Tag: Hindu Attacks

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, মন্দিরের জমি দখল, ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, মন্দিরের জমি দখল, ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তরণের অভিযোগ, মন্দিরের সম্পত্তি দখল এবং ধর্মীয় উৎসব ঘিরে উত্তেজনার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার বিবরণে কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও তামিলনাড়ুর পাশাপাশি বাংলাদেশের সিলেট ও গোপালগঞ্জের ঘটনাও উঠে এসেছে (Hindus Under Attack)। তবে এসব ঘটনার মধ্যে বেশ কয়েকটি এখনও অভিযোগ এবং তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

    ভারতে গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা ঘিরে উত্তেজনা, মহিলাদের ধর্মান্তরণের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ এবং মন্দিরের জমি জাল নথির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ সামনে এসেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর এবং একটি হিন্দু পরিবারের কারখানা দখলের অভিযোগ উঠেছে (Roundup week)।

    গণেশ বিসর্জনের শোভাযাত্রার পথ নিয়ে অশান্তি (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের বিজয়নগর জেলার হুভিনাহাদাগালির ইসলাম পেঠ এলাকায় গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। কোরাভারা ওনি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় শোভাযাত্রার পথ নিয়ে স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের একাংশ আপত্তি জানান।

    বিক্ষোভকারীরা আগের বছরের নির্ধারিত পথ অনুসরণের দাবি জানান। এদিকে, শোভাযাত্রার আয়োজকেরা দীর্ঘদিনের প্রচলিত পথ ব্যবহারের দাবিতে অনড় থাকেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় বিধায়কের হস্তক্ষেপে বিকল্প পথ নিয়ে সমঝোতা হয়, এগোয় শোভাযাত্রা।

    উমর খালিদকে জাতীয়তাবাদী বলায় রাজনৈতিক বিতর্ক

    বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতে উমর খালিদকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের বিরোধিতা করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। এই বিরোধিতার সমালোচনা করে কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা বিকে হরিপ্রসাদ উমর খালিদকে জাতীয়তাবাদী বলে অভিহিত করেন।

    হরিপ্রসাদ অভিযোগ করেন, নাথুরাম গডসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সংগঠনের উমর খালিদের সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার নেই। এদিকে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের বিরোধিতা করে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

    শ্রীরঙ্গম মন্দিরের  জমি দখলের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুতে শ্রীরঙ্গম মন্দিরের জমি জাল নথি ব্যবহার করে দখলের অভিযোগে ডিএমকের পদাধিকারী রামকুমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

    অভিযোগ, ১৯৩০ সালে জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে জমিটি শ্রীরঙ্গম মন্দিরকে দান করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই জমির আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। অভিযোগ, রামকুমার ২০২২ সালে জাল নথির মাধ্যমে সম্পত্তিটি অবৈধভাবে নিজের নামে নথিভুক্ত করেন এবং পরে জমিটি দখল করেন।

    তরুণীর ধর্মান্তরণ ঘিরে বিতর্ক

    উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগর জেলার এক তরুণীকে ঘিরে ধর্মান্তরণের অভিযোগ সামনে এসেছে। আজমগড় থেকে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি দৃশ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়।

    ভাইরাল হাওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, এক তরুণীকে বিভ্রান্ত অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে এবং নমাজ পড়ার জায়গা খুঁজতে।

    ঘটনাটি ঘিরে ধর্মান্তরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলেও, তরুণীর ধর্মান্তরণ হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি (Hindus Under Attack)।

    ধর্মান্তরণের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ

    মধ্যপ্রদেশের রেওয়ায় বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত ছয় মহিলা সইফ পাঠান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন বলে খবর।

    অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অভিযুক্ত তাঁদের অনুসরণ করতেন, হেনস্তা করতেন এবং ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করতেন। পাশাপাশি তাঁদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন ওই মহিলারা।

    বিষয়টি নিয়ে আমাহিয়া থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।

    বন্দে মাতরম বাজানো বন্ধের নির্দেশ ঘিরে উত্তেজনা

    কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার উপ্পিনাঙ্গাডিতে গণেশ বিসর্জনের শোভাযাত্রা চলাকালীন বন্দে মাতরম বাজানো নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় (Roundup week)।

    সার্বজনিক শ্রী গণেশোৎসব সমিতি সেবা ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত বিসর্জনের সময় এক পুলিশ কর্তা বন্দে মাতরম বাজানোয় হস্তক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ। তিনি গানটি প্রথম দুই স্তবকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। ঘটনায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

