Tag: hindu

hindu

  • Bangladesh: বাংলাদেশে জমি বিবাদের মীমাংসা করতে যাওয়া হিন্দু শিক্ষককে পিটিয়ে খুন

    Bangladesh: বাংলাদেশে জমি বিবাদের মীমাংসা করতে যাওয়া হিন্দু শিক্ষককে পিটিয়ে খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) দিনাজপুর জেলায় জমি বিবাদের মীমাংসা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক হিন্দু শিক্ষকের। মৃতের নাম মনোরঞ্জন রায় (৫৫)। রবিবার, ২৫ অক্টোবর, প্রতিবেশীদের মধ্যে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করার সময় তাঁকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় (Hindu Teacher) বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হামলায় জড়িত অন্যদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

    সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মনোরঞ্জন (Bangladesh)

    জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রাবেয়া বাজারের সোনাপুকুর নয়াপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। মনোরঞ্জন চিরিরবন্দর উপজেলার পূর্ব সুখদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। এলাকার পরিচিত ও সম্মানীয় ব্যক্তি হিসেবে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে রাস্তা ও জমি সংক্রান্ত বিবাদ মেটানোর জন্য আয়োজিত সালিশি বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।

    অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীন বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং দু’পক্ষকে থামাতে এগিয়ে যান মনোরঞ্জন। সেই সময় আসাদুজ্জামান ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকের উপর লাঠি নিয়ে হামলা চালান। মাথা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে তাঁর। মারধরের পর পাশের একটি ধানখেতে পড়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

    এই বিবাদের নেপথ্যে অবশ্য একাধিক কারণের কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আল রোমান নামে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল আসাদুজ্জামানের। আল রোমানের বাড়িতে নির্মাণকাজ করা ছুতোর ফরতাজ হোসেনের সঙ্গেও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ হয়েছিল রোমানের।

    প্রয়াত বন্ধুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি

    প্রায় ১৩ বছর আগে আল রোমানের বাবা আজিজুল মাস্টারের মৃত্যু হয়। মনোরঞ্জন ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আজিজুলের মৃত্যুর পর থেকে রোমান ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মনোরঞ্জন। পরিবারের অভিভাবকের মতো তাঁদের দেখাশোনা করতেন। রোমান ও তাঁর ভাইবোনদের পড়াশোনা-সহ নানা প্রয়োজনেও সাহায্য করতেন তিনি।

    এদিকে, ফরতাজ হোসেন আজিজুল মাস্টারের বাড়িতে নির্মাণকাজ করছিলেন। সেই কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে (Bangladesh) তাঁর সঙ্গে আল রোমানের বিরোধ বাধে। বাড়ির পাশের এক টুকরো জমিতে থাকা কয়েকটি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা নিয়েও রোমানের সঙ্গে আসাদুজ্জামানের বিবাদ চলছিল। রোমানের অভিযোগ ছিল, তাঁর অনুমতি না নিয়েই ওই জমির গাছ কাটা হয়েছে। ফরতাজ গাছগুলি করাতকলে নিয়ে গিয়েছিলেন কাঠ চেরাই করানোর জন্য। পরে কাঠের পরিমাণ এবং তা বিক্রি করে পাওয়া টাকার হিসাব নিয়েও রোমানের সন্দেহ তৈরি হয়।

    রবিবার দুপুরে ফরতাজ হোসেন আসাদুজ্জামান ও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রোমানের বাড়িতে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। গোলমালের খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে যান মনোরঞ্জন। অভিযোগ, তখনই ফরতাজ, আসাদুজ্জামান ও তাঁদের সহযোগীরা তাঁর উপর হামলা চালান।

    গ্রেফতার অভিযুক্ত

    আল রোমানই পুলিশকে ঘটনার খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করে। হামলায় জড়িত অন্যদের সন্ধান চলছে (Hindu Teacher)।

    দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রয়াত বন্ধুর পরিবারের বিবাদ মেটাতে চিরিরবন্দর থেকে এসেছিলেন ওই শিক্ষক। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় (Bangladesh) তিনি আহত হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, দেখে নেওয়া যাক সাপ্তাহিক ছবি

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, দেখে নেওয়া যাক সাপ্তাহিক ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দুধর্মের উপর হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে (Hindus Under Attack)। ২০২৬ সালের ৪ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাবলী নিয়ে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারতে হিন্দু ধর্মীয় স্থান, উৎসব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঘিরে কয়েকটি বিতর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশে এক হিন্দু মিষ্টি ব্যবসায়ী ও তাঁর বৃদ্ধা মায়ের উপর হামলার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটির প্রকাশকদের দাবি, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণ, ধর্মীয় স্থানে ভাঙচুর, জমি দখল, জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ, হিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের মতো ঘটনা বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের ঘটনা মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

    ধর্মীয় স্থান ও উৎসব ঘিরে বিতর্ক (Hindus Under Attack)

    প্রতিবেদনে ভারতের একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংবাদমাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তির সাক্ষাৎকার দেওয়া, এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার, ধর্মীয় স্থানের কাছে খাদ্য গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক, বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম বিষয়ক আলোচনা সভায় বিঘ্ন এবং ধর্মীয় স্থানের কাছে কবরস্থানের জন্য জমি বরাদ্দের বিরোধ অন্যতম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্টে শরজিল ইমামের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটির লেখকদের অভিযোগ, সাক্ষাৎকারে শরজিল ইমামের বক্তব্য এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে তাঁকে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শরজিল ইমাম বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত। তাঁকে সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনের ধরন নিয়ে অন্য একটি সংবাদমাধ্যমেও সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে। তবে সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যকে সমর্থন করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

