Tag: Hamas

Hamas

  • Bangladesh: বাংলাদেশজুড়ে কালেমাখচিত কালো-সাদা পতাকার দাপাদাপি, কারা ওড়াচ্ছে এসব ঝান্ডা?

    Bangladesh: বাংলাদেশজুড়ে কালেমাখচিত কালো-সাদা পতাকার দাপাদাপি, কারা ওড়াচ্ছে এসব ঝান্ডা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশজুড়ে (Bangladesh) ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেই নতুন করে চর্চায় এসেছে কালেমাখচিত কালো-সাদা পতাকার (Kalema Flags) দাপাদাপি। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফরিদপুর, মিরপুর-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই সব পতাকা টাঙানো এবং মিছিল-সমাবেশে বহন করার ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে এক লপ্তে অনেকখানি। কারণ, একই ধরনের পতাকা অতীতে আল-কায়েদা, ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীরের মতো জঙ্গি সংগঠনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হত।

    কালেমাখচিত পতাকা (Bangladesh)

    জানা গিয়েছে, গত ১৭ জুন ঢাকার একটি ফ্লাইওভারে প্রথম কালেমাখচিত পতাকা দেখা যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যায় এই ঝান্ডার রমরমা। সড়ক, আবাসিক এলাকা মায় সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এই জাতীয় পতাকাকে পতপত করে উড়তে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, মোটরসাইকেলে শোভাযাত্রা এবং ধর্মীয় সমাবেশেও একই ধরনের পতাকা বহন করা হচ্ছে। সেই ভিডিও-ও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সুকৌশলে। এমনই ছবি নজরে এসেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

    দু’ধরনের পতাকা

    মূলত দু’ধরনের পতাকা বেশি দেখা যাচ্ছে। একটি সাদার পটভূমিতে কালো অক্ষরে লেখা, আর, অন্যটিতে কালোর পটভূমিতে সাদা অক্ষরে আরবি ভাষায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বা ইসলামের কালেমা লেখা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাদা-কালো নকশার এই পতাকাগুলির একটির সঙ্গে তালিবানের, এবং অন্যটির সঙ্গে আল-কায়েদা, আইএস এবং হিজবুত তাহরীরের ঝান্ডার মিল রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এসব নিশান ওড়ানোর সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনও জঙ্গি সংগঠনের সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ মেলেনি (Kalema Flags)। কিছু মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ‘তাওহিদী জনতা’ নামে পরিচয় দিয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহে এই ব্যানারে দেশের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক সমাবেশ হয়েছে। একটি শোভাযাত্রায় প্যালেস্তাইনের পতাকাও দেখা গিয়েছে। গত বছর ‘তাওহিদী জনতা’ ঘনিষ্ঠ কিছু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মাজার, সুফি প্রতিষ্ঠান এবং বাউল সমাবেশে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল (Bangladesh)।

    হিজবুত তাহরীরের তৎপরতা

    এদিকে, হিজবুত তাহরীরের সাম্প্রতিক তৎপরতাও নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়েছে। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকারের সময় সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ডামাডোলের পর তাদের কার্যকলাপ বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। গত বছর ঢাকার জাতীয় মসজিদের সামনে ‘মার্চ ফর খিলাফত’ কর্মসূচিতে দু’হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল। যদিও বর্তমানে ঝান্ডা প্রদর্শনের ঘটনায় হিজবুত তাহরীরের যোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে হামাসের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্যালেস্তাইনের প্রতি জনসমর্থন থাকা স্বাভাবিক হলেও, বিদেশি জিহাদি মতাদর্শের পক্ষ্মবিস্তার নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগজনক হতে পারে (Bangladesh)।

    কী বলছেন উদ্যোক্তারা?

    এদিকে, দিনাজপুরে আয়োজিত একটি শোভাযাত্রার উদ্যোক্তাদের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং ইসলামের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। আয়োজকদের একজন মুফতি আবু বকর সিদ্দিক। তিনি জানান (Kalema Flags), তারা মানুষের হৃদয়ে কালেমার বার্তা পৌঁছে দিতে চান। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে অতিরিক্ত উন্মাদনা থেকে মানুষকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তাঁরা। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও কালেমাখচিত পতাকার প্রচার বেড়েছে। বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক ফেসবুক পেজ এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এসব পতাকা বিক্রি ও প্রচারের তথ্য সামনে এসেছে। একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম-সংশ্লিষ্ট নেতা মুফতি হারুন ইজহারের একটি পুরোনো ভিডিওও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি তরুণদের বিভিন্ন স্থানে কালেমার পতাকা টাঙানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, “যদি এসব পতাকাকে জঙ্গিবাদের প্রতীক বলা হয়, তবে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের পতাকাও নামিয়ে ফেলতে হবে।”

    উগ্রপন্থীদের ‘রিহার্সাল’! 

