Tag: ICC T20 World Cup 2026

  • T20 World Cup 2026: শেষ চারের ভাগ্য নির্ধারণ ইডেনে! এবার চিন্তা বোলিং, জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে কী বললেন ভারত অধিনায়ক?

    T20 World Cup 2026: শেষ চারের ভাগ্য নির্ধারণ ইডেনে! এবার চিন্তা বোলিং, জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে কী বললেন ভারত অধিনায়ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইডেনে ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো থামাতে পারলেই টি-২০ বিশ্বকাপের (2026 ICC Men’s T20 World Cup) শেষ চারে পৌঁছে যাবে ভারত। চিপকে জিম্বাবোয়েকে ৭২ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখল টিম ইন্ডিয়া (India vs Zimbabwe)। ভারতের সামনে সেমিফাইনালে ওঠার একটাই রাস্তা। কলকাতায় ম্যাচ জিততে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। পয়েন্টের বিচারেই উঠে যাবে শেষ চারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জিতে প্রথম দল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা বৃহস্পতিবার দুপুরেই নিজেদের জায়গা পাকা করেছে। ভারতের সামনে এবার সুযোগ। তবে, বৃষ্টি হলে বা কোনও কারণে ম্যাচ ভেস্তে গেলে নেট রান রেটের বিচারে ওয়াংখেড়েতে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

    সেমির পথে সূর্যরা, কারা প্রতিপক্ষ

    চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার ৮-এর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিরাট ব্যবধানে হারের ফলে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সেমিফাইনালে ওঠার পথ বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ৭৬ রানের এই পরাজয় তাদের নেট রান রেটে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলেছিল। অঙ্ক ছিল, টিম ইন্ডিয়াকে তাদের দুটি ম্যাচই জিততে হবে, এবং তাও বড় ব্যবধানে। গ্রুপ – ১ পয়েন্ট টেবিলে ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, ছিটকে গিয়েছে জিম্বাবোয়ে। দুটো দলই ২টো করে ম্য়াচ খেলেছে। এবার তৃতীয় ম্য়াচটা নিজেদের মধ্যেই খেলতে হবে। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণ করতে কোনও সমস্যা হবে না। গ্রুপের বাকি ২ দল অর্থাৎ ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজও ২টো ম্য়াচ খেলেছে। তৃতীয় ম্য়াচে এই ২ দলকে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। আপাতত দুটো দলের কাছেই ২-২ পয়েন্ট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে জিততে চাইবে। যে দলই জিতুক না কেন, ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা সেমিফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে। কিন্তু এই ম্যাচ কোনও কারণে ভেস্তে গেলে রান রেট ভালো থাকায় সেমিফাইনালে চলে যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেমিফাইনালে পৌঁছলে মুম্বই-এর ওয়াংখেড়েতে মুখোমুখি হবে ভারত ও ইংল্যান্ড। কারণ, নিয়ম অনুসারে গ্রুপ-এ-র শীর্ষে থাকা দল খেলবে গ্রুপ ২-এর দুই নম্বরে থাকা দল। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এক নম্বর ধরে রাখার সম্ভাবনা দক্ষিণ আফ্রিকার। সেক্ষেত্রে গ্রুপ-২-এর দুই নম্বরে থাকা দলের মুখোমুখি হবে তারা।

    ইডেনের লড়াই নিয়ে কী ভাবছেন সূর্য

    রবিবার, ১ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে টিম ইন্ডিয়া। তাও আবার ইডেন গার্ডেন্সে। সেই ম্যাচ নিয়ে ইতিমধ্যেই কথাবার্তা, আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। টিম ইন্ডিয়া অধিনায়ক সূর্যকুমার কি ইতিমধ্যেই ক্যারিবিয়ান দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছেন? সূর্য জানাচ্ছেন, ‘‘দেখুন আমাদের ইতিবাচক হওয়া ছাড়া তো আর কোনও বিকল্প নেই। আমরা কলকাতায় পৌঁছাই, তারপরেই সেখানে বসে ওই ম্যাচ নিয়ে ঠিকঠাকভাবে পরিকল্পনা তৈরি করব। আপাতত একদিনের ছুটি, আর সফরও করতে হবে আমাদের, সেই সঙ্গে বিশ্রামও নেওয়াটা জরুরি।’’ চিপকে খেলার শেষে সূর্যকুমার বলেন, ‘‘আমার মনে হয় আমরা সবকিছু পিছনে ফেলেই আসতে চেয়েছিলাম। লিগ পর্বে বা অমদাবাদে শেষ ম্যাচে আমরা কী করেছি, তা নিয়ে আমরা খুব বেশি ভাবিনি। আমাদের ভিডিও বিশ্লেষক সমস্ত ব্যাটার এবং বোলারদের জন্য একটি স্লাইড তৈরি করেছিলেন। সেখানে বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা কী করেছি তা তুলে ধরেছিলেন। আমরা সেটি দেখেছি, এখান থেকে অনেক পজিটিভিটি পেয়েছি এবং স্পষ্টতা নিয়ে এখানে এসেছি। তার ফল মিলেছে।’’

    চিন্তায় ভারতীয় বোলিং

    জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ভারতের ব্যাটাররা ভালো করলেও ইডেনে নামার আগে ভারতের বোলিং কিন্তু রীতিমতো চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াল। যা স্বীকারও করে নিলেন সূর্যকুমার, তিনি বলেন, ‘‘সত্যি বলতে, আমরা বলের সঙ্গে আরও কিছুটা ক্লিনিকাল হতে পারতাম। কিন্তু দিনের শেষে, জয় মানে জয়। আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি গ্রহণ করব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের সঙ্গে খেলতে গেলে আমরা বেশ কিছু স্ক্রু টাইট করেই যাব। আমি জিম্বাবোয়ের ব্যাটারদের কাছ থেকে কোনও কৃতিত্ব কেড়ে নিতে চাই না। আমার মনে হয় তারা সুন্দর ব্যাট করেছে। হ্যাঁ, উইকেট ভালো ছিল, পাওয়ারপ্লেতে সময় নিয়ে, তাঁরা যেভাবে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তাতে করে স্মার্টলি খেলার গতি বাড়িয়েছিল – তা চিত্তাকর্ষক ছিল। কৃতিত্ব তাঁদেরও। বোলিংয়ের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কিছু বিকল্প নিয়ে আমরা আরও একটু বুদ্ধিমান হতে পারতাম। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহসী হতে হবে।’’ সূর্য বুঝিয়েই দিলেন যে তিনি ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনালে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে নামার আগে বোলিং নিয়ে সামান্য হলেও চিন্তিত।

    টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের সর্বোচ্চ

    জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এদিন রানের পাহাড় গড়ে ভারত। টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন সিকন্দর রাজা। প্রথমে ফিল্ডিং করে নিতে চেয়েছিল জিম্বাবোয়ে। যাতে রাতের শিশিরের সমস্যা এড়াতে পারেন বোলাররা। তবে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবোয়ে বোলিংকে দুরমুশ করলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। বৃহস্পতিবার অভিষেক শর্মার সঙ্গে ইনিংস ওপেন করেন সঞ্জু স্যামসন। ভারতকে শুরুতেই চালকের আসনে বসিয়ে দেন দুই ওপেনার। সঞ্জু বড় রান পাননি। তবে ১৫ বলে ২৪ রান করে ইনিংসের গতিটা শুরুতেই ফিফথ গিয়ারে বেঁধে দেন। মাত্র ২২ বলে ৪৮ রান যোগ করেন দুই ওপেনার। এরপর সঞ্জু ফিরলেও অভিষেক ও ঈশান কিষাণ মিলে ধ্বংসলীলা চালান। টি-২০ ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার অভিষেক শর্মার টুর্নামেন্ট কাটছিল দুঃস্বপ্নের মতো। টানা তিন ম্যাচে শূন্য। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৫। অবশেষে সুপার এইটের দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দে ফিরলেন বাঁহাতি ব্যাটার। ২৬ বলে হাফসেঞ্চুরি। ৩০ বলে ৫৫ রান করলেন। ২৪ বলে ৩৮ ঈশান কিষাণের। দ্বিতীয় উইকেটে ৪২ বলে ৭২ রান যোগ করলেন দুজনে। সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তাণ্ডব চালালেন তিলক বর্মা (১৬ বলে অপরাজিত ৪৪ রান), হার্দিক পান্ডিয়া (২৩ বলে অপরাজিত ৫০ রান), সূর্যকুমার যাদবরা (১৩ বলে ৩৩ রান)। ২০ ওভারের শেষে ভারতের স্কোর ২৫৬/৪। টি-২০ বিশ্বকাপে যা ভারতের রেকর্ড। ২০০৭ সালে প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে ডারবানে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২১৮/৪ তুলেছিল ভারত।

    প্রয়াত রিঙ্কু সিং-এর পিতা

    শেষরক্ষা হল না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝেই প্রয়াত হলেন রিঙ্কু সিং-এর বাবা খাচান্দ্র সিং। ভারতীয় শিবির থেকে ছুটি নিয়ে গত মঙ্গলবার হাসপাতাল ভর্তি বাবাকে দেখতে গিয়েছিলেন রিঙ্কু। পর দিনই ফিরে আসেন। গ্রেটার নয়ডার হাসপাতালে রিঙ্কুর বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। গত কয়েক দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। খাচান্দ্র মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর সাপোর্ট ও ‘কন্টিনিউয়াস রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’-তে ছিলেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চেন্নাইয়ের জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে রিঙ্কু হঠাৎ শিবির ছেড়ে চলে যান। বাবাকে দেখে রিঙ্কু দ্রুত চেন্নাই ফিরে আসেন। যদিও বৃহস্পতিবারের ম‍্যাচে তিনি প্রথম একাদশে ছিলেন না। শুধু পরিবর্ত হিসেবে ফিল্ডিং করেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলিতে রিঙ্কুকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।

  • T20 World Cup 2026: চিপকে বড় জয়ই লক্ষ্য ভারতের, কোন পথে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারে সূর্যরা?

    T20 World Cup 2026: চিপকে বড় জয়ই লক্ষ্য ভারতের, কোন পথে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারে সূর্যরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপে (2026 ICC Men’s T20 World Cup) বৃহস্পতিবার সুপার এইটে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মরণ-বাঁচন ম্যাচ (India vs Zimbabwe) খেলতে নামছে ভারত। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার ৮-এর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিরাট ব্যবধানে হারের ফলে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সেমিফাইনালে ওঠার পথ বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৭৬ রানের এই পরাজয় তাদের নেট রান রেটে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলেছে। এখন, টিম ইন্ডিয়াকে তাদের দুটি ম্যাচই জিততে হবে, এবং তাও বড় ব্যবধানে।

    সেমিফাইনালের সম্ভাবনা

    দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের সঙ্গে সঙ্গে, টিম ইন্ডিয়ার নেট রান রেটেরও উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে, যার ফলে সেমিফাইনালে (T20 World Cup 2026) পৌঁছানোর সম্ভাবনা কমে গিয়েছে। তবে, ভারতের জন্য প্রত্যাবর্তন সম্ভব। এর জন্য, তাদের বাকি দুটি ম্যাচে সেমিফাইনালের হিসেব-নিকেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। টিম ইন্ডিয়া যদি বাকি সুপার ৮ ম্যাচগুলিতে বড় জয় অর্জন করে, তাহলে সেমিফাইনালের দৌড়ে থাকার সুযোগ তাদের রয়েছে। ভারত যদি প্রথমে ব্যাট করে এবং ১৯০ রানের বেশি করে, তাহলে টিম ইন্ডিয়াকে জিম্বাবোয়েকে ১৩০ রানের কম রানে অলআউট করতে হবে এবং ৬০ রানের বেশি রানে জিততে হবে। তবে, ৮০ বা তার বেশি রানের জয়ই সেরা বলে বিবেচিত হবে। ভারত যদি লক্ষ্য তাড়া করে, অর্থাৎ পরে ব্যাট করে তাহলে টিম ইন্ডিয়াকে জিম্বাবোয়েকে ১৩০ রানের কম রানে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং ১০ থেকে ১২ ওভারে লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।

    দলে যোগ দিচ্ছেন রিঙ্কু সিং

    বৃহস্পতিবার ম্যাচের আগেই ভারতীয় দলে যোগ দিচ্ছেন রিঙ্কু সিং। তবে তিনি এই ম্যাচে খেলবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট হয়। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক (Sitanshu Kotak) জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধেতেই ফের দলে যোগ দিচ্ছেন রিঙ্কু। তিনি বৃহস্পতিবার চিপকে (Chepauk) থাকবেন। টিম ম্যানেজমেন্ট যদি মনে করে, তাহলে তিনি খেলবেন। পারিবারিক সমস্যার কারণে ভারতীয় দল ছেড়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন রিঙ্কু। তাঁর বাবা খানচাঁদ সিং (Khanchand Singh) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি গ্রেটার নয়ডার (Greater Noida) এক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে টিম ম্যানেজমেন্ট রিঙ্কুকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়। বাড়ির পরিস্থিতি সামলে চেন্নাইয়ে ফিরছেন রিঙ্কু।

    চিপকে চাপে ভারত

    সোমবার মুম্বইয়ে সুপার এইটের ম্যাচে জিম্বাবোয়েকে ১০৭ রানে হারিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে এমনিতেই চাপে ছিল ভারত। তার উপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই বিশাল জয়ের ফলে ভারতের নেট রান রেটের সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে। সেমিফাইনালে উঠতে হলে বাকি ম্যাচগুলো বড় ব্যবধানে জিততেই হবে। ভারতের পরবর্তী ম্যাচ বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। একই দিনে অন্য ম্যাচে আমেদাবাদে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই ম্যাচের ফলাফলের উপর অনেকটাই নির্ভর করছে ভারতের সেমিফাইনাল ভাগ্য। তবে অন্যের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের গুছিয়ে নিতে চাইবেন গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেক্ষেত্রে সবকিছু ভুলে রানে ফিরতে হবে অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষাণদের। ভারতের ব্যাটিং তেজই চিপকে ফের সূর্যোদয় ঘটাতে পারে টিম ইন্ডিয়ার।