    নাবালিকাকে অশ্লীল দৃশ্য দেখানোর অভিযোগে গ্রেফতার

    কর্নাটকের পুরনো হুবলিতে এক নাবালিকাকে মোবাইলে অশ্লীল দৃশ্য দেখানো এবং তার সঙ্গে অনুপযুক্ত আচরণের চেষ্টার অভিযোগে বছর আটত্রিশের মাজিদ নাদাফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    জানা গিয়েছে, শিশুটি বাড়িতে ফিরে অভিভাবকদের পুরো ঘটনাটি জানায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা পুরনো হুবলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় (Hindus Under Attack)।

    উত্তরাখণ্ডে ধর্মান্তরণ ও বিয়ের অভিযোগে যুবক আটক

    উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের লাকসার এলাকায় ছত্তিশগড়ের এক হিন্দু মহিলাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার অভিযোগে আশিফ নামে এক মুসলিম যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    অভিযোগ, ওই যুবক মহিলাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে প্ররোচিত করেন এবং পরে তাঁকে বিয়ে করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে ধর্মান্তরণ ও বিয়ের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার

    কর্নাটকের চিক্কাবল্লাপুরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পরিকল্পনার অভিযোগে সাব্বির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত বাপুজিনগরের বাসিন্দা।

    অভিযোগ অনুযায়ী, দেশে বড় ধরনের হিংসাত্মক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন অভিযুক্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিশানা করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে

    (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশের ছবি

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সিলেটে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর এবং গোপালগঞ্জে একটি হিন্দু পরিবারের কারখানা দখলের অভিযোগ সামনে এসেছে।

    দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর

    সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম বাজার নবীনগর সর্বজনীন পূজামণ্ডপে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, সাইদুজ্জামান শিমুল নামে বছর ঊনত্রিশের এক যুবক বঁটি নিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করেন এবং প্রতিমার বিভিন্ন অংশে আঘাত করে।

    পূজা কমিটির সদস্যরা পুলিশে খবর দিলে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি বঁটি উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্তকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত (Hindus Under Attack)।

    হিন্দু পরিবারের কারখানা দখলের অভিযোগ

    বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বড় ভাটরা গ্রামে একটি হিন্দু পরিবারের কারখানা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগকারী নীলকণ্ঠ মণ্ডলের দাবি, ২০০৩ সালে তাঁর পরিবার এস শেখের কাছ থেকে সাড়ে ৩৪ শতাংশ জমি কিনেছিল। প্রথমে জমিটি তাঁর মায়ের নামে নথিভুক্ত করা হয়। মায়ের মৃত্যুর পর সম্পত্তির মালিকানা তাঁর তিন ছেলের কাছে যায়।

    নীলকণ্ঠের দাবি, জমি তাঁদের নামেই করা হয়েছিল। নিয়মিত ট্যাক্সও দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও হাসিনা বেগম নামে এক মহিলা সশস্ত্র লোকজন নিয়ে কারখানা দখল করেন বলে অভিযোগ।

    পরিবারের দাবি, নিরাপত্তার আশঙ্কায় তাঁরা এখন নিজেদের কারখানাতেও যেতে পারছেন না। তবে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    ভারত ও বাংলাদেশের এসব ঘটনা ঘিরে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সম্পত্তির অধিকার এবং ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের বিষয়গুলি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হ্রাস এবং সংখ্যালঘুদের জমি দখলের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকত। তাঁর গবেষণায় বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এটি একটি গবেষণাভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নয়।

    এদিকে (Hindus Under Attack), ভারতে ধর্মীয় উৎসবের উপর বিধিনিষেধ, ধর্মান্তরণসংক্রান্ত অভিযোগ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রশ্নও উঠে এসেছে (Roundup week)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ভারতের বাইরে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল এবং বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলিকে তুলে ধরে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই (Roundup Week) করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনটির দাবি, হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের মধ্যে খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি অবমাননা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং যৌন হিংসার মতো ঘটনাও রয়েছে।

    মুর্শিদাবাদে যুবক খুনের অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    মুর্শিদাবাদের সুজিত মণ্ডলকে খুন ও দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে জানি শেখ, সামাউল হক এবং তাজকিরা বিবির বিরুদ্ধে। পুলিশের অনুমান, ঘটনার নেপথ্যে অর্থনৈতিক বিবাদ থাকতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাক্কার বাসিন্দা সামাউল একটি পোশাকের দোকান চালান এবং এর আগে একটি বিড়ি কারখানায় গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময় থেকেই সুজিতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। অভিযোগ, সুজিত সামাউলকে কয়েক হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। টাকা ফেরত চাওয়ার পর দু’জনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ

    স্বঘোষিত নারীবাদী চিন্ময়ী শ্রীপাদার বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবকে অবমাননা করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কয়েক দিন আগে বরলক্ষ্মী ব্রতের সময় তিনি হিন্দু মহিলাদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

