Tag: India-US Relationship

  • Modi-Trump Meeting: ‘‘বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে’’ জি-৭ সামিটে ট্রাম্পকে পাশে বসিয়েই পরোক্ষ-বার্তা মোদির

    Modi-Trump Meeting: ‘‘বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে’’ জি-৭ সামিটে ট্রাম্পকে পাশে বসিয়েই পরোক্ষ-বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জি-৭-এর মঞ্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাশে বসিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সামিটে (G7 Summit) মঙ্গলবার নজর কাড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্মেলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের আগে দুই রাষ্ট্রনেতাকে করমর্দন করতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায় চেয়ারে বসে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, মোদি সেখানে যেতেই উঠে দাঁড়িয়ে করমর্দন করেন। করমর্দনের পর দু’জনকে পাশাপাশি বসে কথোপকথন করতেও দেখা যায়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য— এই সব বিষয়ই জি-৭ সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

    পারস্পরিক বিশ্বাস, সবচেয়ে দামি

    এদিন জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি, কার্যত তাঁর সমালোচনাও করেন মোদি। জি-৭ সামিটে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘আজ বিশ্ব আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত এবং পরস্পর নির্ভরশীল। একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি শুধুমাত্র তার সীমানার মধ্যেই নির্ধারিত হয় না। তথ্য, পুঁজি এবং প্রযুক্তি—এই সবই আমাদের সংযুক্ত করে। ফলে এই বিশ্বে পার্টনারশিপের গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু পার্টনারশিপ তখনই সফল হয় যখন তার মূলে থাকে বিশ্বাস। আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক সম্পদ খনিজ, প্রযুক্তি বা বাজার নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস।’’

    পার্টনারশিপের ভবিষ্যৎ বিশ্বাসের উপরই নির্ভরশীল

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা অস্ত্র হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। উন্নয়নের সুযোগ কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈশ্বিক সংস্থাগুলো সকল দেশের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সক্ষম হবে। গত শতাব্দীতে মানবজাতি দুটি বিশ্বযুদ্ধ সহ্য করেছে। বহু ত্যাগের পর, শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বিশ্ব। এই ব্যবস্থাগুলোও বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, কিন্তু বহু প্রজন্মের অবদানের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা সেই বিশ্বাস আজ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। কোভিড আমাদের দেখিয়েছে, বিশ্বাস এবং সংহতির দাবিগুলো কতটা অন্তঃসারশূন্য ছিল। আজ বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বরং বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে এবং আমাদের পার্টনারশিপের ভবিষ্যৎ এই বিশ্বাসের উপরই নির্ভর করছে।’’

    ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী মোদি

    প্রধানমন্ত্রী মোদি হরমুজ প্রণালী ও তার আশেপাশে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। এই সংঘাত পশ্চিম এশিয়ায় আমাদের মিত্র দেশগুলোর জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি করেছে। হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নাবিকদের নিরাপত্তা, যাঁরা বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সমস্ত দেশকে সংযুক্ত করেন, তা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, সমুদ্রপথ যাতে নিরাপদ থাকে এবং নাবিকরা নির্ভয়ে তাঁদের কাজ করতে পারেন।’’

    ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক!

    ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে প্রায় ১৬ মাস পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেখা হল। সূত্রের খবর, দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। বাণিজ্য, কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে সাক্ষাতের পরে এটাই মোদি ও ট্রাম্পের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, মোদী-ট্রাম্প পার্শ্ববৈঠকে বাণিজ্যচুক্তি, কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    বাণিজ্য ও কূটনৈতিক ইস্যুতে নজর

    এই বৈঠক এমন এক সময়ে হতে চলেছে, যখন ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। তার সঙ্গে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে মোদি ও ট্রাম্প একটি অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। বর্তমানে সেই চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। বৈঠকে সেই অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হতে পারে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

  • Republic Day 2026: ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি চিন-আমেরিকার! প্রজাতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা ট্রাম্প-জিনপিংয়ের

