাব সত্ত্বেও তেলের দাম যাতে স্থিতিশীল রাখা যায়, তা-ই। এলাহির অভিযোগ, পাকিস্তান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যথেষ্ট আন্তরিক নয়, কেবল একটি প্রতীকী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আলোচনার যে ধারণা তৈরি করা হয়েছে, তা প্রকৃত অগ্রগতির ভান সৃষ্টি করার জন্য, যদিও বাস্তবে কোনও গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বা আলোচনা চলছে না। আলোচনার প্রস্তুতির যে খবর ঘোষণা করা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর। বাস্তব পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করেও এই ঘোষণা করা হচ্ছে না।

    সংঘাতের উৎস

    বর্তমান সংঘাতের উৎস সম্পর্কে এলাহি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকেই উত্তেজনা বেড়েছে। তাঁর মতে, ইরানের যুদ্ধ শুরু করার কোনও ইচ্ছেই ছিল না। তারা আসলে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপ করার আহ্বানও জানান (Iran), বিশেষ করে হাসপাতাল, স্কুল ও আবাসিক এলাকায় যাতে হামলা বন্ধ করা যায়, সেই জন্য (India Global Powers)। এলাহি বলেন, “যারা এই হামলা শুরু করেছে, তারা থামলে সংঘাতের অবসান সম্ভব।” তাঁর আশা, ভারত-সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশ্বনেতাদের এক সঙ্গে এসে যুদ্ধ শেষ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

    হরমুজ প্রণালীর ওপর জোরদার নিয়ন্ত্রণ

    পশ্চিম এশিয়ার এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। ফেব্রুয়ারির হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির হত্যার খবর প্রকাশের পর ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ সঙ্কটকে আরও ঘোরালো করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। অথচ, তামাম বিশ্বে জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ এটি। এই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বেড়েছে (India Global Powers)। কারণ এই পথের যে কোনও বিঘ্ন সরাসরি তেল এবং এলপিজি সরবরাহে প্রভাব ফেলে (Iran)।

    হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে ভারতীয় জাহাজ

    যদিও উত্তেজনা জারি থাকা সত্ত্বেও, ইরান জানিয়েছে, অশত্রু মনোভাবাপন্ন দেশগুলির জাহাজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে, যদি তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই আশ্বাস আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাকেও জানানো হয়েছে। বর্তমান সংঘাত ও নৌ-অবরোধের আশঙ্কার মধ্যেও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলি নিয়মিতভাবে হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে। ‘গ্রিন আশা’ নামের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার সম্প্রতি নিরাপদে প্রণালী পার হয়েছে, যা সংঘাত শুরু হওয়ার পর নবম ভারতীয় জাহাজ। জানা গিয়েছে, এই পথে চলাচলকারী প্রায় ৬০ শতাংশ পণ্যবাহী জাহাজ ইরান থেকে আসছে বা ইরানের দিকে যাচ্ছে। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এই অঞ্চলে ভারতের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

    এসেছে একাধিক এলপিজি ভর্তি জাহাজ

    গ্রিন আশার আগে আরও আটটি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে বিডাব্লু টায়ার এবং বিডাব্লু এলএম নামের এলপিজি জাহাজ প্রায় ৯৪,০০০ টন পণ্য পরিবহণ করেছে। এছাড়াও, পাইন গ্যাস এবং জাক বসন্ত নামের দুটি জাহাজ ২৬ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে মোট ৯২,৬১২ টন এলপিজি বহন করেছে (Iran)। এর আগে এমটি শিবালিক এবং এমটি নন্দাদেবী প্রায় ৯২,৭১২ টন এলপিজি গুজরাটের মুন্দ্রা ও কান্ডলা বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে। জাগ লাডকি নামের আর একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ৮০,৮৮৬ টন অপরিশোধিত তেল মুন্দ্রায় নিয়ে এসেছে। আর জাগ প্রকাশ নামের একটি পেট্রোল ভর্তি জাহাজ ওমান থেকে আফ্রিকায় পৌঁছতে গিয়ে নিরাপদে পার হয়েছে হরমুজ প্রণালী (India Global Powers)।

