Tag: Hydrogen Export

  • Largest Green Hydrogen Order: বিশ্বে সব থেকে বেশি গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের চুক্তি ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে, বরাত ৫.৫৫ লাখ মেট্রিক টনের

    Largest Green Hydrogen Order: বিশ্বে সব থেকে বেশি গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের চুক্তি ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে, বরাত ৫.৫৫ লাখ মেট্রিক টনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বাণিজ্যে ক্রমশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে ভারত। গ্রিন হাইড্রোজেন বা পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন (Largest Green Hydrogen Order) সরবরাহের ক্ষেত্রে এখন বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক বরাত রয়েছে ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে। কেন্দ্রীয় সরকারের ২৯ অক্টোবর, ২০২৬-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতীয় সংস্থাগুলি বছরে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেনের সমতুল্য জ্বালানি সরবরাহের জন্য বাধ্যতামূলক ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাজারে ভারতের ক্রমবর্ধমান (Japan Germany Korea) প্রভাবেরই ইঙ্গিত।

    ২০২৩ সালে জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন চালু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ২৩টি সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার মধ্যে ১৮টিই স্বাক্ষরিত হয়েছে ২০২৬ সালে। এই চুক্তিগুলির আওতায় বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি গ্রিন হাইড্রোজেনের সমতুল্য জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। মোট চুক্তিবদ্ধ জ্বালানির ৭০ শতাংশেরও বেশি বিদেশে রফতানির জন্য নির্ধারিত। এই বিপুল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করতে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

    ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির সাফল্য (Largest Green Hydrogen Order)

    এই পরিসংখ্যান ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির সাফল্য পরিমাপের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এত দিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কথা সামনে আসছিল। কিন্তু এখন বিদেশি ও দেশীয় ক্রেতাদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার চুক্তি প্রমাণ করছে, ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি কিনতে ক্রেতারা বাস্তবিক অর্থেই আগ্রহী।

    গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে বিপুল পরিমাণ মূলধনের প্রয়োজন হয়। কোনও নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি কেনার নিশ্চয়তা না থাকলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিও সাধারণত এই ধরনের প্রকল্পে ঋণ দিতে আগ্রহী হয় না। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বা ক্রয়চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তির মাধ্যমে ক্রেতা নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার প্রতিশ্রুতি দেন। ফলে উৎপাদক সংস্থাগুলি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক নিশ্চয়তা পায়।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন বহু গ্রিন হাইড্রোজেন প্রকল্প রয়েছে, যেগুলি দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তির অভাবে থমকে গিয়েছে। সেই জায়গায় ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে বিপুল পরিমাণ নিশ্চিত ক্রয়াদেশ থাকা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।

    রফতানিতে গুরুত্ব অ্যামোনিয়া-মিথানলের

    ভারতের মোট সরবরাহের পরিমাণ হাইড্রোজেনের সমতুল্য হিসাবে প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ, ভারত থেকে রফতানি হতে চলা জ্বালানির অধিকাংশই সরাসরি হাইড্রোজেন গ্যাস নয়। দীর্ঘ দূরত্বে হাইড্রোজেন পরিবহণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। তাই হাইড্রোজেনকে গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানলে রূপান্তরিত করে জাহাজে পরিবহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রচলিত পণ্যবাহী জাহাজেই এই দুই ধরনের জ্বালানি পরিবহণ করা সম্ভব।

    ওজনের হিসাবে অ্যামোনিয়ার প্রায় ১৮ শতাংশ হাইড্রোজেন। ফলে অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তিতে কয়েক লাখ মেট্রিক টনের উল্লেখ থাকলেও তার হাইড্রোজেন-সমতুল্য পরিমাণ তুলনায় অনেক কম হয়। মিথানলের ক্ষেত্রে হাইড্রোজেনের অনুপাত আরও কম, প্রায় ১২.৫ শতাংশ।

    জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের ২০৩০ সালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১১ শতাংশের সমান হল ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির পরিমাণ।

    ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ার পথে

    ভারতের গ্রিন জ্বালানি রফতানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠছে জাপান। দেশটি দীর্ঘমেয়াদি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের পরিকল্পনায় আমদানি করা হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে একের পর এক সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করছে জাপানের বিভিন্ন সংস্থা।

    এসিএমই গোষ্ঠী জাপানের ইহাই কর্পোরেশনকে বছরে ৪ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তি করেছে। পাশাপাশি মিতসুবিশি গ্যাস কেমিক্যালকে বছরে ১ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন মিথানল সরবরাহের জন্য পৃথক চুক্তিও (Largest Green Hydrogen Order) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    এদিকে, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো এবং জাপানের বাণিজ্যিক সংস্থা ইতোকু যৌথভাবে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করেছে। এর মাধ্যমে বছরে ৩ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এই সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