    Republic Day 2026: ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি চিন-আমেরিকার! প্রজাতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা ট্রাম্প-জিনপিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বসভায় ভারতের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিল ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস ( Republic Day 2026)। ভারতকে কাছে পেতে দড়ি টানাটানি বিশ্বে শক্তিধর দুই দেশের। বেশ কিছু ক্ষেত্রে নীতিগত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও ভারতকে পাশে চায় চিন ও আমেরিকা (India China US) উভয়েই। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিরোধ এবং নীতিগত পার্থক্য নিয়ে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রথা মেনে ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত এবং আমেরিকা— দু’দেশ ‘ঐতিহাসিক বন্ধনে’ আবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে চিন এবং ভারত ভালো বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী! সাধারণতন্ত্র দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বললেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

    ভারতের সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’

    বাণিজ্য বিরোধ, শুল্কনীতি ও কৌশলগত মতপার্থক্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ক যখন চাপের মুখে, ঠিক সেই সময়েই ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নয়াদিল্লিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’-এর কথা তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পক্ষ থেকে ভারত সরকার ও জনগণকে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে।”

    কেন ভারতকে পাশে চায় আমেরিকা

    ভারতের পণ্যের উপর বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ‘শাস্তিস্বরূপ’ ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর পর থেকেই দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। অন্য দিকে, কয়েকমাস আগেই সাংহাই সম্মেলনে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সখ্যতা দেখেও তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন ট্রাম্প। তবে, তারপরই নিজের দেশে বিরোধিতার মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার সেনেটেও ওঠে বিতর্কের ঝড়। ট্রাম্পের নির্বুদ্ধিতার জন্যই ভারতের মতো বন্ধুকে হারাতে চলেছে আমেরিকা, বলে দাবি করেন মার্কিন কূটনীতিকদের একাংশ। এরপরই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ফের ভারতকে কাছে টানার চেষ্টা শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাম্পের পাশাপাশি আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও-ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন রুবিও। তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়বে।’’ তিনি জানান, আগামী বছরেও অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ভারতের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে ওয়াশিংটনের। কোয়াডের মাধ্যমে বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব—যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক দুই দেশ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য বাস্তব ফল দিচ্ছে, বলে মনে করেন রুবিও।

    কর্তব্য পথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল কুচকাওয়াজে কর্তব্য পথে উপস্থিত ছিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। প্রথমবারের মতো প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেডে অংশ নিয়ে তিনি একে ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চেতনার উদযাপন বলে অভিহিত করেন। গোর বলেন, “হ্যাপি রিপাবলিক ডে, ইন্ডিয়া! ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক আত্মার এই উদযাপনে অংশ নিতে পেরে সম্মানিত।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের আকাশে মার্কিন তৈরি বিমান উড়তে দেখা যুক্তরাষ্ট্র–ভারত কৌশলগত অংশীদারত্বের শক্তিশালী প্রতীক।”

    ভারত ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’

    প্রজাতান্ত্রিক দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারত ও চিনকে ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। চিনের রাষ্ট্রপতি আরও জানান, দুই দেশের সম্পর্ক উভয় দেশের মৌলিক স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। নয়াদিল্লি-বেজিংয়ের সুসম্পর্ক উভয় দেশের সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়নে সহায়তা করবে। অন্য দিকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি ও বেজিং। সীমান্ত সমস্যা দূর করতে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে।

    কাছাকাছি ভারত-চিন

    চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতে, গত এক বছরে ভারত ও চিন দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। চিন সব সময় বিশ্বাস করে ভাল বন্ধু এবং প্রতিবেশী হওয়া দুই দেশের জন্যই সঠিক পথ। সেই বিষয় উল্লেখ করতে গিয়ে জিনপিং আবার ‘ড্রাগন-হাতি’ যৌথ নাচের প্রসঙ্গ টেনেছেন। জিনপিং আশাবাদী, ভারত-চিন উভয় দেশই পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিনিময়, সহযোগিতার পথ আরও সম্প্রসারণ করবে। সুস্থ এবং স্থিতিশীল সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যে উদ্বেগের বিষয়গুলি সমাধান করা হবে। এই বক্তব্যে সুর মিলিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত সু ফেইহং। তিনি বলেন, “চিন ও ভারতের জন্য ভাল প্রতিবেশী বন্ধু ও অংশীদার হওয়াই সঠিক পথ—যেখানে ড্রাগন ও হাতি একসঙ্গে নাচবে।” একই দিনে চিনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান।

    ভয় পাচ্ছে আমেরিকা!

