Tag: Haryana

Haryana

  • ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা আপডেট এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) তৃতীয় পর্যায়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা (ECI) থেকে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৩৪টি নাম বাদ দিয়েছে (SIR) ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসেব সামনে এসেছে। এই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে মোট ভোটার ছিলেন ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৭ হাজার ৮০৭ জন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁদের মধ্যে ১১.৫১ শতাংশের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

    যাঁরা বাদ গেলেন (ECI)

    বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে রয়েছেন এমন ভোটার, যাঁদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি, অন্যত্র চলে গিয়েছেন, মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে অথবা একাধিক জায়গায় তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল। ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও আপডেট রাখাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। তবে এখনও চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা নির্ধারিত হয়নি। খসড়া তালিকায় নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যোগ্য নাগরিকেরা নতুন করে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদনও করতে পারবেন। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সংখ্যায় আরও পরিবর্তন হতে পারে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ

    পরম সংখ্যার বিচারে অন্ধ্রপ্রদেশে সব চেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেখানে ৪৪.৮৯ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সংশোধনের আগে থাকা মোট ভোটারের ১০.৭৮ শতাংশ। এর ফলে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ১৬ লাখ থেকে কমে প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বাদ পড়া ৪৪.৮৯ লাখ নামের মধ্যে ২২.৩০ লাখ ভোটার অন্যত্র চলে গিয়েছেন অথবা তাঁদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৫.২২ লাখ ভোটারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ৭.৩৭ লাখ ভোটারের নাম একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় ছিল। নাম বাদ পড়ার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হরিয়ানা। সেখানে ৩৩.৮৩ লাখ নাম বাদ পড়েছে। ওড়িশায় বাদ পড়েছে ২০.১২ লাখ নাম। এদিকে, সিকিমে সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে—৩৭ হাজার ৭২৪টি। মিজোরামে বাদ পড়েছে ৪৬ হাজার ১৬২টি নাম।

    শতাংশের হিসাবে শীর্ষে দাদরা ও নগর হাভেলি

    মোট ভোটারের তুলনায় নাম বাদ পড়ার হারে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ। সেখানে ২৯.৬৪ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। এর পরেই রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ, যেখানে বাদ পড়ার হার ১৯.০৯ শতাংশ। হরিয়ানায় এই হার ১৬.৩৮ শতাংশ এবং চণ্ডীগড়ে ১২.৮ শতাংশ। মিজোরামে নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে কম—৫.২ শতাংশ। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে ওড়িশায় ৬.০২ শতাংশ, মণিপুরে ৭.৫ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ১০.৩৯ শতাংশ, মেঘালয়ে ৭.৬৭ শতাংশ এবং ঝাড়খণ্ডে ১৬.৪৮ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। সিকিমে আগের তালিকার ৮ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে (ECI)।

    ১৬ রাজ্য ও ৩ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে তৃতীয় পর্যায়

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে মোট ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এগুলি হল দিল্লি, ওড়িশা, মিজোরাম, সিকিম, মণিপুর, উত্তরাখণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, তেলঙ্গনা, পাঞ্জাব, কর্নাটক, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং দাদরা ও নগর হাভেলি ও দমন ও দিউ। এর মধ্যে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, তেলঙ্গনা, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই ও গণনার কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ওই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের খসড়া তালিকাও (SIR) এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়।

    একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই শেষ সংশোধন

    এর আগেই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ছত্তিশগড়, গোয়া, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লক্ষদ্বীপে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শেষ হয়েছে। অসমে অবশ্য নাগরিকদের জাতীয় পঞ্জি সংক্রান্ত আইনি বিষয় বিবেচনা করে পৃথকভাবে বিশেষ সংশোধন করা হয়েছে (ECI)। বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও চ্যালেঞ্জ করা হয়। চলতি বছরের মার্চে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন পরিচালনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে।

    তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলাকালীন নির্বাচন কমিশন ভোটারদের তথ্য যাচাই এবং ভোটার তালিকা আপডেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে তালিকায় থাকে এবং একই ব্যক্তির একাধিক নাম বা পুরনো ও অযোগ্য নাম যাতে তালিকায় না (SIR) থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকায় যোগ্য নাগরিকেরা নিজেদের নাম সংশোধন, সংযোজন বা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির (ECI) আবেদন করতে পারবেন।

     

  • Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের উপর হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, উৎসবে বাধা, হিংসা এবং (Hindus Under Attack) প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বহু ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং হিন্দু পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি বৈষম্যের বৃহত্তর চিত্রের অংশ (Roundup Week)। ১ থেকে ৮ অগাস্ট ২০২৬ সময়ের ঘটনাগুলির একটি সাপ্তাহিক সংকলনে এমনই কয়েকটি অভিযোগ ও বিতর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    বিবিসির সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    বিবিসির সাংবাদিক সৌতিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মুঘল শাসকদের অত্যাচারকে আড়াল করা থেকে শুরু করে দোষী সাব্যস্ত তথ্য-জালিয়াতদের পক্ষ নেওয়া পর্যন্ত এমন এক ধরনের বয়ান প্রচার করেছেন, যা ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এবং ইসলামপন্থী চরমপন্থাকে আড়াল করে। প্রতিবেদনে তাঁর সাংবাদিকতার ধরনকে হিন্দুবিদ্বেষী মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। হায়দরাবাদের দুধবাউলি এলাকার শান্তিনিকেতন হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে গুরুতর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বাধ্যতামূলক প্রাতঃকালীন সমাবেশে কয়েকশো অপ্রাপ্তবয়স্ক পড়ুয়ার সামনে একটি বিদেশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-সম্পর্কিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বহিরাগত অতিথিকে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিয়োকে ঘিরে অভিযোগ ওঠে, পড়ুয়াদের মধ্যে ইরানের জাতীয় পতাকা বিলি করা হয়েছিল এবং বিদ্যালয় চত্বরে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবি-সহ একটি পোস্টার প্রদর্শিত হয়েছিল। স্কুলের পরিবেশে এমন কর্মসূচির যথার্থতা নিয়ে এরপর প্রশ্ন ওঠে।