    তরুণীর অভিযোগে শরীরচর্চার প্রশিক্ষক গ্রেফতার

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেন্নাইয়ের ওত্তেরি এলাকার বাসিন্দা বছর সাতাশের শরীরচর্চার প্রশিক্ষক ইমতিয়াজ শরিফকে সচিবালয় কলোনি থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক কলেজপড়ুয়া তরুণীর সঙ্গে নিজের ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ঘটনাটির বিস্তারিত এবং অভিযোগের পরবর্তী আইনি অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে আর কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

    আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে বিতর্ক

    কর্নাটকের কুদালসঙ্গমে শিবমন্দিরের কাছে কয়েকজনের আমিষ খাবার খাওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কুদালসঙ্গম জগজ্যোতি বসবন্নের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। প্রতিবেদনের দাবি, ঘটনাটি নিয়ে বিজেপির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা এবং ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি (Hindus Under Attack)।

    বন্দে মাতরম বিষয়ক আলোচনা সভায় বিঘ্ন

    কেরলের কাসারগড়ে কেরল কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম বিষয়ক দু’দিনের একটি আলোচনা সভা চলাকালীন বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। ওই অনুষ্ঠানে রাজ্যপালও বক্তাদের মধ্যে ছিলেন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃতি, তাঁদের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

    জমি বরাদ্দ নিয়ে আপত্তি

    কর্নাটকের মঙ্গলুরুর মুডুশেদ্দে গ্রামে মুসলিম সম্প্রদায়ের কবরস্থানের জন্য দুই একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত জমিটি জারান্দায়া দৈবস্থান নামে পরিচিত একটি ধর্মীয় স্থান, একটি পবিত্র নাগবন এবং কাছাকাছি অবস্থিত জৈন উপাসনাস্থলের নিকটে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের আপত্তি, ওই এলাকার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রক্ষার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে। প্রতিবেদনের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, জমি বরাদ্দের স্থান নির্বাচন ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করছে। তবে জমি বরাদ্দের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সরকারি বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

    বাংলাদেশে হামলার অভিযোগ

    বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্থানে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনতার হামলা, নারীদের উপর যৌন হিংসা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের মতো ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাতের একটি সমীক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা লুপ্ত হয়ে যেতে পারে (Hindus Under Attack)।

    আক্রান্ত ব্যবসায়ী ও তাঁর মা

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝিনাইদহ জেলার ফুলহারি ইউনিয়নের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সুব্রত দই-মিষ্টি ভান্ডারের মালিক সুব্রত বাবু ও তাঁর শতায়ু মা হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। সুব্রতবাবুর বক্তব্য, কয়েকজন লোক দাম না দিয়েই এর আগেও তাঁর দোকান থেকে জোর করে দই নিয়ে গিয়েছিলেন। ৫ অক্টোবর তারা ফের দোকানে এসে টাকা না দই-মিষ্টি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এরপরেই দুষ্কৃতীরা প্রথমে সুব্রত ও পরে তাঁর বৃদ্ধা মায়ের উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। তবে অভিযুক্তদের পরিচয়, পুলিশের পদক্ষেপ, মামলা নথিভুক্ত হয়েছে কি না এবং আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    ধর্মীয় বিদ্বেষ-বৈষম্য নিয়ে প্রতিবেদনের দাবি

    প্রতিবেদনের লেখকদের মতে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ কখনও সরাসরি হিংসা বা ধর্মীয় স্থানে হামলার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, আবার কখনও আইন, প্রশাসন, প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরের বিভিন্ন আচরণের মধ্য দিয়ে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশিত হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের বৈষম্য শনাক্ত করতে আইন, নীতি ও ঘটনাগুলির ধারাবাহিক ধরন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। লেখকদের দাবি, পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও হিন্দু উৎসবের ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে পরিবেশগত নিয়মের প্রয়োগের মধ্যে তুলনা করা দরকার (Hindus Under Attack)। তবে আতশবাজি ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ সাধারণত বায়ুদূষণ, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার যুক্তিতে আরোপ করা হয়। কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে তার আইনি ভিত্তি, প্রয়োগের ধরন এবং তুলনামূলক তথ্য যাচাই করা জরুরি।

    মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্তের গুরুত্ব

    ভারত ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রাখা জরুরি। উল্লেখ্য, প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং প্রাসঙ্গিক নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সামগ্রিক বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়া রোধ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ (Hindus Under Attack)।

     

  • Suvendu Adhikari: বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ নিয়ে কড়া আইন, ছ’মাস সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ নিয়ে কড়া আইন, ছ’মাস সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) চালুর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগামী ছ’মাসের মধ্যে ‘লাভ জিহাদ’ এবং ‘ল্যান্ড জিহাদে’র বিরুদ্ধে কড়া আইন আনার কথাও জানিয়েছেন (UCC) তিনি। রবিবার কলকাতায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বাংলাতেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু জানান, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের মডেল অনুসরণ করে বাংলাতেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। তাঁর কথায়, “আমাদের ছ’মাস সময় দিন। লাভ জিহাদ এবং ল্যান্ড জিহাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনও আনা হবে।”

    বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া তৈরির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত নাগরিক আইনগুলিকে অভিন্ন করার লক্ষ্যেই প্রস্তাবিত বিধির খসড়া তৈরি করা হচ্ছে।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, তাঁর সরকার সংবিধান মেনেই কাজ করবে। তবে ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন ঐতিহ্য, মন্দির, মঠ এবং দেশের ঐতিহ্যের উপর কোনও ধরনের আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানান তিনি।

    বাংলায় কোনও দেশবিরোধী কার্যকলাপ সরকার মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং বিভাজনকারী শক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

    শুভেন্দুর বক্তব্য, স্বামী বিবেকানন্দ এবং মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য যে আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেছিলেন, সেই সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উপর কোনও আঘাত বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর দাবি, সংবিধানের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রেখেই সরকার কাজ করবে।

    তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী

    এদিন পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের পতনের একাধিক কারণ ছিল। তবে হিন্দুদের আবেগ, সংগঠন, দেবদেবী এবং সনাতন ঐতিহ্যকে বারবার আঘাত করার অভিযোগ তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘদিন মানুষ এসব সহ্য করার পর শেষ পর্যন্ত তৃণমূলকে বিদায় জানিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

    নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ছাত্রজীবনে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন রাজ্যে হিন্দুদের উপর কথিত অত্যাচারের বিভিন্ন অভিযোগের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেছেন।

    ধর্মীয় পর্যটন নিয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। রাজ্যে প্রস্তাবিত ধর্মীয় পর্যটন পরিক্রমা প্রকল্পের কাজ আগামী দু’বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের পরামর্শ ও সহযোগিতাও চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    একাধিক কর্মসূচির কথাও ঘোষণা

    এদিন আগামী দিনের একাধিক কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। নভেম্বর মাসে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রায় ২০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে হনুমান চালিসা পাঠের আয়োজন করা হবে বলে জানান (UCC) তিনি। পাশাপাশি আগামী ২৯ ডিসেম্বর প্রায় ১০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে গণগীতা পাঠের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    আগামী বছরের গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) দাবি, আগামী বছরের গঙ্গাসাগর মেলায় আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামো ও পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

     

  • Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের সভ্যতাগত পরিচয়ের মূলে রয়েছে বৈচিত্র্য ও ঐক্যের সহাবস্থান। মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তাকে সম্মান করা উচিত। কারণ এই বৈচিত্র্য আসলে একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।” রবিবার লন্ডনে আয়োজিত ‘একাত্মতা উদ্‌যাপন’ অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্য স্বাভাবিক বিষয়। তাই মানুষের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে, তার বদলে কোন বিষয়গুলি তাঁদের একসূত্রে বাঁধে, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, “হিন্দু সভ্যতা সবসময় এই উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, অস্তিত্ব মূলগতভাবে এক, যদিও তা বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক; এই পার্থক্যগুলি একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের বিভিন্ন প্রকাশ বা অলংকারমাত্র।”

    ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে শান্তির সম্পর্ক (Mohan Bhagwat)

    ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারত এগিয়ে গেলে স্বৈরশাসন বা যুদ্ধের জন্ম হয় না। বরং ভারতের অগ্রগতি শান্তি, সমৃদ্ধি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।

    ভাগবত বলেন, “ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও স্বৈরশাসকের সৃষ্টি হয় না। ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও যুদ্ধ শুরু হয় না। ভারত সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শান্তি, আনন্দ, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ব এবং প্রকৃতির সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে।”

    তাঁর মতে, শাসক, সরকার কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, কিন্তু জাতি হিসেবে ভারতের অস্তিত্ব অব্যাহত থেকেছে।

    তিনি বলেন, “কখনও আমাদের প্রজাতন্ত্র ছিল। কখনও আমরা অন্যদের শাসনের অধীনে ছিলাম। কখনও স্বাধীনতার জন্য আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। কিন্তু সবসময়ই আমরা একটি জাতি হিসেবে ছিলাম।”

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে আরএসএসের অবস্থান ব্যাখ্যা

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ভাগবত বলেন, এই শব্দবন্ধকে শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রের ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র মানেই জাতি নয়। রাষ্ট্রের প্রথমেই একটি উদ্দেশ্য থাকে। হিন্দু রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বের কাছে এই সত্য তুলে ধরা যে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক এবং ঐক্যই সত্য। এতে সমগ্র বিশ্বেরই কল্যাণ হবে।”

    ভাগবতের বক্তব্য, হিন্দু পরিচয়কে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ অর্থে দেখলে হবে না। এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ধারণা।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু মূলত একটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পরিচয়—জীবন, অস্তিত্ব এবং বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বোঝার একটি পদ্ধতি।”

    ঐক্যের জন্য একরূপতা জরুরি নয়

    ঐক্য মানেই যে সকলকে একই রকম হতে হবে, এমন ধারণাও খারিজ করেন ভাগবত। তাঁর মতে, বৈচিত্র্য বজায় রেখেই ঐক্য সম্ভব।

    তিনি বলেন, “সকলকে একরকম করে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা আমাদের নেই, কারণ ঐক্যের জন্য একরূপতা অপরিহার্য নয়। আমাদের সভ্যতাগত উপলব্ধি হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য—আমরা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করি (RSS)।”

    ‘সব পথকেই স্বীকৃতি দেয় হিন্দু চিন্তা’

    হিন্দু চিন্তাধারা কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পথ অনুসরণ করার জন্য মানুষকে বাধ্য করে না এবং অন্যদের ধর্মান্তরিত করারও চেষ্টা করে না বলে দাবি করেন ভাগবত।

    তিনি বলেন, “আমরা যখন ‘হিন্দু’ বলি, তখন সংকীর্ণ অর্থে কোনও একটি ধর্মকে বোঝাই না। হিন্দুদের মধ্যে বহু ধর্মীয় ধারা ও পরম্পরা রয়েছে, কিন্তু অন্তর্নিহিত হিন্দু চিন্তা সব পথকেই গ্রহণ করে।”

    তাঁর বক্তব্য, একই সত্যে পৌঁছনোর জন্য মানুষের বিভিন্ন পথ থাকতে পারে এবং হিন্দু চিন্তাধারা সেই সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়।

    ভাগবত বলেন, “আমরা যখন বলি হিন্দু কোনও ধর্ম নয়, তার অর্থ এই নয় যে হিন্দু ধর্ম থাকতে পারে না। হিন্দু ধর্ম বলে, অন্যান্য ধর্মগুলিও সত্য।”