    গ্রিন সনভি নামের আর একটি জাহাজ সম্প্রতি প্রায় ৪৬,৬৫০ মেট্রিক টন এলপিজি বহন করে এই পথ অতিক্রম করেছে। ভারতীয় নৌবাহিনী এই জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। বর্তমানে ভারত ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে তাদের জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারে, যদিও পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি (India Global Powers) এখনও অস্থির রয়েছে (Iran)।

     

  • Rahul Gandhi: রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় কীভাবে? দোটানায় কংগ্রেস

    Rahul Gandhi: রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় কীভাবে? দোটানায় কংগ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ভারত। দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি-বিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে (Modi Govt) পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশকে। এমতাবস্থায় বিরোধী দল (Rahul Gandhi) কংগ্রেস এক অভ্যন্তরীণ দ্বিধার সম্মুখীন। রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, নিরন্তর তা-ই ভেবে চলেছেন শতাব্দী-প্রাচীন দল কংগ্রেসের মাথারা।

    কংগ্রেসে ফাটল (Rahul Gandhi)

    ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং দেশে জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি এই দ্বন্দ্বকে ফের একবার সামনে নিয়ে এসেছে। এই মুহূর্তটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে শুধু কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা নয়, বরং দলের অভ্যন্তর থেকেই উঠে আসা তীব্র মতপার্থক্য। এই বিভেদের কেন্দ্রে রয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতির কড়া সমালোচনা করেন। তবে এই সমালোচনার জবাব শুধু শাসকদলই দেয়নি, কংগ্রেসেরই বহু প্রবীণ নেতাও এর বিরোধিতা করেছেন।

    রাহুলের বেফাঁস মন্তব্য

    রাহুল মোদি সরকারের বিদেশনীতিকে “সমঝোতাপূর্ণ” এবং “ক্ষতিগ্রস্ত” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এহেন মন্তব্যটি করেন ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষিতে। তিনি আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, দাবি তুলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনির হত্যার ঘটনার নিন্দে করার। তবে এই অবস্থান দলের ভেতরেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রবীণ নেতা শশী থারুর সম্পূর্ণ ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, “ভারতের অবস্থান একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনীতির উদাহরণ।” তাঁর বক্তব্যে কূটনীতির একটি সূক্ষ্ম ও বাস্তববাদী বোঝাপড়া ফুটে ওঠে, যেখানে বৈশ্বিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করাটা ভীষণভাবে জরুরি (Rahul Gandhi)।

    দ্বিধা বিভক্ত কংগ্রেস

    এই মতপার্থক্য শুধু কথার লড়াই নয়, এটি কংগ্রেসের ভেতরে দুটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত—একটি রাজনৈতিক বিরোধিতার ভিত্তি, অন্যটি কৌশলগত বাস্তববাদ (Modi Govt)। থারুর একা নন। প্রবীণ নেতা আনন্দ শর্মা সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপকে “পরিপক্ব ও দক্ষ” বলে প্রশংসা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক সঙ্কটকালে জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিদেশনীতি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। কংগ্রেস নেতা মনীশ তেওয়ারিও বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি সামলাতে সরকার সম্ভবত সঠিক কাজই করছে।” বস্তুত, এটি বিরোধী শিবিরের এক নেতার বিরল স্বীকারোক্তি।

