Tag: india Pakistan relation

  • Pakistani-Sindhi Brides: অপেক্ষার অবসান! অপারেশন সিঁদুরের পর ভিসা জট কাটিয়ে ভারতে এলেন ১৫০ পাকিস্তানি সিন্ধি কনে

    Pakistani-Sindhi Brides: অপেক্ষার অবসান! অপারেশন সিঁদুরের পর ভিসা জট কাটিয়ে ভারতে এলেন ১৫০ পাকিস্তানি সিন্ধি কনে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ভিসা পরিষেবা এবং ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত। এর জেরে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের (Pakistani-Sindhi Brides) বহু পরিবারের মেয়েদের ভারতীয় পাত্রদের সঙ্গে বিয়ে কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। অবশেষে সেই জট কাটিয়ে অন্তত ১৫০ জন পাকিস্তানি সিন্ধি কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিকল্প ট্রানজিট রুটে ভারতে এসে পৌঁছেছেন। সিন্ধি সম্প্রদায়ের নেতা রাজেশ ঝামবিয়া সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরবর্তীতে ওই কনেদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা মঞ্জুর করে। তবে তাঁদের সরাসরি আটারি সীমান্ত দিয়ে নয়, তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে বিমানে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ঝামবিয়ার কথায়, “অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে।” তাঁর দাবি, কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা মাসকাট, দুবাই, শ্রীলঙ্কা এবং অন্যান্য ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে পৌঁছেছেন।

    আটারি সীমান্ত বন্ধের পর বদলে যায় পরিস্থিতি

    দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের সিন্ধি পরিবারগুলি বিয়ের জন্য ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে যাতায়াত করতেন। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরের পর সেই পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ঝামবিয়া বলেন, আটারি রুটে ভারতে আসার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছিল। ফলে ভারতে বিয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকা বহু পাকিস্তানি তরুণীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরপর রায়পুরের সন্ত যুধিষ্ঠিরলাল শাদানি, যিনি পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের ঘোটকিতে অবস্থিত শাদানি দরবারের আধ্যাত্মিক প্রধান, এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হন। ভারতে যাঁদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল, এমন পাকিস্তানি তরুণীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়।

    কেন্দ্রের কাছে আবেদন

    শাদানি দরবারের পক্ষ থেকে ওই তালিকা ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হয়। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভারতে আসার জন্য ভিসা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। ঝামবিয়ার দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আবেদন বিবেচনা করে তাঁদের ভারতে আসার অনুমতি দেয়। তবে শর্ত ছিল—সীমান্ত দিয়ে নয়, বিমানে করে তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করতে হবে। তিনি জানান, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে প্রায় ১৫০ জন কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্য পাকিস্তান থেকে দুবাই, ওমান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে শুধু নাগপুরেরই প্রায় ১৫টি বিয়ের ঘটনা রয়েছে।

    এখনও অপেক্ষায় প্রায় ৩০০ কনে

    তবে সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। ঝামবিয়ার দাবি, পাকিস্তানে এখনও প্রায় ৩০০ জন সিন্ধি তরুণী রয়েছেন, যাঁদের ভারতীয় যুবকদের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে তাঁরাও ভারতে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এই তরুণীদেরও যাতে ভারতীয় ভিসা দেওয়া হয়, সেই জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিন্ধি সম্প্রদায়ের নেতারা। অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও এই বিয়েগুলির ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দুই দেশের সিন্ধি পরিবারগুলির জন্য স্বস্তির বার্তা এনেছে।

  • POK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি চরমে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে

    POK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি চরমে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK Unrest)-এ পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মঙ্গলবারও বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের আবহ অব্যাহত রয়েছে। যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র অভিযোগ, বাগ জেলায় চলমান বিক্ষোভ দমাতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। সংগঠনের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। একই সঙ্গে মুজাফফরাবাদ জেলার মাকরি এলাকায় সাধারণ মানুষের মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোরও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি

    সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) রাষ্ট্রসংঘ (UN), রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর (OHCHR), আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্থানীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে পিওকে-র একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। JAAC-এর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকশো মানুষ আহত হয়েছেন। এদিকে, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

    আগেও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সেনা। সাধুনাটি জেলায় জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র নিরস্ত্র জমায়েতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিন জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। রাওয়ালকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনালের সামনে গুলিবর্ষণেও মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) ইসলামাবাদের সেনার ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছে ভারতও। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘নয়াদিল্লি আশা করে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘটিত নির্যাতন ও অনাচারের জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে পাকিস্তানকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। সেখানে কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং অবৈধ ভাবে দখলে থাকা এলাকাগুলিতে প্রশাসনিক নিপীড়নের সরাসরি পরিণতি এই স্বতঃস্ফূর্ত গণবিক্ষোভ।’’ ভারতের অভিযোগ, স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অভিযোগগুলোর সমাধান করার পরিবর্তে পাকিস্তানি রাষ্ট্র চরম দমনপীড়নের পথ নিয়েছে এবং নিরস্ত্র অসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে। যার ফলে ধারাবাহিক ভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

