Tag: imf

imf

  • BRICS: একতরফা নিষেধাজ্ঞা বন্ধের আহ্বান ব্রিকসের, সুরক্ষাবাদী নীতিতে উদ্বেগ

    BRICS: একতরফা নিষেধাজ্ঞা বন্ধের আহ্বান ব্রিকসের, সুরক্ষাবাদী নীতিতে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Unilateral Sanctions) অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকসের (BRICS) সদস্য দেশগুলি। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সুরক্ষাবাদী নীতিতেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জোটটি। ব্রিকসের নেতাদের আশঙ্কা, নির্বিচারে শুল্ক বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব বাণিজ্য বাধার নামে আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির ক্ষতি করছে।

    নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র (BRICS)

    নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে নেতারা বলেন, বিশ্বব্যাপী বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। বিভিন্ন দেশ ক্রমশ এমন সব বাণিজ্য-নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের পরিপন্থী।

    ব্রিকসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হঠাৎ করে শুল্ক বৃদ্ধি, শুল্ক-বহির্ভূত বাণিজ্য বাধা এবং পরিবেশগত পদক্ষেপের আড়ালে সুরক্ষাবাদী বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে, দেশগুলির মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য আরও গভীর করছে এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

    বিশ্ববাজারকে সুরক্ষিত রাখতে ব্রিকস দেশগুলি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে বাণিজ্যগত অস্থিরতার প্রতি আরও কার্যকর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থনৈতিক ও উন্নয়নগত প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে ঘোষণাপত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন বা ম্যান্ডেটের বাইরে আরোপিত একতরফা ও গৌণ নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। ব্রিকস নেতাদের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘের সনদের পরিপন্থী।

    নেতারা আরও উল্লেখ করেন, একতরফাভাবে আরোপিত এসব বিধিনিষেধ সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

    উন্নয়নশীল দেশগুলির অংশীদারিত্ব ক্রমশ বাড়ছে

    বিশ্ব অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস (BRICS)। ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধিতে উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির অংশীদারিত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    এই পরিস্থিতিতে ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের দাবি জানিয়েছে ব্রিকস। এসব প্রতিষ্ঠানকে আরও দ্রুত কার্যকর, দক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্দেশ্যোপযোগী, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রতিনিধিত্বশীল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে বর্তমানের যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে, সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন যাতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলির পরিচালন কাঠামোয় দেখা যায়, তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

    ব্রিকসের পক্ষ থেকে এও বলা হয়েছে, ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠানগুলিতে উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলির কণ্ঠস্বর এবং প্রতিনিধিত্ব বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে আরও বেশি আঞ্চলিক বৈচিত্র্য এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস। একটি আরও শক্তিশালী, উন্মুক্ত, ন্যায্য, স্বচ্ছ, সুবিচারপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, পূর্বানুমানযোগ্য এবং নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকেই রাখার কথা বলা হয়েছে।

    ব্রিকস অবিলম্বে কার্যকর, সহজলভ্য এবং সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় দুই-স্তরবিশিষ্ট বাধ্যতামূলক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি, আর কোনও বিলম্ব না করে আপিল সংস্থার নতুন সদস্য নিয়োগেরও দাবি জানানো হয়েছে।

    নয়াদিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অষ্টাদশ ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এবারের সম্মেলনের থিম হল স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের ভিত্তিতে (Unilateral Sanctions) ভবিষ্যৎ নির্মাণ।

     

  • UPI: দশ বছর পূর্ণ করল ইউপিআই, লেনদেনের পরিমাণ কত বেড়েছে জানেন?

    UPI: দশ বছর পূর্ণ করল ইউপিআই, লেনদেনের পরিমাণ কত বেড়েছে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল ইউপিআই (UPI)। ২০১৬ সালের ২৫ অগাস্ট ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালে পূর্ণ করল দশ বছর। এক দশকের মধ্যেই ইউপিআই ভারতের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে (PM Modi)। একই সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে যেখানে মাত্র ১ কোটি ৭৮ লাখ  লেনদেন হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৬২ কোটিরও বেশি। অর্থাৎ মাত্র এক দশকের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যায় প্রায় ১৩ হাজার গুণ বৃদ্ধি ঘটেছে। ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এই বিপুল সম্প্রসারণ ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।

    ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন (UPI)

    শুধু লেনদেনের সংখ্যা নয়, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্যও গত দশ বছরে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মূল্য ছিল মাত্র ০.০৭ লাখ  কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩১৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ লেনদেনের আর্থিক মূল্যে চার হাজার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য, ইউপিআই এখন ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের পরিকাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। একই সঙ্গে এটি এমন একটি তাৎক্ষণিক ও পারস্পরিক সংযুক্ত অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে একটি মাত্র প্রয়োগের সাহায্যে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির এবং ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর মধ্যে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে ইউপিআই অর্থপ্রদানের অন্যতম পছন্দের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দোকানে কেনাকাটা, পরিষেবার মূল্য মেটানো, ব্যক্তিগতভাবে টাকা পাঠানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার ক্রমশ বেড়েছে। এর ফলে নগদ অর্থের উপর নির্ভরতা কমেছে এবং দ্রুত, সহজ ও তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কী বলছে অর্থমন্ত্রক

    অর্থমন্ত্রকের দাবি, ইউপিআই শুধু শহরাঞ্চলের মানুষের জীবনকে সহজ করেনি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার সুযোগ বাড়িয়েছে। প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমিয়ে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়ে এটি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করেছে। এর ফলে অর্থনীতিতে বৃহত্তর মানুষের অংশগ্রহণের পথও আরও প্রশস্ত হয়েছে। ইউপিআইয়ের (UPI) সাফল্য এখন শুধু ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল অর্থপ্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবেও এটি আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে ১১টি দেশে ইউপিআই কার্যকর রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, কাতার, কম্বোডিয়া, গ্রিস এবং মালদ্বীপে এর ব্যবহার চালু হয়েছে। ফলে ভারতের তৈরি এই ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ক্রমশ পক্ষ্ম বিস্তার করছে (PM Modi)।

    ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতা

    বিশ্বব্যাপী ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতাও ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ইউপিআইকে লেনদেনের পরিমাণের নিরিখে বিশ্বের বৃহত্তম তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণে ভারতের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের লেনদেনের প্রায় ৪৯ শতাংশই ইউপিআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের বিস্তার এবং ইউপিআইয়ের আন্তর্জাতিক গুরুত্বের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি দেখায়, কীভাবে একটি দেশীয় ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।

    অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য

    আকাশবাণীর এক প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে (UPI) জানানো হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ইউপিআইয়ের লেনদেনের পরিমাণ এবং আর্থিক মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০১৬ সালে চালু হওয়ার সময় যে ব্যবস্থা ছিল সীমিত পরিসরের, দশ বছর পরে সেটিই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউপিআইয়ের সাফল্যের অন্যতম কারণ হল এর সহজ ব্যবহারযোগ্যতা। সাধারণ মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠাতে বা গ্রহণ করতে পারছেন। ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় প্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন স্তরের ব্যবহারকারীর কাছে এই ব্যবস্থা পৌঁছে যাওয়ায় ডিজিটাল লেনদেনের পরিধিও দ্রুত বেড়েছে (PM Modi)।

    ডিজিটাল লেনদেন

    ইউপিআইয়ের (UPI) বিস্তার ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আগে ব্যাংকিং পরিষেবা থেকে দূরে থাকা বহু মানুষ এখন মোবাইলভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়ছে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসা, খুচরো বিক্রি এবং দৈনন্দিন পরিষেবার ক্ষেত্রে ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবহার বাড়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের মতে, ইউপিআইয়ের ব্যাপক পরিসর, নির্ভরযোগ্যতা এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ভারতের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম সফল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। একদিকে যেমন এটি কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে সহজ করেছে, অন্যদিকে তেমনই ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ইউপিআইয়ের উত্থান

    দশ বছর আগে যে ব্যবস্থা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা এখন দেশের আর্থিক লেনদেনের অভ্যাসই বদলে দিয়েছে। লেনদেনের সংখ্যা থেকে আর্থিক মূল্য, ব্যবহারকারীর পরিধি থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইউপিআইয়ের (UPI) উত্থান উল্লেখযোগ্য। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে এর ব্যবহার আরও বাড়লে ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের এই মডেল বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, দশ বছরে ইউপিআইয়ের যাত্রা শুধু একটি ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার সাফল্যের গল্প নয়। এটি ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক রূপান্তর, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের ১ কোটি ৭৮ লাখ লেনদেন থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৪ হাজার ১৬২ কোটিরও বেশি লেনদেনে পৌঁছে যাওয়া সেই (PM Modi) পরিবর্তনেরই পরিসংখ্যানগত প্রমাণ। আর ৩১৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি বার্ষিক লেনদেনের মূল্য দেখিয়ে ইউপিআই ইতিমধ্যেই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে ক্রমশ নিজের অবস্থান পোক্ত করেছে (UPI)।

     

  • Pakistan: সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি ভারত, পাকিস্তানের ঘাড়ে দ্বিগুণ খরচের বোঝা

    Pakistan: সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি ভারত, পাকিস্তানের ঘাড়ে দ্বিগুণ খরচের বোঝা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের (Pakistan) জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। কারণ, ভারত এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকার করায় শুধু নিজের নয়, ভারতের ভাগের (Indus Waters Treaty) খরচও বহন করতে হচ্ছে ইসলামাবাদকেই। একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা চালাতে ইতিমধ্যেই ছ’লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় করে ফেলেছে পাকিস্তান। শুনানি যত এগোবে, খরচের বহর আরও বাড়বে। যদিও ভারত প্রথম থেকেই এই সালিশি ট্রাইব্যুনালের এক্তিয়ার মেনে নেয়নি, অংশও নেয়নি কোনও শুনানিতেই।

    বিতর্কের সূত্রপাত (Pakistan)

    বিতর্কের সূত্রপাত ভারতের কিষানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে। এর পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র হয়। সিন্ধু জলচুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান অনুযায়ী, সালিশি প্রক্রিয়ার ব্যয় সমানভাবে বহন করার কথা ভারত ও পাকিস্তানের। কিন্তু ভারত সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও পাকিস্তান একাই মামলা চালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেয়। ফলে সালিশি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ইসলামাবাদকে মেটাতে হচ্ছে দুই দেশেরই ব্যয়ের অংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের এই ধরনের মামলায় সাধারণত প্রতিটি দেশের গড় ব্যয় প্রায় তিন লাখ মার্কিন ডলার। ভারত কোনও অর্থ না দেওয়ায় পাকিস্তানের মোট ব্যয় ইতিমধ্যেই ছ’লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে এবং শুনানি চলতে থাকলে খরচের অঙ্ক আরও বাড়বে।

    পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতের সাফ কথা

    বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে কিষানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা। পাকিস্তানের অভিযোগ, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলিতে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পগুলি সিন্ধু জলচুক্তির বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করছে। সেই কারণেই তারা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হয় (Pakistan)। এদিকে, ভারতের দাবি, এই ধরনের প্রযুক্তিগত বিরোধের নিষ্পত্তি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে হওয়া উচিত, সালিশি আদালতের মাধ্যমে নয়। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং সালিশি আদালতে একযোগে একই বিষয়ের শুনানি হওয়া চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামোর পরিপন্থী বলেও ভারতের বক্তব্য। নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়া চলাকালীন ২০২৩ সাল থেকেই পাকিস্তানের উদ্যোগে শুরু হওয়া সালিশি প্রক্রিয়া বয়কট করে আসছিল ভারত। পরে পহেলগাঁও হামলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করে এবং সালিশি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমস্ত সহযোগিতা করাও বন্ধ করে দেয়। ভারত সরকারের অবস্থান, পাকিস্তান যত দিন না বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করছে, তত দিন পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে। একই সঙ্গে ভারত এই সালিশি ট্রাইব্যুনালকে “অবৈধভাবে গঠিত” বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, এর যে কোনও সিদ্ধান্তই “অকার্যকর ও বাতিল” (Indus Waters Treaty)।

    আন্তর্জাতিক সালিশি বিধি

    ভারত অংশ না নিলেও আন্তর্জাতিক সালিশি বিধি অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করে যে তাদের এক্তিয়ার রয়েছে, তবে শুনানি চালিয়ে যেতে পারে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ট্রাইব্যুনাল জানায়, পাকিস্তানের মামলার শুনানি করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং সিন্ধু জলচুক্তিতে একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত রাখার কোনও সুযোগ নেই। এর পর থেকে অন্তত আটটি শুনানি হয়েছে, যার প্রতিটিই ভারত বয়কট করেছে।২০২৫ সালের ৮ অগস্ট প্রকাশিত সিন্ধু জলচুক্তির সাধারণ ব্যাখ্যা সংক্রান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, আদালত গঠনের প্রক্রিয়ায় ভারত অংশ নেয়নি, কোনও বৈঠকেও উপস্থিত ছিল না এবং সালিশি প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ চাওয়া অর্থও জমা দেয়নি (Pakistan)। পরে ২০২৬ সালের ১৫ মে সর্বাধিক জলাধার ধারণক্ষমতা সংক্রান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, চূড়ান্ত রায় ঘোষণার সময়ই মামলার ব্যয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।শুধু সালিশি আদালতই নয়, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়া থেকেও পরে সরে দাঁড়ায় ভারত। প্রথমদিকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ভারত ওই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল এবং নিজের ব্যয়ের অংশও বহন করেছিল। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রক্রিয়াও স্থগিত রাখার আবেদন জানায় (Indus Waters Treaty)।