    দেশীয় ইস্যুতেও বিভাজন

    দেশীয় ইস্যুতেও বিভাজন দেখা গিয়েছে। এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের ক্ষেত্রে কমল নাথ ঘাটতির দাবি নাকচ করে দেন, যা দলের বৃহত্তর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন, “সঙ্কটের একটি ধারণা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এতে আদতে উপকৃত হচ্ছে বিজেপি। কারণ এটি শাসক বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিচ্ছি।” রাহুলের দলের এই বিরোধিতা নতুন কিছু নয়। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরে চালু হওয়া অপারেশন সিঁদুরের পরেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল (Rahul Gandhi)। রাহুল সরকারের “রাজনৈতিক সদিচ্ছা” নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, কংগ্রেসেরই থারুর এবং তেওয়ারি প্রকাশ্যে অভিযানকে সমর্থন করেন, প্রশংসা করেন সেনাবাহিনীর। তাঁদের এই অবস্থানকে দলীয় সীমার বাইরে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে (Modi Govt)।

    থারুর ও তেওয়ারির অন্তর্ভুক্তি

    সরকার যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল গঠন করে, সেখানে থারুর ও তেওয়ারির অন্তর্ভুক্তি কংগ্রেস নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। থারুরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকায় একটি প্রতিনিধিদলের প্রধান করা হলে এই অস্বস্তি আরও প্রকট হয় (Rahul Gandhi)। সংসদে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিতর্কেও থারুর এবং তেওয়ারিকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়াও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাত আবারও এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন সামনে নিয়ে এসেছে। ভারতের পরিমিত ও কৌশলী কূটনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলেও উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। আনন্দ জানান, এই নীতি ভারতকে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করেছে। তিনি পারস্য (আধুনিক ইরান)-এর সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। (Rahul Gandhi)

    এলপিজি সংক্রান্ত মন্তব্য

    কমল নাথের এলপিজি সংক্রান্ত মন্তব্যও দেখায় যে দলের সব নেতা কেন্দ্রীয় অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। এই পরিস্থিতিতে দলে রাহুলের নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে। এটি আর কোনও বিচ্ছিন্ন মতভেদ নয়, বরং এমন একটি প্রবণতা, যেখানে অভিজ্ঞ নেতারা তাঁর অবস্থানের সঙ্গে নিঃশর্তভাবে একমত হতে অনিচ্ছুক, বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে। থারুর, আনন্দ, কমল নাথ ও তেওয়ারির মতো অভিজ্ঞ নেতাদের প্রকাশ্য মতবিরোধ কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ঐকমত্যের কঙ্কালসার চেহারাটাই তুলে ধরে (Modi Govt)।ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে কংগ্রেস যেন নিজেদের নেতৃত্বকেই যাচাই করছে। এতে দলের সমালোচনার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।

    বড় চ্যালেঞ্জ

    রাজনৈতিক যোগাযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে এই অসঙ্গতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি বিরোধী দলের শক্তি আসে সুসংহত ও পরিষ্কার বার্তা থেকে। কিন্তু যখন দলের প্রবীণ নেতারা ভিন্ন বা পরিমিত মতামত দেন, তখন দলের অবস্থান বিভক্ত হয়ে যায়। কংগ্রেসের এই সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন। সেটি হল, জাতীয় স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ না করে কীভাবে সরকারের সমালোচনা করা যায় (Rahul Gandhi)? থারুর ও শর্মার মতো নেতারা দ্বিদলীয় (bipartisan) দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে, যেখানে ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, রাহুলের অবস্থান বেশি আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক একটি কৌশলের প্রতিফলন, যা কখনও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হতে পারে। কংগ্রেসের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার—নেহরুর নিরপেক্ষ আন্দোলন থেকে নরসিমা রাওয়ের অর্থনৈতিক সংস্কার—এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস

    বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, দল কি তার কৌশলগত ঐতিহ্যকে আধুনিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারবে? অপারেশন সিঁদুর থেকে ইরানের সংঘাত—সব মিলিয়ে কংগ্রেস এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে এক সন্ধিক্ষণে (Modi Govt)। একদিকে আক্রমণাত্মক বিরোধিতা, অন্যদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের সংযত ও বাস্তববাদী অবস্থানের ঘূর্ণিপাকেই ঘুরপাক খাচ্ছে কংগ্রেস (Rahul Gandhi)। এই মতপার্থক্য যদি গঠনমূলক আলোচনার রূপ নেয়, তবে তা ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু যদি এটি গভীর বিভাজনে পরিণত হয়, তবে তা কংগ্রেস ও ভারতের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। বর্তমান সময়ে যখন ভূ-রাজনীতি ও দেশীয় রাজনীতি ক্রমশ জড়িয়ে যাচ্ছে, তখন সুসংহত ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান উপস্থাপন করার ক্ষমতাই নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা।