  • T20 World Cup 2026: থামল বিজয়রথ! দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হতাশাজনক হারের পরও বিশ্বকাপ নিয়ে প্রত্যয়ী সূর্য

    T20 World Cup 2026: থামল বিজয়রথ! দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হতাশাজনক হারের পরও বিশ্বকাপ নিয়ে প্রত্যয়ী সূর্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিনা লড়াইয়ে থামল সূর্যের বিজয়রথ। সুপার এইটে বড় ধাক্কা। টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) কাছে ৭৬ রানে হেরে গেল ভারত। ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১১ রানে অল আউট টিম ইন্ডিয়া। ১২ ম্যাচে জয়ের পর হার। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) স্পষ্ট দাবি—হারের দায় ব্যাটিংয়ের। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে এই আমেদাবাদেই ভারতের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল, রোহিতদের বিজয়রথ থেমেছিল, সেখানেই ফের মুখ থুবড়ে পড়ল সূর্যের ভারত (Indian Cricket Team)। শুধু হার নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টিম ইন্ডিয়া এতই বড় ব্যবধানে পরাজিত হলে যে ভারতের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়ে গেল।

    ২০২২ সালের পর আইসিসি টি-টোয়েন্টি-তে হার

    দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৮৮ রান তাড়া করতে নেমে রবিবার মাত্র ১১১ রানেই অল আউট হয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। গ্রুপ পর্বে অপেক্ষাকৃত কমজোরি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও রকমে সামাল দেওয়া গিয়েছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ছাড়া কোনও ম্যাচেই সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি গুরু গম্ভীরের ছাত্ররা। সুপার এইটে নামতেই বাস্তব পরিস্থিতির সামনে পড়ল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বিরাট ব্যবধানে হেরে গেল সূর্যকুমার যাদবের দল। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরাজয়ের পর এই প্রথম কোনও একাধিক দেশের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে পরাজিত হল ভারতীয় দল। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের পর এই প্রথম আইসিসি প্রতিযোিগতার ম্যাচে হারের সম্মুখীন হল মেন ইন ব্লু-রা।

    পাওয়ারপ্লেতেই ভাঙন

    রান চেজের শুরুতেই ভাঙন। প্রথম ওভারে শূন্য রানে আউট ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan)। তিলক বর্মা (Tilak Varma) ১, অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) ১৫—পাওয়ারপ্লের শেষে স্কোর ৩১/৩। শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। এই কারণে ম্যাচের পর সূর্যকুমার বলেন, ‘১৮৮ তাড়া করতে গেলে পাওয়ারপ্লেতে ম্যাচ জেতা না গেলেও হেরে যাওয়া যায়। আমরা এই পর্যায়েই বেশি উইকেট হারিয়েছি। ছোট ছোট জুটি গড়তে পারিনি।’ পরিসংখ্যান বলছে, কাল ভারতের ব্যাটাররা থিতু হতে পারেননি। বড় শট খেলতে গিয়ে নিয়মিত উইকেট পড়েছে। স্ট্রাইক রোটেশনও হয়নি ঠিকমতো। ফলে রান তোলার চাপ ক্রমশ বেড়েছে।

    মিডল অর্ডারে ধীরগতি

    পাওয়ার-প্লে-তে ব্যাকফুটে চলে গিয়েও নিজেদের কৌশল থেকে সরলেন না গম্ভীর, সূর্যকুমাররা। ঈশান, অভিষেক ফিরে যাওয়ার পরেও চলল সেই টুকটুক করে ব্যাটিং। পরিস্থিতির বিচার না করেই ধরে খেলতে গিয়ে বিপদ ঘনিয়ে এল। দক্ষিণ আফ্রিকাও ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল। তাই বলে ডেভিড মিলার এবং ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ‘টেস্ট’ খেলার রাস্তায় হাঁটেননি। পাল্টা মারের রাস্তায় হেঁটে ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। ভারত সেটাই করতে পারল না। ধরে খেলতে গিয়ে নিজেদের উপর চাপ এতটাই বাড়িয়ে ফেলল যে পরের দিকে আর সামলানো গেল না।

    ব্যাটিং ব্যর্থতাই দায়ী

    ম্যাচ শেষে ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই পরাজয়ের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন অধিনায়ক সূর্য কুমার। কিন্তু পরিকল্পনা কই? ভারতের ব্যাটারদের খেলা নিয়ে প্রতি ম্যাচেই প্রশ্ন থাকছে। কেউ না কেউ পারফরম্যান্স করে ম্যাচ বার করে দিচ্ছিলেন ঠিক, কিন্তু কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে সেই চাল চলে না। তখন টি-টোয়েন্টি হোক বা টেস্ট, ক্রিকেট বুঝিয়ে দেয় এটা ওয়ান-ম্যান গেম নয়, টিম গেম। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা যেখানে একের পর এক মন্থর বল করছেন, তা খেলার জন্য কেন পরিকল্পনা থাকবে না ব্যাটারদের? অনুশীলনে ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাকের কাজটা কী? আগের চারটি ম্যাচে ওপেনিং জুটি টিকতে পারেননি। মূলত অভিষেক শর্মার ব্যর্থতার জন্যই। এ দিন সেই তালিকায় নাম লেখালেন ঈশান কিশন। অভিষেকের বদলে তিনি স্ট্রাইক নিয়েছিলেন। চতুর্থ বলেই তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন এডেন মার্করাম। অভিষেক কোনও মতে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ১৫ রান করলেন। তবে যে বলে আউট হলেন তাতে শিক্ষানবিশ ক্রিকেটারও লজ্জা পাবেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রতি ম্যাচে ওপেনারেরা এ ভাবে ব্যর্থ হলে সাফল্যের আশা করা যায় না।

    কেন নেই অক্ষর প্যাটেল

    আমেদাবাদের পিচে কী ভাবে বোলিং করতে হয়, তা ভারতকে শিখিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। কেশব মহারাজের মতো বোলার যেখানে এক ওভারে তিনটি উইকেট তুলে নিলেন, সেখানে ভারতের স্পিনারদের প্রাপ্তি মাত্র একটি উইকেট। বরুণ চক্রবর্তী ভারতের স্ট্রাইক বোলার। তিনি এমন বল করলেন যে লোকানো যাচ্ছিল না। শেষ ওভারে ডেভিড মিলারকে আউট করলেন ঠিকই। তত ক্ষণে মিলার যা ক্ষতি করার করে দিয়েছেন। আমেদাবাদের পিচে খেলে বড় হয়েছেন অক্ষর প্যাটেল। মাঠ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে নাদিয়াদে থাকেন। তিনি দলের সহ-অধিনায়কও বটে। তাঁকেই কি না এই ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়া হল? যে কোনও দিন অলরাউন্ডার হিসেবে ওয়াশিংটনের থেকে অক্ষর এগিয়ে থাকবেন। তার উপর তাঁর ঘরের মাঠে দলের বাইরে অক্ষর। মাঠে বল হাতে থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকার আরও ২০ রান হয়তো কমতে পারত। যে ২০ রানই ২০ ওভারের ক্রিকেটে মানসিক ফারাক গড়ে দেয়।

