Tag: India vs England

India vs England

  • T20 World Cup 2026: ‘যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন’ বললেন আফ্রিদি, ‘মেনে নিন ভারত এক নম্বর’, নিন্দকদের একহাত মিঁয়াদাদের

    T20 World Cup 2026: ‘যোগ্য দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন’ বললেন আফ্রিদি, ‘মেনে নিন ভারত এক নম্বর’, নিন্দকদের একহাত মিঁয়াদাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও ষড়যন্ত্র নয়, যোগ্য দল হিসেবেই টি-২০ বিশ্বকাপ জয় করেছে ভারত, মেনে নিল পাকিস্তান। বরাবর ভারতীয় দল নিয়ে তিক্ত মন্তব্য করেছেন তিনি। কখনও বয়কট নিয়ে, কখনও সাফল্য ঘিরে—বিসিসিআই কিংবা টিম ইন্ডিয়া—কাউকেই রেয়াত করেননি পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদি। বারবার মুখ খুলেছেন৷ আলগা মন্তব্য করেছেন৷ যার জেরে কমার বদলে বিতর্ক বেড়েছে কয়েক গুণ৷ এবার অপ্রত্যাশিতভাবে অতীতের এই জের মুছে ফেললেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক। মেনে নিলেন ভারতীয় দলের কর্তৃত্ব৷

    ভারতীয় দলের প্রশংসায় আফ্রিদি

    ক্রিকেট দুনিয়ায় এক নয়া ইতিহাস কায়েম করেছে ভারতীয় দল। পরপর ২ বার তারা টি-২০ বিশ্বকাপের (ICC T20I World Cup 2026) খেতাব জয় করেছে। ২০২৪ সালে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর গত রবিবার (৮ মার্চ) জিতল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) নেতৃত্বে টিম ইন্ডিয়া ৯৬ রানে জয়লাভ করে। এরপরই দ্ব্যর্থহীন গলায় আফ্রিদি জানালেন, যোগ্য টিম হিসেবেই টি-২০ বিশ্বকাপ খেতাব ঘরে তুলেছে সূর্য বাহিনী। টুর্নামেন্টের আগাগোড়া নিখুঁত ক্রিকেট খেলে যারা, চ্যাম্পিয়ন হওয়া তাদেরই সাজে! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ‘ইতিবাচক’ ও ‘প্রশস্তিমূলক’ বক্তব্যে ভারতের গুণ গেয়েছেন আফ্রিদি। যা স্বাভাবিকভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার ইন্ধন জুগিয়েছে৷

    অন্যতম সেরা বোলার বুমরা

    এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা ভিডিয়োতে আফ্রিদি (Shahid Afridi) বলেন, ‘বিশ্বকাপ শেষ। ভারত শিরোপার যোগ্য দল। কম্বিনেশন দুর্দান্ত। বেঞ্চে যারা বসে ছিল, তারাও প্রথম একাদশে খেলার উপযুক্ত। আমি এই কারণেই বলে থাকি, বেঞ্চ শক্তিশালী হওয়া খুবই জরুরি! গোটা টুর্নামেন্টটাই ভারত চ্যাম্পিয়নের মতো খেলেছে!’ আর সবার পাশাপাশি সঞ্জু স্যামসনের (Sanju Samson) আলাদা করে প্রশংসা করেছেন আফ্রিদি। বললেন, ‘সুযোগ পেয়েছে, কাজে লাগিয়েছে। বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং, ইনিংস গড়ার ক্ষমতা—অসাধারণ!’ এ ছাড়া অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষাণেরও (Ishan Kishan) সুখ্যাতি শোনা গেল। জসপ্রীত বুমরা (Jasprit Bumrah) প্রসঙ্গে মন্তব্য, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বোলিংয়ের মেরুদণ্ড। নতুন বল, পুরনো বল, স্লোয়ার, ইয়র্কার—সব পরিস্থিতিতেই সফল। আমার মতে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার।’

    কেন হোঁচট খাচ্ছে পাকিস্তান?

    আফ্রিদির মতো প্রাক্তন পাক অধিনায়ক রশিদ লতিফও (Rashid Latif) ভারতের জয়কে ‘অপ্রত্যাশিত’ মনে করছেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘বড় ইভেন্টের ফাইনালে বারবার যখন খেলতে হয়, তখন চাপ সামলানোটা অভ্যেসে পরিণত হয়। ভারতের খেলোয়াড়রা সেটাই করে দেখিয়েছেন!’ পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, টিম ইন্ডিয়ার সাফল্যের পেছনে রয়েছে ধারাবাহিকতা ও স্থিরতা। বারবার দল বদল, অধৈর্য সিদ্ধান্ত—এই ফাঁদে পা না দেওয়া। পাকিস্তান ঠিক এই জায়গাতেই বারবার হোঁচট খেয়েছে বলে মনে করেন লতিফ।

    ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো বন্ধ করা উচিত

    সূর্য-ব্রিগেডের এই সাফল্যের পর পাকিস্তানের কয়েকজন প্রাক্তন ক্রিকেটার ভারতের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেছেন, অযথা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর বদলে পাকিস্তানের উচিত ভারতের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া। কিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার মুহাম্মদ ওয়াসিম বলেন, “ভারত যখন বড় টুর্নামেন্টে ভালো খেলে বা আমাদের হারায়, তখন আমরা অনেক সময় অজুহাত খুঁজি এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াই। এটা বন্ধ করা দরকার। আমাদের মেনে নিতে হবে যে ভারত খুবই শক্তিশালী দল এবং নিজেদের উন্নতির জন্য আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।”

    ভারতের ক্রিকেট কাঠামোর প্রশংসা

    শুধু ওয়াসিমই নন, পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার জাভেদ মিয়াঁদাদও ভারতের ক্রিকেট কাঠামোর প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, শক্তিশালী ও প্রক্রিয়াভিত্তিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ফলই আজ পাচ্ছে ভারত। মিয়াঁদাদ বলেন, “ভারতের ক্রিকেট কাঠামো খুবই শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত। সেই কারণেই তারা নিয়মিতভাবে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরি করছে। তাদের দলে ব্যাটার, স্পিনার বা পেসারের কোনো অভাব নেই। নতুন ক্রিকেটাররা ফলাফলমুখী এবং ম্যাচ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন।” তিনি আরও বলেন, “এক সময় পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমেও এমন পরিবেশ ছিল, যার ফলে আমরা নিয়মিত জিততাম।”

    ভারত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন

    টি-২০ ক্রিকেটে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আবারও প্রমাণ করেছে ভারত। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতে নেয় তারা এবং টি-২০ বিশ্বকাপে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রথম দল হিসেবে ইতিহাস গড়ে। তবে ভারতের এই সাফল্যে প্রথমে প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে দেখা দেয় হতাশা, যা ফুটে উঠেছে দুই দেশের কয়েকজন প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটারের মধ্যেও। আসলে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এই দুই দেশকে ঘিরে। রাজনৈতিক কারণে ভারতে এসে খেলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ (Bangladesh)। অন্যদিকে পাকিস্তানের (Pakistan) তরফেও ভারত-বিরোধিতার সুর শোনা গিয়েছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে নেমে হারের মুখই দেখতে হয় পাকিস্তানকে। আর এবার ভারতের বিশ্বজয়ের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার শোয়েব আখতার (Shoaib Akhtar)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ব্যাপারটা এমন হয়েছে, যেন পাশের বড়লোক বাড়ির ছেলে গরিব ছেলেকে ডেকে বলছে—আয় ক্রিকেট খেলবি। ভারত সেই বখাটে ছেলের মতো করছে। প্রথমে চারজনকে ডাকবে, তারপর তিনজনকে ডাকবে। সব শেষে বলবে দেখ, জিতে গেলাম। ওরা ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দিয়েছে।”

    শিয়া কাপের ট্রফি আটকে রেখেছে, বিশ্বকাপ! 

