Tag: howrah municipal corporation

howrah municipal corporation

  • Shamik Bhattacharya: একক লড়াইয়েই কলকাতা-হাওড়া দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু নির্বাচন কমিশনের

    Shamik Bhattacharya: একক লড়াইয়েই কলকাতা-হাওড়া দখলের লক্ষ্যে বিজেপি, পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে ঘিরে ক্রমশ চড়তে শুরু করেছে রাজনীতির পারদ। একদিকে যেমন পুরভোটের (Kolkata Municipal Election 2026) রণকৌশল ঠিক করতে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলি, অন্যদিকে তেমনই নির্বাচনের প্রশাসনিক প্রস্তুতিও ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে (Shamik Bhattacharya)। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশন দখলের লক্ষ্যে বিজেপি যে একক শক্তিতেই লড়াই করবে, তা স্পষ্ট করে দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমীকরণ থাকলেও পুরভোটে বিজেপি কোনও জোটের উপর নির্ভর করতে চাইছে না বলেই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।

    সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক এনডিএর শরিকদের সঙ্গে সমীকরণ, দলের অভ্যন্তরের ক্ষোভ-বিক্ষোভ, বাংলার প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ, প্রবাসীদের বিনিয়োগ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। পুরভোটের লড়াই নিয়ে তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নিজের শক্তিতেই নির্বাচনে লড়াই করতে সক্ষম। তাঁর কথায়, “বিজেপি একার শক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে লড়াই করে ক্ষমতায় এসেছে। কারওর দয়ায় নয়, কারওর আশীর্বাদে নয়, কোনও মতাদর্শের ডাইলিউশন করে নয়।”

    জোট নয়, নিজেদের শক্তিতেই পুরভোটে বিজেপি (Shamik Bhattacharya)

    এনডিএর কয়েকটি শরিক দল এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই প্রসঙ্গে শমীক জানান, এনসিপি বা অন্য কোনও শরিক দল দেশের অন্য রাজ্যে কিংবা কেন্দ্রীয় স্তরে এনডিএর অংশ হতে পারে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের পুরভোটের সমীকরণ সম্পূর্ণ আলাদা। কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশন দখলের জন্য রাজ্য বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাই যথেষ্ট বলে দাবি তাঁর।

    রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প—এই প্রচলিত কথাটিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তবে সেই সম্ভাবনার রাজনীতির মধ্যেও পুরভোটে এককভাবে লড়াই করার পক্ষেই তিনি জোরালো সওয়াল করেছেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কর্মীরা নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির উপর ভর করেই কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশন দখলের লড়াইয়ে নামতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

    দলের অন্দরের ক্ষোভ নিয়ে কী বললেন শমীক?

    বিজেপির অন্দরে কয়েকজন বিধায়কের প্রকাশ্য ক্ষোভ এবং মন্তব্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে জিতেন তিওয়ারি এবং অমরনাথ শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধায়কদের প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ে দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও বিষয়টিকে বড় ধরনের বিদ্রোহ বা সাংগঠনিক সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ শমীক।

    তাঁর মতে, কোনও ব্যবস্থাই সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়। ফলে কোথাও কোথাও সামান্য বিচ্যুতি থাকতেই পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করা ঠিক হয়নি বলেই মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার কথাও জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, দলের ভিতরে কোনও বড় ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়নি।

    বাংলার খনিজ সম্পদ নিয়ে বড় সম্ভাবনার দাবি

    রাজনৈতিক প্রসঙ্গের পাশাপাশি বাংলার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন শমীক (Shamik Bhattacharya)। তাঁর দাবি, বহু বছর আগেই পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুরের একাংশে বিপুল পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজ ও রেয়ার আর্থের সন্ধান মিলেছিল। কিন্তু তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার সেই সম্পদকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি বলেই অভিযোগ তাঁর (Kolkata Municipal Election 2026)।

    ২০১৮ সালে অশোকনগরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর রানাঘাটেও প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে কালিম্পং ও বাঁকুড়ায় সোনার সন্ধানও চলছে বলে দাবি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, বাংলার প্রাকৃতিক সম্পদ ও সুজলা-সুফলা ভূপ্রকৃতিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে রাজ্যের অর্থনীতিকে নতুন গতি দেওয়া সম্ভব।

