Tag: India Defence Procurement

India Defence Procurement

  • Defence Procurement: আরও এস-৪০০ থেকে নতুন পরিবহণ বিমান— ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার সামরিক কেনাকাটায় ছাড়পত্র কেন্দ্রের

    Defence Procurement: আরও এস-৪০০ থেকে নতুন পরিবহণ বিমান— ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার সামরিক কেনাকাটায় ছাড়পত্র কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে একযোগে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। শুক্রবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ ক্রয় সংস্থা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) প্রায় ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রস্তাবে ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই অনুমোদনের আওতায় ভারতীয় বায়ুসেনা, স্থলসেনা ও কোস্ট গার্ডের জন্য অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ব্যাচের এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (S-400 Air Defence System), মাঝারি ক্ষমতার পরিবহণ বিমান (MTA), আধুনিক আর্টিলারি গান ও নজরদারি ব্যবস্থা (AEW&C) এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত মানবহীন বিমান (RPA)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এটি সাম্প্রতিক কালের অন্যতম বৃহত্তম একদিনে অনুমোদিত প্রতিরক্ষা প্রকল্প।

    বায়ুসেনার শক্তি বাড়াতে ৬০টি নতুন পরিবহণ বিমান

    বায়ুসেনার জন্য ৬০টি মাঝারি পরিবহণ বিমান কেনার প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল। এগুলি পুরনো সোভিয়েত আমলের এএন-৩২ (AN-32) ও আইএল-৭৬ (IL-76) বিমানের জায়গা নেবে। নতুন বিমানগুলির বহন ক্ষমতা ১৮ থেকে ৩০ টনের মধ্যে হবে, যা কৌশলগত ও ট্যাকটিক্যাল এয়ারলিফ্ট ক্ষমতা বাড়াবে। সূত্রের খবর, ১২টি বিমান সরাসরি বিদেশ থেকে কেনা হবে এবং বাকি ৪৮টি ভারতে তৈরি করা হবে, যা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও জোরদার করবে। এই প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে মার্কিন সংস্থা লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin) নির্মিত সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস (C-130J Super Hercules), এমব্রেয়ার (Embraer) নির্মিত সি-৩৯০ মিলেনিয়াম (C-390 Millennium) এবং এয়ারবাস ডিফেন্স নির্মিত (Airbus Defence and Space) নির্মিত এ-৪০০এম অ্যাটলাস (A-400M Atlas)।

    এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরও ৫টি ইউনিট

    এর পাশাপাশি, রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরও পাঁচটি ইউনিট কেনার অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। ২০১৮ সালে ভারত ৫টি এস-৪০০ সিস্টেম কেনার জন্য ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই তিনটি স্কোয়াড্রন হাতে এসেছে। গত বছরের ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা বিশেষভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলেই নতুন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ঘাতক ইউসিএভি-র চারটি রেজিমেন্ট গঠন

    রিমোটলি পাইলটেড স্ট্রাইক এয়ারক্রাফ্ট (RPA) কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল, যা আক্রমণাত্মক ও নজরদারি অভিযানে ব্যবহৃত হবে। সূত্রের খবর, ডিআরডিও-র তৈরি ঘাতক ড্রোনের (Ghatak UCAV) চারটি স্কোয়াড্রন গড়ে তোলার সবুজ সঙ্কেত মিলেছে কেন্দ্রের তরফে। দূরনিয়ন্ত্রিত আক্রমণাত্মক ঘাতক মানবহীন বিমানটি আক্রমণাত্মক প্রতিরোধমূলক ও সমন্বিত আকাশ অভিযানে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি এটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও গোপনে পরিদর্শন (ISR) কার্যক্রমও পরিচালনা করতে পারবে। পাশাপাশি সুখোই-৩০এমকেআই (Sukhoi Su-30MKI) যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ আপগ্রেডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের কার্যক্ষমতা ও পরিষেবা জীবন বাড়ে।

    সেনাবাহিনীর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি

    স্থলসেনার জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ছাড়পত্র মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ার ডিফেন্স ট্র্যাকড সিস্টেম, হাই ক্যাপাসিটি রেডিও রিলে সিস্টেম, ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী (আর্মার পিয়ার্সিং) গোলাবারুদ এবং আকাশে নজরদারি ব্যবস্থা। এছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ধনুষ আর্টিলারি গান (Dhanush artillery gun) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশীয়ভাবে তৈরি ১৫৫ মিমি x ৪৫-ক্যালিবার টোড আর্টিলারি গান বোফর্স প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই সিস্টেমে ডিজিটাল কন্ট্রোল, উন্নত টার্গেটিং ও ন্যাভিগেশন রয়েছে এবং এটি প্রায় ৩৮ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম।