    পাকিস্তানের ঘাড়ে দেনার বোঝা

    এর পর ২০২৫ সালের নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের বৈঠক-সহ পরবর্তী কার্যক্রম থেকেও ভারত দূরে থাকে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা পাকিস্তানকেই বহন করতে হয়েছে। এই বিপুল ব্যয় এমন একটা সময় বাড়ছে, যখন পাকিস্তান এখনও বিদেশি আর্থিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের বর্ধিত ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ১৯৫০ সালে সদস্য হওয়ার পর এটি পাকিস্তানের ২৫তম ঋণ কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে পাকিস্তানের অর্থনীতি ৩.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৭.২ শতাংশ। পাশাপাশি সংস্থাটির কাছে পাকিস্তানের বকেয়া ঋণের পরিমাণও ৯০০ থেকে ১,০০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ (Pakistan)। তবে এত সব ব্যয় সত্ত্বেও ভারতের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই ট্রাইব্যুনালকে মানে না, এর কোনও রায়কে বৈধ বলে মনে করে না এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে। ফলে দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায়, সালিশি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে চাইলে আগামী দিনেও (Indus Waters Treaty) সম্পূর্ণ আর্থিক বোঝা পাকিস্তানকেই বহন করতে হতে পারে। যার জেরে আরও গাড্ডায় পড়বে শাহবাজ শরিফের দেশ (Pakistan)।

     

  • China Debt Crisis: আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে না, দেনায় ডুবে যাচ্ছে চিন!

    China Debt Crisis: আমেরিকাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে না, দেনায় ডুবে যাচ্ছে চিন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে চিন (China Economic)। এই ভবিষ্যদ্বাণী আদৌ বাস্তবসম্মত নয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে, কোভিড অতিমারির প্রথম ঢেউয়ের পর, ব্রিটিশ থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর ইকনোমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (Centre for Economics and Business Research) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে ২০২৮ সালের মধ্যে চিন আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে (Debt Nightmare)। সংস্থাটি জানিয়েছিল, অতিমারির মোকাবিলায় চিনের ‘দক্ষ’ ব্যবস্থাপনা আগামী বছরগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তুলনায় তাদের প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে দেবে।

    কী বলছে সেই সংস্থা? (China Economic)

    পাঁচ বছর পরে এখন সেই একই সংস্থা বলছে, আগামী আরও অন্তত ১৫ বছরের আগে চিনের পক্ষে মার্কিন অর্থনীতিকে ছাপিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চিন হয়তো কখনওই ওই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। কারণ তাদের অর্থনীতির সামনে রয়েছে গুচ্ছের পরিকাঠামোগত সমস্যা ও বাধা। গত সপ্তাহে বেজিংয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্যও দেখাচ্ছে, গতি হারিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।

    কমে গিয়েছে ভোক্তা-চাহিদা

    এপ্রিল মাসে শিল্প উৎপাদন বছরে মাত্র ৪.১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝির পর এটি সবচেয়ে দুর্বল বৃদ্ধি। খুচরো বিক্রি বেড়েছে মাত্র ০.২ শতাংশ, ২০২২ সালের পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থার উদাহরণ এটি। বছরের প্রথম চার মাসে স্থায়ী সম্পদ বিনিয়োগ কমেছে ১.৬ শতাংশ। এর প্রধান কারণ সম্পত্তি উন্নয়ন খাতে ১৩.৭ শতাংশ পতন। ২০২১ সালে যে রিয়েল এস্টেট বুম ছিল, অতিমারির পর তা মুখ থুবড়ে পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোটি কোটি চিনা নাগরিকের সঞ্চয়। তাই কমে গিয়েছে ভোক্তা-চাহিদা। কারণ অনেকেই এমন ফ্ল্যাটের ঋণে ডুবে রয়েছেন যে, তা বিক্রি করা যাচ্ছে না। আগে বাড়ির পরে গাড়ি কেনাটা ছিল চিনের মধ্যবিত্ত দের একটি বড় বিনিয়োগ ক্ষেত্র (China Economic)। কিন্তু এখন অনেকেরই গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই। মে মাসের শুরুতে চিনের গাড়ি নির্মাতারা জানিয়েছিলেন, যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রি বছরে কমেছে ২৫.৫ শতাংশ — টানা ষষ্ঠ মাসের পতন। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির প্রচুর গাড়ি বিক্রি হয়নি। তাদের প্রথম ত্রৈমাসিকের মুনাফা ৫৫ শতাংশ কমে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

    ড্রাগনের দেশে হ্রাস পেয়েছে চাহিদা

    দেং শিয়াওপিংয়ের ১৯৮০ সালের সংস্কার এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধানদের নীতির ফলে চিন কার্যত পরিণত হয়েছিল বিশ্বের কারখানায়। তাই কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসেন, সৃষ্টি হয় বিপুল কর্মসংস্থানের (Debt Nightmare)। ড্রাগনের দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও উদ্ভাবনের ওপর জোর দিয়েছেন। চিন এখন জাহাজ নির্মাণ, সৌর প্যানেল, উইন্ড টারবাইন, রোবোটিক্স ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো বহু ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রেও তারা এগিয়ে। তবে চিনের প্রবৃদ্ধি মূলত রফতানি-নির্ভর — আর এই মডেলই এখন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। দেশের ভেতরে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় চাহিদা হ্রাস পেয়েছে, যদিও পণ্যের দর সস্তা। মনে রাখতে হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৮০ শতাংশেরও বেশি চালিত করে। সেই তুলনায় ভারতে এই হার ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। গত বছর চিনে এর পরিমাণ ছিল মাত্রই ৫২ শতাংশ (China Economic)।

