Tag: India Map

  • Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি ভারতীয় রেস্তরাঁয় ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় বক্সার লভলিনা বরগোহাঁই বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরার পর রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ (Glasgow Restaurant) ক্ষমা চেয়ে মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। ফলে সেটি বন্ধ করা হয়েছে (Incomplete India Map), নাকি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফর (Glasgow Restaurant)

    ঘটনার সূত্রপাত ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফরকে ঘিরে। ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দুর্দান্ত সাফল্যের পর ভারতীয় বক্সিং দল মোট ১০টি পদক—সাতটি সোনা ও তিনটি রুপো—জিতে দেশে গৌরব এনে দেয়। সেই সাফল্য উদ্‌যাপন করতেই দলের সদস্যরা গ্লাসগোর ‘মিস্টার সিংস ইন্ডিয়া, দ্য হোম অব কারি’ রেস্তরাঁয় গিয়েছিলেন। উৎসবের সেই আয়োজনই পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর দেখা যায়, লভলিনা রেস্তরাঁর ছাপানো একটি ন্যাপকিন হাতে নিয়ে তাতে থাকা ভারতের মানচিত্রের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

    লভলিনার অভিযোগ

    তাঁর অভিযোগ, মানচিত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। লভলিনা বলেন, “দয়া করে বিষয়টি অন্যভাবে নেবেন না। এতে আমি কিছুটা কষ্ট পেয়েছি। ভারতের মানচিত্রে আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নেই। হ্যাঁ, বাইরেও যে মানচিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে, সেখানেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাদ দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বের একজন মানুষ হিসেবে বিষয়টি আমাদের সত্যিই কষ্ট দেয়। আমি শুধু এটুকুই বলতে চেয়েছিলাম। পরের বার দয়া করে বিষয়টি মনে রাখবেন। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।” অসমের এই বক্সারের বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাদ দেওয়া বা উপেক্ষা করার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যে অভিযোগ রয়েছে, লভলিনার বক্তব্য সেই বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে আসে (Glasgow Restaurant)।

    প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের

    সমালোচনার পর দ্রুত বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চান রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩২ বছর ধরে ভারতীয় সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁরা ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “সবার আগে আমরা ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শনের জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইছি। এটি সংশোধনের জন্য আমরা অবিলম্বে পদক্ষেপ করব। আবারও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আমরা কাউকে আঘাত করতে চাইনি। বরং ভারতীয় দলের জন্য গর্বের সঙ্গে পরিষেবা দিতে চেয়েছিলাম।” ভারতীয় দলের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ জানান, বিজয়ী ক্রীড়াবিদদের আতিথেয়তা করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। বিবৃতিতে বলা হয়, “সঠিক মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তন করা হবে। কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় দলের অসাধারণ সাফল্যের পর তাঁদের পরিষেবা দিতে পারা আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়। সমস্ত ক্রীড়াবিদ এবং অতিথিরা তাঁদের সন্ধ্যাটি উপভোগ করেছেন। এই স্মৃতি আমাদের কাছে ভারতের সঙ্গে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”

    অদৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট

    ক্ষমা চাওয়ার পরেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনলাইনে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অ্যাকাউন্টটি কি কর্তৃপক্ষ নিজেই নিষ্ক্রিয় করেছেন, নাকি সম্পূর্ণ মুছে (Incomplete India Map) দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে তাঁরা আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হবেন কি না, তাও এখনও স্পষ্ট নয় (Glasgow Restaurant)।

     

  • Jammu Kashmir India: বাংলাদেশের সেমিনারে ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শন, প্রকাশ্যেই আপত্তি ভারতীয় কূটনীতিক পূজার

    Jammu Kashmir India: বাংলাদেশের সেমিনারে ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শন, প্রকাশ্যেই আপত্তি ভারতীয় কূটনীতিক পূজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি নীতিনির্ধারণী সেমিনার থেকে তামাম বিশ্বকে বড় বার্তা দিয়ে খবরের শিরোনামে ভারতীয় কূটনীতিক পূজা কুমারী ঝা (Pooja Kumari Jha)। ভারতের মানচিত্রে জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir India) ভুল উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রচারের আলোকে চলে এসেছেন তিনি। ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এ আয়োজিত “আস্থা পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সংহতির নবায়ন: সার্ক পুনরুজ্জীবনের পথ” শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন পূজা। সেখান থেকেই দৃঢ় গলায় জানিয়ে দেন জন্মু-কাশ্মীরের ভুল উপস্থাপন নিয়ে তাঁর প্রবল আপত্তির কথা।

    জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই (Jammu Kashmir India)

    জানা গিয়েছে, ঢাকার ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ভারতে বাংলাদেশের প্রাক্তন হাইকমিশনার আহমেদ তারিক করিম। তিনি ২০০৯ থেকে ’১৪ পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বক্তব্যের সময় তাঁর উপস্থাপনায় ভারতের একটি মানচিত্র দেখানো হয়। সেই ম্যাপে জম্মু- কাশ্মীরের সীমানা ভারতের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেই ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব পূজা। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, “এখানে ভারতের যে মানচিত্রটি দেখানো হচ্ছে, সেটি ঠিকঠাক নয়। জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য এবং অবিচ্ছিন্ন অংশ।” তাঁর আপত্তির জবাবে আহমেদ তারিক করিম বলেন, “এই মানচিত্রটি কেবল উপস্থাপনার সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রকৃত আন্তর্জাতিক সীমানা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত হয়নি।” তবে তাঁর এই ব্যাখ্যার পরেও ভারতের সরকারি অবস্থান মনে করিয়ে দেন পূজা। বলেন, “আমি আপনার বক্তব্য বুঝতে পারছি। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং এখানে সেটাই ভুলভাবে দেখানো হয়েছে। তাই বিষয়টি তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেছি।”

    ঢোক গিলতে হল বাংলাদেশকে!

    এই সময় (Jammu Kashmir India) করিম জানতে চান, তিনি ভারতের প্রতিনিধি কি না। উত্তরে নিজের পরিচয় দিয়ে পূজা জানান, তিনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব। বাধ্য হয়ে করিম বলেন, “আপনার বক্তব্য নথিভুক্ত করা হল।” এই বলেই তিনি তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যেতে থাকেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরে করিম জানান, ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি আইনি সার্বভৌমত্ব অর্জন করলেও, তাদের পরিচয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং ভূখণ্ডগত নিরাপত্তা নিয়ে নানা উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, ঔপনিবেশিক শাসন শুধু সীমান্ত নির্ধারণ করেনি, বরং রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার ধরনও বদলে দিয়েছিল। এর ফলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকে অনেক সময় সহযোগী নয়, সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

    দেশভাগের জের

    তিনি আরও জানান, ঔপনিবেশিক শাসনের আগে দক্ষিণ এশিয়া কঠোরভাবে বিভক্ত ভূখণ্ড ছিল না। সাম্রাজ্য, দেশীয় রাজ্য, বাণিজ্যপথ, তীর্থযাত্রা, ভাষাগত ধারাবাহিকতা এবং পরিবেশগত সংযোগের মাধ্যমে মানুষ অবাধে চলাচল করত, বাণিজ্য হত, বিবাহ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের চলও ছিল। দেশভাগের ফলে পরিবার, বাজার, নদী, রেলপথ, বন্দর, স্মৃতি এবং (Jammu Kashmir India) পরিচয় বিভক্ত হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, “দেশভাগ ছিল যেন একটি পরিবারের বাড়িকে ভাগ করে দেওয়ার মতো ঘটনা (Pooja Kumari Jha)।” সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

    কে এই পূজা?

    এদিকে, ভারতীয় কূটনীতিক পূজার এই প্রতিবাদের একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, মানচিত্রে আপত্তি তুলে ধরে পূজা স্পষ্ট ভাষায় ভারতের অবস্থান তুলে ধরছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। পূজা ভারতীয় বিদেশ পরিষেবার ২০২২ ব্যাচের আধিকারিক। ওই বছরই তিনি প্রথমবারের চেষ্টায়ই ইউপিএসসির সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ৮২তম স্থান লাভ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্রই ২৫ বছর। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে পূজা জানিয়েছিলেন, তাঁর শৈশব আর্থিক সঙ্কট ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে কেটেছে। পরিবারের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ সন্তান হিসেবে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই তিনি দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন।

    জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান

    জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir India) প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান বরাবরই এক। নয়াদিল্লির দাবি, সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে ভারত বরাবরই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর খালি করার দাবি জানিয়ে এসেছে, এবং এই ইস্যুতে কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে (Pooja Kumari Jha)।ঢাকার এই সাম্প্রতিক ঘটনায়ও ভারতীয় কূটনীতিক পূজা সরকারের সেই অবস্থানই আরও একবার জানিয়ে দিলেন প্রকাশ্যে। উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান বিআইআইএসএস। এর লক্ষ্য হল নানা আন্তর্জাতিক, নিরাপত্তা, কৌশলগত ও উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা পরিচালনা করা। এটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচিত (Jammu Kashmir India)।

