Tag: India-Israel Defence cooperation

India-Israel Defence cooperation

  • PM Modi Israel Visit: ভারতকে আয়রন ডোম প্রযুক্তি দিতে প্রস্তুত, মোদির সফরের মুখে ইজরায়েলের প্রস্তাব ঘিরে আলোড়ন

    PM Modi Israel Visit: ভারতকে আয়রন ডোম প্রযুক্তি দিতে প্রস্তুত, মোদির সফরের মুখে ইজরায়েলের প্রস্তাব ঘিরে আলোড়ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফরের আগেই বড় কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বার্তা দিল তেল আভিভ। ইজরায়েল ঘোষণা করেছে, তারা ভারতের কাছে তাদের ‘আয়রন ডোম’ (Iron Dome) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রযুক্তি হস্তান্তরে প্রস্তুত। এই পদক্ষেপকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ভারত-ইজরায়েল দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    বুধবার ২ দিনের সফরে ইজরায়েলে পৌঁছচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর একাধিক বিষয়ে কৌশলগত যৌথ অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সমমনস্ক ৬ দেশীয় ‘অক্ষ’ তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইজরায়েল। এর পাশাপাশি, নয়াদিল্লির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও প্রযুক্তি বিনিময় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বদ্ধপরিকর মোদি সরকার। আর এর জন্য ইজরায়েলি প্রযুক্তিই প্রথম পছন্দ নয়াদিল্লির সামরিক কর্তাদের। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রয়েছে কেন্দ্রের বর্তমান শাসকেরও। তাই মোদির এই সফরে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনা সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। তার আগে তেল আভিভের ‘আয়রন ডোম’-এর প্রস্তাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ভারতকে কেন ‘আয়রন ডোম’ প্রস্তাব ইজরায়েলের?

    ইজরায়েলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ জানান, ভারত–ইজরায়েল প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে ভারতে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, এটি শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার চুক্তি নয়, বরং প্রযুক্তি বিনিময়, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনা। ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মতো একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই, আয়রন ডোম প্রযুক্তি ভাগাভাগির ফলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রেও গতি আসবে। এই সহযোগিতার ফলে ভারত ও ইজরায়েলের বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ভারতের স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।

    ‘গোল্ডেন হরাইজন’ ক্ষেপণাস্ত্রও দিতে ইচ্ছুক ইজরায়েল

    এর আগে, ইজরায়েল ভারতকে ‘গোল্ডেন হরাইজন’ (Golden Horizon) নামে একটি শক্তিশালী কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রস্তাব দেয় বলে জানা যায়। এটি হল যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক মিসাইল। (বলে রাখা ভাল, ভারত এখনও এই প্রযুক্তি করায়ত্ত করতে পারেনি।) এই ক্ষেপণাস্ত্র ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার, সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা এমনকি পারমাণবিক কাঠামোও ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, এর পাল্লা প্রায় ১,০০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটার এবং এটি ম্যাক ৫ (শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ দ্রুত) গতিতে উড়তে পারে। এই গতি বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। তুলনামূলকভাবে ভারতের মধ্যমণি বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্রহ্মস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ম্যাক ৩। গোল্ডেন হরাইজন চুক্তি চূড়ান্ত হলে এটি ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই-৩০ এমকেআই বহরে যুক্ত হতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দূরপাল্লার হাইপারসনিক অস্ত্র দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

    ‘সুদর্শন চক্র’ প্রকল্পে ইজরায়েলি প্রযুক্তি

    ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি নিজস্ব বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে ভারত, যার নাম ‘সুদর্শন চক্র’। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া। এই প্রকল্পে আয়রন ডোম, অ্যারো (Arrow) ও ডেভিড’স স্লিং (David’s Sling)–এর মতো ব্যবস্থার সমমানের ইজরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বারাক-৮ এমআর-এসএএম/এলআর-এসএএম প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), উন্নত সেন্সর নেটওয়ার্ক ও সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা হবে।

    নতুন অস্ত্র ও প্রযুক্তি কেনার পরিকল্পনা

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, ইজরায়েল থেকে একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত  এর মধ্যে রয়েছে—

    স্পাইস-১০০০ (SPICE-1000) প্রিসিশন গাইডেড বোমা:

