Tag: India defence

India defence

  • India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় প্রতিরক্ষার জন্য যুগান্তকারী হতে চলেছে ২০২৬ সাল। এ বছর, দেশের সামরিক ক্ষেত্রে একাধিক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ও উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা দেশের প্রতিরক্ষাকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে বর্ণনা করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক বড় সামরিক ক্রয় ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প এই বছর সরকারি অনুমোদন অথবা চুক্তি স্বাক্ষরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। যা আগামী কয়েক দশকে ভারতীয় স্থলসেনা, বায়ুসেনা, নৌবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকরী সক্ষমতা নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, এগুলি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ও বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ রূপরেখাও গড়ে দেবে। এমনই ১০টি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, যা নিয়ে চলতি বছর বড় সিদ্ধান্ত হতে চলেছে বলে আশাপ্রকাশ করা হচ্ছে।

    ১. মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) প্রকল্পে ১১৪টি যুদ্ধবিমান

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কেনার বিষয়টি ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও একাধিক প্রশাসনিক স্থগিতাবস্থার পর, এই প্রকল্প এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বিক্রেতা নির্বাচন ও বাণিজ্যিক দরকষাকষি চূড়ান্ত হতে পারে। ভারতীয় বায়ুসেনার ক্রমহ্রাসমান স্কোয়াড্রন সংখ্যা মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সংখ্যাগত ও গুণগত ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

    ২. বায়ুসেনার মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পে গতি

    মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিক গতি পেতে পারে। সামরিক পণ্যবাহী বিমানের সংখ্যা ও কার্যকরী ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় পুরনো অ্যান্টোনভ এএন-৩২ এবং ইলিউশিন আইএল-৭৬ বিমানের বিকল্প হিসেবে নতুন সামরিক পরিবহণ বিমান পেতে চাইছে বায়ুসেনা। এ বছর এক্ষেত্রে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) জারি হওয়া এবং বিক্রেতা সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে লকহিড মার্টিন সি-১৩০জে, এমব্রায়ার সি-৩৯০ ও এয়ারবাস এ৪০০এম প্রতিযোগিতায় থাকতে পারে। সামরিক এয়ারলিফ্ট সক্ষমতায় এই চুক্তি ভারতকে কৌশলগত বড় সুবিধা দেবে।

    ৩. প্রজেক্ট ৭৫আই (P-75I) সাবমেরিন প্রকল্প কেন্দ্রের অনুমোদনের পথে

    দীর্ঘ বিলম্বের পর প্রজেক্ট ৭৫আই অবশেষে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর অনুমোদনের দিকে এগোচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তিসম্পন্ন ছয়টি আধুনিক প্রচলিত সাবমেরিনের জন্য চুক্তি করা হবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের বাড়তে থাকা নৌ-উপস্থিতির মোকাবিলা এবং পুরনো সাবমেরিন অবসর নেওয়ার ফলে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে এই প্রকল্পকে ভারতীয় নৌবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। তবে, এক্ষেত্রে ফ্রান্স নির্মিত স্করপিন-সিরিজ নয়, বরং জার্মানি ও স্পেনের সংস্থার নকশা নিয়ে আলোচনাই মূল ফোকাসে রয়েছে।

    ৪. রণতরীতে দেশীয় যুদ্ধবিমান (TEDBF) প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য দেশীয় টুইন ইঞ্জিন ডেক বেসড ফাইটার (TEDBF) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা এই যুদ্ধবিমান ভবিষ্যতে মিগ-২৯কে বহরের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং নৌবাহিনীর কেরিয়ার এয়ার উইংয়ের মূল স্তম্ভে পরিণত হবে। এই অনুমোদন পূর্ণমাত্রার উন্নয়ন তহবিল ছাড় করবে এবং দেশীয় নৌবিমান নির্মাণে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুদৃঢ় করবে।

    ৫. অ্যামকা (AMCA) জেট ইঞ্জিন উন্নয়নে বিদেশি অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত

    ২০২৬ সালের অন্যতম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)-এর ইঞ্জিন উন্নয়ন সংক্রান্ত অনুমোদন। যৌথ-উদ্যোগে ১১০–১৩০ কিলোনিউটন থ্রাস্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইঞ্জিন উন্নয়নের জন্য ভারত সম্ভবত বিদেশি অংশীদারিত্বের কাঠামো চূড়ান্ত করবে। ফ্রান্সের সাফরান (Safran) প্রধান অংশীদার হিসেবে উঠে আসতে পারে। এই সিদ্ধান্ত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ৬. অতিরিক্ত এস-৪০০ (S-400) ডেলিভারি ও অর্ডার বাড়ানোর সম্ভাবনা

    ২০২৬ সাল জুড়ে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেজিমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।চূড়ান্ত ইউনিটগুলি পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় সম্পূর্ণ করবে বলে আশা। একইসঙ্গে, মূল চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত এস-৪০০ ইউনিট কেনা নিয়েও আলোচনা চলছে, যা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিঁদুর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হুমকি ও ঝুঁকির মূল্যায়ন ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

    ৭. মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স ড্রোন (MALE Drone) প্রকল্প চুক্তির পর্যায়ে

    ভারতের দীর্ঘদিন ধরে চলা মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স (MALE) ড্রোন প্রকল্পটি ২০২৬ সালে বাস্তব অগ্রগতি দেখতে পারে। মার্কিন এমকিউ-৯বি রিপার (MQ-9B Reaper) ড্রোন সংগ্রহ এগোলেও, এখন মূল জোর দেওয়া হচ্ছে দেশীয় তাপাস (TAPAS) বা আর্চার-এনজি (Archer-NG) প্ল্যাটফর্মের উপর, যা স্থল ও সমুদ্র উভয় ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করবে। এই দেশীয় ড্রোনগুলির চুক্তি চূড়ান্ত হলে শত্রু অঞ্চলে গোয়েন্দা, নজরদারি ও রেকি— সংক্ষেপে আইএসআর (ISR) থেকে শুরু করে আঘাত হানার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

