Tag: government jobs

government jobs

  • Jharkhand: নেই উসকানিমূলক স্লোগান, বিরোধিতা রাজনীতিকরণেও, জন্তর-মন্তরের থেকে কোথায় আলাদা ঝাড়খণ্ডের জেন জি আন্দোলন?

    Jharkhand: নেই উসকানিমূলক স্লোগান, বিরোধিতা রাজনীতিকরণেও, জন্তর-মন্তরের থেকে কোথায় আলাদা ঝাড়খণ্ডের জেন জি আন্দোলন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) পড়ুয়াদের আন্দোলনে (Recruitment Irregularities) এল বড়সড় সাফল্য। আন্দোলনকারীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে হেমন্ত সোরেনের জোট সরকার। যদিও সরকারের ঘোষণার পরেও, আন্দোলন প্রত্যাহার করেনি পড়ুয়ারা। তাঁদের মূল দাবি এখনও পূরণ হয়নি। নিয়োগ পরীক্ষায় তথাকথিত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করানোর দাবিতে অনড় তাঁরা।

    ১৭ অগাস্ট ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল এবং রাজ্যে হওয়া নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে বিস্তৃত তদন্ত।

    এ ছাড়াও নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে এই কমিটি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করবে।

    তবে পড়ুয়াদের আন্দোলন এখনও চলছে। তাঁদের প্রধান দাবি, গোটা বিষয়টির তদন্ত করতে হবে সিবিআইকে দিয়ে।

    কীভাবে শুরু হয় ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের আন্দোলন (Jharkhand)

    রাঁচিতে ২৫ জুলাই থেকে এই আন্দোলনের সূচনা। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়া এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীরা জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জড়ো হয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন।

    চতুর্দশ ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা-সহ একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    ২০২৪ সালে সম্মিলিত স্নাতক স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে। পড়ুয়াদের দাবি ছিল, অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কার করতে হবে এবং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল সিবিআই তদন্ত।

    আন্দোলনের শুরু থেকেই পড়ুয়ারা জানিয়ে আসছেন, তাঁদের লড়াই ছাত্রছাত্রী এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাই এই আন্দোলনকে কোনও রাজনৈতিক দল বা বাইরের সংগঠনের প্রভাবমুক্ত রাখার কথাও তাঁরা বারবার বলেছেন (Recruitment Irregularities)।

    বিধানসভা ঘেরাও ঘিরে পুলিশের লাঠিচার্জ

    ১০ অগাস্ট আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ে। সেদিন পড়ুয়ারা বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন।

    পুলিশি পদক্ষেপের পরেও আন্দোলন থামেনি। নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পড়ুয়ারা অবস্থান চালিয়ে যান। ফলে রাজ্য সরকারের উপরও চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

    বিষয়টি পরে রাজনৈতিক মহলেও গুরুত্ব পায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মুখ্যমন্ত্রীকে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি পড়ুয়াদের দাবিকে ন্যায্য এবং তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। ফলে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ে (Jharkhand)।

    সরকারের একাধিক বড় সিদ্ধান্ত

    ১৭ অগাস্ট রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে।

    প্রথমত, ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত ফলাফলও এর আওতায় পড়বে। একই সঙ্গে সংস্থাটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে রাজ্য সরকার।

    শুধু স্নাতক স্তরের পরীক্ষা নয়, ২০১৪ সাল থেকে রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মেরও বিস্তৃত তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এই তদন্ত করবে। অনিয়ম বড় না ছোট—তা বিবেচনা না করে তদন্তের আওতায় সমস্ত অভিযোগ আনা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি।

    এত কিছুর পরেও আন্দোলন কেন চলছে?

    সরকার একাধিক দাবি মেনে নেওয়ার পরেও আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি পড়ুয়ারা। এর প্রধান কারণ সিবিআই তদন্তের দাবি (Recruitment Irregularities)।

    আন্দোলনকারীরা চাইছেন, রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা নয়, একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় সংস্থা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করুক। রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দিয়ে তদন্ত এবং পরীক্ষা সংস্কারের জন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে তাঁদের কয়েকটি দাবি পূরণ হলেও, সিবিআই তদন্তের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত।

    ফলে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপরেই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। সরকার যদি সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নেয়, তাহলে আন্দোলন প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে। আর দাবি না মেনে নেওয়া হলে আন্দোলন আরও চলতে পারে।

