Tag: gta

gta

  • GTA: পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা, জিটিএর আর্থিক অনিয়মে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    GTA: পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা, জিটিএর আর্থিক অনিয়মে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড় তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার প্রথমবার কালিম্পং সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও, খারাপ আবহাওয়া এবং দৃশ্যমানতা কম থাকায় হেলিকপ্টার নিয়ে কালিম্পঙে নামতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংবাসীর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই পাহাড়ের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (GTA) আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কড়া বার্তা দেন।

    জিটিএতে বিপুল বরাদ্দ (GTA)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড়ে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জন্য ২৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি। খুব শীঘ্রই নিজে উপস্থিত থেকে ওই মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৬ অক্টোবর ফের পাহাড়ে আসার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

    এদিন উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। এদিকে, কালিম্পং টাউন হলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং কালিম্পঙের বিধায়ক ভরত ছেত্রী।

    ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দশ মিনিট ধরে অবতরণের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু জ্বালানি কম থাকায় উত্তরকন্যায় ফিরে আসতে হয়। আমি ৬ অক্টোবর ফের পাহাড়ে আসব। ২২ সেপ্টেম্বর কোচবিহার ও জলদাপাড়ায় গন্ডার দিবস পালন করতেও আসব। ২ অক্টোবর বক্সায় আসব। ৬ অক্টোবর দার্জিলিং যাব। ফেরার সময় কালিম্পং হয়ে ফিরব।”

    জিটিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিটিএ-র সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। আমি স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামাকে পাহাড়ের সমস্ত বিষয়ে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ বরাদ্দ হয়েছে। আমি নিজে তার শিলান্যাস করব। এটা কালিম্পংবাসীর জন্য বড় উপহার।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় ২৫৪ কোটি

    পাহাড়ের বিপর্যয় মোকাবিলার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মুখ্যসচিব রাজেশ সিনহাকে পাহাড়ের বিপর্যয় নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। সম্প্রতি মিরিকে বড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের খুব সাবধানে কাজ করতে হবে। জিটিএর চেয়ারম্যান ও সভাসদরা পদত্যাগ করেছেন। জিটিএর বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। ২৫৪ কোটি টাকা বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য জিটিএকে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসক সেই কাজ করবেন। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং বাকি সভাসদদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে হবে। স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেখছেন। বাকি উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।”

    ২০২৫ সালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়বাসীদের এদিন তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সরকারের তরফে আগেই পুনর্বাসনের জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। এবার বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় একাধিক ঘোষণা

    কালিম্পং জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গেও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৩ জনকে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজার ৩১১ জন সেই কার্ড পেয়েছেন বলে জানানো হয়। ১২৩ জন ওই কার্ডের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেন তিনি।

    কালিম্পঙের ১৫ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। কেউ যাতে এই প্রকল্প থেকে বাদ না পড়েন, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং বিধায়ক ভরত ছেত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয় (GTA)।

    অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ওই টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে অন্নপূর্ণা দিবস উপলক্ষে বিশেষ কিস্তি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    পাহাড়ে কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো বাড়াতে পুলিশের বিশেষ বিভাগে অন্তত এক হাজার কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে ৩০০টি পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। একশো দিনের কাজের প্রকল্পের পরিধি গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্যও বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বিধবা ও বার্ধক্য ভাতাও মাসে এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়েছে।

    চা বাগানের উন্নয়নে ৩২০ কোটি টাকা

    চা বাগান ও চা শ্রমিকদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়ের বন্ধ, রুগ্ণ এবং সমস্যায় জর্জরিত চা বাগানগুলির স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র ও তাদের প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

    অসমের আদলে পশ্চিমবঙ্গেও ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা ২০২১’ পুরোদমে চালু করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের রাজ্য সরকার এই প্রকল্প কার্যকর করেনি।

