Tag: green hydrogen

green hydrogen

  • Largest Green Hydrogen Order: বিশ্বে সব থেকে বেশি গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের চুক্তি ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে, বরাত ৫.৫৫ লাখ মেট্রিক টনের

    Largest Green Hydrogen Order: বিশ্বে সব থেকে বেশি গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের চুক্তি ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে, বরাত ৫.৫৫ লাখ মেট্রিক টনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বাণিজ্যে ক্রমশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে ভারত। গ্রিন হাইড্রোজেন বা পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন (Largest Green Hydrogen Order) সরবরাহের ক্ষেত্রে এখন বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক বরাত রয়েছে ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে। কেন্দ্রীয় সরকারের ২৯ অক্টোবর, ২০২৬-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতীয় সংস্থাগুলি বছরে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেনের সমতুল্য জ্বালানি সরবরাহের জন্য বাধ্যতামূলক ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাজারে ভারতের ক্রমবর্ধমান (Japan Germany Korea) প্রভাবেরই ইঙ্গিত।

    ২০২৩ সালে জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন চালু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ২৩টি সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার মধ্যে ১৮টিই স্বাক্ষরিত হয়েছে ২০২৬ সালে। এই চুক্তিগুলির আওতায় বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি গ্রিন হাইড্রোজেনের সমতুল্য জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। মোট চুক্তিবদ্ধ জ্বালানির ৭০ শতাংশেরও বেশি বিদেশে রফতানির জন্য নির্ধারিত। এই বিপুল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করতে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

    ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির সাফল্য (Largest Green Hydrogen Order)

    এই পরিসংখ্যান ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির সাফল্য পরিমাপের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এত দিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কথা সামনে আসছিল। কিন্তু এখন বিদেশি ও দেশীয় ক্রেতাদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার চুক্তি প্রমাণ করছে, ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি কিনতে ক্রেতারা বাস্তবিক অর্থেই আগ্রহী।

    গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে বিপুল পরিমাণ মূলধনের প্রয়োজন হয়। কোনও নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি কেনার নিশ্চয়তা না থাকলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিও সাধারণত এই ধরনের প্রকল্পে ঋণ দিতে আগ্রহী হয় না। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বা ক্রয়চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তির মাধ্যমে ক্রেতা নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার প্রতিশ্রুতি দেন। ফলে উৎপাদক সংস্থাগুলি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক নিশ্চয়তা পায়।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন বহু গ্রিন হাইড্রোজেন প্রকল্প রয়েছে, যেগুলি দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তির অভাবে থমকে গিয়েছে। সেই জায়গায় ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে বিপুল পরিমাণ নিশ্চিত ক্রয়াদেশ থাকা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।

    রফতানিতে গুরুত্ব অ্যামোনিয়া-মিথানলের

    ভারতের মোট সরবরাহের পরিমাণ হাইড্রোজেনের সমতুল্য হিসাবে প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ, ভারত থেকে রফতানি হতে চলা জ্বালানির অধিকাংশই সরাসরি হাইড্রোজেন গ্যাস নয়। দীর্ঘ দূরত্বে হাইড্রোজেন পরিবহণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। তাই হাইড্রোজেনকে গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানলে রূপান্তরিত করে জাহাজে পরিবহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রচলিত পণ্যবাহী জাহাজেই এই দুই ধরনের জ্বালানি পরিবহণ করা সম্ভব।

    ওজনের হিসাবে অ্যামোনিয়ার প্রায় ১৮ শতাংশ হাইড্রোজেন। ফলে অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তিতে কয়েক লাখ মেট্রিক টনের উল্লেখ থাকলেও তার হাইড্রোজেন-সমতুল্য পরিমাণ তুলনায় অনেক কম হয়। মিথানলের ক্ষেত্রে হাইড্রোজেনের অনুপাত আরও কম, প্রায় ১২.৫ শতাংশ।

    জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের ২০৩০ সালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১১ শতাংশের সমান হল ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির পরিমাণ।

    ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ার পথে

    ভারতের গ্রিন জ্বালানি রফতানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠছে জাপান। দেশটি দীর্ঘমেয়াদি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের পরিকল্পনায় আমদানি করা হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে একের পর এক সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করছে জাপানের বিভিন্ন সংস্থা।

