Tag: India US relation

India US relation

  • Jaishankar on US: ‘আরও একাকী শক্তি’ হয়ে উঠেছে আমেরিকা, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর

    Jaishankar on US: ‘আরও একাকী শক্তি’ হয়ে উঠেছে আমেরিকা, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত বদল আসছে। একদিকে আমেরিকার অবস্থানে ‘বড় পরিবর্তন’, অন্যদিকে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব—এই দুই প্রবণতাই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলছে বলে মন্তব্য করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, আমেরিকা তার বর্তমান অবস্থান ‘নিজের পছন্দেই’। তারা বেছে নিয়েছে তাদের নীতি। এর ফলে দেশটি “ইচ্ছাকৃতভাবে আরও একাকী শক্তি” হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াশিংটন-বেজিং প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতাকে বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

    চিনের বাড়তে থাকা প্রভাব

    চিনের অর্থনৈতিক শক্তির প্রসঙ্গ তুলে জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সঙ্গে চিন যুক্ত। এই বিশাল অর্থনৈতিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রভাবেও পরিণত হচ্ছে। তাঁর মতে, চিনের উত্থান এবং আমেরিকার নীতিগত পরিবর্তনের ফলে মধ্যম ও উদীয়মান শক্তিগুলির কাছেও নিজেদের স্বার্থকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

    ‘এক শক্তির ওপর নির্ভরতা নয়’

    জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের মধ্যম ও উদীয়মান শক্তিগুলি এখন নিজেদের আরও বেশি স্বনির্ভর করে তুলতে চাইছে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই দেশগুলি ঝুঁকি কমাতে এবং বিভিন্ন উৎস ও অংশীদারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে। কোনও একটি বড় শক্তি বা জোটের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্বার্থ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রবণতা বাড়ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সব বিষয়ে একই মত থাকা জরুরি নয়। বরং কোনও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে “যথেষ্ট মাত্রায় অভিন্নতা” থাকলেই দুই বা একাধিক দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

    কোয়াড, ব্রিকস থেকে আন্তর্জাতিক করিডর

    এই ধরনের বহুমুখী সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে জয়শঙ্কর কোয়াড ও ব্রিকসের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর এবং নর্দার্ন সি রুটের মতো যোগাযোগ প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি আন্তর্জাতিক সৌর জোট এবং দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামো সংক্রান্ত জোটের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট অভিন্ন লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে এই ধরনের সহযোগিতা বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন কাঠামোর জন্ম দিচ্ছে, যেখানে একটি দেশ একই সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে পারে।

    রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান

    রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানান জয়শঙ্কর। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমের দেশগুলির একাংশ ভারতের মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং রুশ তেল কেনা নিয়ে সমালোচনা করলেও, ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদেশনীতি তার নিজস্ব ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। রাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, ১৯৫০-এর দশক থেকে ভারত বিভিন্ন সময়ে সোভিয়েত সমর্থন পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ ভালো ইতিহাস বা খারাপ ইতিহাস—কোনওটাই ভুলে যায় না।” ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিম বিশ্বের একটি বড় অংশ যখন পাকিস্তানের সামরিক শাসনকে সমর্থন করেছিল, তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভারত-সমর্থনের কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। জয়শঙ্করের দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের অভিজ্ঞতা “ইতিবাচক এবং ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক”। তবে সময়ের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের ধরন যে বদলেছে, সেটিও তিনি স্বীকার করেন।

    রুশ তেল নিয়ে বিতর্ক

    ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকেই রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ এ নিয়ে আপত্তি জানালেও নয়াদিল্লির অবস্থান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করেই তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারত একই সঙ্গে একাধিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতিতে জোর দিয়ে আসছে। জয়শঙ্করও বলেন, ভারতের সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।

    ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের অবস্থান

    ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারত এখনও আলোচনা, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পক্ষে বলে পুনরায় জানান জয়শঙ্কর।তিনি বলেন, ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখেছে এবং কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচল, খাদ্যশস্য সরবরাহ, জ্বালানি রফতানি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ওপর হামলার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।

    ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার বার্তা

    জয়শঙ্করের বক্তব্যে ভারতের বিদেশনীতির মূল দিকটি আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে—কোনও একটি শক্তির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে জোটবদ্ধ না হয়ে নিজের স্বার্থ অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। আমেরিকা ও চিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্যেও ভারত যেমন কোয়াডের অংশ, তেমনই ব্রিকসের সদস্য এবং একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়শঙ্করের বক্তব্যের মূল বার্তা হল—বর্তমান বিশ্বে দেশগুলিকে আর একটিমাত্র শক্তি বা জোট বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নির্দিষ্ট বিষয়ে স্বার্থের মিল থাকলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পৃথকভাবে সহযোগিতা করাই ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে।

     

     

     

  • Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Modi Trump Phone Call)। ৩০ সেপ্টেম্বর দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে টেলিফোনে এই কথোপকথন হয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)-এর তরফে জানানো হয়েছে, দুই নেতা ভারত-মার্কিন ‘বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (Comprehensive Global Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই দেশের মানুষের স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়েও তাঁরা সম্মত হয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা

    ফোনালাপে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন মোদি ও ট্রাম্প। বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছি। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে কৌশলগত অংশীদারিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে আমরা একমত হয়েছি।’’ এর পরেই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেছি। যার মধ্যে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার অগ্রগতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও রয়েছে।’’

    মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপের তাৎপর্য

    বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পাশাপাশি, আলোচনায় এসেছে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও। ঘটনাচক্রে, ইরানের পড়শি দেশ ইরাক থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারপর্ব সাঙ্গ হওয়ার দিনেই মোদি ও ট্রাম্পের কথা হল। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাশ হওয়া ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ শীর্ষক বিল ট্রাম্প সরকার কার্যকর করলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অপরাধে’ ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ভারতের পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্কের পরিমাণ ১২ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে মোদির ফোন ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

    বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে (India-US Relation) দীর্ঘদিন ধরে একটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি মার্কিন সফরের সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, দুই দেশ এখন একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়েছে। তবে বর্তমানে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে “মোটামুটি একটি বোঝাপড়া” তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। মার্কিন শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং সেকশন ৩০১-এর প্রক্রিয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন বিদেশমন্ত্রী। মার্কিন বাণিজ্য নীতি ১৯৭১-এর সেকশন৩০১-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের এমন বাণিজ্যিক নীতি বা কার্যকলাপ তদন্ত করতে পারে, যেগুলিকে তারা অন্যায্য বলে মনে করে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শুল্ক-সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও এই ধারায় রয়েছে।

    রাশিয়া ও ইরান নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

    এদিকে রাশিয়া ও ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া আইন (SRIA) নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। ওই আইনের আওতায় রাশিয়া এবং রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের সুযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে আসতে পারে। ভারত ও চিনও সম্ভাব্যভাবে এর প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি বজায় রাখবে এবং পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই বিষয়টি সাম্প্রতিক কালে একাধিক মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় তোলা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ভারতীয় পক্ষের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

    বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভারতের অবস্থান

    বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ভারতীয় শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে এসআরআইএ-সংক্রান্ত ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে এই আইনের সম্ভাব্য প্রভাব ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কীভাবে পড়তে পারে, তা নিয়ে ভারতের অবস্থান প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরা হয়। বর্তমানে কঠিন বৈশ্বিক কূটনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে রয়েছে দেশ। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে আগ্রহী ভারত, অন্যদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানির কেনার রাস্তাও খোলা রাখতে চাইছে দিল্লি। ব্রিকস-এ জিনপিং আসার পর আন্তজার্তিক কূটনীতি কোন পথে এগোয় সেদিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। এই অবস্থায় মোদি-ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপ দুই দেশ তথা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

     

     

     

     

  • India US: রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০% পর্যন্ত শুল্ক! ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করব’, আমেরিকাকে বার্তা ভারতের

    India US: রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০% পর্যন্ত শুল্ক! ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করব’, আমেরিকাকে বার্তা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল কিনলে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করতে পারবে আমেরিকা। বুধবার এমনই বিল পাশ হয়েছে মার্কিন আইনসভায়। রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার বিল মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হওয়ার পরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে আমদানি চালিয়ে যাবে ভারত। পাশাপাশি, পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) পক্ষ থেকে জানানো হয়, মার্কিন কংগ্রেসে বিলটি পাস হওয়ার বিষয়টি ভারত নোট করেছে এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের উপর নজর রাখা হচ্ছে।

    কী রয়েছে মার্কিন বিলে

    ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংকসানিং রাশিয়া ও ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ (Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026) নামে বিলটি বুধবার মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়েছে। এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল। এবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে বিলটি। বিলটিতে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার পাশাপাশি, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ থাকা জাহাজগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় ক্রেতা—ভারত ও চিনের মতো দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি

    বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “১৪০ কোটি ভারতীয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারত সরকার সম্পূর্ণরূপে অঙ্গীকারবদ্ধ।” ওই বিবৃতিতে একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, “আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অপরিশোধিত তেল ও শক্তি সম্পদ ক্রয় অব্যাহত রাখবে ভারত।” এই বিবৃতি থেকেই স্পষ্ট যে, ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ছাড়পত্রকে হাতিয়ার করে ট্রাম্প প্রশাসন চাপ তৈরি করলে বা দর কষাকষির পথে হাঁটলে তাতে নতিস্বীকার করবে না ভারত। বরং নিজস্ব প্রয়োজন অনুসারে রাশিয়া এবং অন্যান্য তেল আমদানিকারক দেশ থেকে জ্বালানিপণ্য কেনা অব্যাহত রাখবে। নতুন এই মার্কিন আইনের ফলে যদি ভারতের রফতানি বাণিজ্য বা জ্বালানি আমদানিতে কোনও প্রভাব পড়ে, তবে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার কথাও জানানো হয়েছে মন্ত্রকের বিবৃতিতে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, উদ্ভূত এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দেশীয় বাণিজ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে সরকার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে যৌথ ভাবে কাজ করবে।

    আগে থেকেই সতর্ক বিদেশমন্ত্রক

    নয়াদিল্লির তরফে বলা হয়েছে, বিল পাসের বিষয়টির উপর সরকার নজর রাখছে। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, বিলটি আইনসভায় পাস করানোর আগেই এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা করা হয়েছিল। সেখানে নয়াদিল্লির তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে, রাশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে আমেরিকা কোনও ধরনের শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে, তা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারেও চরম অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। আমেরিকার প্রাক্তন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামাঙ্কিত এই বিল (লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬) গত মাসেই মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ সেনেটে পাস করানো হয়েছিল। বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ৮৬ জন। আর বিপক্ষে ১১ জন। বুধবার এই বিল পেশ করা হয় নিম্নকক্ষে। সেখানে বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৬২টি। আর বিপক্ষে ১৫৯টি। ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অধিকাংশ সদস্য তো বটেই, বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বেশ কয়েক জনও বিলের পক্ষে ভোট দেন।

    ভারত-মার্কিন-চিন-রাশিয়া সম্পর্কে প্রভাব

    রাশিয়ার উপর চাপ বাড়ানো এবং মস্কোর জ্বালানি রফতানি থেকে অন্যান্য দেশের নির্ভরতা কমানোই এই বিলের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিলটিতে ইরানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে। বিলটি পাস হওয়ার পর মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল বলেন, “চিন ও ভারত, তোমরা বরং অন্য কোথাও থেকে তেল ও গ্যাস কিনো।” উল্লেখযোগ্যভাবে, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নির্ধারিত মার্কিন সফরের কয়েক দিন আগেই মার্কিন কংগ্রেসে এই বিল পাস হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি ভারত-মার্কিন ও চিন-মার্কিন সম্পর্কেও এই পদক্ষেপের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    মার্কিন বিলের বিরোধিতা চিন-রাশিয়ার

    এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনায় সরব চিন, রাশিয়ার মতো দেশ। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ সাফ জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইরানের তেল কেনায় নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিল একেবারেই বন্ধুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নয়। মার্কিন প্রশাসন এনিয়ে আরও বাড়াবাড়ি করলে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি চুক্তি ব্যাহত হতে পারে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ জানিয়েছেন, নয়া বিলের উপর কড়া নজর রাখছে রুশ প্রশাসন। আমেরিকার পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ চিনও। বেজিং জানিয়েছে, চিন সবসময় বাণিজ্যিক ও আর্থিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ ও সাম্য বজায় রাখার পক্ষপাতি। তাতে তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। এব্যাপারে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জিউ জাইকুন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন উড়িয়ে ও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া তৃতীয় দেশের বিষয়ে নাক গলানোর বরাবর বিরোধিতা করেছে চিন।

  • Modi Trump Meeting: ট্রাম্পের মুখে মোদিস্তুতি! বললেন ‘খুবই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী’; জি-৭ বৈঠকের পর নতুন মন্তব্য

    Modi Trump Meeting: ট্রাম্পের মুখে মোদিস্তুতি! বললেন ‘খুবই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী’; জি-৭ বৈঠকের পর নতুন মন্তব্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ফের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর একাধিক মন্তব্যে ট্রাম্প মোদিকে “খুবই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী” (Very Tough Cookie) বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রশংসনীয় নেতা বলেও অভিহিত করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন, “শি জিনপিং পুরোপুরি কাজমুখী নেতা। আর নরেন্দ্র মোদি অত্যন্ত কঠিন একজন মানুষ, আলোচনার টেবিলে তাঁকে হারানো সহজ নয়।”

    কঠোর ও দক্ষ আলোচক

    এর আগে ফ্রান্সের জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও ট্রাম্প তাঁর প্রশংসা করেছিলেন। সে সময় ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল, “তিনি দেখতে অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন কঠোর ও দক্ষ আলোচক। তিনি সবসময় ভারতের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, “তিনি অত্যন্ত কঠিন দর-কষাকষি করেন। আলোচনার টেবিলে তিনি সম্পূর্ণ ‘কিলার’। তবে তাঁর আচরণ খুবই শান্ত, সংযত এবং চিন্তাশীল।” ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “যতদিন নরেন্দ্র মোদি ভারতের নেতা থাকবেন, ততদিন ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা পাশে থাকবে। যদি কেউ তাঁকে বা তাঁর নেতৃত্বাধীন ভারতকে আক্রমণ করে, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকব।”

    মোদি-ট্রাম্প বৈঠক

    উল্লেখ্য, ফ্রান্সের এভিয়ঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক হয়। প্রায় ১৬ মাস পর দুই নেতার এটি ছিল প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি হোয়াইট হাউসে সরকারি সফরে গিয়েছিলেন। এদিকে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান অস্থিরতা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে মোদি-ট্রাম্প বৈঠক কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বার্তাই এই বৈঠকের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছে ওয়াশিংটন।

  • India-US Relation: ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কড়া নিন্দা! জয়শঙ্কর-ডোভালের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক রুবিওর

    India-US Relation: ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের কড়া নিন্দা! জয়শঙ্কর-ডোভালের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক রুবিওর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে সফররত মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio) রবিবার ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “কিছু বোকা মানুষের মন্তব্য” কখনও আমেরিকার (India-US Relation) প্রকৃত চরিত্রকে তুলে ধরে না। তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের অন্যতম অভিবাসীবান্ধব দেশ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিদ্বেষমূলক মন্তব্যকে গোটা দেশের মানসিকতা বলে মনে করা উচিত নয়। নয়াদিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S. Jaishankar) সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে রুবিওকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে তিনি বলেন, “মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা সময়ে বোকা কথা বলে। এগুলোর অনেকই ট্রোল বা বট অ্যাকাউন্ট থেকেও হতে পারে।”

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদির বড় ভক্ত

    রুবিও আরও বলেন, “এটা শুধু আমেরিকার সমস্যা নয়। বিশ্বের সব দেশেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ খারাপ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে থাকে। কিন্তু কয়েকজনের বক্তব্য দিয়ে পুরো আমেরিকাকে বিচার করা ঠিক নয়।” তিনি জোর দিয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্য উন্মুক্ত একটি দেশ। একইসঙ্গে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রুবিও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভারতের প্রতি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রুবিও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ভারতকে ভালোবাসেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির বড় ভক্ত। যদি তিনি ভারতকে গুরুত্ব না দিতেন, তাহলে আমাকে এখানে পাঠাতেন না।”

    ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন মার্কো রুবিও। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পরমাণু সহযোগিতা এবং মাদক পাচার রুখতে দুই দেশের যৌথ পদক্ষেপের মতো একগুচ্ছ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে একটি যৌথ সংবাদিক সম্মেলনও করেন তাঁরা। সেখানেই চিন ও ভারত সফরের তুলনা করতে গিয়ে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী বলেন, দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ, তবে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। তাঁর কথায়, “ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। এটি একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র এবং আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।”

    পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন!