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক অধ্যাপক ভি কামাকোটিকে গোমূত্র বিশেষজ্ঞ বলে কটাক্ষ করার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি নিছক একটি রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়, বরং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিসরের একটি অংশে হিন্দু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি দীর্ঘদিনের অবজ্ঞার প্রকাশ। তাঁদের আরও অভিযোগ, হিন্দু ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস ও আচারকে বিদ্রূপ করার প্রবণতাও এর মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। পাঞ্জাবের মোহালি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন, শারীরিক অত্যাচার এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারী মোহালির ধাকোলি এলাকার এক হিন্দু মহিলা। তিনি মোহালির পুলিশ সুপারের দফতরে লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা মীর আরফাক আলি বিয়ের প্রতিশ্রুতির নামে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাঁকে একটি জবরদস্তিমূলক সম্পর্কে আটকে রাখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তড়িঘড়ি বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় (Hindus Under Attack)। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে বিহারের নিজের গ্রামে পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।

    শপিং মলে একী কাণ্ড!

    উত্তরপ্রদেশের ইন্দিরাপুরমের একটি শপিং মলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রায় ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হাতে বড় একটি ছুরি নিয়ে এক যুবক ক্যালিফোর্নিয়া বুরিটো খাবারের দোকানের এক হিন্দু মহিলা কর্মীকে পরপর চড় মারছেন। এক মহিলা সহকর্মী তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে তাঁকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। রাজস্থান-হরিয়ানা সীমান্তে গবাদি পশু পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় নুহ পুলিশ ৩০ বছর বয়সি জাবির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, জাবির দীগ জেলার পাহাড়ি থানার ঘাটমিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের পাল্টা গুলিচালনার সময় তাঁর বাঁ হাঁটুতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে নালহারের শহিদ হাসান খান মেওয়াতি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। তাঁর সহযোগী সাহুন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। তাঁকে ধরতে শুরু হয়েছে (Roundup Week) তল্লাশি। বেঙ্গালুরুর দেবরা জীবনহল্লি এলাকায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা এক সরকারি আধিকারিক কর্তব্যরত অবস্থায় আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। ঘটনায় দস্তগীর, ইয়ারব এবং ইকবালের বিরুদ্ধে পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

    বিদেশের ছবি

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক করিশ্মা রেড্ডির অভিযোগ, তাঁর নিজের কপালের টিপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর তিনি বর্ণবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হন। পেশায় প্লাস্টিক সার্জন করিশ্মা জানান, ভিডিওটিতে তিনি এক রোগীর সঙ্গে একটি হালকা মেজাজের কথোপকথনের ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আসতে শুরু করে। কয়েকজন ইউজার তাঁকে ভারতে ফিরে যেতে বলেন। উল্লেখ্য, করিশ্মার জন্ম ও বেড়ে ওঠা (Hindus Under Attack) যুক্তরাষ্ট্রেই।

    হিন্দুবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ

    বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিদ্বেষ বহু ঘৃণাজনিত অপরাধের অন্যতম চালিকাশক্তি। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও হিন্দুদের প্রতি অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায় বলেই অভিযোগ। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। তাই সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে এর প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে এর কারণ পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিবেদনের বক্তব্য, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির ক্ষেত্রে নীতির সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বিষয়টি অন্যভাবে দেখা যায় (Hindus Under Attack)।

    মনে রাখতে হবে, ওপরের ঘটনাগুলির বেশিরভাগই অভিযোগ, দাবি কিংবা বিতর্কের ভিত্তিতে উপস্থাপিত, সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি, আদালতেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন দাবিও এই প্রতিবেদনে করা হচ্ছে (Roundup Week) না।

     

  • Rashtra Sevika Samiti: সমালখায় রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির তিন দিনের বৈঠক শুরু, নারী জাগরণেই জোর

    Rashtra Sevika Samiti: সমালখায় রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির তিন দিনের বৈঠক শুরু, নারী জাগরণেই জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরিয়ানার পানিপথ জেলার সমালখায় (Samalkha) শুরু হয়েছে রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির (Rashtra Sevika Samiti) অখিল ভারতীয় কার্যকারিণী ও প্রতিনিধি মণ্ডলের প্রথম অর্ধবার্ষিক তিন দিনের বৈঠক। সমালখার মাধব স্মৃতি পরিষরে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের ৩৮টি প্রান্ত থেকে ৪৯৬ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। আগামী তিন দিনে সংগঠনের গত এক বছরের কাজের মূল্যায়ন, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, নারী জাগরণ, সমাজসেবা এবং সংগঠন সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

    প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে সূচনা

    হরিয়ানার পানিপথ জেলার সমালখার (Samalkha) মাধব স্মৃতি পরিষরে আয়োজিত বৈঠকের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমিতির (Rashtra Sevika Samiti) প্রধান সঞ্চালিকা শান্তাক্কা এবং প্রধান কার্যবাহিকা সীতা গায়ত্রী। বৈঠকের শুরুতে সংগঠনের প্রয়াত কর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত নাগরিক, শহিদ জওয়ান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    নারীর ভূমিকার উপর জোর