    আইএমএফের বক্তব্য

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার (IMF) জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সম্পত্তি সঙ্কট ও দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানুষের খরচ করার আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। আইএমএফ ২০২৬ সালের জন্য চিনের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪.৫ শতাংশ করেছে। চিনা সরকারও ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে — ৪.৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ (Debt Nightmare)। খবরে প্রকাশ, রফতানির জন্য চিন এখনও নতুন নতুন কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। গত বছর তাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১.১৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে এবং বিভিন্ন দেশ চিনের কাছে আমদানি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ যদি বৈশ্বিক মন্দা সৃষ্টি করে, তাহলে চিনা পণ্যের চাহিদা কমবে। ফলে শিল্পখাত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে ইতিমধ্যেই জিনপিংয়ের দেশে মূল্যহ্রাস শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে আরও কম দামে জিনিস পাওয়ার আশায় কেনাকাটা করছেন না চিনারা (China Economic)।

    চিনা অর্থনীতির সামনে আরও বড় সমস্যা

    চিনা অর্থনীতির সামনে আরও দু’টি বড় সমস্যা রয়েছে – একটি হল বাজেট ঘাটতি, অন্যটি জনসংখ্যা সঙ্কট। সরকারি হিসেবে চিনের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ শতাংশ। যদিও বিশ্লেষকদের দাবি, অন্যান্য গোপন বাজেট যোগ করলে তা পৌঁছে যায় ৯.১ শতাংশে। চিনের মোট ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৩০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে বলে অনুমান। ঋণের সুদ শোধের খরচ ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেড়েছে ৩৪১ শতাংশ।এদিকে, চিনা জনসংখ্যা দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। ১৯৪৯ সালের পর জন্মহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। আয়তনে এত বড় একটি দেশে গত বছর মাত্র ৭.৯২ মিলিয়ন শিশু জন্মেছে। আগামী দশকে চিনের জনসংখ্যা কমে যেতে পারে প্রায় ৬ কোটি। এতে ভোগব্যয় আরও কমবে, বাড়বে অর্থনৈতিক সঙ্কট (Debt Nightmare)।

    কমিউনিস্ট-শাসিত চিনেও শ্রমিক বিক্ষোভ!

    চিনের বিশাল তেল মজুত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ তাদের কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে এপ্রিল মাসে চিনের রফতানির পরিমাণ বেড়েছে ১৪.১ শতাংশ। এদিকে, তেল ও গ্যাসের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরে প্লাস্টিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক খেলনা কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, অনেকে আবার একেবারে ঝাঁপ ফেলে দিয়েছে। চাকরি খুইয়েছেন হাজার হাজার চিনা শ্রমিক (China Economic)। দক্ষিণ চিনে খেলনা কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভও দেখা গিয়েছে, যা চিনের মতো একটি নিয়ন্ত্রিত সমাজে বিরল নজির। চিন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তৈরি করছে ভবিষ্যতের পণ্য। নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাহিদা বাড়লে লাভবানও হতে পারে চিন (Debt Nightmare)। তবে যেহেতু চিনা অর্থনীতি রফতানি-নির্ভর, তাই বিদেশের বাজারে তাদের প্রবেশ করতেই হবে। সমস্যা হল, অনেক দেশই চিনকে ভালো চোখে দেখে না। আফ্রিকায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করলেও, সেখানে চিনকে নয়া ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এশিয়ান (ASEAN) দেশগুলিতেও চিনের সস্তা পণ্যের চাপে স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিনা কোম্পানিগুলি স্থানীয় কাঁচামাল কম ব্যবহার করে নিজেদের দেশ থেকে আমদানি করে। ফলে এসব দেশে চিনের (China Economic) বিরুদ্ধে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।

     

  • India GDP Ranking: বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিগুলির একটি ভারত, বলছে আইএমএফ

    India GDP Ranking: বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিগুলির একটি ভারত, বলছে আইএমএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অল্প সময়ের জন্য বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছিল ভারত। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের (IMF) ২০২৫–২৬ সালের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী ফের ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে ভারত। যদিও (India GDP Ranking) দেশটি এখনও বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া অর্থনীতিগুলির একটি। তবে এই অবস্থান পতনের পেছনে বড় কোনও অর্থনৈতিক কারণ নেই, এটি মূলত পরিসংখ্যানগত।

    আইএমএফের হিসেব (India GDP Ranking)

    আইএমএফের এপ্রিল ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক আউটলুক (World Economic Outlook) অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ৩.৯২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে ব্রিটেনের অর্থনীতি প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার এবং জাপানের ৪.৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে ভারতের জিডিপি ছিল ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ব্রিটেনের ৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি ছিল। তাহলে ভারতের অবস্থান কমল কেন? যদিও ভারতের জিডিপি টাকার হিসেবে ২০২৪ সালে ছিল ৩১৮ ট্রিলিয়ন। ২০২৫ সালে এটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৬.৫ ট্রিলিয়নে। ডলারের নিরিখে হিসেব করলে তাকে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়।

    অবমূল্যায়নের পূর্বাভাসও রয়েছে

    এই পতন ঘটেছে যদিও টাকার হিসেবে নামমাত্র বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৯ শতাংশ। পার্থক্যটি মূলত জিডিপি গণনার পদ্ধতিতে।আইএমএফ দেশগুলির জিডিপি ডলারের ভিত্তিতে র‍্যাঙ্ক (India GDP Ranking)করে। অর্থাৎ স্থানীয় মুদ্রার জিডিপিকে ডলারের বিনিময় হারের ভিত্তিতে রূপান্তর করা হয়। এই সময়ে টাকার মান ২০২৪ সালে প্রতি ডলারে ৮৪.৬ থেকে ২০২৫ সালে ৮৮.৫-এ নেমে এসেছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে আরও অবমূল্যায়নের পূর্বাভাসও রয়েছে। পরিসংখ্যান মন্ত্রক ২০২২–২৩ থেকে ২০২৩–২৪ পর্যন্ত চার বছরে নামমাত্র জিডিপি ২.৮ শতাংশ থেকে ৩.৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে সংশোধন করেছে, যা অর্থনীতির আকারকে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখিয়েছে (IMF)।