    ১৯৬২-র যুদ্ধ এবং ১৯৬৭-র সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করে। সে বছর ডোকলামে টানা ৭৩ দিন দু’দেশের বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পরে কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হয়। এর পর ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে সংঘর্ষ হয় ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনের বাহিনীর। তার পরে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরেছে। ভারত এবং চিনের কূটনৈতিক শৈত্য অনেকটাই কেটে গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা শান্ত। পাশাপাশি কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু, সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন এবং ভিসা সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। সেই আবহে দু’দেশের মধ্যে সরাসরি উড়ান পরিষেবা চালু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের আবহে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। কড়া বার্তা দিয়েছে আমেরিকাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জিনপিঙের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    ভারত-এর গুরুত্ব

    আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে স্থিতিশীলতার জন্য ভারতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এমনটাই মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সোমবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, “সফল ভারতই পারে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল, উন্নত এবং নিরাপদ করে তুলতে।” এই আবহে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামার মাঝেই প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের। চিন ও আমেরিকার এই বার্তাই বুঝিয়ে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের স্থান।

  • Non Veg Milk: ভারতে ‘আমিষ দুধ’ পাঠাতে চান ট্রাম্প, না মোদি সরকারের! তাই কি থমকে বাণিজ্যচুক্তি?

    Non Veg Milk: ভারতে ‘আমিষ দুধ’ পাঠাতে চান ট্রাম্প, না মোদি সরকারের! তাই কি থমকে বাণিজ্যচুক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘নন-ভেজ দুধ’ (Non Veg Milk)। দুধ আবার আমিষ! মহাদেবের অভিষেক থেকে শুরু করে নানা পুজোয় দুধ লাগে। হোমে আহুতি দিতে অত্যাবশ্যক ঘি। তা-ও যদি আমিষ হয় তাহলে তা হবে ভারতীয় তথা হিন্দু সংস্কৃতির উপর আঘাত। বেশি দুধ উৎপাদনের জন্য গরুকে মাংস বা প্রাণীর চর্বি খাওয়ানোর রেওয়াজ রয়েছে আমেরিকায়। এই দুধকেই বলা হচ্ছে নন-ভেজ মিল্ক। যা নিয়ে আপত্তি ভারতের। তাই আমেরিকার “নন-ভেজ দুধ”-এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মোদি সরকার। আর তাতেই চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    কী এই ‘নন-ভেজ দুধ’?

    বেশি দুধ উৎপাদনের জন্য গরুকে মাংস বা প্রাণীর চর্বি খাওয়ানো হয় অনেক দেশেই। সেই সব গরু যে দুধ দেয় তাকেই বলা হয় নন ভেজ দুধ। ২০০৪ সালে সেটল পোস্ট ইন্টালিজেন্সর (Seattle Post-Intelligencer)-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন গরুর খাদ্যে ব্যবহৃত হয় মৃত পশুর রক্ত, চর্বি ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। এই প্রথা এখনও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ, বিশেষত প্রাণিসম্পদ দ্রুত মোটা করার জন্য। ভারতীয় নিয়ম অনুযায়ী, গরুদের শুধুমাত্র উদ্ভিজ্জ খাদ্য দেওয়া হয়। পশুজাত খাদ্য গ্রহণ করা গরুর দুধ হিন্দু ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অশুচি ও অগ্রহণযোগ্য। এ-দেশে বহু নিরামিষভোজী মানুষ দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার খান। আবার কখনও পুজোআচ্চাতেও দুধ ব্যবহার করা হয়। তাই দুধ আমিষ হলে খাদ্য-সংস্কৃতিই বিপন্ন হবে। ঠিক এই গেরোতেই আটকে আছে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি।

    সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা

    ভারতের একটি বিরাট অংশের মানুষ নিরামিষ খান। ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস ২০২৩ (World Atlas 2023) অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৩৮ শতাংশ মানুষ নিরামিষভোজী। তাঁদের কাছে দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য নিরামিষ হিসেবেই বিবেচিত। কিন্তু গোরুকে যদি আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়ানো হয়, তা হলে সেটি নিরামিষ থাকবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। হিন্দু ধর্মে গোরুকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মানা হয়। দিল্লির গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক কর্তা অজয় শ্রীবাস্তব সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে বলেছেন, ‘একবার ভেবে দেখুন তো, এমন একটি গোরুর দুধ থেকে তৈরি মাখন খাচ্ছেন যাকে অন্য কোনও প্রাণীর মাংস বা আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়ানো হয়েছে। ভারতবাসী কখনওই এটা অনুমোদন করবে না।’

