Tag: health tips

health tips

  • Early Puberty: বদলে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময়! কখন থেকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    Early Puberty: বদলে যাচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময়! কখন থেকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে সময়! জীবন যাপনের অভ্যাস। আর বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকটাই বদলে গিয়েছে আমাদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তাই এগিয়ে এসেছে বয়ঃসন্ধিকাল। কয়েক দশক আগেও বয়ঃসন্ধিকাল বলতে ১৪-১৫ বছরের সময় বোঝানো হতো। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বয়ঃসন্ধিকালের সমস্ত লক্ষণ এখন এগিয়ে আসছে। এখন ১১-১২ বছর বয়স থেকেই ছেলেমেয়েরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে বয়ঃসন্ধিকালে পোঁছে যাচ্ছে। তাই অভিভাবদের ও আলাদা ভাবে প্রস্তুতি প্রয়োজন। সন্তানের সুস্থ দীর্ঘ জীবনের জন্য এই সন্ধিক্ষণের সময়ে সবরকম বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি।

    বয়ঃসন্ধিকালের সময় এগিয়ে যাওয়া কাকে বলে?

    ভারতের পাশপাশি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে সময়ের আগেই বয়ঃসন্ধিকালের লক্ষণ প্রকট হয়েছে। অর্থাৎ, গত কয়েক দশক আগেও যে সময়ে শিশু কৈশোরে পা দিতো, সম্প্রতি কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে, সেই নির্দিষ্ট বয়সের আগেই সে শারীরিক ও মানসিক ভাবে কৈশোর জীবনে প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দেশের ১৭ শতাংশ মেয়েদের ১২ বছরের আগে ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। ২০ শতাংশ ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ৮-১০ বছরের মধ্যেই গোপনীয়তা বোধ, জোরালো মতামত এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বিষয়ে আগ্রহ বাড়ে। এই লক্ষণগুলো মানসিকভাবে বয়ঃসন্ধিক্ষণে থাকার ইঙ্গিত দেয়।
    এই সমীক্ষার তথ্য জানান দিচ্ছে বয়ঃসন্ধিকালের সময় এগিয়ে এসেছে। অর্থাৎ ১৪-১৫ বছর বয়সের পরিবর্তন এখন ১০-১২ বছর বয়সেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

    কেন এগিয়ে আসছে বয়ঃসন্ধিকাল?

    এই পরিবর্তনের মূলত তিনটি কারণ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ মহল। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকাল এগিয়ে আসার মূলত কারণ খাদ্যাভ্যাস। ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে শিশুদের অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। প্রয়োজনের বেশি প্রাণীজ প্রোটিন তারা নিয়মিত খায়। এর ফলে শরীরে স্থুলতা দেখা দেয়। এই জন্য দ্রুত শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন শুরু হয়‌। তাছাড়া অধিকাংশ শিশু প্রক্রিয়াজাত খাবারে অভ্যস্ত। এই খাবারগুলোতে ব্যবহৃত রাসায়নিক শরীরের হরমোন পরিবর্তন ঘটায়। তাই বয়ঃসন্ধিকাল এগিয়ে আসছে।

    শরীরের পাশাপাশি বয়ঃসন্ধিকালে মনের পরিবর্তন হয়। এই মানসিক পরিবর্তন দ্রুত হওয়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। ইন্টারনেট ও মোবাইল শিশুর জানার পৃথিবী পরিবর্তন করেছে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এখন অনেক কিছুই শিশুর কাছে সহজলভ্য। বড়দের অনেক বিষয় তারা সহজেই জানতে পারছে‌। এর ফলে তাদের মানসিক পরিবর্তন দ্রুত হচ্ছে। সময়ের আগেই গোপনীয়তা বোধ তৈরি হচ্ছে।

    পরিবারের ধরন বদলে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ শিশু এখন আর যৌথ পরিবারে থাকে না। বাবা-মা এবং সন্তান। অধিকাংশ পরিবারে এখন তিন সদস্য। পরিবারের ছোট্ট সদস‌্য বাবা-মায়ের আলোচনা, কথা শুনেই বড় হচ্ছে। অনেক সময়েই বাবা-মায়ের আলোচনার বিষয় অনেক পরিণত হয়। সেগুলো সন্তানের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। সময়ের আগেই তারা এমন অনেক বিষয় জানতে পারে, যেগুলো পরিণত বয়সে জানা উচিত। পরিবারে একাধিক সদস্য থাকলে ছোটোদের নিজের আলাদা মেলামেশার সুযোগ বাড়ে। কিন্তু ছোটো পরিবারে সেটা সম্ভব নয়। এর ফলেও তাদের মধ্যে দ্রুত মানসিক পরিবর্তন হচ্ছে।

    কীভাবে সন্তানের যত্ন নেবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আর্লি টিনএজ বা সময়ের আগেই দ্রুত বয়ঃসন্ধিকালে দাঁড়ানো, এখন বিশ্বজনীন সমস্যা। তাই এই সঙ্কট মোকাবিলার জন্য অভিভাবকদের আগাম প্রস্তুতি প্রয়োজন। শিশুর ৮-১০ বছর বয়স থেকেই তাকে শরীর ও মনের পরিবর্তন সম্পর্কে জানানো জরুরি। বিশেষত মেয়েদের সেই পাঠ বাড়তি যত্নের সঙ্গে শেখানো জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ বড়‌ কোনো শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে, সন্তান ঘাবড়ে যেতে পারে। তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। জীবনের যে পরিবর্তনগুলো খুবই স্বাভাবিক সে সম্পর্কে জানানো জরুরি। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা প্রয়োজন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা বহু প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়েই জানতে পারে। কিন্তু সেই জানার মধ্যে অনেক ভ্রান্ত ধারণা মিশে থাকে। অভিভাবকদের কথা বলে সেগুলো স্পষ্ট করা জরুরি। তবেই মানসিক গঠন ঠিক মতো হবে। তাছাড়া তাদের মতামত শোনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে তারা আত্মবিশ্বাস পাবে। অকারণ গোপনীয়তা তৈরি হবে না। তবে সন্তান কী ধরনের কন্টেন্ট দেখছে, সেগুলো তার জন্য উপযুক্ত কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। কৈশোরে এমন অনেক বিষয়েই আগ্রহ জন্মায়, যা সময়োপযোগী নয়। কথা বলেই সে সম্পর্কে সজাগ করতে হবে।

    মানসিক চাপ কমানো এক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তার পাশপাশি কৈশোরে পা দেওয়ার সময় শরীরের একাধিক পরিবর্তন হয়। তাই শরীর সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত খনিজ পদার্থ খাওয়া জরুরি। খনিজ পদার্থ শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। তাই ১০ বছরের পরে ছেলেমেয়েদের নিয়মিত বাদাম, কিসমিস, কাঠবাদাম, পেস্তা, আখরোট জাতীয় খাবার দেওয়া উচিত। যাতে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাহলে শরীর ও মন সুস্থ থাকবে‌।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Loneliness in Children: সন্তানের সামাজিক আচরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব! কী প্রভাব পড়ছে শিশুমনে?