    এদিকে সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার সম্ভাবনা নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কি না জানতে চাওয়া হলে রুবিও জানান, বৈঠকে এই বিষয়টি ওঠেনি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, পাকিস্তানের মাটি থেকে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলিকে নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। রুবিও বলেন, “ভারত বরাবরই বলে এসেছে যে পাকিস্তানের ভূখণ্ড থেকে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন ভারতে হামলা চালায়। সেই উদ্বেগ তাদের সবসময়ই রয়েছে।”

    অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক

    রবিবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভালের সঙ্গেও এক মেগা বৈঠকে বসেন মার্কিন বিদেশ সচিব। উল্লেখ্য, রুবিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশসচিব হওয়ার পাশাপাশি সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (NSA) দায়িত্বেও রয়েছেন। ফলে দুই দেশের দুই শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধানের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ এই বৈঠকের কথা জানিয়ে লিখেছে, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ‘কমপ্রিহেনসিভ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা ব্যাপক বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা

    দুই দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ট্রাস্ট’ (TRUST বা Transforming the Relationship Utilising Strategic Technology) উদ্যোগ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওয়াশিংটন সফরের সময় এই বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়েছিল। সমগ্র এই প্রকল্পটির তদারকি সরাসরি দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (অজিত ডোভাল ও মার্ক রুবিও) অফিস থেকে করা হচ্ছে। এর অধীনে ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত আধুনিক ও সংবেদনশীল ক্ষেত্রে কাজ করছে:

    • ● সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): দুই দেশের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এবং এআই প্রযুক্তির আদানপ্রদান।
    • ● কোয়ান্টাম টেকনোলজি ও মহাকাশ: কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং স্পেস বা মহাকাশ গবেষণায় যৌথ কোলাবোরেশন।
    • ● গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বায়োটেকনোলজি: ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ এবং জৈবপ্রযুক্তি।
    • ● এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার রোডম্যাপ: এই প্রকল্পের একটি বড় অংশ হলো ভারতে মার্কিন প্রযুক্তির এআই সিস্টেমের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।

    নজরে ইন্দো-প্যাসিফিক ও সন্ত্রাসবাদ দমন

    বৈঠকের পর ভারতের মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকেও এক্স-এ এক পোস্টে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। আমেরিকার তরফে বলা হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদ দমন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক (Indo-Pacific) বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। বৈশ্বিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করার বিষয়ে দুই এনএসএ-ই নিজেদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। চার দিনের ভারত সফরে আসা মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফরের আসল ক্লাইম্যাক্স এখনও বাকি। আগামিকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহুল চর্চিত ‘কোয়াড’ (QUAD Foreign Ministers’ Meeting) ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে এই মেগা সম্মেলনে যোগ দিতে চলেছেন আমেরিকার মার্কো রুবিও ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বিদেশমন্ত্রীরা।

  • Trump Hellhole Comment: ট্রাম্পের ‘হেলহোল’ মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ভারতের, ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টায় আমেরিকা

    Trump Hellhole Comment: ট্রাম্পের ‘হেলহোল’ মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ভারতের, ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর চেষ্টায় আমেরিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ‘পৃথিবীর নরক’ বা ‘হেলহোল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল নয়াদিল্লি। তারপরই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টায় ব্যস্ত আমেরিকা। ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অশোভন এবং রুচিহীন। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা ওই মন্তব্য এবং তার পরবর্তী সময়ে মার্কিন দূতাবাসের ব্যাখ্যা— দুটোই দেখেছি। এই মন্তব্যগুলি স্পষ্টতই ভিত্তিহীন, অশোভন এবং রুচিহীন। এগুলি ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। এই সম্পর্ক বহুদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।’ এরপর দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে মার্কিন দূতাবাস। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ভারত একটি মহান দেশ এবং সেখানে আমার এক ভালো বন্ধু নেতৃত্বে রয়েছেন।’”

    কীভাবে শুরু বিতর্ক

    এই বিতর্কের সূত্রপাত একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মার্কিন রেডিও উপস্থাপক মাইকেল শাভেজের একটি বক্তব্য শেয়ার করেন। সেখানে শাভেজ আমেরিকায় জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে ভারত ও চিন-সহ একাধিক দেশকে ‘পৃথিবীর নরক’ (Trump hellhole comment) বলে উল্লেখ করেন। স্যাভেজ তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, আমেরিকায় জন্মালে একজন শিশু নাগরিকত্ব পেয়ে যায়। পরে সেই নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বিদেশ থেকে আমেরিকায় নিয়ে আসা হয়। তাঁর কথায়, ‘এখানে জন্ম নেওয়া একটি শিশু সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক হয়ে যায়, আর তারপর তারা চিন, ভারত বা পৃথিবীর অন্য কোনও তথাকথিত নরক থেকে তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে।’ এই মন্তব্যকে সমর্থন করে ট্রাম্প সেই পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষ করে ভারতীয়দের সম্পর্কে ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।

    ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সোশ্যাল মিডিয়া রিপোস্ট ঘিরে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয় ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে। যার জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই মন্তব্যগুলি তথ্যভিত্তিক নয়। এগুলি ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ভাবাবেগে আঘাত করে।” ট্রাম্পের কটাক্ষের জবাবে সরব হয়েছে ইরান (Iran)। হায়দরাবাদে ইরানের দূতাবাস এক পোস্টে ভারত ও চিনকে ‘সভ্যতার আঁতুড়ঘর’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, যে দেশ অন্য দেশকে ‘নরক’ বলছে, সেই দেশই আবার যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে—যা আন্তর্জাতিক শান্তির পক্ষে বিপজ্জনক।

