Tag: Heart Disease

Heart Disease

  • Heart Attack Warning Signs: বুকে ব্যথা নেই, তবু হতে পারে হার্ট অ্যাটাক! এই ৭ সাধারণ উপসর্গ একেবারেই অবহেলা নয়

    Heart Attack Warning Signs: বুকে ব্যথা নেই, তবু হতে পারে হার্ট অ্যাটাক! এই ৭ সাধারণ উপসর্গ একেবারেই অবহেলা নয়

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    প্রতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আকস্মিক মৃত্যু চিকিৎসার সময়ও দিচ্ছে না। বয়সের সীমারেখায় আর বিপদ আটকে থাকছে না। বরং, কম বয়সিদের মধ্যেও উদ্বেগজনক ভাবে মৃত্যু বাড়ছে। তাই ভারতে হৃদরোগ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ সময়েই হৃদরোগ সম্পর্কে অসচেতনতা চরম পরিণতির কারণ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র বুকে ব্যথাই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার একমাত্র উপসর্গ নয়। কিন্তু অধিকাংশ ভারতীয়দের হৃদরোগের উপসর্গ সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট নেই। ফলে, একাধিক সমস্যাকে হজমের অসুবিধা ভেবে অবহেলা করা হয়। প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করানো হয় না। তাই বড় বিপদ ঘটে।

    কোন সাধারণ উপসর্গ বিপদজ্জনক হয়ে উঠতে পারে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র বুকে ব্যথা বা বুকে খিঁচ ধরাই হৃদরোগের একমাত্র উপসর্গ নয়। হৃদরোগের একাধিক উপসর্গ থাকে। যেগুলো খুব সাধারণ সমস্যা মনে হলেও, একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কয়েক মিনিট হাঁটাচলার পরে বা সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই অস্বস্তি বোধ করা কিংবা শ্বাসকষ্ট হলে হৃদরোগের ঝুঁকি থাকতে পারে।
    সামান্য পরিশ্রমের কাজ করলেও অসম্ভব ক্লান্ত হয়ে যাওয়া কিংবা বুকের ভিতরে অস্বস্তি বোধ করা এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মতো উপসর্গ আসলে হৃদরোগের কারণ হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
    বারবার বমি হওয়া কিংবা দিনভর বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা এবং দূর্বল অনুভব করাও হৃদরোগের অন্যতম ঝুঁকি বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই বারবার বমি করা কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গকে শুধুমাত্র হজমের সমস্যা ভাবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই হজমের ওষুধ খেয়ে নেন। যা আসলে হৃদরোগের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময়েই চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যায় না।
    বুকে ব্যথা না হলেও কাঁধ, পিঠ এবং মুখের চোয়ালে হঠাৎ অস্বাভাবিক যন্ত্রণা এবং শ্বাসকষ্ট হৃদরোগের অন্যতম উপসর্গ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পেশির টান ধরা বলে ইচ্ছেমতো পেন কিলার খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। তবেই সময় মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে‌।