    Loneliness in Children: সন্তানের সামাজিক আচরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব! কী প্রভাব পড়ছে শিশুমনে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একরত্তি ছানা! বাবা-মায়ের সঙ্গ পায়নি। অন্যদের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারে না। সময় মতো খাবার পেলেও, সে ভালো নেই। পুষ্টিকর খাবার শরীরের চাহিদা মেটালেও, মনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। সুস্থ রাখতে তাকে দেওয়া হল একখানা পুতুল! আর তাতেই বাজিমাত! সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে উঠল সেই পুতুল! ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে একরত্তি! মিশতে শেখে। মানিয়ে নিতেও শেখে! জাপানের চিড়িয়াখানার সেই একরত্তি ম্যাকাকের (এক প্রজাতির বাঁদর) একাকিত্ব আর সেরে ওঠার ঘটনায় উত্তাল বিশ্ব। তবে তার এই একাকিত্বের সমস্যা কেবল পশুজগতের সমস্যা নয়। মানব শিশুর জীবনেও একাকিত্বের সমস্যা (Loneliness in Children) প্রবল ভাবে বাড়ছে‌।‌ সামাজিক আচরণে (Social Isolation) যার প্রভাব গভীর ভাবে পড়ছে! এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর আচরণ (Child Mental Health) সংযত ও স্বাভাবিক রাখার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে এই একাকিত্ব!

    শিশুর আচরণে কেন সমস্যা হয়ে উঠছে একাকিত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর আচরণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অধিকাংশ পরিবার ছোটো। বাবা-মা দুজনেই কাজে ব্যস্ত থাকেন। দিনের অধিকাংশ সময় তাদের অফিসেই কাটে। পরিবারের একরত্তির সঙ্গে নির্ভেজাল সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম। অধিকাংশ শহুরে পরিবারে শিশু পরিবারের সদস্যদের বিশেষ কাছে পায় না। যার ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের একাকিত্ব (Loneliness in Children) গ্রাস করে। মনরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাকিত্ব শিশুকে আত্মবিশ্বাসহীন করে তোলে। পরিবারের যথেষ্ট সময় না পেলে শিশু হীনমন্যতায় ভোগে। এর ফলে তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়‌। তাই সে সমাজের অন্যান্যদের সঙ্গেও মিশতে পারে না।

    পরিবারই পৃথিবী, একাকিত্ব শিশুমনে তৈরি করে মানসিক অবসাদ

    একাকিত্ব একধরনের মানসিক অবসাদ তৈরি করে। শিশুর কাছে প্রাথমিক পর্বে, তার পরিবার তার পৃথিবী। পরিবারের কাছে পর্যাপ্ত যত্ন ও সময় না পেলে, তার মধ্যে অবসাদ তৈরি হবে। যার ফলে সে কোনও কাজ সময় মতো করতে চাইবে না। তার মধ্যে অনীহা তৈরি হবে। স্কুল যাওয়া ও পড়াশোনার প্রতিও অনাগ্রহ বাড়বে। এমনকি বন্ধু তৈরি করার ইচ্ছেও থাকবে না। যা একাকিত্বের সমস্যাকে আরও জটিল করবে। শিশুর একাকিত্ব একদিকে তার সামাজিক যোগাযোগ তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করে (Social Isolation)। আবার শিশুকে জেদি করে তোলে। এমন মানসিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যাতে সে কোনোভাবেই অন্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছে হারিয়ে ফেলে। এর ফলে নিজের মতো থাকে। যেকোনও কাজ বললেই একধরনের অনীহা তৈরি হয়‌। জেদ তৈরি হয়।

    সন্তানের একাকিত্ব কাটিয়ে আচরণ ‘স্বাভাবিক’ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের একাকিত্ব কাটাতে এবং সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক রাখতে দিনের অন্তত ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ করতেই হবে। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের সঙ্গে প্রতি দিন অন্তত ২০ মিনিট গল্প করতে হবে। সন্তানের বয়স অনুযায়ী সেই গল্প হবে। পাঁচ থেকে সাত বছরের শিশুর সঙ্গে বসে গল্পের বই পড়া, সারা দিন তার কেমন কাটলো সেই সম্পর্কে গল্প করা জরুরি। আবার বয়ঃসন্ধিকালে থাকা সন্তানের সঙ্গেও তার কেমন সময় কাটছে সে নিয়ে গল্প করা, বা তার পছন্দের গান শোনা, তার পছন্দের যে কোনও বিষয় নিয়ে গল্প করা জরুরি। এতে সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একাকিত্ব গ্রাস করে না। তার মনের অবস্থা (Child Mental Health) সম্পর্কেও অভিভাবক বুঝতে পারে।

    অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মস্তিষ্কে পড়ছে বাড়তি চাপ

    আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সন্তানকে অনেকটা সময় দেওয়া কঠিন। কিন্তু তার বিকল্প কখনই স্ক্রিন টাইম নয়। এমনটাই মত মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। খিটখিটে মেজাজ হচ্ছে। তাই স্ক্রিন টাইম নয়। বরং খেলাধুলা সঙ্গে যাতে সন্তান যুক্ত হয় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের বয়স পাঁচ বছর হলেই যেকোনও ধরনের খেলার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। এতে শারীরিক বিকাশের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়। একাকিত্ব (Loneliness in Children) গ্রাস করে না। মেলামেশার অভ্যাস তৈরি হয়। বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। জেদ, একঘেয়েমি দূর হয়।

    সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে বাবা-মায়ের সজাগ থাকা জরুরি

    শিশুর গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি জরুরি বলেই মত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, একসঙ্গে অনেকে মিলে নাচ, গান বা নাটক করা। কিংবা যে কোনও ধরনের খেলাধুলা করলে শিশুর সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক ও সংযত হয়। নানান জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য (Child Mental Health) ভালো রাখতে বাবা-মায়ের সজাগ থাকা জরুরি। শিশুর সুস্থ মানসিক গঠনের জন্য তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তার কথা শুনতে হবে। তাহলেই অনেক সমস্যা কমবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Rubella in Children: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় বিপদ বাড়ছে রুবেলার! ভাইরাস আক্রমণ থেকে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

