Tag: India economy

India economy

  • PM Modi: ‘অর্ধেক জল, অর্ধেক বাতাস—গ্লাস পুরো ভরা’, ১৩ বছর পরে এসআরসিসিতে নিজের পুরনো বার্তা স্মরণ মোদির

    PM Modi: ‘অর্ধেক জল, অর্ধেক বাতাস—গ্লাস পুরো ভরা’, ১৩ বছর পরে এসআরসিসিতে নিজের পুরনো বার্তা স্মরণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৩ বছর পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সে (SRCC) ফিরে নিজের পুরনো ‘অর্ধেক ভরা গ্লাসে’র উদাহরণ স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার সন্ধ্যায় এসআরসিসির শতবর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ২০১৩ সালের সেই বক্তৃতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি বরাবর সম্ভাবনার দিকটি দেখেছেন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ওই কলেজে বক্তৃতা দিয়েছিলেন মোদি। হাতে এক গ্লাস জল তুলে তিনি বলেছিলেন, আশাবাদীরা সেটিকে অর্ধেক ভরা এবং হতাশাবাদীরা অর্ধেক খালি বলবেন। কিন্তু তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আলাদা—গ্লাসটি অর্ধেক জলে এবং অর্ধেক বাতাসে পূর্ণ। শনিবার সেই প্রসঙ্গ ফের তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি গ্লাসটিকে পুরো ভরা হিসেবে দেখি—অর্ধেক জল এবং অর্ধেক বাতাস।’’ তাঁর দাবি, ২০১৩ সালের সেই বক্তব্যের প্রভাব এখনও অনুভব করা যায়। সেই সময় বিজেপি বিরোধী আসনে ছিল এবং কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। তা সত্ত্বেও তিনি ওই কলেজের মঞ্চকে রাজনৈতিক সমালোচনার জন্য ব্যবহার করেননি বলেও জানান। তাঁর কথায়, যা বলেছিলেন, তা বিশ্বাস থেকেই বলেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে সেই পথেই এগিয়েছেন।

    উন্নয়নের গতি এখন অনেক বেশি’ (PM Modi)

    শনিবারের বক্তৃতার বড় অংশ জুড়ে ছিল ২০১৩ সালের ভারত এবং বর্তমান ভারতের তুলনা। পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে ভারত।

    ২০১৩ সালের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় সংবাদপত্রের শিরোনামে থাকত সীমান্তে সেনা নিহত হওয়া, ১০ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতির মতো বিষয়। দেশের সর্বত্র ‘পলিসি প্যারালাইসিসে’র আলোচনা ছিল এবং ভারতকে বিশ্বের ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ অর্থনীতির তালিকায় রাখা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এর বিপরীতে বর্তমান ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগেই প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ব যখন সংকটের মধ্যে রয়েছে, সেই সময় এই পরিসংখ্যান ভারতের শক্তি স্পষ্ট করে।’’

    তাঁর দাবি, যারা ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভে’র মধ্যে দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁরা বর্তমান পরিসংখ্যান মেনে নিতে পারছেন না। গাড়ি বিক্রি, নির্মাণ, উৎপাদন এবং শিল্পক্ষেত্রের কার্যকলাপ বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। মোদির বক্তব্য, ভারত শুধু বাড়ছে না, দ্রুত গতিতেও এগিয়ে চলেছে।

    তবে প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে ইতিমধ্যেই কয়েকজন অর্থনীতিবিদ এবং বিরোধী নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের সরাসরি নাম না করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ‘নাখোশ ফুফাজি’ বা সবকিছুর মধ্যে নেতিবাচক দিক দেখতে অভ্যস্ত মানুষ হিসেবে কটাক্ষ করেন (PM Modi)।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়েও বার্তা

    দেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এখন সন্ত্রাসবাদ শেষ পর্যায়ে। তারা যদি সাহস দেখায়, তাহলে সেনাবাহিনী ভিতরে ঢুকে তাদের শেষ করে দেয়।’’ সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুরে’র প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

    বিরোধীদের কটাক্ষ

    মোদির বক্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের তরফেও তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। কংগ্রেস সাংসদ তথা মুখপাত্র পবন খেরা এক্স-এ লেখেন, বক্তৃতাটি এতটাই বিরক্তিকর ছিল যে ‘‘পেঁয়াজও কেঁদে ফেলত’’।

    কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় শুধু ২০১৩ এবং ২০৪৭ সালের কথা বলেছেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের বর্তমান সমস্যাগুলি নিয়ে কথা বলেননি।

    ১৩ বছর পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসআরসিসিতে মোদি

    ২০১৩ সালে এসআরসিসিতে মোদি এসেছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। তখন গুজরাটে তাঁর চতুর্থ দফার মুখ্যমন্ত্রিত্বের কয়েক সপ্তাহ কেটেছে এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সেই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ১২ বছর পূর্ণ হয়েছিল।

    ১৩ বছর পর শনিবার তিনি সেই এসআরসিসিতে ফিরলেন টানা তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন তিনি। আগামী মাসে গুজরাট ও কেন্দ্র—দুই পর্যায়ের দায়িত্ব মিলিয়ে সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর ২৫ বছর পূর্ণ হবে (PM Modi)।

    ২০১৩ সালের এসআরসিসি বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘এমার্জিং বিজনেস মডেলস ইন দ্য গ্লোবাল সিনারিও (Emerging Business Models in the Global Scenario)’। তবে সেই বক্তৃতা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে সেটি কার্যত একটি শাসন-ভাবনার ঘোষণাপত্র হয়ে উঠেছিল।

    তখন মোদি বলেছিলেন, সমাজের একটি অংশ, বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলের অনেকে দেশের যুবসমাজকে শুধু ‘নতুন প্রজন্মের ভোটার’ হিসেবে দেখেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ভারতকে বোঝানো যে দেশের যুবসমাজ আসলে ‘নতুন যুগের শক্তি’।

    ঘটনাচক্রে শনিবার ছিল শিক্ষক দিবস। এদিনই ওই কলেজে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালে গুজরাটের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেছিলেন, কোনও ব্যবসায়ী বিদেশে পণ্য রফতানি করতে গেলে ডলার ও পাউন্ড নিয়ে আসেন। কিন্তু একজন শিক্ষক বিদেশে গেলে তিনি একটি গোটা প্রজন্মকে গড়ে তোলেন।