    এই প্রকল্পের আওতায় পাহাড় থেকে তরাই অঞ্চলের চা বাগানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ চালানো হবে। পাশাপাশি দুর্গাপুজো, দীপাবলি এবং ভাইফোঁটার আগেই চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে শ্রম দফতর থেকে উপযুক্ত নির্দেশিকা জারির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (GTA)।

    তিস্তায় উদ্ধারকারী দল, তৈরি হবে ৮,৩২৫টি বাড়ি

    দুর্গত এলাকার নিরাপত্তার জন্য তিস্তার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্জুন বাহিনী-সহ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    পাশাপাশি আগামী ছ’মাসের মধ্যে কালিম্পং জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ৮,৩২৫টি নতুন বাড়ি তৈরির তালিকা প্রস্তুত হয়েছে (Suvendu Adhikari) বলেও জানান তিনি।

    বিশিষ্টদের সম্মাননা

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কালিম্পং জেলার পদ্মশ্রী প্রাপক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানান মুখ্যমন্ত্রী। সম্মানিতদের মধ্যে ছিলেন পদ্মশ্রী প্রাপক জি এস ইয়েনজোন, পদ্মশ্রী প্রাপক একলব্য শর্মা, প্রয়াত পদ্মশ্রী প্রাপক কাজী সিংয়ের স্ত্রী দুর্গা সিং, চলচ্চিত্র নির্মাতা তুলসী ঘিমিরে, স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকরাজ আগরওয়াল, মিরিক কলেজের অধ্যক্ষ শেরাপ ভুটিয়া এবং আধ্যাত্মিক নেতা মোহন প্রিয় আচার্য।

    জিটিএর দুর্নীতিতে এফআইআর ও গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি

    উন্নয়নের ঘোষণার পাশাপাশি জিটিএর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও এদিন সরাসরি কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক পর্যালোচনার সময় তিনি জানান, তদন্ত শেষ হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে। সরকারি তহবিল কিংবা জনগণের করের টাকা বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করা হয়ে থাকলে সেই অর্থও উদ্ধার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিটিএতে (GTA) যে সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে, তার কোনওটাকেই আমরা ছাড়ব না।”

    তাঁর দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

    অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত

    তদন্ত কমিটির গঠন সম্পর্কেও বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এবং আইপিএস আধিকারিক কালিয়াপ্পন জয়রামনকে কার্যকরী সদস্য করে ওই কমিটি কাজ করছে। কমিটির সদস্যরা পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান তিনি।

    শিক্ষক নিয়োগ থেকে পানীয় জল প্রকল্প, নজরে একাধিক অভিযোগ

    জিটিএর অধীনে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পানীয় জল প্রকল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে চার শতাধিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, অমৃত প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির উন্নয়নের জন্য গঠিত উন্নয়ন পর্ষদগুলির তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    লেপচা ও তামাং বোর্ড-সহ মোট ১১টি উন্নয়ন পর্ষদের অর্থ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

    কালিম্পংবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিশ্চিন্তে থাকুন, যারা দুর্নীতি করেছে (Suvendu Adhikari), তাদের একজনকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না।”

    জনগণের টাকা ফেরত নেব”

    তদন্ত শেষ হওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলেই এফআইআর করা হবে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করা (GTA) হবে বলেও জানান তিনি।

    সরকারি অর্থের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের করের টাকা কিংবা সরকারি তহবিলের অর্থ বেআইনিভাবে সরানো হয়ে থাকলে তা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার।”

    পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরেই জিটিএর প্রশাসনিক কাঠামো, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে। সেই আবহে উত্তরকন্যা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই (GTA) বার্তা জিটিএর উপর নতুন করে (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Agnimitra Paul: ‘১৬ বোর্ডের টাকার হিসাব না দিলে রেহাই নেই’! পাহাড়ে ঘুরে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার

    Agnimitra Paul: ‘১৬ বোর্ডের টাকার হিসাব না দিলে রেহাই নেই’! পাহাড়ে ঘুরে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ের উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে লেপচা, ভুটিয়া-সহ বিভিন্ন জনজাতির জন্য গঠিত ১৬টি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একইসঙ্গে পাহাড়ের স্বশাসিত প্রশাসনিক সংস্থা জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-কেও তদন্তের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার দার্জিলিং, মিরিক ও দুধিয়া এলাকা পরিদর্শনের সময় অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আগের সরকার পাহাড়ে বারবার এলেও প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। ১৬টি বোর্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই অর্থ কীভাবে খরচ হয়েছে তার পূর্ণ হিসাব দিতে হবে। প্রতিটি বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। জিটিএ-ও কোনও ছাড় পাবে না।”

    পাহাড় চষে বেড়ালেন মন্ত্রী

    সোমবার সকালেই দার্জিলিংয়ের মহাকাল মন্দিরে পুজো দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। এরপর পাহাড়ের একাধিক এলাকা ঘুরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। তিনি প্রথমে যান শহরের প্রধান পানীয় জলের উৎস সিনচেল এলাকায়। সেখানে চলমান জল প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরে হ্যাপি ভ্যালির একটি আইসিডিএস কেন্দ্র পরিদর্শন করে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিষেবার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    মিরিককে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার পরিকল্পনা

    পরিদর্শনের পর মন্ত্রী মিরিক লেকে যান এবং পর্যটন সম্ভাবনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, মিরিককে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি জানান, মিরিক লেক সংলগ্ন পার্ক ও পর্যটন অবকাঠামোকে নতুনভাবে সাজানো হবে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য ওয়াই-ফাই পরিষেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পরে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন পশুপতিনাথ মন্দিরেও যান মন্ত্রী।

    দুধিয়া সেতুর কাজ শেষ হবে ২০২৭ সালের মধ্যে

    দিনের শেষ কর্মসূচি ছিল দুধিয়া এলাকায়। সেখানে গত বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেন অগ্নিমিত্রা। সেতুটি এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়টিও খতিয়ে দেখেন তিনি। মন্ত্রী জানান, “দুধিয়া সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৭ সালের মধ্যেই শেষ করা হবে। আমাদের সরকার উন্নয়ন করতে এসেছে, শুধুমাত্র সফর করতে নয়।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত বর্ষায় যাঁদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাঁদের জন্য আগের সরকার প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ অর্থ দেয়নি। অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ গঠনের ঘোষণা

    এর আগে রবিবার উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, সাংসদ রাজু বিস্তা, জয়ন্ত রায়-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার জনপ্রতিনিধি, জেলাশাসক ও পুলিশ আধিকারিকরা। বৈঠকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা ছিল ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ প্রকল্প। শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিক— এই পাঁচটি শহরকে একত্রে পরিকল্পিত উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন, পানীয় জল, পরিবহণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকাঠামো এবং নাগরিক পরিষেবার ব্যাপক আধুনিকীকরণ করা হবে। প্রতিটি বাড়িতে কিউআর কোড সংযুক্তকরণ, সরকারি জমিতে আবাসন নির্মাণ এবং আধুনিক জনশৌচাগার তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    নারী ও শিশু পাচার রোধে বিশেষ টাস্ক ফোর্স

    সীমান্তবর্তী উত্তরবঙ্গে নারী ও শিশু পাচার দীর্ঘদিনের সমস্যা। সেই প্রেক্ষিতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা করেছে।
    প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, কিশোরী গর্ভধারণ এবং মানবপাচার রোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    পরিচ্ছন্নতা ও প্লাস্টিক বিরোধী কঠোর অভিযান

    শহরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হবে। পাশাপাশি যত্রতত্র থুতু ফেলা, অবৈধ পার্কিং এবং রাস্তা দখলের বিরুদ্ধেও কঠোর আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, ১ জুলাই থেকে পার্কিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অটোমেটেড করা হবে। নির্মল বন্ধু কর্মীদের উপস্থিতিও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