    প্রবাসীদের বাংলায় বিনিয়োগের আগ্রহ

    সম্প্রতি বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শমীক। নেদারল্যান্ডসে ‘বিদেশস্থ বিজেপির বন্ধু’ সংগঠনের বৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি বহু প্রবাসী ভারতীয়ের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। শমীকের দাবি, বাংলার উন্নয়ন ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে।

    পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনী এবং বিশ্বখ্যাত এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) বিশেষজ্ঞ ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লর্ড বাগড়ির পরিবারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলায় নতুন করে বিনিয়োগ ও কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি। রাজ্যে শিল্প, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে প্রবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলেও মনে করছে বিজেপি।

    জিডিপি বৃদ্ধি নিয়ে মোদি সরকারের সাফল্যের দাবি

    দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং জিডিপি বৃদ্ধির প্রসঙ্গেও কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক মন্দা এবং মূল্যবৃদ্ধির মতো একাধিক প্রতিকূলতার মধ্যেও ভারত কোভিড পরিস্থিতির ধাক্কা সামলে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

    তাঁর দাবি, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে বিনামূল্যে টিকা এবং বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ায় গোটা বিশ্ব বিস্মিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Shamik Bhattacharya)।

    পুরভোটের প্রস্তুতিতে বৈঠকে নির্বাচন কমিশন

    এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বুধবার এ নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক হয়। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণা গুপ্ত। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকেরা (Kolkata Municipal Election 2026)।

    পুরভোটে ভোটার তালিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেশ কিছু ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ১ জুলাই প্রকাশিত ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই পুরভোটের ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি পুর এলাকার সীমানা নির্ধারণ, আসন সংরক্ষণ, বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রের ব্যবস্থাপনা, ভোটগ্রহণ কেন্দ্র এবং অন্যান্য নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। সেই তালিকা নিয়ে বিভিন্ন আপত্তি ও দাবি খতিয়ে দেখার পর অক্টোবরের শেষদিকে চূড়ান্ত সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ১৫ পুরসভায় নেই নির্বাচিত বোর্ড

    বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করেই পুর পরিষেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে হাওড়া পুরসভা। সেখানে গত ১৩ বছর ধরে নির্বাচন হয়নি।

    মন্ত্রিসভা গঠনের পর হাওড়া পুরসভা-সহ পুর নির্বাচন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি এমন পুরসভাগুলির মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর, মুর্শিদাবাদের ডোমকল, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পূজালি, দার্জিলিং জেলার কার্শিয়াং ও মিরিক, কালিম্পং, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ও হলদিয়া, নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্প, বীরভূমের নলহাটি, হাওড়ার বালি এবং জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি পুরসভা (Shamik Bhattacharya)।

    প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই পুরসভাগুলির অধিকাংশেরই শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকা পুরসভাগুলিতে ভোট আয়োজন নিয়ে এবার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক—দুই মহলেই তৎপরতা বাড়ছে। একদিকে বিজেপি একক শক্তিতে পুরভোটে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে আসন সংরক্ষণ ও ভোটগ্রহণ পরিকাঠামো প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে আসন্ন পুরভোটকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও (Kolkata Municipal Election 2026) উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Shamik Bhattacharya)।

     

  • Howrah Municipal Corporation: কলকাতা-হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল পাশ, বাড়ল প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা

    Howrah Municipal Corporation: কলকাতা-হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল পাশ, বাড়ল প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত সংশোধনী (Howrah Municipal Corporation) বিল ধ্বনিভোটে পাশ হওয়ার পাশাপাশি অসমের ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়ক সেবাকেন্দ্র চালুর কথাও জানানো হয়েছে (West Bengal Assembly)। সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য শর্তসাপেক্ষে মাসিক ৩০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।

    পুরসভা সংক্রান্ত দু’টি পৃথক সংশোধনী বিল (Howrah Municipal Corporation)