    সূর্যদের শেষ-চারের পথ

    এই পরাজয়ের পর ভারতের আর ভুলত্রুটির কোনও অবকাশ নেই। সুপার এইটে সব দলই তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। ভারতীয় দল নিজেদের পরের ম্যাচগুলি খেলবে জিম্বাবোয়ে (Zimbabwe) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের (West Indies) বিরুদ্ধে। ভারতীয় দলকে এই দুই ম্যাচে জিততে তো হবেই। পাশাপাশি টিম ইন্ডিয়াকে আশা করতে হবে প্রোটিয়া দলও যেন বাকি দুই প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে। তাহলে সেক্ষেত্রে দুই ম্যাচ জিতে গ্রুপ ১ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে টিম ইন্ডিয়া। তবে এর অন্যথা হলে? দক্ষিণ আফ্রিকা যদি জিম্বাবোয়ে বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরাজিত হয়, তাহলে সমস্যায় পড়বে ভারত।

    বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

    প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে এত বড় ব্যবধানে হারের ফলে ভারতের (India vs South Africa) নেট রান রেটও বেশ ধাক্কা খেয়েছে। এই হারে ভারতের নেট রান রেট নেমে গেছে মাইনাস ৩.৮০০-তে। সুপার এইটে এখন পরিস্থিতি জটিল। তাই ভারতীয় দলকে সেক্ষেত্রে নিজেদের ম্যাচ বড় ব্যবধানে জিততে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পরাজয় শুধু পয়েন্ট নয়, আত্মবিশ্বাসেও ধাক্কা। তবে অধিনায়ক সূর্যকুমার পরিষ্কার জানিয়েছেন, এটা ঘাবড়ানোর নয়, ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। সূর্য বলেন, ‘আমরা আমাদের ব্র্যান্ডের ক্রিকেটই খেলব। ব্যাট, বল, ফিল্ডিং—সব বিভাগেই উন্নতি করতে হবে। তারপর সময় বলবে।’

  • T20 World Cup 2026: টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ মহারণ! ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা, এগিয়ে কারা?

    T20 World Cup 2026: টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ মহারণ! ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা, এগিয়ে কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) আজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় খেলা। ভারত এবং পাকিস্তান দুই দলই দুটি করে ম্যাচ জিতে একে অপরের মুখোমুখি হবে। সেখানে এই ম্যাচ জিতে দুই দলই পরের রাউন্ডে জায়গা করতে চাইবে। তবে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় ভারত পাকিস্তানের থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। ফলে সেখান থেকে সূর্যকুমার যাদবরা যে ফের একবার সেই ধারা ধরে রাখতে চাইবেন সেটা বলাই বাহুল্য।

    ভারত-পাকিস্তান ‘হেড টু হেড’

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের স্পষ্ট আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত, এই মেগা টুর্নামেন্টে দুই দল মোট ৮বার মুখোমুখি হয়েছে। এই ৮টি ম্যাচের মধ্যে ভারত ৭টিতে জিতেছে। অপরদিকে পাকিস্তান মাত্র একবার জিতেছে। গত ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ১০ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে দেয়। সেটি ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই ভারত জিতেছে। সামগ্রিকভাবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও, ১৬টি ম্যাচের মধ্যে ভারত ১৩টিতে জিতেছে এবং পাকিস্তান মাত্র ৩টি ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়েছে।

    কলম্বোয় পারফরম্যান্স

    কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে দীর্ঘদিন ধরেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে টিম ইন্ডিয়া। ২০০৯ সালের পর থেকে এই মাঠে ১৫টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে ভারত, যার মধ্যে জিতেছে ১১টি এবং হেরেছে মাত্র ৪টি। শ্রীলঙ্কার মাটিতে ভারতের ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম বড় প্রমাণ এই পরিসংখ্যান। ২০১২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এই মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জয় পায় তারা। শুধুমাত্র হারতে হয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আয়োজক শ্রীলঙ্কা ছাড়া কেবল অস্ট্রেলিয়াই প্রেমদাসায় ভারতকে হারাতে পেরেছে। কলম্বোর এই ঐতিহাসিক ভেন্যুতে ভারতের আধিপত্য কার্যত স্পষ্ট। এই মাঠে সাধারণত রান তাড়া করা দলগুলির সুবিধা বেশি। তবে, চলতি টুর্নামেন্টে পাকিস্তান সবকটি ম্যাচই শ্রীলঙ্কায় খেলছে। তাই পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছে পাক বাহিনী।

    বৃষ্টিতে ভেস্তে যেতে পারে ম্যাচ

    হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের দিন প্রায় চার ঘণ্টা বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি বজ্রপাত এবং ঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। ফলে গোটা বিশ্ব যে লড়াই দেখার অপেক্ষায়, তা বৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হয়েছে এক বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত। এর জরে উত্তাল হবে সমুদ্র। বইতে পারে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়া। আন্দামান এবং শ্রীলঙ্কা উপকূলের বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস। ফলে ভারত -পাক ম্যাচের আগে খেলা হওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা। তবে কিছু আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, খেলা শুরুর ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টায় প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে টস হতে দেরি হতে পারে অথবা ওভার কমিয়ে ছোটো ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাত ৮টার পর আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও,সারা রাত জুড়ে মাঝে মাঝে বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের একটি বড় সুবিধা হলো এর উন্নত জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অভিজ্ঞ মাঠকর্মী, যারা কলম্বোর এই ভারী বৃষ্টি সামলাতে অভ্যস্ত। বিশ্বের অনেক স্টেডিয়ামে শুধু পিচ ঢেকে রাখা হলেও, প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে পুরো খেলার মাঠ ঢেকে ফেলার মতো পর্যাপ্ত কভার বা ত্রিপল রয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির জল সরাসরি আউটফিল্ডে পড়ে মাঠকে ভেজাতে বা কর্দমাক্ত করতে পারে না।

    হ্যান্ডশেক বিতর্ক

    ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যেখানে সূর্যকুমার যাদব অ্যান্ড কোং পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের জার্সি পরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করতে অস্বীকার জানায়৷ সেই জঙ্গি হামলায় ২০ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক, যাদের বেশিরভাগই পর্যটক, নিহত হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে ভারত তিনবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল, এবং তিনবারের- তিনবারই জিতেছিল৷ কিন্তু ভারতীয় খেলোয়াড়রা প্রতিবারই ম্যাচ চলাকালীন যে হ্যান্ডশেকের ট্র্যাডিশানাল পদ্ধতি তার থেকে বিরত ছিল৷ সেই ঘটনার পর চার মাস পেরিয়েছে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আবার কলম্বোতে মুখোমুখি হতে চলেছে, এবং ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর কী ঘটে তা দেখার বিষয়। আপাতত, সূর্যকুমার তার তাস লুকিয়ে রেখেছেন। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে করমর্দনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, ভারতীয় অধিনায়ক কেবল মিডিয়াকে “অপেক্ষা করুন এবং দেখুন” – এই উত্তরই দিয়েছেন৷