    উদ্বোধনী ভাষণে প্রধান কার্যবাহিকা সীতা গায়ত্রী বলেন, “ভারত আজ এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যখন উন্নত রাষ্ট্র বা বিকশিত ভারত গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ, সাংস্কৃতিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা দেশের রয়েছে। তবে এই লক্ষ্য পূরণে সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠাতা বন্দনীয়া লক্ষ্মীবাই মৌসিজি কেলকর যে নারী জাগরণের আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, গত ৯০ বছরে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সমিতি শতবর্ষের দিকে এগোচ্ছে এবং সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী দিনেও নারী নেতৃত্ব, চরিত্রগঠন ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উপর জোর দেওয়া হবে।”

    ৯০ বছরের পথচলার মূল্যায়ন

    বৈঠকে জানানো হয়, দীর্ঘ নয় দশকের যাত্রায় রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি (Rashtra Sevika Samiti) শুধু সাংগঠনিক বিস্তারই ঘটায়নি, সমাজজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নিজেদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে। নারীকে পরিবার, সমাজ এবং জাতি গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে।

    দেশজুড়ে পরিষেবা প্রকল্প

    বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২,৮৬৬টি পরিষেবা প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষা ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম, স্বাস্থ্য পরিষেবা, স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, যোগ ও ব্যক্তিত্ব বিকাশ কর্মসূচি, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক প্রকল্প।

    প্রশিক্ষণ শিবিরে ১৫ হাজারের বেশি সেবিকা

    চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২৫০টি প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ১৫,২৪১ জন সেবিকা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শারীরিক সক্ষমতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন রাজ্যের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ

    বৈঠকে বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষ কর্মকাণ্ডও তুলে ধরা হয়। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ বিরতির পর সফলভাবে পথ সঞ্চালনের আয়োজন, জম্মুতে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা, ছত্তীসগঢ়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মহিলাদের নিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির উদ্যোগ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাজসেবামূলক প্রকল্পের অভিজ্ঞতা প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হয়।

    আগামী তিন দিনের আলোচ্যসূচি

    তিন দিনের বৈঠকে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, পরিষেবা প্রকল্পের বিস্তার, বিভিন্ন প্রান্তের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি দেশের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতিতে নারীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও মতবিনিময় হবে। আগামী ২৬ জুলাই এই বৈঠক শেষ হওয়ার কথা। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Hydrogen Train: পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে নয়া বিপ্লব! দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী এর বিশেষত্ব?

    Hydrogen Train: পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে নয়া বিপ্লব! দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী এর বিশেষত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাস তৈরি করল ভারতীয় রেল। বৃহস্পতিবার দেশের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনের (Hydrogen Train) উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রাথমিকভাবে হরিয়ানায় ৮৯ কিলোমিটার দূরত্বের জিন্দ-সোনিপত রুটে চলবে দূষণমুক্ত আধুনিক ইকো-ফ্রেন্ডলি প্রযুক্তির এই ট্রেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হরিয়ানার জিন্দ রেলস্টেশন থেকে সবুজ পতাকা নেড়ে ওই পরিবেশবান্ধব ট্রেন যাত্রার সূচনা করেন। এর ফলে, হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন পরিচালনাকারী দেশগুলির তালিকায় নাম জুড়ে গেল ভারতের। এদিন জিন্দের একলব্য স্টেডিয়ামে প্রায় ১৪,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং উদ্বোধনও করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত

    ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন যাত্রার সূচনা করে এনডিএ সরকারের জমানায় নানা উন্নয়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে সঙ্কটের প্রসঙ্গ তুলে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের সঙ্কট হলেও আমাদের কোনও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়নি। ২০১৪-র আগে হরমুজ সঙ্কট হলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যেত!’’ পূর্বতন ইউপিএ সরকারের জমানায় জ্বালানি মজুত ও সরবরাহের বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল— এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেন মোদি।

    হাইড্রোজেন ট্রেনকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র উদাহরণ

    হাইড্রোজেন ট্রেনকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আদর্শ উদাহরণ বলেও চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে মোদির দাবি, তাঁর ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে দেশের ৯৯ শতাংশ রেলপথেরই বৈদ্যুতিকরণ হয়েছে। হাইড্রোজেন ট্রেনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার জিন্দের একলব্য স্টেডিয়াম থেকে কুরুক্ষেত্র অঞ্চলে নির্মিত এলিভেটেড রেলওয়ে ট্র্যাক জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। সেই সঙ্গে ১২,৪৭০ কোটি টাকার জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। ভিওয়ানির ‘পণ্ডিত নেকি রাম শর্মা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ’ এবং মহেন্দ্রগড়ের কোরিওয়াসে ‘মহর্ষি চ্যবন মেডিক্যাল কলেজ’ এবং ‘রাও তুলারাম হাসপাতাল’ হরিয়ানাবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। ঘটনাচক্রে, আর মাস সাতেক পরেই হরিয়ানার পড়শি রাজ্য পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মোদি শুক্রবার আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে শিখ ধর্মের ইতিহাস ও গুরুদের অবদান তুলে ধরার উদ্দেশ্যে নেটমাধ্যমে কুরুক্ষেত্রের ‘শিখ মিউজিয়াম’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

    কী বিশেষত্ব হাইড্রোজেন ট্রেনের?