    ১২টি সংরক্ষিত আসন-ই ইসলামাবাদের চাবিকাঠি

    দীর্ঘ দিন ধরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা পাক সেনার অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলন করছেন। তাতে নতুন মাত্রা এনেছে, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে স্থানান্তরিত সংরক্ষিত ১২টি আসন। সেই আসনগুলিই এখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠনের যৌথমঞ্চ, জেএএসি ওই ১২টি সংরক্ষিত আসন তুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং সেখানকার রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে হাতিয়ার করছে। ১৯৪৭ এবং তার পর ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীর থেকে বহু মানুষ পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। বিশেষ করে জম্মু, পুঞ্চ এবং রাজৌরি থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। এই মানুষদের পাকিস্তানে ‘উদ্বাস্তু’ ঘোষণা করা হয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় মোট ৫৩ জন সদস্যের মধ্যে এই উদ্বাস্তুদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬টি আসন কাশ্মীর উপত্যকা এবং ৬টি আসন জম্মু থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত। ওই উদ্বাস্তুরা যেহেতু পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে বসতি স্থাপন করেছেন, তাই সংরক্ষিত আসনগুলির নির্বাচন পিওকে-র বাইরে হয়ে থাকে।

    কীভাবে ভুল পথে অধিকৃত কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণ করে ইসলামাবাদ

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের সঙ্গে আসনগুলির যোগসূত্র রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্বাস্তু প্রতিনিধিদের দেখিয়ে ইসলামাবাদ বলতে চায়, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি। জেএএসি-র, এই উদ্বাস্তু আসনগুলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। অভিযোগ, ওই আসনগুলি থেকে সাজানো নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ইসলামাবাদ। জেএএসি-র নেতা সর্দার আমান খান সম্প্রতি পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসেরও বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীই মূলত ওই স্থানান্তরিত কাশ্মীরিদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাস রফতানি ও অস্ত্র সরবরাহ করে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি নির্যাতন প্রতিরোধে হস্তক্ষেপের জন্য নয়াদিল্লির কাছে আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। গত ৯ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে শুরু হয়েছে আন্দোলনে নতুন পর্যায়। তাতে ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাক সেনার বিরুদ্ধে।

    উদ্বেগ প্রকাশ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি পাকিস্তান সরকারের কাছে দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অ্যামনেস্টির আরও অভিযোগ, পিওকে-র কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে ঘটনাগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখারও আহ্বান জানিয়েছে। পিওকে-তে পরিস্থিতি ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মহল নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।

  • India Pakistan Relation: ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র, নিজেদের তৈরি দানবের কামড় খাচ্ছে’! রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    India Pakistan Relation: ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র, নিজেদের তৈরি দানবের কামড় খাচ্ছে’! রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গি তৈরির কারখানা। একটা ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ (Frankenstein state)। রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ ভারতের। শুক্রবার ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুপমা সিং বলেন, ‘‘ওই দেশটি এখন নিজের তৈরি দানবের (সন্ত্রাসবাদী) কামড় খেয়ে নিজেরাই চমকে উঠেছে।’’ রাষ্ট্রসংঘে দিল্লির প্রতিনিধি (India Pakistan Relation) অনুপমা সিং বলেন, “সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ, মোতায়েন এবং আশ্রয়” দেওয়াই ইসালামাবাদের কাজ। সম্মেলনে পাক প্রতিনিধি কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলতেই পালটা আক্রমণ করেন ভারতের প্রতিনিধি।

    পাকিস্তানের হিংসা ও দমনপীড়ন

    পাকিস্তানের প্রতিনিধি জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলায় তার জবাব দিতে গিয়ে অনুপমা পাল্টা অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদ ধারাবাহিক ভাবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ-সহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ‘‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হল, ভারতের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারি।’’ তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান এমন এক দেশ, যার বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী “রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে জঙ্গিদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ এবং কাজে লাগানোর বিষয়ে গর্ব করেন। অথচ পাকিস্তান নিজেকেই সন্ত্রাসবাদের শিকার বলে দাবি করে। সত্যিই এক অদ্ভুত বৈপরীত্য, যা কেবল পাকিস্তানই জিইয়ে রাখতে পারে। ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ রাষ্ট্রের জীবন্ত উদাহরণ, নিজেরই সৃষ্টি করা দানবের পালটা কামড়ে হতবাক হয়ে পড়ে।” পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে সিন্ধুচুক্তি বাতিলের পক্ষে সওয়াল করেন ভারতীয় প্রতিনিধি। ভারতের অনুপমা সিংয়ের বক্তব্যের সামনে কার্যত দাঁড়াতে পারেনি পাক প্রতিনিধি।

    গায়ের জোরে দখলদারি

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রাওয়ালাকোটের হিংসা ও দমনপীড়নের উল্লেখ তিনি পাকিস্তান সরকার এবং সেনার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। চলতি মাসের গোড়া থেকেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে সাধারণ জনতার। ওই অঞ্চলে আর্থিক দুর্দশা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’। সম্প্রতি ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। তার পর থেকেই বিক্ষোভ, প্রতিবাদ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পাক সেনা এবং রেঞ্জার্স বাহিনীর হামলাও। নির্বিচার গুলিবর্ষণে এ পর্যন্ত শতাধিক সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে অনুপমা বলেন, “রাওয়ালাকোটের এই ট্র্যাজেডি, শত শত সাধারণ নাগরিককে হত্যা এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে চালানো নৃশংস দমন-পীড়ন আদতে প্রত্যাশিত পরিণতি। কারণ তা গায়ের জোরে দখলদারির উপর প্রতিষ্ঠিত। দমন-পীড়ন চালিয়েই শাসন টিকিয়ে রাখা হয়েছে।” একটি সূত্রে দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মোট মৃতের সংখ্যা তিরিশ ছাড়িয়েছে। এই বিষয়ে অনুপমা বলেন, “কয়েক দশক ধরে সামরিক শক্তিতে ভূমি দখল, জনবিন্যাস নিয়ে কারসাজি এবং মৌলিক স্বাধীনতা হরণের ফলে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এমনকী খাদ্য, বিদ্যুৎ, নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদার মতো দাবিওগুলিও বন্দুক উঁচিয়ে চেপে দেওয়া হচ্ছে।”

  • India China Relation: ‘নাক গলানোর অধিকার নেই কারও’ কড়া জবাব ভারতের, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নিয়ে কেন চিন-পাক যৌথ বিবৃতি?

