Tag: IACCS

  • India China Border Surveillance: গালওয়ানের পর বড় প্রস্তুতি! লাদাখ থেকে অরুণাচল— চিন-সীমান্ত জুড়ে নজরদারির বিশাল জাল গড়ছে ভারত

    India China Border Surveillance: গালওয়ানের পর বড় প্রস্তুতি! লাদাখ থেকে অরুণাচল— চিন-সীমান্ত জুড়ে নজরদারির বিশাল জাল গড়ছে ভারত

    ভারত-চিন সীমান্তে (LAC) শক্তি প্রদর্শনের প্রসঙ্গ উঠলেই সাধারণত সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথাই সামনে আসে। কিন্তু এর আড়ালেই নীরবে গড়ে উঠছে আরও বড় একটি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হিমালয় জুড়ে অত্যাধুনিক সেন্সর, রেডার, সামরিক স্যাটেলাইট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করছে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সীমান্ত সংঘাতে শুধু অস্ত্রের শক্তি নয়, বরং কে আগে শত্রুকে শনাক্ত করতে পারবে, সেটাই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ফলাফল। সেই লক্ষ্যেই ভারত ধাপে ধাপে গড়ে তুলছে একটি বহুস্তরীয় নজরদারি নেটওয়ার্ক।

    গালওয়ান সংঘর্ষের পর বদলে যায় কৌশল

    ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই সীমান্তে নজরদারি ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। একই সময়ে চিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ড তিব্বত ও জিনজিয়াং অঞ্চলে নতুন বিমানঘাঁটি, ড্রোন বেস, শক্তিশালী সামরিক বাঙ্কার এবং অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুত বাড়ায়। এই পরিস্থিতিতে ভারত শুধু টহল বা যুদ্ধবিমানের উপর নির্ভর না করে ‘সেন্সর ডমিন্যান্স’ বা সর্বব্যাপী নজরদারির কৌশল গ্রহণ করেছে। লক্ষ্য একটাই— চিনের স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ড্রোন, হেলিকপ্টার কিংবা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্তের দিকে এগোনোর আগেই তা শনাক্ত করা।

    হিমালয়ের চ্যালেঞ্জ: পর্বতই সবচেয়ে বড় বাধা

    হিমালয়ের বিশাল পাহাড়, গভীর উপত্যকা এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতি রেডারের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করে। পর্বতের আড়ালে নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা বিমান বা ড্রোন অনেক সময় প্রচলিত রেডারের চোখ এড়িয়ে যায়। অর্থাৎ, একটি ব্লাইন্ডস্পট তৈরি হয়। একে বলা হয় ‘রেডার শ্যাডো’। এই সমস্যা কাটাতে ভারত বহুস্তরীয় সেন্সর নেটওয়ার্ক তৈরি করছে, যেখানে একটি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা অন্য ব্যবস্থা পূরণ করবে।

    প্রথম স্তর: মহাকাশ থেকেই নজরদারি

    ভারতের নজরদারি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে সামরিক ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য স্যাটেলাইট—

    • ● কার্টোস্যাট (CARTOSAT) শত্রুপক্ষের বিমানঘাঁটি, রাস্তা ও সামরিক অবকাঠামোর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে।
    • ● রিস্যাট (RISAT) রেডার ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে মেঘ, বৃষ্টি কিংবা খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও স্পষ্ট ছবি তুলতে সক্ষম।
    • ● আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট (EOS) সিরিজের স্যাটেলাইট নিয়মিত সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চালায়।
    • ● এমিস্যাট (EMISAT) শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

    আগামী দিনে আরও উন্নত ইলেকট্রনিক ও সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স স্যাটেলাইট যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, বিমানে জ্বালানি ভরার প্রস্তুতি কিংবা সন্দেহজনক সামরিক কার্যকলাপও আগে থেকেই শনাক্ত করতে পারবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই তথ্য শুধু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সরাসরি ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা সংক্ষেপে আইএসিসিএস (IACCS)-এ পৌঁছবে, ফলে সীমান্তের পরিস্থিতির প্রায় রিয়েল-টাইম ছবি পাবে ভারতীয় সেনা।

    আকাশে ‘চোখ: এইডব্লিউ অ্যান্ড সি ও অ্যাওয়াক্স

    চিনের তিব্বতের উচ্চভূমিতে অবস্থিত বিমানঘাঁটিগুলি তাদের একটি কৌশলগত সুবিধা দেয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত আকাশে মোতায়েন করেছে এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AEW&C) বিমান।