     

  • POK: “খুব শীঘ্রই পাক অধিকৃত কাশ্মীর যুক্ত হবে ভারতের সঙ্গে”, বললেন ইমাম ইলিয়াসি

    POK: “খুব শীঘ্রই পাক অধিকৃত কাশ্মীর যুক্ত হবে ভারতের সঙ্গে”, বললেন ইমাম ইলিয়াসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “খুব শীঘ্রই পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) যুক্ত হবে ভারতের সঙ্গে।” জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়ে এক বিবৃতিতে এই (POK) ঘোষণা করেন ইমাম উমের আহমেদ ইলিয়াসি (Imam Umer Ahmed Ilyasi)। সাংবাদিক সম্মেলনে ইলিয়াসি বলেন, “পিওকে, যেটি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, অবশ্যই ভারতের সঙ্গে ফের যুক্ত হবে, কারণ পিওকের মানুষ সেখানে গণভোট চায়।” তাঁর এহেন মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ওই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভারতের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।

    ইলিয়াসির বক্তব্য (POK)

    তিনি বলেন, “এই পুনর্মিলনের আকাঙ্ক্ষা শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং স্থানীয় মানুষের বাস্তব ইচ্ছের ওপর ভিত্তি করেই জানা গিয়েছে পুনর্মিলনের এই আকাঙ্খার কথা। আল্লার ইচ্ছেয় তাদের ‘ঘর ওয়াপসি’ শিগগিরই হবে। এটি সেখানকার মানুষেরই ইচ্ছে।” জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হওয়ার পর ভূস্বর্গে যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, তার উল্লেখ করে ইলিয়াসি অঞ্চলটিকে “নয়া কাশ্মীর” বলে বর্ণনা করেন। এই নয়া কাশ্মীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতির। তিনি বলেন, “উপত্যকার পরিবেশে উল্লেখ্যযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আজকের কাশ্মীর অসাধারণ হয়ে উঠেছে। সর্বত্র উন্নয়ন হয়েছে, হাল ফিরেছে পর্যটন শিল্পের।”

    শিশু-তরুণদের হাতে কলম

    অতীতের সঙ্গে তুলনা করে ইলিয়াসি বলেন, “এক সময় এখানে তরুণ ও শিশুরা পাথর ছুড়ত। আজ তাদের হাতে কলম, তারা পড়াশোনা করছে।” ইলিয়াসির মতে, এই পরিবর্তনগুলি পিওকের বাসিন্দারাও লক্ষ্য করছে। তারা নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণও করছে। তিনি মনে করেন, এই উন্নয়নই পিওকেতে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবি জোরলো করছে (POK)। ইলিয়াসের বক্তব্যে উঠে এসেছে জম্মু ও কাশ্মীরে পর্যটনের পুনরুজ্জীবনের প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থার প্রত্যাবর্তনের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ (Imam Umer Ahmed Ilyasi)।

    ভূস্বর্গে আসুন, আহ্বান ইলিয়াসির

    ২০২৫ সালে দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় সংঘটিত জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইলিয়াসি বলেন, “যদিও ওই ঘটনার ফলে পর্যটন শিল্পে সাময়িক প্রভাব পড়েছিল, পরিস্থিতি এখন উন্নত হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমি সবাইকে বলতে চাই, কাশ্মীর ভ্রমণ করুন। এখন আর ভয়ের পরিবেশ নেই।” তিনি দেশ-বিদেশের মানুষকে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি উপভোগ করার আহ্বানও জানান (POK)। ইলিয়াসির এই আহ্বান কাশ্মীরকে একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যস্থল হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবিকায় সহায়তা করছে (Imam Umer Ahmed Ilyasi)। ইলিয়াসি এও বলেন, “পিওকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান। বিভিন্ন সরকার ধারাবাহিকভাবে এই অবস্থান বজায় রেখেছে।” তিনি এই বিষয়টিকে শুধুমাত্র ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং মানুষের ইচ্ছে ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরেন।