    ভারতে কি হৃদরোগে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারতে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। যা ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একাধিক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর তালিকায় প্রথমেই থাকছে হৃদরোগ। হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর সংখ্যা প্রত্যেক বছর বাড়ছে।
    ন্যাশনাল রেসপিরেটিভ ডেথ স্টাডি-র এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশের বয়স ৩০-৫০ বছরের মধ্যে।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হৃদরোগ সম্পর্কে অসচেতনতা এবং উপসর্গকে অবহেলা করার ফলেই মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে হৃদরোগ, দেশ জুড়ে অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট হয়ে উঠেছে।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগের দাপট বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর নেপথ্যেও থাকছে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে বুকে ব্যথা, অস্বস্তির মতো একাধিক হৃদরোগের উপসর্গ বোঝা যায় না। ফলে, হার্ট অ্যাটাক এবং তারপরে মৃত্যু ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
    ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ তামাক সেবন। চিকিৎসকের জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই ভারতীয়দের মধ্যে ধূমপানে আসক্তি দেখা যায়। অনেকেই নানান রকমের তামাকজাত দ্রব্য সেবন করেন। এরফলে হৃদরোগ দেখা দিচ্ছে।
    শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া হৃদরোগের বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম বয়সি শহুরে ভারতীয়দের কাজের পদ্ধতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। দীর্ঘসময় তাঁরা বসে কাজ করেন। এর ফলে শরীরে অতিরিক্ত ওজন বাড়ছে, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট‌ হচ্ছে। এগুলো হৃদরোগের বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
    ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ খাদ্যাভ্যাস বলেও মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ ভারতীয় অতিরিক্ত নুন খাওয়ায় অভ্যস্ত। তাছাড়া অতিরিক্ত তেল এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়াই ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসে দেখা দিচ্ছে। এরফলে বিপদ বাড়ছে। ক্ষতিকারক রাসায়নিক এবং অতিরিক্ত তেল শরীরে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই ভারতীয়দের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Chronic Disease: ডায়াবেটিস থেকে শ্বাসকষ্ট— ভারতে বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট, কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

    Chronic Disease: ডায়াবেটিস থেকে শ্বাসকষ্ট— ভারতে বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট, কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কেউ শ্বাসকষ্টের জেরে বছরের বিভিন্ন সময়েই ভোগেন, আবার কেউ পেটের সমস্যায় কাবু! সমস্যার জেরে বাইরে যাওয়ার আগেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। কেউ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপকেই নিত্যসঙ্গী করে চলছেন। বিশ্বের অন‌্যান্য দেশের মতো ভারতেও বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিদের মধ্যেও এই ক্রনিক রোগের দাপট বাড়ছে। ক্রনিক ডিজিজ ডে-তে চিকিৎসক মহল জানাচ্ছেন, মনের জোরেই এই রোগ মোকাবিলার পথ সহজ হবে। মানসিক শক্তিই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেও সাহায্য করবে।

    ক্রনিক ডিজিজ কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনো রোগে তিন মাসের বেশি সময় আক্রান্ত থাকলে, তাকে ক্রনিক ডিজিজ বলা যেতে পারে। তবে, আরও কয়েকটি দিক সেক্ষেত্রে দেখতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে দীর্ঘ সময় এই রোগের উপস্থিতি থাকার পাশপাশি এই রোগ অনেকক্ষেত্রেই পুরোপুরি সেরে যায় না। বারবার ফিরে আসার ঝুঁকিও থাকে। কখনো রোগের দাপট বাড়ে। আবার কখনো কমে।

    ভারতে কোন ক্রনিক রোগের দাপট বেশি?

    গত কয়েক দশকে ভারতে উদ্বেগজনক হারে ক্রনিক রোগের দাপট বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিছু রোগ সংক্রামক হয় না। কিন্তু সেই রোগে আক্রান্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি চলে। রোগের বোঝা জনজীবনে গভীর ভাবে পড়ে। গত কয়েক দশকে ভারতে এমন কিছু রোগের দাপট বাড়ছে, যা জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।

    সিওপিডি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বাড়ছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। শ্বাসকষ্টজনিত এই রোগে কাবু শিশু থেকে বয়স্ক অনেকেই। এই রোগ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশপাশি ফুসফুসের আরও একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হয়‌।

    পেটের সমস্যা

    এছাড়াও ভারতের অন্যতম বড় ক্রনিক রোগ হলো পেটের সমস্যা। অধিকাংশ ভারতীয় পেটের সমস্যায় কাবু। অন্ত্রের একাধিক সমস্যার জেরে হজমের গোলমাল এবং পেটের সমস্যা দেখা দেয়। বারবার মলত্যাগ, পেট ব্যথার মতো সমস্যার জেরে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিরাও এই পেটের সমস্যায় কাবু হন।