    Rubella in Children: খামখেয়ালি আবহাওয়ায় বিপদ বাড়ছে রুবেলার! ভাইরাস আক্রমণ থেকে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হঠাৎ করেই বেড়েছে তাপমাত্রার পারদ। বেলা বাড়তেই রোদের দাপট বাড়ছে। এমনকি সন্ধ্যার পরেও অস্বস্তি হচ্ছে। এদিকে ভোরে বেশ ঠান্ডা ভাব। হঠাৎ বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি হলেও তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। আর এই পরিস্থিতিতে বিপদ বাড়াচ্ছে রুবেলা ভাইরাস (Rubella in Children)। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এই আবহাওয়ায় সুস্থ থাকতে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। বিশেষত পরিবারের খুদে সদস্যকে (Child Immunity Care) সুস্থ রাখার জন্য সজাগ থাকতে হবে। কারণ রুবেলা ভাইরাসের দাপট শিশু শরীরেই সবচেয়ে বেশি হয়।

    কেন এই আবহাওয়ায় রুবেলা ভাইরাসের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্ত ঋতুতে রুবেলা ভাইরাসের (Rubella in Children) দাপট বাড়ে। তার মূল কারণ আবহাওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীতে তাপমাত্রা কম থাকে। কিন্তু বসন্ত হলো শীত আর গরমের মাঝের সময়। এই সময়ে শীতের দাপট থাকে না। আবার প্রবল গরমের দাপট ও থাকে না। এই সময়ে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। অর্থাৎ মরশুমের পরিবর্তন হয়। তার ফলে বাতাসে নানান ভাইরাসের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। বিশেষত ফুসফুস কাবু করতে পারে এমন ভাইরাসের দাপট আরও বেশি বাড়তে থাকে। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সময়ে রুবেলার মতো ভাইরাসের দাপট বাড়ে।

    স্কুল থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সংক্রামক রুবেলা

    তাছাড়া, বছরের এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকায় বহু মানুষ বেড়াতে যান। নানান উৎসব হয়। তাই এই সময়ে যে কোনও সংক্রামক রোগের দাপট বাড়ে। রুবেলা ভাইরাস (Rubella in Children) একটি সংক্রামক রোগ। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে সংক্রামিত হতে পারে। তাই এই ভাইরাসের ক্ষমতা এই সময়ে বাড়ে। বসন্ত ঋতুতে যেমন নানান উৎসব রয়েছে, তেমনি এটা পরীক্ষার মরশুম। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্কুলে শিশুকে পাঠানোর সময় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি (Child Immunity Care)। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বর-সর্দি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তবেই স্কুলে পাঠানো উচিত। না হলে অন্যদের মধ্যেও যে কোনও রোগ সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রুবেলার মতো ভাইরাস স্কুল থেকেই ছড়িয়ে পড়ে।

    রুবেলা ভাইরাসের জেরে কী হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রুবেলা ভাইরাসের (Rubella in Children) জেরে হাম হতে পারে। জ্বর-সর্দি-কাশির মতো নানান উপসর্গ দেখা দেওয়ার পাশপাশি হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এই উপসর্গগুলো রুবেলা সংক্রমণের জানান দেয়।

    সন্তানকে সুস্থ রাখবেন কীভাবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রুবেলা ভাইরাসের দাপট রুখতে মূল হাতিয়ার টিকাকরণ। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণকের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর জন্মের পরে ৯ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই এমএমআর টিকার (MMR vaccination) প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। যা রুবেলা সংক্রমণ রুখতে পারে। এছাড়াও ১৫ থেকে ১৮ মাসের এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ এবং ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে এই টিকার তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়। সময় মতো নিয়ম মেনে টিকাকরণ করালে শিশুর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

    নিয়মিত মাস্ক পরে থাকা

    তবে বাড়তি কয়েকটি নজরদারি রাখলে রুবেলার (Rubella in Children) মতো যে কোনও ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সহজ হয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুকে নিয়মিত মাস্ক পরার অভ্যাস করানো জরুরি। বাইরে যাওয়ার সময় নাক ও মুখ ঢাকা দেওয়া মাস্ক পরার অভ্যাস তৈরি করতে পারলে একাধিক সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে (Child Immunity Care) । রুবেলা ভাইরাস মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রামিত হয়। তাই এই রোগের দাপট কমবে। শিশুর বারবার জ্বর হলে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। স্কুলে পাঠানোর আগে অভিভাবকদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে অন্যদের শরীরে এই রোগ না ছড়িয়ে পড়ে।

  • Hemicrania Continua: দীর্ঘদিন ধরে মাথার যন্ত্রণায় ভুগছেন? হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া নয় তো! কী এই রোগ?

    Hemicrania Continua: দীর্ঘদিন ধরে মাথার যন্ত্রণায় ভুগছেন? হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া নয় তো! কী এই রোগ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    মাথার এক পাশে কিংবা পিছনের অংশে ব্যথা। প্রায় যন্ত্রণার তীব্রতা বাড়ে। আবার কখনো তীব্রতা কমে। কিন্তু একটানা যন্ত্রণা (Long-Term Headache) ভোগান্তি বাড়ায়। মাথার ব্যথা হলে অনেকেই ভাবেন মাইগ্রেন কিংবা সাইনাসের সমস্যা। তবে চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একটানা মাথা ব্যথার নেপথ্যে অনেক সময়েই অন্য কারণ রয়েছে। কিন্তু অবহেলার জেরে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদী মাথা ব্যথার কারণ কী হতে পারে?