    জাপানের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থা জেরার সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক চুক্তি করেছে এএম গ্রিন। এই চুক্তির আওতায় বছরে ৭০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা হবে।

    জাপানে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির কার্বন নিঃসরণ কমানোর অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে কয়লার সঙ্গে অ্যামোনিয়া মিশিয়ে জ্বালানোর প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই উদ্যোগেও ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদিত গ্রিন অ্যামোনিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।

    ইউরোপের কঠোর পরিবেশবিধির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ভারত

    গ্রিন হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে ইউরোপের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেখানে কোনও জ্বালানিকে পুনর্নবীকরণযোগ্য হাইড্রোজেন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কঠোর পরিবেশগত মানদণ্ড রয়েছে। ভারতীয় উৎপাদকরা সেই মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হয়েছে।

    ২০২৩ সালের অগাস্টে ভারত নিজস্ব গ্রিন হাইড্রোজেন মানদণ্ড ঘোষণা করে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি কেজি হাইড্রোজেন উৎপাদনে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য নিঃসরণের পরিমাণ ২ কেজির মধ্যে থাকলেই তাকে গ্রিন হাইড্রোজেন হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এই জাতীয় মানদণ্ড বিদেশি ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় জ্বালানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। জার্মান সংস্থা হিন্টকো জিএমবিএইচ পরিচালিত এইচটু গ্লোবাল নিলামে এশীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত বরাতের একমাত্র বিজয়ী হয়েছে এএম গ্রিন।

    এই চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এএম গ্রিনের কাছ থেকে অন্তত ৫৮ কোটি ৫০ লাখ ইউরো মূল্যের পুনর্নবীকরণযোগ্য অ্যামোনিয়া কিনবে হিন্টকো। ২০২৯ সালে জার্মানিতে প্রথম দফার জ্বালানি সরবরাহ শুরু (Largest Green Hydrogen Order) হওয়ার কথা।

    এ ছাড়াও জার্মানির অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি সংস্থা ইউনিপারের সঙ্গে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তি করেছে এএম গ্রিন। অন্যদিকে, জৌনো জুলস প্রতিদিন ৬০০ টন, অর্থাৎ বছরে প্রায় ২ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের জন্য সিলেক্ট এনার্জি জিএমবিএইচের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

    ইউরোপের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রিত বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে জয়ী হওয়া শুধু আর্থিক সাফল্য নয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে, ভারতীয় গ্রিন অ্যামোনিয়া আন্তর্জাতিক মানের শংসাপত্র, পরিবেশগত স্বচ্ছতা এবং সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে (Japan Germany Korea) সক্ষম।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও ভারতের প্রবেশ

    এশিয়ার আর এক গুরুত্বপূর্ণ বাজার দক্ষিণ কোরিয়া। রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ ও ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। বিশ্বের বৃহত্তম গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহ চুক্তিগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। ২০২৮ সালের মধ্যে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

    জাপানের মতো দক্ষিণ কোরিয়াও জ্বালানি আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশের অভ্যন্তরে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হওয়ায় ভারতীয় গ্রিন জ্বালানি তাদের কাছে একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠছে।

    প্রতিবেশী দেশগুলির বাজারেও ভারতীয় সংস্থাগুলি নিজেদের জায়গা তৈরি করছে। শ্রীলঙ্কার সার সংস্থাকে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন মিথানল সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে অগস্ত্য। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বাণিজ্য প্রতিবেশী দেশগুলিতেও আরও সম্প্রসারিত হবে।

    জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পশ্চিম ইউরোপ এবং দক্ষিণ এশিয়া—বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতের ক্রেতা তৈরি হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট দেশের বাজারের উপর নির্ভরশীলতা কমবে। সরকারি ভর্তুকি এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশবিধির উপর নির্ভরশীল এই আন্তর্জাতিক বাজারে এই বৈচিত্র্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    দামের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ভারত

    কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানল সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক দাম দিতে পারছে। এর ফলে ইউরোপ ও জাপানের বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে (Largest Green Hydrogen Order)।

    এই শিল্পে উৎপাদন খরচই অন্যতম নির্ধারক বিষয়। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জলের তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করা হয়। উৎপাদন খরচের সবচেয়ে বড় অংশই বিদ্যুতের জন্য ব্যয় হয়।

    ভারতে প্রচুর সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের দাম ক্রমশ কমছে। তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও সরকারি নীতিগত সহায়তা রয়েছে। এই সমস্ত সুবিধা মিলিয়ে ভারতীয় উৎপাদকরা এমন অনেক দেশের তুলনায় কম খরচে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করতে পারছেন, যেখানে বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি।