    প্রাক্তন পাকিস্তানি পেসার মহম্মদ আমির (Mohammad Amir) বিশ্বকাপের আগে থেকেই দাবি করে আসছিলেন, ভারত চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে না। কিন্তু ভারতের জয় সেই ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করেছে। এরপর কিছুটা বিরক্ত সুরে আমির বলেন, “ওরা জিতেছে। ঠিক আছে। ট্রফি ওরাই ঘরে নিয়ে যাবে। আমার বাড়িতে তো নিয়ে আসব না।” তবে আপনাদের অনেকেরই হয়ত মনে আছে, ২০২৫ সালে এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025) খেলতে নেমেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করা হয়। সেই ম্য়াচে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে দুরমুশ করেছিল সূর্য অ্যান্ড কোম্পানি। কিন্তু, আজ পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট দলের হাতে সেই ট্রফি দেওয়া হয়নি। আসলে ম্য়াচ শুরু হওয়ার আগেই টিম ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি মহসিন নকভির (Mohsin Naqvi) হাত থেকে তারা ট্রফি গ্রহণ করবেন না। কারণ, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানও তিনি। কিন্তু, ভারতীয় ক্রিকেট দলের সেই যুক্তিকে পাত্তা দেয়নি এসিসি। চ্যাম্পিয়ন হয়েও এখনও ট্রফি পায়নি ভারত। ইতিমধ্যে আবার ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ খেতাব জয় করল টিম ইন্ডিয়া। এশিয়া কাপের তুলনায় বিশ্বকাপের মর্যাদা যে অনেকটাই বেশি, সেটা আর আলাদা করে বলে দেওয়ার দরকার পড়ে না। ফলে গোটা বিষয়টা নিয়েই ক্রিকেট বিশ্বে এখন রীতিমতো হাসাহাসি শুরু হয়েছে।

  • T20 World Cup 2026: “দারুণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আইসিসি ও আমার বন্ধু জয় শাহকে অভিনন্দন” বার্তা ফিফা সভাপতির

    T20 World Cup 2026: “দারুণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আইসিসি ও আমার বন্ধু জয় শাহকে অভিনন্দন” বার্তা ফিফা সভাপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ-পাকিস্তান বোর্ডের তরফে হাজারো বিতর্ক সৃষ্টির পরেও সফল আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026)। চ্যাম্পিয়ন ভারত (Team India)। পর পর দু’বার, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। রবিবার সূর্যকুমার যাদবের দল ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৪ সালে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ট্রফি জিতেছিল ভারত। তার পর ফের বিশ্বসেরা টিম সূর্য। ক্রীড়া জগতে আইসিসি তথা ভারতের সাফল্যকে কুর্নিশ করছেন সকলেই। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহকে আইসিসি পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ সফলভাবে আয়োজন করার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    ভারতীয় দলের জার্সি হাতে ছবি শেয়ার

    নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভারতীয় দলের জার্সি হাতে একটি ছবি শেয়ার করে ইনফান্তিনো আইসিসি এবং জয় শাহকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় ক্রিকেট দলকেও রেকর্ড তৃতীয় টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। ইনফান্তিনো লিখেছেন, “আরেকটি দারুণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আইসিসি এবং আমার বন্ধু জয় শাহকে অভিনন্দন। আরেকটি শিরোপার জন্য ভারতকে অনেক অভিনন্দন। তোমাদের অসাধারণ দেশটি পরিদর্শন করার পর আমি জানি, এটি তোমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।” উল্লেখ্য, রবিবার আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে পরাজিত করে টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ জয় করে। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত প্রথম দল হিসেবে ঘরের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ জেতে এবং টানা দু’বার (২০২৪ ও ২০২৬) শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে। এছাড়া ভারতই প্রথম দল যারা তিনবার (২০০৭, ২০২৪ ও ২০২৬) টি-২০ বিশ্বকাপ জয় করল।

    দুই জনপ্রিয় খেলার মেলবন্ধন

    এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ইতালির মিলানে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং জয় শাহের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়। বিশ্বের দুই জনপ্রিয় খেলাধুলা—ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রশাসনিক প্রধানদের এই সাক্ষাৎকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়। সেই সময় ইনফান্তিনো সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে জয় শাহের ক্রিকেটের উন্নয়নে অবদানের প্রশংসা করেন এবং ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তনের জন্য শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি তিনি খেলাধুলার মাধ্যমে বিশ্বকে একত্রিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে সহযোগিতার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

  • T20 World Cup 2026: “সাজঘরের ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই”, বললেন গুরু গম্ভীর

    T20 World Cup 2026: “সাজঘরের ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই”, বললেন গুরু গম্ভীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাহুল দ্রাবিড়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যখন তাঁকে কোচ করে আনা হয়েছিল, দ্রাবিড়ের সঙ্গে গৌতম গম্ভীরের সম্পর্ক নিয়ে মুচমুচে খবর ছড়িয়েছিল। যেভাবে দ্রাবিড়কে সরে যেতে হয়েছিল ভারতীয় দলের কোচের পদ থেকে, গম্ভীরকে যেভাবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মেন্টর পদ থেকে ভাঙিয়ে এনে বসানো হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার কোচের চেয়ারে, অনেকে যার নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগ দেখেছিলেন। কোচ হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ জেতার পর গম্ভীর সাফল্যের কৃতিত্ব দিলেন সেই দ্রাবিড়কেই! ২০২৬ টি–২০ বিশ্বকাপ জয়ের (T20 World Cup 2026) পর যেন একরকম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন গুরু গম্ভীর (Gautam Gambhir)। গত দু’বছর ধরে তাঁর কোচিং নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। জয় শাহের ঘনিষ্ঠ তাই কোচের পদে এমন কথাও শুনতে হয়েছিল। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হার, সমালোচনা, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ—সব মিলিয়ে সময়টা সহজ ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপ জিতে টিম ইন্ডিয়ার হেডস্যার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কারুর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন তিনি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারা।

    জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে

    এই বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে দিতে চান গম্ভীর। তবে তাঁরা কেউ দলের খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফ নন। গম্ভীর নাম নিয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, অজিত আগরকর ও জয় শাহের। ভারতীয় কোচ বলেন, “এই ট্রফি আমি উৎসর্গ করতে চাই রাহুল ভাই আর লক্ষ্মণ ভাইকে। ভারতীয় ক্রিকেটকে এই জায়গায় নিয়ে আসার নেপথ্যে রাহুল ভাই কি না করেছে। পাশাপাশি লক্ষ্মণ ভাইও চুপচাপ নিজের দায়িত্ব সামলেছে। সিওএ আছে বলেই ভারতের ক্রিকেট এত উন্নত। অজিতের কথাও বলব। এত সমালোচনার পরেও ও নিজের কাজ করে গিয়েছে।”

    জয় ভাই ফোন করেছিলেন

    তাঁর জীবনে জয় শাহের কতটা ভূমিকা রয়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “জয় ভাই আমাকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছিল। এর আগে তো কোথাও কোচিং করাইনি। তার পরেও জয় ভাই ভরসা রেখেছিল। সেই ভরসা আজও আছে। নিউজিল্যান্ডের ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে চুনকামের পর একমাত্র জয় ভাই ফোন করেছে। আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। তাই এই সাফল্যের কৃতিত্ব ওদের।” ভারতীয় ক্রিকেটের দর্শন বদলে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমরা আর ১৬০ বা ১৭০ রান করার জন্য খেলি না। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে। ঝুঁকি নিতে হবে। ঝুঁকি না নিলে সফল হওয়া যাবে না। তাতে ১০০ রানে অল আউটও হয়ে যেতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সেটাই হয়েছে। তাতে ভয়ের কিছু নেই। চেষ্টা করতে হবে ২০০-র বেশি রান করার। সেই চেষ্টাই আমরা করছি।”

    আগে দল, পরে প্লেয়ার

    তিনি নিজে খেলোয়াড় জীবনে সবসময় দলের স্বার্থের কথা আগে ভেবেছেন। কোচ হিসাবেও সেই দর্শনেই বিশ্বাস করেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আগে দল। পরে নিজের সাফল্য। আপনি যদি ৯৬ রান থেকে ১০০ করতে চার বল খেলেন, তা হলে আপনি দলের ২০ রানের ক্ষতি করলেন। ওই চার বলে চারটে ছক্কা হতে পারত। তাই যদি কেউ ৯৬ রান থেকে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয় তাতে আমার কোনও দুঃখ নেই। ওই ৯৬ আমার কাছে শতরানের সমান। এই দর্শন দলের সকলকে দিয়েছি। আমি ভাগ্যবান, দলের সকলে সেটা মেনেছে। আমরা সে ভাবেই খেলি। সকলেই দলকে আগে রাখে।”

    সমাজমাধ্যমে কাউকে জবাব দেব না

    বিশ্বকাপ জেতার পর সাংবাদিক বৈঠকে গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর দলের সাজঘরের পরিবেশ কেমন। জবাবে গম্ভীর বলেন, “আশা করছি, এ বার সাজঘর নিয়ে জল্পনা বন্ধ হবে। দেখুন, সাজঘরের পরিবেশ ভালো ছিল বলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বার বার সাজঘর নিয়ে কথা হয়েছে। আমাকে নিয়ে কথা হয়েছে। লেখালিখি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। আমি অবশ্য কাউকে জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। সাজঘরের ওই ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই।”

