Tag: Greenland

Greenland

  • Trump: ফের মুখ ফসকে ভুল! প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করতে গিয়ে এবার নিজেই বিদ্রুপের নিশানায় ট্রাম্প

    Trump: ফের মুখ ফসকে ভুল! প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করতে গিয়ে এবার নিজেই বিদ্রুপের নিশানায় ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভুলত্রুটি তুলে ধরে জনসমর্থন আদায় করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Trump)। প্রতিপক্ষের সামান্য ভুল বা বিতর্কিত মন্তব্যকেও তিনি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন বহুবার (Leon Musk)। অবশ্য সম্প্রতি উল্টে গিয়েছে পাশা! একের পর এক বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেই একাধিক তথ্যগত বিভ্রান্তি ও মুখ ফসকে ভুল মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তাঁর এই ধারাবাহিক ভুলই এখন রাজনৈতিক মহলে জন্ম দিয়েছে নয়া বিতর্কের।

    ভুল নিয়ে বিরোধীদের করতেন কটাক্ষ (Trump)

    নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ট্রাম্প জো বাইডেনের বিভিন্ন ভুলের একটি সংকলিত ভিডিও পর্যন্ত দেখিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে বাইডেন একবার ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের নাম গুলিয়ে ফেললে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, “দারুণ কাজ, জো!” আবার ওবামা একবার ভুল করে বলেছিলেন তিনি ৫৭টি অঙ্গরাজ্য সফর করেছেন। সেই সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, “আমি যদি এমন কথা বলতাম, সেটাই বছরের সবচেয়ে বড় খবর হয়ে যেত।”

    একাধিক ভুলের জন্য খবরে ট্রাম্প

    এবার সেই একই ধরনের একাধিক ভুলের জন্য আলোচনায় উঠে এসেছেন ট্রাম্প নিজেই। সম্প্রতি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পাশে বসে মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই তিনি তিনটি উল্লেখযোগ্য ভুল করেন। ইরানের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে দেশটিকে “জাপানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র” বলে উল্লেখ করেন। এরপর ইরানের পরমাণু চুক্তির সংক্ষিপ্ত রূপও ভুল উচ্চারণ করেন। সবশেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য কোনও প্রশ্ন আছে?” অথচ তাঁর পাশেই বসে ছিলেন জেলেনস্কি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের ন্যাটো সম্মেলনে বাইডেনও জেলেনস্কি এবং পুতিনের নাম গুলিয়ে ফেলেছিলেন। সেই ঘটনায় তখন সব চেয়ে বেশি সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্পই।

    ট্রাম্পের ভুল

    এর আগেও একাধিক অনুষ্ঠানে একই ধরনের ভুল করতে দেখা গিয়েছে ট্রাম্পকে। জুনে সংস্কার হওয়া রাষ্ট্রপতির বিশেষ বিমান পরিদর্শনের সময় শিল্পপতি ইলন মাস্ককে ভুল করে “লিয়ন” বলে ফেলেছিলেন ট্রাম্প। যদিও কিছুক্ষণ পরেই ভুল শুধরে নেন। ন্যাটো সম্মেলনের কয়েক দিন আগে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের প্রধান কেলি লফলারকে পরিচয় করাতে গিয়ে দু’বার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নিকি মিনাজের নাম উচ্চারণ করেন। একবার ভুলবশত এবং পরে আবার যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই নাম ব্যবহার করেন। মে মাসে ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জানতে চান দলের প্রধান প্রশিক্ষক কার্ট সিগনেটি কোথায়। অথচ সিগনেটি তখন তাঁর একেবারে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন (Trump)। ওই মাসে আফগানিস্তান থেকে ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং কাবুল বিমানবন্দরে ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর জন্য তিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে দায়ী করেন। যদিও ওবামা সরে গিয়েছিলেন ২০১৭ সালেই, সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল বাইডেনের আমলে (Leon Musk)।

    ভুল, আরও ভুল

    মে মাসেই তাইওয়ানকে ঘিরে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মন্তব্য সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প সেটিকে ইরান সংক্রান্ত প্রশ্ন ভেবে উত্তর দেন এবং “তাদের (হরমুজ) প্রণালী” নিয়ে মন্তব্য করেন। এপ্রিলে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “ইউক্রেন সামরিকভাবে পরাজিত।” কিন্তু পরে বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট হয়, তিনি আসলে ইরানের নৌবাহিনী ও যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা নিয়ে কিছু বলতে চেয়েছিলেন (Trump)। ওই মাসেই নারী ইতিহাস মাস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিটকে পরিচয় করাতে গিয়ে তাঁর পরিবর্তে কেলিয়ান কনওয়ের নাম বলেছিলেন ট্রাম্প। জানুয়ারিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দাভোস বৈঠকে ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডের পরিবর্তে আইসল্যান্ডের নাম উচ্চারণ করেন। অথচ গ্রিনল্যান্ড নিয়েই তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা বলে আসছেন। গত নভেম্বরে মায়ামিতে এক ভাষণে ট্রাম্প শহরটিকে “দক্ষিণ আফ্রিকা” থেকে পালিয়ে আসা মানুষের আশ্রয়স্থল বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে অবশ্য নিজেকে শুধরে নিয়ে “দক্ষিণ আমেরিকা” বললেও, আবারও ফিরে যান “দক্ষিণ আফ্রিকা” প্রসঙ্গে।

    প্রতিপক্ষকেই অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন ট্রাম্প!