    মার্কিন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ক্ষোভ

    এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে মার্কিন নাগরিকত্ব আইনের একটি বড় আইনি লড়াই। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে, যাতে অবৈধ বা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিভাবকদের সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব সীমিত করার চেষ্টা করা হয়। তবে একাধিক আদালত এই আদেশে স্থগিতাদেশ দেয় এবং অন্তত একজন বিচারপতি এটিকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার সকালেই ট্রাম্প ফের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সরব হন (US birthright citizenship row)। একটি পোস্ট শেয়ার করেন যেখানে ভারত, চিন-সহ একাধিক দেশকে ‘নরকের মতো’ বলে উল্লেখ করা ছিল। এই ইস্যুতে আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালত বা আইনজীবীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং সাধারণ মানুষের ভোটের মাধ্যমে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া দরকার। তিনি একটি সোশ্যাল মিডিয়া জরিপের উল্লেখ করে দাবি করেন, বেশিরভাগ মানুষ এই নিয়মে পরিবর্তন চান।

    মার্কিন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্মীদের আধিপত্য

    মার্কিন রেডিয়ো উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজ ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি খাতে ভারত ও চিনের কর্মীদের আধিপত্য নিয়ে অভিযোগ তোলেন। কিন্তু এর পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি তিনি। ভারতীয় ও চিনা অভিবাসীদের “ল্যাপটপসহ গ্যাংস্টার” বলেও উল্লেখ করা হয় ওই অনুষ্ঠানে। স্যাভেজকে সমর্থন করে অভিবাসন নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে করদাতাদের উপর বাড়তি চাপ পড়ছে। কিছু রাজ্যে ভাতা সংক্রান্ত অপব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সংবিধানের ব্যাখ্যা অনেক সময় খাপ খায় না। আধুনিক সময়ে ভ্রমণ ও অভিবাসনের ধরন বদলে যাওয়ায় এই বিষয় নতুন করে ভাবা প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।

    দেশের মর্যাদা নিয়ে আপস নয়

    ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারত সংযত অবস্থান নিলেও দিল্লির তরফে স্পষ্ট বার্তা— এই ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের সম্মান এবং দেশের মানুষের মর্যাদা নিয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং প্রতিরক্ষা— সব ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এই ধরনের মন্তব্য সাময়িক উত্তেজনা তৈরি করলেও, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি এখনও দৃঢ় বলেই কূটনৈতিক মহলের মত।

  • India-Russia Oil Trade: ‘ভারত যেখান থেকে খুশি তেল কিনতে পারে’, ট্রাম্প-মোদির চুক্তি নিয়ে কী বার্তা রাশিয়ার?

    India-Russia Oil Trade: ‘ভারত যেখান থেকে খুশি তেল কিনতে পারে’, ট্রাম্প-মোদির চুক্তি নিয়ে কী বার্তা রাশিয়ার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যে কোনও দেশের কাছ থেকে তেল কিনতে পারে ভারত। সেটা দিল্লির ইচ্ছে। ভারত কখনওই একমাত্র রাশিয়া থেকে তেল কিনত এমন নয়। ভারত বিভিন্ন জায়গা থেকে নিজেদের প্রয়োজন মতো অপরিশোধিত তেল নেবে এতে নতুনত্ব কিছু নেই। এমনই মত রাশিয়ার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির পর বিশ্ব রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হলেও, ভারতের তেল আমদানি নীতি নিয়ে কার্যত ‘নির্ভয়’ বার্তা দিল রাশিয়া (India-Russia Oil Trade)। বুধবার ক্রেমলিন (Kremlin) স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত কোন দেশ থেকে তেল কিনবে সেটা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। নয়াদিল্লির এই তেল আমদানির বৈচিত্র্যকরণের প্রচেষ্টাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছে মস্কো।

    কী বলল রাশিয়া

    ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন বলছে, শুধুমাত্র মস্কোই নয়াদিল্লিকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে না। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “আমরা, অন্যান্য সকল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতোই খুব ভালো করে জানি যে রাশিয়া ভারতে তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের একমাত্র সরবরাহকারী নয়। ভারত সর্বদা অন্যান্য দেশ থেকে এই পণ্যগুলি কিনেছে। অতএব, আমরা এখানে নতুন কিছু দেখতে পাচ্ছি না।” একদিন আগেই আবশ্য পেসকভ বলেছিলেন যে, রাশিয়ার তেল ক্রয় বন্ধ করার বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে রাশিয়া কোনও বিবৃতি পায়নি। তিনি বলেন, ‘‘রাশিয়া বরাবরই ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ককে মূল্যবান বলে মনে করে এবং দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারি এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।’’

    ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য লাভজনক

    রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক জোর দিয়ে বলেছে যে, হাইড্রোকার্বন বাণিজ্য নয়াদিল্লি এবং মস্কো উভয়ের জন্যই লাভজনক। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক প্রেস বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা এখনও নিশ্চিত যে ভারতের রাশিয়ান হাইড্রোকার্বন ক্রয় উভয় দেশের জন্যই লাভজনক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবদান রাখবে। আমরা ভারতে আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে এই ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।” প্রসঙ্গত, ২০২১ সাল পর্যন্ত ভারত যত অপরিশোধিত তেল আমদানি করত, তার মধ্যে রাশিয়ার তেল ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ। তবে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর, যখন পশ্চিমের দেশগুলি মস্কোকে এড়িয়ে চলতে শুরু করল, তখন নয়াদিল্লি – বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক – রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল ছাড়ের বৃহত্তম ক্রেতা হয়ে ওঠে। তবে, রিয়েল-টাইম অ্যানালিটিক্স সংস্থা কপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম তিন সপ্তাহে ভারতের রুশ তেল আমদানি নেমে এসেছে দৈনিক প্রায় ১১ লক্ষ ব্যারেলে। আগের মাসে যা ছিল গড়ে ১২.১ লক্ষ ব্যারেল এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা ২০ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি ছিল।