    ৮. প্রজেক্ট-৭৭ (P-77) পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যাটাক সাবমেরিন (SSN)

    ২০২৬ সালে অতিরিক্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক অনুমোদন পেতে পারে ভারতের দেশীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ঘাতক সাবমেরিন (SSN) নির্মাণ প্রকল্প— প্রজেক্ট-৭৭। এই সাবমেরিনগুলি বিমানবাহী রণতরীর নিরাপত্তা, শত্রু সাবমেরিন ট্র্যাকিং এবং গভীর সমুদ্রে আধিপত্য বজায় রাখতে অপরিহার্য। এই অনুমোদন ভারতের শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গঠনের সংকল্পকে জোরালোভাবে তুলে ধরবে।

    ৯. কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) চুক্তি

    দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) প্রকল্পের চুক্তি ২০২৬ সালে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ব্যবস্থা স্থলসেনার সাঁজোয়া বাহিনীকে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে উড়ে আসা বিমানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এই সিস্টেমের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্ডারের আশা করছে।

    ১০. আকাশ-এনজি (Akash-NG) চুক্তিতে পরবর্তী প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষা

    দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বশেষ সংস্করণ আকাশ-এনজি (নিউ জেনারেশন) প্রকল্পও ২০২৬ সালে বড় উৎপাদন চুক্তি পেতে পারে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সফল পরীক্ষার পর উন্নত রেঞ্জ, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই ব্যবস্থা বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা স্তরকে আরও শক্তিশালী করবে।

    সব মিলিয়ে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সামনে থাকা এই সিদ্ধান্তগুলি ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক বছর করে তুলতে চলেছে। এই সময়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলি শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ভারতের সামরিক কাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতাকে নতুন দিশা দেবে।

  • Indian Air Force: বায়ুসেনার আধুনিকীকরণে সবুজ সংকেত কেন্দ্রের, আসছে রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স

    Indian Air Force: বায়ুসেনার আধুনিকীকরণে সবুজ সংকেত কেন্দ্রের, আসছে রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ সালের মধ্যেই বায়ুসেনা আরও শক্তিশালী ও আধুনিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হবে বলে মনে করছে মন্ত্রক ও প্রতিরক্ষা মহল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য-আকাশে জ্বালানি ভরার বিমান, আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর পাশাপাশি, “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগের আওতায় ফ্রান্স থেকে ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কেনার প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    ছয়টি বোয়িং ৭৬৭ মিড-এয়ার রিফুয়েলার

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) বা প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদের নেওয়া প্রধান সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে ইজরায়েল থেকে ছয়টি বোয়িং ৭৬৭-ভিত্তিক মিড-এয়ার রিফুয়েলার কেনার পরিকল্পনা। ইজরায়েল থেকে ছয়টি রিফুয়েলার কেনার জন্য মূল্য চূড়ান্ত করতে একটি কমিটি গঠন করছে মন্ত্রক। এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা। একমাত্র দরদাতা হিসেবে ইজরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ-এর (IAI) সঙ্গে আলোচনা চলছে। দাম নির্ধারণ শেষ হলে প্রস্তাবটি ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর কাছে পাঠানো হবে। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে ২০০৩ সালে অন্তর্ভুক্ত ছয়টি রাশিয়ান আইএল-৭৬এম রিফুয়েলার রয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত প্রস্তুতির সমস্যায় এই বহর কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে বায়ুসেনা।

    ১২টি এমব্রেয়ারে বসবে এইডব্লু অ্যান্ড সি

    একই সঙ্গে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ১২টি এইডব্লু অ্যান্ড সি (AEW&C) সিস্টেম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই ব্রাজিল থেকে ছয়টি এমব্রেয়ার বিমান কেনার জন্য রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) জারি করতে চলেছে। এই বিমানগুলিতে বসানো হবে ডিআরডিও-উন্নত নেত্রা মার্ক-২ এইএসএ রেডার, যা ২৭০ ডিগ্রি নজরদারি এবং উন্নত ইলেকট্রনিক ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধে সক্ষমতা বাড়াবে।

    ৬টি এয়ারবাস হয়ে উঠবে অ্যাওয়াক্স

    একইসঙ্গে, ফ্রান্স থেকে কেনা ছয়টি এয়ারবাস এ৩১৯ বিমানে ৩৬০ ডিগ্রি রোটোডোম রেডার বসিয়ে সেগুলিকে পূর্ণাঙ্গ অ্যাওয়াক্স (AWACS) প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করছে মন্ত্রক। মিড-এয়ার রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স-এর ঘাটতির বিষয়টি অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন স্পষ্টভাবে সামনে আসে, যখন পাকিস্তানের তুলনায় এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা হয় বায়ুসেনার। পাশাপাশি,  ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য ৩৬টি অতিরিক্ত মিটিওর এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অনুমোদন দিয়েছে। কয়েকদিন আগেই, রুশ নির্মিত এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ২৮০টি দীর্ঘ ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ছাড়পত্র দিয়েছিল ডিএসি।

    নজরে ১১৪টি এমআরএফএ

    এছাড়া ১১৪টি এমআরএফএ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। দেশীয় উপাদানের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে সরকার। ভারতে রাফাল বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের (MRO) পরিকাঠামো আগে থেকেই থাকায়, নতুন কোনও যুদ্ধবিমান ধারা চালুর বদলে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন আধিকারিকরা। সবশেষে, আকাশপথে বিভিন্ন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ভারত ও রাশিয়া গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট পথে আরও পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা এবং প্যান্টসির মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

  • India Defence Deals: সামরিক আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ, নতুন কার্বাইন ও হেভিওয়েট টর্পিডো কিনছে ভারত