    মেগা সানডেতে ধুন্ধুমার

    মেগা সানডেতে ধুন্ধুমার। কলম্বোতে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান (IND vs PAK)। আর প্রেমদাসায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ২২ গজের মহারণ শুরু হওয়ার প্রহর গুনছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। টি২০ বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান মহারণকে ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। রবিবার কলম্বোতে ম্যাচের আগে বিজ্ঞাপনের দর হু হু করে বেড়েছে। ১০ সেকেন্ডের টিভি বিজ্ঞাপনের স্লটের দাম পৌঁছেছে ৩০–৪০ লাখ টাকায়, যেখানে অন্য বড় বিশ্বকাপ ম্যাচে একই স্লটের রেট থাকে ২০–২৫ লাখ। সম্প্রচারকারী জিওস্টার এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন রাজস্ব আয়ের আশা করছে। উল্লেখ্য বিষয় হল প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে কিন্তু ভারত বনাম পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দ্বৈরথ এই প্রথম নয়। এর আগে এই মাঠে দুই দল বিশ ওভারের ফর্ম্যাটে একবার মুখোমুখি হয়েছিল, তাও আবার বিশ্বকাপেই। ১৪ বছর আগে ২০১২ সালে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সেই ম্যাচে ভারত হেসেখেলে জয় পেয়েছিল। এবারও সেই ধারা বজায় রাখতে চাইবে ভারত।

  • T20 World Cup 2026: ধরা পড়ে গেল পাকিস্তানের নাটক! বিসিবিকে দিয়ে আবেদনপত্র লেখান নকভি, সত্যি কী?

    T20 World Cup 2026: ধরা পড়ে গেল পাকিস্তানের নাটক! বিসিবিকে দিয়ে আবেদনপত্র লেখান নকভি, সত্যি কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের হুমকি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল নিয়ে এতদিন ধরে যে টানাপোড়েন চলছিল, সোমবার গভীর রাতে পাকিস্তান সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে তার ইতি পড়েছে। সরকারি নির্দেশেই পাক দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত খেলাটি খেলতে নামতে হবে, সোমবার রাতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। সেই সঙ্গে শেষ হয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি দামের এই ‘দুনিয়ার সবচেয়ে দামি ম্যাচ’ নিয়ে অনিশ্চয়তা। তবে সেই নাটকের অবসানে একের পর এক অস্বস্তিকর তথ্য সামনে আসছে, যা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সূত্রের খবর, নিজের প্রভাব ও গুরুত্ব জাহির করতেই পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে অনুরোধ করেছিলেন—পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে যেন একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র লেখা হয়, যাতে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার অনুরোধ জানানো থাকে।

    ‘সম্মানজনকভাবে পিছু হটার চেষ্টা’

    বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম ‘বুলবুল’ সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করে নকভির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত এক কর্তার কথায়, “নকভি নিজেই বুলবুলকে ফোন করে বলেন, পাকিস্তানের কাছে যেন একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়। এতে করে পুরো পরিস্থিতি থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসা যাবে।” অর্থাৎ, সরাসরি আইসিসির চাপে মাথা নত না করে তৃতীয় পক্ষের অনুরোধকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল পিসিবির কৌশল। সেই পরিকল্পনা মতোই বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রশংসা করে বলেন, “এই সময় বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে পাকিস্তান যে অতিরিক্ত উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে আপ্লুত। আমাদের ভ্রাতৃত্ব দীর্ঘজীবী হোক।” তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান সফরের পর আলোচনার সম্ভাব্য ইতিবাচক ফলাফলের প্রেক্ষিতে আমি অনুরোধ করছি—১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি খেলুক পাকিস্তান, যা পুরো ক্রিকেট বিশ্বের স্বার্থেই প্রয়োজন।”

    আইসিসির ভূমিকা

    ভারত-পাকিস্তান (India Vs Pakistan) ম্যাচের আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ম্যাচ ইতিমধ্যেই রেকর্ড ভিউয়ারশিপ ও বিপুল রাজস্বের সম্ভাবনা তৈরি করেছে—যা শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটের ব্যবসায়িক দিককেই আবারও সামনে এনে দিচ্ছে। ক্রিকেটের উন্নতিতে এই ম্যাচ আয়োজনের জন্য যা করার করেছে আইসিসি। তবে, কোনও অনৈতিক দাবিকে প্রশ্রয় দেয়নি জয় শাহ-র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। আইসিসি-ও জানত, পাকিস্তান আসলে দেখানোর জন্য এই খেলা খেলছিল। তারা বাংলাদেশ ও সেখানকার জনতাকে খুশি করতে চাইছিল। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে। মহম্মদ ইউনূসের সরকার আসার পর থেকেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে ভারতের থেকে দূরে সরাতে চেষ্টা করছে। ভারতের বিরুদ্ধে টি২০ না খেলার কৌশলও সেই দিকেই ছিল। কিন্তু আইসিসির সামনে পাকিস্তানের কোনও জারিজুরি কিছুই কাজ করেনি। বহুপাক্ষিক আলোচনা, বন্ধুরাষ্ট্রগুলির অনুরোধ ও ক্রিকেটীয় চেতনার চাপ পাকিস্তানকে পিছু হটতে বাধ্য করে। আইসিসিতে ভারত স্পষ্ট অবস্থান নেয়। আইসিসিও বড় অঙ্কের জরিমানার হুমকি দেয়। শাস্তি এড়াতে পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে খেলতেই হতো। কিন্তু পাক প্রধানমন্ত্রী জনসমক্ষে এই ম্যাচ বয়কটের কথা বলেছিলেন, তাই মুখ-রক্ষার জন্য ঘুরিয়ে পথ দেখার চেষ্টা করল পাকিস্তান, অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

  • T20 World Cup 2026: শাস্তির ভয়েই মাথা নত পিসিবির! বয়কট-নাটক শিকেয় তুলে ভারতের সঙ্গে খেলতে রাজি পাকিস্তান

    T20 World Cup 2026: শাস্তির ভয়েই মাথা নত পিসিবির! বয়কট-নাটক শিকেয় তুলে ভারতের সঙ্গে খেলতে রাজি পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবারও নিজেদের শর্ত থেকে সরল পাকিস্তান। সীমান্ত হোক বা ক্রিকেটের ময়দান, পরাজয় নিশ্চিত জেনেও বারবার একই পথে পা বাড়ায় পাক-সরকার। নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করার মরিয়া চেষ্ট করে পাকিস্তান। ফের একবার তার প্রমাণ মিলল। যাবতীয় নাটকের অবসান ঘটিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হল পাকিস্তান।(India Pakistan) সোমবার রাতে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকার। এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয় সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির। বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাক সরকার জানিয়েছে, বন্ধু দেশগুলোর অনুরোধে ও ক্রিকেটের স্বার্থে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে বাবর আজমরা। তবে, ক্রিকেট মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল সকলেই জানে আসল সত্য। আইসিসি-র চাপের মুখেই পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। এক কথায় বিনা শর্তেই ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে হবে তাদেরকে। পিসিবি প্রধানের পেশ করা তিন শর্তই খারিজ করেছে আইসিসি।

