Tag: Gwadar Port

  • India Indonesia Relationship: চিনের ‘মুক্তোর মালা’ কৌশলের পাল্টা জবাব? ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর ঘিরে ভারতের নতুন কৌশল, বাড়ছে দিল্লির সামুদ্রিক শক্তি

    India Indonesia Relationship: চিনের ‘মুক্তোর মালা’ কৌশলের পাল্টা জবাব? ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর ঘিরে ভারতের নতুন কৌশল, বাড়ছে দিল্লির সামুদ্রিক শক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত মহাসাগরকে ঘিরে গত কয়েক দশক ধরে ক্রমশ বেড়েছে চিন এবং ভারতের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা। একদিকে চিন বিভিন্ন দেশে বন্দর নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছে, অন্যদিকে ভারতও ধাপে ধাপে নিজের সামুদ্রিক অবস্থান শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দরকে ঘিরে ভারত- ইন্দোনেশিয়া সহযোগিতা (India Indonesia Relationship) নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।

    সাবাং বন্দর (Sabang Port)

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাবাং বন্দর (Sabang Port) শুধু একটি বন্দর নয়, বরং ভারত মহাসাগর ও পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও এটি ভারতের কোনও সামরিক ঘাঁটি নয়, তবুও এর ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কী এই ‘মুক্তোর মালা’ কৌশল?

    আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলে ‘মুক্তোর মালা’ নামে পরিচিত একটি ধারণা রয়েছে। এই ধারণা অনুযায়ী, চিন ভারত মহাসাগর অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তুলে একটি বিস্তৃত সামুদ্রিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। পাকিস্তানের গওয়াদর বন্দর, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর, মিয়ানমারের কিয়াউকফিউ, আফ্রিকার জিবুতিতে নৌ-সুবিধা, সব মিলিয়ে চিন তার উপস্থিতি ক্রমশ বাড়িয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, এগুলি মূলত বাণিজ্যিক প্রকল্প। তবে বহু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করেন, এই পরিকাঠামো ভবিষ্যতে কৌশলগত সুবিধাও দিতে পারে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ সাবাং বন্দর?

    সাবাং বন্দর (Sabang Port) ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের ওয়েহ দ্বীপে অবস্থিত। এর সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হল, এটি মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখের খুব কাছাকাছি। মালাক্কা প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ। পশ্চিম এশিয়া থেকে পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের সঙ্গে এশিয়ার বাণিজ্যের বড় অংশ এই পথ দিয়েই হয়। প্রতিদিন অসংখ্য পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করে। এই কারণেই সাবাং বন্দরের অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    ভারত-ইন্দোনেশিয়া সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইন্দোনেশিয়া সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে সাবাং বন্দর (Sabang Port) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়। এরপর থেকে সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এই সহযোগিতার আওতায় বন্দর উন্নয়ন, জাহাজের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা এবং সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহযোগিতা ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ককে (India Indonesia Relationship) নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    ভারতের কী লাভ?

    সাবাং বন্দরের (Sabang Port) অবস্থান ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের তুলনামূলক কাছাকাছি। ফলে এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত সমন্বয় আরও শক্তিশালী হতে পারে। ভারতীয় জাহাজ প্রয়োজনে সেখানে পরিষেবা পেতে পারে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান এবং সমুদ্রপথে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগরে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে এমন সহযোগিতা ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে।

    ভারতের অবস্থান

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত শুধু স্থল সীমান্ত নয়, সমুদ্র নিরাপত্তার উপরও বিশেষ জোর দিয়েছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, একাধিক দেশের সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সহযোগিতা, সব মিলিয়ে ভারত ধাপে ধাপে নিজের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। জাপান, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামুদ্রিক সহযোগিতাও আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে।

    চিনের সরাসরি জবাব?

    এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, সাবাং বন্দরকে (Sabang Port) ঘিরে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তবে অন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সাবাং কোনও ভারতীয় সামরিক ঘাঁটি নয় এবং এর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ইন্দোনেশিয়ার হাতেই।

    কেন বাড়ছে ভারতের গুরুত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এখন এমন একটি কৌশল অনুসরণ করছে, যেখানে প্রতিবেশী ও অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সাবাং বন্দর সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই একটি অংশ। ভারত মহাসাগরে নিরাপদ বাণিজ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়েও ভারত সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।

    পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক

    সাবাং বন্দরকে ঘিরে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার (India Indonesia Relationship) সহযোগিতা শুধু একটি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কেরও প্রতীক। এটি ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে এটিকে চিনের বিরুদ্ধে সরাসরি পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং ভারতের বৃহত্তর সামুদ্রিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখাই তথ্যভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন।

  • Balochistan Liberation Army: পাক সেনা বালোচ জঙ্গিদের ভিন্ন মত! সত্যি আড়াল করছে পাকিস্তান, কী অবস্থা জাফর এক্সপ্রেসের?