    India China Relation: ‘নাক গলানোর অধিকার নেই কারও’ কড়া জবাব ভারতের, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নিয়ে কেন চিন-পাক যৌথ বিবৃতি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের “অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ”। এই বিষয়ে কোনও দেশের মন্তব্য করার “কোনও অধিকার নেই”। চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীরের উল্লেখকে দ্ব্যর্থহীন ভাবে সমালোচনা করল ভারত। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের অবস্থান সুসংগত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে সুপরিচিত। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ, দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ ছিল, আছে এবং সবসময় থাকবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার অন্য কোনও দেশের নেই।”

    চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে প্রত্যাখ্যান

    মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে চিন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে ভারতীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত যে মন্তব্য করা হয়েছে, তা ভারত “স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান” করছে। মে ২৬, ২০২৬-এ প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে ভারত তার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা কোনওভাবেই আপসযোগ্য নয়। চিন সফরে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন, তাতেই ফের উঠে আসে কাশ্মীর প্রসঙ্গ। সেই বিবৃতিতে পাকিস্তান চিনকে জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অবহিত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি চিনের তরফে জানানো হয়, রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

    ভারতীয় ভূখণ্ডে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর

    চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (China–Pakistan Economic Corridor) নিয়েও ফের আপত্তি জানায় নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, এই প্রকল্পের একটি অংশ পাকিস্তানের বেআইনি দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। ফলে এই ধরনের উদ্যোগকে ভারত কখনওই মান্যতা দেবে না। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানায়, সিপিইসি-সংক্রান্ত কার্যকলাপ নিয়ে ভারত একাধিকবার চিন ও পাকিস্তান—উভয় দেশকেই নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, “তথাকথিত চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) প্রকল্পের কয়েকটি ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডে অবস্থিত। আমরা অন্য কোনও দেশের এমন পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করি, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করে পাকিস্তানের বেআইনি ও বলপূর্বক দখলদারিকে বৈধতা দেয়। এই বিষয়টি পাকিস্তানি ও চিনা কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।”

    সীমান্ত পারাপার জলসম্পদ সহযোগিতা

    এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আপত্তি তোলে ভারত। চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে ‘সীমান্ত পারাপার জলসম্পদ সহযোগিতা’র কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে ভারতের বক্তব্য, চিন এবং পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি কোনও সীমান্তই নেই। ফলে এই ধরনের সহযোগিতার প্রশ্নই ওঠে না। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে হওয়া তথাকথিত সীমান্ত চুক্তিকে ভারত কখনও স্বীকৃতি দেয়নি। উল্লেখ্য, সেই সময় পাকিস্তান শাকসগাম উপত্যকার প্রায় ৫১৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চিনের হাতে তুলে দেয় বলে ভারতের দাবি।

    প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন চিনের

    কূটনৈতিক মহলের মতে, এই যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীর এবং জলসম্পদ প্রসঙ্গ তোলার মাধ্যমে পাকিস্তানকে আরও একবার প্রকাশ্যে সমর্থনের বার্তা দিল বেজিং। একই সঙ্গে ভারতের উপর চাপ তৈরি করার কৌশলও থাকতে পারে এর পিছনে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরের কাছে গওয়াদর বন্দরের কৌশলগত গুরুত্বও এই সম্পর্কের অন্যতম কারণ। চিন দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

    বেজিং-এর প্রাধান্য মেনে নিল ইসলামাবাদ

    অন্যদিকে পাকিস্তান আবারও ‘এক চিন নীতি’র প্রতি সমর্থন জানাতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ তাইওয়ানকে চিনের অংশ হিসেবেই মানছে ইসলামাবাদ। চিন সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সফরের সময় এই নীতির প্রতি সমর্থন আদায় করে থাকে। ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চিন সফরে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সফরকালে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। দুই দেশই জানিয়েছে, তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে নতুন ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

    কোয়াডের পাল্টা বেজিংয়ের বিবৃতি

    সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াডের বৈঠকে  ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের প্রভাব ঠেকাতেও তৎপর হয়েছে ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার চতুর্দেশীয় অক্ষ বা কোয়াড। মঙ্গলবার দিল্লিতে চতুর্দেশীয় জোটে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে সেই বার্তাই উঠে এসেছে। চিনকে ঠেকাতে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে যৌথ ভাবে বন্দর বানাবে কোয়াড গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি। পাশাপাশি রফতানি ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কোয়াড। সরাসরি কোনও দেশের নামোল্লেখ করেনি তারা। ইঙ্গিত ছিল চিনের দিকেই বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, বিরল খনিজ রফতানির ক্ষেত্রে গত বছর থেকে কড়াকড়ি শুরু করেছে চিন। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, এমনকি ভারতেও। কোয়াডের এই ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তেই ধাক্কা খেয়েছে বেজিং, তাই পাকিস্তানকে পাশে নিয়ে এই বিবৃতি, বলে মত বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের পহেলগাঁও হামলারও কড়া নিন্দা করেছে কোয়াড।

    দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কড়া ভারত

    এই আবহেই চিন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে কেন্দ্র করে ভারত ফের কড়া কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করল। বিশেষ করে কাশ্মীর, লাদাখ এবং সিপিইসি ইস্যুতে নয়াদিল্লি যে কোনও আপসের পথে হাঁটবে না, সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরা হল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশ্মীর ইস্যু এবং বিতর্কিত অঞ্চলে চিন-পাকিস্তানের কৌশলগত সহযোগিতা ঘিরে যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া তারই প্রতিফলন। মোদি সরকারের পরিষ্কার বার্তা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে আপোষ নয়।

  • India Pakistan Relation: “বাংলার দিকে নজর দিলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে” বাংলায় এসে পাক মন্ত্রীকে জবাব রাজনাথের

    India Pakistan Relation: “বাংলার দিকে নজর দিলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে” বাংলায় এসে পাক মন্ত্রীকে জবাব রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার দিকে নজর দিলে পাকিস্তানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে। পাকিস্তানের তরফে কলকাতায় হামলার হুমকির জবাবে কড়া বার্তা দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ (Khawaja Asif) মন্তব্য করেছিলেন, ভবিষ্যতে কোনও সংঘাত হলে ইসলামাবাদ কলকাতায় হামলা চালাতে পারে। সেই মন্তব্যেরই জবাবে ব্যারাকপুরে এক জনসভা থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন উসকানিমূলক মন্তব্য করা উচিত হয়নি। ৫৫ বছর আগে তারা এর ফল ভুগেছে, যখন পাকিস্তান দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। এবার যদি বাংলার দিকে নজর দেয়, তবে কত ভাগে ভাঙবে, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন।”

    ইসলামাবাদকে জবাব

    ৫৫ বছর আগে কী হয়েছিল মনে আছে তো? ভোটপ্রচারে ব্যারাকপুরে এসে পাকিস্তানকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করান ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বললেন, ‘৫৫ বছর আগের কথা মনে রাখা উচিত পাকিস্তানের। কী করে দু’টুকরো হয়েছিল! আবার কিছু করার চেষ্টা করলে পরিণতি কী হবে, সেটা ওরাই বুঝতে পারবে।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী এখানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যখন ভারতের সামরিক পদক্ষেপের পর পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে ওঠে। এদিন তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ভারত সর্বদা প্রস্তুত। পাকিস্তান যদি কোনও রকম ‘মিসঅ্যাডভেঞ্চার’ করে, তবে ভারত নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না।

    কী বলেছিল পাকিস্তান

    গত বৃহস্পতিবার ভোটমুখী কেরালায় দলের প্রচারে গিয়ে পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছিলেন রাজনাথ। বলেছিলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তান আবার কিছু করলে তাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হবে। রাজনাথের এই মন্তব্যের পরেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ দাবি করেন, ভারত ফের সাজানো হামলার ছক কষছে। তাতে ভারতীয়দের পাশাপাশি ভারতের জেলে বন্দি পাকিস্তানিদেরও ব্যবহার করা হতে পারে। এই প্রসঙ্গেই খোয়াজা কলকাতাকে টেনেছেন। সেই সূত্রে তাঁর দাবি, ‘এর পর কলকাতা পর্যন্ত হামলা চালাবে পাকিস্তান!’ এ বার তার জবাব দিলেন রাজনাথ। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক মন্তব্য ও পাল্টা হুঁশিয়ারিতে ভারত-পাক সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

  • Rajnath Singh: মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর ঘোরাতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলে কড়া পদক্ষেপ, হুঁশিয়ারি রাজনাথের

    Rajnath Singh: মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর ঘোরাতে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলে কড়া পদক্ষেপ, হুঁশিয়ারি রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত চলছে। ফলে সতর্ক এশিয়া মহাদেশের দেশগুলো। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যদি ভারতের বিরুদ্ধে কূটকৌশল অবলম্বন করে পদক্ষেপ করতে পিছপা হবে না ভারত। প্রতিবেশী দেশকে স্পষ্ট বার্তা কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। বৃহস্পতিবার কেরলের সৈনিক সম্মান সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফায়দা তুলে পাকিস্তান যদি ভারতের সীমান্তে কোনও অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করে, তবে ভারতের জবাব হবে অভাবনীয় এবং চূড়ান্ত। কেরলে জওয়ানদের সম্মেলনে রাজনাথ (Rajnath Singh) বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের প্রতিবেশী কোনও ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করতে পারে। যদি তা হয়, তাহলে ভারতের প্রতিক্রিয়া হবে দৃঢ়, নজিরবিহীন।’’