    খেলোয়ার ও কোচ হিসেবে বিশ্বজয়ের নজির

    গৌতম গম্ভীর ইতিহাসের পাতায় নাম লিখে ফেললেন। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ডাবল জিতলেন। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন গম্ভীর। আবার এই ২০২৬ সালে গম্ভীর ভারতীয় দলের হেড কোচ। কোচ ও প্লেয়ার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ী আর নেই ভূভারতে। হেড কোচ হওয়ার আগে গৌতম গম্ভীর ছিলেন আইসিসি টুর্নামেন্টের সবথেকে সফল পারফরমার। ২০০৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে গম্ভীর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫৪ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২০১১ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনালে গম্ভীর ৯৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন। কোচ হয়ে আসার পরই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। গোটা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকার পরে ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। প্রায় এক যুগের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খরা কাটিয়েছিল ভারতীয় দল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে গম্ভীরের ভারত ধরাছোঁয়ার বাইরের এক কক্ষপথে পৌঁছে গিয়েছে।

    ‘‘কোচ সাহেব, আপনার হাসি আপনাকে খুবই মানিয়েছে’’

    ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে দলকে অভিনন্দন জানান। দীর্ঘদিন পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। তিনি ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর মুখের হাসি এই জয়ের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি। ধোনি তাঁর বার্তায় বলেন, ‘‘আমেদাবাদে ভারতীয় দল ইতিহাস তৈরি করেছে।’’ তিনি দল, কোচিং স্টাফ এবং সব সমর্থকদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন নেতৃত্বে দল যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা দেখতে খুবই আনন্দের। ধোনি লেখেন,“আমেদাবাদে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। দল, সহকারী কর্মী এবং বিশ্বজুড়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সব সমর্থককে অনেক অভিনন্দন। তোমাদের সবাইকে খেলতে দেখা সত্যিই দারুণ আনন্দের। কোচ সাহেব, আপনার হাসি আপনাকে খুবই মানিয়েছে। হাসির সঙ্গে সেই তীব্র মনোভাব—দুটো মিলে অসাধারণ এক সমন্বয়। দারুণ কাজ করেছেন। সবাই এই সাফল্য উপভোগ করো।”

    সাদা বলের ক্রিকেটের রাজা

    তাঁকে নিয়ে কত কথা। কত আলোচনা। দেশজুড়ে তাঁকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। রবি-রাতের পরে বলাই যায় ভারতের হেডস্যর গৌতম গম্ভীর একই সঙ্গে নিন্দিত ও নন্দিত ব্যক্তি। এবার তাঁর জবাব দেওয়ার পালা। গম্ভীর কোচ বা ক্রিকেটার হিসেবে কোনও ফাইনাল হারেননি । আইপিএল হোক বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ওয়ান ডে বিশ্বকাপ, টি-২০ বিশ্বকাপ – কখনও হারেননি গম্ভীর। সে ক্রিকেট কেরিয়ারে হোক বা কোচ হিসেবে। লাল বলের ক্রিকেটে না হলেও সাদা বলের ক্রিকেটের রাজা তিনি।

  • T20 World Cup 2026: স্নায়ুযুদ্ধে বাজিমাত বুমরার, ফিল্ডিংয়েও চমক! সঞ্জুই সেরা, বেথেলের লড়াই ব্যর্থ করে ফাইনালে ভারত

    T20 World Cup 2026: স্নায়ুযুদ্ধে বাজিমাত বুমরার, ফিল্ডিংয়েও চমক! সঞ্জুই সেরা, বেথেলের লড়াই ব্যর্থ করে ফাইনালে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়ার পথে ভারত। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারতীয় ব্রিগেড। সঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী ব্যাটিং, বোলারদের মাথা ঠান্ডা রাখা পারফরম্যান্স, আর দুরন্ত ফিল্ডিংয়ের ওপর ভর করেই জয় এল টিম ইন্ডিয়ার। অবিশ্বাস্য অনুভূতি, ম্যাচ শেষে বললেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতের মাটিতে খেলা, এরকম অসাধারণ একটা দলকে নেতৃত্ব দেওয়া, দেশে বিশ্বকাপ খেলা, আমেদাবাদে ফাইনালে খেলতে যাচ্ছি। আমার মনে হয় দলের ছেলেদের কাছে এটা বিশেষ এক অনুভূতি।’’

    সঞ্জুর ব্যাটে রানের পাহাড়

    টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। কিন্তু তাঁর সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেন সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ৪২ বলে ৮৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ইনিংসের শুরুতে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক মিড-অফে একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেওয়ায় তিনি জীবন পান। স্যামসন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের ভিত গড়েন। সঞ্জুর ক্যাচ ফেলে ভারতকে নিজে হাতে ফাইনালের দরজা খুলে দেন ইংরেজ অধিনায়ক। সঞ্জুর ইনিংস দেখে দারুণ খুশি ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার। বলেন, ‘‘দলের প্রয়োজনে যেমন খেলার দরকার ছিল সঞ্জু সেরকমটাই খেলেছে।’’ ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিয়ে সঞ্জু স্যামসনও জানান, ‘‘বড় স্কোর করাই লক্ষ্য ছিল, সেই কারণেই নিজের ফর্মকে কাজে লাগতে চেয়েছি প্রথম থেকেই।’’

    মিডল অর্ডারের ঝোড়ো ক্যামিও ইনিংস

    এদিন ইশান কিষাণের ১৮ বলে ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস পাওয়ার প্লে-তে রানের গতি বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, শিবম দুবের ২৫ বলে ৪৩ রানের মারকুটে ইনিংস ইংল্যান্ডের স্পিনারদের কার্যকারিতা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। কেবল টপ-অর্ডারই নয়, ভারতের নিচের সারির ব্যাটসম্যানরাও জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক বর্মার দ্রুত সংগ্রহ করা ছোট ছোট ইনিংসগুলি সমানভাবে কার্যকর ছিল। শেষ তিন ওভারে তাঁরা ৪০-এর বেশি রান যোগ করে স্কোরবোর্ডে ইংল্যান্ডের জন্য বিশাল চাপ সৃষ্টি করে, যা রান তাড়ার কাজ আরও কঠিন করে তোলে। মিডল অর্ডারের ঝোড়ো ক্যামিও ইনিংসগুলোর সৌজন্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৫৩/৭ রানের পাহাড় গড়ে ভারত।

    বেথেলের লড়াই

    একটা সময় মনে করা হয়েছিল হাসতে হাসতে জিতবে ভারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭ রানে রুদ্ধশ্বাস জয়। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে স্বস্তি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের। ২৫৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন তরুণ তুর্কি জ্যাকব বেথেল। মাত্র ৪৮ বলে ১০৫ রানের এক অবিশ্বাস্য শতরান করেন তিনি। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল, এভাবেই রান চেজ করতে হয়। ইংল্যান্ড একসময় ম্যাচ প্রায় কেড়ে নিচ্ছিল, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ম্যাচ শেষে সে কথা মেনে নিলেন ভারত অধিনায়ক। সূর্য বলেন, ‘‘আমি তো হ্যারি ব্রুককে বললাম তোমাদের হারাতে গেলে আর কত রান করতে হবে? তবে সত্যি উইকেটটা দারুণ ছিল। ওরা যেভাবে ব্যাটিং করেছে, ওদের কৃতিত্ব কেড়ে নিতে চাই না। ওরা সব সময়ই ম্যাচে ছিল। রান তাড়া করে চাপে রেখেছিল। খুব স্নায়ুর চাপে ছিলাম। কেউ যদি হৃদস্পন্দন মাপত, ১৬০-১৭৫ পেতই। তবে এটা খেলার অঙ্গ। দারুণ সেমিফাইনাল হয়েছে। ফাইনালে উঠে আমরা খুশি।’’

