Tag: India Europe Relations

  • Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ অনেক দেরিতে বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার (Belgium PM)। তাঁর বক্তব্য, অর্থনৈতিক নির্ভরতা যখন রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন মুক্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারীত্বের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন (Modi Trade Warning) তিনি। ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বিভাজনের প্রেক্ষাপটে দু’পক্ষের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়েভার বলেন, ইউরোপ বর্তমানে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রের নির্ভরতা কেবল অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে থাকছে না; বরং তা কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

    বদলাচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য (Belgium PM)

    তিনি বলেন, বিশ্বের বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে এবং কিছু দেশ নিজেদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা বা নির্ভরতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা ইউরোপের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ডি ওয়েভারের কথায়, ভারত ও ইউরোপের সামনে থাকা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ একই ধরনের। বিশেষ করে কোনও একটি দেশ বা শক্তির ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নির্ভরতা তৈরি হলে সেটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপের কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা ইউরোপকে নতুন করে বাণিজ্যনীতি ও অংশীদার বাছাইয়ের বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। ভারতের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, ইউরোপের বর্তমান উপলব্ধির অনেক আগেই ভারত এই ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা তখন ইউরোপ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নেয়নি।

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বহু আগেই ইউরোপকে সতর্ক করেছিলেন। তখন সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব পায়নি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপ সেই বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছে। ডি ওয়েভারের বক্তব্য, এই উপলব্ধি ইউরোপের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্বিত হলেও এখন তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

    বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামো যখন বিভিন্ন শক্তিশালী গোষ্ঠী ও বাণিজ্যিক ব্লকে ভাগ হয়ে পড়ছে, তখন ভারত ও ইউরোপ কীভাবে একটি স্থায়ী কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডি ওয়েভার সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক সম্মান, বহুপাক্ষিকতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।

    তাঁর মতে, ইউরোপ এমন অংশীদার খুঁজছে যারা বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থাশীল এবং শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এই জায়গায় ভারত ইউরোপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে (Modi Trade Warning)।

    বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে ডি ওয়েভার দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের বিপুল মানবসম্পদ, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন তিনি।

    জাপানের মতো তুলনামূলকভাবে পরিণত অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্যও তুলে ধরেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারতের অর্থনীতির বিকাশের পর্যায় এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইউরোপের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই দু’পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব বলেই মনে করেন তিনি।

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে ডি ওয়েভার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপের বাজারে উৎপাদন সক্ষমতার অতিরিক্ত অংশ কম দামে প্রবেশ করেছে। এর ফলে ইউরোপের নিজস্ব শিল্পভিত্তি দুর্বল হয়েছে এবং নির্দিষ্ট উৎসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই নির্ভরতাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে তিনি কোনও দেশের নাম সরাসরি না বললেও এমন একটি প্রতিবেশী দেশের কথা উল্লেখ করেন, যে এই প্রক্রিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টতই চিনের দিকে ইঙ্গিত ছিল। ডি ওয়েভারের মতে, ভারত ইউরোপের তুলনায় আগেই এই প্রবণতা উপলব্ধি করেছিল এবং সতর্ক করেছিল। কিন্তু ইউরোপ তখন সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেনি (Belgium PM)।

    বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উন্মুক্ততার নীতি বজায় রাখার পাশাপাশি কৌশলগত নির্ভরতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, মুক্ত বাণিজ্য মানে এমন নয় যে কোনও দেশের জাতীয় স্বার্থ বা নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নির্ভরতাগুলি উপেক্ষা করতে হবে। বরং উন্মুক্ত অর্থনীতির সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

    সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা

    ডি ওয়েভার আরও বলেন, ভারত ও ইউরোপের ইতিহাস, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু সেই পার্থক্য সত্ত্বেও গণতন্ত্র, উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দু’পক্ষের স্বার্থের যথেষ্ট মিল রয়েছে (Modi Trade Warning)।

    ভারতকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক শক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, বিশ্বব্যবস্থা যখন নতুনভাবে গড়ে উঠছে, তখন ভারতের মতো একটি বড় শক্তির কণ্ঠস্বর বাদ দিয়ে কোনও মুক্ত ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কল্পনা করা কঠিন।