    রাজনৈতিক ইস্যুর বদলে নিয়োগ পরীক্ষায়ই জোর

    ঝাড়খণ্ডের এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, পড়ুয়ারা শুরু থেকেই একে নিয়োগ পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন।

    তাঁদের বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্য আন্দোলন। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ—এগুলিই তাঁদের মূল দাবি।

    বাইরের রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত সংগঠনগুলির প্রভাব থেকেও আন্দোলনকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন পড়ুয়ারা। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও, তাঁরা একে বৃহত্তর দলীয় বা মতাদর্শগত আন্দোলনে পরিণত হতে দেননি।

    বাইরের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরোধিতা

    ৭ অগাস্ট আন্দোলনে বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনের হস্তক্ষেপ নিয়ে পড়ুয়াদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়। সেদিন সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরারা আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে কর্মসূচিতে যোগ দেন।

    কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশ তাঁর উপস্থিতির বিরোধিতা করেন। অভিযোগ, বক্তব্য রাখার সময় তাঁকে কটূক্তির মুখে পড়তে হয় এবং মঞ্চ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ঘটনাটি থেকে স্পষ্ট হয়, আন্দোলনকারীরা তাঁদের আন্দোলনের নেতৃত্ব, দিকনির্দেশ এবং বক্তব্য নিজেদের হাতেই রাখতে চাইছেন। বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন হলেও, তাঁর হস্তক্ষেপকে তাঁরা স্বাগত জানাননি (Jharkhand)।

    শুধু হেমন্ত সরকারকে সমর্থনকারী বা বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন নয়, কোনও রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত সংগঠনের প্রভাব থেকেই আন্দোলনকে দূরে রাখার পক্ষেই পড়ুয়াদের একাংশ অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আন্দোলনের মূল বিষয় হওয়া উচিত নিয়োগ পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ।

    উসকানিমূলক স্লোগান বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ নেই

    ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকে অন্যান্য কিছু বিতর্কিত ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা হলেও, এখানে মূলত নিয়োগ পরীক্ষা ও সরকারি চাকরির বিষয়গুলিই সামনে রয়েছে।

    আন্দোলন চলাকালীন “আজাদি” বা “ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে আজাদি”র মতো স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসেনি। হিন্দু-বিরোধী বক্তব্য, পাথর ছোড়া বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগও এই আন্দোলনে শোনা যায়নি।

    পরীক্ষা সংস্কারকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যায়ে আন্দোলন

    ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল করেছে, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল করেছে, অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং নিয়োগ পরীক্ষা সংস্কারের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

    একটি ছাত্র আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি ছিল নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

    অতঃপর?

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে সিবিআই তদন্তের দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থানের উপর (Recruitment Irregularities)।

    সরকার এই দাবি মেনে নিলে আন্দোলন সমাধানের দিকে এগোতে পারে। কিন্তু দাবি প্রত্যাখ্যান করা হলে, সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন (Jharkhand) পড়ুয়ারা।

    এই মুহূর্তে ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে চলার পরেও তা মূলত নিয়োগ পরীক্ষা, সরকারি চাকরি এবং পরীক্ষা সংস্কারের বিষয়েই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

    সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি এখনও পূরণ হয়নি। ফলে চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করা এই আন্দোলনের সামনে এখন প্রশ্ন একটাই—তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে বাকি মতপার্থক্য কি আন্দোলনকে আরও দীর্ঘায়িত না করেই মেটানো সম্ভব হবে (Jharkhand)?

     

  • Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাঁচিতে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে (Student Protest)। রবিবার, ১৬ অগাস্ট বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ান। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা মঞ্চের নেতৃত্বে এই আন্দোলন টানা ২৩ দিনে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তাঁদের একাধিক দাবির বিষয়ে ক্ষমতাসীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস জোট এখনও পর্যন্ত কার্যকরী কোনও পদক্ষেপ করেনি। রবিবার রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়াম থেকে আলবার্ট এক্কা চকের দিকে মশাল মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে পৌঁছে তাঁরা কুশপুতুল পোড়ান এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবন ঘেরাও করা হবে। অবশ্য ১৮ অগাস্টের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    ক্ষমতাসীন জোটকে নিশানা (Jharkhand)

    নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যার যথাযথ সমাধান করছে না ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস সরকার। কংগ্রেসের কাছেও তাঁরা ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।

    রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ানোর ঘটনা থেকে স্পষ্ট, আন্দোলন এখন আর শুধু নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও সরাসরি নিশানা করছেন আন্দোলনকারীরা।