    এর পর জন্মাষ্টমীর সময় একটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেদনের দাবি, অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ না করে তিনি জানান, তারা মুসলিম হওয়ায় তাঁদের নাম প্রকাশ করা হবে না। এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    নেপালে বন্যাত্রাণে ধর্মভিত্তিক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    নেপালের বন্যাকবলিতদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ লাখ ডলারের ত্রাণ সহায়তা ঘোষণা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফার ত্রাণ ক্যাথলিক ত্রাণ পরিষেবা এবং তাদের স্থানীয় সহযোগী কারিতাস নেপালের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

    এই ত্রাণ বণ্টনের মাধ্যমকে কেন্দ্র করে ভারতীয় উপমহাদেশে পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলির মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সেই সাহায্য শুধুই মানবিক উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি ধর্মপ্রচার ও ধর্মান্তরের ক্ষেত্রেও তা ব্যবহৃত হতে পারে।

    ঐতিহাসিক মন্দিরের জলাধার সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘ লড়াই

    বছর তিয়াত্তরের ভক্ত বাসাই জয়রামনের কয়েক দশকের আন্দোলনের পর একটি ঐতিহাসিক মন্দিরের জলাধার সংস্কারের দাবিতে প্রশাসন পদক্ষেপ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    জয়রামনের বক্তব্য, গত ৪৫ বছর ধরে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন বিধায়ক, মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বহুবার আবেদন করেও এত দিন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি।

    সুক্র তীর্থম নামে পরিচিত ওই জলাধারটি এলাকার প্রায় ১,৪৫০ বছরের পুরনো একটি শিবমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ওই জলাধারে স্নান করে দেবতার পুজো করলে মানসিক অসুস্থতা নিরাময় হয়।

    ধর্মান্তরের অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর জেলার বলুরওয়া গ্রামে একটি মাঠে ধর্মান্তরের চেষ্টা চালানোর অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা একটি খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধর্মান্তরের সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ করেন।

    খবর পেয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে পুলিশে খবর দেন। তাঁদের আসার পর কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভিঠা থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক নরেশ কুমার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, তদন্ত চলছে।

    ধর্মান্তরের চাপে মৃত্যুর অভিযোগ

    অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলায় নূকরাজু পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বছর আটত্রিশের সৌজন্যার নামে লেখা পাঁচ পাতার একটি আত্মহত্যার নোট প্রকাশ্যে আসার পর দীর্ঘদিনের ভয় দেখানো, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, তাঁর ছেলেকে হুমকি এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌজন্যা, তাঁর বাবা নূকরাজু, মা মীনা এবং নাতি রিয়ানশ রাজামহেন্দ্রবরমের সড়ক-রেল সেতু থেকে গোদাবরী নদীতে ঝাঁপ দেন বলে অভিযোগ।

    কর্নাটকে মহিলার মৃত্যু ঘিরে তদন্ত

    কর্নাটকের চিক্কবল্লাপুর জেলার চক্কাহল্লি গ্রামের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে চৈত্রা নামে এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় আট বছর ধরে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছিলেন চৈত্রা এবং সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বাস করতেন। তাঁর সঙ্গে সাব্বির নামে এক ব্যক্তির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নন্দী হিলস থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে (Hindus Under Attack)।

    মন্দিরের দানস্বরূপ ঘণ্টা বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

    একটি মন্দিরের দানস্বরূপ পাওয়া ঘণ্টা আত্মসাৎ এবং বেআইনিভাবে পরিবহণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনায় মন্দিরের ৪০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হলেও, ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যত থেমে গিয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্তও অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। নথিতে উল্লিখিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আবু বকর নামে এক দরদাতার মাধ্যমে ঘণ্টাগুলি পরিবহণ ও বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্ত থেকে আবু বকরের নাম বাদ পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা নিয়ে প্রতিবেদনে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্মনিন্দার অভিযোগ তুলে গণহামলা, মহিলাদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস ও এর পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে সাময়িক মুক্তি

    বাংলাদেশের হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে তাঁর মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য চলতি সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রায় দু’বছর কারাগারে থাকার পর প্যারোলে মুক্তি পান তিনি।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি আবেগঘন ভিডিওর উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিতে প্রণাম করার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কাঁদতে দেখা যায়। পরে তাঁকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ঘটনাটি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিস্থিতির একটি দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পিছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    হিন্দু উৎসব নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষের পাশাপাশি নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত কিছু দেশেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায়।

    এই ধরনের বৈষম্য আইন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং জনপরিসরের আচরণের মধ্যেও প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারে ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    প্রতিবেদনটির বক্তব্য, উপরিতলে এই নিষেধাজ্ঞাকে পরিবেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে (Roundup Week) অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে অনুরূপ বিধিনিষেধ কতটা প্রয়োগ করা হয়, সেই তুলনামূলক ছবি বিবেচনা করলে উঠতে পারে বৈষম্যের প্রশ্ন।

     

LinkedIn
Share