    আইএমএফের পূর্বাভাস

    বিনিময় হার পরিবর্তনের ফলে র‍্যাঙ্কিং প্রভাবিত হয়েছে। সম্প্রতি টাকা দুর্বল অবস্থায় ছিল, ডলারের মূল্যমানের প্রেক্ষিতে লেনদেন হয়েছে ৯৪–৯৫ টাকার মধ্যে। পরে ৯৩.৩৯-এ স্থিতিশীল হয়েছে। এর কারণ হল পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি। বিদেশি পুঁজির বহিঃপ্রবাহ এবং হেজিং খরচ বৃদ্ধিও টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ পাউন্ড তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় ব্রিটেন তার অবস্থান ধরে রেখেছে (India GDP Ranking)। আইএমএফের (IMF) পূর্বাভাস, এই অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। ২০২৬ সালে ভারত ষষ্ঠ স্থানে থাকবে (প্রায় ৪.১৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা ব্রিটেনের ৪.২৬ মার্কিন ডলার ট্রিলিয়নের নীচে। তবে ২০২৭ সালে ভারত আবার চতুর্থ স্থানে উঠবে (৪.৫৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার), টপকে যাবে ব্রিটেনকে।

    অর্থনীতিবিদদের অভিমত

    অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৮ সালে ভারত জাপানকে ছাড়িয়ে যেতে পারে (৫.০৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বনাম ৪.৭৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)। ২০৩১ সালের মধ্যে ভারত দৃঢ়ভাবে তৃতীয় স্থানে পৌঁছতে পারে (৬.৭৯  ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার), সেই সময় জাপান থাকবে ৫.১৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে এই ব্যবধান খুবই কম (ব্রিটেনের ক্ষেত্রে প্রায় ১১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, জাপানের ক্ষেত্রে মাত্র ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), ফলে ফল অনেকটাই নির্ভর করবে প্রবৃদ্ধি এবং মুদ্রার ওঠানামার ওপর।
    তবে র‍্যাঙ্কিংয়ে পরিবর্তন হলেও, আইএমএফের মতে, ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবেই থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি ৬.১৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে এবং তৃতীয় স্থানে (IMF) থাকা জার্মানির সঙ্গে ব্যবধান কমবে (India GDP Ranking)।

    জিডিপির বেস ইয়ারে পরিবর্তন

    জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকবে (৩৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২৭.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে জিডিপির বেস ইয়ার ২০১১–১২ থেকে ২০২২–২৩-এ পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে নতুন হিসেব অনুযায়ী অর্থনীতির আকার আগের তুলনায় ছোট দেখা যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ’২৬ অর্থবর্ষের জিডিপি পুরানো সিরিজে ৩৫৭ ট্রিলিয়ন টাকা থেকে নতুন সিরিজে ৩৪৫.৫ ট্রিলিয়ন টাকায় নেমে এসেছে। আইএমএফও তাদের পূর্বাভাস কমিয়েছে, ২০২৭ সালের জিডিপি অনুমান ৪.৯৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ৪.৫৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার করা হয়েছে।

     

  • War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    War In West Asia: জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চাপের মুখে পাকিস্তানের অর্থনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি (Fuel Shortage) সরবরাহ ও বাণিজ্যিক রুট ব্যাহত হওয়ায় ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তানের দুর্বল অর্থনীতি। দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশটি এখন পেট্রোল-ডিজেলের চরম সঙ্কটে পড়েছে। কারণ সংঘাতের প্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এই প্রণালী বন্ধ হওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় থমকে গিয়েছে। এর ফলে সারা দেশে পরিবহণ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে (War In West Asia)।

    বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা পাকিস্তানের ঘাড়ে (War In West Asia)

    এই সঙ্কট এমন একটা সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন পাকিস্তান বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা বহন করছে, এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করছে। হঠাৎ জ্বালানি সরবরাহে এই ব্যাঘাত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে। অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে জ্বালানির দামও বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। পাকিস্তান অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরব থেকে এবং সাধারণত এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়েই পাকিস্তানে পৌঁছয়।

    তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত

    যুদ্ধের কারণে প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তান সৌদি আরবের কাছে অপরিশোধিত তেল পাঠানোর বিকল্প পথ, বিশেষ করে লোহিত সাগর (Red Sea) রুট ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব ইতিমধ্যেই দেশের সর্বত্র দেখা গিয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের সঙ্কটের কারণে সারা দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত জ্বালানি সংগ্রহের জন্য মানুষ পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে রোজার মাসে যখন পারিবারিক ব্যয় এমনিতেই বেশি।

    তেল বাঁচাতে গুচ্ছের পদক্ষেপ

    সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। হরমুজ রুট বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী অনেক কার্গো জাহাজ করাচি বন্দরে আটকে পড়েছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় আমদানির জিনিসপত্র আসতে দেরি হচ্ছে (War In West Asia)। জ্বালানি সঙ্কট বাড়তে থাকায় পাকিস্তান সরকার জ্বালানি (Fuel Shortage) সাশ্রয় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মদিবস কমানো হয়েছে, বিশেষ করে সরকারি দফতরগুলিতে। কর্মীদের অনেককে বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ফুয়েল অ্যালাউন্স স্থগিত করা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের বহু স্কুলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ক্রমশ অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকছে।

    কমানো হল জ্বালানি বরাদ্দ

    সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দও কমানো হয়েছে। আগামী তিন মাস প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারি গাড়ি রাস্তায় চলবে না। বাকি গাড়িগুলির জ্বালানি কোটাও অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে নতুন সরকারি গাড়ি কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে (War In West Asia)। আর একটি বড় সিদ্ধান্ত হল রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কমানো। তাঁদের বেতন ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলা ও জনস্বার্থ রক্ষার জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Fuel Shortage)।

    বেতনে কোপ

    সরকার আরও জানিয়েছে, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা দু’মাস কোনও বেতন নেবেন না। এই অর্থ জনকল্যাণ তহবিলে জমা হবে। এই সময় তাঁদের বিদেশ ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে থাকা সরকারি প্রতিনিধিদের ভাতাও (War In West Asia)। ইরান থেকে পাকিস্তানে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ৯০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং বহু বছর ধরে এই সীমান্ত দিয়েই জ্বালানি আসত পাকিস্তানে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পর সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়। তার জেরে এই সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় (War In West Asia)।

    পাকিস্তানে পাচার হত পেট্রোল

    অনুমান, এই পথে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ লিটার পেট্রোল পাকিস্তানে পাচার হত। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পরিমাণ ৬০ লাখ লিটার পর্যন্তও হতে পারে। এই জ্বালানির বড় অংশ পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চলে বিক্রি হত, যেখানে পাচার হওয়া পেট্রোল স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবিকায় টান পড়েছে। দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিবছর প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ইরানে রফতানি করে, আর ইরান থেকে আমদানি করে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এসব বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে গিয়েছে।