    প্রকৃতির প্রতিও হিন্দু জীবনদর্শনে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “একজন হিন্দু পরিবার, সম্প্রদায়, সমাজ এবং মানবতার সঙ্গে যুক্ত। একজন হিন্দু শুধু উপাসনা করে না, প্রকৃতিকেও ভালোবাসে।”

    বিভাজনের বদলে ঐক্যের জায়গাগুলিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

    মানুষ একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখা বন্ধ করলে সংঘাত অনেক বেশি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ভাগবত।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “অন্যকে সীমাবদ্ধ করা বা জয় করার চেষ্টা না করে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, শেষ পর্যন্ত আমরা সকলেই একই বিষয়গুলি অর্জন করতে চাই। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত অন্যকে কীভাবে পরাজিত করা যায়, তা নয়; বরং কীভাবে আমরা সবাই একসঙ্গে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, তা।”

    সমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এমন বিষয়গুলির পরিবর্তে যে বিষয়গুলি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

    ভাগবত বলেন, “যে বিষয়গুলি আমাদের বিভক্ত করে, তার পরিবর্তে যে বিষয়গুলি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলির উপর গুরুত্ব দিন (RSS)।”

    ব্রিটিশ হিন্দুদের আনুগত্য নিয়ে ভাগবতের বক্তব্য

    ব্রিটেনে বসবাসকারী হিন্দুদের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য রাখেন ভাগবত। তাঁর মতে, একজন মানুষ যে দেশে বসবাস ও কাজ করেন, সেই দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য থাকা স্বাভাবিক।

    তিনি বলেন, “এখানে কোনও সংঘাত নেই। যদি কখনও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট যে ব্রিটিশ হিন্দু ব্রিটেনের পক্ষেই থাকবে।”

    এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনার কর্মভূমি যেখানে, আপনার আনুগত্যও সেখানে; আর জন্মভূমি সেই জায়গা, যেখানে আপনি আপনার মূল্যবোধ পেয়েছেন।”

    তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদী ভাগবত

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভাগবত। তাঁর মতে, সমাজকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ তরুণদের মধ্যে রয়েছে এবং সেই কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর তাঁর আস্থা ক্রমশ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর আরও বেশি আস্থা রাখি, কারণ এই পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গায় পরিণত করার তাগিদ তাদের মধ্যে রয়েছে। তাদের লক্ষ্য দিন, পদ্ধতি নয়। তারা দ্রুত সর্বজনীন নৈতিকতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করবে।”

    সমাজের সেবা করতে হলে সেই কাজে এগিয়ে আসার মানসিকতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্ম সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছেন ভাগবত। আজ, ৭ সেপ্টেম্বরই শেষ হবে তাঁর (Mohan Bhagwat) লন্ডন সফর।

  • Bangladesh: ঢাকায় মন্দিরের সহকারী পুরোহিতকে অপহরণের অভিযোগ, নির্যাতনের পর আদায় করা হল মুক্তিপণের টাকাও

    Bangladesh: ঢাকায় মন্দিরের সহকারী পুরোহিতকে অপহরণের অভিযোগ, নির্যাতনের পর আদায় করা হল মুক্তিপণের টাকাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই হিন্দুদের নিরাপত্তার ফস্কা গেরো খসে পড়ছে বাংলাদেশে (Bangladesh)। এবার রাজধানী ঢাকার ওয়ারি এলাকা থেকে এক হিন্দু আইন পড়ুয়া তথা মন্দিরের সহকারী পুরোহিতকে অপহরণ করে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠল। জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বছর পঁচিশের সুভাষ দেউরীকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি (Hindu Priest Kidnapped)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সুভাষ পুরানো ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে স্থায়ী পুরোহিতের অনুপস্থিতিতে মাঝে মাঝে সহকারী হিসেবে পুজোও করতেন তিনি। তবে তাঁকে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে টার্গেট করা হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    অপহৃতের পরিবারের অভিযোগ (Bangladesh)

    সুভাষের স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার রাত আটটা নাগাদ রিকশায় চড়ে তিনি পৌঁছন স্বামীবাগ এলাকায়। সেখান থেকেই তাঁকে অপহরণ করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন। মঙ্গলবার সকালে তিনি কোনওভাবে অপহরণকারীদের খপ্পর থেকে পালিয়ে রুমমেটের সাহায্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন (Bangladesh)। সুভাষের বোন জয়া জানান, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে তাঁর দাদার মোবাইল নম্বর থেকে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা একজন সুভাষের মুক্তিপণ বাবদ ৩০ হাজার বাংলাদেশি টাকা দাবি করে। পরে অপহরণকারীদের দেওয়া একটি নম্বরে ২৬ হাজার টাকা পাঠানোর পর সুভাষকে পুরানো ঢাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে যায় দুষ্কৃতীরা।সুভাষের আত্মীয় দীপু বর্মণ জানান, সুভাষের পা ও কোমরের হাড় ভেঙে গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হবে।

    পুলিশের বক্তব্য

    ওয়ারি থানার (Bangladesh) ওসি মোফিজুর রহমান জানান, সুভাষ পুলিশকে জানিয়েছেন সোমবার রাতে তিনি স্বামীবাগের একটি মন্দিরে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন তাঁকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে আটকে রাখে (Hindu Priest Kidnapped)। ওসি বলেন, “ভোরের দিকে ভবনের একটি অংশ থেকে লাফ দিয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এই সময় গুরুতর আহত হন তিনি।” ওসি জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে। অপহরণকারীদের শনাক্ত করার কাজও চলছে।