    এর আগে (SRCC) এপ্রিল মাসে নিজের বাসভবনে এসআরসিসির পরিচালন পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। শতবর্ষ উপলক্ষে (PM Modi) একটি স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

     

  • Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ অনেক দেরিতে বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার (Belgium PM)। তাঁর বক্তব্য, অর্থনৈতিক নির্ভরতা যখন রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন মুক্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারীত্বের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন (Modi Trade Warning) তিনি। ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বিভাজনের প্রেক্ষাপটে দু’পক্ষের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়েভার বলেন, ইউরোপ বর্তমানে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রের নির্ভরতা কেবল অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে থাকছে না; বরং তা কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

    বদলাচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য (Belgium PM)

    তিনি বলেন, বিশ্বের বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে এবং কিছু দেশ নিজেদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা বা নির্ভরতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা ইউরোপের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ডি ওয়েভারের কথায়, ভারত ও ইউরোপের সামনে থাকা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ একই ধরনের। বিশেষ করে কোনও একটি দেশ বা শক্তির ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নির্ভরতা তৈরি হলে সেটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপের কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা ইউরোপকে নতুন করে বাণিজ্যনীতি ও অংশীদার বাছাইয়ের বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। ভারতের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, ইউরোপের বর্তমান উপলব্ধির অনেক আগেই ভারত এই ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা তখন ইউরোপ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নেয়নি।

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বহু আগেই ইউরোপকে সতর্ক করেছিলেন। তখন সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব পায়নি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপ সেই বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছে। ডি ওয়েভারের বক্তব্য, এই উপলব্ধি ইউরোপের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্বিত হলেও এখন তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

    বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামো যখন বিভিন্ন শক্তিশালী গোষ্ঠী ও বাণিজ্যিক ব্লকে ভাগ হয়ে পড়ছে, তখন ভারত ও ইউরোপ কীভাবে একটি স্থায়ী কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডি ওয়েভার সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক সম্মান, বহুপাক্ষিকতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।

    তাঁর মতে, ইউরোপ এমন অংশীদার খুঁজছে যারা বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থাশীল এবং শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এই জায়গায় ভারত ইউরোপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে (Modi Trade Warning)।

    বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে ডি ওয়েভার দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের বিপুল মানবসম্পদ, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন তিনি।

    জাপানের মতো তুলনামূলকভাবে পরিণত অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্যও তুলে ধরেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারতের অর্থনীতির বিকাশের পর্যায় এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইউরোপের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই দু’পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব বলেই মনে করেন তিনি।

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে ডি ওয়েভার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপের বাজারে উৎপাদন সক্ষমতার অতিরিক্ত অংশ কম দামে প্রবেশ করেছে। এর ফলে ইউরোপের নিজস্ব শিল্পভিত্তি দুর্বল হয়েছে এবং নির্দিষ্ট উৎসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই নির্ভরতাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে তিনি কোনও দেশের নাম সরাসরি না বললেও এমন একটি প্রতিবেশী দেশের কথা উল্লেখ করেন, যে এই প্রক্রিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টতই চিনের দিকে ইঙ্গিত ছিল। ডি ওয়েভারের মতে, ভারত ইউরোপের তুলনায় আগেই এই প্রবণতা উপলব্ধি করেছিল এবং সতর্ক করেছিল। কিন্তু ইউরোপ তখন সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেনি (Belgium PM)।

    বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উন্মুক্ততার নীতি বজায় রাখার পাশাপাশি কৌশলগত নির্ভরতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, মুক্ত বাণিজ্য মানে এমন নয় যে কোনও দেশের জাতীয় স্বার্থ বা নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নির্ভরতাগুলি উপেক্ষা করতে হবে। বরং উন্মুক্ত অর্থনীতির সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

    সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা

    ডি ওয়েভার আরও বলেন, ভারত ও ইউরোপের ইতিহাস, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু সেই পার্থক্য সত্ত্বেও গণতন্ত্র, উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দু’পক্ষের স্বার্থের যথেষ্ট মিল রয়েছে (Modi Trade Warning)।

    ভারতকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক শক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, বিশ্বব্যবস্থা যখন নতুনভাবে গড়ে উঠছে, তখন ভারতের মতো একটি বড় শক্তির কণ্ঠস্বর বাদ দিয়ে কোনও মুক্ত ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কল্পনা করা কঠিন।

    এদিকে ইউরোপের শক্তি হিসেবে তিনি তুলে ধরেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একক বাজার, শিল্প সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পূর্ব-অনুমানযোগ্য ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারকে। তাঁর মতে, এই দু’পক্ষের নিজস্ব সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব তৈরি করা সম্ভব (Belgium PM)।

    বাণিজ্য অংশীদার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য বাড়ানোর পক্ষে মত দেন ডি ওয়েভার। তাঁর বক্তব্য, যেসব দেশ নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা সম্মান করে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এর ফলে কোনও একটি দেশ বা অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

    বিশ্ব রাজনীতি

    বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে বিভিন্ন দেশকে নির্দিষ্ট কোনও একটি শিবির বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের সম্পর্ককে কোনও একটি পক্ষের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বদলে স্বাধীন ও পারস্পরিক স্বার্থনির্ভর অংশীদার হিসেবে দেখার পক্ষে তিনি (Belgium PM)।

    সব মিলিয়ে ডি ওয়েভারের বক্তব্যে ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যের পাশাপাশি কৌশলগত স্বনির্ভরতা, সরবরাহ-শৃঙ্খলের নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা এবং ভারতের আগের সতর্কবার্তাকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হল—ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু সস্তা পণ্য বা বড় বাজারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; নির্ভরতার ঝুঁকি, জাতীয় স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে (Modi Trade Warning)।

    আর সেই নতুন বাস্তবতায় ভারতকে ইউরোপের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনর্বিন্যাসের সময়ে ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যেতে পারে (Belgium PM)।

     

  • RBI Gold Reserves: ডলার ছেড়ে সোনার পথে ভারত! ৬ বছরে সর্বনিম্ন মার্কিন ট্রেজারি, বড় কৌশলগত বদল আরবিআই-এর