    কেন এই আগাম হুঁশিয়ারি

    পাকিস্তান কোনও ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করছে কি না সেই বিষয়ে ইঙ্গিত দেননি রাজনাথ। তবে তিনি এই মন্তব্য করলেন এমন সময় যখন, পাকিস্তানের মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ভারত নাকি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন পরিকল্পনা করছে। তবে, এই বিষয়ে কোনও প্রমাণ নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই বার্তার নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি করাণ। গত বছরের এক রক্তাক্ত স্মৃতি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ২০২৫ সালের সেই ভয়াবহ পহেলগাঁও হামলার এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে লস্কর জঙ্গিদের গুলিতে ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর ভারত যে প্রত্যাঘাত করেছিল, ইতিহাসে তা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত।

    ভারতের প্রত্যাঘাত মনে রাখা উচিত

    রাজনাথ সিং এদিন অপারেশন সিঁদুর অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দেন যে, মাত্র ২২ মিনিটের ঝোড়ো আক্রমণে ভারতের বীর সেনারা পাকিস্তানকে হাঁটু গেঁড়ে বসতে বাধ্য করেছিল। তিন দিনব্যাপী সেই অভিযানে পাকিস্তানের ভেতরে থাকা নয়টি জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের সেনারা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যা এখনও মেরামত করে উঠতে পারেনি ইসলামাবাদ। এরপর পাকিস্তন ১০ মে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়। রাজনাথের কথায়, ‘‘উরি আক্রমণের পর সার্জিক্যাল হামলা থেকে অপারেশন সিঁদুর, আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বারবার প্রত্যাঘাত করেছি। সেই কথা প্রতিবেশী দেশের মনে রাখা উচিত।’’ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এদিন সাফ বলেন, ভারত এখন আর শুধু আত্মরক্ষায় বিশ্বাসী নয়, প্রয়োজনে ঘরের ভেতরে ঢুকে আঘাত করতেও জানে।

    মুখ পুড়েছে পাকিস্তানের

    যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে পাকিস্তান নিজেদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করেছে। কিন্তু ইরান এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। এতে মুখ পুড়েছে ইসলামাবাদের। ধারণা করা হচ্ছে, এর থেকে নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান কোনও ধরনের প্রক্সি যুদ্ধ বা সীমান্তে প্ররোচনামূলক কাজ করতে পারে—এই আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই রাজনাথ সিং আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও শেষ হয়ে যায়নি, অর্থাৎ ভারত সবসময় সতর্ক এবং প্রয়োজনে ফের একইরকম কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছুপা হবে না।

     

     

     

     

  • India’s NOTAM: ভীত পাকিস্তান! দক্ষিণ সীমান্তে বিমানবাহিনীর মহড়া, নোটাম জারি করল ভারত

    India’s NOTAM: ভীত পাকিস্তান! দক্ষিণ সীমান্তে বিমানবাহিনীর মহড়া, নোটাম জারি করল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আঞ্চলিক উত্তেজনার আবহে পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ সেক্টরে বিমানবাহিনীর মহড়ার জন্য নোটাম (Notice to Airmen) জারি করেছে ভারত। আজ ৫ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত নির্দিষ্ট আকাশসীমা সংরক্ষিত থাকবে বলে সরকারি বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, এটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর নির্ধারিত মহড়ার অংশ এবং অসামরিক বিমান চলাচলকে নিরাপদ রাখতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই নোটাম (India’s NOTAM) জারি করা হয়েছে। সামরিক মহড়ার আগে নির্দিষ্ট আকাশসীমা সংরক্ষণের এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত রীতি।

    অতিরিক্ত নজরদারি

    নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের এই পদক্ষেপকে ঘিরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ সীমান্ত, অর্থাৎ রাজস্থান–সিন্ধ সংলগ্ন অঞ্চলে মহড়া ঘিরে ইসলামাবাদ অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে বলে খবর। পাকিস্তান বর্তমানে আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তে বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার জেরে আরব সাগরেও নৌ-সতর্কতা বজায় রাখতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের নতুন নোটাম জারির পর পাকিস্তান অতিরিক্ত বিমান ও স্থলসেনা মোতায়েন করেছে বলে নিরাপত্তা মহলের দাবি। এক শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকের কথায়, একাধিক ফ্রন্টে চাপ সামলাতে গিয়ে পাকিস্তানের সামরিক ক্ষমতা “চাপের মুখে” রয়েছে। এই আবহে ভারতীয় বায়ুসেনার মহড়া পাকিস্তানকে চাপে ফেলেছে। তবে এটি, নিয়মিত অনুশীলনের অঙ্গ বলে জানিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা।

    ভারতের ভয়ে কাঁপছে পাকিস্তান

    উল্লেখ্য, ভারত–পাকিস্তান সীমান্তের দক্ষিণ অংশ অতীতে বহুবার সামরিক মহড়া করেছে, বিশেষত উত্তেজনার সময়। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত বার্তা দেওয়ার অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিয়মিত নোটাম জারির প্রবণতা বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। ‘অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক দিক থেকে পাকিস্তান এখন অনেকটা ব্যাকফুটে। এটাই পাকিস্তানে হামলা চালানোর আদর্শ সময়। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের দক্ষিণে ভারত নোটাম জারি করেছে মানে প্রস্তুতি নিচ্ছে’। এই ভয়ে আকাশসীমা বন্ধ করেছে পাকিস্তান। করাচি-লাহোর রুটে নোটাম জারি করেছে ইসলামাবাদ।

  • Pak Drone in Border: সজাগ সেনা, জম্মু-কাশ্মীরের আকাশে ফের পাক ড্রোন! গুজরাট উপকূলে আটক পাকিস্তানি নৌকা

