Tag: India China border dispute

India China border dispute

  • India China Relation: লাদাখের মানচিত্রে ভারতের বড় চাল? ২৮টি কৌশলগত স্থান চিহ্নিত করতেই ক্ষুব্ধ চিন

    India China Relation: লাদাখের মানচিত্রে ভারতের বড় চাল? ২৮টি কৌশলগত স্থান চিহ্নিত করতেই ক্ষুব্ধ চিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাদাখকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে ফের স্পষ্ট বার্তা দিল নয়াদিল্লি। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের ২৮টি কৌশলগত স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক চাপানউতোর। ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছে বেজিং। পাল্টা চিনের আপত্তি খারিজ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, চিনের অস্বীকারে লাদাখের উপর ভারতের সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা বদলাবে না। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চিন যতই তা অস্বীকার করুক, এই প্রতিষ্ঠিত সত্য বদলানো সম্ভব নয়।”

    লাদাখের ২৮টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য উল্লেখ করে জয়সওয়াল জানান, লাদাখের ২৮টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে এই স্থানগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্য হল, সেগুলির সঠিক পরিচিতি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

    নামকরণের তালিকায় রয়েছে পর্বতশৃঙ্গ, হিমবাহ, গিরিপথ, উপত্যকা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান। এই তালিকায় গোগরা (Gogra) ও হট স্প্রিংসের (Hot Springs) মতো এলাকাও রয়েছে, যা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি-তে (LAC) ভারত-চিন সামরিক উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

    কেন গোগরা ও হট স্প্রিংস গুরুত্বপূর্ণ?

    ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতের পর এই এলাকাগুলি বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করে। গোগরা ও হট স্প্রিংস ছিল দুই দেশের সেনার মুখোমুখি অবস্থানের অন্যতম প্রধান সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। ফলে এই স্থানগুলিকে ভারতের সরকারি মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বেজিংয়ের আপত্তির অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ২০২০ সালের মে মাসে পূর্ব লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এরপর ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সেনা জওয়ান শহিদ হন। চিনের পক্ষেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল, যদিও সংঘর্ষে নিহত সেনার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বেজিং দীর্ঘদিন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

    দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার পর ২০২২ সালে সংঘাতপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় সেনা সরানোর প্রক্রিয়া এগোয়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগও দেখা যায়। তবে সীমান্তে অমীমাংসিত বিষয়গুলি ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

    কী বলছে চিন?

    ভারতের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চিনের বিদেশ মন্ত্রক। মুখপাত্র মাও নিং (Mao Ning) দাবি করেছেন, ভারত একতরফাভাবে যে ‘তথাকথিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ’ প্রতিষ্ঠা করেছে, চিন তাকে কখনও স্বীকৃতি দেয়নি।

    চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাও নিং বলেন, ভারতের এই পদক্ষেপ অবৈধ এবং এর কোনও বৈধতা নেই। তাঁর দাবি, ভারত-চিন সীমান্তের পশ্চিম অংশের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি বরাবরই চিনের অন্তর্ভুক্ত।

    বেজিংয়ের এই বক্তব্যের সঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থানের স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ভারতের বক্তব্য, লাদাখ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সরকারি মানচিত্রে ভৌগোলিক স্থানগুলির নাম অন্তর্ভুক্ত করা প্রশাসনিক ও মানচিত্রগত স্বীকৃতির প্রক্রিয়া। চিনের আপত্তি সেই অবস্থান বদলাতে পারবে না বলেই জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

    কোন কোন স্থানের নাম রয়েছে তালিকায়?

    লাদাখের ২৮টি কৌশলগত স্থানের তালিকায় গোগরা, হট স্প্রিংস ছাড়াও রয়েছে আলিশা গিরি, ব্রাংসা, চাপচিংগাল পাস, কানিষ্ক পিক, কারুন পির পর্বত, কুকসেল, মার্তণ্ড গিরি, পারপিক হিমবাহ, স্কামরি হিমবাহ, শাচমিরিক পাস, শকোর্গা উপত্যকা এবং জোরাওয়ার পিক।

    এ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে ডেহরা কম্পাস, দ্রাক কার্পো, জোলমোরি, কুমারায়ণ পয়েন্ট, পাংলুং, রিনচেন জাংপো, সাক্যশ্রী গিরি, গুরু রিনপোচে, শামাল লুংপা, ইয়াংপা নদী, মারপা লোৎসাভা রি, মিলারেপা কাংরি, শিব রি এবং মহেশ্বর রি।

    এই নামগুলির মধ্যে শামাল লুংপা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০-এর দশকে এটি টহলদারি এবং সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতিমূলক পথ হিসেবে ব্যবহৃত হত। ফলে তালিকার কয়েকটি স্থানের গুরুত্ব শুধু ভৌগোলিক নয়, ঐতিহাসিক ও সামরিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন করে চাপানউতোর?