    জ্বালানি সঙ্কট চরমে

    জ্বালানি সঙ্কট দ্রুত পাকিস্তানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিবহণ খরচ তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই যাতায়াত করা কমিয়ে দিয়েছেন। কিছু পরিবার পরিবহণ ব্যয় এড়াতে তাদের সন্তানদের কাছাকাছি কোনও স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছে (War In West Asia)। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন রিকশা ও ট্যাক্সি চালকরা। কারণ তাঁদের অনেকেই জ্বালানি কিনতে পারছেন না। দিন মজুরদের কাজের সময়ও কমে গিয়েছে এবং বিভিন্ন খাতে চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটছে (Fuel Shortage)। পাকিস্তানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খাত দেশের মোট জিডিপিতে প্রায় ২৩ শতাংশ অবদান রাখে এবং প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে। জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উপকরণ ও পরিবহণ খরচ বেড়ে কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্দেশ

    এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) নির্দেশে পাকিস্তান সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৫৫ রুপি বাড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে পণ্য ও পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে পাকিস্তানিদের মধ্যে (War In West Asia)।পাকিস্তান আইএমএফের আর্থিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই সরকারকে সংস্থাটির নীতিগত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। পাকিস্তানের মাসিক তেল আমদানি বিল ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে অনুমান, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫.৫ লাখ কোটি রুপি। আগেই উচ্চ ঋণের চাপে থাকা পাকিস্তানের জন্য এই বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

    হরমুজ রুট বন্ধ থাকলে বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনও সরকার সে পথে এগোয়নি বলেই জানা গিয়েছে (Fuel Shortage)। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শ্লথ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়া দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম (War In West Asia)।

     

     

  • India’s GDP: বিশ্ব অর্থনীতিতে চিনের পরই ভারত, তিনে আমেরিকা! মাস্কের মন্তব্য নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ নির্মলার

    India’s GDP: বিশ্ব অর্থনীতিতে চিনের পরই ভারত, তিনে আমেরিকা! মাস্কের মন্তব্য নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ নির্মলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার একছত্র আধিপত্য আর নয়! সদ্য প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির রিপোর্ট সামনে আসার পর তেমনই ইঙ্গিত দিলেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ডের (IMF) রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বিশ্বের আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত। এই ঘটনায় প্রশংসার সুরেই টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্কের দাবি, ‘অবশেষে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে।’ মাস্কের মতে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৬ সালে গোটা বিশ্বের সম্ভাব্য আর্থিক প্রবৃদ্ধি ও তাতে সবচেয়ে বেশি যোগদান রাখা ১০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করে আইএমএফ। সেই রিপোর্টেই দেখা গিয়েছে, ডলারের দেশ আমেরিকাকে ছাপিয়ে বিশ্ব তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। বিশ্বের জিডিপিতে ভারতের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে ১৭.০ শতাংশ। এই তথ্য সামনে রেখে বাজেট অধিবেশনের পর বিরোধীদের এক হাত নিয়েছেন নির্মলা।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর সাম্প্রতিক তথ্য

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধিতে অবদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে ভারত। আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ১৭ শতাংশ অবদান রাখবে ভারত। আমেরিকার (৯.৯ শতাংশ) ঠাঁই হয়েছে তালিকার তৃতীয় স্থানে। এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছে চিন। বিশ্ব জিডিপিতে তাদের যোগদান হতে চলেছে ২৬.৬ শতাংশ। পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (৩.৮%), তুরস্ক (২.২%), নাইজেরিয়া (১.৫%), ব্রাজিল (১.৫%), ভিয়েতনাম(১.৬%), সৌদি আরব (১.৭%), জার্মানি (০.৯%)। অর্থাৎ রিপোর্টে স্পষ্ট যে বিশ্ব অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি আর্থিক যোগদান হতে চলেছে এশিয়ার দুই দেশ চিন ও ভারতের। যৌথভাবে দুই দেশের যোগদান হতে চলেছে ৪৩.৬ শতাংশ। অর্থাৎ গোটা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক আর্থিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে চিন ও ভারতে। দীর্ঘ বছর ধরে যার কেন্দ্র ছিল আমেরিকা ও ইউরোপ বেষ্টিত।

    আমেরিকার দাদাগিরি আর কতদিন

    সোশাল মিডিয়ায় এই রিপোর্ট তুলে ধরেই ইলন মাস্ক লেখেন, ‘অবশেষে বিশ্বে পরিবর্তিত হচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য।’ উল্লেখ্য, ইলন মাস্কের এহেন মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল যখন শুধুমাত্র আমেরিকার দাদাগিরির জেরে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। নানা কূটনৈতিক সংঘাতের জেরে বিশ্বের দেশগুলির উপর আরোপ করা হচ্ছে কড়া শুল্ক। চিন ও ভারতের উপর সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। এবার আইএমএফের রিপোর্টেই জানা গেল, গোটা বিশ্বে আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি যোগদান সেই চিন ও ভারতের।

    ইলন মাস্কের মন্তব্যের তাৎপর্য

    ইলন মাস্কের এই মন্তব্যকে নিছক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি দু’বার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, ভারতে টেসলার উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছেন এবং ১৪০ কোটির বাজারে চীনের মতো সাফল্যের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সময়েই মাস্ক ভারতের অর্থনৈতিক উত্থানের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন, যখন টেসলার পশ্চিমি বাজারে বিক্রি শ্লথ। চিনে টেসলার গতি কমেছে, ইউরোপ জটিল নিয়ন্ত্রক সমস্যায় আটকে। এই প্রেক্ষাপটে আইএমএফ কর্তৃক ভারতের ৬.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস মাস্কের মতো শিল্পপতিদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণীয়।

    পশ্চিমি অর্থনীতির স্থবিরতা, উদীয়মান দেশের উত্থান

    আইএমএফ-এর তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে জার্মানির অবদান বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে মাত্র ০.৯ শতাংশ। গোটা ইউরোজোন মিলিয়ে অবদান মাত্র ২ শতাংশ। উন্নত অর্থনীতিগুলির গড় প্রবৃদ্ধি যেখানে ১.৮ শতাংশ, সেখানে উদীয়মান বাজারগুলির প্রবৃদ্ধি হার ৪.২ শতাংশ—যা বছর বছর ব্যবধান আরও বাড়াচ্ছে। ভারতের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া (৩.৮%), তুরস্ক (২.২%), ভিয়েতনাম (১.৬%) এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে, নাইজেরিয়ার ১.৫ শতাংশ অবদান অনেক ইউরোপীয় দেশের সম্মিলিত অবদানকেও ছাড়িয়ে গেছে।