    গত বছরই দু’বার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আজারবাইজান ও আলবেনিয়ার মধ্যে সংঘাত মেটানোর কৃতিত্ব তাঁর। যদিও ওই দুই দেশের মধ্যে এমন কোনও যুদ্ধই হয়নি। বাস্তবে তিনি যে সংঘাতের কথা বলতে চেয়েছিলেন, সেটি হয়েছিল আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে (Trump)। এদিকে, এই অগাস্টেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প দু’বার প্রকাশ্যে বলেন, তিনি রাশিয়ায় যাচ্ছেন। যদিও বৈঠকটি হওয়ার কথা আলাস্কায়, যা উনিশ শতকের ছয়ের দশক থেকে আর রাশিয়ার অংশ নয় (Leon Musk)। ট্রাম্প অতীতে প্রতিপক্ষদের একই ধরনের ভুল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেও, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক এই বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ও নাম গুলিয়ে ফেলার ঘটনাগুলি এখন নতুন নতুন অস্ত্র তুলে দিচ্ছে তাঁর রাজনৈতিক সমালোচকদের হাতেই (Trump)।

     

  • EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (EU) ঘোষিত নয়া শুল্ক আরোপের পর তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক প্রতিশোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে (US Tariffs) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন করা ইউরোপীয় দেশগুলির বিরুদ্ধে এই শুল্ক আরোপের ঘোষণার ফলে ২৭ সদস্যের এই জোটের নেতাদের মধ্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে এবং এর মধ্যে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি (EU)

    এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে ঘিরে প্রথমবারের মতো ইইউ তাদের তথাকথিত ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের কথা ভাববে। শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং ব্রিটেন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোনও সমঝোতা না হলে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।” ট্রাম্প দাবি করেন, ডেনমার্কের অধীনস্থ এই ভূখণ্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে এসব ইউরোপীয় দেশের অবস্থানের পরেই এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং ওয়াশিংটন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিরোধ তীব্রতর হয়েছে।

    ট্রেড বাজুকা’

    ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কে দ্রুত চাপ সৃষ্টি হয় এবং রবিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকে ডাকা হয় (US Tariffs)। বৈঠকে তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, “ইইউর ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রথমবারের মতো ব্যবহারের এখনই সময় (EU)।” ‘ট্রেড বাজুকা’ বলতে বোঝানো হয় অ্যান্টি-কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট (ACI)—একটি ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য ইইউকে অ-ইইউ দেশগুলির অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্ষম করে তোলা। এই ব্যবস্থার আওতায় ইইউ পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারবে, ইউরোপের একক বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলির প্রবেশ সীমিত করতে পারবে এবং লাভজনক ইইউ চুক্তির দরপত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্যই হল স্পষ্ট বার্তা দেওয়া—ইইউ তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইইউ কর্তারা জানিয়েছেন, ‘ট্রেড বাজুকা’ কেবল শুল্ক আরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর মধ্যে রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধও থাকতে পারে (EU)।

    সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতা

    জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতার কারণে যে ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর পাল্টা শুল্ক আরোপ স্থগিত (US Tariffs) রাখা হয়েছিল, ইইউ এখন সেগুলি কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বর্তমান পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের কোনও বিরোধেই এত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়নি (EU)। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ আলোচনার ওপর। তবে ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি শুল্কের হুমকি বহাল রাখে বা আরও বাড়ায়, তাহলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রবিবার আটটি ইউরোপীয় দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।” এতে আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা স্বার্থের কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়।

    আর্কটিক নিরাপত্তা

    ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি জানায়, আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার করাকে তারা একটি অভিন্ন ট্রান্স-আটলান্টিক অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে (EU)। বিবৃতিতে এই বলেও সতর্ক করা হয়, ওয়াশিংটনের শুল্ক হুমকি দীর্ঘদিনের মিত্রতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এর ফলে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে একটি বিপজ্জনক নিম্নমুখী চক্র শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে (US Tariffs)। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তা বলেন, “নতুন শুল্ক হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ইইউ কঠোর অবস্থান নেবে। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শুল্ক আরোপ ইউরোপ–আমেরিকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” এদিকে, ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রবিবার ফোনে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ভুল এবং এটি ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে (EU)।”

    ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতি

    ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরো-আটলান্টিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সব ন্যাটো মিত্রেরই অগ্রাধিকার।” এতে আরও বলা হয়, যৌথ ন্যাটো নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করার জন্য মিত্রদের ওপর শুল্ক চাপানো কোনওভাবেই যুক্তিযুক্তি ন্যায্য নয় (US Tariffs)। ইইউ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির জবাবে ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা স্থগিত রাখবেন। গত বছরের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই আলোচনা স্থগিত বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন ইউরোপীয় পিপলস পার্টির সহ-সভাপতি সিগফ্রিড মুরেসেন (EU)। মুরেসেন জানান, ইইউ দ্রুত আমেরিকার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইইউয়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আপাতত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বাণিজ্য আলোচনা