    মঙ্গলবার বিধানসভায় পুরসভা সংক্রান্ত দু’টি পৃথক সংশোধনী বিল পেশ করা হয়। আলোচনার পর ধ্বনিভোটে দু’টি বিলই পাশ হয়ে যায়। বিল নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বিধি বা নিয়ম সরিয়ে কোনও বিল পাশ করানো হচ্ছে না। কলকাতা পুরসভার আসন সংখ্যা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়েও এদিন আলোচনা হয়। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব আইন রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ নির্বাচন কমিশন করবে বলেও জানান তিনি। খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তা নিয়ে মতামত জানানোর জন্য ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে। এই প্রক্রিয়ায় দু’টি সর্বদলীয় বৈঠকও হবে। প্রথম বৈঠক হবে খসড়া প্রকাশের আগে এবং দ্বিতীয়টি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে।

    মানবিক সরকার

    অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বন্যায় ইতিমধ্যেই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অসমে বহু বাংলাভাষী মানুষ বসবাস করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে অসমের বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের পক্ষ থেকে অসমের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয় (Howrah Municipal Corporation)। প্রাক্তন বিধায়কদের আর্থিক সুরক্ষা এবং তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    প্রাক্তন বিধায়কদের পাশেও সরকার

    সততার সঙ্গে কাজ করেছেন এমন বহু প্রবীণ প্রাক্তন বিধায়ককে তিনি দেখেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। মহিষাদলের প্রাক্তন বিধায়ক দীনবন্ধু রায় এবং বাসন্তীর প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্করের মতো বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্ষীয়ান প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে।” সেই দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছনোর পাশাপাশি বিধায়কদের কাজের সুবিধার জন্য প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে সেবাকেন্দ্র চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শাসকদলের শতাধিক বিধায়ক এই ধরনের সেবাকেন্দ্র চালু করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    চালু হচ্ছে সেবাকেন্দ্র!

    তবে এই সেবাকেন্দ্র চালু করতে ইচ্ছুক বিধায়কদের জন্য দু’টি শর্তের কথা জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, সেবাকেন্দ্রের নাম রাখতে হবে “নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র”। পাশাপাশি কেন্দ্রের ভিতরে নেতাজির ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত ছবি রাখতে হবে। এই দু’টি শর্ত পূরণ করলে (West Bengal Assembly) সংশ্লিষ্ট বিধায়করা সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে (Howrah Municipal Corporation) অনুদান পাবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

     

  • Ward Delimitation: পুরনির্বাচনের আগেই মেগা চমক! কলকাতা-হাওড়ায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা! ১২ অগাস্টের পরেই ভোটের দিনক্ষণ?

    Ward Delimitation: পুরনির্বাচনের আগেই মেগা চমক! কলকাতা-হাওড়ায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা! ১২ অগাস্টের পরেই ভোটের দিনক্ষণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরভোটের (Municipal Elections) আগেই বদলে যাচ্ছে কলকাতা ও হাওড়ার রাজনৈতিক মানচিত্র! শহরের দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা ও নাগরিক পরিষেবার কথা মাথায় রেখে ওয়ার্ড পুনর্বিন্য়াস (Ward Delimitation) করতে চলেছে রাজ্য সরকার। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় এক ধাক্কায় বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। ২০৯টি ওয়ার্ড নিয়ে সাজছে তিলোত্তমা, অন্যদিকে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৬৮-তে। ১২ অগাস্ট বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে সংশোধনী বিল পাশ হলেই সিলমোহর পড়বে নতুন বিন্যাসে- যার পর শহর জুড়ে বাজবে বহুল প্রতীক্ষিত পুরভোটের রণকাসর। 

    কলকাতায় ২০৯, হাওড়ায় ৬৮

    রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হবে ২০৯। অর্থাৎ নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ৬৫টি ওয়ার্ড। অন্যদিকে হাওড়া পুরসভার (Howrah Municipal Corporation) ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৬৮। এই প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এখন বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার পরই তা আইনি স্বীকৃতি পাবে।

    মুখ্যমন্ত্রী কী জানালেন?

    বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, “১২ অগাস্ট এক দিনের বিশেষ বিধানসভা অধিবেশন ডাকা হয়েছে। হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-এর মাধ্যমে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে ৬৮ করা হবে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-এর মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হবে।”

    শেষ হচ্ছে ডিলিমিটেশনের কাজ

    আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরেই পুরভোট (Municipal Elections) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সেই নির্দেশ মেনে কলকাতা পুরসভার সমীক্ষা বিভাগ দ্রুত কাজ শুরু করে। বোরো-ভিত্তিক বিশেষ কমিটি গঠন করে প্রতিটি এলাকার জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক প্রয়োজন খতিয়ে দেখে নতুন ওয়ার্ডের খসড়া তৈরি করা হয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন বাড়ানো হচ্ছে ওয়ার্ড সংখ্যা?

    সরকারের মতে, গত কয়েক বছরে কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় জনসংখ্যা বেড়েছে এবং অনেক ওয়ার্ডের আয়তনও বড় হয়ে গিয়েছে। ফলে নাগরিক পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে এবং প্রশাসনিক কাজ আরও কার্যকর করতে ছোট ছোট ওয়ার্ড গঠন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নতুন ওয়ার্ড হলে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং নাগরিক পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে বলেই সরকারের দাবি।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন পরিকল্পনা

    গত মে মাসে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসে। মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। পরে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে (Smita Pandey) প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছিলেন, চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যেই পুরভোটের (Corporation Vote) আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের (Ward Delimitation) কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নজরে ১২ অগাস্টের বিধানসভা

    ১২ অগাস্ট বিধানসভায় সংশোধনী বিল পাশ হলে কলকাতা ও হাওড়ার নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস (Ward Delimitation) কার্যকর করার পথ প্রায় পরিষ্কার হয়ে যাবে। এরপর নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হলে রাজ্যের বহু প্রতীক্ষিত পুরভোটের (Corporation Vote) দিনক্ষণ ঘোষণার সম্ভাবনাও জোরালো হবে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহেই কলকাতা ও হাওড়ার পুর-রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

  • Howrah: এই বোধহয় উন্নয়ন! ভাঙাচোরা রাস্তায় টোটো উল্টে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মৃত্যু শিশুর

    Howrah: এই বোধহয় উন্নয়ন! ভাঙাচোরা রাস্তায় টোটো উল্টে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মৃত্যু শিশুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একদিকে ভাঙা রাস্তা, অন্যদিকে টোটোর দৌরাত্ম্য। এই দুইয়ের জেরে মাঝেমধ্যেই বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটছে হাওড়া শহরে। প্রায় প্রতিদিনই জখম হচ্ছেন মানুষ। এবার স্কুল থেকে ফেরার পথে টোটো উল্টে রাস্তায় পড়ে গিয়ে মৃত্যু হল এক শিশুর। ওই টোটোতে চেপেই বাড়ি ফিরছিল বছর তিনেকের রূপক মালিক। টোটোটি চালাচ্ছিলেন তার দাদু গণেশ। হাওড়া পুরসভার (Howrah) ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাঁসখালি পোলের কাছে হরেকৃষ্ণ নগরে টোটোটি যখন ভাঙা রাস্তার উপর দিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময় সেটি লাফাতে থাকে এবং উল্টে যায়। টোটো থেকে পড়ে জখম হয় ওই শিশুটি। তার মাথায় চোট লাগে। শিশুর দাদুর পায়ের হাড় ভেঙে যায়। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করা হলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটির মৃত্যু হয়। 

    শোকাচ্ছন্ন পরিবার (Howrah)

    এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রূপক স্থানীয় একটি স্কুলে নার্সারিতে পড়াশোনা করত। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুল থেকে টোটোয় চাপিয়ে নিয়ে আসছিলেন দাদু গণেশ। গনেশবাবু জানান, রাস্তা খারাপ থাকায় টোটো উল্টে যায়। গুরুতর জখম হন দু’জনেই। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা শিশু-সহ তার দাদুকে হাওড়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে সেখানেই মৃত্যু হয়। গণেশবাবু ওই হাসপাতালে (Howrah) চিকিৎসাধীন। শিশুর মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন পরিবার। তারা রাস্তার বেহাল দশাকে দুষছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটির মাথায় হ্যামারেজ হয়েছিল। তার জেরেই মৃত্যু।