    ভারত ও চিনের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একাধিক উদ্যোগ দেখা গিয়েছে। উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের নেতৃত্বের যোগাযোগ সেই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কিন্তু সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবিশ্বাসের জায়গা এখনও রয়ে গিয়েছে।

    লাদাখের ২৮টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে তাই কেবল নামকরণের প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলে বিষয়টির সম্পূর্ণ তাৎপর্য বোঝা যাবে না। একদিকে রয়েছে ভৌগোলিক পরিচিতি ও প্রশাসনিক নথিভুক্তির প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার উপর সার্বভৌমত্ব নিয়ে ভারত ও চিনের পরস্পরবিরোধী দাবি।

    তবে এই নামকরণের ফলে সীমান্তের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ বা দুই দেশের মধ্যে থাকা ভূখণ্ডগত বিরোধের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে, এমনটা বলা যায় না। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—লাদাখ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে, চিনও তাদের দাবি থেকে সরে আসেনি। ফলে সরকারি মানচিত্রে ২৮টি স্থানের নাম অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিলেও, সীমান্ত সমস্যার সমাধান নির্ভর করবে দুই দেশের আলোচনা ও বাস্তব পরিস্থিতির উপরই।

  • Shaksgam Valley: শাকসগাম উপত্যকা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, চিনের দাবি খারিজ করল ভারত

    Shaksgam Valley: শাকসগাম উপত্যকা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, চিনের দাবি খারিজ করল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (PoJK) অন্তর্গত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে ফের উসকানিমূলক দাবি তুলল চিন। ১৯৬৩ সালে বেজিং ও ইসলামাবাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত তথাকথিত সীমান্ত চুক্তির উল্লেখ করে চিন দাবি করেছে যে শাকসগাম উপত্যকা তাদের ভূখণ্ড। তবে ভারত এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, শাকসগাম উপত্যকা (Shaksgam Valley) ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ওই চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য। দিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ১৯৬৩ সালের চুক্তি মানে না।

    শাকসগাম উপত্যকা কোথায়?

    কারাকোরাম পর্বতমালার উত্তরে, সিয়াচেনের খুব কাছেই অবস্থিত শাকসগাম বা ট্রান্স-কারাকোরাম এলাকা। ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটারের এই উপত্যকাটি পাকিস্তান ১৯৬৩ সালে একটি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে চিনের হাতে তুলে দেয়। সেই চুক্তিতেই লেখা, কাশ্মীর প্রশ্ন মিটলে সীমান্ত আবার নতুন করে নির্ধারণ করা যাবে। কিন্তু ভারতের মতে, ওই চুক্তিটাই শুরু থেকেই অবৈধ। শাকসগাম উপত্যকা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের হুনজা-গিলগিট অঞ্চলে অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে চিনের পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে।

    শাকসগাম উপত্যকায় চিনের নির্মাণ

    পূর্ব কারাকোরাম পর্বতমালায় সিয়াচেন হিমবাহের কাছে অবস্থিত শাকসগাম উপত্যকা, যা ট্রান্স কারাকোরাম ট্র্যাক্ট নামেও পরিচিত। এর উত্তরে চিনের জিনজিয়াং অঞ্চল এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) রয়েছে। যে বিষয়টি ভারতকে সতর্ক করে তুলেছে, তা হল উপত্যকায় চিনের একটি অল-ওয়েদার রাস্তা নির্মাণ। প্রায় ১০ মিটার চওড়া এই সড়কটির প্রায় ৭৫ কিলোমিটার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে এই অঞ্চলটি ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশ এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। মন্ত্রক আরও উল্লেখ করেছে যে, ভারত কখনও ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের স্বাক্ষরিত চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি, যে চুক্তির মাধ্যমে ইসলামাবাদ কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত এলাকা থেকে শাকসগাম উপত্যকার ৫,১৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বেজিংকে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