    এদিকে, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের অন্যতম নেতা তথা সাংসদ হাসনাত আবদুল্লাকে আল-কায়েদার মতো দেখতে একটি পতাকার সঙ্গে দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য এখনও মেলেনি (Bangladesh)। বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে জানান, একটি গোষ্ঠী সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে বিদেশি উগ্রবাদী সংস্কৃতিকে মূলধারায় আনার চেষ্টা করছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে উগ্রবাদী সংগঠনের উপস্থিতি জানান দেওয়ার একটি ‘রিহার্সাল’-ও হতে পারে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তাই বিষয়টি নয়াদিল্লির কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে দুই দেশেই দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। যদিও, এখনও পর্যন্ত সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনকে দায়ী করেনি। তদন্ত শেষ না (Kalema Flags) হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানেই রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (Bangladesh)।

  • NIA: পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনে হামাস-যোগ! কী বলছেন এনআইএর তদন্তকারীরা?

    NIA: পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনে হামাস-যোগ! কী বলছেন এনআইএর তদন্তকারীরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ হিন্দু পর্যটক খুনের তদন্ত করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, সংক্ষেপে এনআইএ (NIA)। ইতিমধ্যেই তারা চার্জশিটও জমা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে লস্কর-ই-তইবা (LeT), দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM), আল-কায়েদা (Al-Qaeda) ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠী, হামাস (Hamas) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য সম্পর্ক (Pahalgam Terror Attack Case) নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনআইএ।

    খতিয়ে দেখা হচ্ছে হামাস যোগ (NIA)

    চার্জশিটে প্যালেস্তাইনের জঙ্গি গোষ্ঠী হামাসের উল্লেখ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।  কারণ এই প্রথম পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য কার্যকরী সম্পর্কের তদন্তে এনআইএ এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে হামাসের নাম উল্লেখ করেছে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত একটি মামলায়।তদন্তকারীরা জানান, তদন্তের এই অংশটি (হামাস যোগ) আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত সংগঠনগুলির সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সম্পর্কের প্রকৃতি, পরিসর ও ব্যাপ্তি নির্ধারণের চেষ্টাও চলছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলি জম্মু-কাশ্মীরে ঘটে যাওয়া কোনও জঙ্গি কার্যকলাপে কোনও রকমের সাহায্য, সমর্থন বা প্রভাব বিস্তার করেছে কি না।

    যেসব তথ্য খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তদন্ত বৃহত্তর একটি চেষ্টার অংশ, যার উদ্দেশ্যই হল অভিযুক্ত সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ চিহ্নিত করা এবং সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক কীভাবে পরিবর্তিত ও বিকশিত হচ্ছে, তা বোঝা। এটা করতে গিয়েই এনআইএ একাধিক সূত্র অনুসরণ করছে (NIA)। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল প্রমাণ, আর্থিক লেনদেন এবং সীমান্তপারের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। এই সব তথ্য সম্ভাব্য সংযোগগুলির ব্যাপ্তি নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে। পহেলগাঁও হামলার পর গোয়েন্দা মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এনআইএ এই নয়া দিকটিতেই বেশি করে নজর দিচ্ছে। সূত্রের খবর, ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সম্প্রতি হামাস এবং পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন, যেমন লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রমাণ পেয়েছে।

    হামাসের আক্রমণের সঙ্গে মিল!