    অস্টিওপোরোসিস

    ভারতে বাড়ছে হাড়ের ক্রনিক রোগ। বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, তিরিশের চৌকাঠ পার করার পরেই ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে হাড় ক্ষয়ের রোগ বাড়ছে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অস্টিওপোরোসিস বলা হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে বিশেষত হাঁটু, কোমড় এবং অন্যান্য জয়েন্টে তীব্র যন্ত্রণা, দীর্ঘসময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকায় মুশকিল হয়।

    ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে কিডনি ও হৃদরোগের ক্রনিক  ডিজিজ

    এছাড়াও ভারতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির ক্রনিক অসুখ এবং হৃদরোগ ক্রনিক ডিজিজ হিসাবে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরোনোর পরেই বহু ভারতীয় এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবন যাপন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কর্মদক্ষতা কমছে। স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব হচ্ছে না।

    কেন ক্রনিক রোগের মোকাবিলায় মনের জোরকেই হাতিয়ার করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ২০২৬ সালের ক্রনিক ডিজিজ ডে-তে বিশ্ব জুড়ে পালন হবে I stay strong! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ক্রনিক রোগ মোকাবিলায় মূল হাতিয়ার মনের জোর। ক্রনিক রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। একাধিক বার এই রোগে আক্রান্তের ভোগান্তি বাড়ে। সুস্থ থাকতে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানান চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হয়‌। অনেক খাবার খাওয়া এবং অন্যান্য একাধিক অভ্যাসে পরিবর্তন জরুরি হয়। ফলে জীবন যাপনেও নিয়ন্ত্রণ থাকে। অনেকক্ষেত্রেই রোগীর একঘেয়েমি লাগতে পারে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘকাল শরীরে উপস্থিত থাকা রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানসিক জোর জরুরি। পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়, জেনেও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, তবেই রোগের দাপট নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার রোগের প্রকোপ বাড়লেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না। বছরের কিছু সময়ে, শ্বাসকষ্ট, অন্ত্রের সমস্যার মতো ক্রনিক রোগ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন হলে বিপদ বাড়বে। বরং কীভাবে বাড়তি ভোগান্তি কমানো যাবে, সে সম্পর্কে রোগীকে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। আর এই সবকিছু দীর্ঘদিন ধরে চলবে। তাই মানসিক শক্তি জরুরি। মনের জোর না থাকলে ক্রনিক রোগের মোকাবিলা কঠিন।

    ক্রনিক রোগ ঠেকাতে কী কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আক্রান্তদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন মনের জোর। আর দেশ জুড়ে বাড়তে থাকা ক্রনিক রোগের দাপট কমাতে প্রয়োজন সচেতনতা। শ্বাসকষ্ট, অন্ত্রের গোলমালের মতো ক্রনিক রোগের দাপট কমাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা জরুরি। বায়ুদূষণ, জল দূষণের মাত্রা কমলেই এই ধরনের জটিল ক্রনিক রোগের দাপট কমবে। সকলের জন্য পরিশ্রুত পানীয় জল জরুরি। যথেচ্ছ বাজি পোড়ানো, গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। সরকারের পাশপাশি জনসমাজেও পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তবেই রোগের বোঝা কমবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। খাদ্যাভ্যাস ও শরীর চর্চা নিয়ে আরও বেশি সজাগ থাকতে হবে। নিয়মিত শারীরিক কসরত করতে হবে। যাতে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা তৈরি না হয়। তাছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। তাহলেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, হৃদরোগের মতো ক্রনিক রোগের দাপট কমানো যাবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Heart Disease: শীতের শুরুতেই বাড়ছে হৃদরোগের প্রকোপ! কাদের ঝুঁকি বেশি?