    এর আগে রাজ্য বিধানসভার দিকে মিছিল করার সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই আন্দোলনের সুর আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে।

    হেমন্ত সোরেন ও রাহুল গান্ধীর ‘শোক’ পালন

    রবিবারের বিক্ষোভে এক আন্দোলনকারী মাথা ন্যাড়া করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। হেমন্ত ও রাহুলের প্রতি ‘শোক’ প্রকাশের প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে তিনি ন্যাড়া হন। নিজেকে দুই নেতারই “ছোট ভাই” বলে দাবি করে ওই আন্দোলনকারী অভিযোগ করেন, পড়ুয়াদের সমস্যার প্রতি তাঁরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

    তাঁর আরও অভিযোগ, সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক স্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত (Jharkhand)।

    আর এক বিক্ষোভকারী রাহুলের ছাত্র-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যত্র পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে রাহুল সরব হলেও, ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের অভিযোগের সমাধানে তিনি যথেষ্ট উদ্যোগী নন।

    তবে এর আগে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের মিছিলে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন রাহুল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শোনার জন্য তিনি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছিলেন (Student Protest)।

    কী কী দাবি পড়ুয়াদের?

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য একাধিক দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হল—১. অনিয়মের অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে।

    ২. নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করতে হবে।

    ৩. তদন্তের ফল প্রকাশ করতে হবে।

    ৪. অনিয়মের জন্য দায়ী আধিকারিক ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৫. ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনতে হবে।

    ৬. অর্থ দফতরের শাখা আধিকারিক সন্তোষ কুমার মাস্তানার সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনকারীরা তাঁকে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আনা এক তথ্যপ্রকাশকারী হিসেবে দাবি করছেন।

    ৭. মাস্তানার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে হবে।

    আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁদের সমস্যা কোনও একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাকে ঘিরে নয়। গোটা সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই দাবি যুক্ত (Jharkhand)। ২০ অগাস্টের প্রস্তাবিত ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের রাঁচিতে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ফের আলোচনায় বসার ডাক সরকারের

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই ঝাড়খণ্ড সরকার ১৭ অগাস্ট আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

    এর আগে সরকার ও পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। সরকারের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের কয়েকটি দাবি মেটানোর চেষ্টা করা হলেও, আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা বাতিল এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

    ২০ অগাস্টের ঘেরাও কর্মসূচির আগে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Student Protest)।

    নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের ঘোষণা হেমন্তর

    সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের আস্থায় প্রভাব পড়েছে।

    তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা হবে এবং যে-ই দোষী প্রমাণিত হোন না কেন, তাঁর পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট বার্ষিক পরীক্ষা-পঞ্জি, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সময়মতো উত্তরপত্রের কী ও ওএমআর শিট প্রকাশ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক স্তরে জবাবদিহির ব্যবস্থা।

    পড়ুয়া, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের কাছ থেকে পরীক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ নিতে রাজ্য সরকার ‘পড়ুয়াদের সঙ্গে পড়ুয়াদের কণ্ঠস্বর’ উদ্যোগও শুরু করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও ফের জানিয়েছেন (Jharkhand) সোরেন।

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করবে কংগ্রেস

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছে কংগ্রেসও। ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের গণমাধ্যম দায়িত্বপ্রাপ্ত রাকেশ সিং জানান, ১৮ অগাস্ট রাজ্য কংগ্রেস একটি বৈঠক করবে। সেখানে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরিচালিত পরীক্ষায় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে।

    দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে  আলোচনা হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে (Student Protest)।

    রাজনৈতিক মাত্রা বাড়ছে আন্দোলনে

    দীর্ঘস্থায়ী এই আন্দোলন ক্রমশ রাজনৈতিক মাত্রা পাচ্ছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এখন ক্ষমতাসীন জোটের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি সমালোচনায় পরিণত হয়েছে। হেমন্তর পাশাপাশি রাহুল ও তেজস্বীর কুশপুতুল পোড়ানো সেই উত্তেজনা আরও ইন্ধন জুগিয়েছে।

    ১৭ অগাস্ট সরকারের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার সুযোগ অচলাবস্থা কাটাতে পারে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা হবে (Jharkhand)।

     