    গত ২২ মে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন–চালিত ট্রেনে যাত্রী পরিবহণের অনুমোদন দিয়েছিল ভারতীয় রেল বোর্ড। জানানো হয়েছিল, এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন–চালিত ব্রডগেজ ট্রেন হতে চলেছে। হয়েছিল ট্রায়াল রানও। এ বার যাত্রী নিয়ে ট্র্যাকে ছুটবে রেল। হাইড্রোজেনকে বিশ্বের অন্যতম ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ হিসেবে ধরা হয়। তাই ইকো-ফ্রেন্ডলি পরিবহণের দুনিয়ায় নতুন দিশা খুলে যেতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। হাইড্রোজেন থেকে তৈরি হয় বিদ্যুৎ। তা দিয়েই ছুটবে এই ট্রেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয় না। বেরয় শুধু জলীয় বাষ্প। কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য বললেই চলে। এই কারণেই বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে ফসিল ফুয়েলের জায়গায় ধীরে ধীরে জায়গা নিচ্ছে হাইড্রোজেন জ্বালানি। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও চিনের মতো দেশে ট্রেন-বাস চলছে হাইড্রোজেনে। এ বার এই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে ভারতের নাম। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে এই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। রেল বোর্ডের তরফে এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘Hydrogen for Heritage’।

    হাইড্রোজেন ট্রেনে নীল রঙের নকশা

    ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের নীল রঙটি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন যাত্রীবাহী ট্রেনটি (যা ২০১৮ সাল থেকে জার্মানিতে চলছে) উজ্জ্বল নীল রঙের। কানাডা, জাপান এবং চীনে চলাচলকারী হাইড্রোজেন ট্রেনগুলোও নীল রঙের। আসলে, হাইড্রোজেন ট্রেন জলের (H₂O) সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। সাধারণ ট্রেন ডিজেল বা বিদ্যুতে চলে, কিন্তু হাইড্রোজেন ট্রেন সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে কাজ করে। এর জন্য ট্রেনের বিশেষ ট্যাঙ্কে হাইড্রোজেন গ্যাস ভরা হয়। ফুয়েল সেলে হাইড্রোজেন + অক্সিজেন বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে এবং শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প নির্গত হয়। এতে কোনও ধোঁয়া বা দূষণ হয় না, এবং একে সবুজ বা পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি বলা হয়। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলে যখন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিত হয়, তখন শুধু জল (H₂O) উৎপন্ন হয়। নীল রঙকে জল, আকাশ এবং পরিচ্ছন্নতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাপানের হাইবারি ট্রেনটিও নীল রঙের এবং এতে জলের নকশা রয়েছে। জার্মানির হাইড্রোজেন ট্রেন, কোরাডিয়া আইলিন্ট, সেটিও উজ্জ্বল নীল রঙের। ফলস্বরূপ, ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেনটিও নীল রঙের হবে।

    কোন কোন রুটে চলবে?

    হরিয়ানার জিন্দ (Jind) থেকে সোনিপত (Sonipat) পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার রুটে চলবে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। পথে পান্ডু পিন্দারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি হল্ট, বুটানা হল্ট, খান্দরাই হল্ট, রাবরাহ হল্ট, লাথ হল্ট, মোহানা এবং বারওয়াসনি হল্ট-সহ একাধিক স্টেশনে থামবে। ভারতীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, এই রুটে সফল যাত্রার পরে কালকা-শিমলা রুটেও চালু হতে পারে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন।

    কত হবে ট্রেনের গতি?

    ভারতীয় রেল জানিয়েছে, ২৪০০ কিলোওয়াটের ইঞ্জিন নিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিমি বেগে ছুটতে পারবে এই ট্রেন। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। জিন্দে হাইড্রোজেল রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি ভরা হবে। তবে শুধু গতি নয়, ট্রেনের ডিজ়াইন ও পরিষেবাতেও রয়েছে চমক। থাকছে দু’টি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রিবাহী কোচ। ২,৬০০ জন যাত্রী নিয়ে মোট ১০টি কোচ ছুটবে। প্রতিটি পাওয়ার কারে থাকছে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণের বিশেষ সিলিন্ডার। পাওয়ার কারগুলি ১,২০০ কিলোওয়াট (প্রায় ১,৬০০ হর্সপাওয়ার) শক্তি উৎপাদনে সক্ষম।

  • NIA Raid: গুপ্তচরবৃত্তি মামলায় হরিয়ানায় এনআইএ-র অভিযান, পাক-যোগ সন্দেহে আটক ৮

    NIA Raid: গুপ্তচরবৃত্তি মামলায় হরিয়ানায় এনআইএ-র অভিযান, পাক-যোগ সন্দেহে আটক ৮

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান-যোগ সন্দেহে গুপ্তচরবৃত্তির (NIA Raid) মামলায় বড়সড় অভিযান চালাল এনআইএ (National Investigation Agency)। হরিয়ানার পালওয়াল ও নুহ্ জেলায় একযোগে তল্লাশি চালিয়ে শনিবার মোট ৮ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, পালওয়ালের হাতিন এলাকার পওয়াসার গ্রাম এবং নুহ্ জেলার তৌরু এলাকায় একাধিক জায়গায় একসঙ্গে অভিযান চালানো হয়। পওয়াসার গ্রাম থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তৌরু এলাকা থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযানে এনআইএ-র পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং স্থানীয় স্পেশাল টাস্ক ফোর্সও যুক্ত ছিল। যাতে কেউ পালাতে না পারে এবং প্রমাণ নষ্ট না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি ছিল তদন্তকারীদের।

