Tag: Hindu Monk

Hindu Monk

  • Bangladesh Bengali Hindus:  চিন্ময় প্রভুর ঘটনায় নীরবতা কেন, প্রশ্ন উঠল বাঙালি সংহতি-ধর্মনিরপেক্ষতার মানদণ্ড নিয়েও

    Bangladesh Bengali Hindus:  চিন্ময় প্রভুর ঘটনায় নীরবতা কেন, প্রশ্ন উঠল বাঙালি সংহতি-ধর্মনিরপেক্ষতার মানদণ্ড নিয়েও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাঙালি পরিচয় কি সত্যিই ধর্মের ঊর্ধ্বে, নাকি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেই সংহতিও হয়ে ওঠে বেছে নেওয়া? বাংলাদেশে (Bangladesh Bengali Hindus) হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যিনি চিন্ময় প্রভু নামেই পরিচিত, তাঁর গ্রেফতারি ও তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এমনই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষ করে, যাঁরা নিয়মিত বাঙালি পরিচয়, মানবতাবাদ, সংখ্যালঘু অধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে সরব হন, তাঁদের একাংশের নীরবতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।

    চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারি (Bangladesh Bengali Hindus)

    চিন্ময় প্রভু বাংলাদেশের এক হিন্দু সন্ন্যাসী। তাঁর গ্রেফতারিকে ঘিরে বহু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে (Bengali Prem)। রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত অবস্থান যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা, আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার এবং হিংসা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত—এটাই হওয়া উচিত মূল প্রশ্ন। চিন্ময় প্রভুকে ঘিরে তৈরি হওয়া মানবিক পরিস্থিতি সেই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

    বছর একাত্তরের সন্ধ্যা রানি ধর চট্টগ্রামে তাঁর ছেলের আশ্রমে মারা যান। জেলে থাকা ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি তাঁর। একজন মায়ের কারাবন্দি সন্তানকে না দেখে মৃত্যুবরণ করার ঘটনায় অন্তত মানবিক সহানুভূতি প্রকাশ পাওয়া উচিত ছিল বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।

    কিন্তু ওই ঘটনায় যথেষ্ট প্রতিবাদ হয়নি বলেই খবর। যাঁরা নিয়মিত মানবতাবাদ, সংখ্যালঘু অধিকার এবং বাঙালির বিবেক নিয়ে ‘বক্তৃমে’ করেন, তাঁদের সুরও কেন চড়ল না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

    দুর্গাপুজোর সময় খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিতর্ক কিংবা বাঙালি সংস্কৃতির পরিচয় নিয়ে আলোচনা হলে সমাজের বিভিন্ন অংশে প্রবল আবেগ দেখা যায়। কিন্তু হিন্দু ধর্মীয় স্থান বা দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটলে সেই প্রতিক্রিয়া অনেক সময় তুলনামূলকভাবে সতর্ক বা শর্তসাপেক্ষ হয়ে পড়ে বলেই অভিযোগ।

    ধর্মনিরপেক্ষতার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন

    এখানেই ধর্মনিরপেক্ষতার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নটি সামনে আসে। ধর্মনিরপেক্ষতা যদি সত্যিই সর্বজনীন হয়, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির ধর্ম দেখে তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর মাত্রা বদলানো উচিত নয়। কোনও মুসলিম আক্রান্ত হলে যেমন প্রতিবাদ করা উচিত, কোনও খ্রিস্টান নিপীড়িত হলেও তেমনই প্রতিবাদ করা উচিত। একইভাবে কোনও বৌদ্ধ বা হিন্দু আক্রান্ত হলেও সমান দৃঢ়তার সঙ্গে কথা বলা জরুরি। তা না হলে সর্বজনীন মানবতাবাদের বদলে বেছে নেওয়া সহানুভূতির চর্চা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠবেই।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে রাজনৈতিক ভাষার ব্যবহার নিয়েও একই ধরনের দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। ‘গেরুয়া সন্ত্রাসবাদ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে হিন্দু বা জাতীয়তাবাদী পরিচয়ের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে যুক্ত করার প্রবণতার সমালোচনা করা হয়েছে। বস্তুত, সন্ত্রাসবাদের বিচার হওয়া উচিত প্রমাণ, অপরাধী এবং তার মতাদর্শের ভিত্তিতে; কোনও সম্পূর্ণ সম্প্রদায়ের পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

