Tag: Hindu crisis

  • Bangladesh Hindu Crisis: বাংলাদেশে ফের নিখোঁজ হিন্দু পরিবার! ব্যবসায়ী-সহ নিখোঁজ চারজন, চাঁদপুরে উদ্বেগ

    Bangladesh Hindu Crisis: বাংলাদেশে ফের নিখোঁজ হিন্দু পরিবার! ব্যবসায়ী-সহ নিখোঁজ চারজন, চাঁদপুরে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু (Bangladesh Hindu Crisis) ব্যবসায়ী, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাঁদপুর জেলায়। গত ২৬ আগস্ট থেকে চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী রিমি দাস এবং দুই ছেলে প্রিয়ম দাস ও রূপম দাস। এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও সন্ধান মেলেনি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারটি আত্মগোপন করেছে, নাকি নিখোঁজের পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। চাঁদপুর শহরের মদিনা মার্কেটে ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসা চালাতেন পিন্টু দাস। তাঁর বড় ছেলে প্রিয়ম দশম শ্রেণির ছাত্র। দুই ছেলেই কিশোর এবং পড়াশোনা করত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

    ঋণের চাপে ছিলেন ব্যবসায়ী?

    পরিবারের আত্মীয়দের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন পিন্টু। ব্যবসার জন্য নেওয়া ঋণের চাপও বাড়ছিল। সম্প্রতি এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি হুমকিও পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পিন্টুর আত্মীয় এবং জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে জানিয়েছেন, চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাড়ি থেকেই নিখোঁজ হয়েছে গোটা পরিবার। তাঁর দাবি, ঋণের কারণে পিন্টু মানসিক চাপে ছিলেন এবং তাঁকে হুমকি দেওয়ার কথাও তাঁরা শুনেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিন্টু সোনা ভরাট এবং বন্ধক রাখার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সোনার গয়না বন্ধক রাখতেন তিনি। অভিযোগ, ব্যবসার নামে একাধিক সমবায় সমিতি ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে ঋণ নিয়েছিলেন পিন্টু। ফলে তাঁর উপর বড়সড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

    গ্রাহকদের সোনা ও টাকা আটকে

    পিন্টু দাসের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগে পড়েছেন তাঁর ব্যবসার গ্রাহকরাও। বহু মানুষ তাঁর কাছে সোনার গয়না বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান জানান, তিনি ২৯.১৬ গ্রাম সোনার গয়না বন্ধক রেখে পিন্টুর কাছ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি টাকা নিয়েছিলেন। পরে গয়না ছাড়ানোর জন্য টাকা জোগাড় করে পিন্টুর কাছে গেলে তাঁকে পরের দিন আসতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন তিনি জানতে পারেন, পিন্টু ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যই নিখোঁজ। এরপর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। আরও দুই গ্রাহক জাহিদুল ইসলাম এবং শুভঙ্কর মজুমদারও পিন্টুর কাছে সোনা বন্ধক রাখার কথা জানিয়েছেন। জাহিদুলের দাবি, তিনি ১২ আনা সোনা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে শুভঙ্কর জানিয়েছে, সে ১০ আনা সোনা বন্ধক রেখেছিল।

    একাধিকবার বদলেছিলেন ব্যবসার জায়গা

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদপুরের মদিনা মার্কেটে ব্যবসা শুরু করার আগে পিন্টু একাধিকবার তাঁর ব্যবসার জায়গা পরিবর্তন করেছিলেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে মদিনা মার্কেটে ‘এসকে শিল্পালয়’ চালু করেন তিনি। পিন্টুর আদি বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। তাঁর কয়েকজন আত্মীয় কুমিল্লা ও মুরাদনগরেও থাকেন বলে জানা গিয়েছে। আত্মীয় এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, পিন্টু, তাঁর স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলে—কেউই এখন তাঁদের ভাড়া বাড়িতে নেই। ২৬ আগস্ট থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ীর আত্মীয়রা স্থানীয় থানায় মিসিং ডায়েরি করেছেন। তবে ওই ব্যবসায়ীর মাসতুতো বোন উপমা দে অভিযোগ করেছেন মোটা টাকা তোলা চেয়ে পিন্টু দাসকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রসঙ্গত বাংলাদেশে শাসক দল বিএনপির বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ অতীতের সব নজির ছাপিয়ে গিয়েছে।

    তদন্তে পুলিশ

    চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটির নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা সম্প্রতি পেয়েছে। এরপরই চারজনকে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারের পাশাপাশি কী কারণে তাঁরা নিখোঁজ হয়েছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যেই চাঁদপুরের এই ঘটনা সামনে এসেছে। চাঁদপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি যে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে কোনও হুমকি, ঋণের চাপ বা অন্য কোনও ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না। চারজনেরই বর্তমান অবস্থান অজানা। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পিন্টুর ব্যবসার গ্রাহকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন—উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে নিখোঁজ চারজনের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্ধক রাখা সোনা ও আটকে থাকা টাকাও।

    বাংলাদেশে হিন্দু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    চারদিন আগে বাংলাদেশের উত্তর ভাগের জেলার রংপুরের এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্র কন্যাকে নিজের বাড়িতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় পুলিশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই তরুণকে গ্রেফতার করে দাবি করে তারা মাদকাসক্ত অবস্থায় গণপতি চক্রবর্তী নামে ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। যদিও পুলিশের ওই বয়ান নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে রংপুরে। প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করতে পুলিশ নিরীহ দুই তরুণকে ফাঁসিয়েছে বলে নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। ধৃতদের পরিবারও খুনের মত গুরুতর অপরাধে ছেলে দুটি যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছে পরিবার। রংপুরের ঘটনার পর চাঁদপুরে হিন্দু পরিবারের চারজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত চাঁদপুর বাংলাদেশে ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত। ওই এলাকাকে ইলিশের বাড়ি বলা হয়ে থাকে। রংপুরের মত চাঁদপুরেও বহু হিন্দু বাস করেন এবং অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। কোনও কোনও মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে সরাসরি সম্প্রদায়িক সহিংসতার পথে না হেঁটে প্রচলিত অপরাধে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের বেশি করে নিশানা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য তাদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা।