    প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছিল গত বছরের জুলাই মাসে। একে ট্রান্সআটলান্টিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েই গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে(EU)। ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে চিন ও রাশিয়া তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদ একে আমেরিকার নিরাপত্তা স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (US Tariffs)। ডেনমার্ক ও ইইউ ট্রাম্পের এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় জার্মানি, সুইডেন ও ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে ছোট আকারের সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে বলেও অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর। তাদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের মতো ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও আরও আক্রমণাত্মক কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেন। ডেনমার্কও ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে।

    উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা

    কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সতর্ক করে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যদি ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) ভেঙে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইইউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে (US Tariffs)। উল্লেখ্য, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে গুগল, মেটা এবং এক্সের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ ইউরোপজুড়ে তাদের বিশাল ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত। ইউরোপীয় কর্তাদের মতে, ওয়াশিংটনকে আরও উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত রাখতে শক্ত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা জরুরি হতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই

    এদিকে, একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই। কারণ চড়া শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। লেগো ও ফেরারির মতো বিলাসবহুল ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান বিরোধ ন্যাটোর ভাঙন ঘটাতে পারে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক দেশই মনে করে আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না (US Tariffs)। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলেও অভিমত। কারণ এই ধরনের অবস্থার মধ্যে আলোচনা চালিয়ে গেলে তা মার্কিন প্রশাসনের আরও একতরফা ও অস্থিতিশীল পদক্ষেপকে উৎসাহিত করবে বলেই আশঙ্কা।

     

  • Greenland: গ্রীনল্যান্ডে পাওয়া গেল ২০ লক্ষ বছর আগের ডিএনএ

    Greenland: গ্রীনল্যান্ডে পাওয়া গেল ২০ লক্ষ বছর আগের ডিএনএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০ লক্ষ বছর আগে পৃথিবী কেমন ছিল! বিজ্ঞানের অগ্রগতির যুগে এমন প্রশ্ন আর অসম্ভব নয়।  বিজ্ঞানীরা প্রায় ২০ লক্ষ বছর আগের উদ্ভিদ ও প্রাণীর ডিএনএ আবিষ্কার করতে পেরেছেন – যা এখনও পর্যন্ত  সবচেয়ে প্রাচীন বলেই  মনে করা হচ্ছে । গ্রীনল্যান্ডের (Greenland) একেবারে উত্তরে Arctic Ocean fjord-এ, এটি আবিষ্কার হয়েছে। প্রাচীন এই lost world আবিষ্কারে খুশি সারা বিশ্ব।

    আরও পড়ুন: একযোগে বিশ্বের ৮টি দেশ মিলে তৈরি করছে সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপ, জানুন বিস্তারিত 

    গবেষকরা কী বলছেন?

    গবেষকরা বলেন যে mastodons, reindeer, hares, lemmings, geese প্রভৃতি প্রাণীর এবং poplar, birch and thuja প্রভৃতি উদ্ভিদের ডিএনএ  সনাক্ত করা গেছে। ডিএনএ হল স্ব-প্রতিলিপিকারী উপাদান যা প্রাণীর জেনেটিক তথ্য বহন করে।  mastodons ছিল হাতির পূর্বপুরুষ।  যেটি প্রায় ১০,০০০ বছর আগে বরফ যুগে বিলুপ্ত হয়েছিল। তার আগে উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় ঘুরে বেড়াত।

    আরও পড়ুন: জোড়া ব্যর্থতার পর অবশেষে সফল হল নাসার ‘আর্টেমিস ১’-এর উৎক্ষেপণ

    তবে এটি গ্রিনল্যান্ডে (Greenland) আগে কখনও পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাচীন ডিএনএ অত্যন্ত পচনশীল হয়। তবে ভালো পরিবেশ পেলে এটি দীর্ঘসময় ঠিকঠাকই থাকে বিজ্ঞানীদের মত, অন্তত ৪০ লক্ষ বছর আগের ডিএনএ খুঁজে পেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

    আরও পড়ুন: ব্রহ্মাণ্ডের আদি ছায়াপথগুলির তথ্য দেবে ভারতের ‘সারস’

     

    গবেষকরা Arctic Ocean-এর সঙ্গে মিশে যাওয়া Peary Land peninsula-এর পাঁচটি সাইট থেকে প্রাপ্ত এই ৪১টি জৈব নমুনা থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করেছেন । বিজ্ঞানীরা এর মাধ্যমে ১০০টিরও বেশি ধরণের প্রাণী এবং গাছপালা সনাক্ত করেছে। 
    প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালেও খনন করা হয়েছিল, তবে সে সময় সাফল্য মেলেনি। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে সহজেই এবার সাফল্য পাওয়া গেল বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     

LinkedIn
Share