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে রয়েছে—

    • ● নেত্র মার্ক ১ এইডব্লিউ অ্যান্ড সি (Netra Mk1 AEW&C)
    • ● ফ্যালকন অ্যাওয়াক্স (Phalcon AWACS)

    নেত্র মার্ক ১ সম্প্রতি ২০২৬ সালের জুন মাসে চূড়ান্ত অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স (FOC) অর্জন করেছে। অর্থাৎ, মোতােনের জন্য প্রস্তুত।এছাড়া, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রায় ১৯,০০০ কোটি টাকার নেত্র মার্ক ২ (Netra Mk2) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। পরিবর্তিত এয়ারবাস এ৩২১ (Airbus A321) বিমানে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মে থাকবে ৩০০ ডিগ্রি কভারেজযুক্ত শক্তিশালী ডরসাল রেডার এবং বিশেষ নোজ অ্যান্টেনা।

    এর প্রধান কাজ হবে—

    • ● স্টেলথ বিমান শনাক্ত করা
    • ● পাহাড়ি উপত্যকার ভিতর নজরদারি চালানো
    • ● স্থলভিত্তিক রেডারের অদেখা এলাকা পর্যবেক্ষণ করা

    সীমান্তে শক্তিশালী রেডার চেইন

    স্থলভাগে ভারতের নজরদারির ভিত্তি তৈরি করছে মাউন্টেন রেডার নেটওয়ার্ক (Mountain Radar Network)। সম্প্রতি গুলমার্গ এবং নাগাল্যান্ডে বিশেষ মাউন্টেন রেডার স্থাপনের মাধ্যমে পশ্চিম ও পূর্ব—দুই দিকেই নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    • ● গুলমার্গ রেডার লাদাখ ও উত্তর কাশ্মীরের আকাশপথ পর্যবেক্ষণ করে।
    • ● নাগাল্যান্ডের রেডার অরুণাচলমুখী আকাশপথ নজরে রাখে।

    ভবিষ্যতে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশেও একই ধরনের রেডার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    আরূদ্রা ও অশ্বিনী: নজরদারির নতুন ভরসা

    Mountain Radar-এর পাশাপাশি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেডার ব্যবস্থা আরূদ্রা মিডিয়াম পাওয়ার রেডার (Arudhra Medium Power Radar)। আরূদ্রা বা আর্দ্রা হল হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নক্ষত্র এবং এটি ভগবান শিবের একটি অন্যতম পবিত্র নাম।

    এই রেডার—

    • ● একসঙ্গে একাধিক যুদ্ধবিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ট্র্যাক করতে পারে।
    • ● সরাসরি আইএসিসিএস-এর সঙ্গে যুক্ত।
    • ● সীমান্তে ওভারল্যাপিং নজরদারি নিশ্চিত করে।

    অন্যদিকে, অশ্বিনী এইএসএ রেডার (Ashwini AESA Radar) অত্যন্ত মোবাইল। সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হলে দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে মোতায়েন করা যায়।

    ড্রোন ও নিচু উচ্চতার হুমকির বিরুদ্ধে বিশেষ নজর

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

    এজন্য ভারত ব্যবহার করছে—

    • ● ভরনী রেডার (Bharani Radar)
    • ● লো-লেভেল লাইটওয়েট রেডার মার্ক-২ (Low-Level Lightweight Radar Mk-II)

    এগুলির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিও যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে পাহাড়ি গিরিপথ দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করা যে কোনও লক্ষ্যবস্তুকে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

    স্টেলথ যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে ‘নিঃশব্দ’ নজরদারি

    সক্রিয় রেডারের পাশাপাশি ভারত গড়ে তুলছে প্যাসিভ সার্ভেল্যান্স নেটওয়ার্ক (Passive Surveillance Network)। এই স্টেশনগুলি কোনও সিগন্যাল পাঠায় না। বরং শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেডার সিগন্যাল ও ইলেকট্রনিক কার্যকলাপ নীরবে পর্যবেক্ষণ করে।এই প্রযুক্তি চিনের জে-২০ (J-20), ভবিষ্যতের জে-৩৫ (J-35) স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং উন্নত ড্রোন শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এছাড়া ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি (VHF) ও মাল্টি-ব্যান্ড রেডারের সাহায্যে স্টেলথ বিমানের উপস্থিতির আভাস পেলেই আরও নির্ভুল সেন্সরকে সেই লক্ষ্যবস্তুর দিকে নির্দেশ করা সম্ভব হবে।