    এই পরিস্থিতিতে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই সংগঠনগুলির মধ্যে কোনও ধরনের সহযোগিতা, সমন্বয় বা কৌশল শেয়ার করা হয়েছিল কি না। শুধু তা-ই নয়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এও জানার চেষ্টা করছে, পহেলগাঁও হামলায় হামাস-স্টাইলের কোনও কৌশলগত বৈশিষ্ট্য ছিল কি না। জানা গিয়েছে, ওই হামলার পরিকল্পনা, টার্গেট ঠিক করা, এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু মিল দেখা গিয়েছে (Pahalgam Terror Attack Case)। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের ওপর হামাসের আক্রমণের সঙ্গেও এর তুলনা করা হয়েছে (NIA)। যদিও এসব সাদৃশ্য সম্পর্কে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তদন্তকারীরা বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে সব উপলব্ধ প্রমাণ মূল্যায়ন করে চলেছেন।

    এনআইএর চার্জশিট

    এনআইএর চার্জশিটে স্পষ্ট করা হয়েছে, সম্ভাব্য হামাস-যোগ প্রতিষ্ঠা করা এখনও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয়। আধিকারিকদের মতে, এই তদন্তের ফল পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক জেহাদি সংগঠনগুলির মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য দিতে পারে (Pahalgam Terror Attack Case)। কারণ এনআইএ পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর নেটওয়ার্কের পর্দা ফাঁস করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে (NIA)।

     

  • PM Modi: ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা! ভারতকে সঙ্গে নিয়ে নয়া ‘ষড়ভুজ জোটের’ প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, সঙ্গে আর কারা?

    PM Modi: ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা! ভারতকে সঙ্গে নিয়ে নয়া ‘ষড়ভুজ জোটের’ প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, সঙ্গে আর কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তার আগেই জেরুজালেম থেকে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক জোটের প্রস্তাব সামনে এসেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) যাকে তিনি “হেক্সাগন অফ অ্যালায়েন্স” (ষড়ভুজ জোট) বলেছেন, তার রূপরেখা প্রকাশ্যে এনেছেন। নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত জোটের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে (পশ্চিম এশিয়া) তাঁর ভাষায় “র‍্যাডিক্যাল অ্যাক্সিস” বা চরমপন্থী অক্ষশক্তির মোকাবিলা করা। তিনি ইজরায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাসের পাশাপাশি ভারতকে এই জোটের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইজরায়েলি বিদেশ দফতরের ২২ ফেব্রুয়ারির বিবৃতি অনুযায়ী, আরও কিছু আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশ এই কাঠামোর অংশ হতে পারে।

    ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনা (PM Modi)

    এই ঘোষণা এমন একটা সময়ে এল যখন ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনা বাড়ছে এবং পাকিস্তান ও সৌদি আরব ন্যাটোর ধাঁচে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে একত্রিত হয়েছে। এখানে তুরস্কও যোগ দিতে আগ্রহী। নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে মোদি ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এটি মোদির দ্বিতীয় ইজরায়েল সফর। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরকালে দুই নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করবেন। ২২ ফেব্রুয়ারির মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেতানিয়াহু এই ধারণার রূপরেখা তুলে ধরেন বলে ইজরায়েল সরকারের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কী বললেন নেতানিয়াহু

    নেতানিয়াহু বলেন, “আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের চারপাশে বা ভেতরে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলব—মূলত এটি হবে একটি হেক্সাগন জোট (PM Modi)।” তিনি বলেন, “এর মধ্যে থাকবে ভারত, আরব দেশসমূহ, আফ্রিকান দেশসমূহ, ভূমধ্যসাগরীয় দেশ (গ্রিস ও সাইপ্রাস) এবং এশিয়ার কিছু দেশ, যাদের নাম এখন উল্লেখ করছি না। আমি এটি সংগঠিতভাবে উপস্থাপন করব (Benjamin Netanyahu)।” নেতানিয়াহু বলেন, “উদ্দেশ্য হল এমন দেশগুলির একটি অক্ষ তৈরি করা, যারা চরমপন্থী অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং লক্ষ্য নিয়ে একমত। তা সে চরমপন্থী শিয়া অক্ষই হোক, যাকে আমরা কঠোরভাবে আঘাত করেছি, অথবা উদীয়মান চরমপন্থী সুন্নি অক্ষ। এই দেশগুলির দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা এবং আমাদের সহযোগিতা বড় ফল দিতে পারে, পাশাপাশি আমাদের স্থিতিস্থাপকতা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারে।”