    Balochistan Liberation Army: পাক সেনা বালোচ জঙ্গিদের ভিন্ন মত! সত্যি আড়াল করছে পাকিস্তান, কী অবস্থা জাফর এক্সপ্রেসের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক সেনা সকালে দাবি করেছে, অভিযান শেষ। জঙ্গি মুক্ত জাফর এক্সপ্রেস (Pakistan Train Hijack)। মুক্ত সমস্ত পণবন্দী। ঘটনায় ৩৩ জঙ্গি নিহত হয়েছে। তারপরই বালোচদের পাল্টা ঘোষণা, পাক সেনা মিথ্যে কথা বলছে। বালোচ লিবারেশন আর্মির (Balochistan Liberation Army) পাল্টা দাবি, ১৫৪ জন বন্দী এখনও তাদের কবজায় আছে। সব মিলিয়ে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দাবি, পাল্ট দাবিতে উত্তপ্ত পাকিস্তান।

    পাক সেনার দাবি

    পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ জানান, সশস্ত্র বাহিনী সব জঙ্গিকে হত্যা করেছে। সব যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করে বুধবার সন্ধ্যায় সফলভাবে অভিযান শেষ করেছে সেনা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ৩৩ জঙ্গির সবাই নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, “খবর পাওয়ার পরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। খুব সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হয়েছে। কারণ বিএলএ জঙ্গিরা স্যাটেলাইট ফোনে আফগানিস্তানে তাদের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল।’’ ট্রেনে মহিলা ও শিশুদের নিরাপদে বের করে আনাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমেই আত্মঘাতী জঙ্গিদের খতম করে পাকিস্তানি সেনার স্নাইপাররা। যাতে আচমকা বিস্ফোরণে তারা গোটা ট্রেন উড়িয়ে দিতে না পারে। এরপর একে একে ট্রেনের সমস্ত কামরা খালি করা হয়। নির্মূল করা হয় বালোচ জঙ্গিদের। বিএলএ যাত্রীদের মানবঢাল বানিয়ে রেখেছিল। তাই যে কোনও মূল্যে সাধারণ মানুষকে বাঁচানোই পাকিস্তানি সেনার প্রথম কাজ। এমনটাই বলেছেন আহমেদ শরিফ।

    মুক্ত পণবন্দির দাবি

    হামলা থেকে কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরেছেন মুশতাক মহম্মদ। তিনি বলেন, “আচমকাই বিশাল বিস্ফোরণ হল। তারপরই এলোপাথাড়ি গুলি চলতে শুরু করল। এই দৃশ্য আজীবন মনে থাকবে।” জাফর এক্সপ্রেসে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পেশোয়ার যাচ্ছিলেন ইশাক নূর। তিনি বলেন, “গুলির আওয়াজ পেতেই সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরি। স্ত্রীও তাই করেন। গুলি লাগলে আমাদের লাগুক। সন্তানদের যেন কিছু না হয়।’’ মুশতাক জানান, জঙ্গিরা সবার পরিচয়পত্র খুঁটিয়ে দেখে কয়েকজনকে আলাদা সরিয়ে নিয়ে যায়। তাঁর কথায়, “আমাদের কামরার সামনে ৩ জন জঙ্গি পাহারায় ছিল। তারা বলে দিয়েছিল, সাধারণ নাগরিক, বৃদ্ধ, মহিলা এবং বালোচদের কোনও ক্ষতি হবে না।’’ সন্ধ্যা নাগাদ বন্দীদের এক এক করে ছাড়তে শুরু করে বিএলএ। মুক্ত পণবন্দিদের কথায়, ট্রেনের ভিতর সারি সারি লাশ পড়ে রয়েছে। অভিযানের সময় যাঁরা নিহত হয়েছেন বলে অনুমান।

    বালোচ লিবারেশন আর্মির দাবি

    বিএলএ দাবি করেছে যে ট্রেনে মোট ৪২৬ জন যাত্রী ছিল, যার মধ্যে ২১৪ জন পাকিস্তানি সেনা ছিল। বিএলএ জানিয়েছে, তারা ৬০ জন সৈন্যকে হত্যা করেছে এবং ১৫০ জন এখনও তাদের হেফাজতে রয়েছে। এর সাথে সাথে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণে তিনজন বিএলএ কমান্ডারও নিহত হয়েছেন। বিপরীতে, পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে যে তাদের সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনী অভিযান সম্পন্ন করেছে, ২১ জন যাত্রী এবং ৪ জন সৈন্য নিহত হয়েছে। পাকিস্তান বলছে যে ৩৩ জন বিএলএ যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং ২১২ জন নাগরিককে কোনও ক্ষতি ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