    Pak Drone in Border: সজাগ সেনা, জম্মু-কাশ্মীরের আকাশে ফের পাক ড্রোন! গুজরাট উপকূলে আটক পাকিস্তানি নৌকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের কাশ্মীরের আকাশে দেখা গেল পাকিস্তানের ড্রোন (Pak Drone in Border)। শীতের সন্ধ্যায় অন্ধকার নামতেই রামগড় সেক্টর, পুঞ্চ এবং জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক অংশে উড়ে এল পাকিস্তানের ড্রোন। ভারতীয় সেনার তরফে একের পর এক ড্রোনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। বেশ কয়েকটি ড্রোন ভেঙে পড়েছে বলে ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর। তাতে বারুদ ছিল বলে জানানো হয়েছে। সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপরে এই ড্রোনগুলি দিয়ে আঘাত করার ছক কষা হচ্ছে বলে সেনার অনুমান।

    বারুদ-বোঝাই ড্রোন

    বেশ কয়েকদিন ধরে পাকিস্তানের তরফ থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তে ড্রোন পাঠানো হচ্ছে। এই সব ড্রোনের মাধ্যমে ভারতীয় দিকের ওপর নজরদারি চালানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এরই সঙ্গে অস্ত্র এবং আরও সরঞ্জাম পাচারেরও চেষ্টা করছে তারা। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তে সদা সজাগ রয়েছে ভারতীয় সেনা এবং অন্যান্য নিরাপত্তারক্ষীরা। এরই মাঝে জানা গিয়েছে, ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ফের জম্মু ও কাশ্মীরের ৩ জায়গায় আকাশে দেখা গেল পাক ড্রোন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর একটি পাকিস্তানি ড্রোন দেখা গিয়েছিল। এদিকে রামগড় সেক্টরেও একটি পাক ড্রোনকে আকাশে উড়তে দেখা গিয়েছিল। এর কিছু পড়ে জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ এলাকায় আরও একটি পাকিস্তানি ড্রোন নজরে পড়েছিল ভারতীয় সেনার। এই সব ক্ষেত্রে গুলি চালানো হয়েছিল ড্রোনগুলো লক্ষ্য করে।

    বড় ছক পাকিস্তানের!

    ভারতীয় সেনার অনুমান, বড়সড় কোন পরিকল্পনা রয়েছে পাকিস্তানের। সম্প্রতি ভারতীয় সেনার প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তানকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন ড্রোন অনুপ্রবেশ নিয়ে। এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি রাজৌরির কেরি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে আকাশে পাকিস্তনি ড্রোন দেখা গিয়েছিল। দেখামাত্রই সেই ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল সেনা। তার আগে গত ১১ জানুয়ারির সন্ধ্যায় জম্মুর আকাশে পাঁচটি ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছিল। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি পাকিস্তানের একটি ড্রোনে করে দু’টি পিস্তল, তিনটি কার্তুজ, ১৬টি বুলেট, একটি গ্রেনেড ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেলা হয়েছিল।

    গুজরাট উপকূলে পাকিস্তানের নৌকা

    অন্যদিকে, গুজরাট উপকূলে আটক করা হল পাকিস্তানের সন্দেহজনক নৌকা। ভারতীয় উপকূল রক্ষীবাহিনী সূত্রে খবর, আরব সাগরে নজরদারি চালানোর সময় এই সন্দেহজনক নৌকাটিকে ভেসে থাকতে দেখে তারা। পাকিস্তানের পতাকা লাগানো এই নৌকাটির গায়ে নাম হিসেবে লেখা ছিল আল মদিনা। তাতেই ঘনাচ্ছে রহস্য। নৌকার মধ্যে থেকে বেশ কিছু সন্দেহজনক বস্তু এবং কাগজ পাওয়া গিয়েছে। এই নৌকা করে কোন অনুপ্রবেশ ঘটেছে নাকি এর নেপথ্যে বড়সড় কিছুর পরিকল্পনা ছিল, সেটা খুঁজে দেখা হচ্ছে। ৯ জন পাকিস্তানিকে আটক করা হয়েছে বলেও জানতে পারা যাচ্ছে।

  • Pakistan Drone: সাম্বা-রাজৌরি ও পুঞ্চের আকাশে পাঁচটি পাক ড্রোন! দেখামাত্রই পাল্টা দাওয়াই সেনার, কেন ভারতের সীমায় পাকিস্তানের গতিবিধি?

    Pakistan Drone: সাম্বা-রাজৌরি ও পুঞ্চের আকাশে পাঁচটি পাক ড্রোন! দেখামাত্রই পাল্টা দাওয়াই সেনার, কেন ভারতের সীমায় পাকিস্তানের গতিবিধি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলাবে না পাকিস্তান (Pakistan Drone)। জম্মু কাশ্মীরে পাক সীমান্তে ফের সন্দেহজনক ড্রোন পাঠাল পাকিস্তান। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই গুলি চলল ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তে। অপারেশন সিঁদুরের পর বারবার অস্ত্রবাহী ড্রোন ঢুকিয়ে ভারতের ক্ষতি করতে চেয়েছে পাকিস্তান। রবিবার সন্ধ্যায় আবারও জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বা, রাজৌরি এবং পুঞ্চ জেলায় সীমান্ত বরাবর আকাশে দেখা গেল আলোর ঝলকানি। এমনকী ভারতের আকাশসীমাতেও ড্রোনগুলি ঢুকে পড়েছে বলে খবর। গোটা ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

