Tag: Hormuz Strait Crisis

  • Strait of Hormuz: শীঘ্রই মিটতে চলেছে জ্বালানি সংকট! হরমুজ পেরোচ্ছে ভারতের আরও ২ এলপিজি ট্যাঙ্কার

    Strait of Hormuz: শীঘ্রই মিটতে চলেছে জ্বালানি সংকট! হরমুজ পেরোচ্ছে ভারতের আরও ২ এলপিজি ট্যাঙ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও দুই অপরিশোধিত তেলবাহী ভারতীয় জাহাজ পার করবে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে অস্থির হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতীয় পতাকাবাহী আরও দুইটি এলপিজি ট্যাঙ্কার—‘পাইন গ্যাস’ (Pine Gas) এবং ‘জগ বসন্ত’ (Jag Vasant)—আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রণালী অতিক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে ওই দুই জাহাজ। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, দুটি জাহাজই যাত্রার সংকেত পাঠাতে শুরু করেছে। বাণিজ্যিক সূত্রের দাবি, খুব শীঘ্রই তারা রওনা দিতে পারে।

    ভারতীয় জাহাজগুলির অবস্থান

    ২ দিন আগের রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ২২টি ভারতীয় জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (Indian Oil Corporation)-এর ‘পাইন গ্যাস’ এবং ভারত পেট্রোলিয়ম-এর (Bharat Petroleum) ‘জগ বসন্ত’ ও রয়েছে। দু’টি জাহাজই এলপিজি ট্যাঙ্কার। সহজ ভাষায় বললে, রান্নার গ্যাস আসছে। জাহাজ দু’টি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজার কাছে নোঙর করে রয়েছে। তবে শীঘ্রই রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, এই দু’টি জাহাজ চলাচলের বিষয়ে এখনও নিখুঁত তথ্য পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয়। গত সপ্তাহে ইরান দু’টি ভারতীয় এলপিজি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেয়। ইতিমধ্যেই এলপিজি নিয়ে সেই জাহাজগুলি ভারতে এসেও গিয়েছে বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও ইরানের সুসম্পর্ক এবং ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থানের ফলেই এই সুযোগ মিলেছে।

    তেল পরিবহণে স্থবিরতা, সীমিত চলাচল

    গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে কোনও ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার চলাচল করেনি। ইরানের হুঁশিয়ারির পর বহু জাহাজই নোঙর করে অপেক্ষা করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তবে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হামলার পর ইরান ওই প্রণালীর উপর ‘দখল’ রেখেছে। হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, কোনও পণ্যবাহী জাহাজকে প্রণালী পার করতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি এগোনোর চেষ্টা করে, তবে পরিণতি ‘সাংঘাতিক’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। কয়েকটি জাহাজে হামলাও হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। কয়েকটি দেশের জাহাজ পারাপারের ‘অনুমতি’ দেয় ইরান।

    ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ

    এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার নিরাপদ নৌ-চলাচলের ওপর জোর দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ভারতের ২২টি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আন্তর্জাতিক স্তরে যোগাযোগ রাখছেন। গত সপ্তাহে ইরান দু’টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কারকে পারাপারের অনুমতি দিয়েছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচল এখনও সম্ভব। এই দুই ভারতীয় ট্যাঙ্কারের সম্ভাব্য যাত্রা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ, এটি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে কিনা, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ইরান থেকে তেল আমদানি!

    আগেই হরমুজ দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে বারবার ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান। সেদেশ থেকে ফের অপরিশোধিত তেল কেনার পরিকল্পনা করছে ভারতের বিভিন্ন রিফাইনারি। তেল কেনা নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আপাতত কিছুটা শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এমতাবস্থায়, সেই সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছিল ভারত। যদিও ইরান জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির মতো অতিরিক্ত তেলের জোগান এই মুহূর্তে তাদের হাতে নেই। সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, ভারতের তৈল শোধনাগারগুলি ইরান থেকে পুনরায় ক্রুড অয়েল আমদানি শুরু করার বিষয়ে প্ল্যান করছে। তেহরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা ছাড় দিচ্ছে। সেই সুযোগেই ভারত বিকল্প উৎস হিসেবে ইরানের দিকে ঝুঁকছে। তবে ইরানের তেল মন্ত্রকের বক্তব্যই কিছুটা চিন্তার বিষয়। তাদের দাবি, বর্তমানে কোনও ‘ফ্লোটিং ক্রুড’ বা অতিরিক্ত মজুত নেই।

    ইরান-মার্কিন সংঘাতে তেলের দামে আগুন

    হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম হুহু করে বেড়েছে (Global Oil Crisis)। ইরানের বক্তব্য, পথ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ট্যাঙ্কারদের জন্যই বন্ধ, অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে আপাতত বাধা নেই। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “হরমুজ খোলা। শুধু যারা আমাদের শত্রু বা আমাদের আক্রমণ করছে এবং তাদের মিত্রদের জন্যই এটি বন্ধ।”

    ভারতের জন্য কী বার্তা?