    বুম বুম বুমরা

    শেষ মুহূর্তে জসপ্রীত বুমরা, হার্দিক পান্ডিয়া এবং অর্শদীপ সিং দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। এদিনের ম্যাচে প্রায় ৫০০ রান উঠেছে। সেখানে জসপ্রীত বুমরা প্রমাণ করেছেন কেন তিনি টি২০ বোলিংয়ের এক অদ্বিতীয় মানদণ্ড। যখন ওয়াংখেড়ের শিশিরে অন্যান্য বোলাররা লড়াই করছিলেন, বুমরার ১৮তম ওভারটি ছিল নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের দারুণ দৃষ্টান্ত। শেষ ১৮ বলে ৪৫ রান দরকার থাকা সত্ত্বেও তিনি মাত্র ৬ রান দেন। সূর্য বলেন,‘‘এইরকম পরিস্থিতিতে বুমরা কতটা সক্ষম বোলার নতুন করে কাউকে বলে দিতে হয় না।’’

    ফিল্ডিং ম্যাজিক

    ক্রিকেট অভিধানে একটি প্রবাদ আছে, ‘ক্যাচেজ উইন ম্যাচেজ’। বৃহস্পতি রাতে দুটো ক্যাচ পার্থক্য গড়ে দিল। এক, হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ মিস। দ্বিতীয়, বাউন্ডারি লাইনে অক্ষর প্যাটেলের দুরন্ত ক্যাচ। এই দুটো মুহূর্ত ছাড়া দুই দলের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নেই। বাউন্ডারি লাইনে অক্ষর প্যাটেলের অবিশ্বাস্য কিছু ফিল্ডিং রান বাঁচানোর পাশাপাশি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। চলতি বিশ্বকাপে ভারতকে ভুগিয়েছে ফিল্ডিং। ক্যাচ পড়েছে। চার গলেছে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ছেড়েছে ভারত। আগের ম্যাচের পরেও দলের ফিল্ডিংয়ে খুশি ছিলেন না সূর্য। সেই ফিল্ডিংই ওয়াংখেড়েতে জিতিয়েছে। অক্ষর প্যাটেলের দুর্দান্ত ক্যাচ, হার্দিক পাণ্ডিয়ার রান আউটের জেরে জিতেছে ভারত।

    দর্শকদের কুর্নিশ সূর্য-র

    খেলা শুরুর আগে থেকে যে ভাবে ওয়াংখেড়ের দর্শকেরা তাঁদের সমর্থন করেছেন তার জন্য দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারত অধিনায়ক। বলেন, ‘‘আমরা ওয়ার্ম আপ করার সময়ই মাঠের ৭৫-৮০ শতাংশ ভরে গিয়েছিল। সেটা থেকেই বোঝা যায় সকলে ভারতের জয়ের জন্য কতটা আগ্রহী ছিলেন।’’ ওয়াংখেড়েতে যেন চাঁদের হাট বসেছিল। সস্ত্রীক ধোনি, সপরিবারে রণবীর কপূর, সপরিবারে অম্বানিরা, কে এল রাহুল, রোহিত শর্মা, অনিল কপূর – কে আসেননি ভারতের জয় দেখতে? ভারতের সাফল্য উদযাপন করতে? তাঁদের সামনেই ‘হিরো’ হয়ে যাচ্ছিলেন ২২ বছরের এক ইংরেজ তরুণ। ভারতের বিশ্বসেরা বোলিংকে নিয়ে ছিনিমিনি খেললেন বেথেল। বরুণ চক্রবর্তী ৪ ওভারে দিলেন ৬৪ রান। অর্শদীপ ৪ ওভারে ৫১। শিবম দুবে ১ ওভারে ২২। শেষে সেই ত্রাতা বুমরা। ফের একবার ১৪০ কোটি ভারতীয়কে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করলেন বুম বুম বুমরা…।

  • T20 World Cup 2026: একটানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে দু’কদম দূরে ভারত, বৃহস্পতির সন্ধ্যায় বৃষ্টি হলে কী হবে?

    T20 World Cup 2026: একটানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে দু’কদম দূরে ভারত, বৃহস্পতির সন্ধ্যায় বৃষ্টি হলে কী হবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেট দলকে যদি একটানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) জিততে হয়, তবে আরও ২ টি চ্যালেঞ্জ পার করতে হবে। এর মধ্যে প্রথম চ্যালেঞ্জ আসবে ৫ই মার্চ, যখন সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ভারত ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচ মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে হবে। এই নিয়ে পর পর তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি দু’দল। এখনও পর্যন্ত দু’দল এক বার করে জিতেছে। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সূর্যকুমার যাদবদের বিরুদ্ধে নামার আগে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক জানিয়ে দিলেন, তাঁরা ভারতের বিরুদ্ধেই খেলতে চেয়েছিলেন।

    ভারতের সমর্থন বেশি

    ম্যাচের আগে এক সাক্ষাৎকারে ইংরেজ অধিনায়ক ব্রুক বলেন, “আমরা তৈরি। শুনছি দলের অনেকেই বলছে, ওরা ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে চাইছিল। সেমিফাইনালে ভারতকেই চাইছিলাম আমরা। দারুণ একটা ম্যাচ হবে। দু’দলের উপরেই প্রচণ্ড চাপ থাকবে।” ব্রুক জানেন, ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে খুব একটা সমর্থন তিনি পাবেন না। তার জন্য তৈরিও রয়েছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “ভারত অবশ্যই অনেক বেশি সমর্থন পাবে। বিদেশের মাঠেই ওরা এত সমর্থন পায়, তো দেশের মাটিতে তো পাবেই। আমরা জানি, আমাদের হয়ে চিৎকার করার জন্য খুব বেশি লোক থাকবে না। তার মধ্যেই আমাদের ভাল খেলতে হবে। তার জন্য আমরা তৈরি।”

    ব্যাটারদের ব্যর্থতা

    টিম ইন্ডিয়ার সবথেকে বড় দুর্বলতা হল ওপেনিং পার্টনারশিপ। এই টুর্নামেন্টে প্রথম দিকে অভিষেক এবং ঈশানের বাঁ-হাতি কম্বিনেশনে ভারতীয় ওপেনিং জুটি দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু, বিপক্ষ দলের অফ-স্পিনাররা এই জুটি হেলায় ভেঙে দিয়েছেন। এরপর এন্ট্রি নেন সঞ্জু স্য়ামসন। তাও পাওয়ারপ্লে চলাকালীন টিম ইন্ডিয়া নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে শুরু করে। গোটা টুর্নামেন্টে ভারতের ওপেনিং জুটি এখনও পর্যন্ত শুরুটা ভাল করতে পারেনি। টিম ইন্ডিয়ার দ্বিতীয় দুর্বলতা হল পাওয়ার প্লে চলাকালীন উইকেটের পতন। পাওয়ার প্লে’র মধ্যে কখনও একটি, কখনও আবার তিনটে উইকেটও হারিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। যদি সেমিফাইনাল ম্য়াচে এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়, তাহলে ইংল্যান্ড চাপ তৈরি করে ভারতকে অবশ্যই ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে। এই পরিস্থিতিতে পাওয়ার প্লে’তে একটা ভাল সূচনা টিম ইন্ডিয়াকে বড় রানের দিকে এগিয়ে দেবে।

    খারাপ ফিল্ডিং

    এছাড়া খারাপ ফিল্ডিং নিয়ে তো ইতিমধ্যে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দল যথেষ্ট খারাপ ফিল্ডিং করছে। যদি সেমিফাইনাল ম্য়াচে টিম ইন্ডিয়া অতিরিক্ত রান দিয়ে ফেলে, তাহলে চরম বিপাকে পড়তে হবে। এখনও পর্যন্ত ভারতীয় ফিল্ডাররা এবারের বিশ্বকাপে মোট ১৩ ক্যাচ ফসকেছে। বাকি দলগুলোর তুলনায় এটাই সর্বাধিক। সূর্য অ্যান্ড কোম্পানির ক্যাচিং দক্ষতা মাত্র ৭১.৭ শতাংশ। সুপার এইট পর্বে যা একেবারেই খারাপ। অভিষেক শর্মা এবং সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটিং ফর্মও টিম ইন্ডিয়ার অন্যতম বড় দুর্বলতা। এখনও পর্যন্ত ৬ ম্য়াচে অভিষেক এবং সূর্যের ব্যাট থেকে মাত্র একটি করে হাফসেঞ্চুরি বেরিয়ে এসেছে। দুজনেই দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ার কারণে টিম ইন্ডিয়ার মিডল অর্ডারে দ্বিগুণ চাপ তৈরি হচ্ছে। গত ম্য়াচে অভিষেক শর্মা মাত্র ১৫ রান করে আউট হয়ে গিয়েছিলেন। প্রথম তিনটে ম্য়াচে তো তিনি রানের খাতাই খুলতে পারেননি।