    আট দিনে সিদ্ধান্ত বদল সরকারের

    টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার ব্যাপারে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ছাড়পত্র দিয়ে দিল সেই দেশের সরকার। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে সরকারের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, টি২০ বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে পাকিস্তান। এ দিন রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয় সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির। তিনি আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে রবিবার রাতে হওয়া বৈঠকের ব্যাপারে জানান শরিফকে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফেও পাকিস্তানকে অনুরোধ করা হয়েছিল ভারত ম্যাচ খেলার জন্য। একই অনুরোধ এসেছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং শ্রীলঙ্কা থেকেও। এই অনুরোধের পর পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আলোচনার নির্যাস এবং বন্ধু দেশগুলির অনুরোধের পর পাকিস্তান সরকার সে দেশের ক্রিকেট দলকে ভারতের বিরুদ্ধে ‘মাঠে নামার’ নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটের সংস্কৃতিকে রক্ষা করা এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে ক্রিকেট কে আরও বেশি করে জনপ্রিয় করে তোলার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    পাকিস্তানের তিন শর্তই খারিজ

    ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার জন্য রবিবারের বৈঠকে মোট পাঁচটি দাবি আইসিসির সামনে তুলে ধরে পিসিবি। মহসিন নকভিদের মূল তিনটি শর্তই খারিজ করে দিয়েছেন জয় শাহেরা। পিসিবির তিনটি প্রধান শর্ত ছিল—

    ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ: পাকিস্তানের দাবি ছিল, ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ যেন পুনরায় শুরু করা হয়। আইসিসি এই প্রস্তাব খারিজ করে জানায়, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন তাদের আওতায় পড়ে না, এমনকী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কাঠামোর মধ্যেও নয়।

    ত্রিদেশীয় সিরিজ: ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের কথা বলা হয়। আইসিসি এই প্রস্তাবও খারিজ করে জানায়, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের মতোই ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন তাদের আওতায় পড়ে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের বক্তব্য, দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে তাদের কোনও নির্দেশ দেওয়ার অধিকার নেই।

    ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর আয়োজনের দাবিও নাকচ করে আইসিসি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দাবি, এগুলি একদমই দুই দেশের বোর্ডের বিষয়। এখানে আইসিসি হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

    মুখরক্ষার পথ

    পিসিবির দু’টি শর্ত মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন আইসিসি কর্তারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে বাংলাদেশকে যেন কোনওভাবেই শাস্তি না দেওয়া হয় এবং আইসিসি রাজস্বের পূর্ণ অংশ পায় বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্ত অবশ্য আইসিসি আগেই স্বাধীনভাবে নিয়ে ফেলেছিল। দ্বিতীয়ত, গত বছর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশকে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার দাবি তোলে পাকিস্তান। এমনকী, আগামী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে। রবিবার লাহোরে মুখোমুখি বসেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। সেখানে মূলত এই নিয়েই আলোচনা হয়। এরপর, সোমবার ঢাকায় এক বিবৃতিতে বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম (Aminul Islam) পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, মাঠে নামার অনুরোধ করেন। “ক্রিকেটের স্বার্থে পাকিস্তানকে ম্যাচটি খেলতে অনুরোধ করছি।” আসলে পাকিস্তানের জন্য এটিই ছিল মুখরক্ষা করার পথ। কারণ পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ভারত ম্যাচ বয়কট করবে পাকিস্তান। তাই আমিনুলের চিঠি পাকিস্তানের অবস্থান বদলের আড়াল তৈরি করল, এমনই মত বিশেষজ্ঞদের। শেষমেশ বহুপাক্ষিক চাপেই পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পাল্টাল।

    পাকিস্তানের ভয়

    পাকিস্তান এমনিতেই আত্মসমর্পণ করত, তবে বলা হচ্ছে—বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বোঝানোর পরই পাকিস্তান সরকার বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে। যদিও আসলে ভয় পেয়েছিল পাকিস্তান। আইসিসির কঠোর শাস্তির আশঙ্কা করেছিল পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একঘরে হয়ে পড়ার ভয় ছিল তাদের মধ্যে। ভারতের সঙ্গে না খেললে বড় রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করছিল পিসিবি। বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টে অনুপস্থিত থাকলে ভাবমূর্তি আরও খারাপ হতে পারত। তাই শেষ পর্যন্ত ইউ-টার্ন পাকিস্তানের।

  • T20 World Cup 2026: ভারত-পাক ম্যাচ বয়কট, নকভির নয়া রাজনীতি! বাংলাদেশ নির্বাচন শেষে ইউ-টার্ন নিতে পারে পিসিবি?

    T20 World Cup 2026: ভারত-পাক ম্যাচ বয়কট, নকভির নয়া রাজনীতি! বাংলাদেশ নির্বাচন শেষে ইউ-টার্ন নিতে পারে পিসিবি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারত-পাক ম্যাচ (India vs Pakistan)বয়কট নিয়ে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। তাই কূটনৈতিক ফায়দা তুলে বাংলাদেশের নির্বাচন মিটলেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত-ম্যাচ নিয়ে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারেন মহসিন নকভি। ভারত-ম্যাচ বয়কটের নেপথ্যে পাকিস্তান ক্রিকেটের স্বার্থের থেকে বেশি রয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার কৌশল। এমনই দাবি খোদ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এক কর্তার। মহসিন নকভি তো ক্রিকেট প্রশাসকের থেকেও আগে একজন রাজনীতিবিদ। জাতীয় দলকে নিয়ে বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নন নকভি, এমনই মত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিসিবির এক কর্তার।

    পিসিবির একাংশ ক্ষুব্ধ

    ভারত-ম্যাচ বয়কট নিয়ে পিসিবির একাংশ ক্ষুব্ধ। এই সিদ্ধান্ত বুঝে শুনে পাক ক্রিকেটকে বিপদে ফেলে দেওয়ার মতো। সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে উপমহাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ। বাংলাদেশের নির্বাচন মিটে গেলেও পিসিবি চেয়ারম্যান মত বদলে ফেলতে পারেন বলে মনে করছে পিসিবি কর্তাদের একাংশ। ওই কর্তা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘নকভি যতটা ক্রিকেট প্রশাসক তার চেয়েও বেশি রাজনীতিবিদ। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী। উপমহাদেশের রাজনীতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। পাকিস্তানের জাতীয় দলের উন্নতি নিয়ে উনি খুব একটা আন্তরিক নন। বরং বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বেশি আগ্রহী। নির্বাচনের আগে পাকিস্তান মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের পাশে থাকতে চাইছে। এই সুযোগে নকভি নিজের নম্বর বাড়িয়ে নিতে চান। বাংলাদেশের নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি। ভারত-পাক ম্যাচ ১৫ ফেব্রুয়ারি। মাঝে দু’দিন থাকবে। তার মধ্যে নকভি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারেন। না খেললে পাকিস্তানকে আইসিসি বহিষ্কার করতে পারে। সেই ঝুঁকি না-ও নিতে পারেন তিনি।’’