  • PM Modi: “ভারতের যুবসমাজ বিকশিত ভারতের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে”, রোজগার মেলায় বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “ভারতের যুবসমাজ বিকশিত ভারতের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে”, রোজগার মেলায় বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার ১৯তম রোজগার মেলায় (Rozgar Mela) বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় নবনিযুক্ত ৫১ হাজারেরও বেশি প্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সমাবেশে বক্তব্যও রাখেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “ভারতের যুবসমাজ বিকশিত ভারতের যাত্রা ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রোজগার মেলা যুবশক্তিকে নতুন সুযোগের মাধ্যমে ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে, ইউএই এবং ইতালিতে তাঁর সাম্প্রতিক সফর সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সবুজ প্রযুক্তি এবং উন্নত উৎপাদন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতীয় যুবকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, “নেদারল্যান্ডসে আমার সাম্প্রতিক সফরের সময় সেমিকন্ডাক্টর, জল ব্যবস্থাপনা, কৃষি এবং উন্নত উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুইডেনে এআই ও ডিজিটাল উদ্ভাবনে সহযোগিতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। নরওয়ে এবং ভারতের মধ্যে সবুজ প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আর ইউএই-এর সঙ্গে কৌশলগত, জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।”

    সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের প্রসঙ্গ

    তিনি আরও জানান, ভারত ও ইতালির মধ্যে প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চুক্তি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই সমস্ত চুক্তি সরাসরি ভারতের যুবসমাজকে উপকৃত করবে।” সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ডাচ সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্র নির্মাতা এএসএমএল (ASML) এবং টাটা গ্রুপের (Tata Group) অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি (PM Modi) বলেন, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সাপ্লাই চেইন অংশীদার হয়ে উঠছে। এএসএমএল ও টাটার এই চুক্তি একটি বিরল অংশীদারিত্ব, যা অসংখ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে এবং ভারতের জন্য পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তির দরজা খুলে দেবে।”

    ১২ লাখ নিয়োগপত্র বিলি

    তিনি জানান, সুইডেন ও ইউএই-এর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, বিশেষ করে এআই এবং সুপারকম্পিউটিং ক্ষেত্রে, ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তরুণ পেশাজীবীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর যে গুরুত্ব দিয়েছেন, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রোজগার মেলা উদ্যোগের লক্ষ্য হল দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এই উদ্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে আয়োজিত ১৮টি রোজগার মেলার মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ নিয়োগপত্র বিলি করা হয়েছে (PM Modi)। ১৯তম রোজগার মেলা (Rozgar Mela) দেশের ৪৭টি জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়। নবনিযুক্ত প্রার্থীরা ভারতের বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগে যোগ দেবেন, যার মধ্যে রয়েছে রেলমন্ত্রক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, আর্থিক পরিষেবা বিভাগ এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগ ইত্যাদি।

     

  • Birbhum: সেনাবাহিনীতে ‘অগ্নিবীর’ সুমন, প্রত্যন্ত গ্রামে প্রথম সরকারি চাকরিতে খুশির হাওয়া

    Birbhum: সেনাবাহিনীতে ‘অগ্নিবীর’ সুমন, প্রত্যন্ত গ্রামে প্রথম সরকারি চাকরিতে খুশির হাওয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাতারাতি সেলিব্রিটি বীরভূমের (Birbhum) গ্রামের ছেলে। না, কোনও সিনেমায় অভিনয় বা অন্য কোনও কাজ করে নয়, সরকারি চাকরি পেয়ে সেলিব্রিটি তিনি। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনছেন, গ্রামের প্রথম সরকারি চাকরি বলে কথা। বীরভূমের সিউড়ির নগরী গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বড়গ্রামের এক সামান্য দিনমজুরের ছেলে সুমন। ছোট থেকেই পড়াশোনাতে অনেক সুনাম। তারই প্রতিফলন সেনাবাহিনীতে অগ্নিবীর হিসেবে সাফল্য পাওয়া। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামের মানুষজন শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করছেন সুমনের ছোট্ট মাটির কুঁড়ে ঘরে।

    সংসারের হাল ধরতে পড়াশোনা শেষের আগেই চাকরির সিদ্ধান্ত (Birbhum)