    এদিকে ইউরোপের শক্তি হিসেবে তিনি তুলে ধরেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একক বাজার, শিল্প সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পূর্ব-অনুমানযোগ্য ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারকে। তাঁর মতে, এই দু’পক্ষের নিজস্ব সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব তৈরি করা সম্ভব (Belgium PM)।

    বাণিজ্য অংশীদার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য বাড়ানোর পক্ষে মত দেন ডি ওয়েভার। তাঁর বক্তব্য, যেসব দেশ নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা সম্মান করে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এর ফলে কোনও একটি দেশ বা অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

    বিশ্ব রাজনীতি

    বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে বিভিন্ন দেশকে নির্দিষ্ট কোনও একটি শিবির বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের সম্পর্ককে কোনও একটি পক্ষের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বদলে স্বাধীন ও পারস্পরিক স্বার্থনির্ভর অংশীদার হিসেবে দেখার পক্ষে তিনি (Belgium PM)।

    সব মিলিয়ে ডি ওয়েভারের বক্তব্যে ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যের পাশাপাশি কৌশলগত স্বনির্ভরতা, সরবরাহ-শৃঙ্খলের নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা এবং ভারতের আগের সতর্কবার্তাকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হল—ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু সস্তা পণ্য বা বড় বাজারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; নির্ভরতার ঝুঁকি, জাতীয় স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে (Modi Trade Warning)।

    আর সেই নতুন বাস্তবতায় ভারতকে ইউরোপের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনর্বিন্যাসের সময়ে ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যেতে পারে (Belgium PM)।

     

  • PM Modi: ঐতিহাসিক সফরে মোদিকে বিশেষ সম্মান, ভারতীয় তেরঙায় আলোকিত স্লোভাকিয়ার ব্রাতিস্লাভা দুর্গ

    PM Modi: ঐতিহাসিক সফরে মোদিকে বিশেষ সম্মান, ভারতীয় তেরঙায় আলোকিত স্লোভাকিয়ার ব্রাতিস্লাভা দুর্গ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) ঐতিহাসিক স্লোভাকিয়া সফর স্মরণীয় করে রাখতে ভারতীয় জাতীয় পতাকার রঙে আলোকিত করা হল ঐতিহাসিক ব্রাতিস্লাভা দুর্গকে (Bratislava Castle)। ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী স্লোভাকিয়া সফরে যাওয়ায় বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে এই সফর।

    তেরঙায় আলোকিত স্লোভাকিয়ার ক্যাসেল (PM Modi)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স হ্যান্ডেলে ব্রাতিস্লাভা ক্যাসেলের আলোকসজ্জার ছবি শেয়ার করে একে “ইতিহাসের ছোঁয়ায় উদযাপিত এক ঐতিহাসিক সফর” বলে উল্লেখ করেন। দানিউব নদীর তীরে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত এই বিখ্যাত দুর্গকে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙে সাজিয়ে ভারত-স্লোভাকিয়া বন্ধুত্বের উষ্ণ বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর মধ্যে ব্রাতিস্লাভা ক্যাসেলেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস বহনকারী এই দুর্গ বর্তমানে স্লোভাক ন্যাশনাল মিউজিয়ামের অংশ এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

    কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য

    কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের জাতীয় পতাকার রঙে ক্যাসেলকে আলোকিত করার সিদ্ধান্ত শুধু আনুষ্ঠানিক সম্মান নয়, বরং ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্ককে আরও গভীর করার রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তাও দেয় (PM Modi)। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রথমবার ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চৌকাঠ পেরোয়। পরের বছর সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যার মধ্যে ভারতের রফতানি ১.৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানি ২৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে স্লোভাকিয়ায় প্রায় ১১ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন, যা ইউক্রেনীয়দের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবাসী সম্প্রদায়। ব্রাতিস্লাভা, কোশিচে ও নিত্রার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ ভারতীয় ছাত্রছাত্রী চিকিৎসা, টেকনোলজি ও কমার্স নিয়ে পড়াশোনা করে।