    India Defence Deals: সামরিক আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ, নতুন কার্বাইন ও হেভিওয়েট টর্পিডো কিনছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ৪,৬৬৬ কোটি টাকা মূল্যের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করল কেন্দ্রের মোদি সরকার। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীর জন্য ক্লোজ কোয়ার্টার ব্যাটল (CQB) কার্বাইন এবং হেভিওয়েট টর্পিডো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    ৪.২৫ লক্ষ সিকিউবি কার্বাইন

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীর জন্য ৪.২৫ লক্ষের বেশি সিকিউবি কার্বাইন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সরকার প্রায় ২,৭৭০ কোটি টাকার চুক্তি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ফোর্জ লিমিটেড ও পিএলআর সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক এই কার্বাইনগুলি পুরনো অস্ত্রের জায়গা নেবে এবং সীমিত পরিসরের যুদ্ধ ও শহুরে সংঘর্ষে সেনাদের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বহু প্রতিক্ষিত সিকিউবি কার্বাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের স্থলবাহিনী আধুনিক ও বিশ্বমানের অস্ত্রে সজ্জিত হবে এবং খুব কাছে থেকে সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতে সেনার কার্যকারিতা বাড়বে। একইসঙ্গে, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার এই প্রকল্পে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মনে করছে, এই চুক্তির ফলে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে এবং প্রতিরক্ষা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    ৪৮ হেভিওয়েট টর্পিডো

    অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রায় ১,৮৯৬ কোটি টাকার পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইটালির ওয়াস সাবমেরিন সিস্টেম সংস্থার সঙ্গে। এই চুক্তির আওতায় নৌবাহিনী ৪৮টি হেভিওয়েট টর্পিডো পাবে, যা কালভারি শ্রেণির (প্রজেক্ট–৭৫) সাবমেরিনে সংযুক্ত করা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৮ সালের এপ্রিল থেকে টর্পিডোর সরবরাহ শুরু হবে এবং ২০৩০ সালের শুরুর দিকে তা সম্পূর্ণ হবে। নতুন টর্পিডো যুক্ত হলে জলের নিচে ভারতীয় নৌবাহিনীর আক্রমণ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে মন্ত্রকের দাবি।

    প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এখনও পর্যন্ত ১,৮২,৪৯২ কোটি টাকার মূলধনী প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মোদি সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও সেনা ও নৌবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

  • Fort William Renamed: মুছে গেল ঔপনিবেশিকতার ছায়া, ফোর্ট উইলিয়ামের নতুন নাম ‘বিজয় দুর্গ’

    Fort William Renamed: মুছে গেল ঔপনিবেশিকতার ছায়া, ফোর্ট উইলিয়ামের নতুন নাম ‘বিজয় দুর্গ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাম বদলে গেল শতাব্দী-প্রাচীন ফোর্ট উইলিয়ামের (Fort William Renamed)। সরকারিভাবে এখনও ঘোষণা না হলেও, ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের (Army Eastern Command) সদর দফতরের প্রশাসনিক কাজকর্মে এখন থেকেই নতুন নামে ডাকা হচ্ছে ২৫০ বছরের পুরনো এই সামরিক প্রতিষ্ঠানকে। এই নাম বদল নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল আলোড়ন পড়েছে। তবে, কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, ঐতিহ্যের পুনঃস্থাপন এবং ব্রিটিশ যুগের প্রভাব সরিয়ে ফেলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ঔপনিবেশিকতার ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে…

    মুঘল এবং ঔপনিবেশিকতার ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে মোদি জমানায় দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে শুরু করে জায়গা ও প্রতিষ্ঠানের নাম বদল করা হয়েছে এবং হয়ে চলেছে। যেমন এলাহাবাদ শহরের নাম পাল্টে করা হয়েছে প্রয়াগরাজ। দেশের ব্যস্ততম মোগলসরাই রেল স্টেশনের নাম পাল্টে করা হয়েছে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন। আবার রাজধানীর রাজপথের নাম পাল্টে করা হয়েছে কর্তব্য পথ। সেই ধারাকে অব্যাহত রেখে এবার কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের (Fort William Renamed) নাম বদলে দেওয়া হল।

    এখন থেকে ফোর্ট উইলিয়াম হল ‘বিজয় দুর্গ’

    এ প্রসঙ্গে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র তথা মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক উইং কমান্ডার হিমাংশু তিওয়ারি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফোর্ট উইলিয়ামকে ‘বিজয় দুর্গ’ (Vijay Durg) নামেই ডাকা হবে। তিনি আরও জানান, গত ২ ডিসেম্বর নাম বদলের নির্দেশ আসে। শুধু ফোর্ট উইলিয়াম নয়, এর মধ্যে থাকা বেশ কয়েকটি জায়গার নামবদলও হয়েছে। যেমন ফোর্টের মধ্যে থাকা সেনা কমান্ডারের বাসভবন কিচেনার হাউসের নতুন নাম হয়েছে মানেকশ হাউস। দক্ষিণ প্রান্তের গেটের নাম ছিল সাউথ গেট বা সেন্ট জর্জ গেট। সেটি হয়েছে শিবাজি দ্বার। আবার পূর্ব প্রান্তের গেটের নাম রাখা হয়েছে স্বর্নিম বিজয় দ্বার। সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের (Army Eastern Command) এক সূত্রের মতে, ঔপনিবেশিকতা ছাপ মুছতেই ফোর্ট উইলিয়ামের (Fort William Renamed) নাম বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    ফোর্ট উইলিয়ামের ইতিহাস