    একইভাবে, ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ উঠলে যেমন বলা হয় যে সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই এবং কোনও জঙ্গির অপরাধের জন্য সাধারণ মুসলিমদের দায়ী করা যায় না, একই নীতি হিন্দুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কোনও ব্যক্তি হিন্দুধর্মের নামে অপরাধ করলেই তার দায় গোটা হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর চাপানো যেমন যুক্তিসঙ্গত নয়, তেমনই কোনও সন্ত্রাসবাদীর দাবি করা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে গোটা মুসলিম সমাজকে দায়ী করাও (Bengali Prem) অনুচিত।

    হিন্দুর নিরাপত্তার প্রশ্ন

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাসকারী কোনও হিন্দুর নিরাপত্তার প্রশ্নকে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সমাজের প্রেক্ষাপটে বিচার করাও ঠিক নয়। সংখ্যালঘু পরিচয় সর্বদা সংশ্লিষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। সেই কারণে বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা এবং অধিকারও একটি স্বতন্ত্র মানবাধিকার প্রশ্ন (Bangladesh Bengali Hindus)।

    এই প্রসঙ্গেই তথাকথিত ‘জাগ্রত উদারপন্থা’র দ্বিচারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংখ্যালঘুর অধিকার, বিভিন্ন পরিচয়ের আন্তঃসম্পর্ক এবং সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে যাঁরা সরব, তাঁদের একাংশের প্রতিবাদ কেন কখনও কখনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত বয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে—সেই প্রশ্নও উঠেছে। লেখাটির বক্তব্য, অন্যায়ের শিকার ব্যক্তি কোন পরিচয়ের মানুষ তার ওপর যদি প্রতিবাদের মাত্রা নির্ভর করে, তাহলে তা ন্যায়বিচার নয়, বরং মতাদর্শের প্রকাশ।

    বাংলাদেশকে বাঙালিদের কাছে কোনও সাংস্কৃতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড হিসেবেও দেখা যায় না। বাংলার সভ্যতা ও ইতিহাসের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর যোগ রয়েছে। ঢাকেশ্বরী মন্দির সেই ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। মাস্টারদা সূর্য সেন, অনন্ত সিংহের মতো বিপ্লবীরাও দুই বাংলার অভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতির অংশ। কিন্তু ঐতিহ্যকে শুধু বক্তৃতা ও স্মরণানুষ্ঠানে উদ্‌যাপন করলেই তার সুরক্ষা হয় না। সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারীরা কীভাবে জীবনযাপন করছেন, তাঁদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত—তার মধ্যেও ঐতিহ্যের প্রকৃত মূল্য প্রতিফলিত হয়।

    হিন্দুদের জন্য কোনও বিশেষ সুবিধা দাবি করা হচ্ছে না বলেই লেখাটিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। দাবি হল সমান অধিকার ও সম মর্যাদার। চিন্ময় প্রভু বাঙালি, তিনি সন্ন্যাসী এবং তিনি হিন্দু—এই পরিচয়গুলির কোনওটিই পরস্পরবিরোধী নয় (Bangladesh Bengali Hindus)।

    তাই বাঙালি বুদ্ধিজীবির প্রকৃত পরীক্ষা কেবল বাঙালি সংস্কৃতিকে উদ্‌যাপন করার মধ্যে নয়। বরং সেই সময়ে একজন বাঙালি হিন্দুর পাশে দাঁড়াতে পারার মধ্যেই তার প্রকৃত পরীক্ষা, যখন সেই অবস্থান প্রচলিত বা পছন্দের রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে সংঘাতে যেতে পারে।

    ‘বাঙালি-প্রেম’

    মতামতভিত্তিক একটি লেখায় বলা হয়েছে, “আমাদের সহমর্মিতার যদি শর্ত থাকে, তবে তা সহমর্মিতা নয়। আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার যদি পছন্দের মানুষ থাকে, তবে তা ধর্মনিরপেক্ষতা নয়। আর কোনও বাঙালি হিন্দু হলেই যদি বাংলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা হারিয়ে যায়, তাহলে ‘বাঙালি-প্রেম’ বলতে (Bengali Prem) আমরা আসলে কী বুঝি, সেই প্রশ্ন নিজেদেরই করা উচিত।”

    মনে রাখতে হবে, অন্যায় চোখের সামনে ঘটলেও নীরব থাকাটা নিরপেক্ষতা নয়, বরং সেই নীরবতাও একটি (Bangladesh Bengali Hindus) অবস্থান।

     

  • Chinmoy Krishna Das: ফের খারিজ জামিন, চিন্ময় কৃষ্ণকে জেলেই মারতে চাইছে ইউনূস প্রশাসন! কীসের ভয়?

