Tag: Hong Kong

Hong Kong

  • China AI Stocks: চিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সেমিকন্ডাক্টর শেয়ারে মহাধস, উধাও ৪৮ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য

    China AI Stocks: চিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সেমিকন্ডাক্টর শেয়ারে মহাধস, উধাও ৪৮ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড়সড় গাড্ডায় চিন! ড্রাগনের দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর সংস্থাগুলির শেয়ারবাজারে (China AI Stocks) ব্যাপক ধস নেমেছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারের দর যখন টালমাটাল, তখন চিনের প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারগুলির পতন আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দরপতনে চিনের শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য মুছে গিয়েছে। গত চার মাসেরও কম সময়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির প্রধান সূচক স্টার৫০ প্রায় ৪০ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা নিয়ে সংশয়, চিনা পণ্যের রফতানিতে বিধিনিষেধ এবং সংস্থাগুলির অত্যধিক মূল্যায়ন—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা টাল খেয়েছে (Market Loss) বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    বিশ্বের দুর্বল শেয়ারবাজারের জন্য এই পতন যথেষ্ট উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের সম্প্রসারণে অর্থ জোগাতে সাধারণ মানুষকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার বেজিংয়ের উদ্যোগও ধাক্কা খেয়েছে। গত দু’বছরের ঊর্ধ্বমুখী বাজারের প্রবণতা থমকে গিয়েছে। পুরনো উত্থান-পতনের চক্রের বদলে বাজারকে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে পরিকল্পনা চিন সরকার করেছিল, তা-ও বাধার মুখে। দেশের প্রধান বৃহৎ সংস্থাগুলির সূচক সিএসআই৩০০ জুন মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ২০ শতাংশ নেমে এসেছে।

    বেজিংয়ের বিনিয়োগ তহবিল পরিচালনাকারী ডং বাওঝেনের কথায়, “শেয়ারবাজার এক উন্মত্ত জল্পনানির্ভর ঊর্ধ্বগতিতে পরিণত হয়েছিল। আর এখন আমরা সেই বুদ্‌বুদ ফেটে যেতে দেখছি।”

    নেমেছে নাসডাক সূচক (China AI Stocks)

    চিনের বাজারে এই পতন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, গত কয়েক বছরে চিনের প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারের উত্থান পশ্চিমের দেশগুলি এবং এশিয়ার অন্যান্য বাজারকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল। তুলনায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাগুলির শেয়ারে এখনও পর্যন্ত বড় ধাক্কা লাগেনি। তবে তিন সপ্তাহ আগে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছনোর পর নাসডাক সূচক প্রায় ৬ শতাংশ নেমেছে।

    বাজারের লেনদেনকারীদের মতে, চিনের শেয়ারবাজারে এই পতনের পিছনে কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই। শেয়ারের অত্যধিক দাম, করের বোঝা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ অন্য দেশগুলির তরফে তথ্যকেন্দ্রে চিনা যন্ত্রপাতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির আশঙ্কা—এই সবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

    গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী, চিনের মূল ভূখণ্ডের ‘এ’ শ্রেণির শেয়ার এবং হংকংয়ের ‘এইচ’ শ্রেণির শেয়ার মিলিয়ে বাজারের মোট মূলধনের ৪২ শতাংশ দখল করেছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত সংস্থাগুলি। মোট লেনদেনের ক্ষেত্রেও তাদের অংশ ছিল ৫৭ শতাংশ। চিনের বাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রভাব বেশি হওয়ায় এই পতনের ধাক্কা এড়ানো অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়েছে (China AI Stocks)।

    ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পছন্দের সংস্থাগুলির শেয়ারেও ধস

    চিনের রোবট নির্মাতা সংস্থা ইউনিট্রির শেয়ারের দর অগাস্টে বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। সংস্থাটির শেয়ার কেনার জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চাহিদা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রস্তাবিত শেয়ারের তুলনায় প্রায় আট হাজার গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছিল।