    টোটোর দৌরাত্ম্য কমেনি (Howrah)

    এদিকে হাওড়া শহরজুড়ে যত্রতত্র টোটোর দৌরাত্ম্য কমাতে হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদনহীন রাস্তায় এবং জাতীয় সড়কে বেপরোয়া টোটোর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে কয়েক শত টোটো আটক করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ। তারপরেও কমানো যায়নি টোটোর দৌরাত্ম্য। অন্যদিকে তিন বছরের এই শিশুর মৃত্যুর জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা ভাঙা রাস্তাকেই দায়ী করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, হাঁসখালি পোল সংলগ্ন  হরেকৃষ্ণ নগরের এই সিমেন্টের রাস্তা কয়েক বছর আগেই ভেঙে চৌচির হয়ে যায়। রাস্তার মাঝখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়। বাসিন্দারা হাওড়া (Howrah) পুরসভাকে বারবার জানালেও রাস্তা মেরামত করা হয়নি। মাঝেমধ্যেই এই রাস্তায় টোটো উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। এদিনও টোটো উল্টে গিয়েই ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

    কী অভিযোগ বাসিন্দাদের? (Howrah)

    স্থানীয় বাসিন্দা সুজাতা সাধুখাঁ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এই বেহাল অবস্থা। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই বড় বড় গর্তে জল জমে থাকায় দুর্ঘটনা আরও বাড়ে। পাইপলাইন তৈরি বা অন্যান্য কাজে মাঝেমধ্যে রাস্তা খোঁড়া হয়। কিন্তু তারপর সেই রাস্তার মেরামত করা হয় না। ওই অবস্থাতেই পড়ে থাকে। ফলে সেই ভাঙা রাস্তা দিয়ে প্রাণ হাতে তাঁদের প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সুজাতা অধিকারী বলেন, ভাঙা রাস্তার কারণে একজন শিশু চলে গেল। এটা খুবই খারাপ লাগছে। টোটো উল্টে যাওয়ার পরেই শিশুটির মাথায় চোট লেগে। মাথা ফেটে রক্ত বেরতে থাকে। সেই অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। আর এক বাসিন্দা গোপালচন্দ্র বসু বলেন, দীর্ঘদিন রাস্তাটি (Howrah) ভাঙাচোরা, মেরামতির কাজও শুরু হয়েছে একদিকে। অন্যদিকে যে অংশটি বেশি ভাঙা, সেখান দিয়েই এদিন টোটো যেতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

    সাফাই পুর-প্রশাসকের

    হাওড়া (Howrah) পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, অনেক সময় জরুরি কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে হয়। এক্ষেত্রে কী হয়েছে, তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন। তিনি বলেন, শিশুটির মৃত্যু খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তবে ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে পুরসভার পক্ষ থেকে বেশ কিছু রাস্তা ইতিমধ্যেই মেরামত করা হয়েছে। এই রাস্তাটি কী অবস্থায় ছিল, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং পুরসভার পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Howrah: সম্মুখ সমরে পুরপ্রধান-মন্ত্রী, হাওড়ায় মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গেল ক্রিসমাস কার্নিভাল

    Howrah: সম্মুখ সমরে পুরপ্রধান-মন্ত্রী, হাওড়ায় মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গেল ক্রিসমাস কার্নিভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পার্কিং নিয়ে গন্ডগোলের জের। নিরাপত্তার কারণে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হল ক্রিসমাস কার্নিভাল। হাওড়া (Howrah) পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তী জানান, যে ঘটনা ঘটেছে, তা অনভিপ্রেত। পার্কিং নিয়ে অভিযোগ ছিল শিবপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারির। এবিষয়ে তাঁর সাথে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রীর অনুগামীরা যেভাবে দীর্ঘক্ষণ কার্নিভালে জটলা পাকিয়ে একটা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, তাতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এমনকী তাঁকে সাংবাদিক সম্মেলন করতে বাধা দেওয়া হয়। পুলিশ থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। সুজয়বাবু আরও বলেন, হাওড়ার ইকো পার্কে কার্নিভালের উদ্বোধন করেছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। প্রচুর জনসমাগম হচ্ছে প্রতিদিন। ফলে এত মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কার্নিভাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এমনকী যেভাবে তাঁকে সাংবাদিক সম্মেলন করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, তাতে তিনি নিজেও নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। তাই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এদিন অনুষ্ঠান চলাকালীন কার্নিভাল শেষ হওয়ার অনেক আগেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    কী বললেন প্রত্যক্ষদর্শীরা? (Howrah)