    মাদকচক্র ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান

    উত্তরবঙ্গ জুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাঁজা, ব্রাউন সুগার এবং অন্যান্য মাদক চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি বেআইনি মাদ্রাসাগুলির উপর নজরদারি এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈধ মাদ্রাসাগুলির ক্ষেত্রেও শিক্ষা ও পরিকাঠামোর মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ধর্মীয় পর্যটন ও ক্ষুদ্র শিল্পে জোর

    উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলির তালিকা আগামী ২০ জুনের মধ্যে প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব মন্দিরে সারা বছর বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমাগম হয়, সেই এলাকাগুলিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পর্যটন এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও মন্দিরকেন্দ্রিক ধূপকাঠি শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    রাজনৈতিক জল্পনা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, উত্তরকন্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। যদিও তিনি সেদিন শিলিগুড়িতেই ছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর অনুপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে প্রশাসনিক বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে অগ্নিমিত্রা পালের। সেখানে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন সংক্রান্ত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

  • Suvendu Adhikari: পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির চক্রী অনীত থাপা, সিবিআই তদন্তের দাবি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির চক্রী অনীত থাপা, সিবিআই তদন্তের দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মূল চক্রী অনীত থাপা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ফের একবার শিক্ষক দুর্নীতির অভিযোগ করে সিবিআই তদন্তের দাবি তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অনীত থাপা অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা বলেছেন।

    কী বললেন শুভেন্দু?

    পাহাড় সফরে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড়ের সমস্ত জেলা স্কুল বোর্ড, জেলা রিক্রুটমেন্ট কমিটি গঠনের কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে সমস্ত দায়িত্ব জিটিএ-র উপর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অপর দিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) পাহাড়ে গিয়ে শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতির কথা বলে বলেন, ‘এখানে নিয়োগের মূল চক্রী হলেন অনীত থাপা। জিটিএ-র প্রধান ছিলেন অনীত থাপা। টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।’ এছাড়াও শুভেন্দু আরও স্পষ্ট করে সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে অনীত থাপা পাঁচশোর বেশি শিক্ষক নিয়োগ করেছেন। এই নিয়োগ এসএসসির মাধ্যমে হয়নি। জিটিএ সরাসরি নিয়োগ করেছে। মাথা পিছু নিয়োগে ১৫ লক্ষ করে টাকা তিনি নিয়েছেন। সমস্ত তথ্য এবং নথি নিয়ে সিবিআইয়ের কাছে যাবো।”

    আর কী বললেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)?

    নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) পাহাড়ে গিয়ে আরও বলেন, “এই শিক্ষক নিয়োগে সংরক্ষণ নীতি এবং ন্যূনতম যোগ্যতা মানা হয়নি। উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকার বাধ্যবাধকতাকেও মানা হয়নি। তফসিলি জাতি-উপজাতি এবং ইউব্লিউএস সংরক্ষণের নিয়মকে মান্যতা দেওয়া হয়নি। শিক্ষক নিয়োগের সকল নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অনীতকে ১৯২ জন শিক্ষক নিয়োগের কথা বলেছেন। এটাও একটা বড় রকমের কেলেঙ্কারি।” তিনি জনজাতি বোর্ড নিয়ে বলেন, “পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য ১২টি জনজাতি বোর্ড গঠন হলেও সব অকেজো হয়ে রয়েছে। আগামী মকর সঙ্কক্রান্তির পর পাহাড়ে বিরাট আন্দোলন শুরু করবো আমরা।”

    অপরদিকে শুভেন্দুর সব অভিযোগকে অস্বীকার করে অনীত থাপা বলেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা, নিয়ম মেনে সব শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। বিজেপি কোনও ইস্যু না পেয়ে অপপ্রচার করছে।”   