    চিনের অদ্ভুত দাবি

    চিন ভারতের আপত্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে, তাদের নির্মাণকাজ ন্যায়সঙ্গত। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মাও নিং ১২ জানুয়ারি বলেছেন, ওই এলাকাটি চিনের এবং সেখানে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার বেজিংয়ের রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, নিজের ভূখণ্ডে পরিকাঠামো নির্মাণ করা চিনের অধিকার এবং ১৯৬০-এর দশকে চিন ও পাকিস্তান একটি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশের সীমানা নির্ধারণ করেছে। এই ঘটনা ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যদিও ২০২৪ সালে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি)-তে উত্তেজনা কমানোর চুক্তি হয়েছিল, তবুও কাশ্মীর নিয়ে এই ধরনের বিতর্ক বারবার দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। চিনের এই দৃঢ় অবস্থান অনেক বিশ্লেষকের মতে পাকিস্তানের সঙ্গে তার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়াস। অন্যদিকে ভারতের জন্য এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্ন।

    বিদেশ মন্ত্রক-এর বিরোধিতা

    চিনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) স্পষ্ট করেছে যে ভারত কখনওই ১৯৬৩ সালের চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “শাকসগাম উপত্যকা ভারতের ভূখণ্ড। আমরা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছি যে তথাকথিত চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি অবৈধ এবং অকার্যকর।” চিনের পাল্টা দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে ভারত আরও জানিয়েছে যে পাক অধিকৃত কাশ্মীর আসলে পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড। ফলে পাকিস্তানের কোনও অধিকার নেই এই অঞ্চলের কোনও অংশ তৃতীয় কোনও দেশের কাছে হস্তান্তর করার। এই বিষয়টি একাধিকবার পাকিস্তান ও চিন—উভয় দেশকেই জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে নয়া দিল্লি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীও এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা ১৯৬৩ সালের পাক-চিন সীমান্ত চুক্তিকে স্বীকার করি না। শাকসগাম উপত্যকায় যে কোনও ধরনের কার্যকলাপ আমরা অনুমোদন করি না।”

    শাকসগাম উপত্যকা কেন গুরুত্বপূর্ণ

    ভারতের জন্য শাকসগাম উপত্যকা দুটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ— আঞ্চলিক এবং সামরিক। উপত্যকাটি বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচেন হিমবাহের কাছে অবস্থিত। এছাড়াও, এটি কারাকোরাম গিরিপথে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। সিয়াচেন থেকে পাকিস্তানের ওপর সরাসরি নজর রাখতে পারে ভারতীয় সেনা। আবার কারাকোরাম গিরিপথ থেকে চিনা কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারা যায়। সুতরাং, শাকসগাম উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবের সরাসরি প্রভাব পড়বে চিনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) এবং পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর ভারতের সামরিক অবস্থানের উপর। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে চিন ৪,৮০৫ মিটার উঁচু আগিল গিরিপথ পেরিয়ে নিম্ন শাকসগাম উপত্যকায় একটি রাস্তা তৈরি করেছে। যার ফলে ভারতীয় নিয়ন্ত্রিত সিয়াচেন হিমবাহের ইন্দিরা কলের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসবে চিন সেনা। কল হল একটি পর্বতমালার সর্বনিম্ন বিন্দু। গত কয়েক দশক ধরে ভারত প্রধানত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিয়াচেন অঞ্চলকে রক্ষা করার উপর মনোযোগ দিয়েছে, যেখানে হুমকিটি মূলত দক্ষিণের দিক থেকে ছিল। এখন এই নতুন রাস্তার কারণে উত্তর দিক থেকে চাপ বাড়াতে পারবে চিন। যা বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্রে দুই-মুখী সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে।

    ভারতের যৌক্তিক দাবি

    উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালের চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান অবৈধভাবে প্রায় ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ড চিনের হাতে তুলে দেয়। তবে যেহেতু কাশ্মীর ইস্যু এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে মীমাংসিত নয় এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ হিসেবে কোনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই, তাই এই চুক্তির কোনও আইনগত ভিত্তি নেই বলে ভারতের দাবি। এছাড়াও, ভারত বারবার চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) প্রকল্পের বিরোধিতা করে এসেছে, কারণ এই প্রকল্প পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ডের উপর দিয়ে গিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক পুনরায় জানিয়েছে, “আমরা চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরকেও স্বীকৃতি দিই না, কারণ এটি ভারতের ভূখণ্ডের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে, যা পাকিস্তানের জোরপূর্বক ও অবৈধ দখলে রয়েছে।” সব মিলিয়ে, শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে চিনের সাম্প্রতিক দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—এই অঞ্চল ভারতেরই অংশ। এই অঞ্চল সুরক্ষিত রাখতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

LinkedIn
Share