    নগরী গ্রামের সুধাংশু বদনি শিক্ষানিকেতন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর বিশ্বভারতীতে বিএসসি অনার্স নিয়ে পড়াশোনা সুমনের। ইচ্ছে ছিল নেট-সেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পিএইচডি করে অধ্যাপক হওয়ার। কিন্তু বিএসসি পঞ্চম সেমেস্টার সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই সেনাবাহিনী থেকে ডাক পড়ে সুমনের। অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন যেত সুমনের। বাবা রাজমিস্ত্রির শ্রমিক, কোনও দিন হাতে কাজ থাকত, আবার কোনও দিন তাও থাকত না। তাই সুমনের মা সিউড়িতে বাড়ির পরিচারিকার কাজ করতেন। সেই থেকেই সুমনের পড়াশোনার খরচ চলত বলে জানিয়েছে পরিবার। কিন্তু সুমন থেমে থাকেননি, এত কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। সংসারের হাল ধরতেই সেনাবাহিনীর জন্য আবেদন করেন সুমন, আর প্রথমবারেই সাফল্য। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামে খুশির জোয়ার। কারণ বড়গ্রামের বাউড়িপাড়া অঞ্চলে প্রথম সরকারি চাকরি পেয়েছেন সুমন। আগামী ২২ এপ্রিল থেকেই সেনাবাহিনীর কর্মী হিসেবে নিযুক্ত হবেন তিনি (Birbhum)।

    সুমন নিজে কী জানিয়েছেন?

    সুমনের এই সাফল্যের পর খুশি গোটা গ্রামবাসী থেকে তাঁর পরিবার। এই বিষয়ে সুমন বলেন, “যেহেতু আমি একটি গরিব ঘরের ছাত্র, আমার বাবা দিনমজুর এবং মা পরিচারিকার কাজ করে, তাই সংসার খুব কষ্ট করেই চলত আমাদের। এতে আমার পড়াশোনার খরচও চালাতে হত। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিই সেনাবাহিনীতে আবেদন করার। প্রথমবারই আমি সাফল্য পেয়েছি। আর গ্রামে প্রথম সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে নিজেকে আজ প্রতিষ্ঠা করেছি। তাই গ্রামবাসীও খুব খুশি।” সুমনের মা বলেন, “ছেলের পড়াশোনা করার খুবই ইচ্ছে ছিল। তাই খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করাচ্ছিলাম। ও সরকারি চাকরি পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি। এবার পরিবারের (Birbhum) অভাব কিছুটা হলেও মিটবে।”

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Nadia: এইমসে সরকারি চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, গ্রেফতার এক

    Nadia: এইমসে সরকারি চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, গ্রেফতার এক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কল্যাণী এইমসে সরকারি চাকরি দেওয়ার নাম করে শ’দুয়েক লোকের সঙ্গে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত প্রতারকের নাম বলরাম দাস। বাড়ি নদিয়ার রানাঘাটের (Nadia) আনুলিয়ায়। আজ মঙ্গলবার তাকে রানাঘাট আদালতে তোলা হয় এরপর ধৃত প্রতারককে আট দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হয়েছিল

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে হাঁসখালি (Nadia) থানার পাখিউড়া গ্রামের বাসিন্দা অভিজিৎ বিশ্বাস থানায় এসে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমি ছাড়াও এলাকায় আরও অনেক মানুষ এইমসে চাকরির জন্য টাকা দিয়েছিলেন। অভিজিৎ দাস এবং রাজু গুপ্ত নামক দুই ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার কথা বলেন। এই দুই ব্যক্তির নম্বর থানায় জানানো হয়েছে। তাদের জেরা করলে বলরাম সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। রামনগর বড়চুপরিয়া ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা তৃণমূল নেতা যামিনী মুন্ডারি সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।”

    পুলিশের বক্তব্য

    নদিয়া পুলিশ (Nadia) প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, সম্প্রতি একটি ফেসবুক পেজ খুলে তাতে বিজ্ঞাপন দিয়ে এইমসে সরকারি পদে করণিক নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এরপর বলা হয় অনলাইনে আবেদন এবং পরীক্ষা হবে। তবে এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান নিজে সকলকে চাকরির সুযোগের কথা জানান। এরপর ৪৫২ টাকা দিয়ে লোকজন ফর্ম ফিলাপ করে। এরপর তন্ময় দাস নামক এক এইমসে কর্মরত ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে পাশের খবর দেয়। এরপর নানা ডাক্তারি পরীক্ষার কথা বলে সাড়ে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে বলা হয় ২৮ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হবে। এরপর অনলাইনে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি কাজে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু অনলাইনে যে গেট পাস এবং আইডি পাঠানো হয়েছিল তা এইমসে নিয়ে কাজে যোগদান করতে গেলে কাউকেই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর সন্দেহ শুরু হয় এবং পরে বোঝা যায় সকলেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর হাঁসখালি থানায় অভিযোগ জানানো হয়। এই ঘটনায় বলরাম একজন মিডলম্যন।