    মাইগ্রেন কিংবা সাইনাসের সমস্যা না থাকলেও মাথা যন্ত্রণার ভোগান্তি হতে পারে। তার অন্যতম কারণ হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua)। এটি একটি স্নায়ু ঘটিত সমস্যা। যার জেরে মাথার যে কোনও একটি পাশে বা নির্দিষ্ট কোনও অংশে যন্ত্রণা হয়। অধিকাংশ সময়েই দেখা যায় এই সমস্যায় আক্রান্তের যন্ত্রণায় ভোগান্তির মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসও হতে পারে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, যন্ত্রণার তীব্রতা সবসময় এক রকম থাকে না। কখনও বাড়ে আবার কখনও কমে।

    হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া কী? কেন হয় এই রোগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua) হল মস্তিষ্কের স্নায়ুঘটিত একটা সমস্যা। এই সমস্যা কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণে তৈরি হয় না। বরং এই সমস্যা হওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে‌। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তার অন্যতম কারণ হল হরমোন। মহিলাদের শরীরে নানান হরমোনঘটিত পরিবর্তন হয়। বিশেষত ঋতুস্রাব বন্ধ পর্ব বা পোস্ট মেনোপোজ পর্বে শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন হয়। যার জেরে মহিলাদের মস্তিষ্কে এই ধরনের স্নায়বিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে হরমোন ঘটিত সমস্যার পাশপাশি মানসিক চাপ কিংবা অবসাদ এই ধরনের স্নায়বিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    এই সমস্যা কি আরো জটিলতা তৈরি করতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua) অন্য রোগের কারণ নয়। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী মাথার যন্ত্রণা চরম ভোগান্তি তৈরি করে। স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। তাছাড়া যেকোনো সাধারণ কাজেও মনঃসংযোগ করতে দেয় না। মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি কাজ করে না। লাগাতার মাথা যন্ত্রণার ফলে খিটখিটে ভাব তৈরি হয়। সবমিলিয়ে জীবন যাপনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। তাই মাথা ব্যথা হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া শুধুই ব্যথা নিরাময় ওষুধ খাওয়া উচিত নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। কারণ কেন মাথা ব্যথা হচ্ছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা না থাকলে ব্যথা নিরাময় ওষুধ শুধু সাময়িক আরাম দেবে। তার বেশি কিছু নয়।

    কীভাবে এই রোগের দাপট কমবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জীবনযাপনের ধরন এই রোগের দাপট কমাতে সাহায্য করবে। কয়েক দিন ধরে লাগাতার মাথা যন্ত্রণার ভুগলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। হেমিক্রেনিয়া কন্টিনিউয়া (Hemicrania Continua) মতো সমস্যা থাকলে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পাশপাশি যোগাভ্যাস জরুরি। যন্ত্রণার তীব্রতা কমাতে নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন বিশেষ সাহায্য করবে। যেমন অধোমুখ শবাসন। প্রথমে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো করে বসতে হবে। হাতের তালু মাটিতে থাকবে, পিঠ উপরের দিকে তুলতে হবে, পায়ের পাতা মাটি স্পর্শ করে থাকবে। দেখতে লাগবে অনেকটা ইংরেজি ‘ভি’ অক্ষরের মতো লাগবে। মাথা যতটা ঝোঁকাতে যাবে, ততই ভাল। এই ভঙ্গিমায় ২০ সেকেন্ড থাকতে পারলে রক্তচাপ ও শরীরের স্নায়বিক জটিলতা কমবে। তাই এই ধরনের রোগের দাপট কমাতে এই আসন বিশেষ সাহায্য করে।

    সৃজনশীল কাজে নিজেকে বরাদ্দ করুন…

    এছাড়াও রয়েছে পশ্চিমোত্তাসন। প্রথমে চিৎ হয়ে শুয়ে দু’হাত তুলে মাথার দু’পাশে উপরের দিকে রাখতে হবে। ধীরে ধীরে উঠে বসে সামনে ঝুঁকে দু’ হাত দিয়ে জোড়া পায়ের বুড়ো আঙুল ধরতে হবে। দুই পায়ের মাঝখানে কপাল ঠেকাতে হবে। এ অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে মোটামুটি তিরিশ সেকেন্ড থাকতে হবে। তাহলে এই ধরনের মাথার যন্ত্রণার (Hemicrania Continua) তীব্রতা কমানো সহজ হবে। এর পাশপাশি নিয়মিত গান শোনা কিংবা ছবি আঁকার মতো অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ বাড়লে। পরিবার ও কাজের মধ্যে ব্যালেন্স করাই সবচেয়ে বড় মানসিক চাপ হয়ে উঠছে। তাই রুটিন মাফিক চলা একঘেয়ে ব্যস্ত জীবনে একটু সময় সৃজনশীল কাজে বরাদ্দ করতে হবে। তবেই মানসিক চাপ কমবে। মানসিক চাপ কমলে যে কোনও ধরনের মাথার যন্ত্রণার ভোগান্তি কমানো সহজ হয়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Sleep Disorders in Children: সন্তানের ঘুমের ব্যাঘাত! নেপথ্যে কি অভিভাবকদের মোবাইল আসক্তি?

    Sleep Disorders in Children: সন্তানের ঘুমের ব্যাঘাত! নেপথ্যে কি অভিভাবকদের মোবাইল আসক্তি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

     

    রাতের খাবার ঘড়ির কাঁটা মেপে শেষ হচ্ছে। পরের কয়েক মিনিট মোবাইলে পছন্দের কার্টুন কিংবা ভিডিও গেমের জন্য বরাদ্দ। ঘড়ি মেপে রাত নটা কিংবা দশটার মধ্যে বিছানায় শুয়ে পড়লেও চোখে ঘুম নেই! পরের দিন স্কুল! ভোর হতেই উঠে পড়তে হবে। কিন্তু রাতে ঠিক সময়ে কিছুতেই ঘুম হয় না। বকুনি বা ঘুম পাড়ানি গান, কোনো দাওয়াই কাজে আসছে না। ফলে পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না। এর ফলে দেখা দিচ্ছে নানান সমস্যা। সন্তানের অপর্যাপ্ত ঘুম (Sleep Disorders in Children) নিয়ে চিন্তিত বাবা-মা! কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই অপর্যাপ্ত ঘুমের পিছনে থাকে অভিভাবকদের কয়েকটি অভ্যাস (Parental Mobile Addiction)। যা পরিবর্তন না করলে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি হবে না। বরং, ঘুমের ঘাটতি নানান বিপদ বাড়াবে।