    RBI Gold Reserves: ডলার ছেড়ে সোনার পথে ভারত! ৬ বছরে সর্বনিম্ন মার্কিন ট্রেজারি, বড় কৌশলগত বদল আরবিআই-এর

    সুশান্ত দাস

    ভারত কি ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরতা কমাচ্ছে? কেন এক বছরে ২২.৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হল মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগ? আবার কেনই বা বিদেশে রাখা শত শত টন সোনা দেশে ফিরিয়ে আনছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)? প্রথম নজরে এই ঘটনাগুলি আলাদা মনে হলেও, অর্থনীতিবিদদের মতে এগুলি আসলে একই কৌশলের অংশ। বিশ্বের দ্রুত বদলে যাওয়া ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও নিরাপদ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ঝুঁকিমুক্ত করে তোলাই এখন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    কী ঘটেছে?

    ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ভারতের মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংসের পরিমাণ ২৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২২.৫ শতাংশ কমেছে মার্কিন সরকারি বন্ডে ভারতের বিনিয়োগ। এটি গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে ভারতের সোনার রিজার্ভ ৬৫৮ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে প্রায় ৮৮১ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে ৩৮০ টনেরও বেশি সোনা বিদেশের ভল্ট থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।এই দুটি পদক্ষেপকে একসঙ্গে দেখলেই ভারতের নতুন রিজার্ভ কৌশল স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    কেন মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগ কমাচ্ছে ভারত?

    এই প্রশ্নের সহজ উত্তর— ঝুঁকি কমানো। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ট্রেজারি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কারণ, মার্কিন অর্থনীতি এবং ডলারের উপর আন্তর্জাতিক আস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বদলেছে।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা দেশগুলির অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ হওয়ার নজির এবং বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতা দেখিয়ে দিয়েছে, কোনও একটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই কারণেই এখন অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক একই ঝুড়িতে সব ডিম না রেখে বিভিন্ন ধরনের সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতি নিচ্ছে।

    কেন সোনা এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?

    সোনা এমন একটি সম্পদ, যার মূল্য কোনও একক দেশের সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নীতির উপর নির্ভরশীল নয়। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি কিংবা মুদ্রার অস্থিরতার সময়ও সোনা সাধারণত তার গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখে। তাই একে ‘সেফ হেভেন অ্যাসেট’ বলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির কাছে সোনা শুধু একটি বিনিয়োগ নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রয়োজনে এটি সহজেই নগদে রূপান্তর করা যায় এবং কোনও বিদেশি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর এর অস্তিত্ব নির্ভর করে না।

    বিদেশে সোনা রেখে ঝুঁকি কোথায়?

    অনেক দেশ ঐতিহাসিক কারণে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে তাদের সোনা সংরক্ষণ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনাবলি দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংঘাত বা নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতিতে বিদেশে রাখা সম্পদের উপর প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে যেতে পারে। এই কারণেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ধীরে ধীরে দেশের ভল্টে সোনা ফিরিয়ে আনছে। এতে ভারতের সম্পদের উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তা ব্যবহারের স্বাধীনতাও নিশ্চিত হচ্ছে।

    শুধু ভারত নয়, বিশ্বও একই পথে…

    ভারতের পাশাপাশি, চিন গত এক বছরে তাদের মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংস ৭৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ৬৫১.১ বিলিয়ন ডলারে এনেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আগামী বছরেও সোনার রিজার্ভ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ এটি কোনও একক দেশের সিদ্ধান্ত নয়; বরং বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় একটি বড় প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

    তাহলে কি ডলারের যুগ শেষ?

    এর মানে একেবারেই নয় যে, ডলারের যুগ শেষ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, তেল লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখনও মার্কিন ডলারই রয়েছে। ভারতও এখনও ১৮১ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন ট্রেজারি ধরে রেখেছে। অর্থাৎ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ডলার ছেড়ে দিচ্ছে না; বরং ডলারের পাশাপাশি সোনা ও অন্যান্য সম্পদের ভারসাম্য বাড়াচ্ছে। এটিকে ডি-রিস্কিং বলা যায়, ডি-ডলারাইজেশন নয়।

    ভারতের জন্য এর অর্থ কী?

    এই কৌশলের মাধ্যমে ভারত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেতে পারে—

    • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৈচিত্র্যময় হবে।
    • আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা ভূরাজনৈতিক সংকটের ঝুঁকি কিছুটা কমবে।
    • মূল্যস্ফীতির সময় রিজার্ভের স্থিতিশীলতা বাড়বে।
    • বিদেশে রাখা সম্পদের উপর নির্ভরতা কমবে।
    • দীর্ঘমেয়াদে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা আরও নমনীয় হবে।

    আগামী দিনে কী নজরে রাখবেন?

    এখন নজর থাকবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরবর্তী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংক্রান্ত তথ্যের দিকে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য বড় অর্থনীতি—বিশেষ করে চিন, জাপান, ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং ব্রিকস (BRICS) দেশগুলিও একই পথে এগোয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি এই প্রবণতা আরও জোরদার হয়, তাহলে আগামী দশকে বিশ্বের বৈদেশিক রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও মার্কিন ডলারের আধিপত্য রাতারাতি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি এখন আর একটিমাত্র সম্পদের উপর নির্ভর করে থাকতে চাইছে না।

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কৌশল কী?