    অর্থনৈতিক প্রভাব

    ভারত বিশ্বের বৃহত্তম দুধ উৎপাদক ও ভোক্তা হিসেবে পরিচিত। দেশের ৮ কোটিরও বেশি মানুষ এই জীবিকার উপরে নির্ভরশীল। অধিকাংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৩৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন দুধ উৎপন্ন হয়েছে ভারতে। যার বাজার মূল্য ₹৭.৫ থেকে ₹৯ লাখ কোটি। অন্য দিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রধান দুধ রফতানিকারক দেশ। ভারতের দাবি, এই চুক্তি ভারতের বাজারের ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে দুধের দাম কমে যেতে পারে অন্তত ১৫%, এমনটাই বলছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (State Bank of India) এক বিশ্লেষণ। এতে কৃষকদের বছরে ₹১.০৩ লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। ভারতের দুগ্ধশিল্প গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। তাই কৃষকদের জীবনধারা সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়। ভারত বর্তমানে পনিরের উপরে ৩০%, মাখনের উপরে ৪০% এবং গুঁড়ো দুধের উপরে ৬০% শুল্ক আরোপ করে।

    ভারতের অনড় অবস্থান ও আন্তর্জাতিক চাপ

    ভারত আমদানি করা দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্যের মান কঠোর ভাবে বজায় রাখতে চায়। সে ক্ষেত্রে অন্য কোনও দেশ থেকে ভারতে দুগ্ধজাত দ্রব্য আমদানি করার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক পশু চিকিৎসার সার্টিফিকেশন। ভারতের নিয়ম অনুযায়ী, পণ্যের লেবেলে নিরামিষ (সবুজ চিহ্ন) এবং আমিষ (বাদামী চিহ্ন) স্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ‘নন-ভেজ দুধ’ বাজারে এলে এই ব্যবস্থা জটিল হয়ে পড়বে। এমনকী, ভোক্তাদের মধ্যেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে। ভারত তার সিদ্ধান্তে অনড়। অন্য দিকে, পিছপা হতে রাজি নয় আমেরিকাও। সে দেশের তরফে ভারতের এই যুক্তির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। এমনকী, এই বিষয়গুলিকে অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য বাধা বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। যে সব দেশে গরুকে আমিষ জাতীয় খাবার খাওয়ানো হয়, তাদের সঙ্গে কোনও রকম চুক্তি করতে চায় না ভারত, এমনটাই সূত্রের খবর। এ দেশের বেশির ভাগ মানুষ গরুকে ভগবান হিসেবে পুজো করেন। সেই কারণেই বিষয়টি ভারতের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভারতের কাছে বিষয়টি নিছক একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়। বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং বহু মানুষের রুটি-রুজির বিষয়। সেই কারণে ভারত এই আলোচনাকে ‘রেড লাইন’ (Red Line on US Dairy Product) হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

  • India-US Relationship: পাকিস্তান নিয়ে মধ্যস্থতা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ট্যারিফ নিয়ে করা ট্রাম্পের জোড়া দাবি ওড়াল ভারত

    India-US Relationship: পাকিস্তান নিয়ে মধ্যস্থতা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ট্যারিফ নিয়ে করা ট্রাম্পের জোড়া দাবি ওড়াল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান নিয়ে মধ্যস্থতা হোক বা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ট্যারিফ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিতে সায় দিলেন না বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar to Donald Trump)। সরাসরি বিরোধিতাও করলেন না। বৃহস্পতিবার তিনি বললেন, ‘‘দ্বিপাক্ষিক শুল্ক নিয়ে ভারত এবং আমেরিকার জটিল আলোচনাপর্ব চলছে।’’ এখনও বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি বলেই বিদেশমন্ত্রীর দাবি। আর পাকিস্তান প্রসঙ্গে বারবার ট্রাম্পের অভিমত প্রকাশ নিয়েও প্রত্যক্ষভাবে কিছু বলেননি জয়শঙ্কর। তবে তাঁর কথায়, ‘‘ভারতের (India-US Relationship) সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক।’’