    চিনের চিপ নির্মাতা সংস্থা সিএক্সএমটির বাজারমূল্য গত এক মাসে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি কমেছে। অন্য দুই চিপ নির্মাতা মেটাএক্স ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস এবং মুর থ্রেডস টেকনোলজির শেয়ার গত বছর বাজারে আত্মপ্রকাশের সময় যথাক্রমে ৭০০ শতাংশ ও ৪০০ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু জুলাই মাসের পর থেকে উভয় সংস্থার শেয়ারের মূল্যও অর্ধেক হয়ে গিয়েছে।

    দক্ষিণ চিনের হাইনান প্রদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী চেন ওয়েনশেং জানান, সরকারি সমর্থন রয়েছে—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতিতে অংশ নিয়েছিলেন। ইউনিট্রির মতো সংস্থায় সরকারি সমর্থনপুষ্ট বিনিয়োগ তহবিলের অংশগ্রহণ তাঁর আস্থার অন্যতম কারণ ছিল। কিন্তু এখন চেন এবং তাঁর বন্ধুরা বিনিয়োগে লোকসানের মুখে পড়েছেন।

    হতাশা বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে…

    বেজিংয়ের সমর্থনপুষ্ট একটি বিনিয়োগের প্রবণতা এভাবে শেষ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। অনেকেই ঝুঁকি কম এমন সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির পক্ষে নতুন করে শেয়ার ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে (Market Loss)।

    যন্ত্রাংশ নির্মাতা সংস্থা ঝংজি ইনোলাইট এবং ইওপ্টোলিংক টেকনোলজির শেয়ারের দর জুন ও জুলাই মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে। এর অন্যতম কারণ, মার্কিন প্রশাসন চিনা সংস্থাগুলিকে আমেরিকার তথ্যকেন্দরে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা থেকে বিরত রাখার পথে এগোচ্ছে। একসময় যে সংস্থাগুলির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল, তারাই এখন অনিশ্চয়তার (China AI Stocks) মুখে।

    পতনের পরেও স্টার৫০ সূচকের সংস্থাগুলির শেয়ার তাদের গত এক বছরের আয়ের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ দামে লেনদেন হচ্ছে। একসময় এই অনুপাত প্রায় ২৫০ গুণে পৌঁছেছিল। তবু তা মার্কিন নাসডাক১০০ সূচকের প্রায় ৩০ গুণ আয়ের অনুপাতের তুলনায় অনেক বেশি। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আগে শেয়ারের দাম আরও কমতে পারে।

    হংকংয়ের লোটাস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ও প্রধান বিনিয়োগ আধিকারিক হং হাও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতির ফলে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা বহু সংস্থার পরিকল্পনা থমকে যাবে।”

    ‘সব বুদ্‌বুদই শেষ পর্যন্ত ফেটে যায়’

    শেয়ারবাজারে এই উন্মত্ত উত্থান এবং পরবর্তী পতন চিন সরকারের বাজারকে স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ঋণনির্ভর বিনিয়োগ এবং অতিদ্রুত লেনদেনের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে শেয়ারবাজারের অস্থিরতা কমানো ও বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল প্রশাসন। বাজারের অতিরিক্ত উত্থান ঠেকাতে সরকারি সমর্থনপুষ্ট বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বিক্রি করেছিলেন।

    গত সপ্তাহে সংবাদ সংস্থার পাঠানো প্রশ্নের জবাবে চিনের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা চিন সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের গোড়ায় সংস্থাটির চেয়ারম্যান উ ছিং শেয়ারবাজারের বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে বৈঠক করেন। মূলধনবাজারের উন্নতির উপায় নিয়ে তাঁদের পরামর্শ শোনাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। তবে বিনিয়োগ মহলের একাংশের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থাগুলির অতিরিক্ত উত্থান বাজারের কাঠামোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে (China AI Stocks)।

    ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টায় বহু বিনিয়োগকারী…

    বেজিংয়ের কিয়ানচুয়াং ক্যাপিটালের অংশীদার লিও ওয়াং বলেন, “প্রযুক্তিগত গুরুত্বকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া—অর্থাৎ বড় সূচকগুলিতে বাজারমূল্যের নিরিখে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির অংশ বাড়িয়ে তোলা—মূলধনের ব্যবহারে বিচ্যুতি, এমনকি বিকৃতিও তৈরি করে। এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে ভয়াবহ জল্পনামূলক বুদ্‌বুদ তৈরি হয়েছে এবং অন্য ক্ষেত্রগুলি থেকে বিপুল পরিমাণ মূলধন সরে গিয়েছে।”

    তবে কিছু বিনিয়োগকারী মনে করছেন, এই পতন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাঁদের যুক্তি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাজারের সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের আয়, বিশেষত নিয়মিত আয়ের সুযোগ বাড়ানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার পক্ষে এই পতন অস্বাভাবিক বা ক্ষতিকর নয়।

    এইচএসবিসির গবেষণা অনুযায়ী, গত তিন মাসে চিনা শেয়ার বিক্রি করলেও এশিয়ার বিনিয়োগ তহবিলগুলির বড় অংশ এখনও চিনের বাজারে তুলনামূলক বেশি বিনিয়োগ ধরে রেখেছে।

    চলতি মাসের গোড়ায় প্রকাশিত নতুন সুপারিশের তালিকায় গোল্ডম্যান স্যাকস চিনের কয়েক ডজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত সংস্থার মধ্যে ইনোলাইট এবং সিএক্সএমটিকে রেখেছে। অন্যদিকে, বিএনপি পারিবাস সিকিউরিটিজের কৌশলবিদ উইলিয়াম ব্র্যাটন মনে করেন, সতর্ক বিনিয়োগকারীদের জন্য এই বাজারে শেয়ার কেনার সুযোগ রয়েছে (China AI Stocks)।

    অন্য শিল্পক্ষেত্রে নজর বিনিয়োগকারীদের

    তবু চিনের মূল ভূখণ্ডের বহু বিনিয়োগকারী এখন অন্য শিল্পক্ষেত্রের দিকে নজর দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার শেয়ারের দাম আরও কমার অপেক্ষা করছেন।

    সাংহাইয়ের ঝুওঝু ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের অংশীদার ও তহবিল পরিচালনাকারী ওয়াং ঝুও বলেন, “চিনের অন্যান্য উৎপাদনকারী সংস্থার মতো চিপ নির্মাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও শেষ পর্যন্ত মূল্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে (Market Loss)।” তিনি আরও বলেন, “এর কোনও ব্যতিক্রম নেই। সব বুদ্‌বুদই শেষ পর্যন্ত ফেটে যায়।”

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে চিনের শেয়ারবাজারে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। অতিরিক্ত মূল্যায়ন কাটিয়ে ওঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই (China AI Stocks) আপাতত বাজারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

     

  • India Back Buddha’s Jewel: শেষ মুহূর্তে নিলাম থামাল ভারত, হংকং থেকে উদ্ধার আড়াই হাজার বছর পুরনো বুদ্ধের গয়না

    India Back Buddha’s Jewel: শেষ মুহূর্তে নিলাম থামাল ভারত, হংকং থেকে উদ্ধার আড়াই হাজার বছর পুরনো বুদ্ধের গয়না

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক আন্তর্জাতিক নিলাম, ২,৫০০ বছরের প্রাচীন ইতিহাস এবং শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক-আইনি নাটক—সব মিলিয়ে বাস্তবের এক রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। শেষ পর্যন্ত হংকং থেকে উদ্ধার হলো বুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত অমূল্য ধাতুরত্ন (India Back Buddha’s Jewel)। ভারতের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন সাফল্য।