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে শুধু মার্কিন ট্রেজারি বিক্রি বা সোনা কেনার ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। এটি এমন এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, যার মূল লক্ষ্য ‘নিরাপত্তা, বৈচিত্র্য এবং সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ’। অর্থাৎ ভবিষ্যতের অনিশ্চিত বিশ্বে ভারতের বৈদেশিক রিজার্ভকে এমনভাবে সাজানো, যাতে কোনও একটি দেশের নীতি, নিষেধাজ্ঞা বা ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধাক্কা দিতে না পারে। এই কারণেই অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ কেবল রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন নয়, বরং আগামী দশকের বৈশ্বিক আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত প্রস্তুতি।

  • India: ড্রাগনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে হাতি! চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪.৩, সেখানে ভারতের ৭.৮ শতাংশ, চিন্তায় বেজিং

    India: ড্রাগনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে হাতি! চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪.৩, সেখানে ভারতের ৭.৮ শতাংশ, চিন্তায় বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করা সত্ত্বেও, মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হারে চিনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে ভারত (India)। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, চিনের প্রবৃদ্ধি কমেছে, অন্যদিকে ভারতের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে (China Economy)।

    কী বলছে প্রতিবেদন? (India)

    সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  ভারত এখনও চিনা পণ্যের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারী দেশ। তবে এর বিপরীতে ভারতে তৈরি পণ্যের রফতানি চিনে তুলনামূলকভাবে অনেকখানি কম। বুধবার প্রকাশিত চিনের জিডিপি বৃদ্ধির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে দেশটির অর্থনীতি ৪.৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এই হার ছিল ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক প্রান্তিকের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম চিনের অর্থনীতিতে এতটা ধীরগতি দেখা গেল, যা অর্থনীতিবিদদের অনেকেরই প্রত্যাশার বাইরে ছিল। অন্যদিকে, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ, যা চিনের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী দিনে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে।

    কেন কমছে চিনের জিডিপি?

    কয়েক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউবিএস চিনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউ সং চিনের অর্থনীতি মন্থর হওয়ার তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চিনের অর্থনীতির দুর্বলতার জন্য দায়ী নয়। বরং এই প্রযুক্তি চিনের উপকারই করেছে (China Economy)।” ইউ সংয়ের মতে, দীর্ঘদিনের আবাসন খাতের সঙ্কটই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। তাঁর দাবি, চিনের সম্পত্তি বাজার দীর্ঘ সময় ধরে মন্দার মধ্যে রয়েছে। ফলে মানুষ সম্পত্তিতে বিনিয়োগের বদলে সঞ্চয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছেন (India)। তিনি আরও জানান, ভোক্তাদের ব্যয়ও কমে গিয়েছে। তাঁর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় চিনের সাধারণ মানুষ দামি ব্র্যান্ডের পণ্যের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। এ ছাড়াও কর্মসংস্থান কমে যাওয়াকেও অর্থনীতির দুর্বলতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ইউ সং। তাঁর কথায়, “এআই যেমন চিনকে সুবিধা দিয়েছে, তেমনই এটি (China Economy) বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলেছে এবং শ্রমিকের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে (India)।”

     

  • Modi Govt: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেহরুকে ছাপিয়ে গেলেন মোদি, জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন নেওয়ার পথে ভারত

    Modi Govt: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেহরুকে ছাপিয়ে গেলেন মোদি, জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন নেওয়ার পথে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা এক যুগ ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড ভাঙলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi Govt)। এই মাইলফলক শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ নয়, বরং গত ১২ বছরে ভারতের (India) অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের মূল্যায়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।

    আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্ব (Modi Govt)

    গত এক দশকে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.৭ শতাংশ এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার প্রায় ৬৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্বও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত পরিবর্তন শুধু অর্থনীতির আকারে নয়, বরং দেশের প্রশাসনিক কাঠামো এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তনে।

    মোদি সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য

    মোদি সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য হল ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলা। আধার, জনধন অ্যাকাউন্ট, ইউপিআই, জিএসটি এবং ডিবিটি (সরাসরি ভর্তুকি স্থানান্তর)-কে একত্রিত করে বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে জনধন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৫৮ কোটিরও বেশি, আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য কার্ড ইস্যু হয়েছে প্রায় ৪৪ কোটি। ডিজিটাল মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকি পৌঁছে যাওয়ায় সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও অপচয় অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে ইউপিআই (UPI) ভারতের অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন এনেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২৩.২ বিলিয়ন লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা। ছোট দোকান থেকে বড় ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল পেমেন্ট এখন দৈনন্দিন বাস্তবতা (India)। বিশ্বের একাধিক দেশও এখন ভারতের এই ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামো গ্রহণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি (Modi Govt)।

    পরিকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক সরকারি বিনিয়োগ

    মোদি সরকারের আর একটি বড় নীতি হল পরিকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক সরকারি বিনিয়োগ। ২০১৫ সালে যেখানে মূলধনী ব্যয় ছিল প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে তা বেড়ে পৌঁছেছে ১২.২ লাখ কোটি টাকায়। জাতীয় সড়ক, রেলপথ, বন্দর, বিমানবন্দর এবং মালবাহী করিডর নির্মাণে গত এক দশকে নজিরবিহীন বিনিয়োগ হয়েছে। বর্তমানে ব্রডগেজ রেলপথের ৯৯ শতাংশেরও বেশি অংশে বিদ্যুতায়িত হয়েছে। দেশে চালু রয়েছে ১৬৪টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস পরিষেবা। সরকারের আশা, এই পরিকাঠামো উন্নয়ন ভবিষ্যতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করবে। তবে উৎপাদন খাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এখনও অধরা। ২০১৪ সালে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল উৎপাদন শিল্পের অংশীদারিত্ব জিডিপির ২৫ শতাংশে উন্নীত করা। কিন্তু ১২ বছর পরেও তা ১৩ থেকে ১৭ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে (Modi Govt)।

    ইলেকট্রনিক্স-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য

    চিন, ভিয়েতনাম কিংবা মালয়েশিয়ার তুলনায় ভারতের উৎপাদন খাত এখনও অনেক পিছিয়ে। যদিও প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) প্রকল্পের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে, তবুও সামগ্রিক শিল্পায়নের গতি প্রত্যাশিত নয় (India)। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উৎপাদন মিশনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ বেকারত্বের হার ৩.১ শতাংশ হলেও, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী যুবকদের মধ্যে সাপ্তাহিক ভিত্তিক বেকারত্বের হার প্রায় ১৪.৩ শতাংশ।