    রয়েছে পাকিস্তান যোগ

    প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, এক পাকিস্তানি নাগরিক শ্রীনগরের বাসিন্দা সেজে এই নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল। সে মেওয়াট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে এবং ধীরে ধীরে একটি গুপ্তচর চক্র তৈরি করার চেষ্টা করছিল। আটক ব্যক্তিরা সচেতনভাবে জড়িত ছিল কি না, তারা কোনও সংবেদনশীল তথ্য বিদেশি সংস্থার কাছে পাচার করেছে কি না খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী। ঘটনার পর মেওয়াট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দের তদন্তে সহযোগিতা করার আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।

    দেশের ভিতরে গুপ্তচর চক্র

    হরিয়ানার পালওয়াল-মেওয়াত অঞ্চলে এক সন্দেহভাজন ‘আইএসআই এজেন্ট’ গ্রেফতারের পর গোটা এলাকাজুড়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। তদন্তকারীরা প্রথমে ইরফান জেলদার (৩০)-এর বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেন। জানা গিয়েছে, তাঁর ফোনে জম্মু ও কাশ্মীরের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। যদিও পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাঁর মোবাইল ফোনটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নুহ্ সদর থানার অন্তর্গত সোহনা গ্রামে মহম্মদ ইউসুফ (৩৮)-এর বাড়িতেও হানা দেয় যৌথ বাহিনী। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় এবং তাঁর ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় যোগাযোগের খোঁজে ডিজিটাল ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। ডিজিটাল ও ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তির সম্ভাব্য চক্রগুলিকে চিহ্নিত করে তা ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর এনআইএ। এই অভিযানই তার প্রমাণ।

  • Yogi Adityanath: “সোঁগালে সাধুসন্ত ও ভক্তদের বিশাল সমাবেশ যোগ দিতে পেরে আমি ধন্য”, বললেন যোগী

    Yogi Adityanath: “সোঁগালে সাধুসন্ত ও ভক্তদের বিশাল সমাবেশ যোগ দিতে পেরে আমি ধন্য”, বললেন যোগী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বহু বছর পর হরিয়ানার কাইথল জেলার সোঁগাল গ্রামে সাধুসন্ত ও ভক্তদের বিশাল সমাবেশ হয়েছে। এটি এই জায়গার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।” শনিবার কথাগুলি বললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

    কী বললেন যোগী? (Yogi Adityanath)

    সোঁগাল গ্রামে এক ধর্মসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই পবিত্র স্থানে সমবেত সাধুসন্ত ও ভক্তদের আশীর্বাদ গ্রহণ করতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করছি।” তিনি বলেন, “বহু বছর পর সোঁগালে এমন বিশাল সংখ্যক সাধুসন্ত ও ভক্ত উপস্থিত হয়েছেন। এই পবিত্র ভূমি, যা প্রতিটি যুগে নিজের প্রভাব দেখিয়েছে, সেখানে আজ এই পবিত্র ভাণ্ডারা ও ধর্মসভার মাধ্যমে আপনাদের দর্শন পাওয়ার এবং আপনাদের মাধ্যমে সেই মহান ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।”

    আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

    আদিত্যনাথ সোঁগালের ভূমিকে আধ্যাত্মিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে বলেন, “এই জায়গাটি বহু বছর ধরে ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।” তাঁর মতে, সাধুসন্ত ও ভক্তদের এই ধরনের সমাবেশ দেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করে এবং মানুষকে ধর্মবিশ্বাস ও সেবার পথে চলতে প্রাণিত করে। তিনি এও বলেন, “এই ধরনের অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে না, বরং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষকে একত্রিত করে ভক্তদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।” তিনি ধর্মসভা ও ভাণ্ডারা আয়োজনের জন্য আয়োজক ও স্থানীয় ভক্তদের প্রশংসা করেন। এই ধর্মসভায় বিপুল সংখ্যক সাধু, আধ্যাত্মিক নেতা ও অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় বক্তৃতার পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছিল ভোজের। ভক্তরা একত্রিত হয়ে প্রার্থনা ও আধ্যাত্মিক আলোচনায় অংশ নেন।

    বাজপেয়ীর স্বপ্ন পূরণে কাজ

    মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধুসন্তদের শ্রদ্ধা জানান এবং ফের তুলে ধরেন ভারতের সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্বের কথা। এর আগে শুক্রবার, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও লখনউয়ের সাংসদ রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে লখনউয়ে ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রিন করিডর প্রকল্পের দু’টি ধাপের উদ্বোধন করেন। এটি রাজ্যের রাজধানীতে নগর পরিবহণ উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি আসন্ন আরও দু’টি ধাপের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে রাজ্য সরকার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছে।

     

  • RSS: দেশজুড়ে ১০ কোটিরও বেশি পরিবারে হয়েছে সংঘের গৃহ সম্পর্ক অভিযান, বললেন সুনীল আম্বেকর

    RSS: দেশজুড়ে ১০ কোটিরও বেশি পরিবারে হয়েছে সংঘের গৃহ সম্পর্ক অভিযান, বললেন সুনীল আম্বেকর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) গত এক বছরের কাজের পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে হরিয়ানার (Haryana) সমলখায় তিন দিনব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভার বৈঠক শুরু হতে চলেছে। আগামী ১৩ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই বৈঠক। সংঘের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা ‘অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা’র (ABPS) এই বৈঠকে সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। আজ অখিল ভারতীয় প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেকর সাংবাদিক সম্মেলন করে সংঘের এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করেছেন।

    বৈঠকের মূল বিষয়সমূহ (Haryana)