    এসিএমই গোষ্ঠী জাপানের ইহাই কর্পোরেশনকে বছরে ৪ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তি করেছে। পাশাপাশি মিতসুবিশি গ্যাস কেমিক্যালকে বছরে ১ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন মিথানল সরবরাহের জন্য পৃথক চুক্তিও (Largest Green Hydrogen Order) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    এদিকে, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো এবং জাপানের বাণিজ্যিক সংস্থা ইতোকু যৌথভাবে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করেছে। এর মাধ্যমে বছরে ৩ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এই সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

    জাপানের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থা জেরার সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক চুক্তি করেছে এএম গ্রিন। এই চুক্তির আওতায় বছরে ৭০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা হবে।

    জাপানে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির কার্বন নিঃসরণ কমানোর অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে কয়লার সঙ্গে অ্যামোনিয়া মিশিয়ে জ্বালানোর প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই উদ্যোগেও ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদিত গ্রিন অ্যামোনিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।

    ইউরোপের কঠোর পরিবেশবিধির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ভারত

    গ্রিন হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে ইউরোপের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেখানে কোনও জ্বালানিকে পুনর্নবীকরণযোগ্য হাইড্রোজেন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কঠোর পরিবেশগত মানদণ্ড রয়েছে। ভারতীয় উৎপাদকরা সেই মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হয়েছে।

    ২০২৩ সালের অগাস্টে ভারত নিজস্ব গ্রিন হাইড্রোজেন মানদণ্ড ঘোষণা করে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি কেজি হাইড্রোজেন উৎপাদনে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য নিঃসরণের পরিমাণ ২ কেজির মধ্যে থাকলেই তাকে গ্রিন হাইড্রোজেন হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এই জাতীয় মানদণ্ড বিদেশি ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় জ্বালানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। জার্মান সংস্থা হিন্টকো জিএমবিএইচ পরিচালিত এইচটু গ্লোবাল নিলামে এশীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত বরাতের একমাত্র বিজয়ী হয়েছে এএম গ্রিন।

    এই চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এএম গ্রিনের কাছ থেকে অন্তত ৫৮ কোটি ৫০ লাখ ইউরো মূল্যের পুনর্নবীকরণযোগ্য অ্যামোনিয়া কিনবে হিন্টকো। ২০২৯ সালে জার্মানিতে প্রথম দফার জ্বালানি সরবরাহ শুরু (Largest Green Hydrogen Order) হওয়ার কথা।

    এ ছাড়াও জার্মানির অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি সংস্থা ইউনিপারের সঙ্গে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তি করেছে এএম গ্রিন। অন্যদিকে, জৌনো জুলস প্রতিদিন ৬০০ টন, অর্থাৎ বছরে প্রায় ২ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের জন্য সিলেক্ট এনার্জি জিএমবিএইচের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

    ইউরোপের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রিত বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে জয়ী হওয়া শুধু আর্থিক সাফল্য নয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে, ভারতীয় গ্রিন অ্যামোনিয়া আন্তর্জাতিক মানের শংসাপত্র, পরিবেশগত স্বচ্ছতা এবং সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে (Japan Germany Korea) সক্ষম।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও ভারতের প্রবেশ

    এশিয়ার আর এক গুরুত্বপূর্ণ বাজার দক্ষিণ কোরিয়া। রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ ও ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। বিশ্বের বৃহত্তম গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহ চুক্তিগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। ২০২৮ সালের মধ্যে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

    জাপানের মতো দক্ষিণ কোরিয়াও জ্বালানি আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশের অভ্যন্তরে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হওয়ায় ভারতীয় গ্রিন জ্বালানি তাদের কাছে একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠছে।

    প্রতিবেশী দেশগুলির বাজারেও ভারতীয় সংস্থাগুলি নিজেদের জায়গা তৈরি করছে। শ্রীলঙ্কার সার সংস্থাকে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন মিথানল সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে অগস্ত্য। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বাণিজ্য প্রতিবেশী দেশগুলিতেও আরও সম্প্রসারিত হবে।

    জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পশ্চিম ইউরোপ এবং দক্ষিণ এশিয়া—বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতের ক্রেতা তৈরি হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট দেশের বাজারের উপর নির্ভরশীলতা কমবে। সরকারি ভর্তুকি এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশবিধির উপর নির্ভরশীল এই আন্তর্জাতিক বাজারে এই বৈচিত্র্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    দামের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ভারত

    কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানল সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক দাম দিতে পারছে। এর ফলে ইউরোপ ও জাপানের বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে (Largest Green Hydrogen Order)।

    এই শিল্পে উৎপাদন খরচই অন্যতম নির্ধারক বিষয়। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জলের তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করা হয়। উৎপাদন খরচের সবচেয়ে বড় অংশই বিদ্যুতের জন্য ব্যয় হয়।

    ভারতে প্রচুর সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের দাম ক্রমশ কমছে। তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও সরকারি নীতিগত সহায়তা রয়েছে। এই সমস্ত সুবিধা মিলিয়ে ভারতীয় উৎপাদকরা এমন অনেক দেশের তুলনায় কম খরচে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করতে পারছেন, যেখানে বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি।

    উৎপাদনের পাশাপাশি ক্রেতার কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার খরচ কম রাখতে পারাও আন্তর্জাতিক দরপত্রে ভারতের সাফল্যের অন্যতম কারণ। এইচটু গ্লোবালের মতো সরকারি সহায়তাপুষ্ট আন্তর্জাতিক দরপত্রে মূলত দামের ভিত্তিতেই সরবরাহকারী নির্বাচন করা হয়।

    বাড়ছে গ্রিন জ্বালানির ব্যবহার

    গ্রিন হাইড্রোজেন থেকে উৎপাদিত জ্বালানির ব্যবহারও ক্রমশ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিবহণ শিল্পে গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানল পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ২০৫০ সালের মধ্যে জাহাজ পরিবহণ ক্ষেত্রে নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় এই বিকল্প জ্বালানির চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এ ছাড়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার সঙ্গে অ্যামোনিয়া মিশিয়ে জ্বালানোর প্রযুক্তি চালু হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সার উৎপাদন এবং পেট্রোলিয়াম পরিশোধন শিল্পেও গ্রিন হাইড্রোজেন ও তার উপজাত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। এই দুই শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমানো অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।

    দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও তৈরি হচ্ছে চাহিদা

    শুধু রফতানি নয়, দেশের অভ্যন্তরেও গ্রিন হাইড্রোজেনের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রিন হাইড্রোজেন রূপান্তরের কৌশলগত উদ্যোগের আওতায় দেশের ১১টি সার কারখানায় গ্রিন অ্যামোনিয়া উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির সম্মিলিত সরবরাহ ক্ষমতা বছরে ৬ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন।

    প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত প্রচলিত অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে গ্রিন অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা সম্ভব। ভারতকে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করতে হয়। ফলে দেশীয় উৎপাদিত গ্রিন অ্যামোনিয়ার ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভরতাও কমতে পারে।

    একই কর্মসূচির আওতায় ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং নুমালিগড় রিফাইনারির শোধনাগারগুলিতে বছরে ৩০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের প্রকল্পও বরাদ্দ করা হয়েছে।

    ভারত সার তৈরির কাঁচামাল এবং অপরিশোধিত তেলের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহার বাড়ানো হলে একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যও পূরণ হবে।

    জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনে ১৯,৭৪৪ কোটি টাকার বরাদ্দ

    ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনে অনুমোদন দেয়। ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের প্রাথমিক বরাদ্দ রাখা হয় ১৯ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল কৌশলগত উদ্যোগ বা সাইট কর্মসূচির জন্য। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্রের উৎপাদন এবং গ্রিন হাইড্রোজেন তৈরিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    অবশিষ্ট অর্থ পরীক্ষামূলক প্রকল্প, গবেষণা, উন্নয়ন এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১৫টি সংস্থাকে বছরে ৩ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র উৎপাদনের জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৮ লাখ ৬২ হাজার টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষেত্রেও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ৫০ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষমতা তৈরি করাই এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১২৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি, ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ, ৬ লাখেরও বেশি স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং প্রতি বছর প্রায় ৫ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় হতে পারে।

    এবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন

    চুক্তির পরিমাণের নিরিখে ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও প্রকৃত উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক চুক্তির সরবরাহ ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা। তাই এখন প্রধান কাজ হল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করা।