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Suvendu Adhikari: জিটিএ চুক্তি ‘অশ্ব ডিম্ব’, পাহাড়ের বঞ্চনা দূর করতে পারে বিজেপিই, সাফ জানালেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: জিটিএ চুক্তি ‘অশ্ব ডিম্ব’, পাহাড়ের বঞ্চনা দূর করতে পারে বিজেপিই, সাফ জানালেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য সরকারের জিটিএ (GTA) চুক্তিকে ‘অশ্ব ডিম্ব’ আখ্যা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপির (BJP) শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০১১ সালের ১৭ জুলাই জিটিএ তৈরির সময় কেন্দ্র, রাজ্য এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়। এই চুক্তি থেকেই সরে দাঁড়িয়েছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। ফের দাবি জানাল পৃথক গোর্খাল্যান্ডের। এই দাবিতে দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে মোর্চা। শুক্রবার শিলিগুড়ির দাগাপুরে মোর্চার দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট, কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। জিটিএকে কেন্দ্র করে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার যে সমর্থন ছিল, ত্রিপাক্ষিক চুক্তিতে তা প্রত্যাহার করা হল।

    শুভেন্দু উবাচ…

    এ প্রসঙ্গেই প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যাতেই হাত দেবেন, সেটাই ব্যর্থ হবে। তা সে সুন্দরবন হোক, জঙ্গলমহল হোক, শিল্প হোক, কৃষি হোক, কর্মসংস্থান হোক কিংবা পাহাড়। পাহাড় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ২০১১ সালে ঢাক ঢোল বাজিয়ে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, পাহাড় হাসছে, জঙ্গলমহল হাসছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্তব্য করে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সঙ্গে ভারত সরকারের মধ্যস্থতায় ত্রিপাক্ষিক চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু আজকে এগারো বছর পর ওই চুক্তি যে অশ্ব ডিম্ব ছিল, তা প্রমাণ হল।

    আরও পড়ুুন: আইএসএফ বিধায়ককে গ্রেফতারির প্রতিবাদে পথে বিজেপিও, কী বললেন সুকান্ত?

    শুভেন্দু বলেন, ত্রিপাক্ষিক চুক্তির প্রধান স্টেক হোল্ডার গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছে। মোর্চার সম্পাদক রোশন গিরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে বলেছেন, সেই চুক্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের যেসব বিষয় ছিল, তার একটাও রাজ্য সরকার কার্যকর করেনি। পাহাড়ের বঞ্চনা দূর করতে যে একমাত্র বিজেপিই পারবে, এদিন তাও স্মরণ করিয়ে দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, বিগত দিনে যেভাবে পাহাড়ের মানুষ বিজেপির ওপর আস্থা রেখেছে, আগামী দিনেও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর ভরসা রাখুন। তিনি বলেন, একমাত্র বিজেপিই পারবে পাহাড়কে শান্ত রাখতে এবং উন্নয়ন ঘটাতে। সেই সঙ্গে পাহাড়ের মানুষের বঞ্চনা দূর করতে। 

    এদিকে, রোশনের জিটিএ ছাড়ার ঘোষণার পর কার্যত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহল। মোর্চার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন হামরো পার্টির চেয়ারম্যান অজয় এডওয়ার্ড। বিরোধিতা করেছে অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক পার্টি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     

  • Jagdeep Dhankhar: রাজ্যে গণতন্ত্র রক্ষার্থে গর্জে উঠুন বুদ্ধিজীবীরা, আহ্বান রাজ্যপালের

    Jagdeep Dhankhar: রাজ্যে গণতন্ত্র রক্ষার্থে গর্জে উঠুন বুদ্ধিজীবীরা, আহ্বান রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও আমলাতন্ত্র নিয়ে ফের একবার ক্ষোভ উগড়ে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর (governor Jagdeep Dhankhar)। রাজ্যে গণতন্ত্র রক্ষা করতে বুদ্ধিজীবী এবং সুশীল সমাজের উচিত একসঙ্গে গর্জে ওঠা, অভিমত রাজ্যপালের। ঝটিকা সফরে বুধবার দার্জিলিংয়ে যান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। জিটিএ (GTA) নির্বাচনের পর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই পাহাড়ে পা রাখেন তিনি। এদিন তিনি সকালে কলকাতা থেকে বিমানে বাগডোগরায় নেমে সোজা সড়কপথে চলে যান দার্জিলিং। বৃহস্পতিবার দার্জিলিংয়ের লালকুঠিতে জিটিএ (GTA)-র চিফ এগজিকিউটিভের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান রয়েছে।

