Tag: India-US Trade Deal

  • India-US Trade Deal: মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের মন্তব্যকে প্রত্যাখান ভারতের, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবিচল ভারত

    India-US Trade Deal: মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের মন্তব্যকে প্রত্যাখান ভারতের, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবিচল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের মন্তব্যকে ভারত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, দুই দেশের (India-US Trade Deal) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেননি। আর এই ফোন করার তথ্য ভিত্তিহীন। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে, বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আলোচনার বিষয়ে লুটনিকের বর্ণনাকে সঠিক নয় বলে বর্ণনা করেছেন। তবে জয়সওয়াল জোর দিয়ে বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও আমেরিকা একাধিক দফায় আলোচনা চালিয়ে আসছে এবং বেশ কয়েকবার একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছে। সবটাই একটা আলোচনার স্তরে রয়েছে। ভারত পারস্পরিক দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী।

    আলোচনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল ভারত (India-US Trade Deal)

    সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে, বিদেশ মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল বলেন, “গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকার (India-US Trade Deal) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। তখন থেকেই উভয় পক্ষ দেশের একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিক উপকারী বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একাধিক দফা আলোচনাও হয়েছে। বেশ কয়েকবার, আমরা একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছি। তবে আমেরিকার এক পক্ষের দাবি ঠিক নয়।”

    বিস্তৃত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে

    জয়সওয়াল উল্লেখ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)  এবং ট্রাম্প (India-US Trade Deal) ২০২৫ সালেই আটবার ফোনে কথা বলেছেন। দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধান। তিনি জোর দিয়ে আরও বলেন, “দুই নেতা কূটনৈতিক রীতিনীতি মেনে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। প্রসঙ্গক্রমে, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ২০২৫ ফোনে কথা বলার সময় আমাদের বিস্তৃত কাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। ভারত তার নিজের বিস্তৃত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মত স্পষ্ট জানিয়েছে।” বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, “আমরা দুটি পরিপূরক অর্থনীতির মধ্যে পারস্পরিকভাবে উপকারী বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী। তাই এই বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”

    গত ৮ জানুয়ারী অল-ইন পডকাস্টে উপস্থিত থাকার সময় লুটনিকের (India-US Trade Deal) মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। যেখানে তিনি দাবি করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তরাজ্যের সঙ্গে প্রথম বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমেরিকা চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi)  রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পকে ফোন করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তা করা হয়নি। সেই সঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, মোদি ট্রাম্পকে সরাসরি ফোন করে চুক্তিটি সম্পন্ন করার জন্য নিজে থেকেই অনুরোধ করেছিলেন। তবে ভারত এই অনুরোধের এই কলটি অস্বস্তিকর ছিল।

    ভারত নিজের অবস্থান নিয়ে এখনও অনড়

    লুটনিকের মতে, আমেরিকা ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনাম সহ অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য এগিয়ে এসেছে। তবে এই আলোচনা হল বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ আব সিঁড়ি। পদ্ধতিগত ভাবে দেশের প্রগতির জন্য এই কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে তিনি আরও দাবি করেছিলেন ভারত যাতে আরও ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেছে। তাই চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। অর্থনীতিকে ভেঙে পড়েতে দেওয়া উচিত নয়।

    তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মতামত ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, আমেরিকা (India-US Trade Deal) সারা বিশ্বে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ করতে পরোক্ষ চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। ভারতকে নানা ভাবে বাণিজ্য চুক্তি করতে চাপ দেওয়ার কৌশল করছে। তবে ভারত নিজের অবস্থান নিয়ে এখনও অনড়। নিজেদের সার্বভৌমকে রক্ষার ক্ষেত্রে কোনও শক্তির সামনে যে মাথানত করবে না তাও সকলের কাছে স্পষ্ট।

    আমেরিকার হুমকি

    কিছুদিন আগে ভারতের ওপর চাপ বাড়িয়ে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে তিনি এমন একটি আইন খসড়া করেছেন যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এই ধরনের প্রস্তাবকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের বাণিজ্য নীতিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আর একটি উদাহরণ।

  • Modi-Trump Talk: পুতিন-সফরের পরেই মোদির সঙ্গে ফোনালাপ ট্রাম্পের! ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উষ্ণতায় কি শঙ্কিত আমেরিকা?