    এর জন্য বৃহৎ পরিসরে পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র বসানো, উৎপাদন কেন্দ্র চালু করা এবং অ্যামোনিয়া ও মিথানল জাহাজে তোলার উপযোগী বন্দর ও সংরক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পরিকাঠামো অত্যন্ত জরুরি (Largest Green Hydrogen Order)।

    ২০২৬ সালের গোড়ায় দেশে চালু হওয়া গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন ক্ষমতা ছিল বছরে প্রায় ৮ হাজার টন। ফলে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা এবং বাস্তব উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে এখনও যথেষ্ট ব্যবধান রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১১ শতাংশের সমতুল্য সরবরাহের জন্য এখনও পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের সিংহভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আগামী দিনে আরও বিপুল পরিমাণ ক্রয়চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

    তবে ভারতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, দেশ এখন আর শুধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাজারে প্রবেশ করছে না। বরং ইতিমধ্যেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে (Japan Germany Korea) নির্দিষ্ট ক্রেতা, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের সুবিধা নিয়ে এগোচ্ছে। এই চুক্তিগুলির যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হলে আগামী দিনে বিশ্ব গ্রিন হাইড্রোজেন বাণিজ্যে অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে ভারত।

     

  • NTPC: ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এনটিপিসি, নবীকরণযোগ্য-পারমাণবিক বিদ্যুতে বড় বাজি

    NTPC: ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এনটিপিসি, নবীকরণযোগ্য-পারমাণবিক বিদ্যুতে বড় বাজি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা এনটিপিসি আগামী ১১ বছরে ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা (প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা  ঘোষণা করেছে। সংস্থার ইতিহাসে এটিই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় মূলধনী বিনিয়োগ। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি বহুমুখী পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সংস্থায় রূপান্তরই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

    বড় লগ্নির পরিকল্পনা (NTPC)

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৭ সালের মধ্যে এনটিপিসি তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে ২৫০ গিগাওয়াটে নিয়ে যেতে চায়। পাশাপাশি, ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ু-সহ ১০টি রাজ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করতে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। এনটিপিসির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুরদীপ সিং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা যদি ২০৩৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত হিসাব করি, তাহলে আগামী প্রায় ১০ বছরে ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি বিনিয়োগ করব। বিনিয়োগের পরিমাণ এই স্তরেই পৌঁছবে।” তিনি জানান, ২০৩২ অর্থবর্ষের পর পারমাণবিক বিদ্যুৎ হবে সংস্থার সম্প্রসারণের পরবর্তী বড় ধাপ। প্রচলিত চাপযুক্ত ভারী জলচালিত পারমাণবিক চুল্লির পাশাপাশি আধুনিক চুল্লি প্রযুক্তির উন্নয়নেও কাজ করছে এনটিপিসি।

    বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা

    তিন ধাপে এই বিপুল বিনিয়োগ করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১.০৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এরপর ২০২৮ থেকে ২০৩২ অর্থবর্ষের মধ্যে ৫.৯৭ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যার বড় অংশ যাবে নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতে। ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ অর্থবর্ষের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আরও ৯.৬৩ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এনটিপিসি বছরে গড়ে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা মূলধনী ব্যয় করে। গুরদীপ বলেন, “নবীকরণযোগ্য জ্বালানিই ভবিষ্যতে এনটিপিসির প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হবে।” তাঁর মতে, বর্তমানে সংস্থার নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১২ গিগাওয়াট। সেটিকে ২০৩২ অর্থবর্ষের মধ্যে ৬০ গিগাওয়াট এবং ২০৩৭ অর্থবর্ষের মধ্যে ১৩৬ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    ব্যাটারি জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা

    এই সম্প্রসারণে সহায়তা করবে ৩৮.৯ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার ব্যাটারি জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ৮০ গিগাওয়াটেরও বেশি পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্প। পাশাপাশি, বিশাখাপত্তনমের কাছে পুদিমাদকায় ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সবুজ হাইড্রোজেন কেন্দ্র গড়ে তুলছে এনটিপিসি। সেখানে সবুজ হাইড্রোজেনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও রাসায়নিক উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। নীতি আয়োগের পূর্বাভাস, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৭৫০ গিগাওয়াটে পৌঁছতে পারে। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা রেকর্ড ২৭১ গিগাওয়াটে পৌঁছেছিল। নবীকরণযোগ্য জ্বালানির প্রসারের ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমলেও, এনটিপিসির নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন বছরে ২৪ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে গুরদীপ বলেন, “আমাদের পিছিয়ে পড়ার কোনও কারণ নেই।” এদিকে, এনটিপিসি এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ ‘অনুশক্তি বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (অশ্বিনী)’ রাজস্থানের মাহি বানসওয়ারায় ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে।