    উৎপাদন শিল্পে কর্মসংস্থান

    প্রতি বছর শ্রমবাজারে নতুন কয়েক মিলিয়ন মানুষ যুক্ত হলেও, সেই তুলনায় পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন এবং স্থায়ী চাকরি তৈরি হয়নি। উৎপাদন শিল্পে কর্মসংস্থানের ঘাটতি অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Modi Govt)।অর্থনীতিবিদদের মতে, গত ১২ বছরে ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ব্যাঙ্কিং সংস্কার এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পরিবর্তন এসেছে। অবশ্য মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ এবং বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখনও দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অসম্পূর্ণ লক্ষ্য (India)। আগামী দশকে যদি উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হয়, তাহলে মোদি যুগকে ভারতের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার ভিত্তি হিসেবেই দেখা হবে। অন্যথায় সম্ভাবনা ও বাস্তবতার ব্যবধানই ভারতের অর্থনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে (Modi Govt)।

     

  • US Tariffs: ভারতীয় রফতানির উপর ট্রাম্পের শুল্কবাণ, ক্ষতিগ্রস্ত খাতে সহায়তা প্যাকেজ আনছে মোদি সরকার

    US Tariffs: ভারতীয় রফতানির উপর ট্রাম্পের শুল্কবাণ, ক্ষতিগ্রস্ত খাতে সহায়তা প্যাকেজ আনছে মোদি সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে রফতানি করা পণ্যে বাড়তি ২৫ শতাংশ কর চাপিয়েছে আমেরিকা। ২৭ অগস্ট থেকে ভারতের রফতানিকৃত পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক (US Tariffs) বসানোর কথা জানিয়েছে আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। স্বভাবতই এর কারণে যে সব দেশ আমেরিকায় পণ্য রফতানি করে, তাদের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতায় নামতে হবে ভারতকে। অনেক ক্ষেত্রে সেই দেশগুলি বাড়তি সুবিধা পাবে। মার খাবে বেশ কিছু পণ্যের রফতানি। কিন্তু কোনওভাবেই এতে চাপে পড়তে নারাজ দিল্লি। বিকল্প সব পথ খুলে রাখার চিন্তা করছে মোদি সরকার। ইতিমধ্যেই ভারতীয় রফতানির উপর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বিপুল হারে শুল্কের প্রেক্ষিতে, এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলির জন্য একটি বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ আনার চিন্তাভাবনা করছে ভারত সরকার। এই প্যাকেজের মাধ্যমে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর রফতানি সম্ভাবনাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পথকেও সুনিশ্চিত করতে চায়।

    কোন কোন দ্রব্য আমেরিকায় রফতানি করে ভারত

    বর্তমানে, ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার মোট শুল্ক প্রায় ৫০ শতাংশ — যেখানে ২৫ শতাংশ প্রাথমিক শুল্ক এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ আরোপিত হয়েছে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে। এই শুল্কের দ্বারা প্রভাবিত খাতগুলোর মধ্যে প্রধানত শ্রমনির্ভর শিল্প যেমন সামুদ্রিক পণ্য, খাদ্যদ্রব্য এবং বস্ত্র শিল্প অন্তর্ভুক্ত। এই প্রথাগত ও স্থানীয় শিল্পগুলোর অস্তিত্ব এবং বিকাশের জন্য বৈদেশিক বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারের সহায়তা প্যাকেজ এই শিল্পগুলোর রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। আমেরিকা ভারতের থেকে দামি জহরত, গয়না, কাপড়, সামুদ্রিক মাছ, গাড়ির যন্ত্রাংশ কেনে। সেই ব্যবসাই সাময়িক ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা বণিকমহলের। বাংলাদেশ, ভিয়েতনামের মতো দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে কম শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। আমেরিকায় পণ্য রফতানির প্রতিযোগিতায় সেই দেশগুলি ভারতকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে এ দেশের রফতানিকারক সংস্থাগুলির একাংশ।

    সামুদ্রিক মাছ

    ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি মার খাবে ভারতের সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণীর ব্যবসা। ভারত যত সামুদ্রিক মাছ (সিফুড) রফতানি করে, তার ৪০ শতাংশই যায় আমেরিকায়। প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার সামুদ্রিক মাছ সে দেশে রফতানি করে ভারত। সবচেয়ে বেশি রফতানি করে চিংড়ি। এক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর কথা আগে ভাবছে মোদি সরকার। বিশেষত খাদ্যদ্রব্য ও সামুদ্রিক পণ্যের মতো খাতে পণ্যের স্থায়িত্ব কম এবং লাভের মার্জিনও সীমিত। এই খাতের উপর নির্ভরশীল মানুষজন প্রধানত কৃষক এবং গ্রামীণ পটভূমি থেকে আসা। তাই এই গ্রামের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে স্বল্পমেয়াদে সহায়তা প্যাকেজ অত্যাবশ্যক, বলে মনে করে কেন্দ্র।

    কাপড়-ব্যবসা, জহরত, গয়না, গাড়ির যন্ত্রাংশ

    নয়ডা, সুরাটের কাপড় রফতানিকারক সংস্থাগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমেরিকায় রফতানির জন্য কাপড় তৈরি আপাতত স্থগিত রাখবে। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলো মনে করছে, নতুন এই শুল্কনীতির প্রভাব ব্যবসার উপরে কিছুটা হলেও পড়বে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আমেরিকায় ৮৩ হাজার কোটি টাকার জহরত এবং পাথর বসানো গয়না রফতানি করেছে ভারত। এ দেশের জহরত কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাজার হল আমেরিকা। জেম অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কিরীট ভন্সালী জানিয়েছেন, আমেরিকার পরিবর্তে বিকল্প দেশে জহরত রফতানির পথ দেখবে ভারত। তাদের নজরে রয়েছে দুবাই, মেক্সিকো। ভারত যত পরিমাণ গাড়ির যন্ত্রাংশ রফতানি করে বিভিন্ন দেশে, তার অর্ধেকই যায় আমেরিকায়। প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকার যন্ত্রাংশ রফতানি করা হয়।