    • ● জিপিএস ও ইলেকট্রো-অপটিক্যাল গাইডেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। খারাপ আবহাওয়া বা জিপিএস জ্যামিং অবস্থাতেও কার্যকর।

    র‌্যামপেজ (Rampage) এয়ার-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র:

    • ● দীর্ঘ-পাল্লার সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা সুখোই-৩০ এমকেআই, মিগ-২৯, জাগুয়ার ও নৌবাহিনীর মিগ-২৯কে থেকে উৎক্ষেপণ করা যাবে। এটি তৈরি করেছে এলবিট সিস্টেম ও ইজরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ।

    এয়ার লোরা (Air LORA) ক্ষেপণাস্ত্র:

    • ● এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক বা কোয়াজি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শত শত কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং উৎক্ষেপণকারী যুদ্ধবিমানকে শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্লা থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখে।

    আইস ব্রেকার (Ice Breaker) মিসাইল সিস্টেম:

    • ● স্টেলথ বৈশিষ্ট্যযুক্ত দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল, যা স্থল ও সমুদ্রের উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে নিরাপদ দূরত্ব থেকে আঘাত হানতে সক্ষম। এটির নকশা অত্যন্ত স্টেলথি বা প্রায় অদৃশ্য এবং এটি মাটির কাছ দিয়ে ওড়ে, ফলে রেডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে চলতে সক্ষম।

    আয়রন বিম (Iron Beam) লেজার অস্ত্র ব্যবস্থা:

    • ● ১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার হাই-এনার্জি লেজার অস্ত্র, যা স্বল্প-পাল্লার রকেট, মর্টার ও ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত হবে। এটি আয়রন ডোমের পরিপূরক হিসেবে তৈরি এবং প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম খরচে প্রতিরোধ সম্ভব করে। উল্লেখযোগ্য যে, ভারতের ডিআরডিও ইতিমধ্যেই মর্ক-২এ প্রকল্পের আওতায় ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চূড়ান্ত হলে ভারত–ইজরায়েল সামরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে ভারতের অবস্থান নতুনভাবে শক্তিশালী হবে।

  • PM Modi Israel Visit: বুধে নেতানিয়াহুর দেশে যাচ্ছেন মোদি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় হতে চলেছে ভারত-ইজরায়েল নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

    PM Modi Israel Visit: বুধে নেতানিয়াহুর দেশে যাচ্ছেন মোদি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় হতে চলেছে ভারত-ইজরায়েল নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্ধু’ বেঞ্জামিন নেতানয়াহুর আমন্ত্রণে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দুদিনের ইজরায়েল সফরে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দিনের ইজরায়েল সফরে প্রতিরক্ষা সহ একাধিক বিষয়ে ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    কী লিখলেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী?

    রবিবার, নিজের এক্স হ্যান্ডলে মোদির আসন্ন ইজরায়েল সফরের কথা জানিয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু লেখেন, “আমার প্রিয় বন্ধু মোদির বুধবারের ইজরায়েল সফর নিয়ে আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কথা হয়েছে। আমরা উদ্ভাবন, নিরাপত্তা এবং একটি যৌথ কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে অংশীদার। একসঙ্গে আমরা স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোর একটি শক্তিশালী অক্ষ গড়ে তুলছি।” নেতানিয়াহুর পোস্টের জবাবে নিজের এক্স হ্যান্ডলে মোদি লেখেন, “ধন্যবাদ, আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে থাকা বন্ধন এবং আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমাত্রিক চরিত্র নিয়ে আপনার বক্তব্যের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। বিশ্বাস, উদ্ভাবন এবং শান্তি ও অগ্রগতির প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে আমরা অত্যন্ত মূল্য দিই। আমার আসন্ন ইজরায়েল সফরের সময় আপনার সঙ্গে আলোচনার জন্য আমি আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।”

    প্রতিরক্ষায় কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে মোদি-নেতানিয়াহু আলোচনা

