মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর জেলায় পাঁচটি জিমকে কেন্দ্র করে চলা একটি ইসলাম ধর্মান্তর চক্রের (Mirzapur Gym Conversion Racket) পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। দুই হিন্দু নারী আলাদা আলাদা অভিযোগ (Police) দায়ের করে জানান, মুসলিম জিম প্রশিক্ষকেরা তাঁদের যৌন হয়রান করেছে, অর্থ আদায় করেছে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণে চাপ দিয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ভাদোহির এক পুলিশ কনস্টেবল ইরশাদ খানও এই ধর্মান্তর চক্রের সঙ্গে জড়িত।
ফরিদ আহমেদ (Mirzapur Gym Conversion Racket)
জিআরপি তার সহযোগী ফরিদ আহমেদ ‘আয়রণ ফায়ার’ ও ‘কেজিএন ২.০’ নামের জিম চালানোর আড়ালে ৫০ জনেরও বেশি তরুণীকে ফাঁদে ফেলেছিল বলে অভিযোগ। এর আগে মির্জাপুর কোতওয়ালি দেহাত পুলিশ মহম্মদ শেখ আলি আলম ও ফয়সাল খান নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল। খারঞ্জা ফলসের কাছে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর জিআরপি কনস্টেবল ইরশাদ খান এবং তার সহযোগী ফরিদ আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশের গুলি গিয়ে লাগে ফরিদের পায়ে। ফরিদের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে মির্জাপুর পুলিশ।
লাকি আলি খান
এদিকে, চক্রটির মূল হোতা আশফাক ওরফে লাকি আলি খান এবং তার ভাই ইমরান খানের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার জারি করা হয়েছে, যাতে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে। একই সঙ্গে পুলিশ দুই ভাইয়ের প্রত্যেকের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, কনস্টেবল ইরশাদ খান অবৈধ তোলাবাজি থেকে অর্জিত অর্থে দামি গাড়ি চালাতেন এবং একাধিক জিমের একটি চেইন গড়ে তুলেছিলেন (Mirzapur Gym Conversion Racket)। অভিযুক্ত মুসলিমদের পরিচালিত জিমে যেসব হিন্দু নারী যেতেন, তাঁদের বিশ্বাস অর্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ‘সান্নো’ নামের এক মুসলিম নারীকে (Police)।
‘কেরালা স্টোরি’
একটি তথাকথিত ‘কেরালা স্টোরি’ ধাঁচের ঘটনায়, সান্নো নামের ওই মুসলিম মহিলা চক্রটির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং হিন্দু মেয়েদের বিশ্বাস অর্জন করে তাঁদের ফাঁদে ফেলার কাজ করতেন। অভিযোগ, অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষরা হিন্দু মেয়েদের নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিত। কোনও ‘শিকার’ যদি একটি জিমে ফাঁদে না পড়তেন, তাহলে তাঁকে ফাঁদে ফেলার দায়িত্ব ন্যস্ত হত অন্য জিমের হাতে। ইসলামে ধর্মান্তরের লক্ষ্যে হিন্দু মেয়েদের টার্গেট করার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচটি জিম— কেজিএন-১.০, কেজিএন-২.০, কেজিএন ৩.০, বি-ফিট এবং আয়রন ফায়ার সিল করে দিয়েছে, যাতে প্রমাণ লোপাট না করা যায় (Mirzapur Gym Conversion Racket)।
জেলাশাসকের বক্তব্য
জেলাশাসক পবন কুমার গঙ্গওয়ার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব জিম পরিচালনার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর জিমগুলি সিল করে দেওয়া হয় (Police)। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ শত শত ছবি, ভিডিও ও চ্যাট-সহ গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ পেয়েছে। পুলিশ এই জিম-কেন্দ্রিক ইসলামি ধর্মান্তর চক্রের আর্থিক লেনদেনের সূত্রও খতিয়ে দেখছে। কেজিএন ২.০ জিমের মালিক অমিত দুবে জানান, জিমটি এই ধরনের বেআইনি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তা তিনি জানতেন না। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই জিমের দামি যন্ত্রপাতি ধর্মান্তরের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে কেনা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাত পর্যন্ত জিমে যাতায়াত ছিল মহিলাদের এবং সেখানে পার্টির আয়োজনও হত (Mirzapur Gym Conversion Racket)।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য
