Tag: Hyderabad

Hyderabad

  • Fraudsters in Hyderabad: বিদ্যুৎ বিল বাকি, মিটিয়ে দেব! সাবধান, হায়দ্রাবাদে সক্রিয় জালিয়াতরা

    Fraudsters in Hyderabad: বিদ্যুৎ বিল বাকি, মিটিয়ে দেব! সাবধান, হায়দ্রাবাদে সক্রিয় জালিয়াতরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখন আর শুধু ব্যাঙ্ক কর্মী নয় এবার বিদ্যুৎ বোর্ডের (Electricity Board) কর্মচারী হিসেবেও ফোন করছে জালিয়াতেরা (Fraudsters)। প্রতারকরা বিদ্যুৎ বোর্ডের কর্মচারী হিসাবে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করছে এবং বকেয়া বিল (power bills)পরিশোধের অজুহাতে তাদের প্রতারণা করছে। হায়দ্রাবাদে (Hyderabad) সম্প্রতি এরকম কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে শহরের সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্টে (Cyber Crime Department) অভিযোগও জমা পড়েছে। 

    পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতারকরা প্রথমে ফোন করে বয়স্ক বা একটু অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। তাঁরা তাঁদের টার্গেট ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনে এসএমএস বা হোয়াটসঅ্যাপ করে। এরপর তাঁদেরকে ফোন করে নিজেদের বিদ্যুৎ বোর্ডের হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা জানায়, গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেননি। বকেয়া টাকা না মেটালে একদিন পরে বা সেই রাতেই  তাঁদের বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হবে। হঠাতই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সমস্যায় পড়তে হবে। ব্যহত হবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। তাই চিন্তায় পড়ে যান গ্রাহক। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তাঁরা। কী করতে হবে তা জানতে চান। কোনওকিছু না ভেবে দ্রুত প্রতারকদের দেখানো পথেই চলেন তাঁরা। একবার যাচাইও করেন না, যে কথাটি সত্য না মিথ্যা। এরপর গ্রাহকদের কাছে একটি লিঙ্ক পাঠায় জালিয়াতরা। গ্রাহককে একটি কুইক সাপোর্ট অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়। এরপর ওই অ্যাপে তারা গ্রাহককে ৩০ টাকা বা ৫০ টাকা লেনদেন করতে বলে। লেনদেন সম্পন্ন হলে তারা গ্রাহককে অপেক্ষা করতে বলে। বলা হয়, কিছুক্ষণ পরেই তারা এ প্রসঙ্গে সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে আবার কল করবেন। যদিও আর ফোন আসে না। গ্রাহকেরা অপেক্ষা করতে থাকেন। এই সময়ের মধ্যেই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস নিয়ে তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে প্রতারকেরা। অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়।

    আরও পড়ুন: সারনাথের স্তম্ভের সঙ্গে নয়া স্তম্ভের মিল ৯৯ শতাংশ! পার্থক্য সামান্য, দাবি নির্মাণশিল্পীদের

    সম্প্রতি হায়দ্রাবাদে এভাবেই এক ব্যক্তি সাড়ে আট লক্ষ টাকা এবং একজন দেড় লক্ষ টাকা হারিয়েছেন, বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অতএব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ থেকে কিউআর কোড এখন ইলেকট্রিক বিল পরিষেবা দেওয়ার নামে প্রতারণা চক্র ফেঁদেছেন কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি, তাই সকলকে পুলিশের তরফে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু হায়দ্রাবাদ নয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এরকম ঘটনা ঘটতে পারে, তাই এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

  • Amit Shah: আগামী ৩০-৪০ বছর ভারতে বিজেপি-রাজ, শীঘ্রই দখলে বাংলাও, প্রত্যয়ী শাহ   

    Amit Shah: আগামী ৩০-৪০ বছর ভারতে বিজেপি-রাজ, শীঘ্রই দখলে বাংলাও, প্রত্যয়ী শাহ   

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ৩০-৪০ বছর ভারতে (India) রাজ করবে বিজেপি (BJP)। দেশ হবে বিশ্বগুরু। তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে (Hyderabad) বিজেপির দুদিনের জাতীয় কর্মসমিতির (National Executive Meeting) বৈঠকে এই আশা ব্যক্ত করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ (Amit Shah)। শীঘ্রই বাংলা এবং তেলঙ্গানাও পরিবারতন্ত্রের হাত থেকে মুক্তি পাবে বলে আশাবাদী অমিত।