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ডালিয়া সাহা বলেন, কার্নিভাল চলাকালীন সন্ধ্যে সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বেশ কয়েকজন যুবক কার্নিভালে আসে। তারা গাড়ি পার্কিং করতে গেলে এক ব্যক্তি তাদের থেকে পার্কিং ফিজ চায়। সেখান থেকেই গন্ডগোলের সূত্রপাত। কেন পার্কিং ফি নেওয়া হচ্ছে, পার্কিং ফি নেওয়ার তার কোনও সরকারি অর্ডার আছে কিনা, তা দেখতে চাওয়া হয়। কিন্তু যিনি পার্কিং নিচ্ছিলেন তিনি কোনও অর্ডার দেখাতে পারেননি। তা থেকেই দু পক্ষের মধ্যে গন্ডগোল শুরু হয়। সেখানে পার্কের (Howrah) দায়িত্বে থাকা এক যুবক পার্কিং করতে বলেছে বলে জানা যায়। তখন উত্তেজিত কুড়ি-পঁচিশ জন যুবক গিয়ে যে যুবক পার্কিং করতে বলেছিল, তাকে ধরে মারধর করতে শুরু করে। পুলিশ তাকে ছাড়িয়ে নেয় উত্তেজিত জনতার কাছ থেকে। ষষ্ঠী নারায়ণ ইকো পার্কের গেটের সামনেই এসব গন্ডগোল হয়। কিছুক্ষণ পরে বিধায়ক সেখানে আসেন। গন্ডগোল বাড়তে থাকায় ঘন্টাখানেক পরে কার্নিভালের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাঁরা কার্নিভালে এসেছিলেন, তাঁরাও গন্ডগোলের মধ্যে পড়ে অনেকে ফিরে যান। এখন তাঁরা খুবই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এভাবে গন্ডগোল হতে থাকলে তাঁঁরা পরের দিন থেকে বলে আসবেন না বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

    কী অভিযোগ মন্ত্রীর? (Howrah)

    সন্ধ্যায় কার্নিভাল চত্বরে আসেন মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি। তিনি বলেন, কার্নিভালে বেআইনিভাবে পার্কিংয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাই খবর পেয়ে তিনি এসেছিলেন। কয়েকদিন আগে পার্কিং নিয়ে ঝামেলা হয়। থানায় অভিযোগ করা হয়। কিন্তু বেআইনি পার্কিং বন্ধ হয়নি। এবিষয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিধায়ক আরও বলেন, তিনি এসে যখন দেখেন যে কোনও সরকারি বরাত ছাড়াই পার্কিংয়ের নামে টাকা তোলা হচ্ছে, তখন যারা টাকা তুলছিল, তাদের আটক করে আইসি-কে ডেকে পুলিশের (Howrah) হাতে তুলে দেন। এখন পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।  

  • Howrah: স্বামীজির স্মৃতিবিজড়িত স্থান ঘিরে এখন পার্কিং জোন, প্লেট ঢেকেছে মুহুরিদের প্লাস্টিকে

    Howrah: স্বামীজির স্মৃতিবিজড়িত স্থান ঘিরে এখন পার্কিং জোন, প্লেট ঢেকেছে মুহুরিদের প্লাস্টিকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাওড়ার যে রেজিস্ট্রি অফিসে বেলুড় মঠের জমি রেজিস্ট্রি করতে এসেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ স্বয়ং, সেই জায়গা এখন হয়ে উঠেছে পার্কিং জোন। ভবনের সামনের অংশে একটা প্লেট দেওয়া আছে ঠিকই, কিন্তু তা ঢেকে গিয়েছে মুহুরিদের টাঙানো প্লাস্টিকে। মহাপুরুষরা যেখানে যেখানে যান বা গিয়েছেন, তার প্রতিটি জায়গা হেরিটেজ বলে ঘোষণা করা সম্ভব নয়। কিন্তু যে সব জায়গায় মহাপুরুষদের স্মৃতি আছে, সেখানে একটা ফলক বসিয়ে দিলেই কি যথেষ্ট শ্রদ্ধা দেখানো হয় যায়? এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অনেকের মনেই। তাছাড়া যেভাবে দায়সারা করে একটি মূর্তি বসিয়ে তার নীচে ফলক দেওয়া হয়েছেে, তাতে এই জায়গায় ঐতিহাসিক গুরুত্ব পথচারীরা জানতে পারছেন কিনা, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। তাছাড়া নাগরিক সমস্যাও রয়েছে।