    বিক্ষুব্ধ পাক ক্রিকেটাররাও

    পিসিবির ওই কর্তা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে জরিমানার কথা বলা হচ্ছে। বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী সংস্থাকে দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। এ সবের বিরুদ্ধে ডিআরসিতে গেলেও লাভ হবে না বলেও জানানো হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, পিসিবির দাবি মেনে নিরপেক্ষ দেশে ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। ভারতের মাটিতে খেলতে না চাওয়ার দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তার পরও সরকারের নির্দেশে ভারত-ম্যাচ না খেললে চুক্তিভঙ্গ হবে। আইসিসির বিপুল আর্থিক ক্ষতির দায় পাকিস্তানকেই নিতে হবে।’’ পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বকাপ নিয়ে বৈঠক করার আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গেও আলোচনা করেননি নকভি। যা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে সলমন আলি আঘাদের মধ্যেও।

    কলম্বোয় যাবে ভারতীয় দল

    পিটিআইয়ের রিপোর্টের এই দাবি কিন্তু সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। পাকিস্তান সেই ম্যাচ খেলুক বা না খেলুক, ভারত কিন্তু এমনিও সেই ম্যাচের জন্য শ্রীলঙ্কায় সফর করবে। নিয়ম কিন্তু তাই দাবি করছে। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ভারতকে সেদিন নিয়মমত মাঠে পৌঁছতে হবে। এমনকী সূর্যকুমারকে টস করতেও নামতে হবে মাঠে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যদি পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা মাঠে না থাকেন। তাহলে তখন ম্যাচ রেফার সেই ম্যাচ ওয়াকওভার ঘোষণা করবেন। আর ভারত পয়েন্ট ঝুলিতে পুরে নেবে। অর্থাৎ পাকিস্তান শুধু বয়কট করে দিল বলেই যে পয়েন্ট ঢুকে যাবে ভারতের ঝুলিতে, তা কিন্তু নয়। টিম ইন্ডিয়াকে কলম্বোয় পৌঁছতে হবে ও মাঠেও নামতে হবে। বিসিসিআইয়ের সূত্র মারফতও জানা গিয়েছে যে ভারত ১৫ ফেব্রুয়ারির সেই ম্যাচের আগে যথারীতি অনুশীলন, সাংবাদিক বৈঠক সারবে এবং ম্যাচের দিনও মাঠে উপস্থিত থাকবেন সূর্যকুমার যাদবরা। ফলে পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলালে ম্যাচ আয়োজিত হতেই পারে।

  • T20 World Cup 2026: ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে বড় অঙ্কের জরিমানা! পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট নিয়ে কড়া বার্তা আইসিসির

    T20 World Cup 2026: ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে বড় অঙ্কের জরিমানা! পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট নিয়ে কড়া বার্তা আইসিসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০২৬ (T20 World Cup 2026) ভারতের (India) বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারির গ্রুপ ম্যাচ খেলতে রাজি নয় পাকিস্তান। পাক সরকারের এই নির্দেশ জারি হতেই সরব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। প্রকাশ্যে তাদের প্রশ্ন, বেছে বেছে ম্যাচ না খেলা, আইসিসি ইভেন্টে অসম্ভব। এটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে করা যায় না! এরকম করলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে জানায় আইসিসি। পাকিস্তানকে বড় অঙ্কের জরিমানাও দিতে হতে পারে।

    সব দলকে সমান শর্তে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হয়

    রবিবার বিকেলে পাকিস্তানের তরফে খবরটি সামনে আসে এবং রাতের মধ্যেই বিবৃতি দেয় আইসিসি। কাউন্সিলের স্পষ্ট বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) কাছ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে পাকিস্তান সরকারের বিবৃতি লক্ষ্য করার পর তারা অবস্থান স্পষ্ট করছে। জানানো হয়, “সকল যোগ্য দলকে সমান শর্তে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হয়। সিলেকটিভ পার্টিসিপেশন (Selective Participation) বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মৌলিক ধারণার সঙ্গে যায় না।” পাকিস্তানের এই হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টিকে খুব একটা ভালভাবে নেয়নি আইসিসি। দেওয়া হয়েছে কড়া হুঁশিয়ারিও। কাউন্সিলের ভাষায়, “আমরা সরকারি নীতিকে সম্মান করি ঠিকই, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেট এবং বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটভক্তদের, এমনকি পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ সমর্থকেরও স্বার্থের পরিপন্থী। আইসিসি টুর্নামেন্ট স্পোর্টিং ইন্টেগ্রিটি (Sporting Integrity), ন্যায্যতা এবং ধারাবাহিকতার ওপর দাঁড়িয়ে। কোনও ম্যাচে না নামা এই ভিত্তিকে দুর্বল করবে।”

    পাক সরকারে অবান্তর ইচ্ছা

    আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) পাকিস্তানের অংশগ্রহণ করা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সোমবারই ঘোষণা করা হবে। তবে তার আগে সপ্তাহান্তে পাকিস্তান সরকারের (Pakistan government) তরফে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ খেলার জন্য শ্রীলঙ্কায় সফর করার অনুমতি দেওয়া হলেও, জানানো হয় তাঁরা ভারতের বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ বয়কট করছে। দিনকয়েক আগে বাংলাদেশ নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ভারত থেকে তাঁদের ম্যাচ সরানোর দাবি করেছিল। সেই সময়ে পাকিস্তানই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশকে শেষমেশ বিশ্বকাপ থেকে ছাঁটাই করা হলে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় তৈরি হয়। পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলবে কি না, সেই নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি এক বৈঠক সারেন। সেই বৈঠকের পরেই না না রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছিল যে পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেললেও ভারতের ম্যাচ তারা বয়কট করবে কি না, সেই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্য়মে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের কথাজানায় শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান সরকার। তবে পিসিবি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাকে এখনও এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে লিখিতভাবে কিছু জানায়নি বলেই শোনা যাচ্ছে।

    দায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও

    টুর্নামেন্টে ভারত-পাক ম্য়াচ না হলে আইসিসির কিন্তু বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ যে কোনও ক্রিকেট টুর্নামেন্টেরই সবচেয়ে বেশি দরাদরি ও ভিউয়ারশিপ–নির্ভর ম্যাচ। বাতিল হলে টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক মান—দুই–ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি খেলার মতো সেক্টরে শুধুমাত্র একটি দেশের বিরুদ্ধে মাঠে না নামা মোটেও ভাল বার্তা দেবে না। সব বিবেচনা করে আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য একটাই—টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে আয়োজন। এর দায়িত্ব সব সদস্য দেশের, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডেরও।

  • T-20 World Cup: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ‘বিতাড়িত’! বাংলাদেশ ক্রিকেটকেও খাদের কিনারে আনল ইউনূস প্রশাসন