    ভারত-স্লোভাকিয়ার সম্পর্ক

    এই সফরে ভারত ও স্লোভাকিয়া তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপে’ উন্নীত করেছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি লেটার অব ইনটেন্ট সই এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো সদস্য এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পোন্নত দেশ স্লোভাকিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও বেশি করে কৌশলগত গুরুত্ব পাবে (Bratislava Castle)। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ এবং নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপে ভারতের সদস্যপদের দাবিতে স্লোভাকিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইতিবাচক অবস্থান (PM Modi) বজায় রেখেছে।

     

  • PM Modi: কূটনৈতিক সফরে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী, বৈঠক করবেন মাক্রঁর সঙ্গেও

    PM Modi: কূটনৈতিক সফরে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী, বৈঠক করবেন মাক্রঁর সঙ্গেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সফরে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ১৩ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত চলা এই সফরে তিনি ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফরের পাশাপাশি জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনেও (G7 Summit) অংশ নেবেন। ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে ভারতের ভূমিকা তুলে ধরাই প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল লক্ষ্য।

    মাক্রঁর সঙ্গে বৈঠক (PM Modi)

    সফরের প্রথম পর্যায়ে ফ্রান্সের নিস শহরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই রাষ্ট্রপ্রধান ভারত-ফ্রান্স বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবেন। এর পাশাপাশি যৌথভাবে উদ্বোধন করবেন ‘ভারত ইনোভেটস’ কর্মসূচি, যেখানে ভারত ও ফ্রান্সের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের স্টার্টআপ এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলি অংশ নেবে। উদীয়মান প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    মোদি যাবেন স্লোভাকিয়ায়

    ফ্রান্স সফরের পর প্রধানমন্ত্রী যাবেন স্লোভাকিয়ায়। সেখানকার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর আমন্ত্রণে ওই দেশে যাবেন মোদি। ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী স্লোভাকিয়া সফরে যাচ্ছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে। সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এবং প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনির সঙ্গে বৈঠক করবেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল শিল্প এবং রেলওয়ে উৎপাদন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। ভারত ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ২০২৫ সালের এপ্রিলে স্লোভাকিয়া সফর করেন। ওই বছরই স্লোভাক প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি ভারতের এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নিতে ভারত সফর করেন (PM Modi)।

    জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

    সফরের তৃতীয় পর্যায়ে ১৬ ও ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন মোদি। সেখানে জি-৭ সদস্য দেশ, আমন্ত্রিত অংশীদার রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্গঠন, ভারসাম্যপূর্ণ ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং এআইয়ের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করবেন তিনি। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে (G7 Summit)। সফরের শেষে ১৮ জুন প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরোপের বৃহত্তম প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলন ‘ভিভাটেক’-এ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। মত বিনিময় করবেন ফ্রান্সে বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও। ভারত সরকারের মতে, ‘ভারত ইনোভেটস’ এবং ‘ভিভাটেক’-এ প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ভারতের উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ইউরোপের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

    ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক

    বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে (PM Modi)। এবারের বৈঠকে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এর ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে (G7 Summit)। বিদেশমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে স্লোভাকিয়ার স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন সেই দেশ সফরে। তাই এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউরোপের এই দেশের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    নয়া সহযোগিতার দোর খুলবে

    সফর শুরুর আগে এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী জানান, ইউরোপ এবং জি-৭ এর সদস্য দেশগুলির সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা এই সফরের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হবে। এর পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে ভারতের প্রতিশ্রুতির কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি (PM Modi)। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সফরে ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া এবং জি-৭ এর সদস্য  দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতার নয়া ক্ষেত্র তৈরি হবে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, কৌশলগত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ক্রমেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাঁদের মতে, এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে না, বরং (G7 Summit) আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রাঙ্গনেও ভারতের ভূমিকা আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে নয়া সহযোগিতার দোর খুলে দেবে। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) এই ইউরোপ সফরকে ভারতীয় কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

     

  • S Jaishankar: ‘ভারত কখনও ইউরোপকে বিপদে ফেলেনি’, রুশ তেল ইস্যুতে পশ্চিমকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘ভারত কখনও ইউরোপকে বিপদে ফেলেনি’, রুশ তেল ইস্যুতে পশ্চিমকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার জন্য পশ্চিমা দেশগুলির সমালোচনার মুখে বারবার পড়তে হয়েছে ভারতকে। তবে সেই সমালোচনার জবাবে আবারও দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডে আয়োজিত ‘কুলতারান্তা টকস্’ (Kultaranta Talks)-এ এক আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রে তিনি ভারতের জ্বালানি নীতির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন এবং ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।