  • Bangladesh: হিন্দুর ২৬ লাখ একর জমি বেদখল, ১২ লাখ পরিবারের ৩৫০,৪১২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি, রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    Bangladesh: হিন্দুর ২৬ লাখ একর জমি বেদখল, ১২ লাখ পরিবারের ৩৫০,৪১২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি, রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ (Bangladesh) গণতন্ত্র, মুক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে গর্ব করে। অথচ দশকের পর দশক ধরে একটি বড় অবিচার প্রায় অনুচ্চারিতই থেকে গিয়েছে। হিন্দু সংখ্যালঘুদের পরিকল্পিতভাবে ভূমিহীন (Hindu crisis) করে দেওয়া হয়েছে। ১৯৬৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে হিন্দুরা ২৬ লাখ একর জমি খুইয়েছে—যা কয়েকটি ছোট দেশের চেয়েও বড়—এবং এক কোটিরও বেশি মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ১২ লাখ পরিবারের ওপর এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩৫০,৪১২ কোটি টাকা।

    ২৬ লাখ একর জমি হারিয়েছেন হিন্দুরা (Bangladesh)

    সংবাদ মাধ্যমের করা সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, পদ্মাপারের এই দেশে এই ব্যাপক ভূমি দখলের পেছনে রয়েছে পাঁচ লাখ প্রভাবশালী (Hindu crisis) ব্যক্তি। এরা রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। মোট জমির মধ্যে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা ১৭,৪৯,৫০০ একর, আওয়ামী লিগের সঙ্গে যুক্তরা ৩,৬১,৪০০ একর এবং জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠনগুলি ২,২৬,২০০ একর জমি দখল করেছে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ১,৮২,০০০ একর, মুসলিম লিগ ১,৮২০ একর এবং ছোট দলগুলির সঙ্গে যুক্ত অন্যরা ১০,৪০০ একর জমি লুট করেছে। ওই রিপোর্টেই জানা গিয়েছে, হিন্দুরা ১৯৬৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ২৬ লাখ একর জমি হারিয়েছেন। বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের (Bangladesh) ওপর দশকের পর দশক ধরে চলা পদ্ধতিগত ভূমি দখল এবং তাঁদের দেশত্যাগে বাধ্য করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এর প্রধান দিকগুলি হল-

    বিপুল পরিমাণ ভূমি দখল ও আর্থিক ক্ষতি

    বাংলাদেশে (Bangladesh) ভূমি দখলের এই সংস্কৃতিতে প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলেরই সায় রয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার বঞ্চনার (Hindu crisis) শেকড় দেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত। কোনও প্রধান দলের হাতই পরিষ্কার নয়। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র সাত লাখ একর জমিকে স্বত্বাধিকারী সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যার ফলে বাজেয়াপ্ত করা জমির সিংহভাগই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী দখলদারদের হাতে রয়ে গিয়েছে। এটি কেবল একটি আমলাতান্ত্রিক ত্রুটি (Hindu crisis) নয়—এটি একটি নৈতিক ব্যর্থতা। জমি শুধু সম্পত্তি নয়, এটি পরিচয়, ঐতিহ্য এবং নিরাপত্তাও। পরিকল্পিত চুরির অনুমতি দেওয়া মানে নাগরিকদের তাঁদের সবচেয়ে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।

    ন্যায়বিচারের অভাব

    বর্তমানে সরকার (Bangladesh) মাত্র ৭ লাখ একর জমিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা মোট বেদখল হয়ে যাওয়া জমির একটি সামান্য অংশ মাত্র। তবে ভূমি কেবল সম্পত্তি নয়, এটি একজন মানুষের পরিচয় এবং নিরাপত্তার অংশ। পদ্ধতিগতভাবে এই জমি কেড়ে নেওয়া মানে হল নাগরিকদের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করা।

    প্রস্তাবিত সমাধান

    বাংলাদশের (Bangladesh) হিন্দুদের এই সমস্যার সামধান কীভাবে সম্ভব এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ওই সংবাদ মাধ্যমের সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায় বলা হয়েছে, একটি ‘ভেস্টেড প্রপার্টি ব্যাঙ্ক’ বা স্বচ্ছ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা যাতে দখল হওয়া জমির সঠিক হিসেব রাখা যায়। অবৈধভাবে দখল হওয়া জমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিক বা ভূমিহীন হিন্দু পরিবারগুলিকে ফিরিয়ে দেওয়া। সরকারকে রাজনৈতিক সাহসিকতা দেখিয়ে এই ঐতিহাসিক অন্যায়ের বিচার করতে হবে। বাংলাদেশ যখন বৈষম্যের (Hindu crisis) বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তখন সংখ্যালঘুদের ওপর এই দীর্ঘস্থায়ী অবিচারকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমাধান করার কথা ভাবা হয়নি। আদর্শকে অসম্পূর্ণ করে রেখেছে বাংলাদেশের দেশের সরকার। যতক্ষণ পর্যন্ত না অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং সমানাধিকার নিশ্চিত হবে, ততক্ষণ এই নৈতিক সঙ্কট থেকে উদ্ধার পাওয়া যাবে না।

LinkedIn
Share