    উৎপাদনের পাশাপাশি ক্রেতার কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার খরচ কম রাখতে পারাও আন্তর্জাতিক দরপত্রে ভারতের সাফল্যের অন্যতম কারণ। এইচটু গ্লোবালের মতো সরকারি সহায়তাপুষ্ট আন্তর্জাতিক দরপত্রে মূলত দামের ভিত্তিতেই সরবরাহকারী নির্বাচন করা হয়।

    বাড়ছে গ্রিন জ্বালানির ব্যবহার

    গ্রিন হাইড্রোজেন থেকে উৎপাদিত জ্বালানির ব্যবহারও ক্রমশ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিবহণ শিল্পে গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানল পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ২০৫০ সালের মধ্যে জাহাজ পরিবহণ ক্ষেত্রে নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় এই বিকল্প জ্বালানির চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এ ছাড়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার সঙ্গে অ্যামোনিয়া মিশিয়ে জ্বালানোর প্রযুক্তি চালু হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সার উৎপাদন এবং পেট্রোলিয়াম পরিশোধন শিল্পেও গ্রিন হাইড্রোজেন ও তার উপজাত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। এই দুই শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমানো অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।

    দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও তৈরি হচ্ছে চাহিদা

    শুধু রফতানি নয়, দেশের অভ্যন্তরেও গ্রিন হাইড্রোজেনের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রিন হাইড্রোজেন রূপান্তরের কৌশলগত উদ্যোগের আওতায় দেশের ১১টি সার কারখানায় গ্রিন অ্যামোনিয়া উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির সম্মিলিত সরবরাহ ক্ষমতা বছরে ৬ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন।

    প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত প্রচলিত অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে গ্রিন অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা সম্ভব। ভারতকে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করতে হয়। ফলে দেশীয় উৎপাদিত গ্রিন অ্যামোনিয়ার ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভরতাও কমতে পারে।

    একই কর্মসূচির আওতায় ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং নুমালিগড় রিফাইনারির শোধনাগারগুলিতে বছরে ৩০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের প্রকল্পও বরাদ্দ করা হয়েছে।

    ভারত সার তৈরির কাঁচামাল এবং অপরিশোধিত তেলের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহার বাড়ানো হলে একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যও পূরণ হবে।

    জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনে ১৯,৭৪৪ কোটি টাকার বরাদ্দ

    ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনে অনুমোদন দেয়। ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের প্রাথমিক বরাদ্দ রাখা হয় ১৯ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল কৌশলগত উদ্যোগ বা সাইট কর্মসূচির জন্য। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্রের উৎপাদন এবং গ্রিন হাইড্রোজেন তৈরিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    অবশিষ্ট অর্থ পরীক্ষামূলক প্রকল্প, গবেষণা, উন্নয়ন এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১৫টি সংস্থাকে বছরে ৩ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র উৎপাদনের জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৮ লাখ ৬২ হাজার টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষেত্রেও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ৫০ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষমতা তৈরি করাই এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১২৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি, ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ, ৬ লাখেরও বেশি স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং প্রতি বছর প্রায় ৫ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় হতে পারে।

    এবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন

    চুক্তির পরিমাণের নিরিখে ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও প্রকৃত উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক চুক্তির সরবরাহ ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা। তাই এখন প্রধান কাজ হল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করা।

    এর জন্য বৃহৎ পরিসরে পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র বসানো, উৎপাদন কেন্দ্র চালু করা এবং অ্যামোনিয়া ও মিথানল জাহাজে তোলার উপযোগী বন্দর ও সংরক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পরিকাঠামো অত্যন্ত জরুরি (Largest Green Hydrogen Order)।

    ২০২৬ সালের গোড়ায় দেশে চালু হওয়া গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন ক্ষমতা ছিল বছরে প্রায় ৮ হাজার টন। ফলে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা এবং বাস্তব উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে এখনও যথেষ্ট ব্যবধান রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১১ শতাংশের সমতুল্য সরবরাহের জন্য এখনও পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের সিংহভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আগামী দিনে আরও বিপুল পরিমাণ ক্রয়চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

    তবে ভারতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, দেশ এখন আর শুধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাজারে প্রবেশ করছে না। বরং ইতিমধ্যেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে (Japan Germany Korea) নির্দিষ্ট ক্রেতা, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের সুবিধা নিয়ে এগোচ্ছে। এই চুক্তিগুলির যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হলে আগামী দিনে বিশ্ব গ্রিন হাইড্রোজেন বাণিজ্যে অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে ভারত।

     

LinkedIn
Share