    বিশ্ব বাজারে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়

    রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিতে সম্মত হয়েছে ভারত। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে তা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, ভারত সরকার এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল উল্লেখ করেছিলেন, বিশ্ব বাজারে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়। তবে পেসকভ স্পষ্ট করে বলেন, ‘রাশিয়া এখনও পর্যন্ত ভারতের কাছ থেকে রুশ তেল কেনা বন্ধ করার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি। নয়াদিল্লির থেকে এমন কোনও ইঙ্গিত আসেনি।’ রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পক্ষেই সওয়াল করেন রুশ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও সাফ জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

    রাশিয়া থেকে  তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন

    ভারতীয় পণ্যের ওপর আমেরিকার অতিরিক্তি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে প্রতিদিন ১৫ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমিদানি করে গেছে। নয়াদিল্লি রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্রেতা, যা ভারতের মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া থেকে কেনা তেল পুরোপুরি বন্ধ করা ভারতের পক্ষে কঠিন। ন্যাশনাল এনার্জি সিকিউরিটি ফান্ডের এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, রাশিয়ার ‘উরাল’ (পর্বতমালার) তেল ভারতের শোধনাগারগুলির জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা মার্কিন তেলের থেকে আলাদা। তাছাড়া রাশিয়া দৈনিক প্রায় ১৫-২০ লক্ষ ব্যারেল তেল দেয়, যা আমেরিকার পক্ষে জোগান দেওয়া সহজ নয়। ন্যাশনাল এনার্জি সিকিউরিটি ফান্ডের বিশ্লেষক ইগর ইউশকভ বলেন, ‘মার্কিন শেল তেল মূলত হালকা গ্রেডের, আর রাশিয়া ভারতকে যে ইউরাল ক্রুড সরবরাহ করে তা ভারী ও সালফারসমৃদ্ধ। যা ভারতীয় রিফাইনারিগুলোতে ব্যবহৃত হয়। ভারতকে মার্কিন তেল অন্য গ্রেডের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে, এতে খরচ বেড়ে যাবে। সরাসরি বদলি সম্ভব নয়।’

    ভারতের ওপর চাপ কেন

    ট্রাম্প সরকারের অভিযোগ, ভারতের তেল কেনার জন্যই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থ পাচ্ছে রাশিয়া। যদিও বিভিন্ন পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের সমালোচনাকারী দেশগুলি নিজেরাই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছে! পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, শুধু ২০২৪ সালেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়ার মধ্যে ৬৭৫০০ কোটি ইউরোর (প্রায় ১৮ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে। সেই হিসাবে দেখতে গেলে ভারত-রাশিয়ার মোট বাণিজ্যের চেয়ে অনেক বেশি। শুধু তা-ই নয়, ২০২৪ সালে ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পরিমাণও ১৬৫ লক্ষ টনে গিয়ে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।

  • India US Relation: কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত, রুবিওকে সাফ বলেছিলেন ডোভাল

    India US Relation: কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত, রুবিওকে সাফ বলেছিলেন ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদির সরকার (Modi Govt) কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তিতে যেতে রাজি নয়। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের তপ্ত পর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে নীরবে কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে এ কথা বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি (India US Relation)। ভারত–আমেরিকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপটে ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে এই তথ্য। ভারত যে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয় ঠারেঠোরে।

    ভারতের বার্তা (India US Relation)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছিলেন, হোয়াইট হাউস যদি শত্রুতাপূর্ণ ভাষা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল থেকে সরে না আসে, তবে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়টুকু অপেক্ষা করতে ভারত প্রস্তুত। এই বার্তাটি দেওয়া হয় সেপ্টেম্বরের শুরুতেই, যে সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তীব্র চাপের মধ্যে ছিল। একদিকে আমেরিকার আরোপিত দণ্ডমূলক শুল্ক, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া প্রকাশ্য মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সেই সময় ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতিকে অবজ্ঞাসূচক ভাষায় কটাক্ষ করেছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রেখে ভারত পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অর্থ জোগাচ্ছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ভারতীয় রফতানির (India US Relation) ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করে। ডোভাল সাফ জানিয়ে দেন, ভারত এই তিক্ততা কাটিয়ে আবারও বাণিজ্য আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী, তবে তা হতে হবে প্রকাশ্য অপমান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। তিনি আরও জানান, অতীতেও ভারত কঠিন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছে এবং প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার সামর্থ্য তার রয়েছে (Modi Govt)।

    সুর নরম ট্রাম্প প্রশাসনের

    এই আলোচনার অল্প সময়ের মধ্যেই সুর নরম হতে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসনের। ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে তাঁকে ফোন করে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন—যা আগের বক্তব্যগুলির তুলনায় এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের। পরবর্তীকালে দুই নেতা একাধিকবার কথা বলেন, যার ফলে ধীরে ধীরে নতুন করে সম্পর্ক জোরদারের পথ তৈরি হয়। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একটি বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছেছে, যার ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে আসবে এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত পৃথক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়াবে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। তবে মোদি সরকার এখনও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি বা কোনও লিখিত (India US Relation) চুক্তি প্রকাশ করেনি।

    একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত

    এই ঘোষণা নয়াদিল্লির কিছু শীর্ষ আধিকারিককেও বিস্মিত করে, যা প্রমাণ করে যে কূটনৈতিক আলোচনা কতটা নীরবে এগিয়েছে (Modi Govt)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হঠাৎ এই চুক্তি বৃহত্তর কৌশলগত প্রেক্ষাপটের দিকেও ইঙ্গিত করে, যা ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ২০২৫ সালে ভারত ব্রিটেনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে। চলতি বছরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গেও একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং সর্বশেষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত হয়। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। এর পরই ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে স্বীকার করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ভারতকে চিনের কাছে হারিয়ে ফেলছে।

    এই সব পদক্ষেপ মিলিয়ে স্পষ্ট হয়, ভারত তার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করছে এবং কেবল ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল নয়।এই বিস্তৃত কৌশলই সম্ভবত আমেরিকার ওপর সম্পর্ক মেরামতের চাপ বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতির পরিণতি এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই অচলাবস্থা থেকে ভারত আরও (Modi Govt) শক্তিশালী দরকষাকষির অবস্থানে বেরিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত (India US Relation) চুক্তির ভালো দিকটিই আদায় করেছে।