    বোলিং ডিপার্টমেন্টেও দুর্বলতা

    ভারতীয় বোলিং ডিপার্টমেন্টেও দুর্বলতা নজরে এসেছে। এই দলটা জসপ্রীত বুমরাহের উপরে সিংহভাগ নির্ভরশীল। লিগ পর্বে টিম ইন্ডিয়ার মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী যথেষ্ট ভাল পারফরম্য়ান্স করেছিলেন। কিন্তু, সুপার এইট পর্বে তাঁর পরিসংখ্যান খারাপ হয়ে গিয়েছে। আর্শদীপ শুরুর দিকে তাঁর সুইং ডেলিভারিতে ব্যাটারদের পরাস্ত করলেও, ডেথ ওভারে যথেষ্ট রান দিয়ে ফেলেন তিনি। হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল এবং শিবম দুবের বোলিংয়ে কোনও নির্ভরতা দেখতে পাওয়া যায়নি।

    ভারতের চিন্তায় কারা

    ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক এই মুহূর্তে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন। সুপার এইট পর্বে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছেন। চলতি টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচে, গড় স্ট্রাইক রেট ১৬১ এবং ২২৮ রান করেছেন তিনি। কার্যত, একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন ব্রুক। ওপেনার ফিল সল্ট পাওয়ারপ্লে-তে বোলারদের ওপর চড়াও হতে ওস্তাদ। এই টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচে মাত্র ১২৫ রান করলেও, তিনি ভয়ঙ্কর ব্যাটার। সল্ট ভালো শুরু করলে ইংল্যান্ডের বড় স্কোর করা সহজ হয়ে যাবে। ওয়াংখেড়ের ছোট মাঠে তাঁকে দ্রুত থামানো জরুরি। লেগ স্পিনার আদিল রশিদ ভারতীয় ব্যাটারদের দুর্বলতা ভালোই জানেন। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর রেকর্ড দুর্দান্ত। ইকোনমি রেট ৭.৫০। ১৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে, তিনি ১৪ জন ভারতীয় ব্যাটারকে আউট করেছেন। রশিদের স্পিন ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তরুণ অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস এই টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় শক্তি। ব্যাট ও বল হাতে তিনি কামাল করছেন। সাত ম্যাচে, ১৭৬ স্ট্রাইক রেট রেখে ১৯১ রান করার পাশাপাশি ৭টি উইকেটও নিয়েছেন। তাঁর অফ স্পিন ওয়াংখেড়েতে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।

    ভারত-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলে

    ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে বাতিল হলে, রিজার্ভ ডে রেখেছে আইসিসি। সেক্ষেত্রে ম্যাচ শুরু করতে দেরি হলে, বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত ৯০ মিনিট থাকবে এবং শুক্রবারে এজন্য বরাদ্দ থাকছে ১২০ মিনিট। এটা নিশ্চিত করা হবে যে অন্তত ৫ ওভার যেন ম্যাচটি খেলা হয়। তবে, ম্যাচ যদি পরিত্যক্ত হয়ে যায়, তাহলে সুপার ৮ পয়েন্ট টেবিলের ভিত্তিতে ফল নির্ধারণ করা হবে। সেক্ষেত্রে, ফাইনালে পৌঁছে যাবে ইংল্য়ান্ড। কারণ, সুপার ৮-এ গ্রুপ পর্বে ভারতের থেকে ভাল অবস্থায় শেষ করেছেন ইংরেজরা। নিজেদের গ্রুপে ৩ ম্যাচেই জিতে শীর্ষ বাছাই হিসাবে শেষ করেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, ২টি ম্যাচ জিতে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থেকেছে ভারত।

    পরিসংখ্যানে এগিয়ে ভারত

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারত ও ইংল্যান্ড মোট ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে তিনবার টিম ইন্ডিয়া এবং দুবার ইংল্যান্ড জিতেছে। এই পাঁচ ম্যাচের মধ্যে ২ বার ভারত ও ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে। ২০২২ সালের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড টিম ইন্ডিয়াকে ১০ উইকেটে হারিয়েছিল। তার দু’বছর পর, ২০২৪ সালের সেমিফাইনালে ভারত ৬৮ রানে জয়লাভ করে প্রতিশোধ নেয়।

  • WTC Points Table: ওভালে ঐতিহাসিক জয়, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট টেবিলে ইংল্যান্ডকে টপকে গেল ভারত

    WTC Points Table: ওভালে ঐতিহাসিক জয়, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট টেবিলে ইংল্যান্ডকে টপকে গেল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহম্মদ সিরাজের সাহসী বোলিংয়ে ওভাল টেস্ট জিতেছে ভারত। হারের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে শুভমন ব্রিগেড। গুরু গম্ভীরের পরামর্শে এখন হারার আগে হার মানতে জানে না টিম ইন্ডিয়া। ওভালে জিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC Points Table) তালিকায় এক ধাপ উঠে এসেছে ভারত। সরিয়ে দিয়েছে ইংল্যান্ডকে। শুভমন গিলের দল এখন রয়েছে তিন নম্বরে। ওভালে জিতে ১২ পয়েন্ট পেয়েছে ভারত। এই টেস্টের আগে তিনে ছিল ইংল্যান্ড। তারা নেমে গিয়েছে চারে।

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়

    ভারত এবং ইংল্যান্ড, দুটো দলের কাছেই এটা পরবর্তী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (World Test Championship) প্রথম সিরিজ ছিল। দুই দলই দুটো করে ম্যাচ জিতেছে। একটি ড্র হয়েছে। তবে লর্ডসে মন্থর ওভার রেটের কারণে আইসিসি ইংল্যান্ডের দু’পয়েন্ট কেটে নিয়েছে। তাই ভারতের নীচে চলে গিয়েছে তারা। পাঁচ টেস্টে ভারতের ২৮ পয়েন্ট। শতাংশের বিচারে পয়েন্ট ৪৬.৬৭। ইংল্যান্ডের ২৬ পয়েন্ট এবং পয়েন্ট শতাংশ ৪৩.৩৩। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিনটে টেস্টেই হারানোর কারণে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। তাদের ৩৬ পয়েন্ট। পয়েন্ট শতাংশ ১০০। দ্বিতীয় শ্রীলঙ্কা। তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৬৬.৬৭। পঞ্চম এবং ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ (পয়েন্ট শতাংশ ১৬.৬৭) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ (০)। নিউ জিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন চক্রে এখনও কোনও টেস্ট খেলেনি।

    টিম ইন্ডিয়ার নজর হোম সিরিজের দিকে

    ওভাল টেস্ট জিতে মাঠ ছাড়বে ভারত, অতিবড় ভক্তও বোধ হয় সেটা ভাবতে পারেননি। তবে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন শুভমান গিলরা। অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফি ড্র করে করে দেশে ফিরছে টিম ইন্ডিয়া। শুভমনের নতুন ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ গাভাসকর থেকে তেন্ডুলকর। তরুণ তুর্কিদের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত রোহিত-বিরাটরাও। সেই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলেও উপরে উঠে এসেছে শুভমনরা। ভারতের পরবর্তী টেস্ট সিরিজ ঘরের মাঠে। ঠিক দু’ মাস পরে, ২ অক্টোবর থেকে ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে দুই টেস্টের সিরিজ শুরু হবে। এর পরে টিম ইন্ডিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। এই সিরিজটিও ভারত ঘরের মাঠে খেলবে। এই দু’টি সিরিজ জিতে পয়েন্ট টেবলের শীর্ষে ওঠার সুযোগ রয়েছে শুভমনদের। এদিকে ইংল্যান্ড এবার অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে, ২১ নভেম্বর থেকে দুই দলের মধ্যে ৫ টেস্টের অ্যাশেজ সিরিজ শুরু হবে।

  • India vs England: জাদেজা-সুন্দরের শতরান, ম‍্যাচ বাঁচাল ভারত! ম্যাঞ্চেস্টারে ইংল্যান্ড কে কড়া টক্কর, সিরিজে টিকে শুভমনেরা

    India vs England: জাদেজা-সুন্দরের শতরান, ম‍্যাচ বাঁচাল ভারত! ম্যাঞ্চেস্টারে ইংল্যান্ড কে কড়া টক্কর, সিরিজে টিকে শুভমনেরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হারার আগে হারতে নেই! বাইশ গজে তা ফের প্রমাণ করে দিল ভারতের তরুণ ব্রিগেড। ম্যাঞ্চেস্টারে ইংল্যান্ডের (India vs England) মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে ম্যাচ বাঁচিয়ে দিল ভারত। প্রথমে অধিনায়ক গিলের শতরান, লোকেশ রাহুলের লড়াকু ইনিংস আর পরে জাদেজা-সুন্দরের দাপটে সিরিজে টিকে থাকল ভারত। বহুদিন পর টেস্ট ফিরল পুরনো মহিমায়। টি-টোয়েন্টির যুগেও টেস্ট যে এখনও ক্রিকেটের ভিত তা বুঝিয়ে দিল শুভমন-ব্রিগেড। ভারত-ইংল্যান্ড পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ফয়সালা হবে শেষ ম্যাচেই।