    কোথায় কোথায় দেখা গিয়েছে পাক ড্রোন

    নিরাপত্তাবাহিনীর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রবিবার বিকেল ৬টা থেকে সোয়া ৭টা পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি পাক ড্রোন দেখা গিয়েছে কাশ্মীরে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন সাম্বা, রাজৌরি এবং পুঞ্চ জেলায় পাক ড্রোন দেখা গিয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোনগুলি ভারতের আকাশসীমায় ঢুকেছিল। বেশ কিছু অঞ্চলে খানিকক্ষণ চক্কর কেটেছে। তারপর আবারও পাকিস্তানে ফিরে গিয়েছে ড্রোনগুলি। জানা গিয়েছে, রাজৌরিতে নওশেরা সেক্টরের গানিয়া-কালসিয়ান গ্রামে বিকেল ৬টা ৩৫ নাগাদ পাক ড্রোন উড়তে দেখা যায়। ভারতীয় সেনা ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি চালায়। অন্যদিকে, সাম্বা জেলার চক বাবরাল গ্রামে সন্ধে সোয়া সাতটা নাগাদ চক্কর কাটে পাক ড্রোন। পুঞ্চ জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখা লাগোয়া এলাকাগুলিতে সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ একটি পাক ড্রোন উড়তে দেখা যায়। তবে ভারতের উপর কোনও হামলা চালায়নি এই পাক ড্রোনগুলি। ভারতের প্রত্যাঘাতে কোনও পাক ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা সেটাও জানা যায়নি।

    কী উদ্দেশে ড্রোনের আনাগোনা

    বেশ কয়েক মিনিট ভারতের আকাশ সীমায় ঢুকেছিল ড্রোনগুলি। তারপর তারা ফিরেও যায়। তাহলে আবার কি কোনও নাশকতার ছক করছে প্রতিবেশী দেশ? নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, ভারতে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের অস্ত্র এবং অন্যান্য রসদ দিতেই সম্ভবত এসেছিল পাক ড্রোনগুলি। ইতিমধ্যেই ওই তিন জেলায় শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি। যে এলাকাগুলিতে পাক ড্রোন চক্কর কাটতে দেখা গিয়েছে, সেখানে তল্লাশি শুরু করেছে সেনা, পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থাগুলি। সন্দেহজনক জিনিসপত্র বা অস্ত্র উদ্ধারের জন্য সন্দেহজনক ড্রপ জোনে গভীর রাত পর্যন্ত তল্লাশি অব্যাহত ছিল। এর আগে শুক্রবার রাতে সাম্বা জেলার ঘাগওয়াল এলাকার পলৌরা গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী একটি ড্রোন-এর মাধ্যমে বহু অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করে। কর্মকর্তাদের মতে, এই ড্রোনটিও পাকিস্তান থেকে এসেছিল। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, ১৬টি কার্তুজ এবং একটি গ্রেনেড। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্ক অবস্থায় ড্রোনগুলির লাগাতার কার্যকলাপের কারণে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি হাই অ্যালার্টে রয়েছে।

  • India Pakistan Relation: ‘‘ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান কোনওদিন যুদ্ধে জিততে পারবে না’’, দাবি প্রাক্তন সিআইএ কর্তার

    India Pakistan Relation: ‘‘ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান কোনওদিন যুদ্ধে জিততে পারবে না’’, দাবি প্রাক্তন সিআইএ কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে প্রথাগত যে কোনও যুদ্ধেই পাকিস্তানের (India Pakistan Relation) পরাজয় নিশ্চিত। এমনই অভিমত আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র প্রাক্তন আধিকারিক জন কিরিয়াকুর। দেড় দশক সিআইএ-র হয়ে কাজ করেছেন কিরিয়াকু। সম্প্রতি এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘বাস্তবে যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের ভালো কিছু হবে না। কারণ প্রথাগত যে কোনও যুদ্ধে ভারতের কাছে তাদের হার হবে। তাই ভারতকে ক্রমাগত প্ররোচনা দিয়ে পাকিস্তানের লাভ কিছু নেই।’’ একসময় পাকিস্তানে জঙ্গি বিরোধী অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন এই আধিকারিক।

    ষড়যন্ত্র বন্ধ করুক পাকিস্তান

    সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এই মার্কিন আধিকারিক দাবি করেছেন, পাকিস্তানের উচিত ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করা। পাকিস্তান যতই পরিকল্পনা করুক না কেন, যে কোনও ধরনের গতানুগতিক যুদ্ধে পাকিস্তান ভারতের কাছে খুব খারাপ ভাবে হারবে। তাঁর মতে, ইসলামাবাদের উচিত কৌশলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া। ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে তার ফলে পাকিস্তানের জন্য ভালো কিছুই হবে না। একইসঙ্গে কিরিয়াকু যোগ করেছেন, “আমি পারমাণবিক অস্ত্রের কথা বলছি না, কেবল গতানুগতিক যুদ্ধের কথা বলছি। ভারতকে বারবার উস্কে দেওয়ার কোনও মানে হয় না।”