    সুনীল আম্বেকর জানিয়েছেন, হরিয়ানায় (Haryana) আরএসএস-এর (RSS) এই বৈঠকে সংঘ এবং সংঘের বিবিধ সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। যেমনসংঘ প্রধান মোহন ভাগবত ছাড়াও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং আরএসএস-এর ৩২টি সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন। মোট ১,৪৮৭ জন প্রতিনিধি এতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

    শতবর্ষ উদ্‌যাপন

    এবছর আরএসএস-এর (RSS) শতবর্ষ পূর্ণ হওয়ায়, উদ্‌যাপনের অঙ্গ হিসেবে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি যেমন— গৃহসম্পর্ক অভিযান, হিন্দু সম্মেলন, যুব সম্মেলন এবং সামাজিক সম্প্রীতি সভা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এখনও পর্যন্ত, ‘গৃহসম্পর্ক’ অভিযানের মাধ্যমে তারা ১০ কোটিরও বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে।

    শাখা বিস্তার

    গত এক বছরে সংঘের কাজের পরিধি বেড়েছে। সারা দেশে প্রায় ৬,০০০ নতুন শাখা (RSS) খোলা হয়েছে। বৈঠকে এই বৃদ্ধির বিশদ রিপোর্ট পেশ করা হবে।  সংঘের অখিল ভারতীয় প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেকর আরও বলেন, “এই বৈঠকে আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে এবং সংঘের প্রশিক্ষণ শিবির অর্থাৎ সংঘ (RSS) শিক্ষা বর্গ ও কার্যকর্তা বিকাশ বর্গ নিয়ে রূপরেখা তৈরি হবে।”

    অনলাইন আগ্রহ

    জানুয়ারী ২০২৫ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬,৪৪৫ জন মানুষ ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরএসএস-এ যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    গুরু রবিদাস জয়ন্তী

    বৈঠকে গুরু রবিদাসের ৬৫০তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন নিয়েও আলোচনা হবে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত বছরব্যাপী সংঘের স্বেচ্ছাসেবকরা (RSS) দেশজুড়ে তাঁর জীবন ও আদর্শ প্রচারের কর্মসূচি পালন করবেন। হরিয়ানার (Haryana) পানিপথ জেলার সমলখায় আরএসএস-এর এই বার্ষিক সভাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে সংগঠনের ভবিষ্যৎ অভিমুখ এবং শতবর্ষের কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

  • SIR: আসলে এসআইআর সমর্থনই করছেন রাহুল গান্ধী! কী বলল নির্বাচন কমিশন?

    SIR: আসলে এসআইআর সমর্থনই করছেন রাহুল গান্ধী! কী বলল নির্বাচন কমিশন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (SIR) নিয়ে ঘুম ছুটেছে বিরোধীদের। প্রকাশ্যে চলে এসেছে তাঁদের দ্বিচারিতার রাজনীতিও। এক সময় এসআইআরের দাবি জানিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেই তিনিই এখন এসআইআরের বিরোধিতায় নেমে পড়েছেন পথে। এই দ্বিচারিতার রাজনীতি করে চলেছে কংগ্রেসও (Rahul Gandhi)। নির্বাচন কমিশনের দাবি, একদিকে রাহুল গান্ধী এসআইআরের বিরোধিতা করছেন। অথচ এটি ভোটার তালিকা শুদ্ধ করার প্রক্রিয়া। অন্যদিকে তিনিই অতীতের ভোটার তালিকার অশুদ্ধির কথা তুলে ধরে ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন। কমিশনের সাফ কথা, “এ থেকে এটি স্পষ্ট যে, শুরুতে তিনি বিরোধিতা করলেও, এখন তিনি এসআইআরকে সমর্থনই করছেন।”

    ভোট চুরির অভিযোগ রাহুলের (SIR)

    ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। এদিন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফের দাবি করেন, দেশে ব্যাপকভাবে ভোট চুরি হচ্ছে। এদিন তিনি তাক করেছিলেন হরিয়ানাকে, যেখান ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি। দুপুরে হরিয়ানার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এক্স হ্যান্ডেলে বলেন, “প্রিয় ভোটারবৃন্দ, বিরোধী দলনেতা শ্রী রাহুল গান্ধীর প্রেস কনফারেন্সের বিস্তারিত জবাব শীঘ্রই জানানো হবে।” হরিয়ানা সিইওর এক্স হ্যান্ডেলে ‘হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৪ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ শিরোনামে একটি পোস্ট করা হয়েছে। তাতে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ, মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা, পোলিং এজেন্ট, প্রাপ্ত অভিযোগ এসবেরই বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে (Rahul Gandhi)।

    নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

    সংবাদ সংস্থা এএনআই নির্বাচন কমিশনের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, নির্বাচনী তালিকা নিয়ে কোনও আপিল দাখিল হয়নি। রাজ্যের ৯০টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য হাইকোর্টে মাত্র ২২টি পিটিশন বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে (SIR)। সূত্রের প্রশ্ন, কংগ্রেসের পোলিং এজেন্টরা যদি সত্যিই মনে করে থাকেন যে ডুপ্লিকেট ভোট হয়েছে, তবে তাঁরা ভোটকেন্দ্রেই আপত্তি জানালেন না কেন? গান্ধী কি এসআইআর প্রক্রিয়া সমর্থন করেন নাকি বিরোধিতা করেন? এই প্রক্রিয়াটি তৈরি হয়েছে ডুপ্লিকেট, মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য। এর পাশাপাশি যাচাই করে নেওয়া হচ্ছে নাগরিকত্বও। সূত্রের আরও প্রশ্ন, কংগ্রেসের বুথ লেভেল এজেন্টরা কেন তালিকা সংশোধনের সময় কোনও দাবি বা আপিল দায়ের করেননি? নির্বাচন কমিশনের প্রশ্ন, রাহুল গান্ধীর ওই দাবিতে, যেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে নকল বা দ্বৈত ভোট বিজেপির দিকে গিয়েছে। আর বিজেপির দাবি ছিল, সেই ভোট পড়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। কমিশন আরও জানিয়েছে যে, ‘হাউস নম্বর জিরো’ সেই সব এলাকাকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়, যেখানে পুরসভা বা পঞ্চায়েত এখনও বাড়ির নম্বর বরাদ্দ করেনি (Rahul Gandhi)।