    হারের মুখ থেকে ড্র

    খেলা যা-ই হোক, শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকলে জয় আসবেই। তবে এ ক্ষেত্রে ড্র হলেও, রবি শাস্ত্রী ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় বলে দিলেন, ম্যাঞ্চেস্টারে (Manchester Test) ভারতের ‘নৈতিক জয়’ হয়েছে। হারের আশঙ্কা দূরে ঠেলে চা-বিরতিতেতই ড্র’য়ের পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। তবে চাপা উদ্বেগ ছিলই। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে চতুর্থ টেস্টের অন্তিম সেশনে সামান্য উদ্বেগটুকুও গ্যালারিতে পাঠালেন রবীন্দ্র জাদেজা এবং ওয়াশিংটন সুন্দর। দুই ব্যাটারের ২০৩ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে সম্মানের সঙ্গে ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট ড্র করল ‘মেন ইন ব্লু’।

    স্টোকসের আর্জি ফেরালেন জাদেজা

    ভারতের (India vs England) দ্বিতীয় ইনিংসের বয়স তখন ১৩৮ ওভার। স্কোর ৩৮৬-৪। ক্রি‌জে ছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর (৮০) এবং রবীন্দ্র জাদেজা (৮৯)। তখনও ম্যাচ শেষ হতে প্রায় দেড় ঘণ্টা বাকি। হঠাৎই জাদেজার দিকে এগিয়ে এসে হাত মেলাতে গেলেন বেন স্টোকস। প্রস্তাব দিলেন ড্র করার। ভারতের দুই ব্যাটার সসম্মানে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন। জানালেন, তাঁরা আরও ব্যাট করতে চান। প্রতিপক্ষ রাজি না হলে অপারগ আম্পায়ারেরাও। তাঁরাও খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। জাদেজা এবং সুন্দর, তখন তাদের সেঞ্চুরির কাছাকাছি ছিলেন, সেই কারণেই ম্যাচ শেষ করতে চাননি। ড্রেসিংরুম থেকে খেলা দেখছিলেন শুভমান গিল, কোনও প্রতিক্রিয়া ছাড়াই চুপচাপ বসে ছিলেন। বেন স্টোকস ভারতের সিদ্ধান্তে খুব রেগে যান। আম্পায়ার এবং ব্যাটারদের সগে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর, তিনি রণে ভঙ্গ দেন। ম্যাচের পর খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলালেও, স্টোকস, জাদেজা এবং সুন্দরের সঙ্গে হাত মেলাননি। সেই ভিডিওটিও ভাইরাল হয়েছে।

    জাদেজার যাদু

    তৃতীয় টেস্টে (India vs England) একাই লড়েছিলন কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিলেন। ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি। চতুর্থ টেস্টে ওল্ড ট্র্যাফোডে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে হারের হাত থেকে বাঁচালেন সেই রবীন্দ্র জাদেজা। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। যদিও ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক শুভমন গিল ও লোকেশ রাহুল। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত যখন ব্যাট করতে নামে তখন পিছিয়ে ৩১১ রানে পিছিয়ে। শুরুতেই শুভমন গিলদের ধাক্কা দেয় ইংল্যান্ডের বোলাররা। শূন্যতেই আউট হয়ে যান যশস্বী জয়সওয়াল ও সাই সুদর্শন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে ভারতের ইনিংসের হারের সম্ভাবনা তৈরি হয়। যদিও তখনই হাল ধরেন অধিনায়ক গিল ও লোকেশ রাহুল। টানা ব্যাট করে দলকে ঠিকঠাক জায়গায় পৌঁছে দেন তাঁরা। দ্বিতীয় ইনিংসে রাহুল ও গিলের স্কোর, যথাক্রমে ৯০ ও ১০৩। তারপরেই ইংল্যান্ডের বোলারদের তুলোধনা করেন জাদেজা ও সুন্দর।

    ওয়াশিংটনের সুন্দর ইনিংস

    তামিলনাড়ুর এই ক্রিকেটারকে বারবার পরীক্ষা দিতে হয়। কিন্তু যখনই সুযোগ পান নিজের কাজটা করে দেখান ওয়াশিংটন সুন্দর। ওয়াশিংটন যখনই সুযোগ পেয়েছেন, বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি অন্য জাতের ক্রিকেটার। লাল বলের ক্রিকেট তাঁর বরাবরই প্রিয়। কিন্তু রবিবার যে লড়াইটা করলেন, তা বহু দিন ভারতীয় ক্রিকেটের সমর্থকদের মনে থেকে যাবে। ইংল্যান্ডের ইনিংসে ৬৮তম ওভারে বল করতে এসে পর পর দু’টি উইকেট নিয়েছিলেন ওয়াশিংটন। তার আগের টেস্টে তিনি চারটি উইকেট পেয়েছিলেন। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো আচমকা ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করার মতো বল করতে পারেন সুন্দর। আর ব্যাটটা! ওয়াশিংটন প্রতি বারই মুখ বুজে নিজের কাজটা করেন। রবিবারের ইনিংসটাও তেমনই। গোটা ইনিংসে একটাও সুযোগ দিলেন না বিপক্ষকে। তিনি ভালই জানতেন, একটা ভুল পদক্ষেপ মানে বিপদ অনিবার্য। তাই তাড়াহুড়ো বা ঝুঁকির রাস্তাতেই গেলেন না। ধীর গতিতে শতরান করে দলের হার আটকালেন।

    ধ্রুপদী ঘরানায় টেস্টের জয়

    শুভমন, ওয়াশিংটন, জাদেজা— ভারতের এই ত্রয়ী নিশ্চিত হারের মুখ থেকে ড্র করলেন। বছর তিনেক আগে সিডনিতে এ ভাবেই হারা টেস্ট বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন হনুমা বিহারি এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তারও আগে, ২০০১-এ ইডেন গার্ডেন্সে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভিভিএস লক্ষ্মণ এবং রাহুল দ্রাবিড়ের সেই জুটি ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছে। তবে রবিবার (Manchester Test) ভারতের লড়াই সে সবের থেকে খুব একটা পিছিয়ে থাকবে না। দ্বিতীয় ইনিংসে কোনও দল ১৪৩ ওভার ব্যাট করে ম্যাচ ড্র করছে, এই উদাহরণ সাম্প্রতিক অতীতে নেই। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টির ধুমধাড়াক্কা যুগে, যেখানে লাল বলের ক্রিকেটটাই ভুলতে বসেছেন অধিকাংশ ক্রিকেটার। এই নিয়ে একটি সিরিজের চারটি টেস্টেরই ফয়সালা হল পঞ্চম দিনে, যা আর এক বিরল দৃষ্টান্ত। আর একই সঙ্গে দ্য ওভালে ৩১ অগাস্ট থেকে শুরু হতে চলা শেষ টেস্ট পাঁচ ম্যাচের সিরিজের নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়াল ।

  • India vs England: ব্যর্থ জাদেজার লড়াই, লর্ডসে ২২ রানে হার মানল টিম ইন্ডিয়া

    India vs England: ব্যর্থ জাদেজার লড়াই, লর্ডসে ২২ রানে হার মানল টিম ইন্ডিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেওয়াল লিখনটা স্পষ্টই হয়ে গিয়েছিল লর্ডস টেস্টের চতুর্থ দিনে। পঞ্চম দিনে প্রাপ্তি শুধুই জাদেজার লড়াই। লড়েছিলেন তিনি। ভয়ঙ্কর রকম লড়েছিলেন। যদি জেতাতে পারতেন তাহলে নায়কের আসন ছিল পাকা। কিন্তু পরাজিত হলে লড়াইয়ের দাম থাকে না। তাই হল। জাদেজা নিজে অপরাজিত থাকলেন ৬১ রানে। কিন্তু শোয়েব বশিরের বলটা সিরাজ খেলার পরেও দিল উইকেট ভেঙে। আটকাতেই পারতেন পা দিয়ে। মুহূর্তের ভুল। আর তাতেই সবশেষে। ১৯৩ রান তাড়া করতে নেমে ভারত শেষ হয়ে গেল ১৭০ রানে। লর্ডস টেস্ট ইংল্যান্ড (India vs England) জিতে নিল ২২ রানে। সিরিজে এগিয়ে গেল ২–১ ব্যবধানে।