    কূটনৈতিক মহলের অনুমান

    পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং সরকারের আর বালোচিস্তানের উপর নিয়ন্ত্রণ নেই, বলে মনে করছে বিশ্ববাসী। বালোচিস্তানের ৬-৭টি জেলা সম্পূর্ণরূপে সন্ত্রাসবাদীদের নিয়ন্ত্রণে। পাকিস্তান সরকার বা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। অনেকের মতে, বালোচিস্তান এবং সিন্ধ প্রদেশের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি এখন একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে এই যৌথ বাহিনী। বালোচিস্তানে ট্রেন হাইজ্যাক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

  • Pakistan Train Hijack: পাকিস্তানে আস্ত ট্রেন হাইজ্যাক করল বালুচ জঙ্গিরা, পণবন্দি শতাধিক যাত্রী

    Pakistan Train Hijack: পাকিস্তানে আস্ত ট্রেন হাইজ্যাক করল বালুচ জঙ্গিরা, পণবন্দি শতাধিক যাত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালুচিস্তানে আবার জঙ্গি হামলা। একটি ট্রেন লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে, ট্রেন চালককে জখম করে যাত্রী ও নিরাপত্তা রক্ষীদের পণবন্দি করেছে জঙ্গিরা। যাত্রীবোঝাই ট্রেন অপহরণ করে প্রায় ১০০ জনকে পণবন্দি করেছে স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র বালুচ গোষ্ঠী বিএলএ (বালুচ লিবারেশন আর্মি)। ঘটনার জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পাকিস্তান জুড়ে। নামানো হয়েছে সেনা। বালুচিস্তানের কোয়েট্টা থেকে ট্রেনটি খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারে যাচ্ছিল ট্রেনটি। সেই সময় চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। মঙ্গলবার এই খবর আসা মাত্রই প্রাদেশিক সরকার জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছে এলাকায়।

    পণবন্দি ১০০ যাত্রী

    বিএলএ-র তরফেও দাবি করা হয়েছে, ১০০ জন যাত্রী তাদের হাতে পণবন্দি! বালুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ বলেন, ‘‘পেহরো কুনরি এবং গাদালারের মাঝামাঝি যাত্রিবাহী ট্রেনটি অপহরণ করা হয়।’’ এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে ছু়ড়তে সশস্ত্র বালুচ বিদ্রোহীরা ট্রেনের দখল নেয় বলে তাঁর অভিযোগ। শাহিদ জানান, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, পাহাড় ঘেরা রেলপথের আট নম্বর টানেলের ভিতরে অপহৃত ট্রেনটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার জেরে ‘চূড়ান্ত সতর্কতা’ জারি করেছে বালুচিস্তান প্রাদেশিক সরকার। মনে করা হচ্ছে, অপহৃত ট্রেন দখলমুক্ত করতে অভিযানে নামতে পারে পাক সেনা। পাক রেল দফতরের আধিকারিক মহম্মদ কাশিফ জানিয়েছেন, ন’টি কোচবিশিষ্ট ট্রেনটিতে প্রায় ৫০০ যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি জঙ্গিদের পণবন্দি হয়েছেন।

    পাক সেনা অভিযান নয়

    পাক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুচ লিবারেশন আর্মি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই অপারেশন চালিয়েছে। মাশকাফ, ধাদর, বোলান এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটানো হয় রেললাইনে। সংগঠন বিবৃতিতে আরও বলে, এই বিস্ফোরণে রেললাইনে ফাটল ধরায় জাফফর এক্সপ্রেস থামতে বাধ্য হয়। ট্রেন মাঝপথে থেমে গেলে জঙ্গিদল ট্রেনের দখল নেয়। সংগঠনের দাবি, সব যাত্রী ও নিরাপত্তাকর্মীদের বন্দি করা হয়েছে। জঙ্গিদের আরও দাবি, এই হামলায় ৬ পাক সেনা নিহত হয়েছেন। কয়েকশো যাত্রী তাদের হেফাজতে রয়েছেন। পাকিস্তান কোনও ধরনের সেনা অভিযান চালালে সব যাত্রীদের খতম করার হুমকিও দিয়েছে সংগঠনটি।

LinkedIn
Share