    ‘ভারত তেল কেনে দাম এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে’

    ফিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সহকারী বিদেশমন্ত্রী লানা নুসেইবেহর সঙ্গে ‘ইমার্জিং পাওয়ার্স অ্যান্ড দ্য নিউ জিওপলিটিক্যাল কম্পিটিশন’ (Emerging Powers and the New Geopolitical Competition) শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন জয়শঙ্কর। সেখানে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ভারত কেন রুশ তেল আমদানি বাড়িয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি তেল কিনি তার দাম এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে।” বিদেশমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারী অঞ্চল হলেও সেই সময় ইউরোপীয় দেশগুলি বিপুল পরিমাণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল কিনতে শুরু করে। ফলে ভারতের জন্য বিকল্প উৎস খুঁজে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। জয়শঙ্করের কথায়, “সেই সময় বাজারে যে তেল সহজলভ্য ছিল, তার বড় অংশই ছিল রুশ তেল। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলি কার্যত মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বড় অংশ কিনে নিচ্ছিল। পরিস্থিতিই আমাদের একটি নির্দিষ্ট দিকে যেতে বাধ্য করেছিল।”

    ‘নৈতিকতার প্রশ্নে’ ইউরোপকে পাল্টা আক্রমণ

    আলোচনার সময় সঞ্চালক ভারতের এই নীতির মধ্যে কোনও ‘নৈতিক অস্পষ্টতা’ বা ‘মোরাল অ্যাম্বিগুইটি’ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন। জবাবে জয়শঙ্কর ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতি তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “কোনও ইউরোপীয় দেশ ভারতীয় অস্ত্রের আক্রমণের শিকার হয়নি। কিন্তু আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি, ইউরোপীয় অস্ত্র ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে— এমন উদাহরণ রয়েছে।” বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করে আসছে যে, ইউরোপের একাধিক দেশ পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে, যেগুলি পরবর্তীতে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। জয়শঙ্কর আরও বলেন, “বহু বছর ধরে ইউরোপীয় দেশগুলি এমন অস্ত্র বিক্রি করেছে যা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ ভারত কখনও এমন কোনও কাজ করেনি যা ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে।”

    ইউরোপের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন

    রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও ইউরোপের নিজেদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জয়শঙ্কর। তিনি মনে করিয়ে দেন, ইউরোপীয় দেশগুলি দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছিল এবং এখনও বিভিন্ন উপায়ে রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশগুলির মধ্যে অন্যতম ভারতের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ করা একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও তুলে ধরলেন

    জয়শঙ্কর আলোচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক বাজারে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা এড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভারতকে রুশ তেল কেনার বিষয়ে উৎসাহিত করেছিল। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, ভারতের রুশ তেল আমদানির সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র জাতীয় স্বার্থের কারণেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে।

    ভারতের জ্বালানি কৌশলের বড় পরিবর্তন

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া যখন ছাড় মূল্যে তেল বিক্রি শুরু করে, তখন ভারত সেই সুযোগ গ্রহণ করে। ফলে গত কয়েক বছরে রাশিয়া ভারতের অন্যতম বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশই রাশিয়া থেকে আসে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে—

    • ● ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
    • ● আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সত্ত্বেও দেশীয় জ্বালানির দাম তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
    • ● বৈশ্বিক তেল বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে ভারত।
    • ● ভারতের কৌশলগত স্বার্থ ও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    বহুমুখী কূটনীতির বার্তা

    জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও স্পষ্ট করে দিল যে, ভারত বর্তমান বহুমেরু বিশ্বের বাস্তবতায় নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পশ্চিমা চাপ কিংবা ভূ-রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে থেকে ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বাধীনতার নীতি বজায় রেখেই নয়াদিল্লি তার জ্বালানি ও বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করতে চায়। ফিনল্যান্ডের মঞ্চ থেকে দেওয়া জয়শঙ্করের বক্তব্য শুধু রুশ তেল ইস্যুতেই নয়, বরং ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক, বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতি এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

LinkedIn
Share