    দুর্ঘটনা এখানে লেগেই থাকে

    বিবেকানন্দের মূর্তি ফুটপাতের যেখানে বসানো হয়েছে, তার দুপাশ ঘেরা। ফলে পথচারীরা এই ফুটপাত দিয়ে চলাফেরা করতে পারেন না। সামনে আবার সার সার গাড়ি দাঁড়িয়ে। বাধ্য হয়েই এখানে ফুটপাতের বদলে রাস্তা ধরে যাতায়াত করতে হয়। রেজিস্ট্রি অফিস, হাওড়া আদালত, হাওড়া পুরসভা ও জেলা পরিষদে আসা লোকজনের ভিড় থাকে প্রতিদিনই। কোর্ট ও রেজিস্ট্রি অফিসেও নিত্যদিনের ভিড় যথেষ্ট। হাটের দিন আবার দশগুণ ভিড় হয়। ফলে ছোট ও মাঝারি দুর্ঘটনা এখানে লেগেই থাকে। উল্টো দিকেই হাওড়া জেলাশাসকের অফিস, কাছেই হাওড়া থানা ও পুলিশ কমিশনারের অফিস। তাও এই জায়গার চরম অব্যবস্থা কেন কারও চোখে পড়ে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আদালতে প্রায়ই যাঁরা নানা কাজে আসেন তাঁরা। হাওড়ার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এই জায়গায় নিত্য আসতেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু কোথায় সেই ফলক রয়েছে, তা বলে না দিলে কেউ খুঁজেও পাবে না। সময়ের সঙ্গে এই জায়গার ব্যস্ততা বেড়েছে। ভিড় বেড়েছে। ভবনের সংস্কার হয়েছে, কাছাকাছির মধ্যে নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু ঐতিহ্যকে যে অবহেলা করে সেসব করা হয়েছে, তা সাধারণের চোখে এমনিতেই ধরা পড়ে যায়। আর নানা রকম কর্মকাণ্ড হলেও পথচারীদের নিরাপত্তাকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, তাও স্পষ্ট।

    পরিকল্পনার অভাব

    এই জায়গায় নতুন করে কিছু করা এই মুহূর্তে সম্ভব না হলেও, বঙ্কিম সেতু ও জি টি রোডের সংযোগস্থলে যেখানে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড গজিয়ে উঠেছে, হাওড়া ময়দান মেট্রো প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সেখানে কেন পার্কিং লট বানানো হল হল না, সেই প্রশ্নও উঠছে। এই এলাকায় ছবি গত দশ বছরে পুরো বদলে গিয়েছে। কিন্ত যা হয়েছে তার কিছুই যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে করা হয়নি তা স্পষ্ট। এখনও মেট্রো রেল চালু হয়নি। এখনই সরকারি স্তরে উদ্যোগ শুরু হলে নিউ মার্কেটের মতো এখানেও মাটির নিচে পার্কিং লট তৈরি করে রাস্তা ও ফুটপাত সাধারণের চলাচলের উপযোগী করা যায়।