     

  • India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করার পর, ট্রাম্প প্রশাসনের শেয়ার করা ভারতের একটি মানচিত্র (India Map) চলে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরালও (Trade Deal) হয়েছে এই মানচিত্রটি। বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (USTR) যে ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করে, তাতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো অঞ্চল এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে (POK) ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই মানচিত্রে আকসাই চিনকেও ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও চিন এই অঞ্চলকে নিজের ভূখণ্ড বলেই দাবি করে।

    নয়া মানচিত্র (India Map)

    অবশ্য ভারতের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না। ভারত বরাবরই বলে আসছে যে কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবু এই মানচিত্র আমেরিকার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে একটি স্পষ্ট বিচ্যুতি নির্দেশ করে। এটি ইচ্ছাকৃতই হোক বা অনিচ্ছাকৃত, পাকিস্তানের উদ্দেশে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ভারতের মানচিত্রের সঙ্গেই সাযুজ্য রাখছে। এর আগে আমেরিকা বা তাদের বিদেশ দফতর যে মানচিত্রগুলি প্রকাশ করত, তাতে সাধারণত পাকিস্তানের আপত্তির কথা মাথায় রেখে পিওকে-কে স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখানো হত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ প্রকাশিত মানচিত্র পাকিস্তানের দাবিকে কার্যত উপেক্ষাই করেছে। এই ঘটনার সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্থির ও অনিশ্চিত অবস্থায় ট্রাম্প নেতৃত্ব এক টালমাটাল সময় পার করার পর ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার তাদের সম্পর্ক নতুন করে সাজাচ্ছে। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে সর্বোচ্চ। নতুন বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় সেই শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এশীয় দেশগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন (India Map)।

    ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত

    এছাড়া ট্রাম্প আবারও ভারত ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে দেখার (re-hyphenation) নীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করেন, যা জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শুরু করা ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরাও তা অনুসরণ করে এসেছিলেন। মানচিত্রে লাদাখের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত বিতর্কিত আকসাই চিন অঞ্চলকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও চিন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করে এই অঞ্চলের ওপর দাবি জানিয়ে আসছে (Trade Deal)। প্রসঙ্গত, ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) বারবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর এবং অরুণাচল প্রদেশের ভুল উপস্থাপনার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপে অবশেষে ভারতের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা দ্রুত এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর গৌরব আর্য টুইট করে লেখেন, “মানচিত্রের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো নম্বর। খুব ভালো কাজ (India Map)।”

    পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    আর এক ইউজার লেখেন, “পাকিস্তান, (আসিম) মুনির এবং ওয়াশিংটন সফর নিয়ে প্রচারের পক্ষে এটা একটা বড় ধাক্কা”, যা ইসলামাবাদের ট্রাম্পকে তোষামোদ করার প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে (Trade Deal)। গত ছ’মাসে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তিনবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে দু’বার সাক্ষাৎ করেছেন, যার মধ্যে জুন মাসের একটি বহুল আলোচিত মধ্যাহ্নভোজও রয়েছে। এটি ছিল প্রথমবার, যখন কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন, কোনও বেসামরিক নেতৃত্ব ছাড়াই। এক সাংবাদিক টুইট-বার্তায় লেখেন, “বাণিজ্য গৌণ বিষয়। আসল বিষয় হল, এই মানচিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন, যেখানে পিওকে-কে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হত।”

    অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি

    তবে মধ্য-মার্চে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ভারতের রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে, বিশেষত ৫০ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পরে। ভারত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, ওষুধ, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশে ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজের ‘রেড লাইন’ অটুট রেখেছে (India Map)। এখন প্রশ্ন হল, এই মানচিত্র কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সূক্ষ্ম কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা ভারতের দিকে ঝুঁকছে? এটি কি ট্রাম্পের সঙ্গে এক বছরের টানাপোড়েনের পর ভারতকে তুষ্ট করার কৌশল, নাকি নিছকই আমলাতান্ত্রিক অসাবধানতা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এই (Trade Deal) মানচিত্র ভারতকে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সুবিধা দিয়েছে এবং ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল ভূখণ্ডগত দাবিকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে (India Map)।

     

LinkedIn
Share