    প্রতিরক্ষায় কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও দৃঢ় করতে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রস্তুতি চালাচ্ছে দুতরফেই। আলোচনার কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত অস্ত্র প্রযুক্তি এবং উচ্চপ্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা। তবে, নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা থাকলেও, মোদির এই সফরে কোনও বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হবে না। অন্তত এমনটাই জানা যাচ্ছে সরকারি সূত্রের মাধ্যমে। বরং তাঁদের মতে, এই সফরকে আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রোডম্যাপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কৌশলগত প্রেক্ষাপট: কেন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ

    এখনও পর্যন্ত জানা যাচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র আলোচনায় প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা অগ্রাধিকার পাবে। আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হল ভারতের ‘মিশন সুদর্শন’ উদ্যোগের আওতায় যৌথভাবে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, যার লক্ষ্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি থেকে ভারতের ভূখণ্ডকে সুরক্ষা দেওয়া। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ইজরায়েলকে ‘বিশ্বনেতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    ইজরায়েলের বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোর মধ্যে রয়েছে—

    • ● দূরপাল্লার আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা— অ্যারো (Arrow)
    • ● মাঝারি পাল্লার আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা— ডেভিড’স স্লিং (David’s Sling)
    • ● স্বল্প পাল্লার আকাশ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা— আয়রন ডোম (Iron Dome)

    এই ব্যবস্থাগুলি বাস্তব যুদ্ধপরিস্থিতিতে বহুবার পরীক্ষিত এবং বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃত। ভারতের ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় এবং নিজস্ব বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধপ্রযুক্তিতে সহযোগিতা

    ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার বাইরে ভারত যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে চায়, সেগুলি হল—

    • ● উচ্চ-শক্তির লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
    • ● দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ প্রিসিশন মিসাইল
    • ● সশস্ত্র ড্রোন ও লয়টারিং মিউনিশন

    কেনা ও যৌথ উন্নয়ন: বহু-মাত্রিক কৌশল

    গত বছরের নভেম্বরে প্রতিরক্ষা সচিব আরকে সিংহের ইজরায়েল সফরের সময় উন্নত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত মউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সম্প্রসারিত অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি হয়। আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথ থেকে নিক্ষেপযোগ্য দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার অস্ত্র ব্যবস্থা কেনা ও যৌথ উন্নয়ন বিবেচনা করছে ভারত।

    আলোচনাধীন ব্যবস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● ‘স্পাইস-১০০০’ (Spice-1000) প্রিসিশন গাইডেড বোমা
    • ● ‘র‌্যামপেজ’ (Rampage) এয়ার-টু-সারফেস মিসাইল
    • ● ‘লোরা’ (LORA) এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল
    • ● ‘আইস-ব্রেকার’ (Ice-Breaker) দীর্ঘ-পাল্লার প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল
    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য সম্প্রসারিত পাল্লার ‘বারাক-৮’(Barak-8)

    এই অস্ত্রব্যবস্থাগুলি শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা বলয় অতিক্রম করে উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াবে এবং একই সঙ্গে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে।

    প্রতিরক্ষার বাইরে বিস্তৃত কৌশলগত আলোচনা

    প্রতিরক্ষার পাশাপাশি দুই দেশ আলোচনা করবে—

    • ● বিজ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তি
    • ● কৃষি উদ্ভাবন
    • ● বিশুদ্ধ পানীয় জল সমাধান
    • ● কোয়ান্টাম কম্পিউটিং

    এতে বোঝা যায়, ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক কেবল সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে অসামরিক উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায়!

    এই সফরটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক ক্রমে ক্রেতা-বিক্রেতা প্রতিরক্ষা সম্পর্ক থেকে যৌথ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি ভাগাভাগির অংশীদারিত্বে রূপ নিচ্ছে। বড় অস্ত্রচুক্তির ঘোষণা না করে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে জোর দেওয়াই এই সফরের মূল বৈশিষ্ট্য। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তার প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) ও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা শিল্প গঠনের লক্ষ্যকে সমর্থন দেবে। অন্যদিকে, ইজরায়েলের জন্য ভারত এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে থেকে যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, মোদি-নেতানিয়াহু বৈঠক ভারত-ইজরায়েল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সংহত করবে এবং প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গভীরতর সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • India-Israel Defence: ভবিষ্যৎ সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে যৌথ গবেষণা, উৎপাদন করবে ভারত-ইজরায়েল?