    শুরুটা যেভাবে

    ঘটনার সূত্রপাত একটি ‘রুটিন অ্যালার্ট’ দিয়ে। কিন্তু খুব দ্রুতই তা বদলে যায় আন্তর্জাতিক স্তরের এক টানটান অভিযানে। জানা যায়, লন্ডনে থাকা পিপরাওয়া বুদ্ধ-রত্ন নিলামে (India Back Buddha’s Jewel) তুলতে চলেছে আন্তর্জাতিক নিলাম সংস্থা সোদেবি’স (Sotheby’s), হংকংয়ে (Hong Kong)। বেস প্রাইস— প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। ১৮৯৮ সালে প্রাচীন কাপিলাবস্তুর স্তূপে এই রত্নগুলি আবিষ্কার করেছিলেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ উইলিয়াম ক্ল্যাক্সটন পেপ্পে। ১২৭ বছর পরে তাঁরই বংশধর সেই রত্ন নিলামে তোলার উদ্যোগ নেন।

    যেভাবে গয়না ফেরাল ভারত

    পিপরাওয়া উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের কাছে অবস্থিত। বৌদ্ধ ইতিহাসে যার গুরুত্ব অপরিসীম। এই রত্নগুলি শুধু গয়না নয়, বুদ্ধের অস্থিধাতু, রেলিক, রিলিকোয়ারি ও খোদাই করা পাথরের সঙ্গে যুক্ত এক অনন্য ঐতিহ্য। প্রথমবার ১২৭ বছর পরে ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়া এই রত্নগুলির একাংশ ভারতে থাকা বুদ্ধ-রেলিকের সঙ্গে পুনর্মিলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় ‘দ্য লাইট অ্যান্ড দ্য লোটাস: রেলিক্স অফ দ্য অ্যাওয়েকেন্ড ওয়ান’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে। কিন্তু নিলামের ঘণ্টা বাজলে এই সভ্যতার স্মারক চিরতরে ছড়িয়ে পড়ত ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের হাতে। আরও ভয় ছিল— চিনের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা। সেখানেই হস্তক্ষেপ করে ভারত। শেষ ৭২ ঘণ্টায় ভারত সরকার কূটনৈতিক চাপ, আইনি নোটিস ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আইন ব্যবহার করে নিলাম স্থগিত করতে সক্ষম হয়।

    আইনের চেয়েও দর্শন বড় অস্ত্র

    এই অভিযানের বিশেষত্ব এখানেই—ভারত কেবল মালিকানার আইনি দাবি করেনি। বরং যুক্তি দিয়েছে, এই রত্নগুলি নিছক বস্তু নয়, বরং বৌদ্ধ দর্শন, করুণা, অহিংসা ও জ্ঞানচর্চার জীবন্ত প্রতীক। ভারতের এই নৈতিক ও দার্শনিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গভীর প্রভাব ফেলে। ‘বাণিজ্য নয়, বিবেক’—এই যুক্তিতেই কার্যত নিলাম স্থগিত হয়।

    ঐতিহাসিক প্রথম: সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রত্যাবর্তন

    সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব বিবেক আগরওয়াল, যিনি এই অভিযানের অন্যতম কারিগর, স্পষ্ট বলেন, “এই প্রথমবার ভারতে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে কোনও রত্ন প্রত্যাবর্তন হল।” তাঁর অভিজ্ঞতা, বিশেষত অর্থ মন্ত্রকের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে কাজ করার সুবাদে নিলাম জগতের ফাঁকফোকর বুঝতে বড় ভূমিকা নেয়। শেষ ৭২ ঘণ্টায় আইনি নোটিস, কূটনৈতিক চাপ ও তথ্যপ্রমাণের দৌড়ে থামে নিলাম।

    দানশীলতার দৃষ্টান্ত: পিরোজশা গোদরেজ

    এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে এগিয়ে আসেন মুম্বইয়ের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও দানশীল ব্যক্তি পিরোজশা গোদরেজ। তিনি অঘোষিত মূল্যে রত্নগুলি কিনে নেন এবং ভারত সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে প্রদান করেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এই রত্নগুলি চিরকাল ভারতেই থাকবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে কেন এই রত্ন অমূল্য