    Chinmoy Krishna Das: ফের খারিজ জামিন, চিন্ময় কৃষ্ণকে জেলেই মারতে চাইছে ইউনূস প্রশাসন! কীসের ভয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে (Chinmoy Krishna Das) কি জেলেই পচিয়ে মারতে চাইছে বাংলাদেশের (Bangladesh) ইউনূস প্রশাসন? বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা আদালতে তাঁর জামিন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর এই প্রশ্নটাই উঠল। এদিন প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে শুনানি চলে। চিন্ময়ের জামিনের সওয়াল করে আইনজীবী অপূর্বকুমার ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের ১১ জন আইনজীবীর একটি দল।

    জামিনের আবেদন খারিজ (Chinmoy Krishna Das)

    গ্রেফতারি এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে রয়েছেন চিন্ময়ের প্রথম আইনজীবী শুভাশিস শর্মা। বুকে ব্যথা নিয়ে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আর এক আইনজীবী রবীন্দ্র দাস। তাঁদের পরিবর্তে এদিন ওই আইনজীবীরা লড়াই করেন চিন্ময়ের হয়ে। শুনানি শেষে সরকারি আইনজীবী মফিজুর হক ভুঁইয়ার আবেদন মেনে দায়রা বিচারক মহম্মদ সফিকুল ইসলাম চিন্ময়ের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন। বিচারক জানান, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতার চিন্ময়ের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা হতে পারে। তাই জামিন দেওয়া সম্ভব নয়।

    আরও পড়ুন: মাও ‘দমনে’ বিরাট সাফল্য, আত্মসমর্পণ কিষেনজির ভাইবউ বিমলা-সহ ১১ মাওবাদীর

    ইউনূসের স্বজাতি প্রেম!

    বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের স্বজাতি প্রেমের কথা কারও অজানা নয়। দিন কয়েক আগেই জামিন পেয়েছে ২০০৪ সালের গ্রেনেড হত্যা মামলার ফাঁসির আসামী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু। তার আগে এই একই মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুধু তাই নয়, ইউনূসের আমলে ফাঁসির সাজা মকুব হয় খোদ উলফা প্রধান জঙ্গি পরেশ বড়ুয়ার। ব্লগার রাজীব হায়দার খুনের মামলায় জামিন পায় আনসারুল্লা বাংলা টিমের চাঁই জসিমউদ্দিন রহমানি। অথচ হিন্দু সন্ন্যাসীকে গারদে রাখা হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে!

    চিন্ময় বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সংগঠন (Chinmoy Krishna Das) সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের অন্যতম নেতা। চিন্ময় ওই সংগঠনেরই মুখপাত্র। এদিকে, এদিন আদালত চত্বরে জামাতপন্থী আইনজীবীরা চিন্ময়ের জামিন না দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন। চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময়কে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ২৫ নভেম্বর গ্রেফতার করে ইউনূস প্রশাসন। ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম (Bangladesh) আদালতে খারিজ হয়ে যায় তাঁর জামিনের আবেদন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আদালত চত্বর (Chinmoy Krishna Das)।

     

     দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

     

  • Bangladesh: চিন্ময় প্রভুর আইনজীবীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা বাংলাদেশে, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রমেন রায়

    Bangladesh: চিন্ময় প্রভুর আইনজীবীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা বাংলাদেশে, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রমেন রায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  ৮ দিন ধরে জেলবন্দি বাংলাদেশের (Bangladesh) সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস (Chinmoy Krishna Das)। এবার তাঁর আইনজীবী রমেন রায়ের ওপরও হামলা চালাল মৌলবাদীরা। হামলা চালানোর এমন অভিযোগ সামনে এনেছেন কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস। মৌলবাদীরা রমেন রায়ের বাড়ি ভাঙচুর করেছে, নৃশংসভাবে মারধর করেছে। আঘাত এতটাই গুরুতর যে আইসিইউ-তে ভর্তি করতে হয়েছে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন আইনজীবী, এক্স হ্যান্ডলে এমনটাই জানিয়েছেন কলকাতা ইসকনের সন্ন্যাসী রাধারমণ দাস। আইনজীবীর ছবিও পোস্ট করেছেন রাধারমণ দাস।