    মন্দির কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সদস্য সচিব অনীক কুমার দাস জানান, সুভাষ মন্দিরের স্থায়ী পুরোহিত নন। তিনি বলেন, “আমাদের স্থায়ী পুরোহিত সাইকত পাঠক। তাঁর অনুপস্থিতিতে মাঝে মাঝে সুভাষ পুজোপাঠ করতেন। এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের মন্দিরের কোনও সম্পর্ক নেই। এই বিষয়ে আমরা আমাদের ফেসবুক পেজেও ব্যাখ্যা দিয়েছি (Hindu Priest Kidnapped)।”

    সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

    বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র কাজল দেবনাথ জানান, তাঁরা বিষয়টি জানেন। এটি নিছকই একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত অপহরণ—খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুভাষের বাড়ি খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলায়। তিনি ঢাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে রুম শেয়ার করে থাকতেন (Bangladesh)।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, এক ঝলকে দেখে নিন সাপ্তাহিক ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, এক ঝলকে দেখে নিন সাপ্তাহিক ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। ২৪ থেকে ৩০ মে, ২০২৬ – পর্যন্ত পর্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক।

    তুষ্টিকরণের রাজনীতি (Hindus Under Attack)

    মুসলমানদের মন পেতে ফের ‘তুষ্টিকরণে’র রাজনীতি করেছে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার। সব মিলিয়ে ৫২টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর মধ্যে ২০২২ সালের কালাবুরাগি দাঙ্গার সঙ্গে সম্পর্কিত ৭টি মামলাও রয়েছে। অভিযোগ, কালাবুরাগি দাঙ্গায় মুসলিম জনতা পুলিশের ওপর হামলা করেছিল (Roundup Week)।

    ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ

    বেঙ্গালুরুর এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, ধর্ষণের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনেছেন কেরলের এক কলেজছাত্রী। মাডিওয়ালা থানায় দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে একটি পার্টিতে। এই পার্টির আয়োজন করেছিলেন কয়েকজন ক্যাফে মালিক। অভিযোগকারিণী একটি বেসরকারি কলেজের ছাত্রী। একটি মোমো আউটলেটে তিনি পার্টটাইম কাজ করতেন। তাঁকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ওই পার্টিতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত হাইনাস নামে একজন। তিনি কেরলের বাসিন্দা। কাজ করেন রিয়েল এস্টেট দালাল হিসেবে। ক্যাফেটি বিক্রির কাজে মালিকদের সাহায্য করেছিলেন তিনি। অভিযোগ, আয়োজকরা কিছুক্ষণের জন্য বাইরে চলে গেলে অভিযুক্ত ওই ছাত্রীর ওপর হামলা চালান।

    লাভ জিহাদ

    উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বীর একটি সরকারি কলেজকে ঘিরে বিতর্কের জেরে দুই মহিলা অধ্যাপক এবং আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এক হিন্দু অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা, মানসিকভাবে প্রভাবিত করা এবং ‘লাভ জিহাদ’ চক্করের সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপে লাগানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। যদিও রবিবার দুপুর পর্যন্তও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি (Roundup Week)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশাম্বীর একটি সরকারি বালিকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের দুই শিক্ষিকা এবং তাঁদের এক সহযোগী ছাত্রীদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে উৎসাহিত করছিলেন বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ইসলামী রীতিনীতি অনুশীলনে উৎসাহ দেওয়া, হিন্দু বিশ্বাসের সমালোচনা করা এবং বারবার প্রভাবিত করার মাধ্যমে ছাত্রীদের মতাদর্শগতভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করা।

    মন্দির ভাঙার চেষ্টা

    এদিকে, ভাটকালের মুরিনাকাট্টে বিরোধ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে, উপকূলীয় কর্নাটকের কিছু অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি কতটা স্পর্শকাতর এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা কীভাবে স্থানীয় উত্তেজনাকে বড় আইন-শৃঙ্খলার সঙ্কটে পরিণত করতে পারে। জাতীয় সড়ক ৬৬-এর পাশে ভেঙ্কটাপুরে থাকা একটি ছোট কিন্তু ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু মন্দির পুনর্নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধই শেষতক একটি বড় উত্তেজনার কারণ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, শয়ে শয়ে মুসলমান পুনর্নির্মিত ওই মুরিনাকাট্টে মন্দিরের কাছে জড়ো হয়ে সেটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিল (Roundup Week)।

    আমেরিকার ছবি

    ভারতের পাশাপাশি বিদেশেও চলছে হিন্দু ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার। আমেরিকার নিউ জার্সির বিএপিএস স্বামিনারায়ণ মন্দিরের তীব্র সমালোচনা এবং নেতিবাচক প্রচার তারই একটি উদাহরণ। ফেডারেল তদন্তে কোনও অনিয়মের প্রমাণ না মিললেও, বিএপিএসের বিরুদ্ধে সংবাদ মাধ্যমের প্রচার চলছেই (Hindus Under Attack)।

     

  • CAA: ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের নিজের দেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা ঘোষণার নির্দেশ কেন্দ্রের

    CAA: ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের নিজের দেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা ঘোষণার নির্দেশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাগরিকত্ব বিধি, ২০০৯-এ সংশোধন এনে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা যেসব ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের নিজের নিজের দেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা ঘোষণা করা (CAA) বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্র।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি (CAA)

    সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে (Passport), আবেদনকারীদের এখন ঘোষণা করতে হবে যে তাঁদের কাছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা বাংলাদেশ সরকারের জারি করা বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ কোনও পাসপোর্ট নেই। যদি কোনও আবেদনকারীর কাছে বর্তমানে সচল পাসপোর্ট থাকেও, তবে তাঁকে পাসপোর্ট নম্বর, কোথায়, কবে ইস্যু হয়েছে, এবং মেয়াদ শেষের তারিখ-সহ সমস্ত তথ্য জমা দিতে হবে।