    ১৭৭ একর জমির ওপর তৈরি ২৫০ বছরের পুরনো ফোর্ট উইলিয়াম সেই তখন থেকেই কলকাতার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে। জানা যায়, ১৬৯৬ সালে মূল দুর্গটি তৈরি করেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। এর নামকরণ করা হয়েছিল ব্রিটেনের তৎকালীন রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নামে। কিন্তু, সেই সিপাই বিদ্রোহের সময় এই দুর্গ আক্রমণ করেছিলেন সিরাজ-উদ-দৌলা। তাতে বিস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুর্গটি। পরে, নতুন করে শুরু হয় নির্মাণ। প্রথমে ১৭৫৮ সাল থেকে তৈরি শুরু হয় এই সেনা ছাউনি তৈরির কাজ। পরে ১৭৮১ সালে লর্ড ক্লাইভ দুর্গটি পুনর্নির্মাণ করেন।

    নতুন নামকরণের তাৎপর্য (Fort William Renamed)

    সেনা সূত্রে খবর, বিজয় দুর্গ নামকরণের নেপথ্যে বড় যুক্তি রয়েছে। মহারাষ্ট্রের সিন্ধুদুর্গে রয়েছে বিজয় দুর্গ। যা ছত্রপতি শিবাজি মহাজারাজের নৌবহরের ঘাঁটি ছিল। বলা হয়, এই দুর্গ অভেদ্য ছিল। পুনর্নির্মাণের পর একবারের জন্যও আক্রমণ হয়নি এই ফোর্ট উইলিয়াম। নতুন আক্রমণ ঠেকাতে এখানে ৪৯৭টি তোপ মোতায়েন করেছিল ব্রিটিশরা। কিন্তু, একবারের জন্যও তা চালাতে হয়নি। আবার কিচেনার হাউসের নাম পাল্টে মানকেশ হাউস করার নেপথ্যেও রয়েছে বড় ইতিহাস। এই বিল্ডিংটি তৈরি করা হয়েছিল সেনা কমান্ডারদের থাকার জন্য। ফিল্ড মার্শাল হোরাশিও হার্বার্ট কিচেনার ছিলেন ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনার তৎকালীন সেনা কমান্ডার। তিনি ফোর্ট উইলিয়ামে ছিলেন ১৯০২-১৯১০ সাল পর্যন্ত। তাঁর নামেই নাম রাখা হয় বিল্ডিংটির (Fort William Renamed)। সেই নাম পাল্টে করা হয়েছে মানেকশ-র নামে, যিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম ফিল্ড মার্শাল। শুধু তাই নয়। ১৯৭১-এর যুদ্ধের সময়, তিনি ছিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান, যার আমলে পাকিস্তান পর্যুদস্ত হয়েছিল এবং জন্ম হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের। সেই যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল এই ইস্টার্ন কমান্ড (Army Eastern Command)। এখানেই শেষ নয়। শোনা যায়, ভারতের কাছে ৯০ হাজার পাক সেনার আত্মসমর্পণের পর তাদের তৎকালীন কমান্ডার এএকে নিয়াজিকে এই কিচেনার হাউসেই এনে আটক রাখা হয়েছিল।

  • India Defence: শক্তি বাড়ছে ‘পিনাকা’ সিস্টেমের, ১০ হাজার কোটি দিয়ে বিশেষ রকেট কিনছে ভারত

    India Defence: শক্তি বাড়ছে ‘পিনাকা’ সিস্টেমের, ১০ হাজার কোটি দিয়ে বিশেষ রকেট কিনছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও শক্তি বাড়তে চলেছে ভারতীয় সেনায় বিপুল জনপ্রিয় দেশে তৈরি পিনাকা মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চারের (Pinaka MBRL System)। বিশ্বের নজর টানা এই আর্টিলারি রকেট সিস্টেমকে আরও ক্ষমতাশালী করতে সম্প্রতি ২টি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি বা সিসিএস। এই এক জোড়া চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর ফলে, পিনাকা সিস্টেমের ধার ও ভার উভয়ই প্রভূত পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে (India Defence)।

    দু’ধরনের রকেট উৎপাদনের চুক্তি

    প্রথম চুক্তির মূল্য ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। চুক্তিটি করা হয়েছে ৪৫ কিলোমিটার পাল্লা সম্পন্ন হাই-এক্সপ্লোজিভ প্রি-ফ্র্যাগমেন্টেড রকেট অ্যামুনিশন কেনার জন্য। দ্বিতীয় চুক্তির মূল্য ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই চুক্তির আওতায় ৩৭ কিলোমিটার পাল্লার এরিয়া ডিনাইয়াল অ্যামুনিশন কেনা হবে, যেগুলি ব্যবহার করা হবে ভারতীয় সেনার ১০টি পিনাকা রেজিমেন্টের জন্য। এরিয়া ডিনাইয়াল মুনিশনের বিশেষত্ব হল এটি ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী ও মাইন-বিধ্বংসী হিসেবেও অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে এই বিশেষত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে (India Defence)।

    সেনায় আরও গুরুত্ব পিনাকা-কে

    জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা মুনিশনস ইন্ডিয়া লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ রকেট ও অস্ত্রগুলি উৎপাদন করবে নাগপুরস্থিত বেসরকারি সংস্থা সোলার গ্রুপ। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই এই মর্মে দুপক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বর্তমানে ভারতীয় সেনায় ৪টি পিনাকা রেজিমেন্ট রয়েছে। এর একাংশ বর্তমানে দুর্গম চিন সীমান্তে মোতায়েন রয়েছে। নতুন আরও ৬টি রেজিমেন্ট গড়ে তোলা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়া চলমান।

    পিনাকা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভারতের

    কেন্দ্রীয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পিনাকা সিস্টেমে (Pinaka MBRL System) ব্যবহৃত রকেটের একাধিক সংস্করণ তৈরি করেছে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও। কোনওটার পাল্লা ৪৫ কিলোমিটার তো কোনওটার ৭৫ কিমি পর্যন্ত। অধিক দীর্ঘ পাল্লার (৭৫ কিমি) রকেটগুলি গাইডেড প্রকৃতির। তবে, এখানেই থামতে রাজি নয় ডিআরডিও। ভবিষ্যতে, এই রকেটের পাল্লা আরও বৃদ্ধি করে প্রথমে ১২০ কিমি এবং আরও পরে ৩০০ কিমি পর্যন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর মতে, একবার এই পাল্লা ভারতের হাতে চলে এলে, পিনাকা হয়ে উঠবে বাহিনীর অন্যতম প্রধান অস্ত্র (India Defence)।