    Modi-Trump Talk: পুতিন-সফরের পরেই মোদির সঙ্গে ফোনালাপ ট্রাম্পের! ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উষ্ণতায় কি শঙ্কিত আমেরিকা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Modi-Trump Talk) বৃহস্পতিবার ফোনে কথা বলেন। দুই নেতা বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে কথা বলেন। দুই নেতা ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি সকল ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে জোরদার করার বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মনে করা হচ্ছে ভারত-রাশিয়া সখ্য বৃদ্ধিতে চাপ বেড়েছে আমেরিকার। আলোচনার সময়, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই নেতাই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজেদের প্রচেষ্টা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।

    কী কী নিয়ে আলোচনা দুই নেতার মধ্যে

    প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Modi-Trump Meeting) দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এই বিষয়গুলি ভারত-মার্কিন কমপ্যাক্ট-এর মূল উপাদান। এর লক্ষ্য একবিংশ শতাব্দীর জন্য সামরিক অংশীদারিত্ব, দ্রুত বাণিজ্য এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগগুলিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। দুই নেতা বিশ্বব্যাপী ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়েও আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি, দুই দেশের অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্বের উপরও জোর দিয়েছেন তাঁরা। দুই পক্ষই যোগাযোগ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে অভিন্ন স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে জোর দিয়েছেন।

    উষ্ণ ও অর্থবহ আলোচনা

    মনে করা হচ্ছে, পুতিনের ভারতের সফরের পরেই নড়েচড়ে বসেছে ওয়াশিংটন। সফরের মাঝেই ঘোষণা করা হয়, বাণিজ্য চুক্তির আচলনার জন্য ভারতে আসবে মার্কিন দল। এবার দুই নেতার ফোনালাপ। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দু’দেশের অংশীদারিত্বে অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন মোদি ও ট্রাম্প এবং বিশেষভাবে বাণিজ্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রচেষ্টার গতি বজায় রাখা জরুরি। নেতারা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও যৌথ স্বার্থ অগ্রসর করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘এক্স’-এ পোস্ট করে ফোনালাপকে “উষ্ণ ও আন্তরিক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে অত্যন্ত উষ্ণ ও অর্থবহ আলোচনা হল। আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ করে যাবে।”

    ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক-চাপে ট্রাম্প

    রাশিয়ান তেল কেনার জন্য ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা—আগেই থাকা ২৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে—গত ২৭ অগাস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার পর দিল্লি–ওয়াশিংটন সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। ভারত বারবার বলছে, এই শুল্ক “অন্যায্য”, কারণ রাশিয়ান তেলের সর্বাধিক ক্রেতা চিন এবং এলএনজি কেনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ অবস্থায়, রাশিয়া সফরে ভ্লাদিমির পুতিন ও মোদির ঘনিষ্ঠতা এবং তাদের একসঙ্গে গাড়ি করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে বহু সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসেও এই ছবি দেখিয়ে ট্রাম্পের বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনা করেন ডেমোক্র্যাট সদস্য সিডনি কামলাগার-ডোভ। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের ভারতনীতি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের ক্ষতি করছে এবং দুই দেশের বিশ্বাসের সম্পর্ক নষ্ট করছে।” এরপর মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপের সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে রয়েছে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য।

    ডেডলাইন মেনে আলোচনা নয়

    অন্যদিকে, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি না হলে বেশি হারে শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে থাকেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Modi-Trump Meeting)। তাঁর সেই ‘ডেডলাইন’ নিয়ে এ বার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার সদস্য পীযূষ গোয়েল। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ বলেন, “ডেডলাইন মেনে আমরা আলোচনা চালাই না!” ঘটনাচক্রে, নয়াদিল্লির সঙ্গে বাণিজ্য-বৈঠক করতে মঙ্গলবারই ভারতে এসেছে ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি দল। প্রথম দফায় আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা সফল হয়নি।

    ভালো ও ফলপ্রসূ কথা-বার্তা

    চলতি বছরের শুরু থেকে দফায় দফায় বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে ভারত ও আমেরিকার। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রস্তাবিত এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য বর্তমানে ১৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়া। গত ২৩ অক্টোবর ভার্চুয়াল মাধ্যমেও আলোচনা হয়েছিল দুই দেশের। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বৃহস্পতিবার বলেন, আলোচনা “খুব ভালো ও ফলপ্রসূ” হলেও কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। তিনি মন্তব্য করেন, “যখন দুই পক্ষই লাভবান হয়, তখনই একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়। সময়সীমার চাপে আলোচনা করা উচিত নয়, তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।” মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের মন্তব্য—ভারত তাদের “এতদিনের সেরা” প্রস্তাব দিয়েছে—উল্লেখ করে গোয়াল বলেন, “যদি সত্যিই তাই হয়, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন এখনই সই করে দিতে পারে।”