    ১৮ বছর পর এবার ফের হায়দরাবাদে হচ্ছে বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক। দুদিন ব্যাপী ওই বৈঠক শুরু হয়েছে শনিবার। বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। রবিবার বৈঠকে প্রস্তাব পেশ করছিলেন শাহ। সেই সময়ই পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, খুব শীঘ্রই বাংলা এবং তেলঙ্গানা পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্তি পাবে। সেখানে বিজেপি জয়ী হবে।

    আরও পড়ুন : সব রাজ্যেরই উচিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করা, জানালেন ধামি

    এদিনের ভাষণে কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলিকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, কংগ্রেস সহ বেশিরভাগ বিরোধী দল পরিবারতান্ত্রিক, নীতিহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত, সুবিধাবাদী রাজনীতির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আগে পরিবারতন্ত্র ও তুষ্টিকরণের ভিত্তিতে ভোট হত। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলেছে। বর্তমানে নির্বাচন পলিটিক্স অফ পারফরম্যান্স এবং উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে হয়।

    এদিন রাজনৈতিক প্রস্তাবে শাহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চলা পরিবারতন্ত্রের কথার উল্লেখ করেন। কংগ্রেসের দিকে নিশানা তাক করে তিনি বলেন, কংগ্রেস পারিবারিক দল হয়ে গিয়েছে। পরিবারের হাত থেকে ক্ষমতা চলে যাওয়ার ভয়ে সভাপতি নির্বাচনই করছে না। অচিরেই বাংলা, কেরালা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওডিশায়ও বিজেপির সরকার হবে বলে প্রত্যয়ী শাহ। এর পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩০-৪০ বছর ভারতে রাজ করবে বিজেপি। দেশ হবে বিশ্বগুরু।   দেশের বিভিন্ন জায়গায় আঞ্চলিকতাবাদ, পরিবারতন্ত্র এবং তোষণবাদ চলছে বলে এদিন পেশ করা বিজেপির রাজনৈতিক প্রস্তাবে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই পরিস্থিতির বদল এনে বিজেপি চায় উন্নয়নের রাজনীতি, কাজ করার রাজনীতি।

    আরও পড়ুন : হায়দরাবাদে শুরু বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক, কেন বাছা হল নিজামের শহর?

     

  • Mohan Bhagwat: দেশের জন্য অনেক বলিদান দিয়েছে আরএসএস, হায়দরাবাদে মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: দেশের জন্য অনেক বলিদান দিয়েছে আরএসএস, হায়দরাবাদে মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের জন্য অনেক বলিদান দিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। তেলঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদে (Hyderabad) সংগঠনের নয়া ভবনের উদ্বোধনে এসে এমনই দাবি করলেন আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। এর পাশাপাশি তাঁর দাবি, সত্যকে কোনওদিনই চেপে রাখা যায় না। তা একদিন না একদিন নিজের পথ করে নেবে।

    ভাগবতের মতে, আরএসএস কর্মীদের আত্মত্যাগের কারণেই আড়েবহরে বেড়েছে আরএসএস। তিনি বলেন, আরএসএস কর্মীরা অনেক আত্মত্যাগ করেছেন। আর তা করতে পেরেছেন বলেই মজবুত হয়েছে সংগঠন। বিরোধীদের উদ্দেশে ভাগবত বলেন, কিছু মানুষ আছেন যাঁরা মনে করেন তাঁরাই একমাত্র সঠিক। আর বাকিরা ভুল। আর যখনই তাঁদের বিরোধিতা করা হয়, তাঁরা চেষ্টা করেন ন্যায় ও সত্যকে চেপে রাখতে। তিনি মনে করিয়ে দেন, হিংসা দিয়ে সত্যকে চেপে রাখা যায় না।

    আরও পড়ুন : হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে ভাগবতের মন্তব্য সংগঠনের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, জানাল আরএসএস

    তেলঙ্গনায় দলীয় কর্মীদের সাফল্যেও তিনি যে অভিভূত, তাও দেরাজ গলায় প্রবীণ এই আরএসএস নেতা। তিনি বলেন, অনেক লড়াইয়ের শেষে এই সাফল্য পেয়েছেন এখানকার যুব নেতারা। তিনি বলেন, আমি তেলঙ্গানায় এবিভিপি ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি। আমি দেখেছি কীভাবে তারা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছে। আজ এই ভবনের উদ্বোধন বুঝিয়ে দিচ্ছে আন্দোলন কতটা ইতিবাচক হয়ে উঠেছে।