    কারগিলে জাত চিনিয়েছিল পিনাকা

    পুরাণ মতে, দেবাদিদেব মহাদেবের ধনুকের নাম ‘পিনাক’। সেই অনুসারে এই রকেটের নামকরণ করা হয় ‘পিনাকা’। সাবেক সোভিয়েত আমলের ‘গ্রাদ বিএম-২১’ রকেট লঞ্চারের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয় পিনাকা। প্রথম এটি ব্যবহার করা হয়েছিল কারগিল যুদ্ধে। সেখানেই নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছিল এই দেশীয় রকেট সিস্টেম। কারগিল যুদ্ধের সময় দুর্গম এলাকায় এই পিনাকা ব্যবহার করে পাক ফৌজকে পর্যুদস্ত করেছিল ভারতীয় সেনা (India Defence)। সেই সময় পাক সেনার ওপর মুহুর্মুহু আঘাত হেনেছিল পিনাকা রকেট। কার্যত রকেটের বর্ষণ হয়েছিল, যা পাক হামলার মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল। এখন পিনাকা মোতায়েন রয়েছে চিন সীমান্ত লাগোয়া দুর্গম অঞ্চলে।

    পিনাকায় মজেছে পশ্চিমি দুনিয়া

    বর্তমানে পিনাকা বিশ্বের অন্যতম সেরা আর্টিলারি সিস্টেম (India Defence)। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ১২টি রকেট নিক্ষেপ করা যায় এই সিস্টেমের দৌলতে। এখন এই সিস্টেমের সর্বাধিক পাল্লা ৬০ কিমি। দুর্গম এলাকার লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম পিনাকা। যে কারণে, পাশ্চাত্য দেশেও এটি ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। আরমেনিয়া ইতিমধ্যে এই সিস্টেম কিনেছে এবং চুক্তি মোতাবেক প্রথম ব্যাচ তাজের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। ফ্রান্স সহ বিশ্বের একাধিক দেশ পিনাকা (Pinaka MBRL System) কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

  • Union Budget 2025: প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা, বৃদ্ধি গতবারের তুলনায় ৯.৫ শতাংশ

    Union Budget 2025: প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা, বৃদ্ধি গতবারের তুলনায় ৯.৫ শতাংশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ল চলতি বছরের বাজেটে (Union Budget 2025)। শনিবার, সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেখানেই তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ (Defence Budget Allocation) করা হয়েছে ৬ লক্ষ ৮১ হাজার ২১০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৬ লক্ষ ২১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। ফলে, গতবারের তুলনায় বরাদ্দ বেড়েছে ৯.৫ শতাংশ।

    মূলধন ব্যয় কতটা বাড়ল, তা অতি গুরুত্বপূর্ণ

    প্রতিরক্ষায় খরচের বিভিন্ন দিকের মধ্যে অন্যতম বড় হল মূলধন ব্যয়। এবারের বাজেটে (Union Budget 2025) মূলধন ব্যয় খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। যা গতবারের তুলনায় ১২.৯ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই বরাদ্দের (Defence Budget Allocation) পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ৭২ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে (Union Budget 2025) পেশ করা নথি অনুযায়ী, এবছর বরাদ্দ হওয়া মূলধন ব্যয়ের মধ্যে ৪৮ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বিমান ও ইঞ্জিনের জন্য। ২৪ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ নৌসেনার জন্য। ৬৩ হাজার ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ অন্য সরঞ্জামের জন্য। অন্যদিকে, রাজস্ব খরচ বাবদ ধার্য করা হয়েছে ৪ লক্ষ ৮৮ হাজার ৮২২ কোটি টাকা, যার মধ্যে আবার পেনশন বাবদ বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা।

    মোদি জমানায় মূলধন ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ

    পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সাল থেকে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ (Defence Budget Allocation) প্রতি বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে, মূলধন ব্যয়ের খাতে বরাদ্দের পরিমাণ যথেষ্ট পরিমাণে বেড়েছে। তথ্য বলছে, কোভিড-পূরবর্তী যুগ থেকে এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান আরও বলছে, ২০১৫-২০ সময়ে প্রতি বছরে মূলধন ব্যয়ের বরাদ্দের বৃদ্ধির হার ছিল ৬ শতাংশ। সেখানে, ২০২০-২৫ সময়ে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৯.১ শতাংশে। বিগত ১১ বছরে মোদি জমানায় প্রতিরক্ষায় মূলধন ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে (Union Budget 2025)। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই খরচের বৃদ্ধির হার ২৭.৭ শতাংশ ছিল, যা এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক। তার আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ২৫.২ শতাংশ।

    প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে

    প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষ নাগাদ দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে ৩ লক্ষ কোটিতে নিয়ে যেতে চায় মোদি সরকার। একইসময়ে, প্রতিরক্ষা রফতানিকে বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে চায় কেন্দ্র। গত ৫ বছর ধরে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশ ভারতের থেকে অস্ত্র কিনে চলেছে। মায়ানমার ও ভিয়েতনাম ভারতের দীর্ঘদিনের খদ্দের। এর সঙ্গে নাম লিখিয়েছে ফিলিপিন্স এবং ইন্দোনেশিয়াও। গত ১০ বছরে ভারতের অস্ত্র রফতানি ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে যেখানে এই পরিমাণ ছিল ১৯০০ কোটি টাকা। সেখানে ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা (Union Budget 2025)।

  • India Defence: ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স যাচ্ছেন মোদি, তখনই স্বাক্ষর রাফাল-এম যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি?

