Tag: India on Terrorism

  • India At UN: সন্ত্রাসবাদকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি ভারতের, রাষ্ট্রপুঞ্জে জোরালো সওয়াল

    India At UN: সন্ত্রাসবাদকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি ভারতের, রাষ্ট্রপুঞ্জে জোরালো সওয়াল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) মঞ্চে সন্ত্রাসবাদকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাল ভারত (India At UN)। গত ১২ অক্টোবর রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটির বৈঠকে এই অবস্থান স্পষ্ট করে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, তদন্ত এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে প্রতিটি রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্বের উপর জোর দিয়েছে ভারত। মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে ভারত জানিয়েছে, যে সমস্ত সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড (India on Terrorism) মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে, সেগুলিকে যথাযথভাবে এই অপরাধের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের তরফে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় আইন ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রেরই। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ভৌগোলিক অধিক্ষেত্র ও জাতীয় বিচারব্যবস্থার অগ্রাধিকার বজায় রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকেও সম্মান জানাতে হবে।

    নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান

    মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তি নিশ্চিত করতে নতুন কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি তৈরি হলে তা যেন ইতিমধ্যে কার্যকর থাকা আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার পরিপূরক হয়, সেই দাবি জানিয়েছে ভারত। বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর বিধানগুলিকে হুবহু নতুন চুক্তিতে স্থানান্তরের বিরোধিতাও করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের সর্বজনস্বীকৃত নীতি, দেশগুলির জাতীয় স্তরে আইন প্রয়োগ ও বিচার পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি দেশের আইনগত অধিকার ও সার্বভৌমত্বের ভারসাম্য বজায় রাখার উপরও জোর দিয়েছে ভারত।

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিকাঠামো জোরদার

    রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সন্ত্রাসে অর্থায়নের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিয়েছে ভারত। পাশাপাশি, গোয়েন্দা তথ্যের আদানপ্রদান, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমেও দেশের নিরাপত্তা পরিকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভূত নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও ভারতের নিরাপত্তা কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাষ্ট্রপুঞ্জের ষষ্ঠ কমিটিতে ভারতের বক্তব্যের মূল সুর, সন্ত্রাসবাদ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। তবে নতুন কোনও আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় বিদ্যমান চুক্তির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে জাতীয় বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃত নীতিগুলিকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।

  • S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা পাকিস্তান। তাদের পাশে না দাঁড়ানোর জন্য পোল্যান্ডকে বিশেষ বার্তা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। পাকিস্তানের জঙ্গিনীতি থেকে দূরে থাকাই উচিত ওয়ারশ রাজনীতির। সোমবার পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কিকে এই বার্তায় দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কি। সোমবার ছিল তার সফরের শেষদিন। আর এই সফর শেষের আগে বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে পোল্যান্ডকে সাফ বার্তা ভারতের।

    জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ, সন্ত্রাস নিয়ে কড়া বার্তা

    সূত্রের খবর, ভারত ও পোল্যান্ড দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে উঠে এসেছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ। আর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীরের সমস্যা মেটাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বলেও জানায় ভারত। এমনকি সন্ত্রাসবাদে মদত না দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। সরাসরি ইসলামাবাদের নাম না নিলেও পাকিস্তানকে তোপ দেগেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর বলেন-“আমরা আশাবাদী, পোল্যান্ড সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই চলবে।” জয়শঙ্করের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তান সফরের সময় পোল্যান্ড কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামাবাদের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। বৈঠকের শুরুতে জয়শঙ্কর বলেন, পোল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকির বিষয়টি জানে। তিনি বলেন, “উপপ্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের অঞ্চল সম্পর্কে অবগত এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা জানেন। পোল্যান্ডের উচিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং আমাদের প্রতিবেশী সন্ত্রাসী পরিকাঠামোকে কোনওভাবেই উৎসাহ না দেওয়া।”

    কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের পর সিকোরস্কি সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি জানান, পোল্যান্ড নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসমূলক হামলার শিকার হয়েছে। সিকোরস্কি বলেন, “সম্প্রতি ইউক্রেনের সঙ্গে সংযোগকারী একটি রেলপথে চলন্ত ট্রেনের নিচে বিস্ফোরণ ঘটে, যা কার্যত রাষ্ট্র-সন্ত্রাসের উদাহরণ।” ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসে অর্থ জোগানো এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে সতর্ক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ভারত।

    রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “নিউ ইয়র্ক ও প্যারিসে আগেও আমি ইউক্রেন সংঘাত ও তার প্রভাব নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। একই সঙ্গে বলেছি, ভারতের বিরুদ্ধে এই নির্বাচনীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া অন্যায় ও অযৌক্তিক। আজও আমি সেই কথাই পুনরায় বলছি।” জবাবে সিকোরস্কি বলেন, “নির্বাচনী টার্গেটিং শুধু শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর আরও নানা রূপ রয়েছে।”

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share