  • India-US Trade Deal: ভারত থেকে চাল আমদানিতে শুল্ক জারির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের! আমেরিকারই ক্ষতি বেশি, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    India-US Trade Deal: ভারত থেকে চাল আমদানিতে শুল্ক জারির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের! আমেরিকারই ক্ষতি বেশি, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ভারতীয় রফতানিতে বড় কোনও প্রভাব ফেলবে না। এমনই অভিমত ভারতীয় চাল রফতানিকারকদের। বিশেষ করে বাসমতি রফতানিতে এই সিদ্ধান্তের উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না বলেই তাদের মত। রফতানিকারকরা মনে করেন, শুল্ক বাড়লে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের নয়, বরং মার্কিন ভোক্তাদেরই বেশি দামে চাল কিনতে হবে। তাঁদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় চালের একটি স্থায়ী চাহিদা রয়েছে। চালের দাম বাড়লে মার্কিন ক্রেতারাই সমস্যায় পড়বেন।

    চাহিদাই চালাচ্ছে মার্কিন বাজার

    ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশনের (IREF) সহ-সভাপতি দেব গর্গ জানান, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় চালের চাহিদা সম্পূর্ণই বাজার-চাহিদা নির্ভর। ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার খাবারের জনপ্রিয়তা মার্কিন মুলুকে ক্রমশই বাড়ছে। এর ফলে আমেরিকায় ভারতীয় চালের চাহিদাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, “ভারতীয় চালের স্বাদ, গন্ধ, রং ও গঠন এমন, যা আমেরিকায় উৎপাদিত চালের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই আমেরিকান চাল ভারতীয় চালের বিকল্প হতে পারে না।” গর্গের দাবি, ভারত যুক্তরাষ্ট্রে চাল “ডাম্প” করছে না; বরং মার্কিন বাজারে এই চালের একটি স্থায়ী ও অপরিহার্য চাহিদা রয়েছে। তিনি বলেন, “ওয়াশিংটনের বাড়তি শুল্ক ভোক্তার চাহিদা কমাতে পারেনি; বরং এই বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে মার্কিন জনগণকেই। এতে যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যমূল্যস্ফীতি বেড়েছে।”

    আমেরিকার বাজারে সস্তায় ভারতীয় চাল

    কম দামে বিদেশি কৃষিপণ্য ঢুকে পড়ায় ক্ষুব্ধ মার্কিন চাষিরা। তাঁদের অভিযোগের পরই ভারতীয় চাল (Indian Rice in US Market) ও কানাডার সারের উপর নতুন শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)। হোয়াইট হাউসে চাষিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, মার্কিন বাজারে যে দেশগুলো কম দামে পণ্য ঢুকিয়ে স্থানীয় উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকায় কৃষকদের (US Farmers) জন্য ১২ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করতে গিয়ে ট্রাম্প (Donald Trump) সরাসরি বলেন, ভারত, চিন এবং তাইল্যান্ড থেকে কম দামে চাল আমদানির অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। কৃষকরা বৈঠকে দাবি করেছেন, ভর্তুকির সাহায্যে বিদেশি চাল আমেরিকার বাজারে সস্তায় ঢুকছে, ফলে দেশীয় চালের দাম পড়ে যাচ্ছে।

    ‘যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কোনও উপকার করছে না’

    ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশনের (IREF) সহ-সভাপতি দেব গর্গ আরও বলেন, ভবিষ্যতে শুল্ক আরও বাড়লে তার প্রভাব ভারত নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বেশি পড়বে। তাঁর দাবি, “এটি ভারতকে কোনও উপকার নয়; এটি মার্কিন বাজারের নিজস্ব প্রয়োজন।” তাঁর মতে, ভারতীয় চালের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্রে এখনও “মজবুত ও স্থিতিশীল।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই শুল্ক হুমকি মূলত মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবেচনা থেকেই এসেছে, কোনও বড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI) জানিয়েছে, ৮ ডিসেম্বর ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং নতুন কৃষক সহায়তা প্যাকেজ একসঙ্গেই আমেরিকান কৃষকদের আশ্বস্ত করার রাজনৈতিক পদক্ষেপ।

    ভারতের চাল রফতানির চিত্র

    বিশেষজ্ঞদের কথায়, “ট্রাম্প ভারতীয় চালের ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিলেও এটি নীতি নয়, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য।” তাদের মূল্যায়ন, নতুন শুল্ক আরোপ হলেও ভারতীয় রফতানিকারকদের ওপর মোট প্রভাব সীমিতই থাকবে, কারণ বিশ্ববাজারে ভারতীয় চালের চাহিদা শক্তিশালী। বরং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারা—ভারতীয় চালের ওপর নির্ভরশীল আমেরিকান পরিবারকে উচ্চমূল্য গুনতে হবে। ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশনের (IREF) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের বাসমতি রফতানির পরিমাণ ছিল ২,৭৪,২১৩ মেট্রিক টন, যার মূল্য ৩৩৭.১০ মিলিয়ন ডলার—এই হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাসমতির চতুর্থ বৃহত্তম বাজার। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের নন-বাসমতি চাল রফতানি ছিল ৬১,৩৪১ মেট্রিক টন, মূল্য ৫৪.৬৪ মিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাই শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিতে ভারতীয় চাল রফতানিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

LinkedIn
Share