    Heart Disease: শীতের শুরুতেই বাড়ছে হৃদরোগের প্রকোপ! কাদের ঝুঁকি বেশি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দরজায় কড়া নাড়ছে শীত (Winter Season)! ভোরের ঠান্ডা হাওয়া জানান দিচ্ছে আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। যদিও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে আবহাওয়া। দুপুরে রোদের তীব্রতায় ঠান্ডার আমেজ আর থাকছে না। তাই বাড়ছে অস্বস্তিও। এমন পরিস্থিতিতে বিপদ বাড়ছে। হৃদরোগের ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। প্রৌঢ়দের পাশাপাশি কম বয়সিদের মধ্যেও হৃদরোগের (Heart Disease) প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। বিশেষত শীতের আগে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। তাই যথেষ্ট উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, আগাম সতর্কতা না নিলে বড় বিপদ এড়ানো যাবে না।

    কেন শীতের (Winter Season) শুরুতে হৃদরোগের প্রকোপ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের শুরুতে হৃদরোগের (Heart Disease) প্রকোপ বাড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে হৃদরোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এই রোগের দাপট বাড়ছে। তাই বছরভর সাবধানতা জরুরি। তবে শীতের সময়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, বছরের এই সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। বিশেষত তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য বদল ঘটে। তাপমাত্রা বারবার ওঠানামার জেরে রক্তচাপের উপরেও প্রভাব পড়ে। দিনের একটা সময়ে হঠাৎ গরম, আবার কিছুটা সময়ে বেশ ঠান্ডা, এমন তাপমাত্রার বদলের জেরে রক্তচাপ হঠাৎ করেই ওঠানামা করে, এর জন্য হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

    কাদের বিপদ বেশি?

    হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে হৃদরোগের (Heart Disease) ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই শীতের (Winter Season) শুরুতে তাঁদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি। কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্যও বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়। কারণ, এই সমস্যা থাকলে অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের সমস্যা তৈরি হয়। তাই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

    কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে এই আবহাওয়ায় বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষত হৃদরোগের (Heart Disease) ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি। সহজপাচ্য খাবার নিয়মিত খাওয়া দরকার। কম তেল মশলা দিয়ে নিয়মিত সবুজ সব্জি, মাছ, মাংস কিংবা ডিম খাওয়া প্রয়োজন। যাতে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং প্রোটিন পায়। আবার যাতে কোলেস্টেরলের মাত্রা না বাড়ে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার একেবারেই খাওয়া চলবে না। যাতে শরীরে অতিরিক্ত ওজন না বাড়ে। তাতে কোলেস্টেরলের মাত্রাও‌ বাড়ে। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। প্রাণীজ প্রোটিনের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে সবুজ সব্জি, ফাইবার সমৃদ্ধ ফল খেতে হবে। শরীরে প্রোটিনের পাশপাশি ভিটমিন, খনিজ পদার্থের জোগান হলে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। শরীর সুস্থ থাকবে।

    খাবারের পাশপাশি নিয়মিত শারীরিক কসরত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত আধ ঘণ্টা হাঁটা জরুরি।‌ তাতে শরীরে ক্যালোরি ক্ষয় হয়। নিয়মিত আধ ঘণ্টা হাঁটলে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। আবার প্রত্যেক দিন সকালে যোগাভ্যাস করলে স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। শরীরের অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকবে। শীতে ঘাম কম হয়। তাই অনেক সময়েই ক্যালোরি ক্ষয় কম হয়। তাই ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে‌। এই সময়ে নিয়মিত ব্যায়াম করলে একাধিক রোগের ঝুঁকি কমবে। হৃদরোগের আশঙ্কাও কমবে।

    হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় আক্রান্তদের নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা দরকার। যাতে তাদের রক্তচাপ অনিয়মিত হচ্ছে কিনা, সেটা নজরে রাখা যায়। তাছাড়া, ডায়াবেটিস কিংবা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে হাতে-পায়ের পেশিতে খিঁচুনি, মাথার পিছনে যন্ত্রণা কিংবা বুকে চিনচিনে ব্যথা, বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। প্রথমেই চিকিৎসা শুরু হলে হৃদরোগের (Heart Disease) বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share