    [tw]


    [/tw]

    এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে   রাজ্যপাল জানান, রাজ্যে প্রশাসনিক অনেক সমস্যা রয়েছে, যেটা সকলেই জানে। কিন্তু ভয়ের কারণে, কেউ সেসব বিষয়ে কথা বলতে চায় না। তিনি সমাজের বুদ্ধিজীবীদের অনুরোধ করেন, রাজ্যের সমস্যাগুলি নিয়ে যেন তাঁরা সরব হন। ট্যুইটবার্তায় তিনি জানান, ‘নাগরিক সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চুপতা আমার কাছে খুব বেদনাদায়ক। আর্থিক বিষয়ে ও আমলাতন্ত্রে সাম্প্রদায়িক পৃষ্ঠপোষকতা ও সাম্প্রদায়িক ক্ষমতায়ন কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। সাম্প্রদায়িক পৃষ্ঠপোষকতা বাস্তবে গণতন্ত্রের মূল্যবোধ বিরোধী। নাগরিক সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের সেই বিষয়ে সরব হওয়া উচিৎ। হাইকোর্টের মত অনুযায়ী রাজ্যের প্রত্যেক কোনায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ চলছে। এসব আইনের ভূমিকা নয়। এটা একমাত্র শাসকের শাসন চললেই হয়। গণতন্ত্রে এসবের জায়গা নেই। বিভিন্ন সময়ে শাসকদল রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিল্পের কথা বললেও আদতে তার দেখা নেই। বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের মন্ত্রীদের নাম জড়িয়ে পড়ছে নানা আর্থিক দূর্নীতিতে। অথচ মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন সুশীল সমাজ। প্রতিবাদ করতে দেখা যাচ্ছে না বুদ্ধিজীবিদের। এটা সমাজের পক্ষে ভয়ংকর। রাজ্যের পরিস্থিতি ঠিক করতে হলে প্রথমেই এগিয়ে আসতে হবে সুশীল সমাজকে।’ যতদিন পর্যন্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে সমাজ গর্জে না উঠবে ততদিন পর্যন্ত এ রাজ্যের হাল ফিরবে না বলেও মন্তব্য করেছেন রাজ্যপাল। 

    আরও পড়ুন: শ্যুটিং বিশ্বকাপে সোনা জয় বঙ্গকন্যা মেহুলির

    গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (GTA) নির্বাচনের পর পাহাড় সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার জিটিএর নবনির্বাচিত ৪৫ জন সদস্যের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন তিনি। তবে চেয়ারম্যান পদে এখনও শপথ নেওয়া বাকি অনীত থাপার। এমতাবস্থায় রাজভবনে অনীত থাপাকে শপথগ্রহণ করাতেই পাহাড়ে রাজ্যপাল। প্রোটোকল মেনেই এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। এর পাশাপাশি জিটিএ নিয়ে পুরো বিষয়টিও বুঝে নিতে চাইছেন ধনকড়।

  • Raju Bista: জিটিএ নির্বাচন অবৈধ, রুখবই! সাফ জানালেন রাজু বিস্ত

    Raju Bista: জিটিএ নির্বাচন অবৈধ, রুখবই! সাফ জানালেন রাজু বিস্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জিটিএ নির্বাচন (gta election) রুখবই। শুক্রবার জোর গলায় জানিয়ে দিলেন পাহাড়ের সাংসদ বিজেপির রাজু বিস্ত (Raju Bista)। জিটিএ নির্বাচনকে অবৈধও ঘোষণা করেন রাজু। এদিনই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার (Bengal govt)। তার পরিপ্রেক্ষিতেই এহেন মন্তব্য রাজুর।