     

  • Nitin Gadkari:  ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে পরিবহণ ক্ষেত্রে গভীর সহযোগিতার আহ্বান নীতিনের, জোর টেকসই ও ভবিষ্যতমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর

    Nitin Gadkari:  ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে পরিবহণ ক্ষেত্রে গভীর সহযোগিতার আহ্বান নীতিনের, জোর টেকসই ও ভবিষ্যতমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে পরিবহণ ক্ষেত্রে আরও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকরি (Nitin Gadkari)। তাঁর মতে, ব্রিকসের (BRICS) সদস্য দেশগুলির সম্মিলিত শক্তি বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবনী, অংশীদারিত্বমূলক এবং দায়িত্বশীল পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে।

    পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের বিবৃতি (Nitin Gadkari)

    সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নাগপুরে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পরিবহণ মন্ত্রীদের বৈঠকে বিভিন্ন সদস্য দেশের পরিবহণ মন্ত্রী, প্রতিনিধিদলের প্রধান, শীর্ষ আধিকারিক এবং প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান নীতিন। তিনি জানান, এই বৈঠক উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে পরিবহণ সহযোগিতা আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল ভাবনা ‘স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’—এই বিষয়কে সামনে রেখেই এগোচ্ছে বলে জানান গডকরি। তাঁর কথায়, ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’—এই ভারতীয় দর্শনের ভিত্তিতেই মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী ব্রিকস পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারে বলেও জানান তিনি।

    পরিবহণে জোর গডকরির

    অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে পরিবহণ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে গডকরি বলেন, “সড়ক, রেল, সমুদ্র ও বিমান—সব ক্ষেত্রেই ভারতের দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক নেটওয়ার্ক ভারতের রয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারযুক্ত দ্রুতগামী মহাসড়ক এবং বহুমাধ্যমভিত্তিক যোগাযোগ (Nitin Gadkari) ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে।” দিল্লি-দেরাদুন অর্থনৈতিক করিডর, সোনমার্গ সুড়ঙ্গ এবং ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি নতুন দ্রুতগামী মহাসড়ক নির্মাণের মতো প্রকল্পগুলির উল্লেখ করে তিনি (BRICS) জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে পরিকাঠামো উন্নয়নের সমন্বয় ঘটানোর দিকেই ভারত বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে সংকর বার্ষিক আর্থিক মডেলের সফল প্রয়োগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    পণ্য পরিবহণের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর

    রেল ক্ষেত্রেও ব্যাপক আধুনিকীকরণের কথা উল্লেখ করেন গডকরি। তিনি জানান, বিস্তৃত গেজ রেলপথের প্রায় সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়ন, বন্দে ভারত ট্রেন পরিষেবার সম্প্রসারণ, মুম্বই-আহমেদাবাদ উচ্চগতির রেল প্রকল্পের অগ্রগতি এবং নতুন পাম্বান সেতুর মতো টেকনোলজি দেশের রেল ব্যবস্থাকে নয়া উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া ‘সামুদ্রিক অমৃতকাল ভিশন ২০৪৭’, ‘ই-নাবিক’, ‘ই-সমুদ্র’ এবং সবুজ নৌপরিবহণ উদ্যোগের মাধ্যমে সামুদ্রিক পরিকাঠামো ও পণ্য পরিবহণের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান (Nitin Gadkari) তিনি। টেকসই পরিবহণ ব্যবস্থার লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক বাস পরিষেবা, সবুজ নগর পরিবহণ প্রকল্প এবং আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণে ‘উড়ান’ প্রকল্পের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মতে, ‘প্রধানমন্ত্রী গতি শক্তি জাতীয় মহাপরিকল্পনা’ সমন্বিত বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবহণ ব্যয় কমিয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়িয়েছে।