    যুদ্ধ সবার ক্ষতি করে

    এদিন ইলিয়াসি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়েও মন্তব্য করেন। তুলে ধরেন যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কথা। বলেন, “যুদ্ধ সবার ক্ষতি করে। এটি ধ্বংসের প্রতীক।” তাই শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান ইলিয়াসি। ভারতের বৈশ্বিক ভূমিকা নিয়েও আশাবাদী ইলিয়াসি। তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির প্রতি আমার আস্থা আছে—আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি মধ্যস্থতা করবেন এবং যুদ্ধ শেষ হবে… শান্তি ফিরে আসবে (POK)।” ইলিয়াসির বক্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে উন্নয়ন, পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা ভারতের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ স্থান (Imam Umer Ahmed Ilyasi) দখল করে রয়েছে।

    ইলিয়াসির নয়া দৃষ্টিভঙ্গি

    কাশ্মীরের উন্নয়নের সঙ্গে পিওকের আকাঙ্ক্ষাকে যুক্ত করে ইলিয়াসি একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন—যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যদিও পিওকে-সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা জটিল, তবুও এই ধরনের বক্তব্য উন্নয়নকেন্দ্রিক বয়ানের গুরুত্বকেই তুলে ধরে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। ইলিয়াসির এই বক্তব্যে রাজনৈতিক অবস্থান, উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদ এবং শান্তির আহ্বান—এই তিনটির সমন্বয় দেখা যায়। পিওকের ভারতের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিষয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং কাশ্মীরের উন্নয়নের প্রশংসা একটি অগ্রগতি-নির্ভর বিষয়কে আরও জোরালো করে (POK)। একই সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তির আহ্বান এবং ভারতের নেতৃত্বের ওপর তাঁর আস্থা দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক (Imam Umer Ahmed Ilyasi) পরিসরে স্থিতিশীলতার একটি বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে।

     

  • Iran War: ভরসা সেই ভারতই, তীব্র জ্বালানি সঙ্কট কাটাতে হাত পাতল বাংলাদেশ-মলদ্বীপ-শ্রীলঙ্কা

    Iran War: ভরসা সেই ভারতই, তীব্র জ্বালানি সঙ্কট কাটাতে হাত পাতল বাংলাদেশ-মলদ্বীপ-শ্রীলঙ্কা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিপদে পড়ে সাধুও কলার খোসা খায়! তেমনই দশা হয়েছে বাংলাদেশ, মলদ্বীপের। মাস কয়েক আগেও ‘ইন্ডিয়া আউট’ স্লোগান দিচ্ছিল (Iran War) যারা, তারাই (Energy Crisis) ফের হাত পাতছে ভারতের কাছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সঙ্কট চরমে। এমতাবস্থায় ভারতের কাছেই হাত পাততে হল বাংলাদেশ এবং মলদ্বীপকে। শ্রীলঙ্কাকেও জ্বালানি দেবে নরেন্দ্র মোদির ভারত। যে ভারতের বিরুদ্ধে এক সময় কুকথা বলেছিল বাংলাদেশের মৌলবাদীরা, বয়কটের ডাক দিয়েছিল ভারতীয় পণ্য, জ্বালানি সঙ্কটের জেরে সেই মোদি সরকারের কাছেই হাত পাততে হল বাংলাদেশ-মলদ্বীপকে। আর ভারত? যাবতীয় তিক্ততা ভুলে গিয়ে সে বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত। এটি তার ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অংশ।

    হরমুজ প্রণালী (Iran War)