    আইএসিসিএস: পুরো ব্যবস্থার ‘মস্তিষ্ক

    এই বিশাল নজরদারি ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হল ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (Integrated Air Command and Control System)। স্যাটেলাইট, রেডার, এইডব্লিউ অ্যান্ড সি বিমান এবং অন্যান্য সেন্সর থেকে আসা সমস্ত তথ্য একত্রিত করে আইএসিসিএস (IACCS) কমান্ডারদের সামনে সীমান্তের একটি একক, লাইভ এবং সমন্বিত ছবি তুলে ধরে।

    এর ফলে—

    • ● দ্রুত হুমকি বিশ্লেষণ সম্ভব হয়।
    • ● মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারসেপ্টর বিমান পাঠানো যায়।
    • ● বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হয়।

    ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হবে সবচেয়ে বড় অস্ত্র

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)।

    এআই-ভিত্তিক সিস্টেম—

    • ● সন্দেহজনক উড়ানপথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে।
    • ● অস্বাভাবিক সেনা মোতায়েন চিহ্নিত করবে।
    • ● সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক করবে।
    • ● দ্রুততম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেবে।

    ভারতের লক্ষ্য কী?

    চিন তিব্বতের হোতান, লাসা-গংগারসহ একাধিক বিমানঘাঁটিকে শক্তিশালী করে সেখানে স্টেলথ যুদ্ধবিমান, উন্নত ড্রোন এবং আধুনিক অস্ত্র মোতায়েন করছে। এর জবাবে ভারত বিচ্ছিন্ন রেডারের উপর নির্ভর না করে মহাকাশ, আকাশ, স্থল এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম—সব স্তরকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সীমান্ত নিরাপত্তায় এই ‘সেন্সর ওয়েব’ই ভারতের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • IACCS: পাক হানা প্রতিরোধে ভারতের ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম, নেপথ্য নায়কদের ছবি প্রকাশ কেন্দ্রের

    IACCS: পাক হানা প্রতিরোধে ভারতের ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম, নেপথ্য নায়কদের ছবি প্রকাশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যের পিছনে ছিল ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (আইএসিসিএস)। সাংবাদিক বৈঠকে এসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কথা বলতে গিয়ে বায়ুসেনার এয়ার মার্শাল একে ভারতী শেষ ভাবে উল্লেখ করেছিলেন আইএসিসিএস-এর (IACCS) কথা। বলেছিলেন এই অভিযানের নেপথ্যে থাকা নায়কদের কথা। শুনিয়েছিলেন পর্দার পিছনের কাহিনী। সোমবার তারই একটা ছবি প্রকাশ করে কেন্দ্র।

    কেন্দ্রের তরফে ছবি প্রকাশ

    সেনা সূত্রে জানা যায়, ‘অপারেশন সিঁদুর’ সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ওই সিস্টেম যে কক্ষ থেকে পরিচালিত হয়েছিল, সোমবার কেন্দ্রের তরফে তারই একটি ছবি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, পিছনে বৃহদাকার এলইডি স্ক্রিনে নানা ভৌগোলিক হিসেবনিকেশ করা রয়েছে। তার সামনে মুখে মাস্ক পরে দাঁড়িয়ে সেনার কয়েক জন আধিকারিক। তাঁদের পরিচয় যাতে প্রকাশ্যে না-চলে আসে, সেই জন্যই প্রত্যেকের মুখ মাস্কের আড়ালে।

    আইএসিসিএস-এর তিনটি স্তর

    সেনার একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে সর্বদা সতর্ক এবং সজাগ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল এই আইএসিসিএস (IACCS)। বায়ুসেনার প্রতিটি কার্যকলাপে নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ চালায় এটি। এই আইএসিসিএস-এর তিনটি স্তর বা বিভাগ রয়েছে। একটি বিভাগ স্থল, জল এবং নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখে। আর একটি বিভাগ বিভিন্ন ধরনের রেডারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। তার পর সেই তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় কমান্ড এবং কন্ট্রোল সেন্টারে।

    ভারতের তিন বাহিনীর যৌথ অংশ গ্রহণ

    এই জটিল ও স্তরভিত্তিক এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থাটি ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনার যৌথ অংশগ্রহণে গঠিত হয়েছে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে একাধিক সেন্সর ও অস্ত্রব্যবস্থা, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সফট-কিল’ ও ‘হার্ড-কিল’ কাউন্টার-ইউএভি ব্যবস্থা, এবং প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী। আইএসিসিএস (IACCS) ছিল এই প্রতিরক্ষা জালের কেন্দ্রবিন্দু, যা বিভিন্ন স্তরের অপারেশনকে সমন্বয় করেছে।

    আইএসিসিএস কী?