    রাহুলের বিস্ফোরক দাবি

    রাহুল গান্ধীর দাবি, হরিয়ানার প্রতি আটজন ভোটারের একজন নকল। তিনি বুথে পড়া ভোট ও পোস্টাল ব্যালটে পড়া ভোটের মধ্যে অকারণ ফারাক সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলেন। প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ আছে যে হরিয়ানায় ২৫ লাখ ভোটার নকল, এরা হয় নেই, অথবা এদের নাম দ্বৈতভাবে রয়েছে, অথবা এমনভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যাতে যে কেউ তাদের নামে ভোট দিতে পারে। হরিয়ানায় প্রতি ৮ জনের ১ জন ভোটার নকল, শতাংশের বিচারে তারা ১২.৫ (SIR)।” তিনি বলেন, “আমাদের কাছে ‘এইচ’ ফাইলস নামে একটি নথি আছে এবং এটি দেখায় কীভাবে পুরো একটি রাজ্যকে চুরি করে নেওয়া হয়েছে। আমরা সন্দেহ করছিলাম যে এটি কেবল আলাদা আলাদা আসনে হচ্ছে না, বরং রাজ্য এবং জাতীয় স্তরেও ঘটছে। হরিয়ানা থেকে আমাদের প্রার্থীদের কাছ থেকে বহু অভিযোগ পেয়েছিলাম যে কিছু একটা ঠিকমতো কাজ করছে না। তাদের সমস্ত পূর্বাভাস উল্টে গিয়েছিল। আমরা এ ধরনের অভিজ্ঞতা মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্রেও পেয়েছি, কিন্তু আমরা হরিয়ানায় জুম করে সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল সেটা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।” তাঁর অভিযোগ, হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জেতাতে ২৫ লাখ ভোট চুরি হয়েছে।

    হরিয়ানা বিধানসভার নির্বাচন

    প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে নির্বাচন হয় ৯০ আসন বিশিষ্ট হরিয়ানা বিধানসভার। সেই নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয় ৪৭টি আসনে।  কংগ্রেস পায় ৩৭টি আসন। সেই নির্বাচনের এক বছর পর এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগে সরব হলেন রাহুল। বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে বিহার বিধানসভার নির্বাচন। তার ঠিক আগের দিনই দিল্লিতে রাহুল অভিযোগ করেন, গত বছর হরিয়ানায় ৫.২১ শতাংশ ডুপ্লিকেট ভোটার ভোট দিয়েছিলেন (Rahul Gandhi)।  ৯৩ হাজার ১৭৪ জন অবৈধ ভোটার ভোট দেন। আর ১৯ লাখ ২৬ হাজার বাল্ক ভোটার ভোট দেন। সব মিলিয়ে চুরি হয়েছে ২৫ লাখ ভোট (SIR)।

  • Tapasya Gahlawat: ‘কটাক্ষের জবাব দিয়েছে মেয়ে’, বাবার স্বপ্নপূরণ করে জুনিয়র কুস্তিতে বিশ্বসেরা অষ্টাদশী তপস্যা

    Tapasya Gahlawat: ‘কটাক্ষের জবাব দিয়েছে মেয়ে’, বাবার স্বপ্নপূরণ করে জুনিয়র কুস্তিতে বিশ্বসেরা অষ্টাদশী তপস্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে (World Wrestling Championship U20) ভারতের পতাকা ওড়ালেন হরিয়ানার মেয়ে তপস্যা গেহলট (Tapasya Gahlawat)। বুধবার বুলগেরিয়ার সামাকভে ৫৭ কেজি বিভাগে বিশ্বসেরা হয়ে বাবার স্বপ্নপূরণ করলেন তপস্যা। ছোটবেলা থেকেই প্রপিতামহ চৌধুরী হাজারি লালের দঙ্গল কাঁপানো গল্প শুনে বড় হয়েছেন তিনি। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা। তাঁর বাবা পরমেশ গেহলটেরও ইচ্ছা ছিল, তাঁর মেয়ে একদিন বিশ্বমঞ্চে কুস্তিতে দাপাবে। বাবার স্বপ্ন সফল করলেন মেয়ে। ফাইনালে তপস্যা হারালেন নরওয়ের ফেলিসিতাস দোমাজেভাকে।