    অবশ্য একটি কঠিন সত্য হল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এশিয়ার দেশগুলির জন্য নির্ধারিত। এতে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো জ্বালানি আমদানি-নির্ভর দেশগুলির দুর্বলতা স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে ইরান ভারতের “বন্ধু” হিসেবেই চিহ্নিত। তাই তেল এবং এলপিজি  ট্যাঙ্কারগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। যার ফলে স্বস্তিতে নয়াদিল্লি। জানা গিয়েছে, সঙ্কটকালে ভারত ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পাঠিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায়। বিবেচনা করা হচ্ছে মলদ্বীপের অনুরোধও। যদিও ভুটান ও নেপালে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে নরেন্দ্র মোদির দেশ (Iran War)।

    কী বললেন রণধীর জয়সওয়াল

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ওই দেশগুলি ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছে (Energy Crisis)। অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন বিবেচনা করেই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত। বর্তমানে ভারতের কাছে প্রায় দু’মাসের জ্বালানি মজুদ থাকায় আতঙ্কের পরিস্থিতি নেই। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সঙ্কটকালে দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত অপরিহার্য শক্তি। ইরান-যুদ্ধজনিত সঙ্কটের সব চেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। দেশটি ৯৫ শতাংশ তেল এবং ৩০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত ডিজেলের অভাবে হুমকির মুখে।

    বাংলাদেশকে সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে, স্থগিত করা হয়েছে পাঁচটির মধ্যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার কাজকর্ম।এই সঙ্কট-পর্বের মোকাবিলা করতে ভারতের সাহায্য চেয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার। ভারত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকেও জ্বালানি পাঠানো হচ্ছে (Energy Crisis)। জানা গিয়েছে, ১০ মার্চ ভারত বাংলাদেশকে ৫,০০০ টন ডিজেল পাঠিয়েছে। এটি ১৫ বছরের চুক্তির অংশ। পরবর্তী সপ্তাহে আরও ১০,০০০ টন এবং নতুন করে ৭,০০০ টন ডিজেল পাঠানো হচ্ছে। এই সহযোগিতার ঘটনা এমন একটি সময়ে ঘটছে, যখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নয়া সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে (Iran War)।

    “বয়কট ইন্ডিয়া” স্লোগান

    ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় তলানিতে পৌঁছয় ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক। সেই সময় “বয়কট ইন্ডিয়া”-সহ ভারতবিরোধী মনোভাব বেড়ে গিয়েছিল। সেই আবহে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হয় গভীর। বিএনপি সরকারের উদ্যোগে অবশ্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের লেখচিত্র ফের ঊর্ধ্বমুখী। এক বছর আগেও ভারতের কড়া সমালোচক ছিল মলদ্বীপ। এখন জ্বালানি সঙ্কটে পড়ে দ্বারস্থ হয়েছে ভারতের। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু “ইন্ডিয়া আউট” প্রচারের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার করেন এবং চিনের দিকে ঝোঁকেন। তবে বর্তমান সঙ্কটের প্রেক্ষিতে মলদ্বীপ আবার ভারতের কাছে সাহায্য চাইতে বাধ্য হয়েছে। পর্যটননির্ভর অর্থনীতির এই দেশ মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে (Iran War)। পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজির ঘাটতিতে দৈনন্দিন জীবন প্রায় স্থবির। মলদ্বীপ এখন ভারতের কাছে জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ করেছে, যা বিবেচনা করছে দিল্লি (Energy Crisis)।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারতের ভূমিকা

    শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তখন দেশটি চিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল এবং ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ উপেক্ষা করে চিনা জাহাজকে বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেয়। বর্তমান ইরান যুদ্ধ আবারও শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। দেশটি তার ৬০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি করে, যার বড় অংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। সঙ্কটের কারণে জ্বালানির দাম ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে (Iran War)। মার্চের মাঝামাঝি প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেন। এর পরেই ভারত দ্রুত ২০,০০০ মেট্রিক টন ডিজেল ও ১৮,০০০ মেট্রিক টন পেট্রোল পাঠায়। দিসানায়েকে বলেন, “ভারতের দ্রুত সহায়তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের প্রতিবেশী অঞ্চলের পরিস্থিতি অস্থির ছিল। যার প্রমাণ মলদ্বীপে “ইন্ডিয়া আউট” প্রচার বা বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তির মাথাচাড়া দেওয়া। কিন্তু ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সঙ্কট একটি কঠিন বাস্তবতা সামনে এনে দিয়েছে। এটি হল, রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, ভৌগোলিক বাস্তবতাই গুরুত্বপূর্ণ (Iran War)। এই বাস্তবতায় (Energy Crisis) দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত এখনও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।

  • S Jaishankar: “ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায়”, বললেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: “ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায়”, বললেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে।” সোমবার রাজ্যসভায় সাফ জানিয়ে দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। সতর্ক করে (Iran War) দিয়ে তিনি বলেন, “এই সঙ্কটের কারণে বিঘ্ন ঘটতে পারে সরবরাহ শৃঙ্খলে।”

    জয়শঙ্করের বক্তব্য (S Jaishankar)

    বিরোধী সাংসদদের স্লোগানের মধ্যেই সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, সম্প্রতী ওই অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ, নৌ-পথ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কী  হতে পারে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি একটি বিবৃতি দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।” জয়শঙ্কর এও বলেন, “উত্তেজনা কমাতে আলোচনা ও কূটনীতির পথই অনুসরণ করা উচিত বলে আমরা এখনও বিশ্বাস করি।” মন্ত্রী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়াকে অবশ্যই স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে।” তিনি জানান, ভারত তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

    জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার

    জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের জাতীয় স্বার্থ—বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভারতীয় উপভোক্তাদের কল্যাণ—সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ও কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।” সংসদে তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে প্রায় ৬৭,০০০ ভারতীয় নাগরিক ইতিমধ্যেই দেশে ফিরে এসেছেন। ইরানের অনুরোধে ওই অঞ্চলে তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ভারত আইআরআইএস লাভান নামের একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে কোচি বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেয়। ১ মার্চ এই অনুমোদন দেওয়া হয়, জাহাজটি বন্দরে পৌঁছয় ৪ মার্চ (S Jaishankar)।

    ইরানি নৌ-জাহাজ

    এর আগে শনিবার রাইসিনা ডায়ালগে ভাষণ দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেছিলেন, “ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মানবিকতার খাতিরে, কোনও ভূরাজনৈতিক বিবেচনা থেকে নয়। জাহাজটিতে ১৮৩ জন নাবিক ছিলেন, যাঁদের বেশিরভাগই তরুণ ক্যাডেট, এবং যাত্রাপথে জাহাজটির প্রযুক্তিগত একটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল (Iran War)।” এই ঘটনার কয়েক দিন পরে ৪ মার্চ ভারত মহাসাগরে আর একটি ইরানি নৌ-জাহাজ আইআরআইএস ডেনা ডুবে যায় একটি মার্কিন সাবমেরিনের হামলায়। এতে ৮০ জনেরও বেশি নাবিক নিহত হন। পরে শ্রীলঙ্কা নেভি প্রায় ৩২ জনকে উদ্ধার করে (S Jaishankar)।

    বিপদের সংকেত

    এই ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, জাহাজটি বিপদের সংকেত পাঠিয়েছিল। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য ভারত সেখানে আগেই মোতায়েন করেছিল সামুদ্রিক বিভিন্ন সরঞ্জাম, যার মধ্যে ছিল টহলদারি বিমান এবং নৌবাহিনীর জাহাজও। মন্ত্রী বলেন, “লাভান জাহাজটিকে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।” তিনি ফের মনে করিয়ে দেন, “পরিস্থিতির আরও অবনতি রুখতে ভারত সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক (Iran War) আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়ে যাচ্ছে (S Jaishankar)।”

     

LinkedIn
Share