     

  • S Jaishankar: যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তির পর এবার লক্ষ্য ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, আমেরিকায় পর পর বৈঠক জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তির পর এবার লক্ষ্য ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, আমেরিকায় পর পর বৈঠক জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে যুগান্তকারী বাণিজ্য চুক্তি (India-US Trade Deal)। এর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৩ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা সফরে গিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। এই সফরের মাধ্যমে তিনি একটি স্পষ্ট বার্তা দেন, দুটি গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এখন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে ক্রিটিক্যাল মিনারেলস্ (Critical Minerals) একটি মূল ইস্যু হয়ে উঠেছে।

    আমেরিকায় জয়শঙ্কর

    ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমেরিকায় রয়েছেন জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। এই পর্বে তিনি একের পর এক বৈঠক করেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে। এই সময় নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন বাণিজ্য, জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার দিকে অগ্রসর হয়। তাঁর এই সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে যখন এর আগের দিনই ট্রাম্প মোদির সঙ্গে আলোচনার পর ভারতের সঙ্গে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তির (India-US Trade Deal) কথা ঘোষণা করেন। ওই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। এই শুল্কছাড়কে বিশেষ করে উৎপাদন, ওষুধ শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ভারতীয় রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে । ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির আধিকারিকরা এই চুক্তিকে বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং নিয়ন্ত্রক বাধা কমানোর ভিত্তি হিসেবে দেখছেন।

    জয়শঙ্করের বার্তা

    জয়শঙ্কর (S Jaishankar) এই চুক্তিকে দেশের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পোন্নয়নের প্রসঙ্গে। তিনি একে সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভারতের উৎপাদন খাতকে আরও মজবুত করবে এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধিকে সাহায্য করবে। সফরের শুরুতেই তিনি ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। আধিকারিকদের মতে, রাজনৈতিক সমঝোতাকে বাস্তব নীতিতে রূপ দিতে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রবিবার ঘোষিত বাণিজ্য চুক্তির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এই আলোচনাকে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকের পর এক্স হ্যান্ডেলে জয়শঙ্কর (S Jaishankar) লেখেন, “অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আধিকারিকরা জানান, বৈঠকে বাণিজ্য সরলীকরণ, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং নিয়ন্ত্রক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে নতুন চুক্তি কার্যকর নিশ্চিত করা যায়।

    জয়শঙ্কর-রুবিও বৈঠক

    ট্রেজারি দফতরের সঙ্গে এই যোগাযোগকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফলে রূপ দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরের দিনেই জয়শঙ্কর (S Jaishankar) মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। উভয়পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মার্কিন বিদেশ দফতর জানায়, “আজ বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। উভয়পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) অনুসন্ধান, খনন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “রুবিও এবং জয়শঙ্কর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি এবং অভিন্ন জ্বালানি নিরাপত্তা লক্ষ্যে অগ্রসর হতে দুই গণতান্ত্রিক দেশের একসঙ্গে কাজ করাও অত্যন্ত জরুরি।”

    অভিন্ন স্বার্থ

    দু’পক্ষই কোয়াডের মাধ্যমে সহযোগিতা সম্প্রসারণে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এ ব্যাপারে তাঁরা একমত হন যে সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল আমাদের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার জন্য অপরিহার্য। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানান, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়, এবং ভারত–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্বের বিভিন্ন স্তম্ভ, যেমন, বাণিজ্য, জ্বালানি, পারমাণবিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, “উভয় পক্ষই যৌথ অগ্রাধিকারগুলি এগিয়ে নিতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় দ্রুত বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে।” রুবিও তাঁর পোস্টে জানান, আলোচনার মূল ফোকাস ছিল গুরুত্বপূর্ণ খনিজে সহযোগিতা এবং নয়া অর্থনৈতিক সুযোগ উন্মোচন, এবং তিনি বাণিজ্য চুক্তিকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ওপর বাড়তি গুরুত্ব

    অপরিহার্য খনিজের (Critical Minerals) ওপর বাড়তি গুরুত্ব উভয় রাজধানীতেই কৌশলগত উদ্বেগের প্রতিফলন—বিশেষ করে সীমিত সংখ্যক সরবরাহকারীর ওপর, প্রধানত চিনের ওপর নির্ভরতার কারণে। মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা শিল্প, উন্নত প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরের জন্য অপরিহার্য খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় করতে চান রুবিও। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মিনিস্টেরিয়ালে’র আয়োজন করছে। এতে ৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন, যার লক্ষ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈচিত্র্য ও সমন্বয় বাড়ানো। সফরের অংশ হিসেবে জয়শঙ্করেরও (S Jaishankar) এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা। সম্প্রতি মার্কিন স্বরাষ্ট্রসচিব ডাগ বার্গাম জানান, খনিজ  সরবরাহে চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রস্তাবিত একটি জোটে যোগ দিতে প্রায় ৩০টি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে, এবং আরও অন্তত ২০টিও দেশ এতে প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের আধিকারিকদের মতে, জয়শঙ্করের ওয়াশিংটন সফর ভারত–আমেরিকার সম্পর্ককে কেবলমাত্র বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলোচনায় অর্থনৈতিক সংযুক্তির পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা, পারমাণবিক অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলিও উঠে আসে। বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজে সহযোগিতার উদ্যোগ যুক্ত করে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক (India-US Trade Deal) স্বার্থকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে চাইছে।

     

  • US Trade Deal: কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট কেন্দ্রের