    জনসংখ্যা নয়, উৎপাদনই চালিকাশক্তি

    আইএমএফ জানিয়েছে, ভারতের প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি রফতানি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন। ২০২৫ সালে দেশের পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য শ্লথ থাকলেও ভারতের উৎপাদন খাত গতি ধরে রেখেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত থাকায় ভোক্তা চাহিদাও স্থিতিশীল। অর্থনীতিবিদদের মতে, মাস্কের মন্তব্য আসলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এক নীরব বাস্তবতার প্রকাশ—বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র ধীরে ধীরে পশ্চিম থেকে সরে এশিয়া ও উদীয়মান অর্থনীতির দিকে যাচ্ছে।

    বিরোধীদের সচেতন করলেন অর্থমন্ত্রী

    বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের (India) ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও (Nirmala Sitharaman)। বাজেট ২০২৬-২৭ (Budget 2026-27) পেশের পর সংসদ ভবনে যুব সংলাপের (Youth Dialogue) মঞ্চে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি তুলে ধরলেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডারের (IMF) সাম্প্রতিক হিসেব। ‘ওয়াও’ মন্তব্য করলেন ইলন মাস্ক। উদ্ধৃত করে বক্তব্য রাখলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে হয়তো দেখেছেন, মাস্ক আইএমএফ–এর ডেটা শেয়ার করে আশ্চর্য হয়ে লেখেন, “ওয়াও, এটা সত্যি?” অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি ঠিক মনে করতে পারছি না তিনি ‘ওয়াও’ বলেছেন, না অন্য কিছু বলেছেন। কিন্তু আইএমএফ–এর তথ্য তুলে তিনি ভারতের অবদান নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।” মাস্কের মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে বিরোধীদের একহাত নেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর সাফ বক্তব্য, “আমি তো সংসদে বলবই। কিন্তু দেশের বিরোধীদের (Opposition) বোঝা উচিত, এখন ভারত যে জায়গায় দাঁড়িয়ে— তা শক্তির পরিচয়। আমরা চিনের পরেই। ব্যবধান হয়তো একটু বেশি— ২৬ আর ১৭। কিন্তু আমরা এটা কমিয়ে আনব।”

  • Ashwini Vaishnaw: “বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলির মধ্যেই ভারতের অবস্থান”, এআই নিয়ে ডাভোসে অশ্বিনী

    Ashwini Vaishnaw: “বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলির মধ্যেই ভারতের অবস্থান”, এআই নিয়ে ডাভোসে অশ্বিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “এআই (AI) নিয়ে কাজ করা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।” ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এক প্যানেল আলোচনায় কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। তিনি আইএমএফের মূল্যায়নকে চ্যালেঞ্জ জানান। আইএমএফের মূল্যায়নে ভারতকে দ্বিতীয় স্তরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থনীতির দেশ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

    বৈষ্ণবের দাবি (Ashwini Vaishnaw)

    আইএমএফের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বৈষ্ণব বলেন, “এআই নিয়ে কাজ করা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।” আইএমএফের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিংয়ের উল্লেখ করেন। স্ট্যানফোর্ডের মতে, এআইয়ের বিস্তার ও প্রস্তুতির দিক থেকে বিশ্বে ভারতের অবস্থান তৃতীয় এবং এআই প্রতিভার ক্ষেত্রে ভারত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। জর্জিয়েভার করা শ্রেণিবিন্যাসের সরাসরি সমালোচনা করে বৈষ্ণব বলেন, “ভারতকে দ্বিতীয় স্তরে রাখার মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভুল এবং দেশটি স্পষ্টভাবেই প্রথম সারির গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।” মন্ত্রী ভারতের এআই কৌশলের বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেন, যা এআই স্থাপত্যের পাঁচটি স্তর – অ্যাপ্লিকেশন, মডেল, চিপ, পরিকাঠামো এবং জ্বালানিজুড়ে বিস্তৃত (AI)।

    একাধিক এআই মডেল

    তিনি জানান, ভারতের কাছে ইতিমধ্যেই একাধিক এআই মডেল রয়েছে, যেগুলি বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে এআইয়ের ব্যাপক বিস্তার নিশ্চিত করার ওপর সরকারের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, “ভারতের এআই কৌশল শুধুমাত্র বৃহৎ আকারের মডেল তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সর্বস্তরে এআই গ্রহণ ও প্রয়োগই এর মূল লক্ষ্য।” তাঁর পূর্বাভাস, কর্পোরেট ও শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা বুঝে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর সমাধান প্রয়োগের মাধ্যমে ভারত বিশ্বে এআই-নির্ভর পরিষেবার সর্ববৃহৎ সরবরাহকারীতে পরিণত হবে (Ashwini Vaishnaw)। মন্ত্রী বলেন, “অত্যন্ত বড় মডেল তৈরির বদলে কম খরচের সমাধান বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বিনিয়োগের প্রকৃত রিটার্ন আসে।” তাঁর মতে, ২০ বিলিয়ন থেকে ৫০ বিলিয়ন প্যারামিটারের মডেল দিয়েই ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব (AI)।

    বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতির দেশ

    এআই ও অর্থনীতি বিষয়ক ওই প্যানেল আলোচনায় সৌদি আরবের বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ এবং মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথও অংশ নিয়েছিলেন। পুরো অধিবেশন পর্বে বৈষ্ণব দাবি করেন, বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে ভারতের অবস্থানের পেছনে রয়েছে দেশের উচ্চমানের বৈশ্বিক প্রতিভা ভাণ্ডার। তিনি এও জানান, এআই প্রযুক্তির সম্পূর্ণ স্তরে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের মাধ্যমেই বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত বিবর্তনে ভারতের প্রথম সারির অবস্থান সুরক্ষিত হয়েছে (Ashwini Vaishnaw)।

  • India Surpasses Japan: জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হল ভারত

    India Surpasses Japan: জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে ভারত (India Surpasses Japan)। বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির আকার ৪.১৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আগামী ২.৫ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই, অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে, জার্মানিকে ছাড়িয়ে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠতে চলেছে (Largest Economy)। সরকারের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ফলে ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বড় অর্থনীতির দেশ।

    ভারতের প্রকৃত জিডিপি (India Surpasses Japan)

    চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬-এর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.২ শতাংশ, যা প্রথম ত্রৈমাসিকের ৭.৮ শতাংশ এবং আগের অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকের ৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সরকার প্রকাশিত ২০২৫ সালের সংস্কার-সংক্রান্ত এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, “৪.১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে ভারত জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, ২০৩০ সালের মধ্যেই ভারতের জিডিপি ৭.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে এবং তখন জার্মানিকে পিছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে আসবে।” বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন।