    পঞ্চায়েত প্রধানের বক্তব্য

    স্থানীয় পঞ্চায়েত (Nadia) প্রধান যামিনী মুন্ডারি বলেন, “আমি পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু টাকা দিতে বারণ করেছিলাম। ওরা নিজেরাই লোভে পড়ে টাকা দিয়েছে। টাকা দেওয়ার কথা শুনে আমি এইমসে গিয়ে খোঁজ নিয়েছি।” পাশপাশি এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও দুজনের খোঁজ করা চলছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Railways Jobs: রেলে নিচ্ছে প্রায় ৫,৭০০ লোকো পাইলট! আজই আবেদন করুন

    Railways Jobs: রেলে নিচ্ছে প্রায় ৫,৭০০ লোকো পাইলট! আজই আবেদন করুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আপনি কি লোকো পাইলট হিসেবে ভারতীয় রেলে চাকরি (Railways Jobs) করতে চান? তাহলে আপনার জন্য রয়েছে বিরাট সুযোগ। দ্রুত জেনে নিন কবে ও কীভাবে আবেদন করবেন। 

    সম্প্রতি, লোকো পাইলট নিয়োগ নিয়ে নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত করেছে ভারতীয় রেল। আবেদনকারীদের বয়সে ঊর্ধ্বসীমার ক্ষেত্রে ৩ বছর অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। করোনা অতিমারীর কারণে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করতে পারেননি তাঁদের ক্ষেত্রে সুবর্ণ সুযোগ। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ২০ জানুয়ারি এবং জমা করার শেষ তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি।

    কত শূন্যপদ?

    রেলের লোকো পাইলট নিয়োগের (Railways Jobs) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোট শূন্যপদ ৫৬৯৬ এবং বেতন শুরু ৬৩ হাজার থেকে। সংশোধিত যোগ্যতার মানদণ্ড অনুসারে বলা হয়েছে, অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলট পদে আবেদন করার জন্য প্রার্থীদের বয়স ১৮ থেকে ৩৩ বছরের মধ্যে হতে হবে। সাধারণ এবং ইডব্লুএস (আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া) শ্রেণিভুক্ত প্রার্থীদের জান্মের তারিখ ০২.০৭.১৯৯১ এবং ০১.০৭.২০০৬ এর মধ্যে হতে হবে।

    শিক্ষাগত যোগ্যতা

    আবেদনকারীদের যে কোনও স্বীকৃত বোর্ড থেকে দশম শ্রেণি পাস হতে হবে। যে কোনও বিভাগে আইটিআই বা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা পাস হতে হবে প্রার্থীদের। রেলের তরফ থেকে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য আবেদন মূল্য ৫০০ টাকা। অন্যদিকে তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি, অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, ইডব্লুএস, এক্স সার্ভিসম্যান, রূপান্তরকামী, মহিলাদের জন্য আবেদন মূল্য ২৫০ টাকা। চাকরির (Railways Jobs) বেতন হবে ১৯৯০০ টাকা থেকে ৬৩২০০ টাকা পর্যন্ত।

    কীভাবে নির্বাচন হবে?

    নির্বাচন প্রক্রিয়া হিসাবে মোট চারটি ধাপ—

    ১.) কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT 1)

    ২.) কম্পিউটার ভিত্তিক যোগ্যতা পরীক্ষা (CBAT)

    ৩.) ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন (DV)

    ৪.) মেডিকেল টেস্ট (ME)

    কী কী ডকুমেন্ট লাগবে?

    আবেদনকারীকে (Railways Jobs) নিম্নলিখিত ডকুমেন্ট আবেদনে উল্লেখ করতে হবে—

    দশম শ্রেণির মার্ক শীট

    দ্বাদশ শ্রেণির মার্ক শীট

    আইটিআই, ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি

    প্রার্থীর ছবি ও স্বাক্ষর

    জাতিগত শংসাপত্র

    প্রার্থীর মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি

    আধার কার্ড

    কীভাবে আবেদন করবেন

    আবেদনকারীদের রেলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে রেলবোর্ডে আবেদন (Railways Jobs) করতে হবে। আরআরবি গোরক্ষপুর, আরআরবি পাটনা, আরআরবি সেকান্দ্রাবাদ, আরআরবি চেন্নাইতে আবেদন করা যাবে। indianrailways.gov.in. লিঙ্কে আবেদন করতে হবে। অনলাইন বিজ্ঞপ্তি থেকে অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর টাকা জমা করে ফর্ম সাবমিট করে প্রিন্ট নিতে হবে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share