মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে গুজরাট এটিএস ( Gujarat Anti-Terrorist Squad)। ধৃতরা হল—ইরফান কালেখান পাঠান (২২), পাটন জেলার সিদ্ধপুরের বাসিন্দা এবং মুরশিদ জাহিদ আখতার শেখ (২১), মুম্বইয়ের সাকিনাকা এলাকার বাসিন্দা। তদন্তকারীদের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এরা চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়াচ্ছিল এবং যুবকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল। আরএসএস স্বয়ংসেবকদের টার্গেট করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এই দুই যুবককে।
ডিজিটাল নজরদারিতে বড় সাফল্য
এটিএস জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে সন্দেহজনক কার্যকলাপের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। সেই সময় ইরফান পাঠানের কার্যকলাপ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে আইএসআইএস-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পাঠান ও তার সহযোগীরা ‘গাজওয়া-এ-হিন্দ’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত জঙ্গি নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছিল। বিভিন্ন রাজ্য থেকে যুবকদের নিয়োগ করে অস্ত্র চালনা ও বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া কথোপকথনে রাজনৈতিক নেতা এবং আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের টার্গেট করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে।
বিদেশি যোগাযোগ ও অর্থের খোঁজ
এটিএসের দাবি, পাঠান পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে অস্ত্র পাচারের জন্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল। সম্ভাব্য অর্থের উৎস ও বিদেশি সাহায্যের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে মুরশিদ শেখের নাম সামনে আসে। গুজরাট এটিএস ও মহারাষ্ট্র পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে মুম্বই থেকে আটক করা হয়। তার মোবাইল থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কথোপকথন উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ষড়যন্ত্র (ধারা ৬১) এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা (ধারা ১৪৮)। আদালত দু’জনকেই ১১ দিনের এটিএস হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তিদের খোঁজে তদন্ত চলছে।