    প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি

    বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক গতি আরও চমকপ্রদ হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পৌঁছেছে গত ছয় ত্রৈমাসিকের সর্বোচ্চ স্তরে, যা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক দৃঢ়তার প্রতিফলন বলে মনে করছে সরকার (India Surpasses Japan)। এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে দেশীয় চাহিদা, বিশেষ করে শক্তিশালী বেসরকারি ভোগব্যয় (Largest Economy)। সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। বিশ্বব্যাঙ্ক ২০২৬ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এদিকে মুডিজ জানিয়েছে, ভারত ২০২৬ সালে ৬.৪ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে জি-২০ দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবেই থাকবে।

    আইএমএফের বক্তব্য

    আইএমএফ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) ২০২৫ সালের জন্য ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬.৬ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জন্য ৬.২ শতাংশ করেছে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা ২০২৫ সালে ৬.৭ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ৬.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। এছাড়াও, স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস চলতি অর্থবর্ষে ৬.৫ শতাংশ এবং আগামী অর্থবর্ষে ৬.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB) ২০২৫ সালের জন্য ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.২ শতাংশ করেছে। শক্তিশালী ভোক্তা চাহিদার কারণে ফিচ (Fitch) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.৪ শতাংশ করেছে।

    সরকারি বিবৃতি

    সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলির অন্যতম এবং এই গতি বজায় রাখার জন্য দেশটি যথেষ্ট শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২০৪৭ সালে, স্বাধীনতার শতবর্ষে, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ভারত অর্থনৈতিক (Largest Economy) প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত সংস্কার এবং সামাজিক উন্নয়নের শক্ত ভিত্তির ওপর এগিয়ে চলেছে ((India Surpasses Japan))।” বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি বর্তমানে সহনশীলতার নিম্ন সীমার নীচে রয়েছে, বেকারত্ব ক্রমহ্রাসমান ধারায় রয়েছে এবং রফতানি খাতে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া, অনুকূল রয়েছে আর্থিক পরিস্থিতি। বাণিজ্যিক খাতে ঋণপ্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে এবং শহুরে ভোগব্যয় আরও জোরদার হওয়ায় সামগ্রিক চাহিদাও রয়েছে স্থিতিশীল।

  • UPI: ইউপিআই বিশ্বের সব চেয়ে বড় খুচরো ফাস্টপেমেন্ট ব্যবস্থা, বলছে আইএমএফ

    UPI: ইউপিআই বিশ্বের সব চেয়ে বড় খুচরো ফাস্টপেমেন্ট ব্যবস্থা, বলছে আইএমএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউপিআই (ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস) (UPI) বিশ্বের সব চেয়ে বড় খুচরো ফাস্টপেমেন্ট ব্যবস্থা। আইএমএফ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) (IMF Report) ২০২৫ সালের ‘গ্রোয়িং রিটেল ডিজিটাল পেমেন্টসে’র রিপোর্টেই এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের এসিআই ওয়ার্ল্ডওয়াইডের রিপোর্ট “প্রাইম টাইম ফর রিয়েল-টাইম” উল্লেখ করেছে যে, ইউপিআই বিশ্বব্যাপী রিয়েল-টাইম পেমেন্ট লেনদেনের প্রায় ৪৯ শতাংশ পরিচালনা করে। এটিই এর বিশ্বব্যাপী দ্রুত-পরিশোধ ব্যবস্থার শীর্ষে অবস্থান নিশ্চিত করে।

    আন্তর্জাতিক রিয়েল-টাইম পেমেন্ট (UPI)

    এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, আন্তর্জাতিক রিয়েল-টাইম পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলির অবস্থা। ব্রাজিলের লেনদেন ৩৭.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১৪ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড, লেনদেনের পরিমাণ ২০.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, শতাংশের বিচারে ৮। চতুর্থ স্থানে রয়েছে চিন, লেনদেনের পরিমাণ ১৭.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, শতাংশের হিসেবে ৬। দক্ষিণ কোরিয়ার লেনদেনের পরিমাণ ৯.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, শতাংশের হিসেবে ৩। বিশ্বের আর বাকি দেশগুলির লেনদেনের পরিমাণ ২০ শতাংশ।

    ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার

    ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইউপিআই-সহ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে ভারত সরকার, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) এবং ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে কম-মূল্যের বিএইচআইএম-ইউপিআই লেনদেনকে উৎসাহিত করার জন্য ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম, এবং পেমেন্টস ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (PIDF), যা ব্যাঙ্ক এবং ফিনটেক কোম্পানিগুলিকে অনুদান দেয় (IMF Report)। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পিআইডিএফের আওতায় এই অঞ্চলে প্রায় ৫.৪৫ কোটি ডিজিটাল টাচপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের হিসেবে, মোট ৫৬.৮৬ কোটি কিউআর কোড প্রায় ৬.৫ কোটি ব্যবসায়ীর মধ্যে বিলি করা হয়েছে (UPI)।

    মন্ত্রীর বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী লোকসভার এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, ‘প্রাইম টাইম ফর রিয়েল-টাইম’ ২০২৪ শীর্ষক এসিআই ওয়ার্ল্ডওয়াইডের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউপিআই বিশ্বব্যাপী রিয়েল-টাইম পেমেন্ট সিস্টেমের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে, যার বাজার অংশীদারিত্ব ৪৯ শতাংশ এবং লেনদেনের পরিমাণ ১২৯.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রসঙ্গত, ইউপিআই হল ভারতের ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন দ্বারা তৈরি একটি তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম পেমেন্ট সিস্টেম, যা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে সহজে ও দ্রুত টাকা লেনদেন করতে সাহায্য করে (IMF Report)। এটি আরবিআই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং আইএমপিএস কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি এবং ব্যক্তি থেকে মার্চেন্ট লেনদেন সম্ভব করে তোলে। এর মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান বা ইউপিআই আইডি ব্যবহার করে লেনদেন করা যায়। বর্তমানে ইন্টারনেট ছাড়াও বা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতেও এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে(UPI)  ।

    প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারতের সব চেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম হল ইউপিআই। ২০১৬ সালে এনপিসিআই এই প্রযুক্তি চালু করে। ইউপিআইয়ের বৈশিষ্ট্য হল, এটি বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এবং পেমেন্ট অ্যাপগুলিকেত একটি একক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে, যার ফলে লেনদেন অত্যন্ত সহজ।

LinkedIn
Share