    সংগঠন বাড়ায় যে বিপদ হতে পারে সে ব্যাপারে সংগঠনের ছাত্র ও কর্মীদের সতর্ক করে দেন আরএসএস প্রধান। বলেন, এই সময় সতর্ক না হলে সমস্যা হতে পারে। আরএসএসের জনপ্রিয়তা এখন বাড়ছে। জনপ্রিয়তা নিজেই ভবিষ্যতে পথ আটকে দিতে পারে। সংঘপ্রধান মনে করিয়ে দেন, আমাদের কাছে সাফল্য কোনও গন্তব্য নয়, এটি হল যাত্রা।

    আরও পড়ুন : সব মসজিদে শিবলিঙ্গ খোঁজার এত হিড়িক কীসের? সমালোচনা মোহন ভাগবতের

    হিন্দুত্ববাদীদের অতিসক্রিয়তা যে তিনি ভালো চোখে দেখছেন না, দিন কয়েক আগে তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন ভাগবত। তিনি বলেছিলেন, সমস্ত মসজিদে শিবলিঙ্গ খোঁজার প্রয়োজন কী? জ্ঞানবাপী নিয়ে আমাদের আলাদা ভক্তি থাকতেই পারে, তাই বলে সমস্ত মসজিদে শিবলিঙ্গের অস্তিত্ব খুঁজতে বেরনো অনুচিত।

     

  • Modi: ফের পরিবারতন্ত্রের প্রতি কটাক্ষ মোদির

    Modi: ফের পরিবারতন্ত্রের প্রতি কটাক্ষ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নানা প্রান্তে বিভিন্ন মঞ্চ থেকে বারবার পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্প্রতি জয়পুরে অনুষ্ঠিত বিজেপির জাতীয় বৈঠকেও কংগ্রেসের ‘পরিবারবাদী’ রাজনীতির সমালোচনা করেন মোদি। এবার হায়দরাবাদে (Hyderabad) এক জনসভায় তেলঙ্গানায় ক্ষমতাসীন দল টিআরএসের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তুললেন তিনি। এদিন পরোক্ষে তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওকে (KCR) কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী।  বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদে (Hyderabad) গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সঙ্গে দেখা না করে এদিনই বেঙ্গালুরুতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার কাছে  গিয়েছেন কেসিআর। 

    এদিন মোদি বলেন, তেলঙ্গানা রাজ্য গঠনের জন্য শুধু একটি পরিবারই লড়াই করেনি। এই রাজ্য থেকে কেবল একটি পরিবারের লোকই সবরকম সুবিধা নেবে, এমনটাও ঠিক নয়। পরে তিনি বলেন, আমাদের দেশের বহু দলে পরিবারতন্ত্র কায়েম হয়ে বসেছে। সেজন্যই যুবকরা সুযোগ পাচ্ছে না। মোদির কথায়, “পরিবারবাদী দলের নেতারা কেবল নিজেদের উন্নয়নের কথা চিন্তা করেন। তাঁরা গরিব লোকজনের কথা ভাবেন না। তাঁরা চেষ্টা করেন যাতে একটি দলই ক্ষমতায় থাকতে পারে এবং যত বেশি সম্ভব সম্পদ লুঠ করতে পারে।”

    দলীয় কর্মীদের সভায় মোদি বলেন, “পরিবারভিত্তিক রাজনীতি কেবল একটি সমস্যা নয়, তা গণতন্ত্রের পক্ষে সবচেয়ে বড় বিপদ। যে দলগুলি একটি পরিবারের কথায় চলে, তারা কতদূর দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে, দেশের মানুষ তা দেখেছে।” কেসিআরের সরকারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সারা দেশ দেখছে, কীভাবে তেলঙ্গানার মানুষ সমস্যায় পড়েছেন।” পরে মোদি বলেন, তেলঙ্গানায় বিজেপি কর্মীরা আক্রমণের লক্ষ্য হয়ে উঠছেন।
    মোদির কথায়, “পরিবারতান্ত্রিক দলগুলি তোষণের রাজনীতি করে। তাদের মূল লক্ষ্য থাকে নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভর্তি করা।” 

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপি তেলঙ্গানায় টেকনোলজিক্যাল হাব গড়ে তুলতে চায়। তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর ‘কুসংস্কার’ নিয়েও কটাক্ষ করেন মোদি। তিনি বলেন, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ব্যক্তিরা রাজ্যের উন্নয়ন করতে পারেন না। তাঁর কথায়, “আমি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্বাস করি। আমি যোগী আদিত্যনাথকে অভিনন্দন জানাই। তিনি সাধু। কিন্তু কুসংস্কারে বিশ্বাসী নন। কুসংস্কারাচ্ছন্ন ব্যক্তিদের হাত থেকে তেলঙ্গানাকে রক্ষা করতে হবে।”

