Tag: India vs Pakistan

India vs Pakistan

  • India vs Pakistan: ছন্নছাড়া পাক ক্রিকেট! রাগের চোটে টিভি ভাঙলেন সমর্থকরা, দোষারোপের পালা শুরু প্রতিবেশী দেশে

    India vs Pakistan: ছন্নছাড়া পাক ক্রিকেট! রাগের চোটে টিভি ভাঙলেন সমর্থকরা, দোষারোপের পালা শুরু প্রতিবেশী দেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারতের কাছে ৬১ রানে হারের পর পাকিস্তানে আবেগের বিস্ফোরণ। ভাঙল একের পর এক টিভি। ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতের দাপট ছিল। পাকিস্তানের খেলা দেখে কোনও সময়েই মনে হয়নি তারা এই ম্যাচে জয় পেতে পারে। ভারতীয় দল নিরঙ্কুশ দাপট দেখিয়ে জয় পেল। ভারতের এই জয়ের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানে টেলিভিশন সেট ভাঙা হয়েছে। পাকিস্তানে এই দৃশ্য নতুন কিছু নয়। বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারলেই টিভি ভাঙা হয়। এবারও ঠিক সেটাই হল। আসলে পুরোটাই হতাশার ফল। ম্যাচের আগে বয়কট বিতর্ক, উত্তেজনা—সব মিলিয়ে আবহ ছিল তপ্ত। কিন্তু মাঠে পার্থক্য স্পষ্ট। ভারত ছিল পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত, আত্মবিশ্বাসী। পাকিস্তান ছিল ছন্নছাড়া।

    পুরনো রীতি ফিরে এল!

    কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে (R Premadasa Stadium) একতরফা ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল এক ভিডিও—ক্ষুব্ধ এক পাক সমর্থক নিজের টিভি সেট ভেঙে ফেলছেন! গ্রুপ এ-র ম্যাচে ভারত ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তুলেছিল। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ১১৪ রানে। ফল—৬১ রানের ধাক্কা। টি-২০ আন্তর্জাতিক (T20I) ইতিহাসে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। ম্যাচের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সমর্থকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি লিখেছেন, ‘‘ভারত আবার হারাল পাকিস্তানকে। রাগে টিভি ভেঙে ফেললাম।’’ আরেক পোস্টে যোগ করেন, ‘‘সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি, লজ্জিত, হতবাক—কিছু বলার নেই।’’ আত্মবিদ্রূপ মেশানো হতাশা যেন গোটা দেশের আবেগের প্রতিফলন। তেমনই একটি পোস্টে বিদ্রুপের সুরে লেখা হয়েছে — ‘ভারতের কাছে ম্যাচ হারার পর মধ্যরাত পর্যন্ত পাকিস্তানিরা সারা দেশে ৫৫০০টিরও বেশি টিভি ভেঙে ফেলেছে। এরই মধ্যে, পাকিস্তানি টিভি সেট নির্মাতারা তাদের শিল্পকে বাঁচানোর জন্য ভারতকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

    ভারতের কাছে হার নিত্য ঘটনা!

    মাঠে হতাশা, গ্যালারিতেও দীর্ঘশ্বাস পাক সমর্থকদের। কলম্বোর (Colombo) আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে (R Premadasa Stadium) যে পাকিস্তানিরা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন, তাঁরাও ফের ভারতের কাছে হারে হতাশ। এক পাকিস্তানি বলেছেন, ‘‘ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার এখন নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার একটু আশা ছিল যে আমরা ম্যাচ জিতব এবং অন্তত একটু লড়াই করব। কিন্তু এখন ভারতের জয় রুটিন হয়ে গিয়েছে। আমাদের কাছে বুমরার জবাব নেই। আমরা হার্দিকের মোকাবিলা করতে পারি না। এখন এই অবস্থা হয়ে গিয়েছে। ভারতীয় দল ভালো খেলেছে।’’