    আইনজীবী-সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের

    বাংলাদেশের (Bangladesh) সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭০ জন সংখ্যালঘু আইনজীবী এবং চট্টগ্রামের ২ জন হিন্দু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা নিগ্রহের অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। জানা গিয়েছে, গত ৩০ নভেম্বর কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দেশি বোমা বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুরের মতো আজব অভিযোগ এনেছে ইউনূস সরকার। 

    ভিত্তিহীন মামলা তোলার আবেদন

    বাংলাদেশের (Bangladesh) হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি, সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মামলায় আইনি সাহায্য এবং সংবাদ সম্প্রচারে বাধা দেওয়ার জন্যই এই মামলা করা হয়েছে। একদল মানুষ নিজেদের স্বার্থে এই মামলা দায়ের করেছেন। এই ধরনের ঘটনা পুরোপুরি মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের বিরোধী, দাবি বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের। সরকারের কাছে এই ধরনের ভিত্তিহীন মামলা তুলে নেওয়ার জন্যও আবেদন জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Chinmoy Krishna Das: ইউনূস সরকারের বুকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন ঊনচল্লিশের সন্ন্যাসী চিন্ময়, তাই কি গ্রেফতার?

    Chinmoy Krishna Das: ইউনূস সরকারের বুকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছেন ঊনচল্লিশের সন্ন্যাসী চিন্ময়, তাই কি গ্রেফতার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বয়স মাত্রই ঊনচল্লিশ। পরিচয় সনাতনী, বাংলাদেশের এক ইসকন মন্দিরের দায়িত্বে। তাঁর প্রতিপক্ষ যিনি, তিনি বয়সে প্রবীণ। বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান। দুজনের ধর্ম পরিচয়ও আলাদা। প্রথম জন হিন্দু, অন্যজন ধর্মে মুসলমান (Muhammad Yunus)। ঊনচল্লিশ বছরের এই সনাতনিই ভয় ধরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বুকে। তাঁর একটা ডাকে জমায়েত হন বাংলাদেশের লাখো হিন্দু। মন দিয়ে শোনেন তাঁর কথা। এহেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ওরফে চিন্ময় প্রভুকে (Chinmoy Krishna Das) গ্রেফতার করে সাপের ছুঁচো গেলার দশা হয়েছে মহম্মদ ইউনূস সরকারের। তাঁরা না পারছেন চিন্ময়কে ছেড়ে দিতে, না পারছেন যাদের ‘বুদ্ধি’তে গ্রেফতার করা হল তাঁকে, তাদের চটাতে।

    ক্ষোভে ফুঁসছেন সনাতনীরা

    ফেরা যাক খবরে। দিন কয়েক আগে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ইসকনের চিন্ময়কে। তাঁর মুক্তির দাবিতে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঢাকা অচল করে দেন সে দেশের সনাতনীরা। কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়ে, লাঠিচার্জ করে চিন্ময়কে কোনওরকমে নিয়ে যাওয়া হয় জেলে। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। যারে জেরে বাংলাদেশ তো বটেই, ক্ষোভে ফুঁসছেন ভারত তথা তামাম বিশ্বের সনাতনীরা।

    নির্ভীক চিন্ময় (Chinmoy Krishna Das) 

    চিন্ময় প্রভুর নির্ভীকতাকে কুর্নিশ করতে হয়। পুলিশ যথন তাঁকে প্রিজন ভ্যানে করে জেলের কুঠুরিতে নিয়ে যাচ্ছেন, তখনও অকুতোভয় চিন্ময় ভিক্ট্রি সাইন দেখাচ্ছেন। সনাতনীদের উদ্দেশে বলছেন, “ঐক্যবদ্ধ থাকুন।” চট্টগ্রামের জনসমাবেশে সংখ্যালঘুদের জন্য যে আট দফা দাবি তিনি জানিয়েছিলেন, সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা বলে মনে করেন তিনি। চিন্ময় বলেন, “বিদ্রোহ মামলাটি আমাদের সংখ্যালঘুদের জন্য আট দফা দাবির বিরুদ্ধে। এটি আন্দোলনের নেতৃত্বকে শেষ করে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।” যে চিন্ময়কে নিয়ে এত হইচই, মাস কয়েক আগেও তাঁকে বিশেষ চিনতেন না বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ। হাসিনা সরকারের পতনের পর হিন্দুদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার মহান কাজটি করে তিনি চলে আসেন খবরের শিরোনামে, নজরে পড়ে যান ইউনূস সরকারের (Muhammad Yunus)। এখন চিন্ময়ের নামে বাংলাদেশের যে কোনও জায়গায় নিমেষেই জড়ো করা যায় কয়েক হাজার হিন্দুকে।