    India Defence: ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স যাচ্ছেন মোদি, তখনই স্বাক্ষর রাফাল-এম যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খুব শীঘ্রই ভারতীয় নৌসেনার জন্য ২৬টি রাফাল-এম যুদ্ধবিমান ও তিনটি স্করপিন সাবমেরিন কিনতে ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি (India France Deal) করতে চলেছে ভারত। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে এমনটাই খবর।

    নৌসেনার ‘গেমচেঞ্জার’ রাফাল-মেরিন যুদ্ধবিমান

    যুদ্ধবিমান থেকে অস্ত্র— প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কেনাকাটার দায়িত্বে রয়েছে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (India Defence)। সম্প্রতি, এই কাউন্সিলের বৈঠকে ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে একপ্রকার সবুজ সঙ্কেত মিলেছে বলে জানা যাচ্ছে। এর আগে, নৌসেনার জন্য রাফাল-এম যুদ্ধবিমান ও স্করপিন সাবমেরিন কেনার বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটি বা ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (সিসিএস)। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই বাস্তবায়িত করা হতে পারে চুক্তি (India France Deal)। এর ফলে, ভারতীয় নৌসেনার শক্তি এক লপ্তে অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা (India Defence)। তাঁদের মতে, ভারতীয় নৌসেনার জন্য রাফাল-মেরিন যুদ্ধবিমান ‘গেমচেঞ্জার’ হতে পারে।

    মোদির প্যারিস সফরেই স্বাক্ষর হবে চুক্তি?

    কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখ প্যারিস যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi)। সেখানে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধা নিয়ে একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। তারই ফাঁকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করার কথা মোদির। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই সম্ভবত চুক্তি (India France Deal) সম্পন্ন হতে পারে। বর্তমানে তা একেবারেই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে, ফ্রান্সের থেকে ২২টি রাফাল-এম যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (India Defence)। এই যুদ্ধবিমানগুলি নৌসেনার বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত-এ মোতায়েন করার কথা। তারই সঙ্গে তিনটি স্করপিন সাবমেরিন কেনার বিষয়েও অনুমোদন মিলেছিল।

    রাফাল-এম জেটের জন্য দুই দেশের সরাসরি চুক্তি?

    নৌসেনার প্রোজেক্ট ৭৫-এর আওতায় ফ্রান্সের নেভাল গ্রুপের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায় ৬টি স্করপিন সাবমেরিন ভারতের মাঝগাঁও ডকইয়ার্ডে ইতিমধ্যেই নির্মিত হয়েছে। এখন অতিরিক্ত তিনটি সাবমেরিনের জন্য চুক্তি (India France Deal) স্বাক্ষরিত হতে চলেছে (India Defence)। শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য কেনা রাফাল যুদ্ধবিমানের সময় যেমন ইন্টার-গভর্নমেন্টাল এগ্রিমেন্ট (দুই সরকারের মধ্যে সরাসরি চুক্তি) হয়েছিল, ঠিক তেমনভাবেই নৌসেনার জন্য রাফাল-এম যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হতে পারে। তেমনটা হলে, সবকটি রাফাল-এম যুদ্ধবিমান ফ্রান্সে নির্মিত হয়ে এখানে আসবে। এতে ভারতীয় নৌসেনা অত্যন্ত দ্রুত এই যুদ্ধবিমান হাতে পাবে।

    প্রতিরক্ষায় ভারত-ফ্রান্স বন্ধুত্ব…

    মোদি জমানায় ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রতিরক্ষা সমঝোতা ও সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। একদিকে, ভারত যেমন ফ্রান্সের থেকে যুদ্ধবিমান ও অত্যাধুনিক মিসাইল আমদানি করছে (India France Deal)। তেমনভাবেই, ভারতের নিজস্ব পিনাকা মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার কেনার বিষয়ে বিপুল আগ্রহ দেখিয়েছে ফ্রান্স। এর পাশাপাশি, দুই দেশ যুদ্ধবিমান ও সামরিক হেলিকপ্টারের জন্য অত্যাধুনিক জেট ইঞ্জিন যৌথভাবে নির্মাণ করার বিষয়ে আলোচনা অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে (India Defence)।

  • Rafale M Deal: ভারতীয় নৌসেনায় আসছে ২৬টি ‘রাফাল এম’ যুদ্ধবিমান! ট্যুইটে ঘোষণা দাসোর

    Rafale M Deal: ভারতীয় নৌসেনায় আসছে ২৬টি ‘রাফাল এম’ যুদ্ধবিমান! ট্যুইটে ঘোষণা দাসোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনা ছিলই। এবার সরকারি ঘোষণাও হয়ে গেল। ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিতে চলেছে ফরাসি সংস্থা দাসো নির্মিত ২৬টি রাফাল মেরিন (সংক্ষেপে রাফাল এম) যুদ্ধবিমান (Rafale M Deal)। শনিবার প্রস্তুতকারী সংস্থার তরফে এই মর্মে একটি ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনায় ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবার দেশের নৌসেনার বায়ু-শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিমানের নৌ-সংস্করণও কেনার পথে কেন্দ্র, এমনটাই জানা গিয়েছে।

    কেন্দ্রকে উদ্ধৃত করে ঘোষণা দাসোর

    দুদিনের ফ্রান্স সফর সেরে শনিবারই আরব আমিরশাহীর ঝটিকা সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জল্পনা ছিল, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যেই রাফাল কেনার কথা ঘোষিত হবে। কিন্তু, মোদির বিমান ফ্রান্স ছাড়তেই এই ঘোষণা করা হয় কেন্দ্রের তরফে (Rafale M Deal)। কেন্দ্রীয় সরকারকে উদ্ধৃত করে দাসোর তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে সফল ট্রায়াল প্রক্রিয়ার পর ‘রাফাল এম’ বিমান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে (Rafale M For Indian Navy)। ট্রায়াল-পর্বে প্রমাণিত হয়েছে যে ভারতীয় নৌসেনার যাবতীয় প্রয়োজনীয়তা পুরণ করতে সক্ষম ‘রাফাল এম’। ভারতীয় বিমানবাহী রণতরী থেকে অপারেট করার ক্ষেত্রে পুরোপুরি সক্ষম এই যুদ্ধবিমান। 

    আরও পড়ুন: নৌসেনার চুক্তির ‘ডগফাইটে’ কীভাবে ‘এফ ১৮’-কে টেক্কা দিল ‘রাফাল এম’?