    দোষারোপের পালা পাকিস্তান

    ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার মেনে নিতে পারছেন না শাহিদ আফ্রিদি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দু’ওভার বল করে ৩১ রান দিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি। ঘটনাচক্রে শাহিন ও শাহিদের সম্পর্ক জামাই-শ্বশুরের। সেই জামাইকেই এ বার দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা বললেন শ্বশুর। জানিয়ে দিলেন, তাঁর হাতে ক্ষমতা থাকলে শাহিনকে ছাঁটাই করতেন তিনি। আফ্রিদির মতে, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের হারের দায় নিতে হবে। বার বার একই ক্রিকেটারদের উপর ভরসা দেখানোর মানে নেই। সেটা নির্বাচকদের বুঝতে হবে। আফ্রিদি বলেন, “যদি আমার হাতে ক্ষমতা থাকত তা হলে শাহিন, বাবর ও শাদাবকে বাদ দিয়ে দিতাম। ওদের বদলে নতুনদের সুযোগ দিতাম। এরা তো বছরের পর বছর খেলছে। এখনও ভারতকে হারাতে পারল না। তা হলে কেন ওদেরই খেলিয়ে যাব। আমার মনে হয়, নামিবিয়া ম্যাচেই এই তিন জনকে বসিয়ে দেওয়া উচিত।”

    সিনিয়রদের সমালোচনা

    ভারতের বিরুদ্ধে ৬১ রানে হেরেছে পাকিস্তান। কলোম্বোয় ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- সব দিকেই ফেল করেছে সলমান আলি আঘা ব্রিগেড। এমন লজ্জাজনক হারের পরই রেগে গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ফাস্টবোলার শোয়েব আখতারও। তিনি শুধু পাকিস্তান দল নিয়ে নয়, এর পাশাপাশি ক্রিকেট বোর্ডের কাজকর্ম নিয়েও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের সিনিয়র প্লেয়ারদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন শোয়েব। তিনি বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো সিনিয়র প্লেয়ারকে আক্রমণ করেন।। তিনি মনে করেন, এই সব স্টারেরা কোনও বড় ম্যাচে পারফর্ম করেন না। এমনকী স্টার কালচার নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এই কারণেই পাকিস্তান ক্রিকেট দল হারছে বলে মনে করছেন তিনি।

    অযোগ্য ব্যক্তি চেয়ারে আখতারের টার্গেট নকভি

    আখতার অভিযোগ করেন, কোনও অযোগ্য মানুষকে যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে শুধু টিমের নয়, গোটা দলের ক্ষতি হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে প্লেয়ারদের যোগ্যতা দেখে নয়, অন্য অনেক বিষয় দেখে নির্বাচন করা হয়। আর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সোজাসুজি মহসিন নকভির দিকেই ইঙ্গিত করলেন। মাথায় রাখতে হবে নকভি হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁর কথায় এবারের বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে চায়নি ভারত। আখতার বলেন, ‘‘গত ১৫-২০ বছরে কোনও বিনিয়োগই হয়নি। এক সময় মাঠে আমরা ভারতের সঙ্গে লড়াই করতাম, আর আজ তাদের হারানোর স্বপ্নও দেখতে পারি না।’’ শোয়েব আখতারের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটে বর্তমান শোচনীয় অবস্থা কয়েক বছর ধরে চলা খারাপ নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্তের ফল। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘একজন মানুষ যিনি কিছুই জানেন না, তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়ে গিয়েছেন। দল কী ভাবে চলবে?’’ শোয়েব আরও বলেন, ‘‘পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় সমস্যা হলো বোর্ডের দায়িত্ব অযোগ্য মানুষের হাতে থাকা।’’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো অযোগ্য মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া। এর ফলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো দল ও প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’’

  • India Vs Pakistan: ‘‘জায়গা তারিখ বদলায়, ফল একই থেকে যায়’’, ভারতের জয়ে পোস্ট অমিত শাহের