    আবেদনকারীদের আরও একটি অঙ্গীকারপত্র

    সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের আরও একটি অঙ্গীকারপত্র দিতে হবে এই মর্মে যে, নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাঁরা তাঁদের বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোস্ট বা সুপারিনটেনডেন্ট অফ পোস্টের কাছে জমা দেবেন। নয়া এই বিধানটি নাগরিকত্ব বিধির সিডিউল আইসি (Schedule IC)-এর পরে সংযোজন করা হয়েছে। এটি আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ভুক্ত নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন (CAA)। এই পদক্ষেপটি সিএএ (Citizenship Amendment Act, 2019)-এ কার্যকর করতে করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে আগত নথিবিহীন অ-মুসলিম অভিবাসীরা, যাঁরা (CAA) ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ (Passport) পাবেন।

    নাগরিকত্ব বিধির প্রথম বিজ্ঞপ্তি

    প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব বিধি (CAA) সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রথমে জারি হয়েছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সালে। সর্বশেষ সংশোধিত হয়েছে ১১ মার্চ, ২০২৪ সালে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সংসদে পাস হয়েছিল নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন (CAA)। আইনটি নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেছিলেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় নির্যাতনের মুখে পড়ে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের স্বস্তি দেওয়াই এই আইনের উদ্দেশ্য। তিনি এও জানিয়েছিলেন, এই আইন ভারতের কোনও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয় (Passport)। ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে। নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন দেওয়ার লক্ষ্যে নির্ধারিত শর্ত পূরণের ভিত্তিতে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

    অমিত শাহের দাবি

    শাহ বলেছিলেন, এই আইনে যে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, তা ভারতে প্রবেশের তারিখ ও বছর থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং যোগ্য আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে যেসব আইনি প্রক্রিয়া চলছে, সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি জানিয়েছিলেন, এই সব অভিবাসীদের পাসপোর্ট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও, তাঁদের অবৈধ অভিবাসী বলে গণ্য করা হবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে (Passport) সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বছরের পর বছর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। তাই বহু মানুষ ভারতে আসতে বাধ্য হয়েছেন (CAA)।

     

  • Lahore Street Name Restoration: ইসলামপুরা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর, রেহমান গলি এখন রামগলি! লাহোরের রাস্তায় হিন্দুত্বের ছোঁয়া, হল কী পাকিস্তানের?

    Lahore Street Name Restoration: ইসলামপুরা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর, রেহমান গলি এখন রামগলি! লাহোরের রাস্তায় হিন্দুত্বের ছোঁয়া, হল কী পাকিস্তানের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিবর্তনের হাওয়া পাকিস্তানে (Lahore Street Name Restoration)। দেশভাগের আট দশক পর ইসলামি রাষ্ট্রে কদর বেড়েছে হিন্দু-জৈন নামের! অমৃতসর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী লাহোরে সম্প্রতি একাধিক ঐতিহাসিক এলাকার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। একদা হিন্দু অধ্যুষিত লাহোরে কমপক্ষে ন’টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, মোড় ও এলাকার দেশভাগের আগে যে নাম ছিল,সেই নামই ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশের সরকার। কয়েক দশক আগে ইসলামিকরণ নীতির সময়ে বদলে দেওয়া পুরোনো হিন্দু, জৈন ও ঔপনিবেশিক আমলের নাম ফের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ‘ইসলামপুরা’-র নাম আবার ‘কৃষ্ণনগর’ এবং ‘বাবরি মসজিদ চক’-এর নাম ‘জৈন মন্দির চক’ করা হয়েছে।

    কেন এই পরিবর্তন

    প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য আসলে শহরের বহুস্তরীয় ঐতিহাসিক পরিচয়কে পুনরুদ্ধার করা। দেশভাগের আগে লাহোর ছিল বহুসাংস্কৃতিক শহর। হিন্দু, শিখ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতেন। সেই সময়ের বহু রাস্তা, মহল্লা, বাজার এবং চৌকের নাম সেই সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সাক্ষী ছিল। কিন্তু ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর পাকিস্তানে নতুন জাতীয় পরিচয় গঠনের অংশ হিসেবে বহু নাম বদলে দেওয়া হয়। এবার সেই পুরনো নামই আবার ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার। সরকারি সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপ কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য নয়, বরং লাহোরের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক পরিচয়কে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা।

    ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের বৃহত্তর প্রকল্প

    এই নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আসলে আরও বড় একটি ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অংশ। এর আওতায় লাহোরের ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ এবং পুরনো কুস্তির আখড়াও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান গ্রেটার ইকবাল পার্ক, যা আগে মিন্টো পার্ক নামে পরিচিত ছিল, সেখানে ঐতিহাসিক ক্রিকেট গ্রাউন্ড এবং আখড়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একসময় পাকিস্তানের ক্রিকেটার ইনজামাম উল হক সেখানে খেলেছেন। দেশভাগের আগে ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি লালা অমরনাথ-ও সেখানে অনুশীলন করতেন বলে জানা যায়। এছাড়া ঐতিহাসিক কুস্তির আখড়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিংবদন্তি পহেলওয়ান গামা পহেলওয়ান এবং ইমাম বক্স-এর নামও।

    সিন্ধু প্রদেশেও গৃহীত হতে পারে এই পদক্ষেপ

    এই পরিবর্তনগুলো উল্লেখ করে ইতিমধ্যেই নতুন সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কোনও কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোনও বড় ধরনের বিরোধিতা গড়ে তুলতে পারেনি। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের মতে, পাক দিল্লি গেট-সহ লাহোরের প্রাচীর ঘেরা শহরের আটটি ফটকই পুনরুদ্ধার করা হবে। সূত্রমতে, নাম পরিবর্তন অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে পাকিস্তানের সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেও মূল নামগুলো পুনর্বহাল করা হতে পারে।