    ন্যাশনাল মিউজিয়ামের ডেপুটি কিউরেটর অবিরা ভট্টাচার্য বলেন, “এই রত্নগুলি ভারতের সভ্যতার স্মৃতি বহন করে—যা সীমান্ত বা রাজনীতির ঊর্ধ্বে।” ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হেরিটেজের অধ্যাপক সবিতা কুমারী জানান, “২৫০০ বছরের প্রাচীন এই রত্নগুলি বৌদ্ধ জগতের প্রাচীনতম ধর্মীয় নিদর্শনের অন্যতম।”

    ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত

    এই ঘটনা প্রমাণ করল— সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা, দ্রুত গোয়েন্দা ও আইনি পদক্ষেপ, সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক যুক্তির ব্যবহার এই তিনের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক সম্পদ রক্ষা সম্ভব।সংস্কৃতি মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি শুধু ধাতুরত্ন ফেরত আনার ঘটনা নয়—এটি ভারতের স্মৃতি, দর্শন, আত্মমর্যাদা ও সভ্যতাগত দায়িত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার মুহূর্ত।

  • Hong Kong Fire: হংকং-এর হাইরাইজ এখন জতুগৃহ, অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ৪৪, নিখোঁজ অন্তত ৩০০

    Hong Kong Fire: হংকং-এর হাইরাইজ এখন জতুগৃহ, অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ৪৪, নিখোঁজ অন্তত ৩০০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হংকংয়ের (Hong Kong Fire) বহুতল আবাসনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৪৪। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ৪৫ জন। বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২০ ঘণ্টা পার হলেও এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি আগুন। এই ঘটনায় তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে ২০০০ ফ্ল্যাটের ওই আবাসনে আগুন লাগে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সুউচ্চ আবাসনের ৭টি বহুতল চোখের সামনে আগুনের গ্রাসে চলে যায়। বুধবার রাত পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ৩৬। বৃহস্পতিবার সকাল হতে হতে তা বেড়ে হয় ৪৪। তবে হতাহতের সংখ্য়া অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ৩০০ মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি এখনও পর্যন্ত।

    নির্মাণকারী সংস্থার চরম গাফিলতি

    হংকংয়ের উত্তরের তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্টের ওই বহুতলে বুধবারের ওই ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের পর ওই আবাসনের নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা সংস্থাকেই দুষল পুলিশ। জানানো হল, সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থার চরম গাফিলতিতেই প্রাণ গিয়েছে এত মানুষের। বুধবার রাতে হংকং পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট আইলিন চুং সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘‘বহুতলের নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা চরম অবহেলা করেছিলেন। তার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমাদের এমনটা মনে করার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। তাঁদের গাফিলতিতেই আগুন অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে এত বড় ঘটনা ঘটে যায়।’’ ইতিমধ্যে ওই সংস্থার তিন আধিকারিককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে দু’জন সংস্থার ডিরেক্টর। তৃতীয় জন সংস্থার এক ইঞ্জিনিয়ার। তবে ঠিক কী থেকে ওই আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলছে।

    আবাসনের অধিকাংশ বাসিন্দাই বয়স্ক

    জানা গিয়েছে, বহুতলটি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল। তাই বাঁশের ভারা বাঁধা ছিল ৩২ তলা বিল্ডিংয়ের বাইরে। সেই বাঁশের ভারা থেকেই আগুন আরও বিধ্বংসী আকার ধারণ করে। আবাসনের অধিকাংশ বাসিন্দাই বয়স্ক। বিপদে ছুটে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা নেই তাঁদের শরীরে। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলায় ফ্ল্যাটের জানলা-দরজাও বন্ধ করে রেখেছিলেন বাসিন্দারা। আগুন লেগেছে বলে গোড়ায় বুঝতেই পারেননি অনেকে। ফোন করে জানাতে তবেই বুঝতে পারেন। উদ্ধারকার্য চালাতে গিয়ে আগুনের গ্রাসে এক দমকলকর্মীরও মৃত্যু হয়েছে সেখানে। চিনের কর্তৃত্ব না মানলেও, হংকং চিনের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গণ্য হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। সবরকম সাহায্য়ের আশ্বাস জুগিয়েছেন সকলকে।

LinkedIn
Share