    কয়েকদিন আগেই ভারতের দু’টি জাহাজ ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে গুজরাতে পৌঁছেছে। এখন নজর আরও দুই জাহাজের গতিপ্রকৃতিতে। হরমুজে এলপিজি ট্যাঙ্কার জগ বসন্ত (Jag Vasant), বিডব্লিউ এল্ম (BW Elm), বিডব্লিউ লয়্যালিটি (BW Loyalty), পাইন গ্যাস (Pine Gas), গ্রিন সাংভি (Green Sanvi), জগ বিক্রম (Jag Vikram) এবং গ্রিন আশা (Green Asha) আটকে ছিল। এর মধ্যে কমপক্ষে চারটি ‘ভেরি লার্জ গ্যাস ক্যারিয়ার’, বাকি তিনটি মিড-সাইজ ক্যারিয়ার। ভারতের মাসিক চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ বহন করছে এই জাহাজগুলি। এই ৬টি ট্যাঙ্কার মিলিয়ে বহন করছে প্রায় ৩.৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি (LPG), যা ভারতের মাসিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। তুলনায়, সম্প্রতি নিরাপদে দেশে এসে পৌঁছনো শিবালিক (Shivalik) ও নন্দা দেবী (Nanda Devi) নামের দুটি ট্যাঙ্কার এনেছিল প্রায় ৪৬ হাজার টন করে এলপিজি (LPG)। ‘পাইন গ্যাস’ ও ‘জগ বসন্ত’-এও ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি থাকতে বলে জানা যাচ্ছে।

  • Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খুশির খবর পেল ভারত। নরেন্দ্র মোদির দেশে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে একটি নয়া পথ ব্যবহার করতে শুরু করেছে সৌদি আরব (Hormuz Strait Crisis)। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে একাধিক ট্যাঙ্কার ভারতের বিভিন্ন (Saudi Arabia) বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্নের কারণে উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি বিকল্প সরবরাহপথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

    নয়া পথে আসছে তেল (Hormuz Strait Crisis)

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান ওই এলাকায় কিছু জাহাজকে টার্গেট করায় অনেক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। সাধারণত, বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি আমদানিও মূলত এই পথের ওপরই নির্ভরশীল। এখন সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে ভারতে তেল সরবরাহ শুরু করেছে। ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে চারটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে। এগুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। চলতি মাসের শেষে আরও ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতে পৌঁছনোর কথা। এই নয়া লোহিত সাগর রুটের খবর ১৬ মার্চ প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ। যদিও সৌদি আরব এই জ্বালানি সরবরাহে একটি শর্ত দিয়েছে, সেটি হল মাসিক বরাদ্দের কেবল একটি অংশই এই পথে পাঠানো হবে।

    ‘সামনের দরজা’ বনাম ‘পেছনের দরজা’

    সাধারণত উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। একে ‘সামনের দরজা’ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে এই পথটি জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে (Saudi Arabia)। এদিকে, ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে বিবেচিত লোহিত সাগর রুটে ইয়ানবু থেকে ১২০০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করা হয়। অবশ্য এই পাইপলাইনের ক্ষমতা সীমিত। তাই এই পথে হরমুজ প্রণালী রুটের তুলনায় কম পরিমাণ তেল পরিবহণ করা যায়। লোহিত সাগর রুটও ঝুঁকিমুক্ত নয়। এটি বাব আল-মানডাব প্রণালী দিয়ে যায়, যা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আওতায় রয়েছে। এর আগে ইজরায়েল-হামাস দ্বন্দ্ব চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে টার্গেট করেছিল। তাই সেই সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছিল (Saudi Arabia)। সেই কারণেই অনেক জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যায় (Hormuz Strait Crisis)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি হুথিরা ফের হামলা শুরু করে, তাহলে এই রুটেও জাহাজ চলাচল ফের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

     

LinkedIn
Share