Tag: Hamim Mandal

  • Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    Hamim Mandal: হামিম-অর্পিতার পর পুলিশের জালে আদিত্য! ধৃত জঙ্গির জাল কত দূর? তদন্তে পর পর বিস্ফোরক তথ্য, বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি নাশকতার সম্ভাব্য ছক ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর হাতে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কেও নজরদারির অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকার গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার এই তদন্তেই হাওড়া থেকে আরও এক যুবক, আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের শিকড় আরও অনেক গভীরে বিস্তৃত।

    সাধারণ জীবনযাপনের আড়ালে নাশকতার ছক

    তদন্তে উঠে এসেছে, বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সাধারণ জীবনযাপন করলেও হামিম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে একটি আন্তর্জাতিক নাশকতা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ। গোয়েন্দাদের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি দিল্লির একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ ছিল তার কাছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের নির্দেশে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল। সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন ভিআইপি-র নিরাপত্তা, চলাচল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে ঘিরেও নাশকতার আশঙ্কা

    এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও অশান্তি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মসূচিকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হামিমকে পুলিশের ইউনিফর্ম সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসটিএফ-এর আইজি গৌরব শর্মা জানান, পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা ছিল, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার জন্য অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়েও সবুজ সংকেত মিলেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

    অর্পিতার ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে রহস্য

    তদন্তে হামিমের পাশাপাশি অর্পিতা সরকারের ভূমিকাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অস্ত্র সরবরাহের বিষয়েও পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের তরফে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, অর্পিতার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের একাধিক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘সেশন’ (Session) এবং ‘এলিমেন্ট এক্স’ (Element X) ব্যবহার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ‘রানা’, ‘উজেইর’, ‘আবিদ জাট৩৩৩’ এবং ‘হামাদ’ নামে কয়েকটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে দাবি। বিশেষ করে ‘আবিদ জাট’ এবং ‘হামাদ’ নামে দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে অর্পিতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    হাওড়া থেকে গ্রেফতার আদিত্য, তদন্তে নতুন মোড়

    এদিকে, এই মামলায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা আদিত্য সিং ওরফে রাজকে। আদিত্য উমেশচন্দ্র কলেজের বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এসটিএফ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আদিত্যের ভূমিকা থাকতে পারে। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে সে হামিমের কাছে পাঠিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার তদন্তকারীরা আদিত্যের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার ঘরে তল্লাশি চালান। আদিত্যের মা জানান, তাঁর ছেলে পড়াশোনা করত এবং এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

    মন্ত্রীকে হুমকি ফোনের তদন্ত থেকেই সূত্র

    তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ‘আবিদ জাট’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি শুধু মন্ত্রীকেই নয়, তাঁর ছেলেকে অপহরণেরও হুমকি দেয়। পাশাপাশি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য নিজেদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন মন্ত্রী। সেই তদন্তের দায়িত্ব পায় এসটিএফ। তদন্তের সূত্র ধরেই প্রথমে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডল, পরে ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার এবং সর্বশেষ হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন সম্ভাব্য টার্গেটে

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিম কিছুদিন নিউটাউন এলাকায় থেকেছিল এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াতের রুটে রেকি চালানোর অভিযোগ রয়েছে। কোন সময় নিরাপত্তা তুলনামূলক কম থাকে, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেরও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। একই সঙ্গে অর্পিতাকে তথাকথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর কাজে ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজ করত সে।

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    এসটিএফ-এর দাবি, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা চলছে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলমান। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই গোটা চক্রান্তের প্রকৃত পরিধি সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।

LinkedIn
Share