    রাশিয়া থেকে আরও তেল

    ভারতীয় বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ফরেন ট্রেড (IIFT)-এর অধ্যাপক রাম সিং বলেন, “ভারত রাশিয়া থেকে আরও কিছু ছাড়ে তেল কেনার কথা বলতে পারে। সেখান থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থ রফতানিকারীদের সহায়তা প্যাকেজে ব্যয় করা যেতে পারে, যাঁরা আমেরিকান শুল্কের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।” আমেরিকার বাড়তি শুল্কের ফলে ভারতীয় রফতানিকারীরা এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁদেরকে দ্রুত আমেরিকায় পণ্য রফতানির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক রাম সিং জানান, “আমেরিকায় নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে থ্যাঙ্কসগিভিং, বড়দিন এবং নিউ ইয়ার উপলক্ষে বিক্রি সর্বাধিক হয়। তাই এই সময়ে পাঠানোর জন্য রফতানিকারীদের বলা হয়েছে তাঁদের পণ্য আগে থেকেই পাঠাতে, যাতে বাড়তি শুল্কের প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো যায়।” সহায়তা প্যাকেজে উচ্চ ভর্তুকি, সহজ ঋণ প্রাপ্তির সুবিধা, রফতানির জন্য নতুন বাজার সন্ধান এবং রফতানির নিয়মকানুন শিথিল করার মতো একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চলেছে বাণিজ্যমন্ত্রক। ভারত সরকার (India Plans on Tariff) যে এই পরিস্থিতিতে সহায়তা প্যাকেজ বিবেচনা করছে, তা শ্রমনির্ভর ও দুর্বল খাতগুলোর স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকেও সুরক্ষিত রাখার একটি সঠিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ, বলেই মনে করছে বণিক মহল।

  • Piyush Goyal On Tariff: ‘কারও কাছে মাথা নত না করেই জয়ী হবে ভারত’, শুল্ক-হুমকির মুখে স্পষ্ট বার্তা বাণিজ্য মন্ত্রীর

    Piyush Goyal On Tariff: ‘কারও কাছে মাথা নত না করেই জয়ী হবে ভারত’, শুল্ক-হুমকির মুখে স্পষ্ট বার্তা বাণিজ্য মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত কারও কাছে মাথা নত করবে না। এরকম অনেক পরিবর্তন দেখেছে ভারতবাসী। তারা সবসময় দুর্যোগকে সুযোগে পরিণত করেছে। বিশ্ব ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে। বিভিন্ন দেশ ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অযৌক্তিক শুল্ক চাপানোর প্রেক্ষিতে এমনই অভিমত প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। ‘বিটি ইন্ডিয়া@১০০’ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে ট্যারিফ-বাণিজ্য একাধিক বিষয়ে বক্তব্য পেশ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিশ্ব-বাণিজ্যে ট্রাম্পের চাপানো অতিরিক্ত শুল্কের ফলে ভারতের পরিস্থিতি ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে। সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আজকের ভারত অনেক বেশি শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী। বার্ষিক সাড়ে ৬ শতাংশ হারে জিডিপি বৃদ্ধি হচ্ছে ভারতের এবং আগামিদিনে তা আরও হবে।”

    ভারতই ভরসা বিশ্বের

    ভারতের অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের উপরে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। চিন্তা বাড়ছে বাণিজ্য নিয়ে। এরই মাঝে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সাফ জানিয়ে দিলেন, “আমার বিশ্বাস যে ভারত গত বছরের তুলনায় এই বছরে আরও বেশি রফতানি করবে। গোটা বিশ্ব জানে যে বিশ্ব প্রবৃদ্ধিতে ভারতের অবদান ১৬ শতাংশ, আমাদের শেয়ার বাজার, মুদ্রা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ বিশ্ব ভারতের ১.৪ বিলিয়ন মানুষের প্রতিভা নিয়ে কাজ করতে চায়। ভারতের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।” ডি-গ্লোবালাইজেশন নয়, বরং দেশগুলি তাদের বাণিজ্যিক পথ ও সঙ্গী বদলাচ্ছে বলেই যুক্তি দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বাণিজ্যিক যে বাধাগুলি আসছে, তা মোকাবিলা করার জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

    ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি

    বিটি ইন্ডিয়া@১০০ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন যে এটি ভারতের সময়, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। প্রতিটি পরিস্থিতিতে ভারত দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যা সমগ্র দেশবাসীর মনোবল বাড়িয়েছে। পীযূষ গোয়েল বলেন, “আমাদের কৃষক, উদ্যোক্তাদের চিন্তা করার দরকার নেই, নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় ভারত এগিয়ে থাকবে। আজ ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং বিশ্ব তার শক্তি স্বীকার করেছে।” সম্প্রতিই ইংল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। পীযূষ গোয়েল বলেন, “ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি শুধুমাত্র বাণিজ্যে কর ছাড় থেকে অনেকটা এগিয়ে। আমরা ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি। বিশ্বের সবথেকে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া বড় অর্থনীতি আমাদের। বাকিদের জনসংখ্যা যেখানে ক্রমশ বৃদ্ধ হচ্ছে, আমাদের কাছে সেখানে যুব প্রজন্মের শক্তি রয়েছে।”

    দুর্যোগকে-সুযোগে পরিণত করবে ভারত

    ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “তারা তাদের দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য আমাদের বাজার উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে, কিন্তু আমরা এখনও পর্যন্ত কোনও বাণিজ্য চুক্তিতে এমন অনুমতি দিইনি। ভারত সরকার কৃষকদের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে কাজ করবে। ভারত এ জাতীয় অনেক পরিবর্তন দেখেছে এবং ভারতের হাজার হাজার বছরের ইতিহাস রয়েছে। এই সময়ে, কেবল বিশ্বই নয়, ভারতও বাণিজ্যের নতুন পথে এগিয়ে চলেছে।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ১৯৯৯ সালে বিশ্বের আইটি শিল্পে যে সংকট দেখা দিয়েছিল, তার কথা উল্লেখ করেন, যা ওয়াই টু কে(Y2K) সংকট নামে পরিচিত। তিনি বলেন, “১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২ টায় সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং বিশ্বে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তখন দেশে অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকার ক্ষমতায় ছিল, তিনি এটিকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন, বিভিন্ন উপায়ে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারি হস্তক্ষেপের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং তাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। আজ ভারতের আইটি শিল্পের মূল্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে। আমরা কখনও পিছনে ফিরে তাকাইনি।”