    কার উদ্যোগে এই পরিবর্তন

    এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ‘লাহোর হেরিটেজ এরিয়া রিভাইভাল’ প্রকল্পের আওতায়। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সমর্থনেই এই প্রকল্প এগোচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পাক পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়ম নওয়াজও এই ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধার প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। কেউ একে পাকিস্তানের অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    স্মৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়ের নতুন বিতর্ক

    এই সিদ্ধান্ত ঘিরে পাকিস্তানে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এটি লাহোরের বহুসাংস্কৃতিক অতীতকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দেশভাগের পর মুছে যাওয়া ইতিহাসকে পুনরায় সামনে আনার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ এটি। রাস্তার নাম বদল শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় — এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শহরের স্মৃতি, ইতিহাস এবং মানুষের পরিচয়ের প্রশ্নও। বহু ক্ষেত্রে সরকারি নথিতে নাম বদলানো হলেও সাধারণ মানুষের মুখে পুরোনো নামই প্রচলিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদরা। সরকারের যুক্তি, ইউরোপের দেশগুলির মতোই পাকিস্তানে ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা উচিত। এর ফলে হেরিটেজ ট্যুরিজমের যেমন প্রসার ঘটবে, তেমনি সরকারের কোষাগারের রাজস্ব জমা পড়বে

    ইসলামপুরা টু কৃষ্ণনগর

    ‘ইসলামপুরা’ এলাকার নাম পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি শোরগোল ফেলেছে। দেশভাগের আগে ওই এলাকার নাম ছিল ‘কৃষ্ণনগর’। পরে পাকিস্তানের ইসলামিক পরিচয় জোরদার করার সময়ে ওই এলাকার নাম বদলে ‘ইসলামপুরা’ করা হয়। এ বার সেই পুরোনো নামই ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    বাবরির রোষে ‘জৈন মন্দির চক’

    একইভাবে, ‘বাবরি মসজিদ চক’ আবার ‘জৈন মন্দির চক’ নামে পরিচিত হবে। এই ‘জৈন মন্দির চক’-এর ইতিহাসও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, লাহোরে এক সময়ে একটি ঐতিহাসিক জৈন মন্দির ছিল। ১৯৯২ সালে ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার পরে পাকিস্তানে ক্ষোভ ছড়ায় এবং প্রতিশোধের আবহে ওই জৈন মন্দির আক্রমণ ও ভাঙচুর করা হয়। পরে এলাকার নাম বদলে ‘বাবরি মসজিদ চক’ রাখা হয়েছিল। এখন সেই নাম সরিয়ে ফের ‘জৈন মন্দির চক’ নাম পুনর্বহাল করা হয়েছে।

    শুধু এই দুই জায়গাই নয়, আরও বেশ কয়েকটি এলাকার পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘লক্ষ্মী চক’, ‘ধরমপুরা’, ‘রাম গলি’-র মতো এলাকা।

    একনজরে পরিবর্তিত নয়া নাম—

    ইসলামপুরা: কৃষ্ণনগর

    সুন্নাতনগর: সন্ত নগর

    মওলানা জাফর চক: লক্ষ্মী চক

    বাবরি মসজিদ চক: জৈন মন্দির চক

    মুস্তাফাবাদ: ধরমপুরা

    স্যর আগা খান চক: ডেভিস রোড

    আল্লামা ইকবাল রোড: জেল রোড

    ফাতিমা জিন্নাহ রোড: কুইন্স রোড

    বাগ-ই-জিন্নাহ: লরেন্স রোড

    মুস্তাফাবাদ: ধরমপুরা

    হামিদ নিজামী রোড — টেম্পল স্ট্রিট

    নিশতার রোড — ব্র্যান্ডরেথ রোড

    রেহমান গলি — রাম গলি

    গাজিয়াবাদ — কুমহারপুরা

    জিলানি রোড — আউটফল রোড

    শাহরাহ-ই-আবদুল হামিদ বিন বাদিস — এমপ্রেস রোড

  • TCS: শেষমেশ মুখ খুলল টিসিএস, ‘দুর্বল বিবৃতি’তে যা জানালেন কর্তৃপক্ষ

    TCS: শেষমেশ মুখ খুলল টিসিএস, ‘দুর্বল বিবৃতি’তে যা জানালেন কর্তৃপক্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দিন আগে প্রকাশ্যে এসেছিল টিসিএসে (TCS) মুসলমান কর্মীরা হিন্দু মহিলা সহকর্মীদের যৌন হয়রান করেছে। অভিযোগ, তারা জোর করে ইসলাম ধর্মে (Religious Conversion Case) ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও করেছিল। এ ব্যাপারে এই তিনদিন মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা। ঘটনার তিনদিন পর, কোম্পানি শেষমেশ একটি দুর্বল বিবৃতি দিয়েছে, যা মূলত পিআর-সংক্রান্ত শব্দে ভরা।

    ‘জেহাদি নেক্সাস’ (TCS)

    বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষের তরফে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে হিন্দু সহকর্মীদের লক্ষ্য করে তথাকথিত ‘জেহাদি নেক্সাসে’র  কোনও উল্লেখ না করে, টিসিএস জানিয়েছে, “যে কোনও ধরনের হয়রানি ও জোরজবরদস্তির বিরুদ্ধে টিসিএসের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। আমরা সবসময় কর্মক্ষেত্রে আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখেছি।” নিজেদের দায়মুক্ত করতে এবং বিতর্ক এড়ানোর চেষ্টা করে সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত মুসলিম কর্মীদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। টিসিএস জানিয়েছে, “নাসিকের ঘটনাটি সম্পর্কে জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত কর্মীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করছি। তদন্তের ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