    অভিভাবকদের কোন অভ্যাস সন্তানের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাত জেগে মোবাইল দেখা এখন অনেকের অভ্যাস। শিশুদের মধ্যেও বড়দের এই অভ্যাসের গভীর প্রভাব পড়ছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বহু শিশু রাত দশটার মধ্যে বিছানায় শুয়ে পড়লেও দুটোর আগে ঘুমোয় না। বাবা-মা জানাচ্ছেন, পরের দিন সকাল সাতটার মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে হয়। কিন্তু রাত দুটোর আগে সন্তানের চোখে ঘুম নেই। এর ফলে দিনের পর দিন অপর্যাপ্ত ঘুম (Sleep Disorders in Children) হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেই শিশুদের অভিভাবকেরাও অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। অধিকাংশ সময়েই তাঁরা শিশুর পাশে শুয়ে মোবাইলের বিনোদনে বুঁদ হয়ে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটান।‌ যা ছয়-সাত বছরের শিশুর জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাছাড়া অন্ধকার ঘরে মোবাইলের আলো তীব্র হয়। এর ফলে বাচ্চার ঘুমের পরিবেশ নষ্ট হয়।

    কী উচিত, কী উচিত নয়

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই বাবা-মা প্রয়োজনে কিংবা অন্যান্য কারণে অনেক রাত পর্যন্ত ফোনে কথা বলেন। ফলে, তার জেরেও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তবে, সন্তানের ঘুম না হওয়ার (Sleep Disorders in Children) অন্যতম কারণ স্ক্রিন টাইম বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু শিশু ঘুমোতে যাওয়ার আগে মোবাইলে অনেকটা সময় কাটায়। যা একেবারেই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। মোবাইলে যে ধরনের ভিডিও শিশুরা দেখে, তা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে। এর ফলে শিশুরা সহজে ঘুমোতে পারে না। ঘুমোতে যাওয়ার আগে এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে। তাই সন্তানের স্ক্রিন টাইম (Parental Mobile Addiction) নিয়েও সচেতন থাকা জরুরি।

    সন্তানের অপর্যাপ্ত ঘুম বুঝবেন কীভাবে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। এর থেকে কম সময় ঘুম হলে, তা অপর্যাপ্ত ঘুম (Sleep Disorders in Children)। নিয়মিত কোনও শিশু যদি আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমোনোর সময় না পায়, তাহলে সেই ঘাটতি, তার শরীর ও মনে গভীর ভাবে পড়ে‌। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সময়ের হিসাব ছাড়াও শিশুর আচরণ দেখেও ঘুমের ঘাটতি আন্দাজ করা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, পাঁচ-ছয় বছরের শিশু দিনের অধিকাংশ সময় ঘ্যানঘ্যান করলে, সব কাজে অনীহা দেখালে কিংবা তার আচরণে মারাত্মক অসংগতি দেখা দিলে বুঝতে হবে, মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছে না।

    কেন ঘুম জরুরি? সন্তানের ‘ভালো’ ঘুম হবে কীভাবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ‘ভালো’ ঘুম সম্পর্কে সচেতনতা নেই। রাতে কোনও রকম ব্যাঘাত ছাড়া একটানা সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হল ‘ভালো’ ঘুম। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমোলে তবেই শরীর ও মস্তিষ্কের সমস্ত স্নায়ু ঠিকমতো বিশ্রাম পায়। পেশির বিশ্রাম হয়। হরমোন নিঃসরণ ঠিকমতো হয়। পিটুইটারি গ্রন্থি ঠিকমতো কার্যকর থাকে। যা মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সাহায্য করে। স্মৃতিশক্তি ধরে রাখে। শরীরের নিজস্ব একটি ঘড়ি রয়েছে। ঘুম ঠিকমতো হলে তবেই সেই ঘড়ি কাজ করবে। দিনভর সময় মতো সমস্ত কাজ হবে। শরীর প্রয়োজনীয় এনার্জি ব্যালেন্স করতে পারবে। অসময়ে ঘুম অর্থাৎ, দিনের বেলা বা সকালে ঘুমোলে স্নায়ু এবং হরমোনের ভারসাম্যে সেই প্রভাব পড়ে না।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য বাবা-মায়ের কয়েকটি অভ্যাস পরিবর্তন জরুরি। সন্তানের ঘুমের আগে কোনওভাবেই স্ক্রিন টাইম অতিরিক্ত হওয়া চলবে না। বই পড়া বা ডায়েরি লেখার মতো অভ্যাস তৈরি করতে হবে। যাতে মস্তিষ্ক বাড়তি উত্তেজিত না হয়। আবার নিজেদের স্ক্রিন টাইম নিয়েও সচেতন হতে হবে। সন্তানকে ঘুম পাড়ানোর সময় নিজে মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকলে, তা শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাবে (Sleep Disorders in Children)। সেই সময় ফোনে কথা বলা বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। তাহলেই ‘ভালো’ ঘুম সম্ভব।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Liver Diseases: লিভারের রোগ বাড়ছে ভারতীয়দের! সতর্কবার্তা আইসিএমআর-এর, কেন চিন্তার বিষয়?

    Liver Diseases: লিভারের রোগ বাড়ছে ভারতীয়দের! সতর্কবার্তা আইসিএমআর-এর, কেন চিন্তার বিষয়?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য পরিমাণ খাবার খেলেও বমি, হজমের অসুবিধা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাই মুশকিল। পেটের চর্বি দিন দিন বাড়ছে। আবার খাবার খাওয়ার পরেই বুকের ভিতরে এক ধরনের অস্বস্তি বোধ হয়। এমন অসুবিধায় ভুগছেন অনেকেই। বিশেষত কম বয়সী ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে এই উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে। আবার পঞ্চাশোর্ধ্ব ভারতীয় মহিলাদের অনেকেই এই ধরনের ভোগান্তির শিকার। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণ হজমের অসুবিধা বলে এই সমস্যা এড়িয়ে গেলেই বিপদ বাড়বে। ভারতীয়দের লিভারের অসুখ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ভারতীয়দের মধ্যে লিভারের অসুখ বাড়ছে। বিশেষত কম বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে এই অসুখ বেশি দেখা দিচ্ছে। এর ফলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট?

    সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-র এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ৪০ শতাংশ ভারতীয় নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। যাদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ৩০-৪০ বছর। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, মদ্যপানে অভ্যস্ত না হলেও কম বয়সী ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের অসুখ দেখা দিচ্ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আবার ঋতুস্রাব পরবর্তী পর্বে ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই অসুখ দেখা দিচ্ছে। পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রায় ৪৫ শতাংশ ভারতীয় মহিলা নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিপুল সংখ্যক ভারতীয়ের এই অসুখ যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার উদ্বেগজনক রোগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফ্যাটি লিভার আসলে লিভারের সমস্যা। লিভারে অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট জমে যাওয়ার ফলেই এই রোগ হয়। সাধারণত অতিরিক্ত মদ্যপানে অভ্যস্ত হলে অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হন। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মদ্যপান না করলেও লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বলা হচ্ছে। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলেই লিভারে ক্ষত তৈরি হচ্ছে। ফলে লিভারের কার্যকারিতা কমছে। লিভার শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সেটার কার্যকারিতা নষ্ট‌ হলে শরীর সুস্থ থাকবে না। নানান জটিলতা তৈরি হবে। বিশেষত কম বয়সীদের মধ্যে এই নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ দীর্ঘ সুস্থ জীবন‌যাপনের পথে অন্তরায় হয়ে উঠছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক দশকে ভারতীয়দের জীবন যাপনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। খাদ্যাভাসের পরিবর্তন ঘটেছে। অধিকাংশ ভারতীয় এখন চটজলদি খাবারে অভ্যস্ত। আর চটজলদি খাবারে অধিকাংশ সময়েই পুষ্টিগুণ থাকে না। তাই শরীরের অপ্রয়োজনীয় ওজন বাড়ছে। ভারতীয়দের মধ্যে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস। একদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত প্রোটিন খাবার খাওয়া, আরেকদিকে নিয়মিত শারীরিক কসরত না করা। এই দুইয়ের জন্য ভারতীয়রা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাছাড়া পঞ্চাশ বছরের পরে মহিলাদের শরীরে নানান হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। তাই পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলাদের এই রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি? এই রোগ থেকে বাঁচার উপায় কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হলে অন্যদের আগাম সতর্ক থাকা জরুরি। তাছাড়া ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই খাবারে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার না খাওয়া, প্রাণীজ প্রোটিনের পাশপাশি সব্জি, ফাইবার জাতীয় খাবার সমান পরিমাণে খাওয়া জরুরি। তাহলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে। আবার ছোটো থেকেই নিয়মিত শারীরিক কসরতে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি। কারণ, তাতে শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি নষ্ট হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাহলে লিভারেও অতিরিক্ত ফ্যাট জমবে না। রোগের ঝুঁকিও কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Seasonal Change Health Risks: বিদায় নেবে শীত! আগাম গরম কোন সমস্যা নিয়ে আসছে?

    Seasonal Change Health Risks: বিদায় নেবে শীত! আগাম গরম কোন সমস্যা নিয়ে আসছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিদায় নিচ্ছে শীত! আর মাত্র কয়েক দিন! তারপরেই সোয়েটার আর লেপ কম্বলের পর্ব শেষ হতে চলেছে। গরম এবার আগাম পা বাড়িয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। কিন্তু বসন্তেই গরম হাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই আবহাওয়া একাধিক রোগের দাপট বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এমনটাই মত চিকিৎসকদের।

    কেন রোগের দাপট বাড়তে পারে?

    শীতে তাপমাত্রার পারদ কম থাকে। চলতি মরশুমে তাপমাত্রার পারদ অনেকখানি কমে গিয়েছিল। কিন্তু গরমের দাপটে আবহাওয়ার অনেকটাই পরিবর্তন হয়। শীত শেষের এই মরশুমে বাতাসে নানান ভাইরাসের দাপট বাড়ে। তাই সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া বছরের এই সময় শুষ্ক। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। তাই নানান ধরনের অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন শরীর সহজে মেনে নিতে পারে না। পেশি ও মস্তিষ্কের স্নায়ুর পরিবর্তিত পরিবেশ মানিয়ে নিতে সময় লাগে। তার ফলে শরীর বেঁকে বসে। হজমের সমস্যা থেকে পেশির খিঁচুনির মতো নানান ভোগান্তি তৈরি হয়। তাই এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাছাড়া আগামী সপ্তাহ থেকে দেশজুড়ে বোর্ড পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এই অবস্থায় তাদের শরীরের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    সুস্থ থাকার কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    আগাম গরমে বাড়তে পারে ভাইরাসঘটিত জ্বর ও কাশি।‌ তাই সংক্রমণ ঠেকাতে কয়েকটি বিশেষ পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীত কমে গেলেও সন্ধ্যার পরে কিংবা ভোরে হালকা ঠান্ডা থাকে। তাই এই সময়ে বাইরে বেরোলে অবশ্যই কান, গলা ঢাকা দেওয়া পোশাক পরা জরুরি। তাহলে আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি কমানো যাবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই এই আবহাওয়ায় কাশি ও গলা ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন। আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন থেকে অনেক সময় জ্বর হয়। ভোগান্তি বাড়ে।

    বয়স্কদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ

    বছরের এই সময়ে বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়। ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই শিশু ও বয়স্কদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। তাছাড়া ট্রেন-বাস-অটোর মতো গণপরিবহণ ব্যবহারের সময় সকলকেই মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত অসুখের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে অনেকেই কাশি-সর্দি-জ্বরে ভুগছেন। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।

    সংক্রমণ ঠেকাতে হাত ধোয়া জরুরি

    বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই হাত ধোয়া জরুরি। তাতে নানান সংক্রমণ ঠেকানো সহজ হয় বলেই মত চিকিৎসকদের একাংশের।
    খাবার খাওয়া নিয়েও বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। বিশেষত পরীক্ষার্থীদের জন্য খাদ্যাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। এই আবহাওয়ায় পেটের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। ঋতু পরিবর্তনের সময় হজমের গোলমাল হয়। তাপমাত্রার হঠাৎ বদলের জেরে শরীরের একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। তাই হজমের গোলমাল, পেটের অসুখ, বমির মতো ভোগান্তি কমাতে হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারি, অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার হজমের সমস্যা তৈরির পাশাপাশি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত‌্যন্ত জরুরি। তাই বিশেষ করে রাতের দিকে তাদের হালকা খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে পেশির খিঁচুনি‌ এড়াতে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই আবহাওয়ায় নিয়মিত শারীরিক কসরত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত শারীরিক কসরত করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। নানান সমস্যা এড়ানো যায়‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Epilepsy in West Bengal: রাজ্যে বাড়ছে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা! কোন বয়সে বাড়তি বিপদ? কী এর সমাধান?

    Epilepsy in West Bengal: রাজ্যে বাড়ছে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা! কোন বয়সে বাড়তি বিপদ? কী এর সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাজ্যে বাড়ছে এপিলেপসি (Epilepsy in West Bengal) বা মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। গোটা দেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি এবং নানান জটিলতা তৈরি করে। তাই প্রথম থেকেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ জরুরি (Epilepsy Symptoms Prevention) বলেই মত চিকিৎসক মহলের।

    দেশের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা কত?