    ‘হেক্সাগন’ জোটের আহ্বান

    এই কাঠামোর লক্ষ্য নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর করা (PM Modi)। প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহুর ‘হেক্সাগন’ জোটের আহ্বান তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি পশ্চিম ও দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান এক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। ভারত-ইউএই-ইজরায়েল-গ্রিস সমঝোতার আগের আলোচনা থেকে ভিন্নভাবে, এটি প্রকাশ্য কৌশলগত নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নেতানিয়াহু সরাসরি প্রতিপক্ষদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং উদ্দেশ্যও স্পষ্ট করেছেন (Benjamin Netanyahu)। ইজরায়েলের এই প্রস্তাব এমন একটা সময়ে এসেছে যখন সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত সৌদি-পাকিস্তান কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অঞ্চলজুড়ে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের “ইসলামিক ন্যাটো” (PM Modi)। নেতানিয়াহু এই নয়া জোটকে একটি পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “চরমপন্থী শিয়া অক্ষ, যাকে আমরা কঠোরভাবে আঘাত করেছি, এবং উদীয়মান চরমপন্থী সুন্নি অক্ষ—উভয়ের বিরুদ্ধেই।”

    “র‍্যাডিক্যাল শিয়া অক্ষ”

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, “র‍্যাডিক্যাল শিয়া অক্ষ” বলতে মূলত ইরান ও তার সহযোগী গোষ্ঠী যেমন হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের বোঝানো হয়েছে (Benjamin Netanyahu)। “উদীয়মান র‍্যাডিক্যাল সুন্নি অক্ষ” বলতে পশ্চিম এশিয়ায় আইএসআইএসের অবশিষ্টাংশ ও অন্যান্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক-সহ চরমপন্থী হুমকিকে বোঝানো হয়েছে। এই জোটের গুরুত্ব হল, এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভারত, ইউএই এবং ইজরায়েল বহু বছর ধরে সহযোগিতা করছে আব্রাহাম চুক্তি ও আই২ইউ২ (I2U2) গোষ্ঠীর মাধ্যমে। যদিও আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা চুক্তি ছিল না। প্রসঙ্গত, “হেক্সাগন” শব্দ ব্যবহার করে নেতানিয়াহু একটি কাঠামোবদ্ধ স্থাপত্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেখানে গ্রিস, সাইপ্রাস, এশিয়া এবং আফ্রিকার আরও কিছু দেশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে ভারতকে (Benjamin Netanyahu) কল্পনা করা হয়েছে প্রধান অংশীদার হিসেবে (PM Modi)।

     

  • IDF: ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির বেলুন ফুটো! ফের সংঘর্ষ শুরু ইজরায়েল-হামাসের

    IDF: ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির বেলুন ফুটো! ফের সংঘর্ষ শুরু ইজরায়েল-হামাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল ইজরায়েল ও হামাসের সঙ্গে। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচার করেছিলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি। তাঁর সেই অগ্রগতির বেলুন ফেঁসে গেল চুক্তির সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকায় প্যালেস্তাইনের সশস্ত্র জঙ্গিরা (Hamas) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর (IDF) ওপর হামলা চালায়। আইডিএফ এই ঘটনাকে চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। হামলায় আরপিজি ও স্নাইপার গুলি ব্যবহার করা হয়। এগুলি চালানো হয় তথাকথিত ইয়েলো লাইনের পূর্ব দিকে মোতায়েন করা সেনাদের লক্ষ্য করে। জানা গিয়েছে, শান্তি চুক্তি অনুযায়ী এই এলাকাটি ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণেই রয়ে গিয়েছে।

    জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে ব্যাপক হামলা আইডিএফের (IDF)

    জঙ্গি হামলার পর অবশ্য হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি ইজরায়েল। জঙ্গিদের জবাব দিতে দক্ষিণ গাজায় হামাসের জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে ব্যাপক বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ করে আইডিএফ। ২০টিরও বেশি জায়গায় হামলা হয়। এর মধ্যে সুড়ঙ্গপথ ও জঙ্গিদের ডেরাগুলিও ছিল। এই সংঘর্ষ এমন একটা সময়ে হল যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাজার অসামরিক নাগরিকদের ওপর হামাসের আসন্ন আক্রমণের বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছিল। জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে যখন এই হামলার ঘটনা ঘটে, তখন জঙ্গিরা পূর্ব রাফাহ অঞ্চলে থাকা আইডিএফ সেনাদের লক্ষ্য করে আরপিজি এবং স্নাইপার গুলি চালায়। আইডিএফ জানিয়েছে, যে সব সেনা হামলার শিকার হয়েছেন, তাঁরা ইয়োলো লাইনের পূর্ব পাশে হামাসের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী ওই এলাকায় জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংসের অভিযান চালাচ্ছিলেন।