    ডুবল গিলের রণতরী

    ২০২১ সালে ভারত শেষ বার লর্ডসে (India vs England) জিতেছিল। চার বছর আগের লর্ডস টেস্টে লোকেশ রাহুল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। চার বছর পরে লর্ডস টেস্টের নায়ক হতে পারতেন তিনি। প্রথম ইনিংসে তিনি সেঞ্চুরি করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁকেই ত্রাতা হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বেন স্টোকসের বাঁক খাওয়া বলটা মৃত্য পরোয়ানা নিয়ে হাজির হল ভারতের ওপেনারের সামনে। চতুর্থ দিনের শেষে রাহুল ব্যাট করছিলেন ৩৩ রানে। পঞ্চম দিন রাহুল বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। বেন স্টোকসের ব্যুমেরাং মোক্ষম সময়ে রাহুলের পায়ে লাগল। ৩৯ রানে ফিরে গেলেন ভারতের ওপেনার। লর্ডস টেস্টের চতুর্থ দিনের শেষে একেবারেই স্বস্তিতে ছিল না টিম ইন্ডিয়া। ১৯৩ রান তাড়া করতে গিয়ে চতুর্থ দিনের শেষে টিম ইন্ডিয়ার সংগ্রহ ৫৮/৪। সোমবার ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য লোকেশ রাহুলদের প্রয়োজন ছিল ১৩৫ রান। রাহুল-পন্থ থাকলে ম্যাচের ফলটা অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু পন্থও ফিরে গেলেন দ্রুত। আসলে এজবাস্টনের হারটা মানতে পারছিলেন না আর্চার-স্টোকসরা।

    জাদেজার লড়াই

    রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে অনেকক্ষণ ধৈর্য ধরে ব্যাট করছিলেন নীতীশ রেড্ডি। কিন্তু লাঞ্চের ঠিক আগেই আউট হয়ে গেলেন তিনি। সেখান থেকে জশপ্রীত বুমরাহকে নিয়ে দীর্ঘ সময় একা কুম্ভের মতো লড়ে যান রবীন্দ্র জাদেজা। বুমরাহও স্টোকস-আর্চারদের সামলে দিচ্ছিলেন। কিন্তু স্টোকসের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। আশ্চর্যজনকভাবে আউট হলেন মহম্মদ সিরাজ। যখন আশা করা হচ্ছিল, সিরাজ ঠিক লড়ে যাবেন, তখনই বিপর্যয়। তীরে এসে তরী ডুবল ভারতের। চতুর্থ ইনিংসের চাপ নিতে না পারার খেসারত দিল গিল-বাহিনী।

  • India England 2nd Test: শুভমনের দ্বিশতরান, ছাপিয়ে গেলেন সচিন-কোহলিকে! যোগ্য হাতেই ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের ব্যাটন

    India England 2nd Test: শুভমনের দ্বিশতরান, ছাপিয়ে গেলেন সচিন-কোহলিকে! যোগ্য হাতেই ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের ব্যাটন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এজবাস্টনে ইতিহাস লিখলেন শুভমন গিল (Shubman Gill)। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে (India England 2nd Test) তাঁর ২৬৯ রানের ইনিংসে ভর করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৫৮৭ রান করল ভারত। ১৮ বছর পর আবার ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে এক ইনিংসে ৫০০ রানের বেশি করল ভারত। একের পর এক নজির গড়লেন ভারত অধিনায়ক। ছাপিয়ে গেলেন সুনীল গাভাসকর, শচিন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলিদের। প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা ক্রিজে থেকে এজবাস্টনে প্রথম ইনিংসে একাই প্রায় ৬৫ ওভারের বেশি ব্যাট করে ফেলেছেন শুভমন গিল।

    শুভমনের নজির

    ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে টেস্টে সর্বাধিক রানের ইনিংস খেললেন শুভমন। এর আগে সেই রেকর্ড ছিল কোহলির দখলে। তিনি ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অপরাজিত ২৫৪ রান করেছিলেন। শুভমনই এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম অধিনায়ক যিনি ইংল্যান্ডের মাটিতে দ্বিশতরান করেছেন। এর আগে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক তিলকরত্নে দিলশান ইংল্যান্ডের মাটিতে ১৯৩ রান করেছিলেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বাধিক রান করলেন শুভমন। এত দিন সেই রেকর্ড ছিল সুনীল গাভাসকরের দখলে। ১৯৭৯ সালে ওভালে ২২১ রান করেছিলেন তিনি। ৪৬ বছর পুরনো রেকর্ড ভেঙেছেন শুভমন। এশিয়ার বাইরে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে সর্বাধিক রান করেছেন শুভমন। এত দিন এই রেকর্ড ছিল সচিনের দখলে। ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ২৪১ রান করেছিলেন তিনি। ২১ বছর পর এজবাস্টনে ভাঙল সেই রেকর্ড।

    শক্ত হাতে ভারতীয় ক্রিকেট

    ত্রিশতরান হাতছাড়া হলেও কঠিন পরিস্থিতিতে যে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে ভালবাসেন, তা বুঝিয়ে দিলেন শুভমন গিল। তাঁর হাতে দলের ব্যাটন তুলে দিয়ে বিসিসিআই যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা-ও বুঝিয়ে দিলেন আইপিএলে গুজরাট-টাইটান্সের ক্যাপ্টেন। গত ৫০ বছরে টেস্টে ভারতীয় ক্রিকেটের ব্যাটন বদলেছে। সুনীল গাভাসকরের কাছ থেকে পেয়েছিলেন শচিন তেন্ডুলকর। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি সেই দায়িত্ব সামলেছেন। নিজের চার নম্বর জায়গা তিনি ছেড়ে গিয়েছিলেন কোহলিকে। শচিনের মান রেখেছেন কোহলি। শুধু ব্যাটার হিসেবে নয়, অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কোহলির ছেড়ে দেওয়ার চার নম্বর জায়গা মাত্র দুই টেস্টেই নিজের করে নিয়েছেন শুভমন। মাত্র দুই টেস্টেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, শক্ত হাতে রয়েছে ভারতের টেস্ট ক্রিকেট।

    কোন রসায়নে সাফল্য

    শুভমন যখন ১৯৯ রানে খেলছেন তখনও তাঁকে বাউন্সার করেন জশ টং। তাতে শুভমনের কোনও সমস্যা হয়নি। ফাইন লেগে পুল মেরে নিজের প্রথম দ্বিশতরান করেছেন তিনি। তার পরেও থামেননি। শেষ পর্যন্ত থেমেছেন ২৬৯ রানে। তাঁর ইনিংসে ছিল ৩০টি চার ও তিনটি ছক্কা। ধুম-ধারাকা আইপিএলের পর ক্লাসিকাল ক্রিকেটে ধ্রুপদী ইনিংস। শুভমন বলেন, ‘আমাদের দল ভাল জায়গায় আছে। আমি কয়েকটা দিক নিয়ে পরিশ্রম করেছিলাম। আইপিএল শেষ হওয়ার পর বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম যা টেস্ট ক্রিকেটের আগে খুব জরুরি ছিল। এখনও পর্যন্ত যা দেখছি, সেগুলো আমাকে সাহায্য করেছে।’

    মুগ্ধ ইংল্যান্ডও

    শুভমনের ইনিংস দেখে উচ্ছ্বসিত ইংল্যান্ড শিবিরও। মুগ্ধতার ছবিটা কেমন? প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ দিনের শেষ বলটা করতেই ব্যাট বগলদাবা করে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা শুরু করলেন হ্যারি ব্রুক। অপর অপরাজিত ব্যাটার জো রুটকে দেখা গেল উল্টো দিকে হাঁটা দিলেন। তিনি এগিয়ে গেলেন শুভমন গিলের দিকে। করমর্দন করলেন ভারতের অধিনায়কের সঙ্গে। ইংল্যান্ড তো বটেই, বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার অভিনন্দন জানাতে এগিয়ে যাচ্ছেন, এটাই শুভমনের ইনিংসের সার্থকতা।