    কী বললেন গডকরি

    সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে গডকরি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের নগদবিহীন চিকিৎসার জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী-রাহাত’ প্রকল্প চালু হয়েছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য, পৌর বর্জ্য, উড়ন্ত ছাই, ইস্পাতের অবশিষ্টাংশ, বাঁশের নিরাপত্তা ব্যারিয়ার এবং ব্যবহারের অযোগ্য পুরোনো টায়ার পুনর্ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্রিকস দেশগুলির সামনে পরিকাঠামোয় অর্থায়ন, যানজট, দূষণ, সড়ক নিরাপত্তা এবং শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যোগাযোগ নিশ্চিত করার মতো একাধিক অভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন গডকরি। এই সমস্যাগুলির সমাধানে পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং সবুজ হাইড্রোজেন, বৈদ্যুতিক যান, বিকল্প জ্বালানি, ডিজিটাল পরিবহণ ব্যবস্থা ও টেকসই বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিকাঠামো নিয়ে যৌথ গবেষণার ক্ষেত্রে ভারত সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে (Nitin Gadkari)। বৈঠকের ফল নিয়ে আশাবাদী গডকরি বলেন, এই আলোচনা ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে পরিবহণ সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবসম্মত ও উদ্ভাবনী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা এবং (BRICS) টেকসই ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সকল সদস্য দেশকে একযোগে কাজ করার আহ্বানও জানান কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী (Nitin Gadkari)।

     

  • PM Modi: নয়া উচ্চতায় ভারত–জার্মানি সম্পর্ক, মোদি-মের্ৎসের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হল একগুচ্ছ মউ

    PM Modi: নয়া উচ্চতায় ভারত–জার্মানি সম্পর্ক, মোদি-মের্ৎসের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হল একগুচ্ছ মউ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা, অভিবাসন ও কর্মী যাতায়াত, প্রযুক্তি এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হল ভারত ও জার্মানি (Germany)। এনিয়ে গুজরাটে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনও করেন দুই দেশের দুই প্রতিনিধি। যৌথ বিবৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও জার্মানির মতো অর্থনীতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর কথায়, দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে এখন নতুন বৃদ্ধি ও নিরাপত্তার ফলাফলে রূপান্তরিত করার সময় এসেছে।

    সুস্পষ্ট রোডম্যাপ (PM Modi)

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশ একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির দিকে এগোচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে জার্মানির প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানোর সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান। অতীতে এই জটিলতাই দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত বর্তমানে প্রতিরক্ষা খাতে বৈচিত্র্য আনা এবং দেশীয় উৎপাদন জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। জার্মানির সহজতর ক্রয় প্রক্রিয়া যৌথ প্রকল্প ও সরবরাহকারী অংশগ্রহণ দ্রুততর করতে পারে। দুই দেশ অভিবাসন ও দক্ষ কর্মী যাতায়াত নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। এর মাধ্যমে জার্মানির শ্রমবাজারের চাহিদা এবং ভারতের দক্ষ মানবসম্পদের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবে এই উদ্যোগকে অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে (PM Modi)।

    ভারত–জার্মানি কৌশলগত অংশীদারিত্ব

    মোদি জানান, গত বছর ভারত–জার্মানি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং চলতি বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর উদযাপিত হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক এই অংশীদারিত্বে নতুন গতি এনেছে, যার প্রভাব (Germany) পড়বে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও। দুই দেশ যৌথভাবে ভারত–জার্মানি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছে। এই কেন্দ্র জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে (PM Modi)। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, নগর উন্নয়ন ও আরবান মোবিলিটির ক্ষেত্রে একাধিক নতুন প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভারত ও জার্মানির সংস্থাগুলির অংশগ্রহণে একটি বৃহৎ সবুজ হাইড্রোজেন প্রকল্পকে ভবিষ্যতের জ্বালানি ক্ষেত্রে “গেম-চেঞ্জার” হিসেবেও তুলে ধরা হয়।

    স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীতে চ্যান্সেলর মের্ৎসকে স্বাগত জানিয়ে মোদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ ও ম্যাডাম কামার মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই সফর সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ দিচ্ছে (PM Modi)।” চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেন, “জার্মানি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে চায়। এর আগে তিনি মহাত্মা গান্ধীর জন্মভূমিও পরিদর্শন করেন (Germany)। এই সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে একাধিক মউ স্বাক্ষরিত হয়।

LinkedIn
Share