    পুরসভা অন্ধকারে

    অন্যদিকে হাওড়া আদালতের সামনে হাওড়া পুরসভা অনুমোদিত যে পার্কিং জোন রয়েছে, তার আয়তন কতটা, তার সঠিক তথ্য নেই পুরসভার কাছেই। ফলে পার্কিং ফি নেওয়ার দায়িত্ব যে এজেন্সির কাছে, তারা যথেচ্ছ ভাবে ডবল লাইন করে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের অনুমতি দেয়। আর এর ফলেই যানজট এবং মাঝেমধ্যেই পার্কিংকে কেন্দ্র করে গন্ডগোল লাগে এখানে। কয়েক বছর আগে ডবল লাইনে পার্কিংকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের সঙ্গে গন্ডগোলে উত্তাল হয়ে উঠেছিল হাওড়া ময়দান এলাকা। এমনকী র‍্যাফ নামিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। হাওড়া পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, হাওড়া আদালতের সামনে পার্কিং ঠিক কতটা জায়গা জুড়ে রয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। যদি রেজিস্ট্রি অফিসের কাছে পার্কিংয়ের অনুমতি না থাকে তাহলে সেখান থেকে পার্কিং তুলে দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Howrah: হাওড়ায় ডেঙ্গি সংক্রমণ হাজার ছুঁইছুঁই, রাশ টানতে পারছে না প্রশাসন

    Howrah: হাওড়ায় ডেঙ্গি সংক্রমণ হাজার ছুঁইছুঁই, রাশ টানতে পারছে না প্রশাসন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাওড়া (Howrah) শহরে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। হাওড়া পুরনিগম সূত্রে খবর, গত বছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত যেখানে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৫০ জন, এবারে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯০ জন। এলাকার বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টির জমাজল এবং যত্রতত্র আবর্জনার কারণে ডেঙ্গির মশা বাড়ছে। যদিও হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক নিতাইচন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত গোটা জেলায় কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অপর দিকে বিজেপি, ডেঙ্গির সংক্রমণ নিয়ে শাসক দলকে নিশানা করে বলে, জেলায় ডেঙ্গি সংক্রমণ হাজার ছুঁইছুঁই, তৃণমূল পরিচালিত হাওড়া পুরসভা রাশ টানতে ব্যর্থ। 

    বালি, জগাছা এবং সাঁকরাইলে ডেঙ্গি আক্রান্ত অধিক (Howrah)

    হাওড়া (Howrah) পুরসভা এলাকা, বালি পুরসভা এলাকা, বালি জগাছা ব্লক এবং সাঁকরাইলে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সবথেকে বেশি। ডেঙ্গু রুখতে মানুষকে সচেতন করার কাজ চলছে বলে জানা গেছে। হাওড়া পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবারে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। হাওড়া পুরসভার ৪, ৩৯, ২৯, ৩১  এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে অনেক জায়গায় বৃষ্টির জল জমে রয়েছে এবং এই এলাকাগুলিতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যাও বেশি। মূলত বাড়িতে জল জমে থাকার কারণেই ওইসব এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়ছে। তবে হাওড়া পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন এবং নাগরিকদের বোঝাচ্ছেন। একই সঙ্গে ভেক্টর কন্ট্রোল টিম মশা মারার তেল স্প্রে করছে।

    বিজেপির অভিযোগ

    এদিকে শহরের (Howrah) ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। উত্তর হাওড়ার বিজেপি নেতা উমেশ রাই, এই ডেঙ্গি সংক্রমণের অভিযোগ করে তৃণমূলকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “ডেঙ্গির পরিসংখ্যানের তথ্য গোপন করা হচ্ছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা জানানো হচ্ছে না। একই সঙ্গে ডেঙ্গিতে মারা গেলে ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গির উল্লেখ করা হচ্ছে না। সরকার তথ্য গোপন করে মানুষকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রেণে সচেতন করছে না। শাসক দল ডেঙ্গি প্রতিরোধে ব্যর্থ।”

    তৃণমূলের বক্তব্য

    ডেঙ্গি সংক্রমণ নিয়ে হাওড়া (Howrah) পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তী যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “পুরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরকে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। যা বাস্তবে ঘটছে তাই পাঠানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে হাওড়া পুরসভা। কোথাও যাতে জল জমে না থাকে, সেই জন্য যেমন বাড়ি বাড়ি সচেতন করার কাজ চলছে, একইভাবে বর্ষায় জমা জল যাতে দ্রুত নেমে যায়, তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কিছু কিছু এলাকায় রাস্তা ভেঙে গিয়ে, ছোট ছোট গর্তে যাতে জল জমতে না পারে, সেই জন্য বর্ষার মধ্যেই রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে।

     

     দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের , Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share