  • Hyderabad Killing: স্ত্রী সুলতানাকে ইদের উপহার কিনে দিতে সোনার চেন বিক্রি করে দিয়েছিলেন নাগারাজু

    Hyderabad Killing: স্ত্রী সুলতানাকে ইদের উপহার কিনে দিতে সোনার চেন বিক্রি করে দিয়েছিলেন নাগারাজু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্ত্রীকে ইদের উপহার কিনে দিতে নিজের গলার সোনার চেন বিক্রি করে দিয়েছিলেন তেলাঙ্গানার খুন হওয়া হিন্দু যুবক। উপহার কেনার আগেই অবশ্য স্ত্রীর ভাইয়ের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন ওই যুবক। কৃষ্ণবেশে স্বামীর একটা ছবিই আপাতত বুকে জড়িয়ে ধরে লাগাতার কেঁদে চলেছেন আসরিন সুলতানা ওরফে পল্লবী। এতদিন পতিগৃহে যাত্রা করতে না পারলেও, এখন পেরেছেন। যতদিন বাঁচবেন স্বামীর ভিটে ছেড়ে কোথাও নড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বছর পঁচিশের ওই তরুণী।

    ভালবেসে মুসলিম সহপাঠীকে বিয়ে করেছিলেন তেলাঙ্গানার সারুরনগর এলাকার হিন্দু যুবক বছর ছাব্বিশের বিল্লাপুরাম নাগরাজু। বিয়ের পরে পরেই গা ঢাকা দেন নবদম্পতি। পাছে হিন্দু স্বামীর কোনও ক্ষতি তাঁর আত্মীয়রা যাতে না করতে পারেন, তাই নাম বদলে সুলতানা হয়ে যান পল্লবী। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে কাজে যোগ দেন নাগরাজু। এর পরেই রাতের অন্ধকারে বাইকে চড়ে এসে তাঁকে নৃসংশভাবে কুপিয়ে খুন করে সুলতানার এক ভাই ও তার বন্ধু। সেদিনের সেই নৃশংসতার ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুলতানার। তিনি বলেন, কয়েকটা মুহূর্তের মধ্যেই অন্তত ৩০-৩৫ বার লোহার রড দিয়ে আমার ভাই ও তার এক বন্ধু নাগরাজুর মাথায় আঘাত করছিল। সেই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমে গিয়েছিল। সাহায্যের জন্য অনুনয়-বিনয় করলাম। সবাই খুনের দৃশ্য মোবাইল বন্দি করতেই ব্যস্ত। কেউ সাহায্য করল না আমাকে। চোখের সামনেই ছটফট করতে করতে মারা গেল আমার স্বামী।

    আরও পড়ুন : ভিনধর্মের যুবতীকে বিয়ে, প্রাণ গেল দলিত যুবকের, ধৃত স্ত্রীর ভাই সহ ২

    নাগরাজুর মৃত্যুর পরে স্বামীর ভিটেয় ফিরে এসেছেন সুলতানা। স্বামীর পরিবার তাঁদের বিয়ে মেনে না নেওয়াতেই তাঁরা ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এদিক-সেদিক। নাগরাজুর মৃত্যুর পরে তাঁর শোকে কাতর পরিবারকে সান্ত্বনা দিতেই ভিটেয় ফিরেছেন সুলতানা। স্বামীর একটি ছবি বুকে নিয়ে কেঁদে চলেছেন অনর্গল। স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করলেও, তিনি যে স্বামীর ভিটে ছেড়ে কোত্থাও যাবেন না, কান্নাভেজা গলায় তা জানিয়ে দিয়েছেন ভিন ধর্মের ওই তরুণী।

    নাগরাজু যে তাঁকে কত ভালবাসতেন, কাঁদতে কাঁদতে বারবার সেকথাই বলছিলেন সুলতানা। তিনি জানান, তাঁকে ইদের উপহার কিনে দিতে চারমিনারে নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছিলেন নাগরাজু। সেজন্য গলার দামি সোনার চেনটা মাত্র ২৫ হাজার টাকা বিক্রিও করে দিয়েছিলেন। সেই টাকা এনে তাঁর হাতে দিয়েওছিলেন স্বামী। তারপর…। হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন সদ্য বিধবা তরুণী। ওড়নার আঁচল দিয়ে কান্না রোধের নিষ্ফল চেষ্টাও করতে দেখা যায় তাঁকে।    

LinkedIn
Share