    এবার শুরু হবে দর কষাকষি

    প্রসঙ্গত, মোদির ফ্রান্স সফরের ঠিক আগেই, নৌসেনার জন্য ২৬টি ‘রাফাল এম’ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (Rafale M Deal)। পাশাপাশি, ফরাসি সংস্থা ডিসিএন নির্মিত তিনটি স্করপিন শ্রেণির সাবমেরিন কেনারও বিষয়েও সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়। এই তিন প্রচলিত শক্তিচালিত সাবমেরিন মুম্বইয়ের মাঝগাও ডকে তৈরি করা হবে। ২৬টি রাফাল কিনতে কত দাম পড়বে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। সেই নিয়ে এবার দুপক্ষের মধ্যে দর-কষাকষি চলবে। ঠিক তেমনভাবেই, বরাত মেলার পর কতদিনের মধ্যে যুদ্ধবিমান ভারতে আসতে শুরু করবে, তা নিয়েও আলোচনা হবে (Rafale M For Indian Navy)।

    ভারত-ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দীর্ঘ

    এখানে বলে দেওয়া যাক, এর আগে, ২০১৫ সালে মোদির ফ্রান্স সফরে ৩৬টি রাফাল কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। একেবারে, দুই সরকারের মধ্যে ওই চুক্তি মোতাবেক ভারত ফ্রান্সের থেকে একেবারে তৈরি অবস্থায় ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান বায়ুসেনার জন্য কিনেছিল। ইতিমধ্যেই ভারতে এসেছে সেই যুদ্ধবিমানগুলি। সম্প্রতি ফ্রান্সের বাস্তিল দিবসে ফ্লাই পাস্টেও অংশ নিয়েছিল সেগুলি। রাফাল কেনার অনেক আগে ১৯৮০ সালে মিরজ বিমানও কিনেছিল ভারত। এখনও সেই যুদ্ধবিমানের দুটি স্কোয়াড্রন ভারতীয় বায়ুসেনার অংশ। ২০০৫ সালে ৬টি স্করপিন ক্লাস ডিজেল সাবমেরিন ফ্রান্স থেকে এসেছিল ভারতে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • PM Modi In France: বাস্তিল দিবসে প্যারিসের রাজপথে পঞ্জাব রেজিমেন্টের কুচকাওয়াজ, স্যালুট প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi In France: বাস্তিল দিবসে প্যারিসের রাজপথে পঞ্জাব রেজিমেন্টের কুচকাওয়াজ, স্যালুট প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশের মাটিতে ভারতীয় সেনার কুচকাওয়াজ। সামনে থেকে স্যালুট জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঐতিহাসিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব। 

    বাস্তিল দিবসের প্যারেডে প্রধান অতিথি নরেন্দ্র মোদি

    ফ্রান্সের বাস্তিল দিবস (Bastille Day) বা ফরাসি জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi In France)। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের পরে, মোদিই হলেন দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী যাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়। প্রতিবছরের মতো এবছরও প্রথামাফিক বাস্তিল দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের রাজপথ শঁজেলিজে-তে। সেই প্যারেডে অংশগ্রহণ করেছিল ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিন শাখা- স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার প্রতিনিধি দল। 

    পঞ্জাব রেজিমেন্টকে স্যালুট মোদির (PM Modi In France)

    এদিন কুচকাওয়াজে ভারতীয় বাহিনীর মার্চ পাস্টে সবার আগে ছিল সেনার পঞ্জাব রেজিমেন্ট (Punjab Regiment)। এই রেজিমেন্ট ভারতের অন্যতম পুরনো রেজিমেন্ট। দুই বিশ্বযুদ্ধে ফরাসিদের হয়ে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল পঞ্জাব রেজিমেন্ট। সেই সময় পরাধীন ভারতের ইংরেজ শাসকের নির্দেশে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল ভারতীয় সেনা। আজও শিখ সেনাদের বীরত্বের কাহিনী ফ্রান্সে অত্যন্ত জনপ্রিয়। যে কারণে, এবারের কুচকাওয়াজে পঞ্জাব রেজিমেন্টকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

    প্যারেডে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিন শাখা

    প্যারিসের প্যারেডে ভারতীয় সেনার পাঞ্জাব রেজিমেন্টের সদস্যরা মার্চ পাস্ট করেন। প্যারেডে পাঞ্জাব রেজিমেন্টকে (Punjab Regiment) নেতৃত্ব দিলেন কর্নেল অমন জগতাপ। সেই সময় তাদের ব্যান্ডে বাজছিল ‘সারে জহাঁ সে আচ্ছা…’ গানের কলি। সামনে দিয়ে যেতেই উঠে দাঁড়িয়ে স্যালুট জানালেন নরেন্দ্র মোদি (PM Modi In France)। উঠে দাঁড়িয়ে পঞ্জাব রেজিমেন্টকে সম্মান জানালেন মোদির পাশে বসে থাকা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ ও তাঁর স্ত্রী তথা ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিগিট মাক্রঁ। পঞ্জাব রেজিমেন্টের পাশাপাশি, এদিনের কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছিল ভারতীয় নৌসেনা ও বায়ুসেনাও। মোট ২৬৯ সদস্যের ভারতীয় দলও কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। ভারতীয় বায়ুসেনার তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমানও ফরাসি জেটের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে ফ্লাইপাস্টে যোগ দেয়।