    ২৬ জুন জিটিএ নির্বাচন হওয়ার কথা। জিটিএ ভোটের বিরোধিতায় পাহাড়ের সিংমারিতে অনশন করছেন মোর্চা নেতা বিমল গুরুং (Bimal Gurung)। বিমলের সুরে সুর মিলিয়ে জিটিএ নির্বাচনের বিরোধিতা করলেন এবার রাজুও। তিনি বলেন, জিটিএ নির্বাচন অবৈধ। কারণ হিসেবে রাজু বলেন, জিটিএ চুক্তি ছিল ত্রিপাক্ষিক। তাই কেন্দ্র এবং চুক্তির একটি পক্ষ মোর্চাকে এড়িয়ে এক তরফা নির্বাচন করা যাবে না।

    আরও পড়ুন : আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে অ্যাডভান্টেজ বিজেপি, শক্তি খোয়াবে কংগ্রেস?

    এদিন শিলিগুড়ির নকশালবাড়িতে একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন রাজু। সেখানেই জিটিএ নির্বাচনের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। বিজেপি সাংসদ বলেন, আগে পাহাড় সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। কয়েক দশক ধরে পাহাড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন হয় না। কার্শিয়াং ও কালিম্পং পুরসভার নির্বাচন এখনও বাকি। এমতাবস্থায় এসবে নজর না দিয়ে রাজ্য সরকার গায়ের জোরে জিটিএ নির্বাচন করিয়ে নিতে চাইছে। তাঁর অনুগামীদের পাহাড়ের মসনদে বসাতে চাইছেন। আমি এসব নিয়ে দিল্লিকে রিপোর্ট দিচ্ছি। সর্বশক্তি দিয়ে এই নির্বাচন রুখব। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিটিএ নির্বাচন করিয়ে একটি অবৈধ বিষয়কে টেনে তোলার চেষ্টা করছে রাজ্য। রাজ্য সরকারের এই চেষ্টা তৃণমূল সরকারের হতাশা এবং আমাদের অঞ্চল ও জনগণের প্রতি তাদের স্বৈরাচারী মনোভাব উভয়ই প্রদর্শন করে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার জোর করে জিটিএ চাপিয়ে দিতে চাইছে।

    আরও পড়ুন : ফের পরিবারতন্ত্রের প্রতি কটাক্ষ মোদির

    রাজু বলেন, গত ২০ বছর ধরে রাজ্য সরকার আমাদের অঞ্চলে ভোট করেনি। এভাবে জনগণকে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। পঞ্চায়েত সম্পর্কিত উন্নয়ন তহবিল ও বিভিন্ন প্রকল্পে আমাদের অঞ্চলকে পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও রাজ্য সরকার পঞ্চায়েত ভোট করেনি। এখন জিটিএ চাপিয়ে দিচ্ছে।

    পাহাড়ে গণতন্ত্র নেই বলেও অভিযোগ করেন সাংসদ। বলেন, এই অঞ্চলে গণতন্ত্র নেই। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোট হয় না। রাজুর অভিযোগ, ভোট হয় তৃণমূলের ক্যাডারদের কাজে লাগিয়ে। বিজেপি সাংসদ বলেন, এটা সকলের কাছে স্পষ্ট যে, জিটিএ দার্জিলিং পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্সের মানুষের সুবিধার জন্য নয়। এটি আমাদের অঞ্চলের মানুষের আকাঙ্খা পূরণ করতে পারে না। আমাদের অঞ্চলের উন্নয়নও করতে পারে না। তৃণমূলের শাসনে আমাদের এলাকায় কোনও উন্নয়ন হয়নি। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা বৈষম্যের শিকার। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল আমাদের অঞ্চল ও মানুষের উন্নতির জন্য কখনও আন্তরিক নয়।

     

LinkedIn
Share