    অ্যাডভান্টেজ ভারত

    এজবাস্টনে শুভমনের সামনে অসহায় দেখিয়েছে ইংরেজ বোলিংকে। এখানকার পাটা উইকেটে ২১১ রানে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল ভারতের। শুভমন জানতেন, অন্তত ৪০০ রান করার লক্ষ্য ছিল তাঁর। শুভমনকে সাহায্য করলেন রবীন্দ্র জাদেজা। তিন বছর আগে এই মাঠেই শতরান করেছিলেন জাদেজা। তিনি ভাল খেললেন। দু’জনের মধ্যে ২০৩ রানের জুটি হল। তাতে চাপ অনেক কমে গেল শুভমনের উপর। জাদেজা আউট হওয়ার পর শুভমনের ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ইংল্যান্ড ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায়। বাংলার পেসার আকাশ দীপ পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। তৃতীয় ওভারে দুই উইকেট খুইয়ে ইংল্যান্ড যখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল, তখন আবার মহম্মদ সিরাজ বাধা হয়ে দাঁড়ান। অপর ওপেনার ক্রলিকে ফেরান তিনি। মাত্র ২৫ রানে তিন উইকেট খুইয়ে বসে ইংরেজ বাহিনী। এরপর জো রুট ও হ্যারি ব্রুক ম্যাচের হাল ধরেন। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ৩ উইকেটে ৭৭ রানে শেষ হয় দ্বিতীয় দিনের খেলা। ম্যাচের যা পরিস্থিতি তাতে বলাই যায়, অ্যাডভান্টেজ টিম ইন্ডিয়া।

  • India vs England: দ্বিতীয় টেস্টেও ব্যাট হাতে দুরন্ত! একাধিক নজির, শুভমনের শতরানে ভালো জায়গায় ভারত

    India vs England: দ্বিতীয় টেস্টেও ব্যাট হাতে দুরন্ত! একাধিক নজির, শুভমনের শতরানে ভালো জায়গায় ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টে দলকে জয় দিতে না-পারলেও ব্যাট হাতে এসেছিল শতরান। ইংল্যান্ড (India vs England) সফরের দ্বিতীয় টেস্টেও ব্যাট হাতে দুরন্ত গিল। লিডস টেস্টের পর বার্মিংহ্যামেও ধ্রুপদী শতরান এল ভারত অধিনায়কের ব্যাটে। আর ক্যাপ্টেনের ব্যাটেই পাঁচ উইকেটের ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথমদিন ঘুরে দাঁড়াল ভারত। অপরাজিত ষষ্ঠ উইকেটে ৯৯ রানের জুটি। ২১১ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ধসে পড়তে পারত ভারতের ইনিংস। বিশেষ করে প্রথম টেস্টে যে ভাবে মিডল এবং লোয়ার-মিডল অর্ডার ব‍্যর্থ হয়েছিল। সেখান থেকে পরিস্থিতি সামলালেন অধিনায়ক শুভমন গিল (Shubhman Gill) ও রবীন্দ্র জাদেজা। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের শেষে ভারতের রান ৫ উইকেটে ৩১০। দিনের শেষে ১১৪ রান করে শুভমন এবং ৪১ রান করে জাদেজা অপরাজিত রয়েছেন।

    রেকর্ড বুকে শুভমন

    অধিনায়ক (India vs England) হিসেবে প্রথম দু’টি টেস্টে সেঞ্চুরির বিরল রেকর্ড গড়ে বুধবার বার্মিংহ্যামে গিল স্পর্শ করলেন বিজয় হাজারে, সুনীল গাভাসকর এবং বিরাট কোহলিকে। এই তালিকার শীর্ষে আছেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা অ্যালিস্টার কুক (পাঁচ)। তারপর আছেন স্টিভ স্মিথ (তিন)। আর তারপর যুগ্মভাবে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম দুটি টেস্টে শতরান হাঁকানোর খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন বিজয় হাজারে, জ্যাক ম্যাকগ্লিউ, সুনীল গাভাসকর, বিরাট কোহলি এবং গিল। চতুর্থ ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টানা তিনটি টেস্ট ম্যাচে সেঞ্চুরি এল গিলের ব্যাটে। ধর্মশালা (2024) এবং লিডসে (2025) এর আগের দু’টি টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন অঙ্কের রান করেছিলেন পাঞ্জাব ক্রিকেটার। এই নজির গড়ে গিল মহম্মদ আজহারউদ্দিন, দিলীপ বেঙ্গসরকর এবং রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে বসে পড়লেন একাসনে। আর বার্মিংহ্যামে শতরান করা ভারতের দ্বিতীয় অধিনায়ক হলেন শুভমন গিল। এর আগে একমাত্র ভারত অধিনায়ক হিসেবে ২০১৮ সালে এই ভেন্যুতে সেঞ্চুরি করেছিলেন বিরাট কোহলি। প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে ইংল্যান্ডে প্রথম দিনেই দু’বার শতরান হাঁকানোর নজির গড়লেন শুভমন।

    ঝলমলে যশস্বীর ব্যাটও

    ইংল্যান্ডের (India vs England) বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৮৭ রানের ইনিংস খেলেছেন যশস্বী জয়সওয়াল। ১৩ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া হলেও একটি নজির গড়েছেন তিনি। তরুণ ওপেনার ব্যাটারের ব্যাটে ভেঙে গিয়েছে ৫১ বছরের পুরনো রেকর্ড। ১৯৭৪ সালে এজবাস্টনে মাইক ডেনেসের ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৬৫ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সুধীর নায়েক। এত দিন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের এই মাঠে কোনও ভারতীয় ওপেনিং ব্যাটারের খেলা সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল সেটাই। বুধবার ৮৭ রানের ইনিংস খেলে সুধীরের সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন যশস্বী। এজবাস্টনে টেস্ট ম্যাচে ভারতীয় ওপেনারদের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের তালিকায় শীর্ষে উঠে এলেন যশস্বী। দ্বিতীয় স্থানে চলে গেলেন সুধীর। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ১৯৭৯ সালে সুনীল গাওস্করের ৬৮ রানের ইনিংস।

    বুমরাহীন দলে ভরসা ব্যাটাররাই

    টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে প্রথম দু’ম্যাচে শতরান করলেও, টস হারলেন শুভমন গিল (Shubhman Gill)। ইংল্যান্ড (India vs England) টসে জিতে প্রত্যাশিতভাবেই প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লিডসে পরাজয়ের পর এজবাস্টনে সমতা ফেরানোর লড়াই টিম ইন্ডিয়ার। যদিও দ্বিতীয় ব্যাট করা দল এজবাস্টনে শেষ চারটি টেস্টের প্রতিটিতেই জিতেছে। এখানে ভারতের অতীতও ভালো নয়। তার ওপর দলে নেই ভারতের ব্রহ্মাস্ত্র বুমরা। টসের পর এদিন অধিনায়ক শুভমন জানিয়েছেন, তাঁদের মনে হয়েছে লর্ডসে তৃতীয় টেস্টে পিচ থেকে বেশি সাহায্য পাবেন বুমরা। তাই তাঁকে সেখানে খেলানো হবে। কিন্তু লর্ডসে যাওয়ার আগে যদি ভারত ০-২ পিছিয়ে পড়ে, তা হলে বুমরা তৃতীয় টেস্টে একা কী করবেন? সে ক্ষেত্রে তো সিরিজ জিততে হলে বাকি তিনটে টেস্টই জিততে হবে ভারতকে।

    অভিজ্ঞতার অভাব প্রকট

    এজবাস্টন টেস্টে (India vs England) প্রথম দিনের শেষে আরও ভালো জায়গায় থাকা উচিত ছিল ভারতীয় দলের। বার্মিংহামের ২২ গজে ব্যাট করা কঠিন নয়। বল পিচে পড়ে ভালো ভাবে ব্যাটে আসছে। আকাশও মেঘলা ছিল না। পরিবেশ ব্যাটারের জন্য কঠিন ছিল না। তবু অকারণে পরিস্থিতি কঠিন করলেন ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। করুণ নায়ার (৩১) দ্বিতীয় টেস্টেও ভরসা করার মতো খেলতে পারলেন না। নীতীশ কুমার রেড্ডি (১) ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে আউট হলেন বলের লাইন-লেংথ বুঝতে না পেরে। অভিজ্ঞ লোকেশ রাহুলও এ দিন ব্যর্থ (২)। সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থ (২৫) উইকেট উপহার দিলেন অহেতুক আগ্রাসী হতে গিয়ে। শুভমন-যশস্বী-জাদেজা ধরে না খেললে দিনের শেষে কোহলি-রোহিতদের অভিজ্ঞতার অভাব ফের প্রকট হত ভারতীয় দলের সাজঘরে।

LinkedIn
Share