    US Trade Deal: কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আলোচনা (US Trade Deal) ডকুমেন্টেশনের পর্যায়ে এগোচ্ছে। তবে কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজেদের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থানই বজায় রাখবে ভারত, এমনটাই (Agriculture Dairy) ইঙ্গিত মিলল সরকারের শীর্ষ কর্তাদের তরফে। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, সংবেদনশীল কৃষি খাতগুলিকে বড় ধরনের বাজার উন্মুক্তকরণ সংক্রান্ত কোনও প্রতিশ্রুতির আওতায় আনা হবে না।

    কৃষিপণ্য ও দুগ্ধ খাত (US Trade Deal)

    সংবেদনশীল কৃষিপণ্য ও দুগ্ধ খাতকে চুক্তির আওতার বাইরে রাখার বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান অপরিবর্তিতই রয়েছে। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “যে অবস্থান ছিল, সেটাই রয়েছে।” তিনি বলেন, “কৃষি ও দুগ্ধ খাতে সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে আমাদের প্রচলিত অবস্থানই বজায় থাকবে। আমাদের কৃষকদের স্বার্থ কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ করা হবে না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে ওই খাতগুলির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

    বাণিজ্য চুক্তি

    প্রসঙ্গত, এই বক্তব্যটি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন এর একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির লক্ষ্য হল, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কার্যকর হতে চলা পারস্পরিক শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নামবে এবং ভারতের বাজারে প্রবেশকারী মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে। তবে নয়াদিল্লির কর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উভয় পক্ষের আলোচকরা এখনও চুক্তির সূক্ষ্ম শর্তাবলি ও আনুষ্ঠানিক নথি চূড়ান্ত করার কাজেই ব্যস্ত রয়েছেন (Agriculture Dairy)।

    দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন

    ভারতের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকা কৃষি ও দুগ্ধ খাতের সঙ্গে যুক্ত। লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এই খাতগুলির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দুগ্ধ খাত মূলত ছোট, পারিবারিক স্তরের উৎপাদকদের দখলে—বড় কর্পোরেট খামার নয়। নীতিনির্ধারক ও মুক্ত বাণিজ্যের সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে— যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলির ভর্তুকিপ্রাপ্ত, বৃহৎ আকারের কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য ভারতীয় বাজার খুলে দিলে দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে ধস নামতে পারে (US Trade Deal)। কৃষি খাতে অধিকতর প্রবেশাধিকার দিতে ভারতের অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বারবার সংঘাতের কারণ হয়েছে। দুগ্ধ ও সয়াবিনের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল খাত খুলে দিতে নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে, যদিও অন্যান্য আলোচনায় নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে বাজারে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। সূত্রের খবর, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোর আওতায় কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে (Agriculture Dairy)।

    চুক্তির অংশ

    এই চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্যভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করবে—এমন দাবিও করেছেন ট্রাম্প। তবে ভারতীয় সরকারি সূত্র এই দাবি খারিজ করে ‘মানুষ-প্রথম’ এবং বাজারনির্ভর জ্বালানি নিরাপত্তা নীতির কথা আবারও একবার জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন কর্তাদের। সরকারি এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “যে বাজারে সবচেয়ে ভালো চুক্তি পাওয়া যাবে এবং যেসব সংস্থা নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই, সেখান থেকেই আমরা তেল কিনব। আমাদের কৌশল নির্ধারিত হবে বাজারদরের ভিত্তিতে।” বিশ্বের তৃতীয় (US Trade Deal) বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ ভারত বর্তমানে রুশ অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করে, যা মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। অন্তত এমনটাই জানিয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষক সংস্থা ক্লেপলারের তথ্য।

    ভারতের অবস্থান

    এই অবস্থান ভারতের পরিশোধন শিল্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপেও প্রতিফলিত হয়েছে। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নিষেধাজ্ঞামুক্ত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ছাড়ে রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা আবার শুরু করেছে এবং সেই তেল গুজরাটের জামনগর শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। দেশের বৃহত্তম রিফাইনারি সংস্থাটি আফ্রাম্যাক্স ট্যাঙ্কার ভাড়া করেছে এবং রুশ এক্সপোর্টের মতো সংস্থা থেকে তেল সংগ্রহ করে দৈনিক ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ব্যারেল ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটে সরবরাহ করছে, যা মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটায় (Agriculture Dairy)। আধিকারিকরা বলেন, “নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলি থেকে ভারত তেল কিনবে না, তবে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় সেখান থেকে আমদানি পুনরায় শুরু হবে।” এক আধিকারিক বলেন, “নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন আমরা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনিনি। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে, তাই আমরা কিনব (US Trade Deal)।”

    ট্রাম্পের দাবি

    ট্রাম্পের আরও দাবি, ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—যার মধ্যে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা ও অন্যান্য খাত অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি শুল্ক ও অশুল্ক বাধা তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য, এই বিপুল অঙ্কটি মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিমান কেনা এবং সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকে নির্দেশ করে, তাৎক্ষণিক আমদানির বাধ্যবাধকতাকে নয় (Agriculture Dairy)। এর আগে এক আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন, “মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি ওষুধ, টেলিকম, প্রতিরক্ষা, পেট্রোলিয়াম ও বিমান খাতের মতো ক্ষেত্রগুলির অন্তর্ভুক্ত। এটি বহু বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।” সরকারের দাবি, প্রস্তাবিত এই চুক্তি ভারতের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি বছরে প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে ৮৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি হয়েছে ৪৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (US Trade Deal)।

    তবে আপাতত নয়াদিল্লি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সংবেদনশীল কৃষি খাতগুলিকে আলোচনার টেবিলের বাইরে রাখা হবে। বার্তা পরিষ্কার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে ভারত আগ্রহী হলেও, দেশের কৃষকদের জীবিকার (Agriculture Dairy) সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা হবে না।

     

LinkedIn
Share