মির্জাপুরের পুলিশ সুপার সোমেন ভার্মা বলেন, “এটি কোতওয়ালি দেহাত এলাকার একটি মামলা। দুই মহিলা তাঁদের জিমের মালিক ও প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেছেন। জিমের মালিক ও অন্যদের বিরুদ্ধে নারীদের শোষণ, তোলাবাজি এবং অবৈধভাবে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আমরা বর্তমানে এই মামলার সব অভিযোগ তদন্ত করছি।” এদিকে, সিটি এএসপি নীতিশ সিং জানান, পাঁচটি জিমের মধ্যে চারটি পরিচালনা করতেন তিন ভাই ও তাঁদের এক জামাই। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বহু ভুক্তভোগীর মধ্যে দুজন অভিযোগ দায়ের করার পর। মির্জাপুর পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে তিনটি জিম সিল করে এবং মহম্মদ শেখ আলি আলম ও ফয়সাল খান নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে (Police)।
পৃথক অভিযোগ
কোতওয়ালি দেহাত থানায় পৃথক অভিযোগে দুই হিন্দু মহিলা জানান, মির্জাপুরে জিম ট্রেনার হিসেবে কর্মরত অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষরা প্রথমে তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে, পরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও তোলে। এমনকি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি এবং ভিডিও তৈরি করেও ব্ল্যাকমেল করা হয় এবং শেষে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হয় (Mirzapur Gym Conversion Racket)। ২০ জানুয়ারি নটওয়ান মিল্লত নগরের বাসিন্দা মহম্মদ শেখ আলি আলম এবং গোসাই তালাব এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ জাহির ও শাদাব নামের আরও দু’জনকে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ও আটক সকল অভিযুক্তই বিভিন্ন জিমের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং একটি সংগঠিত ‘লাভ জেহাদ’ নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল।
ঋণ নিয়ে ওটিপি চাইতে থাকত
অভিযুক্ত জাহির কেজিএন-১ জিমের মালিক। তবে তিনি যুক্ত ছিলেন কেজিএন-২, কেজিএন-৩ এবং আয়রন ফায়ার জিমের সঙ্গেও। যাঁরা অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাঁরা আগে কেজিএন জিমে যেতেন, সেখানেই অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষদের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। বি-ফিট জিমে যাওয়া এক অভিযোগকারী জানান, অভিযুক্ত শেখ আলি তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ধীরে ধীরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও তোলে। পরে তাকে ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায় করা হয়। এমনকি তার নামে ঋণ নিয়ে ওটিপি চাইতে থাকত অভিযুক্তরা (Mirzapur Gym Conversion Racket)। ভুক্তভোগীর দাবি, শেখ আলি আলম একাধিকবার তাকে বোরখা পরিয়ে ছবি তুলেছে এবং দিনে পাঁচবার নামাজ পড়তে বাধ্য করেছে। তাকে দরগায় নিয়ে গিয়ে কালমা পড়তে বাধ্য করা হয় এবং জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো হয়। ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে শেখ আলি আলম তাঁকে গালিগালাজ করে, অশ্লীল ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, জিম ট্রেনার ফয়সাল ও তার সহযোগীরাও এই ধর্মান্তর চক্রে যুক্ত।
৫০ জন হিন্দু মেয়েকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা
পুলিশের দাবি, এখন পর্যন্ত সিল করা পাঁচটি জিমে প্রায় ৫০ জন হিন্দু মেয়েকে ফাঁদে ফেলে শোষণ ও ব্ল্যাকমেল করা হয়েছে এবং তাদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরের চেষ্টা চলছিল। এখন পুলিশ শুধু অভিযুক্তদের কল ডেটা রেকর্ডই নয়, জিমগুলির অর্থায়নের উৎসও তদন্ত করছে। যদিও জিম ট্রেনারদের বেতন ছিল মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, তবু তারা দামি ব্র্যান্ডের পোশাক ও জুতো এবং দামী মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, মির্জাপুরের কয়েকজন (Police) প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিও এসব জিমে বিনিয়োগ করেছিলেন (Mirzapur Gym Conversion Racket)।