    যৌন হয়রানি ও ধর্মান্তর চক্র

    প্রসঙ্গত, নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের একটি বিপিও ইউনিটে গত ৪ বছর ধরে একটি বড় যৌন হয়রানি ও ধর্মান্তর চক্র চলছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জন মুসলিম কর্মী, যারা টিম লিডার হিসেবে কাজ করত, (আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং দানিশ শেখ) তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে (TCS)। অভিযোগ, ওই সংস্থায় হিন্দু মহিলাদের জোর করে গরুর মাংস খাওয়ানো হত, বাধ্য করা হত নমাজ আদায় করতে। ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত (Religious Conversion Case) করার জোরদার চেষ্টাও চলত। আরও জানা গিয়েছে, সংস্থার এইচআর ম্যানেজার (যিনি ধর্মে মুসলিম) ভুক্তভোগীদের ‘শান্ত থাকার’ পরামর্শ দেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি তাঁদের এও বোঝানোর চেষ্টা করেন যে বহুজাতিক কোম্পানিতে এটি খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার (TCS)।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, দেখে নেওয়া যাক সপ্তাহের ছবিটা

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, দেখে নেওয়া যাক সপ্তাহের ছবিটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ তো বটেই, বিদেশেও হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack) ঘটছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এই নির্যাতন এমন এক রূপ নিচ্ছে, যা ধীরে ধীরে সংঘটিত হওয়া গণহত্যার মতো মনে হচ্ছে। বহু দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলির প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে এসেছে, যা আদতে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী পক্ষপাতিত্বের ফল (Roundup Week)। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমিদখল, উৎসবে-অনুষ্ঠানে হামলা, মন্দির-মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনি বৈষম্য—সব মিলিয়ে হিন্দুরা আজ তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখোমুখি। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত ছবিটা। বিশ্বজুড়ে মানুষ যাতে এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হয়, তাই এহেন তথ্য প্রকাশ।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে একটি ডিগ্রি কলেজের গেটে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, এরা এক হিন্দু ছাত্রীকে উত্যক্ত, বিয়ের জন্য চাপ এবং ধর্মান্তরের চেষ্টা করছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে অনুসরণ ও ভয় দেখাচ্ছিল এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিকাহ করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। ছাত্রীটির কাকা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তদের আটক করেন। পরে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। নয়ডার ফেজ-৩ এলাকায় এক হিন্দু তরুণীর অভিযোগ, এক মুসলিম যুবক নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে, যৌন নির্যাতন চালায়। গত কয়েক (Roundup Week) মাস ধরে টাকাও আদায় করে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ(Hindus Under Attack)।

    অ্যাসিড হামলা

    চিত্রদুর্গে উগাদি উৎসবের সময় ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। সুহাইল বাশা নামে এক ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে অ্যাসিড হামলা চালায় তার স্ত্রী এবং হিন্দু শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ওপর। মালাপ্পানাহাট্টি গ্রামের এই হামলায় এক শিশু-সহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার চুনাখালি শ্যামবাজার এলাকায় কালীর প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মহারাষ্ট্রের পুনেতে বিতর্কিত জমিতে রমজানের ইফতার করার অভিযোগে মুসলিমদের একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। উদুপি জেলায় ২০–২২ মার্চ চলছে ‘সমাধান মহোৎসব’। এই উৎসব নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তামিলনাড়ুর খ্রিস্টান প্রচারক মোহন সি লাজারাসের নেতৃত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটির বিরোধিতা করছে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন (Roundup Week)।

    হিন্দুদের ওপর আক্রমণ

    বাংলাদেশের ছবিটাও একই রয়েছে। সে দেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ ধারাবাহিকভাবে চলছে। অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ধীরে ধীরে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে এই আক্রমণ হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে (Hindus Under Attack)। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আক্রমণ, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবই হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশছাড়া করার উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৬ বছর বয়সী শান্ত কুমার সাহা ডাকাতদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেই সময় তাকে ধরে রাস্তার ওপর ফেলে দেওয়া হয়। দ্রুত চলে আসা একটি গাড়ির নীচে চাপা পড়ে মারা যায় সে।

    আমেরিকার ছবি

    পিরোজপুরের নেসারাবাদে গোপাল চন্দ্র দাসের মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়েছে ব্যাপক আতঙ্ক (Roundup Week)।খুলনার পাইকগাছায় এক পুলিশ আধিকারিকের মা ভারতী মণ্ডলকে গলা কেটে খুন করা হয়। বাড়ির পাশের মাছের ভেড়ি থেকে দেহ উদ্ধার হয় তাঁর (Hindus Under Attack)। আমেরিকায় ‘ওভারসিজ ফ্রেন্ডস অব বিজেপি ইউকে’ সংস্থা হ্যারোয় হোলি উদযাপন ব্যাহত হওয়ার পর বিভিন্ন হিন্দু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে।

    বস্তুত, বেশিরভাগ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে কাজ করছে হিন্দু-বিরোধী মনোভাব। এই মনোভাব কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত। ইসলামিক দেশগুলিতে এই বিদ্বেষ স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলিতেও সূক্ষ্মভাবে রয়ে গিয়েছে হিন্দু-বিরোধী মনোভাব। এই ধরনের সূক্ষ্ম বৈষম্য আইন ও সামাজিক আচরণের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। তাই সহজে চোখে পড়ে না। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ করার বিষয়টির উল্লেখ করা যায়। এটি পরিবেশগত (Roundup Week) কারণ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, অন্যান্য উৎসবের ক্ষেত্রে একই ধরনের বিধিনিষেধ না থাকায় প্রকাশ্যে চলে আসে দ্বিচারিতা ((Hindus Under Attack))।

     

LinkedIn
Share