    ইসলামাবাদকে কড়া জবাব দিচ্ছে দিল্লি

    প্রসঙ্গত, বরাবরই পাকিস্তানকে যুদ্ধে টেক্কা দিয়েছে ভারত। তবে গত এক দশক ধরে ইসলামাবাদকে কড়া জবাব দিচ্ছে দিল্লি। ২০১৬ সালে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ২০১৯-এ বালাকোট স্ট্রাইক ও সব শেষে সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানকে উচিত জবাব দিয়েছে ভারত। তবে তাতেও সিধে হয়নি পাকিস্তান। ভারতের বিরুদ্ধে এখনও চোরাগোপ্তা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। এমন প্রেক্ষিতে পাকিস্তানকে সতর্ক করে বার্তা দিলেন প্রাক্তন মার্কিন গোয়েন্দা আধিকারিক। কিরিয়াকুর দাবি, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে এঁটে উঠতে পারবে না পাকিস্তান। বরং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামলে আখেরে পাকিস্তানেরই ক্ষতি বেশি হবে।

    পাক পরমাণু ভান্ডারের চাবি পেন্টাগনের হাতে

    ২০০১ সালে ভারতের (India Pakistan Relation) সংসদে হামলার পরই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধ অবধারিত হয়ে উঠেছিল বলেও এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন সিআইএ কর্তা। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের যে একটা টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, সে কথাও স্বীকার করেছেন কিরিয়াকু। তবে সেই সময় আল-কায়দা, আফগানিস্তান নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিল আমেরিকা। ফলে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায়নি বলেও দাবি মার্কিন গোয়েন্দাকর্তার। দু’দেশের মধ্যে যখন যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, সেই সময় তিনি জানতে পেরেছিলেন, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারের চাবিকাঠি পেন্টাগনের হাতে তুলে দিয়েছেন তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট তথা সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মুশারফ।

    ভারতের মিসাইলে পাক ঘাঁটি অকেজো

    প্রসঙ্গত, সিআইএ-র গুপ্ত তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে ২০১২ সালে কিরিয়াকুকে গ্রেফতার করেছিল মার্কিন সরকার। বিচারে ৩০ মাসের জেল হয় তাঁর। কিন্তু তার পরেও তিনি থেমে থাকেননি। আমেরিকা এবং তার গোয়েন্দা সংস্থা সম্পর্কে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের নাজেহাল দশা করেছিল ভারত। এই আবহে পরমাণু বোমা হামলার হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিয়েছিল পাকিস্তান। পালটা জবাবের বার্তা দিয়েছিল ভারত। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতের মিসাইলে পাক ঘাঁটি অকেজো হয়ে পড়ে। এর জেরে ভারতের কাছে সংঘর্ষবিরতির আবেদন জানিয়েছিল পাকিস্তান। এই সবের পরও পাকিস্তান দাবি করছে, তারা নাকি ভারতের সঙ্গে এই সংঘাতে ‘জিতেছে’।

    ভারত পরিপক্ক দেশ হিসেবে ধৈর্যশীল

    এই আবহে ভারত-পাক যুদ্ধ (India Pakistan Relation) নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন সিআইএ অফিসার জন কিরিয়াকু। তাঁর দাবি, ভারত ও পাক যুদ্ধ হলে পাকিস্তান কোনওদিন জিততে পারবে না। এরই সঙ্গে জন কিরিয়াকু দাবি করেন, ২০০১ সালে যখন ভারতীয় সংসদে জঙ্গি হামলা হয়, তার ২-৩ সপ্তাহ পরেই তিনি পাকিস্তানে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি জানান, আমেরিকা ভেবেছিল, ভারত পাকিস্তানের ওপর হামলা করবে। এবং তাঁর কথায়, ভারত সেই সময় পাকিস্তানের ওপর হামলা করলে তা ন্যায্য হত। এরপর ২০০৮ সালেও মুম্বই হামলার পরেও আমেরিকা মনে করেছিল যে ভারত হামলা চালাবে পাকিস্তানের ওপর। জন কিরিয়াকুর কথায়, ভারত পরিপক্ক দেশ হিসেবে ধৈর্যশীল। তবে পাকিস্তান বারবার ভারতকে খোঁচালে তারা যোগ্য জবাব পাবে।

    মুশারফকে কিনে নিয়েছিল আমেরিকা

    মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র প্রাক্তন অফিসার জন কিরিয়াকু আরও দাবি করেন, প্রয়াত প্রাক্তন সেনাশাসক পারভেজ মুশারফের জমানায় পরমাণু অস্ত্রের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দিয়েছিল ইসলামাবাদ। সিআইএ-র সন্ত্রাসবিরোধী ডেস্কের প্রাক্তন আধিকারিক কিরিয়াকু এক সময়ে ছিলেন পাকিস্তানেও। গত জুলাই মাসে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, ইসলামাবাদের যাবতীয় পরমাণু হাতিয়ার পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পরমাণু অস্ত্রের কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ বেশ কয়েক বছর আগেই পাক সরকার একজন মার্কিন জেনারেলের হাতে তুলে দিয়েছে। ফলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা অনেকটাই কমে গিয়েছে।’’কিরিয়াকু মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, ‘‘কোটি কোটি ডলার অনুদান দিয়ে জেনারেল পারভেজ মুশারফকে কিনে নিয়েছিল আমেরিকা। তিনিই পরমাণু অস্ত্রের চাবি এক মার্কিন জেনারেলের হেফাজতে দিয়েছিলেন।’’ প্রায় ১৫ বছর সিআইএ-র নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কিরিয়াকুর কথায়, ‘‘আমরা পাক পরমাণু অস্ত্র কিনে নিয়েছিলাম।’’

LinkedIn
Share