Tag: Haldia Refinery

  • India Energy Week: কলকাতায় বসছে আন্তর্জাতিক শক্তি সম্মেলন, শিল্পে বিনিয়োগ- কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আশা শুভেন্দুর

    India Energy Week: কলকাতায় বসছে আন্তর্জাতিক শক্তি সম্মেলন, শিল্পে বিনিয়োগ- কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আশা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ আনা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবার কলকাতায় আয়োজিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক শক্তি ও জ্বালানি সম্মেলন ‘ভারত শক্তি সপ্তাহ’। আগামী বছরের ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি নিউ টাউনের সম্মেলন কেন্দ্রে বসবে এই আন্তর্জাতিক আসর। সোমবার সম্মেলনের প্রস্তুতিপর্বের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে কলকাতাকে (India Energy Week) আয়োজক শহর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। চার দিনের এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ এবং শক্তি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ করার কথা।

    রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি সরকার। সেই প্রেক্ষাপটে কলকাতায় এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন। অশোকনগরের তেল উত্তোলন প্রকল্প, হলদিয়া তৈল শোধনাগারের সম্প্রসারণ এবং সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রোপণের মতো একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশা, আগামী দিনে শক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়লে বাংলায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    কলকাতায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন (India Energy Week)

    ভারত শক্তি সপ্তাহ দেশের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক শক্তি ও জ্বালানিবিষয়ক প্রদর্শনী এবং সম্মেলন। এর আগে বেঙ্গালুরু, গোয়া ও দিল্লিতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী বছর প্রথমবার কলকাতায় বসতে চলেছে এর আসর। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে শক্তি নিরাপত্তা, নতুন প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পাবে।

    আয়োজকদের প্রত্যাশা, আগামী বছরের সম্মেলনে ৭৫ হাজারের বেশি শক্তি বিশেষজ্ঞ ও পেশাদার এবং ৭০০-র বেশি আন্তর্জাতিক প্রদর্শক অংশ নেবেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্প সংস্থা, নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের এক মঞ্চে নিয়ে আসার পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাও এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    একাধিক প্রকল্প

    সোমবারের অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের শক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু। অশোকনগরের তেল উত্তোলন প্রকল্প এবং হলদিয়া তৈল শোধনাগারের নতুন ইউনিটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অশোকনগরে তৈল উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে। এখন বাংলা মোদিজির হাত ধরে দেখছে কীভাবে কাজ করতে হয়। হলদিয়ায় রিফাইনারির নতুন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।”

    অশোকনগরের প্রকল্পকে ঘিরে রাজ্যের জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি হলদিয়া তৈল শোধনাগারের সম্প্রসারণের ফলে শিল্প পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলেই তাঁর প্রত্যাশা। এই ধরনের প্রকল্পের সঙ্গে পরিবহণ, নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পও যুক্ত থাকে। ফলে নতুন বিনিয়োগ এলে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে (India Energy Week)।

    সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রোপণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। শিল্প সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

    পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর

    শিল্পায়নের প্রসঙ্গ উঠতেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে আগের সরকার রাজ্যে একাধিক শিল্প প্রকল্প চালু করতে দেয়নি। ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    শুভেন্দু বলেন, “আগের সরকার একাধিক প্রকল্প চালু করতে দেয়নি। আমরা এবার অনেক পরিকল্পনা করেছি। সবটা সফল হবে। এই সেক্টরে আগামী দিনে অনেক লগ্নি আসবে, প্রকল্পগুলির সম্প্রসারণ ও অনেক কর্মসংস্থান হবে।” তবে নতুন প্রকল্পগুলিতে কত টাকা বিনিয়োগ হবে কিংবা ঠিক কত মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সামনে আসেনি। আগামী দিনে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগের পরিমাণের উপরেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে (Suvendu Adhikari)।

    বাংলায় শিল্পায়ন নিয়ে আশাবাদী পুরী

    সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলায় এত বছরে কী হয়েছে ভেবে লাভ নেই। এবার শুভেন্দু আছেন। বাংলায় শিল্প আসবে। মোদিজির দেখানো পথে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তিনি।”

    সোমবারের অনুষ্ঠানে দেশের শক্তি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে হলে এখন থেকেই পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার উপর জোর দেন (India Energy Week) তিনি।

    আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ

    কলকাতায় এই সম্মেলনের আয়োজনকে ঘিরে রাজ্যের শিল্পমহলেও নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্মেলনে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, জৈব জ্বালানি এবং আধুনিক শক্তি প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলির যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগও থাকবে। বিশেষত হলদিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলে নতুন প্রকল্প এবং সহযোগী শিল্পের সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে শক্তি ক্ষেত্রে নয়া প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশের উপর প্রভাব কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলিও গুরুত্ব পাবে। কলকাতায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের ফলে রাজ্যের হোটেল, পরিবহণ, পর্যটন এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই আয়োজন রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে সম্মেলন থেকে বাস্তবে কতগুলি বিনিয়োগ প্রস্তাব ও প্রকল্প কার্যকর হয় তার উপর (Suvendu Adhikari)। আগামী বছরের জানুয়ারিতে চার দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দিকে তাই নজর থাকবে রাজ্য প্রশাসন ও শিল্পমহলের। অশোকনগর ও হলদিয়ার মতো চালু প্রকল্পগুলি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের (India Energy Week) প্রস্তাব কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটাই হবে আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

     

  • ONGC: জুলাই থেকেই অশোকনগরে শুরু হচ্ছে বাণিজ্যিক তেল উত্তোলন! উত্তর ২৪ পরগনার প্রকল্পে নয়া আশা

    ONGC: জুলাই থেকেই অশোকনগরে শুরু হচ্ছে বাণিজ্যিক তেল উত্তোলন! উত্তর ২৪ পরগনার প্রকল্পে নয়া আশা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের মাস্টারস্ট্রোক! উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের (Ashokenagar) বাইগাছি এলাকা থেকে জুলাই মাসের শেষের দিক থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খনিজ তেল উত্তোলনের কাজ (ONGC)। অন্তত সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সংস্থা ওএনজিসি। ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যিক উৎপাদনেরও পরিকল্পনা রয়েছে এই সংস্থার। প্রকল্পটি পুরোদমে চালু হয়ে গেলে অশোকনগর পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উত্তোলন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

    তেল উত্তোলন শুরুর পরিকল্পনা (ONGC)

    এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই প্রায় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। অশোকনগরে সব মিলিয়ে মোট সাতটি কুয়ো খোঁড়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বাইগাছির একটি কুয়ো থেকেই তেল উত্তোলন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ওএনজিসির। পাশাপাশি ভুরকুন্ডা, দৌলতপুর-সহ আশপাশের এলাকায় আরও কুয়ো খোঁড়ার কাজ চলছে। রানাঘাটেও খনিজ তেলের সম্ভাবনার সন্ধান মিলেছে বলেও জানা গিয়েছে।বাইগাছিতে ২০১৮ সালে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য ভান্ডারের সন্ধান মেলে। পরে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সময় একটি কূপ থেকে প্রায় ৩৭৫ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এখানকার অপরিশোধিত তেলের মান অত্যন্ত উন্নত এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ সমুদ্রবর্তী তৈলক্ষেত্রের তেলের সঙ্গে তার গুণগত মিলও রয়েছে।

    জোর কদমে চলছে কাজ

    সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগর থেকে উত্তোলিত অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের জন্য হলদিয়ার শোধনাগারে পাঠানো হবে। বর্তমানে প্রায় আড়াই কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত কুয়ো খোঁড়ার কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই দু’কিলোমিটারেরও বেশি খোঁড়া হয়ে গিয়েছে (ONGC), এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ মিটার করে এগোচ্ছে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে বিশেষ ধরনের তেল উত্তোলন যন্ত্রের সাহায্যে নিয়মিত তেল তোলা হবে। সেই সঙ্গে প্রকল্পে যুক্ত করা হবে আরও আধুনিক প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি। এখন প্রকল্প এলাকায় দু’টি শিফটে কাজ করছেন শতাধিক কর্মী। নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকা উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। তবে প্রকল্পে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রয়োজন উন্নত রাস্তার। সেই কারণে প্রকল্প এলাকা থেকে হাবড়া-নৈহাটি সড়ক পর্যন্ত নয়া রাস্তা নির্মাণ এবং আলোকসজ্জা-সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    কী বলছে বিজেপি?

    এদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাবে প্রকল্পের কাজ আটকে ছিল। সম্প্রতি প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মেলার পর কাজের গতি বেড়েছে। তাঁর বক্তব্য, সংসদে বিষয়টি একাধিকবার উত্থাপন এবং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের ফলেই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। শমীকের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু হলে রাজ্যের রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে, তেমনই অশোকনগর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় শিল্পের প্রসার, কর্মসংস্থান এবং (Ashokenagar) সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নয়া সুযোগ তৈরি হবে। দেশের জ্বালানি (ONGC) উৎপাদনেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

LinkedIn
Share