    India-Israel Defence: ভবিষ্যৎ সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে যৌথ গবেষণা, উৎপাদন করবে ভারত-ইজরায়েল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নতুন চুক্তি করল ভারত ও ইজরায়েল। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হল ভবিষ্যতের সামরিক প্রযুক্তি এবং অস্ত্র ও সিস্টেমের সহ-উৎপাদনের ক্ষেত্রে গবেষণা ও উন্নয়ন করা এবং একইসঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার দিকে মনোনিবেশ করা।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত-ইজরায়েল সহযোগিতা (India Israel Defence cooperation) নিয়ে আলোচনা করলেন দু’দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বৃহস্পতিবার দুই দিনের সফরে ভারতে এসেছেন করেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেঞ্জামিন গ্যান্টজ। নয়াদিল্লি সফরে এসে প্রথমদিনই তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর বলে ট্যুইট করেন রাজনাথ। তিনি জানান, ‘India-Israel Vision on Defence Cooperation’ নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয় দুই দেশ।

    [tw]


    [/tw]

    বালাকোটের এয়ার স্ট্রাইক (Balakote Air Strike) থেকে পূর্ব লাদাখে (Ladakh) চিনা বাহিনীর (PLA) উপর নজরদারি, শত্রুপক্ষকে ধরাশায়ী করার যুদ্ধাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিতে বরাবরই ইজরায়েলি নির্ভরতা নজরে এসেছে। হেরন টিপি ড্রোন (Heron TP Drone) থেকে শুরু করে ফ্যালকন (Falcon)— শত্রুসেনার ওপর আক্রমণ শানানোর মতো সামরাস্ত্র ইজরায়েলের (Israel) থেকেই কিনেছে ভারত (India)। প্রতিরক্ষার কৌশল (Defence strategy) হোক বা সামরাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তির আদানপ্রদান (Defence technology), ইজরায়েলকে সবসময়েই পাশে পেয়েছে ভারত। এবার সামরিক ক্ষেত্রে এই পারস্পরিক সহযোগিতাকেই অন্য মাত্রা দিতে চলেছে দুই দেশ।

    চলতি বছর ভারত-ইজরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৩০ তম বর্ষপূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। এই তিন দশকে দুদেশের মধ্যে  দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অস্ত্র ও সরঞ্জামের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির আদানপ্রদান হয়েছে। ভারত ও ইজরায়েল যৌথভাবে মাঝারি-পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার-মিসাইল (MRSAM) বারাক 8 (Barak 8) এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তৈরি করেছে। গত সেপ্টেম্বরে, ভারতীয় বায়ুসেনা এই সিস্টেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা ৭০ কিলোমিটার পাল্লা পর্যন্ত শত্রুর যে কোনও যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, হেলিকপ্টার এবং আনম্যানড্ এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি) যানের মতো বায়বীয় হুমকিকে ছিটকে দিতে সক্ষম।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর,  নিরাপত্তা সংক্রান্ত ওই বিশেষ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন দুই দেশের মন্ত্রী। ভারত-ইজরায়েলের মধ্যে ৩০ বছরের নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদার করতে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে দু’পক্ষ। ভারত ও ইজরায়েল উভয় দেশই সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমরা আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে পারি এবং উভয় দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করতে পারি।”

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রথম নয়। যৌথ উদ্যোগে অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য সাব-ওয়ার্কিং গ্রুপও তৈরি করেছে ভারত-ইজরায়েল। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সচিব ও সমরাস্ত্র নির্মাতা সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা ওই গ্রুপে রয়েছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, দ্বিপাক্ষিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উৎপাদিত অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম অন্য দেশে বিক্রিও ওই গ্রুপের অন্যতম লক্ষ্য। আগামী দিনেও যুদ্ধাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি আদানপ্রদান করবে দুই দেশ।

    ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) এবং ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা সংস্থা ডিরেক্টরেট অব ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (DDR and D)-এর মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশই প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে তাদের আধুনিক প্রযুক্তির আদানপ্রদান করবে বলেও স্থির হয়েছে।

LinkedIn
Share