    সুর চড়িয়েছেন চিন্ময় (Chinmoy Krishna Das) 

    হাসিনা সরকারের পতনের পর সবাই যখন মুখে কুলুপ এঁটেছেন, তখন গলা চড়িয়েছেন চিন্ময়। ঢাকার এক কমেন্টেটর বলেন, “যখন সবাই ভয়ে চুপ করে গিয়েছিলেন, তখন সুর চড়িয়েছিলেন চিন্ময়। সঙ্কটের সেই সময়ে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন নেতা হিসেবে। সময়টা তাঁর অনুকূলে ছিল। সে-ই চিন্ময়কে মাইলেজ দিয়েছে।” সেই কারণেই যে তিনি মুসলমানদের রোষের মুখে পড়েছেন, তা মনে করছেন সে দেশের সনাতনীরা। পূর্বাশ্রমে তাঁর নাম ছিল চন্দন কুমার ধর। সন্ন্যাস দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস (Chinmoy Krishna Das)। বাংলাদেশের নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের মুখ হয়ে ওঠেন তিনিই। তার জেরে চিন্ময়ের সঙ্গে হাত মেলান বাংলাদেশের ইস্কনের সন্ন্যাসীরা। তাঁরা চিন্ময়ের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন।

    কী বলছেন কমেন্টেটর

    ঢাকার ওই কমেন্টেটর বলেন, “তিনি তাঁর বয়সের তুলনায় জ্ঞানী এবং পরিণত। আর এটি পরিস্থিতিরই একটি ফসল।” চট্টগ্রামের এক সন্ন্যাসী বলেন, “চিন্ময় ১৯৮৫ সালের মে মাসে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কারিয়ানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিশু বয়স থেকেই ধর্মীয় ক্ষেত্রে একজন জনপ্রিয় বক্তা ছিলেন (Chinmoy Krishna Das)। তিনি ১৯৯৭ সালে, মাত্র ১২ বছর বয়সে দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং ইসকনের ব্রহ্মচারী হন।” বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট ৮ দফা দাবি আদায়ের জন্য ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে একটি বিশাল সমাবেশের আয়োজন করেছিল। হিন্দুদের এই শক্তি প্রদর্শন বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। চিন্ময়-সহ ১৭ জন হিন্দু নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করে তারাই। সেই মামলার ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয় চিন্ময়কে।

    চিন্ময়কে রোখার চেষ্টা (Chinmoy Krishna Das)

    ২২ নভেম্বর রংপুরে জনসমাবেশের ডাক দেন চিন্ময়। সেই সমাবেশ আটকাতে চেষ্টার কসুর করেনি বাংলাদেশ সরকার। আগাম বুকিং করা থাকলেও, পরে কোনও কারণ ছাড়াই বাতিল করে দেওয়া হয় বুকিং। চিন্ময় বলেন, “বাংলাদেশে সনাতনীদের দুর্দশার কথা আপনি এই ঘটনাটি থেকেই অনুমান করতে পারেন। তাঁদের ওপর চলা দমন-পীড়নের প্রমাণের জন্য আর কিছুর প্রয়োজন নেই।” খুলনা এবং সিলেটেও দুটি বড় সমাবেশের আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিলেন চিন্ময় (Chinmoy Krishna Das)। তার আগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় ঢাকা থেকে।

    আরও পড়ুন: আজমের শরিফ দরগা আদতে একটি শিব মন্দির, হিন্দু সেনার আর্জি গ্রহণ করল আদালত

    বিপাকে ইউনূস সরকার

    বাংলাদেশের ওই কমেন্টেটর বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ তরুণ এবং প্রযুক্তি-সচেতন। এই তরুণরা দেখেছে যে সারা বিশ্বে সংখ্যালঘুদের নিজেদের জন্মভূমিতে টিকে থাকার জন্য লড়াই করতে হয়।” জানা গিয়েছে, ১৯৬৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে বাংলাদেশ ছেড়ে গিয়েছেন ১ কোটির বেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এই নিপীড়িতদেরই মুখ হয়ে উঠেছিলেন চিন্ময় (Chinmoy Krishna Das)। তাঁকে গ্রেফতার করেই বিপাকে বাংলাদেশ সরকার। কারণ এই মুহূর্তে চিন্ময়ের সঙ্গে রয়েছে তামাম বিশ্বের সহানুভূতির ঝড়। যার বড় মূল্য চোকাতে হতে পারে ইউনূসের (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকারকে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share