    আরও পড়ুন: ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত মোদি

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Bastille Day: বাস্তিল দিবসে প্রধান অতিথি নরেন্দ্র মোদি, কুচকাওয়াজে ভারতীয় সামরিক বাহিনী! কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    Bastille Day: বাস্তিল দিবসে প্রধান অতিথি নরেন্দ্র মোদি, কুচকাওয়াজে ভারতীয় সামরিক বাহিনী! কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুদিনের সফরে ফ্রান্সে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi In France)। এই দু’দিনে তাঁর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। তবে, তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ হল আগামিকাল প্যারিসে বাস্তিল দিবসের (Bastille Day) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা। যেখানে অংশগ্রহণ করতে চলেছে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিন শাখা—স্থল, নৌ ও বায়ুসেনা। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই আমন্ত্রণ যেমন একদিকে গুরুত্বপূর্ণ, একইভাবে সমান তাৎপর্যপূর্ণও বটে! কারণ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের পরে, মোদিই হলেন দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে।

    বাস্তিল দিবসের (Bastille Day) তাৎপর্য ও ইতিহাস

    তার আগে জেনে নেওয়া যাক, বাস্তিল দিবস ঠিক কী? কী-ই বা এর ইতিহাস? বাস্তিল ডে বা বাস্তিল দিবস হল অনেকটা ফরাসি স্বাধীনতা দিবস। ফরাসিদের কাছে এটা ‘ফেত নাশিওনাল ফ্রঁসেজ’ বা ফরাসি জাতীয় উৎসব। ১৭৮৯ সালে ১৪ জুলাই পতন হয়েছিল বাস্তিল দূর্গের। ফরাসিদের কাছে এই দিনটির অন্য তাৎপর্য। কারণ, এই দিনটি ফরাসি বিপ্লব-এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিন। ইতিহাসবিদদের মতে, এই দিন থেকেই নাকি সেদেশে সাম্রাজ্যবাদের পতন ঘোষণা হয়েছিল এবং ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল। বর্তমানে, এদিন ফ্রান্সে সব কিছু ছুটি থাকে। বিশ্বব্যাপী ফরাসিরা এদিন উৎসবে মেতে ওঠেন। রাজধানী প্যারিসের (স্থানীয় ভাষায় পারি) রাজপথ শজেঁলিজে-তে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও শোভাযাত্রা হয়। সামরিক প্যারেড হয়। অনেকটা আমাদের দেশের প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো। ফরাসিরা এই দিনটিকে ‘ফেত দ্য লা ফেদেরাশিয়োঁ’ বা ফরাসি রাষ্ট্রীয় উৎসব (Bastille Day) হিসেবে পালন করে থাকেন। ফরাসিদের মতে, এটি ফরাসি একতা প্রকাশের উৎসব। 

    আরও পড়ুন: ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা দিলেন নরেন্দ্র মোদি, দুদিনের সফরে কী কী কর্মসূচি রয়েছে?

    ভারতীয় সামরিক বাহিনী ও বিশ্বযুদ্ধ

    এবারের কুচকাওয়াজে অংশ নেবে পঞ্জাব রেজিমেন্ট। যা ভারতীয় সেনার প্রাচীন রেজিমেন্টগুলির অন্যতম। দু’টি বিশ্বযুদ্ধেই ব্রিটেনের হয়ে লড়াইতে অংশ নিতে হয়েছিল পরাধীন ভারতকে। ওই সময় ইউরোপ ও মধ্য প্রাচ্যের একাধিক রণাঙ্গণে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেয় এই রেজিমেন্ট। প্রবল পরাক্রমের জন্য রয়্যাল ক্রস ও ভিক্টোরিয়া ক্রস-এর মতো সম্মান পায় এই রেজিমেন্ট। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল প্রায় ১৩ লক্ষ ভারতীয় ফৌজ। সেই সময়, জার্মান বাহিনীর ফ্রান্সে ঢোকা আটকে দিয়েছিলেন শিখ সৈনিকরা। তাঁদের সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে পিছু হটেছিল জার্মানরা। ১৯১৬ সালে যুদ্ধ জয়ের সাফল্য তুলে ধরতে প্যারিসের রাস্তায় প্যারেড করেছিল পঞ্জাব রেজিমেন্ট। সম্প্রতি, তারই একটি ছবি নেট-দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্যারিসের রাস্তায় কুচকাওয়াজ করে যাওয়া শিখ জওয়ানের দিকে ফুল ছুড়ে দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এক ফরাসি তরুণী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও ১৬টি ব্যাটেল অনার পেয়েছিল পঞ্জাব রেজিমেন্ট।

    কুচকাওয়াজে অংশ নেবে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিন শাখাই

    এবারের বাস্তিল দিবস (Bastille Day) কুচকাওয়াজে ভারতীয় সেনার তিন শাখার তরফে অংশ নেবেন মোট ২৬৯ জন। এদের মধ্যে রয়েছে সেনার একটি ব্যান্ড দলও। প্যারেডে বায়ুসেনার টিমকে নেতৃত্ব দেবেন স্কোয়াড্রন লিডার সিন্ধু রেড্ডি। রাশিয়ার তৈরি মি-১৭ কপ্টারের ওড়াতে পারেন তিনি। চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্য পথে বায়ুসেনার ১৪৪ জনের টিমকে নেতৃত্ব দেন তিনি। অন্যদিকে, প্যারিসের মার্চ পাস্টে ভারতীয় স্থলসেনা দলের নেতৃত্ব থাকছে ক্যাপ্টেন অমন জগতপের কাঁধে। নৌবাহিনীর নেতৃত্ব করবেন কমান্ডার ব্রত বাঘেল। এছাড়া ফ্লাই পাস্টে অংশ নেবে ফরাসি সংস্থা দাসো নির্মিত ভারতীয় বায়ুসেনার তিনটি রাফাল ফাইটার জেট। গত কয়েক বছর ধরেই এই জেটগুলি ব্যবহার করা শুরু করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share