    T-20 World Cup: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ‘বিতাড়িত’! বাংলাদেশ ক্রিকেটকেও খাদের কিনারে আনল ইউনূস প্রশাসন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ ক্রিকেট বর্তমানে এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে, এখান থেকে ফেরা সহজ নয়। ভারত-বিদ্বেষে অন্ধ কট্টরপন্থীদের তোয়াজ করতে গিয়ে দেশের ক্রিকেটকে গাঢ়় অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। টি-২০ বিশ্বকাপ শুধুই একটি টুর্নামেন্ট নয়, আইসিসি-র-র এমন একটি মঞ্চ, যেখানে ক্রিকেট বিশ্বে একটি দেশের, একটি দলের ভবিষ্যত্‍ তৈরি হয়। আর সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ‘বিতাড়িত’ বাংলাদেশ। তাদের পরিবর্ত হিসেবে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দিল আইসিসি। ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসা নিয়ে নিজেদের জেদ বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। একাধিক বৈঠক, আল্টিমেটামের পরেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে জাতীয় দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তাই বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হল না। টুর্নামেন্টের মূল তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়ে গ্রুপ ‘সি’ তে জায়গা দেওয়া হল স্কটল্যান্ডকে। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ইমেল পাঠিয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    আইসিসি-র প্রোটোকল ভঙ্গ

    টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে আলোচনার পর বিসিবির অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় আইসিসি শেষ পর্যন্ত বিকল্প পথ বেছে নেয়। বিসিবির পক্ষ থেকে আইসিসির ‘ডিসপিউট রেজোলিউশন’ কমিটির কাছে আপিল করা হলেও কমিটি জানিয়ে দেয়, এ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার ক্ষমতা তাদের নেই। আইসিসির এক গোপন সূত্র জানায়, নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইনের মধ্যে বিসিবি আনুষ্ঠানিক ভাবে জানায়নি দল ভারত সফর করবে কি না। উল্টে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে অবস্থান জানানোর কারণে প্রোটোকল ভঙ্গ হয়েছে এ অভিযোগও উঠে আসে। ফলে আইসিসি আর অপেক্ষা না করে বিকল্প দল নির্ধারণের পথেই হাঁটে।

    এই সিদ্ধান্ত সংগঠনিক

    বিসিবি চূড়ান্তভাবে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে বিশ্বকাপে ভারত সফর না করার কথা জানায়। এর ফলে সময় নষ্ট না করে স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। টুর্নামেন্ট শুরু ১৫ দিনেরও কম সময় বাকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত সংগঠনিক দিক থেকেও অনেকটাই সুবিধাজনক বলে মনে করেন আইসিসি কর্তারা। আরও একটি ঘটনা বড় প্রভাব ফেলেছে এ ক্ষেত্রে। আইসিসি-কে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানোর আগেই ঢাকায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সেখানেই বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামও জানান, তাঁরা বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই খেলতে চান। এই ঘটনার ফলে আইসিসি-র নিয়ম ভঙ্গ করে বাংলাদেশ। সে কারণেই কড়া পদক্ষেপ আইসিসি-র। বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশ্বকাপ থেকে তাদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে। স্কটল্যান্ডকেও জানানো হয়েছে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার কথা।

    বাংলাদেশের সূচি অনুযায়ী খেলবে স্কটল্যান্ড

    স্কটল্যান্ড সরাসরি বাংলাদেশের সূচি অনুযায়ী গ্রুপ ‘সি’তে খেলবে। তাদের প্রথম ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি। ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে নেপালের বিপক্ষে খেলবে ইউরোপের প্রতিনিধিরা। যোগ্যতা অর্জনের মানদণ্ডে স্কটল্যান্ডই ছিল সবচেয়ে এগিয়ে আইসিসি টি ২০ র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে এখনো বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়া দলগুলির মধ্যে তাদের অবস্থান ছিল সর্বোচ্চে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও পূর্ণ সদস্যদের বিরুদ্ধে স্কটল্যান্ডের লড়াকু ধারাবাহিকতা আইসিসির সিদ্ধান্তকে আরও যুক্তিযুক্ত করে।

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যত

    ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বল গড়াবে। তার আগে বাংলাদেশের ভেন্যু নিয়ে চলছিল টালবাহানা। নিরাপত্তার আশঙ্কায় ভারতে না খেলার ব্যাপারে অনড় ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলও ছাড় দেয়নি বাংলাদেশকে। আইসিসিও বাংলাদেশের ভেন্যু ভারত থেকে সরাতে নারাজ ছিল। আইসিসি বোর্ডের সভায় ভোটাভুটিতে হারও মেনেছিল বাংলাদেশ। বুধবার আইসিসি একপ্রকার আলটিমেটাম দিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ যদি ভারতের মাটিতে এসে না খেলে তাহলে তাদের পরিবর্তে বিশ্বকাপে ঢুকে যাবে স্কটল্যান্ড। আদতে তাই হল। বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের!

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের কী হবে

    ক্রিকেটে নিজেদের রাজনৈতিক ও কট্টরপন্থী অ্যাজেন্ডাকে চরিতার্থ করতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের গাঢ় অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল বিসিবি। ইউনূস সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বে মশগুল হয়ে বিসিবি-কে বলে দিল, ভারতে গিয়ে খেলা যাবে না। বিসিবি-রও হাত-পা বাঁধা। প্লেয়ারদের কী হবে? বাংলাদেশ ক্রিকেটের কী হবে? বাংলাদেশ এখনও পর্যন্ত কোনও আইসিসি টুর্নামেন্ট ট্রফি জেতেনি। ২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে ঠাঁই পেয়েছিল জগমোহন ডালমিয়ার (তত্‍কালীন আইসিসি সভাপতি) দয়ায়। টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট মানে বাংলাদেশের ক্রিকেট অর্থনীতিতে বিরাট ক্ষত। স্পনসররা বিদায় নেবে, র‍্যাঙ্কিং পড়ে যাবে, ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টগুলিও অনিশ্চিত।

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের আত্মহত্যা!

    সবচেয়ে বড় আঘাত হল, ২০৩১ সালে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করার কথা। সেই স্বপ্নও চুরমার হয়ে গেল। বেসিক্যালি, বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কবর দেওয়ার সব রকম বন্দোবস্ত করে ফেলল ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিতর্কের আবহ ২০৩১ সালের একদিনের বিশ্বকাপ পর্যন্ত গড়াতে পারে। এই আশঙ্কা আইসিসি-র কর্তাদেরই। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চের কোনও ব্যাক আপ হয় না। বাংলাদেশের সিনিয়র ক্রিকেট সাংবাদিক শান্ত মাহমুদের সতর্কবার্তা, বয়কটের সিদ্ধান্ত ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা এবং কেরিয়ারের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, এত বড় মাপের একটি প্রতিযোগিতায় অংশ না নিতে পারলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং কেরিয়ারের অগ্রগতিও থমকে যেতে পারে। বিশ্ব ক্রিকেটে স্থান পাওয়া কঠিন, কিন্তু হারানো খুব সহজ। বাংলাদেশ বর্তমানে সেই প্রান্তে দাঁড়িয়ে। যদি বাংলাদেশের কাছ থেকে বিশ্বকাপের আয়োজনও হাতছাড়া হয় , তাহলে তা খেলার কাছে নয়, রাজনীতির কাছে হারা হবে।

LinkedIn
Share