    মেয়ের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাবা

    হরিয়ানার ঝাজ্জরের খানপুর কালান গ্রামের তপস্যার এমন সাফল্যের পর তাঁর বাবা পরমেশ জানান, ২০০৬ সালে, বিয়ের ১১ মাস পর তাঁর স্ত্রী কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। এরপর পরিবেশ আনন্দের ছিল না। বরং মেয়ে হওয়ার জন্য অনেক কথা শুনতে হয়েছিল তাঁদের। পরমেশের কথায়, “মেয়ে হওয়ায় অনেক কটূক্তি সহ্য করতে হয়েছিল। কিন্তু আমি জানতাম, মেয়ে হোক কিংবা ছেলে, দেশের নাম যে কেউই উজ্জ্বল করতে পারে। তপস্যা আজ বিশ্বজয়ী হয়ে সেই কথাই প্রমাণ করল।” পরমেশ বলেন, “আমার ঠাকুর্দা চৌধুরি হাজারি লাল খানপুর কালান গ্রামে কুস্তিগির হিসাবে বিখ্যাত ছিলেন। কুস্তির বিভিন্ন প্যাঁচ নিয়ে আমাদের অনেক শিখিয়েছেন। আমি স্কুল গেমসে কুস্তিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। কিন্তু চোটের পর কুস্তি ছাড়ি। বরাবর মেয়েকে কুস্তিগির করার চেষ্টা করেছি। ন’বছর আগে তপস্যাকে কুস্তি শেখাতে যাওয়ার সময় অনেকেই কটাক্ষ করেছিল। আজ তপস্যা বিশ্বসেরা। যারা সমালোচনা করেছিল তাদের উচিত জবাব দিয়েছে।”

    কোন পথে সাফল্য তপস্যার

    তপস্যা (Tapasya Gahlawat) সেমিফাইনালে জাপানের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সোওয়াকা উচিদার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। যিনি ৪০টা আন্তর্জাতিক ম্যাচ অপরাজিত রেকর্ড নিয়ে রিংয়ে নেমেছিলেন। ম্যাচের একেবারে শেষ সেকেন্ডে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তপস্যা। তুলনায় ফেলিসিটাস ডোমাজেভার বিরুদ্ধে ফাইনাল অনেক সহজ ছিল। ৫-২ ব্যবধানে জিতে টুর্নামেন্টে ভারতের জন্য প্রথম সোনার পদক এনে দেন তিনি। পরমেশ বলেছেন, “দেশের হয়ে কিছু করার তাগিদই তপস্যাকে সাফল্য এনে দিয়েছে। কোচ কুলবীর বরাবর বলেছেন মেয়েকে নিয়ে চিন্তা না করতে। উনি নিজের মেয়ের মতোই ভালবাসেন। আমাদের ছেলে দক্ষও কুস্তিগির। তবে তপস্যা যা করেছে তার জন্য কোনও কিছুই যথেষ্ট নয়।” ২০১৬ সালে স্থানীয় অ্যাকাডেমিতে কুস্তিতে ভর্তি‌ হয়েছিলেন তপস্যা। উন্নত পরিকাঠামো না থাকায় মেয়েকে সোনিপতের কুলবীর রানার আখড়ায় ভর্তি করেন। তারপর তো বাকিটা ইতিহাস। তপস্যা অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগে এশিয়া সেরাও হয়েছিলেন। এবার সিনিয়র স্তরে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করাই তাঁর লক্ষ্য।

  • Earthquake: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নয়াদিল্লি, কম্পনের মাত্রা কত জানেন?

    Earthquake: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নয়াদিল্লি, কম্পনের মাত্রা কত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূমিকম্পে (Earthquake) কেঁপে উঠল নয়াদিল্লি (Delhi) ও সংলগ্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার সকালে কম্পন অনুভূত হয়েছে দিল্লিতে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৪। জাতীয় ভূতত্ত্ব পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, এদিন সকাল ৯টা ৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি হয়েছে।

    কম্পনের উৎসস্থল (Earthquake)

    কম্পনের উৎসস্থল ছিল দিল্লি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে, হরিয়ানার ঝজ্জরে। কম্পনটি হয়েছে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। ঝজ্জর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে উত্তরপ্রদেশের পশ্চিম প্রান্তের মেরঠ এবং শামলিতেও অনুভূত হয়েছে কম্পন। কম্পন টের পেয়েছেন হরিয়ানার সোনিপত ও হিসারের বাসিন্দারাও। দিল্লি সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশের নয়ডা ও হরিয়ানার গুরুগ্রামেও বহু সংস্থার অফিস রয়েছে। ভূমিকম্পের জেরে কেঁপে উঠেছে এই সব এলাকাও। ভয়ে অফিস ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বিভিন্ন অফিসের কর্মীরা। রাজধানীর বাসিন্দারাও আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে চলে আসেন খোলা জায়গায়। যদিও এদিন বেলা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর মেলেনি। মেলেনি ক্ষয়ক্ষতির খবরও।

    সিসমিক জোনিং ম্যাপ

    সিসমিক জোনিং ম্যাপ (Earthquake) অনুযায়ী, ভারতকে চারটি সিসমিক জোন বা ভূমিকম্পন প্রবণ এলাকায় বিভক্ত করা হয়। এগুলি হল জোন ২, জোন ৩, জোন ৪ এবং জোন ৫। এই জোনগুলির মধ্যে সব চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হল জোন ৫। আর ঝুঁকি সব চেয়ে কম জোন ২-এ। দিল্লি পড়ে জোন ৪ এর আওতায়। তাই মাঝেমধ্যেই সেখানে দেখা দেয় ৫-৬ মাত্রার ভূমিকম্প। গত ফেব্রুয়ারি মাসেও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল দিল্লি। তখনও কম্পনের মাত্রা ছিল ৪। ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৫৯ শতাংশ এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। ভূবিজ্ঞানীদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে দিল্লিতে ভূমিকম্প হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

    এদিকে, ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়েছে এনডিআরএফ। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কভাবে সিঁড়ি ব্যবহার করে বাইরে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। ভূমিকম্প চলাকালীন যাঁরা গাড়ি চালান, তাঁদের খোলা জায়গায় (Delhi) দাঁড়িয়ে পড়ার পরামর্শও দেওয়া হয় (Earthquake)।

LinkedIn
Share