    সর্বভারতীয় এক সমীক্ষায় সম্প্রতি জানা গিয়েছে, গোটা ভারতেই এপিলেপসি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সঙ্কট। ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে প্রতি ১০০০ জনে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ জন। শহরে পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। প্রতি ১০০০ জনে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ জন। পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় ১০০০ জনে এপিলেপসি আক্রান্তের (Epilepsy in West Bengal) সংখ্যা ১৫ জন। পুরুষদের মধ্যে সেই সংখ্যা অনেকটাই বেশি। ওই সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ পুরুষদের ১০০০ জনের মধ্যে ৩৭ জন এপিলেপসিতে আক্রান্ত হন। কলকাতা সহ বড় শহরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    কেন রাজ্যে এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের একটি বড় অংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। যারা জীবনের কোনও একটা সময় স্নায়বিক সমস্যায় ভুগেছেন। আবার অনেকের স্ট্রোক হয়েছে কিংবা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো জটিল সমস্যা রয়েছে। তাই এপিলেপসির (Epilepsy in West Bengal) মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে স্ট্রোকের ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিমেনশিয়ার মতো সমস্যাও বাড়ছে। তাই এপিলেপসির মতো জটিলতায় আরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।

    কোন বয়সে এপিলেপসি হওয়ার ঝুঁকি থাকে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স এপিলেপসি আক্রান্ত হওয়ার সীমারেখা টানতে পারে না। শিশুর জন্মের পরে প্রথম দুই বছরের মধ্যেই এই রোগ দেখা দিতে পারে। আবার সম্পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষ পঞ্চাশ কিংবা পঞ্চান্ন বছর বয়সে নতুন ভাবে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হলে বছর বারো বয়সের পরে রোগের প্রকোপ অনেকখানি কমে। শিশুদের এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তুলনায় বয়স্কদের এই রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। ৫০ কিংবা ৬০ বছর বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগ নিয়ন্ত্রণ তুলনায় জটিল হয়ে ওঠে।

    কেন হয় এপিলেপসি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের স্নায়ুতে অস্বাভাবিক ক্রিয়ার জন্য একধরনের শক্তি তৈরি হয়। যা শরীরের জন্য অতিরিক্ত। আর তার ফলেই খিঁচুনির মতো রোগ দেখা যায়। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এপিলেপসি বলা হয়।
    শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন মস্তিষ্কে ঠিকমতো অক্সিজেন না পৌঁছলে জন্মের পরেই শিশু এপিলেপসি আক্রান্ত (Epilepsy in West Bengal) হতে পারে। এছাড়াও ১-২ বছর বয়সে কোনও জটিল ভাইরাস ঘটিত অসুখ, মেনিনজাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হলে শিশুর এপিলেপসি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এপিলেসসি আক্রান্ত হওয়ার একাধিক কারণ থাকতে পারে। মূলত স্ট্রোকের কারণেই বয়স্কেরা এই রোগে আক্রান্ত হন। এছাড়া, কোনও ধরনের দূর্ঘটনার ফলেও এই রোগ হতে পারে। পথ দূর্ঘটনা কিংবা অত্যন্ত গভীর মানসিক চাপের জেরে মস্তিষ্কের স্নায়ুতে অস্বাভাবিক ক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তার ফলে এপিলেপসি হতে পারে। আবার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলে মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব পড়ে। তার জেরেও এপিলেপসি হতে পারে।

    ঘুমের মধ্যেই কি রয়েছে সুস্থ থাকার দাওয়াই?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এপিলেপসি পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব নয়। তবে এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণ (Epilepsy Symptoms Prevention) সম্ভব। ঘন ঘন খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো শরীরের জন্য বিপজ্জনক। তাতে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। তাই এপিলেপসি আক্রান্তের সুস্থ থাকা জরুরি। কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের স্নায়ুর বিশ্রাম সবচেয়ে জরুরি। তাই পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্তের নিয়মিত ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। তাতে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাবে। স্নায়ু অস্বাভাবিক অতিরিক্ত সক্রিয় হবে না। মানসিক চাপ তৈরি হয়, এমন কাজ কখনোই করা উচিত নয়। এপিলেপসি আক্রান্তের পাশপাশি তার পরিবারকেও এদিকে নজর দিতে হবে বলে জানাচ্ছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা বলছেন, মানসিক চাপ স্নায়ুর উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। তাই এপিলেপসি আক্রান্তের (Epilepsy in West Bengal) আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই তাঁদের মানসিক চাপ দেওয়া চলবে না। এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে হবে। খাবারে যাতে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এবং তেল মশলা না থাকে সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এগুলো পর্যাপ্ত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। প্রয়োজনে নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ এতে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। কিন্তু স্নায়ু্র কাজ স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া চিকিৎস যদি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন, তাহলে নিয়ম মেনে সেই ওষুধ খেতে হবে বলেও পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ মহল।

  • Heart Health in Spring: বসন্তে কি বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি? কেন বাড়তি খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Heart Health in Spring: বসন্তে কি বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি? কেন বাড়তি খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শীত আর বেশি দিন নেই। পলাশ ফুল জানান দিচ্ছে বসন্ত প্রায় দোড়গোড়ায়। বছরের এই সময়ে প্রকৃতি নানান রঙে সেজে ওঠে। শীতের আমেজ সরে গিয়ে, গরমের আভাস দেয় বসন্ত! তবে কবির লেখায় বসন্ত নিয়ে নানান রঙিন শব্দ চয়ন থাকলেও বসন্ত কিন্তু বিপজ্জনক! অন্তত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বসন্তে শরীরের দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি। না হলেই বড় বিপদ হতে পারে। বিশেষত হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয় বসন্ত।

    বসন্তে কেন বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে তাপমাত্রার পারদ কিছুটা কমে। আর বসন্ত এলেই হঠাৎ করেই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী হয়। আর আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে রক্তচাপে। শরীরের রক্তচাপ হঠাৎ করেই ওঠানামা করতে থাকে। পেশির সংকোচন ও প্রসারণের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়। আর তার জেরেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। রক্তচাপ ঘন ঘন ওঠানামা করলে কিংবা পেশি সংকোচন-প্রসারন ঠিকমতো না হলে হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতার উপরেও প্রভাব পড়ে। তার ফলেই হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও বাড়ে। তাই বসন্ত ঋতুতে হৃদপিণ্ডের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।

    কাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে ভারতে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বয়স আর সীমারেখা মানছে না। বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। তাই বয়স নয়, শরীর কেমন আছে, সেদিকে সকলের খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষত পুরুষদের এই বিষয়ে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। কারণ এ দেশে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, মহিলাদের তুলনায় ছেলেরাই হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হন। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে রক্তচাপ স্বাভাবিক কিনা, তা যাচাই করা জরুরি। বয়স কুড়ি হোক বা পঞ্চাশ, বছরের এই সময়ে অন্তত পনেরো দিন অন্তর রক্তচাপ যাচাই জরুরি। রক্তচাপ ঘন ঘন ওঠানামা করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলেই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

    খাদ্যাভ্যাসে বাড়তি নজর থাকুক

    বসন্তে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাই খাবারে বাড়তি নজরদারি জরুরি। এই সময়ে অনেকেই হজমের সমস্যায় ভোগেন। হজমের সমস্যা রক্তচাপকেও বাড়িয়ে দেয়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই সময়ে কম তেল মশলা জাতীয় হালকা খাবার খাওয়া উচিত। যাতে সহজেই হজম হয়। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, বাদাম জাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। এতে পেশির সংকোচন প্রসারণ ঠিকমতো হয়। হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা ঠিক হয়। তাছাড়া নিয়মিত সব্জি খাওয়া জরুরি। সবুজ সব্জি একদিকে হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আবার পালং শাক, পটল, ঝিঙের মতো ভিটামিন ও খনিজ সম্পদ ভরপুর সব্জি হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাই যাদের কোলেস্টেরল বেশি, এই সময়ে তাঁদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ

    হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। দেহের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। স্নায়ু ও পেশির সক্রিয়তা বজায় রাখে। এর ফলে হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা ঠিক থাকে। তাই হৃদরোগ এড়াতে যোগাভ্যাস জরুরি।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • HIV Alert in West Bengal: এক সপ্তাহে নতুন করে সংক্রমিত শতাধিক! রাজ্যে জোরালো থাবা এইচআইভি-র, কীভাবে বাড়ছে সংক্রমণ?

    HIV Alert in West Bengal: এক সপ্তাহে নতুন করে সংক্রমিত শতাধিক! রাজ্যে জোরালো থাবা এইচআইভি-র, কীভাবে বাড়ছে সংক্রমণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাজ্যে এইচআইভি সংক্রমণের জোরালো থাবা। পরিযায়ী শ্রমিক কিংবা ভিন রাজ্য থেকে আসা বাসিন্দাদের থেকে নয়। এই রাজ্যে বসবাসকারী প্রায় শতাধিক ব্যক্তির দেহে এই ভাইরাস নতুনভাবে সংক্রমণ হয়েছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক সপ্তাহে প্রায় ১০০-র বেশি মানুষ নতুন করে এইচআইভি সংক্রামিত হয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে। সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা প্রশাসনিক মহলের।

    কোন জেলায় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এইচআইভি? কী বলছে স্বাস্থ্য দফতর?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানে এক যুবকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে, তিনি এইচআইভি আক্রান্ত। তারপরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে আরও একাধিক ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। এরপরে প্রায় ৯০ জনের দেহে এই ভাইরাস পাওয়া যায়। যারা বর্ধমানের বাসিন্দা। পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং হুগলিতেও নতুন করে এইচআইভি আক্রান্ত পাওয়া গিয়েছে। আক্রান্তের ৯৯ শতাংশ পুরুষ। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্তদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। অধিকাংশ আক্রান্ত সমকামী পুরুষ। তাই নতুন করে এইচআইভি আক্রান্তদের অধিকাংশই পুরুষ।

    কেন রাজ্যে হঠাৎ এইচআইভি সংক্রমণ উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ল?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের এক বছর তিরিশের যুবক বেশ কয়েক মাস ধরেই নানান শারীরিক অসুবিধায় ভুগছিলেন। তাঁকে পরীক্ষা করেই এইচআইভি সংক্রমণের বিষয়টি জানা যায়। তাঁর সূত্র ধরেই এরপর কয়েকশো মানুষের শারীরিক পরীক্ষা চলে। হঠাৎ করেই এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ অসচেতনতা। এমনটাই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে জানা গিয়েছে, অধিকাংশ আক্রান্ত পরস্পরের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত। সেই পরিচয় থেকেই ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বিধি না মেনেই তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ফলেই এইচআইভি সংক্রমণ এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় সুরক্ষাবিধি মেনে না চলা এবং একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। তাই একসঙ্গে এত মানুষ নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

    আক্রান্তদের জন্য কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই রোগ নিয়ে নানান সামাজিক ছুৎমার্গ আছে। তাই সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখেই এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু রোগীর এই রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা জরুরি। সময় মতো ওষুধ নেওয়া প্রয়োজন। যাতে রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এইচআইভি ভাইরাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি নষ্ট করে দেয়। এর ফলে আক্রান্ত একাধিক রোগে ভুগতে পারেন। এই ভাইরাসের শক্তি কমাতে না পারলে স্বাভাবিক জীবন যাপন কঠিন। তাই রোগের চিকিৎসা জরুরি‌। তাছাড়া এই রোগ রয়েছে কিনা সে সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন। তাই আক্রান্তের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, এমন সকলেই যাতে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করান, সে সম্পর্কেও প্রশাসনের তরফে লাগাতার প্রচার জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই রোগ যাতে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য আরও বেশি পরীক্ষা জরুরি। তবেই রোগ নির্ণয় হবে। ফলে সংক্রমণ আটকানো সহজ হবে।

    স্বাস্থ্য দফতর কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

    স্বাস্থ্য ভবনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, পূর্ব বর্ধমানের কালনা সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় গত কয়েক সপ্তাহে এইচআইভি ভাইরাসের দাপট দেখা গিয়েছে। তাই পূর্ব বর্ধমানে ও তার আশপাশের এলাকায় লাগাতার প্রচার কর্মসূচি করা হচ্ছে। আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলে আরও বেশি স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তেরা যাতে কোনও রকম সামাজিক হেনস্থার শিকার না হয়, সেদিকেও নজরদারি রয়েছে। পাশপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হতেই অস্বাস্থ্যকর ভাবে, অসুরক্ষিতভাবে ঘনিষ্ঠ হলে কী ধরনের বিপদ হতে পারে, সে নিয়েও সচেতনতা কর্মসূচি চলছে!

LinkedIn
Share