    উপকূলরক্ষীদের জন্য হাই-স্পিড হোভারক্রাফ্ট

    ভারতীয় কোস্ট গার্ড বা উপকূলরক্ষী বাহিনীর জন্য হেভি ডিউটি এয়ার কুশন ভেহিকল (হোভারক্রাফ্ট) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলি উপকূলীয় নজরদারি, উদ্ধারকাজ ও দ্রুত লজিস্টিক সাপোর্টে ব্যবহৃত হবে।

    রেকর্ড পরিমাণ প্রতিরক্ষা অনুমোদন

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত ডিএসি মোট ৫৫টি প্রস্তাবে ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। একই সময়ে ২.২৮ লক্ষ কোটি টাকার ৫০৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। কর্তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তগুলি দেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ, স্বনির্ভরতা এবং সামগ্রিক প্রস্তুতি আরও মজবুত করার দিকেই বড় পদক্ষেপ।

  • Defence MSME: এমএসএমই থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনার পরিমাণ ছুঁল সর্বকালীন রেকর্ড

    Defence MSME: এমএসএমই থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনার পরিমাণ ছুঁল সর্বকালীন রেকর্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রের বি টু জি (B2G) পোর্টাল গভর্নমেন্ট ইমার্কেটপ্লেসে (Government eMarketplace), ক্ষুদ্র ও মাঝারি ও কুটীর শিল্পোদ্যোগ (MSME) এবং অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (Defence Ministry) প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন পণ্য এবং পরিষেবা কেনার (Defence Procurement) পরিমাণ চলতি অর্থবর্ষে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫০ শতাংশ বেড়েছে। শনিবার মন্ত্রকের একটি বিবৃতি অনুসারে, জিইএম-এর মাধ্যমে চলতি অর্থবর্ষে ১৫,০৪৭.৯৮ কোটি টাকার পণ্য ক্রয় হয়েছে, যা সর্বকালীন রেকর্ড।
      
    মন্ত্রকের কথায়, পুরনো টেন্ডার প্রক্রিয়াকে পুনর্গঠন করতে এবং ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে ২০১৬ -র অগাস্ট মাসে শুরু হয়েছিল জিইএম। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অল্প সময়ের মধ্যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ডিজিটাল ড্রাইভের পথ অনুসরণ করেছে। প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সাফল্য লাভ করেছে সরকারের এই পদক্ষেপ। 

    ২০২০ সালের মার্চ মাসে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং কুটীর শিল্প মন্ত্রকের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ির দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০২০ অর্থবর্ষের মাঝামাঝি সময় অবধি প্রতিরক্ষা পাবলিক সেক্টর ইউনিটগুলিকে সরবরাহকারী মোট এমএসএমই বিক্রেতার সংখ্যা ছিল ১০,৫০৬। ২০১৯- এ সেই সংখ্যা ছিল  ৮,৬৪৩ এবং ২০১৮-এ ৭,৫৯১। ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সেই সংখ্যা বেড়ে ১২,০০০-এ পৌঁছয়। ফলস্বরূপ, এমএসএমই থেকে ডিপিএসইউ- র অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ ২০১৯ অর্থবর্ষে ৪৮৪২.৯২ কোটি টাকা থাকলেও তা ২০২১ অর্থবর্ষে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪৬৩.৮২ কোটি টাকা।   

    ২০২০ সালে সরকার প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া (DAP) ‘মেক প্রজেক্ট’ (Make Projects) চালু করে, যাতে সরকারি তহবিল এবং শিল্প তহবিল উভয়ের মাধ্যমেই প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয়করণ এবং উন্নয়ন সম্ভব হয়। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) পোর্টাল অনুসারে, মেক  প্রকল্পগুলি প্রতিরক্ষায় এমএসএমইর ভূমিকাকে আরও জোরাল করতে সাহায্য করেছে। এই সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির ৪০ শতাংশ অর্ডার ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প সংস্থাগুলির জন্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ১০০০ কোটি টাকার কাজ বরাদ্দ করা হয়েছে এমএসএমই সংস্থাগুলোর জন্যে।

    ইতিমধ্যে, জিইএম-এর সামগ্রিক ৪২.৩৫ লক্ষ বিক্রেতা এবং মন্ত্রকের ৬০,০০০ সরকারি বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ২.৪০ লক্ষ কোটি টাকার কেনাবেচা হয়েছে। মোট বিক্রেতার সংখ্যার মধ্যে ৭.৭০ লক্ষই ক্ষুদ্র এবং ছোট উদ্যোগ থেকে আসা। জিইএমের তথ্য অনুসারে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র এবং ছোট উদ্যোগের সংস্থাগুলিই ৫৬%  ব্যবসা করেছে এই পোর্টালে।

     

     

LinkedIn
Share