    করোনা মহামারীর সময়ও শক্ত ভারত

    পীযূষ গোয়েল এদিন করোনার সময়ের কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, “এই অতিমারির সময়ও ভারত তার শক্তি দেখিয়েছে এবং সমস্ত জল্পনা-কল্পনা ভুল প্রমাণ করেছে। করোনা অতিমারির সময় মানুষ ভেবেছিল যে ভারত তা সহ্য করতে পারবে না এবং দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। কিন্তু ভারত তার সক্ষমতা দেখিয়েছে এবং আমরা কেবল দেশে টিকা নিয়ে গবেষণাই করিনি, বরং এটি তৈরিও করেছি। সেই সময় ভারত বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশকে বিনামূল্যে টিকা সরবরাহ করেছিল। এর মধ্যে দরিদ্র দেশগুলিও ছিল যাদের কেউ সাহায্য করতে প্রস্তুত ছিল না।”

    ভারত জয়ী হবেই

    তিনি জানান যে ইএফটিএ (EFTA) সদস্য দেশগুলি ভারতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে। আগামী অক্টোবর মাসেই এই চুক্তি কার্যকর হবে এবং এতে ভারতে ১০ লাখ সরাসরি চাকরি ও মোট ৫০ লক্ষ কর্মসংস্থান হবে। ভারতের অর্থনীতি যে ডুবন্ত বা মৃত নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, দেশে অর্থভান্ডার, বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার, স্টক মার্কেট মজবুত রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতিও বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কম ভারতেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ভারতে করোনার সময়কালে একজনও মানুষ অনাহারে মারা যায়নি, বরং সরকার ৮০ কোটি মানুষকে দ্বিগুণ রেশন সরবরাহ করেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, “এই অতিমারি থেকে দ্রুত সেরে উঠে আমরা স্বাবলম্বী হয়েছি এবং আমাদের খাদ্য সরবরাহকারী কৃষকদের শক্তির কারণেই এই সবকিছু সম্ভব হয়েছে। আমরা কোভিডকেও সুযোগে পরিণত করেছি। যত কঠিন পরীক্ষাই আসুক না কেন, ভারতই জয়ী হবে।”

  • India Economy: পরের অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৮ শতাংশ, বলছে ‘এস অ্যান্ড পি’

    India Economy: পরের অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৮ শতাংশ, বলছে ‘এস অ্যান্ড পি’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী অর্থবর্ষে ভারতের (India Economy) আর্থিক বৃদ্ধি হতে পারে ৬.৮ শতাংশ। অন্তত এমনই ইঙ্গিত দিল এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স। এর আগে এই সংস্থাই জানিয়েছিল ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতের বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৬ শতাংশ। এখন তারাই জানাল, বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৮ শতাংশ।

    অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার (India Economy)

    এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, এই সময় বিশ্বব্যাপী আর্থিক বৃদ্ধির গড় হার হতে পারে ২.৩ শতাংশ থেকে ২.৬ শতাংশ। সংস্থার (India Economy) তরফে বলা হয়েছে, ‘‘২০২৪ অর্থবর্ষের পূর্বাভাস আমরা পুনর্মূল্যায়ন করছি। বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যা আশা করা হয়েছিল, ভারতের বৃদ্ধি তার চেয়েও বেশি হবে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিবেশের উন্নতি এবং গৃহস্থের অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে চলবে অর্থনৈতিক কাজকর্ম।’’

    ‘মুডি’জ-এর ইঙ্গিত

    ঠিক একদিন আগেই ভারতের বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছিল মুডি’জ নামে আরও একটি সংস্থা। ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস করতে গিয়ে তারা জানিয়েছিল, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতে বৃদ্ধির পরিমাণ ৬.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হবে ৮ শতাংশ। মুডি’জ বলেছিল, জি২০-র প্রধান দেশগুলির মধ্যে দ্রুততম বৃদ্ধি হবে ভারতের। এ দেশের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি হতে পারে প্রায় ৮ শতাংশ। মার্চে যে অর্থবর্ষ শেষ হবে, সেখানেই বৃদ্ধির পরিমাণ হবে ৮ শতাংশ। গত অর্থবর্ষে এর পরিমাণ ছিল ৭ শতাংশ।

    আরও পড়ুুন: সন্দেশখালিতে মহিলাদের তাড়া খেয়ে ছুটে ঘরে ঢুকে প্রাণ বাঁচালেন দুই তৃণমূল নেতা

    সরকারি মূলধন ব্যয় ও উচ্চ অভ্যন্তরীণ চাহিদা ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে জোরালো করবে। অধিকন্তু, বৈশ্বিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির কারণেই পোক্ত হয়েছে ভারতীয় অর্থনীতির ভিত। অক্টোবর-ডিসেম্বরে দেশ রেজিস্টার্ড করেছিল ৮.৪ শতাংশ জিডিপি। ম্যানুফ্যাকচারিং, ইলেকট্রিসিটি এবং নির্মাণ শিল্পে জিডিপির বৃদ্ধি এক লাফে বেড়ে গিয়েছে অনেকখানি। এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, বৈশ্বিক বৃদ্ধি ২.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২.৬ শতাংশ হবে। আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ভারতের জিডিপির হার বাড়বে বলেই জানিয়েছে এই সংস্থা (India Economy)।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

     

  • India Economy: ২০৩১ সালের মধ্যেই ভারত হবে উচ্চ-মধ্যবিত্তের দেশ, বলছে সমীক্ষা

    India Economy: ২০৩১ সালের মধ্যেই ভারত হবে উচ্চ-মধ্যবিত্তের দেশ, বলছে সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০৩১ সালের মধ্যেই ভারত হবে উচ্চ-মধ্যবিত্তের দেশ। এই সুখবর শোনাল বিশ্বের আর্থিক রেটিং সংস্থা ক্রিসিল (India Economy)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০৩১ সালের মধ্যেই উচ্চ মধ্যবিত্তের দেশে পরিণত হবে ভারত। এ দেশের মাথাপিছু আয় হবে ৪৫০০ মার্কিন ডলার।

    ক্রিসিলের রিপোর্ট (CRISIL Survey)

    সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ক্রিসিল। তারা জানিয়েছে, ভারতীয় অর্থনীতি (India Economy) বর্তমান স্তর থেকে দ্বিগুণ হয়ে ৭ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে। তার পরেই এটি উচ্চ মধ্যবিত্তের বন্ধনীভুক্ত হবে। ভারতের এই অগ্রগতির কারণও জানিয়েছে ক্রিসিল। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সংস্কার ও অন্যান্য পদক্ষেপগুলির কারণে অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাবে ভারতে। বিশ্ব রেটিং এই সংস্থার অনুমান, ২০৩১ সালের মধ্যে ভারত ঠাঁই করে নেবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকাতেও।

    ভারতের জিডিপি (India Economy)

    ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হারও যে ভালো হতে পারে, তারও ইঙ্গিত মিলেছে ক্রিসিলের ওই রিপোর্টে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের মধ্যে এই বৃদ্ধির হার হতে পারে ৭.৬ শতাংশের চেয়ে ভালো। আগামী অর্থবর্ষে এটি কিছুটা কমে হতে পারে ৬.৮ শতাংশ।

    ক্রিসিলের রিপোর্ট (India Economy) অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি গড়ে ৬.৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলেই ভারত পরিণত হবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে। আর এই সময়সীমার মধ্যে এ দেশের মাথাপিছু আয় দেশটিকে নিয়ে যাবে উচ্চ মধ্যবিত্ত আয়ের শ্রেণিতে। ২০২৫-২০৩১ এই সময়সীমায় সাতটি অর্থবর্ষে ভারতীয় অর্থনীতি প্রথমে পেরোবে ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের চৌকাঠ। তার পর পৌঁছবে ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থনীতির কাছাকাছি।

    আরও পড়ুুন: ‘বাঘের’ চোখে জল! কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের প্রশ্নবাণে কি কেঁদে ফেললেন শাহজাহান?

    বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকায় বর্তমানে ভারত (India Economy) রয়েছে পঞ্চম স্থানে। দেশটির অর্থনীতির বহর ৩.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাই ওই তালিকায় ভারতের আগে রয়েছে আমেরিকা, চিন, জাপান এবং জার্মানি। বিশ্বব্যাঙ্কের মতে, হাজার থেকে ৪ হাজার ডলারের মাথাপিছু আয়ের দেশগুলি নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের বিভাগে পড়ে। ৪ হাজার থেকে ১২ হাজার ডলারের মাথাপিছু আয়ের দেশগুলি পড়ে উচ্চ মধ্যবিত্ত আয়ের শ্রেণিতে। ২০৩১ সালের মধ্যে এই বন্ধনীতেই চলে আসবে ভারত। প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও জানিয়েছিলেন, অচিরেই ভারত চলে আসবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকার তিন নম্বরে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

     

     

  • Indian Economy: চিনা অর্থনীতির গতি শ্লথ, লাভের ফসল ঘরে তুলছে ভারত

    Indian Economy: চিনা অর্থনীতির গতি শ্লথ, লাভের ফসল ঘরে তুলছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনা অর্থনীতির গতি শ্লথ। এরই ফসল কুড়োচ্ছে সাউথ এশিয়ান জায়ান্টস স্টক মার্কেট। লগ্নিকারীরা বিলিয়ন, বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন ভারতের স্টক মার্কেটে (Indian Economy)। অদূর ভবিষ্যতে চিনা অর্থনীতির গতি হবে আরও শ্লথ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আর্থিক নীতির সংস্কারের মাশুল গুণতে হতে পারে ভারতের এই প্রতিবেশী দেশটিকে। সেই কারণেই ভারতের স্টক মার্কেটের ওপর ভরসা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

    অর্থনৈতিক সঙ্কট

    সম্প্রতি নয়া অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে বেজিং। মুদ্রাস্ফীতির পরিবর্তে সেখানে শুরু হয়েছে মুদ্রাসঙ্কোচন। তাই সে দেশের মুদ্রা ইউয়ানের দাম ক্রমশ চড়ছে। প্রত্যাশিতভাবেই দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে জিনিসপত্রের দাম। বাজারে জোগান রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। তবে সে দেশের বাসিন্দারা সঞ্চয়ী হওয়ায় কমছে চাহিদা। স্বাভাবিকভাবেই জিনিসপত্র বিকোচ্ছে জলের দরে। এতেই অশনি সঙ্কেত দেখছেন বিশ্বের অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের মতে, এখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ভেঙে পড়তে পারে দেশের (Indian Economy) অর্থনীতি। যার প্রভাব পড়বে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপরও।

    রফতানিতে জোর

    ইতিমধ্যেই চিনে শি জিনপিং সরকারের ওপর ঋণের বোঝা চেপেছে বিপুল পরিমাণে। তাদের সম্মিলিত মোট ঋণের পরিমাণ ১৩ লক্ষ কোটি ডলার। যেহেতু দেশে কমেছে জিনিসপত্রের চাহিদা, তাই এখন রফতানিতে জোর দিচ্ছে ড্রাগনের দেশ। ভারতেও পাঠাচ্ছে আরও বেশি করে জিনিসপত্র। তবে ভারত এখন আর আগের মতো কিনছে না চিনা পণ্য।।

    আরও পড়ুুন: “গুন্ডারা জেলে যাবে, মমতার দিন শেষ”, সন্দেশখালিতে গিয়ে আক্রমণ শুভেন্দুর

    বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের আর্থিক সংস্কার নীতির জেরে দেশের অর্থনীতি হয়েছে আগের চেয়ে ঢের বেশি মজবুত। তাই চিন নয়, বিনিয়োগকারীরা ভরসা করছেন ভারতের স্টক মার্কেটের ওপর। মোদি জমানায় বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকায় পাঁচ নম্বরে রয়েছে ভারত। ২০১৪ সালে কেন্দ্রের কুর্সিতে যখন মোদি সরকার আসে, তখন ওই তালিকায় দেশ ছিল ১০ নম্বরে। অচিরেই ভারতের জায়গা হবে ওই তালিকার আরও একটু ওপরে। সেই কারণেই চিন নয়, বিনিয়োগকারীরা ভরসা করছেন ভারতের স্টক মার্কেটের ওপরও। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বেঞ্চমার্ক সেনসেক্স এবং নিফটিও ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারতীয় অর্থনীতির (Indian Economy) বৃদ্ধি সম্পর্কে।

    ভারতের পৌষমাস আর চিনের সর্বনাশ, তাই কি?

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

     
     
LinkedIn
Share