    শুল্ক মকুবের প্রস্তাব প্রসঙ্গে ট্রাম্পের দাবি

    বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় ভারতের ‘শুল্ক মকুবের প্রস্তাব’ সম্পর্কে ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকা থেকে আমদানি করা পণ্যে সব ধরনের শুল্ক বাতিল করার বার্তা দিয়েছে ভারত (India-US Relationship)! তিনি বলেন, ‘‘ভারতে শুল্কের হার খুব বেশি। তাই ভারতে পণ্য বিক্রি করা খুব কঠিন। তবে ভারত আমাদের জন্য এমন একটি নীতি নিয়েছে যেখানে তারা আসলে কোনও শুল্কই নিতে চায় না।’’ এই মর্মে আমেরিকাকে নাকি প্রস্তাবও দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেও বিশদে এই বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাননি ট্রাম্প।

    জয়শঙ্করের জবাব

    ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar to Donald Trump) সাফ জানান, এখনও বাণিজ্যনীতি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “ভারত এবং আমেরিকার (India-US Relationship) মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। এগুলো অত্যন্ত জটিল আলোচনা। সমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত পুরোটা বলা কঠিন। তবে যে কোনও বাণিজ্য চুক্তি দুপক্ষের কাছেই লাভবান হওয়া উচিত। অন্তত এই চুক্তি থেকে আমরা সেটাই আশা করি। তাই যতক্ষণ না চুক্তি সম্পন্ন হচ্ছে ততক্ষণ এই বিষয়ে মতামত দেওয়া উচিত নয়।” প্রসঙ্গত, তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেই শুল্কবাণে গোটা পৃথিবীকে নাজেহাল করেছেন ট্রাম্প। এপ্রিল মাসে ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এর পরে ট্রাম্প তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেন। আগামী ৯ জুলাই ওই সময়সীমা শেষ হবে। তার আগে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি খসড়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ভারত এবং আমেরিকা আলোচনা চালাচ্ছে।

    ভারত পাকিস্তান সম্পর্ক

    বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে হন্ডুরাসের দূতাবাস উদ্বোধনের ফাঁকে সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্প বা আমেরিকার (India-US Relationship) কথা না বললেও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে দিল্লি যে তৃতীয় পক্ষের কথা শুনবে না তা-ও স্পষ্ট করে দেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ৷ গোটা দেশ এমনটাই মনে করে৷ বহু বছর ধরে এটা চলে আসছে এবং সেখানে কোনও পরিবর্তন হয়নি৷” জয়শঙ্কর জানান, পহেলগাঁওয়ে হামলার জন্য যারা দায়ী, তাদের শাস্তি দেওয়ার কথা বলেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ৷ ৭ মে অপারেশন সিঁদুরের মধ্য দিয়ে ভারত সেটাই করে দেখিয়েছে৷ ৬-৭ মে রাতে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ন’টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা ৷ এরপর ৮, ৯ ও ১০ মে পাকিস্তানও ভারতীয় সেনাঘাঁটি এবং সাধারণ মানুষের বসবাসের জায়গাগুলিকে নিশানা করে৷ ভারত তার যথাযোগ্য জবাবও দিয়েছে ৷ এরপরই পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির আর্জি জানায়। ভারত কখনওই যুদ্ধের পক্ষে নয় তাই সম্মত হয়।

    সন্ত্রাস বন্ধই একমাত্র পথ

    বিদেশমন্ত্রী বলেন, “বিষয়গুলি পরিষ্কার৷ এই আবহে আমাদের বিরোধীদেরও আমি আমাদের অবস্থান জানিয়ে দিতে চাই৷ পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক, কাজকর্ম সবকিছু দ্বিপাক্ষিক এবং কঠোরভাবেই দ্বিপাক্ষিক৷ বিগত বহু বছর ধরে এই বিষয়ে দেশে ঐকমত্য আছে৷ এর কোনও বদল হয়নি৷” জয়শঙ্করের কথায়, ভারতের একটাই দাবি, জম্মু-কাশ্মীরের অধিকৃত ভারতের জমি ছেড়ে দিতে হবে পাকিস্তানকে৷ পাকিস্তানের সঙ্গে এই বিষয়েই আলোচনা হতে পারে৷ এদিন সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা নিয়ে ভারতের অবস্থান একই রয়েছে বলে জানান বিদেশ মন্ত্রী৷ গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরদিন মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি বৈঠক করে৷ সেখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত-সহ পাঁচটি পদক্ষেপ করে ভারত৷ এর ফলে পাকিস্তান জল সংকটের সম্মুখীন হবে৷ এই প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রয়েছে৷ পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বন্ধ না করা পর্যন্ত তা স্থগিতই থাকবে৷”

LinkedIn
Share