    আইএসিসিএস (IACCS) বা ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম হল একটি স্বয়ংক্রিয় এয়ার ডিফেন্স কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, যা ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান অভিযানের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির জন্য তৈরি হয়েছে। আধুনিক নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধের যুগে ‘রেকগনাইজড এয়ার সিচুয়েশন পিকচার’ (RASP) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বিশেষ সিস্টেমে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং সিভিল রেডার নেটওয়ার্কের মধ্যে বিশেষ সংযোগের মাধ্যমে তথ্য বিনিময় হয়। আইএসিসিএস (IACCS) বিভিন্ন ধরনের ২-ডি ও ৩-ডি রেডার, মোবাইল পর্যবেক্ষণ পোস্ট, এয়ার ফোর্স ঘাঁটি, সিভিল এজেন্সি, এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল থেকে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ করে এবং একটি সমন্বিত রেকগনাইজড এয়ার সিচুয়েশন পিকচার তৈরি করে। এই পুরো সিস্টেমটি আইপি-ভিত্তিক ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কের (WAN) মাধ্যমে সংযুক্ত।

    আইএসিসিএস-এর ভূয়সী প্রশংসা

    ভারত-পাক যুদ্ধ আবহে দেশের তিন বাহিনীর সাফল্য প্রসঙ্গে এয়ার মার্শাল ভারতী বলেন, “আমাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম একটা শক্তিশালী দেওয়ালের মতো দেশকে বাঁচিয়েছে ৷ শত্রুরা এই দেওয়াল ভেদ করতে পারেনি ৷ পাকিস্তানের নিরন্তর প্রচেষ্টা, প্রতিরোধ করেছে ভারতের বহুস্তরীয় ও সংহত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ৷ ভারতীয় সেনা, ভারতীয় নৌ-বাহিনী এবং ভারতীয় বায়ুসেনার বিভিন্ন জায়গায় এই এডিএস স্থাপন করেছিল ৷” এই বিশাল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে বহু সংখ্যায় বিভিন্ন ধরনের এয়ার ডিফেন্স সেন্সর এবং অস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে৷ যেমন- লো লেভেল এয়ার ডিফেন্স গান, কাঁধে রেখে গোলা বর্ষণের অস্ত্র (শোলডার ফায়ার্ড ম্যান প্যাডস), স্বল্প পাল্লার ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র (সারফেস টু এয়ার মিসাইল, এসএএমএস) ৷ এছাড়া এরিয়া ডিফেন্স ওয়েপন- যেমন এয়ার ডিফেন্স যুদ্ধবিমান, দূর পাল্লার ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ৷ পাকিস্তানের পাঠানো অসংখ্য ড্রোন, আনম্যান্ড ভেহিকলকে আকাশেই ধ্বংস করেছে ভারতের নিজস্ব সফ্ট ও হার্ড কিল কাউন্টার-ইউএএস সিস্টেম এবং ভারতীয় বায়ুসেনার দক্ষ আধিকারিকরা ৷ আর এই সবকিছুর সমন্বয় ঘটিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (IACCS) ৷

    মোদি সরকারকে ধন্যবাদ

    আধুনিক যুগের এই যুদ্ধ-ব্যবস্থার ক্ষমতা ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে তৈরি ৷ নতুন এডি সিস্টেমের পাশাপাশি পুরনো এডি সিস্টেমও এই সংঘাতে কাজ করেছে ৷ সর্বোপরি সাম্প্রতিক যুদ্ধে ভারতের নিজস্ব আকাশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের পারফরমেন্স ছিল দুর্দান্ত ৷ বিগত কয়েক বছরে কেন্দ্রের মোদি সরকারের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দের জন্য এই অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম-এ ভারত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (IACCS) তৈরি সম্ভব হয়েছে বলে জানান এয়ার মার্শাল একে ভারতী ৷

LinkedIn
Share