    আইডিএফের উপযুক্ত জবাব

    ইজরায়েলি পক্ষে হতাহতের কোনও (IDF) খবর মেলেনি। তবে এই ঘটনা শুক্রবারের হামলার মতোই। সেদিনও রাফাহর একটি টানেল থেকে গুলিবর্ষণ এবং খান ইউনিস এলাকায় জঙ্গিদের এগিয়ে আসার ঘটনা ঘটেছিল। দুটি ক্ষেত্রেই বিমান হামলা চালিয়ে জবাব দেয় আইডিএফ।যদিও এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে হামাস। প্যালেস্তাইনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর দাবি, ঘটনাটি ইজরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঘটেছে। ওই অঞ্চলে কয়েক মাস ধরে আটকে থাকা তাদের সদস্যদের সঙ্গে তাদের কোনও যোগাযোগই নেই (Hamas)। হামাসের প্রবীণ কর্তা ইজ্জাত আল-রিশেক ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁর জোটের চাপের মুখে পড়ে প্রতিশ্রুতি এড়িয়ে যাচ্ছেন। হামাস-ঘনিষ্ঠ কিছু গণমাধ্যমের দাবি, এই হামলার লক্ষ্য ছিলেন ইয়াসির আবু শাবাব — যিনি কথিতভাবে ইজরায়েল-সমর্থিত একটি মিলিশিয়ার নেতা এবং নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ছিলেন।

    সিভিল ডিফেন্স সংস্থার দাবি

    দক্ষিণ কমান্ডের নেতৃত্বে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ গাজায় হামাসের ঘাঁটিগুলিতে পাল্টা বিমান হামলা চালায়। রাফাহ অঞ্চলে হুমকি দূরীকরণে ফোকাস করে এই অভিযান পরিচালিত হয় এবং তা দেইর আল-বালাহ সংলগ্ন এলাকায়ও সম্প্রসারিত হয়। অভিযানের সময় বেশ কয়েকটি সুড়ঙ্গ ও জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহৃত ভবন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়। ইজরায়েল ২০টিরও বেশি টার্গেটে আঘাত হানে (IDF)। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, রবিবার সারা দিনে ইজরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছে, এর মধ্যে ছ’জন উত্তরাঞ্চলে। নেতানিয়াহু জঙ্গি টার্গেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ সতর্ক করে বলেন, “হামাস কোনও নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং প্রয়োজনে এর জবাবে ধাপে ধাপে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে (Hamas)।”

    ইয়েলো লাইন চিহ্নিতকরণ শুরু

    একই সময়ে কাটজের নির্দেশ, আইডিএফ ইয়েলো লাইন চিহ্নিত করা শুরু করেছে, হলুদ কংক্রিটের ব্লক ও সাইনবোর্ড স্থাপন করে, যাতে সীমানা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে এবং কেউ যেন সীমা অতিক্রম না করে সেই সতর্কবার্তা দেওয়া যায়। গত কয়েক দিনে আইডিএফ বাহিনী এই রেখা অতিক্রম করে হুমকি সৃষ্টির অভিযোগে বেশ কয়েকজন প্যালেস্তাইনিকে হত্যা করে (IDF)। সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা ইঙ্গিত দেয়, যদিও হামাস শান্তিচুক্তির পর বন্দিদের ফিরিয়ে দিয়েছে, তবুও এ অঞ্চলে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনও অনেক দূর (Hamas)। হামাস ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি ফর্মুলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধারা, যেমন, সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ও গাজায় রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে, ইজরায়েল সাফ জানিয়েছে, হামাস যদি চুক্তির সব ধারা মেনে না চলে, তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে (IDF)।

    প্রসঙ্গত, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হামাস জীবিত সব বন্দিকে মুক্তি দেয় এবং নিহত বন্দিদের দেহাবশেষ ফেরত দিতে শুরু করে। এর বিনিময়ে ইজরায়েল প্রায় ২ হাজার প্যালেস্তাইন বন্দি ও আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়। এর মধ্যে ২৫০ জন সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অপরাধে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ছিল। শনিবার ১৮ অক্টোবরের (Hamas) শেষ নাগাদ ২৮ জন নিহত বন্দির মধ্যে ১০ জনের দেহাবশেষ ফেরত এসেছে। ওই দিন আরও দু’জনের দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছে, যেগুলির আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণ বাকি ছিল (IDF)।

LinkedIn
Share