    India Vs Pakistan: ‘‘জায়গা তারিখ বদলায়, ফল একই থেকে যায়’’, ভারতের জয়ে পোস্ট অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এটাই যেন ট্যাডিশন হয়ে গিয়েছে। বাইশ গজ হোক বা যুদ্ধক্ষেত্র, সব জায়গাতেই ফলাফল এক। রবিবার কলম্বোয় ভারতের দাপুটে জয়ের পরই সমাজ মাধ্যমে পাকিস্তানকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লিখলেন, ‘‘খেলার ফর্ম্যাট, জায়গা বা তারিখ বদলায়, কিন্তু ভারত বনাম পাকিস্তানের ফলাফল সবসময় একই থেকে যায়। পুরো দলকে অভিনন্দন।’’

    শাহী কটাক্ষ

    ইতিহাস নিজেই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়—ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষে প্রত্যেকবারই বলতে হয় এই ক্লিশে কথা। মাঠে গড়ানোর আগেই ম্যাচের যা ফল অনুমান করা হয়, দিন শেষে সেটাই দেখা যায়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেন তা-ই বোঝাতে চাইলেন। গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ শেষে প্রতিবেশীদের খোঁচা দিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতকে সবশেষ পাকিস্তান হারিয়েছে দুবাইয়ে ২০২২ এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে। গত সাড়ে তিন বছরে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১০ বার। যার মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে ভারত। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে এক ম্যাচ। কলম্বোর প্রেমাদাসায় গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৬১ রানে জয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্ট পাকিস্তানকে কটাক্ষ অমিত শাহের। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘ভারত দারুণ খেলেছে। সংস্করণ, ভেন্যু, তারিখ বদলাতে পারে। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফল একই।’’ আসলে শাহ যে সবদিক থেকেই পাকিস্তানকে খোঁচা দিলেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    মাঠ ছাড়লেন নকভি

    রবিবার খেলা শুরুর আগে দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। দিয়েছিলেন উৎসাহ। কিন্তু মাঠে সে সব বোঝা গেল না। ভারতের কাছে ৬১ রানে হারল পাকিস্তান। দলের লজ্জার হার মাঠে বসে দেখতে পারেননি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। খেলা শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। পাকিস্তানের ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেই স্টেডিয়ামের ভিতর নকভিকে দেখা যায়নি। কিছু ক্ষণ পরে দেখা যায়, স্টেডিয়াম থেকে তাঁর গাড়ি বেরিয়ে যাচ্ছে। সেখানে নকভির ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। এই দৃশ্য থেকে পরিষ্কার, নকভি খেলা শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির কর্তারা গিয়েছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মিঠুন মিনহাস, সচিব দেবজিৎ শইকীয়া যেমন ছিলেন, তেমনই আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহও উপস্থিত ছিলেন। এ দিন জয়ের সঙ্গে নকভির একটি বৈঠক হওয়ারও কথা ছিল। বাকি সকল কর্তা খেলার শেষ পর্যন্ত থাকলেও নকভি আগেই বেরিয়ে যান।

    গুগল ইন্ডিয়ার ‘গুগলি’

    বাংলাদেশকে সমর্থন করে প্রথমে ম্যাচ বয়কটের হুঁশিয়ারি। এর পর মাঠে নামার আগে তর্জন-গর্জন। কিছুই বাকি রাখেনি পাকিস্তান (Pakistan)। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার কলম্বোতে ভারতীয় (India) ব্রিগেডের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছেন সলমন আলি আঘা’রা। ম্যাচ হারার পরেই পাকিস্তান দলকে নিয়ে ট্রোল শুরু হয় সমাজমাধ্যমে। সেই তালিকায় নাম লেখাল গুগল (Google)-ও। ছয় শব্দের পোস্টে পাকিস্তানকে কটাক্ষ করল গুগল ইন্ডিয়া (Google India)। রবিবার, ঈশান কিষাণের ৭৭ রানের উপর ভর করে স্কোর বোর্ডে ১৭৫ রান তুলেছিল ভারত। জবাবে মাত্র ১১৪ রানে অল আউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ৬১ রানে বড় জয় পায় টিম ইন্ডিয়া। তার পরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয় গুগল ইন্ডিয়ার তরফে। লেখা হয়, “এই ম্যাচটি আসলে একটি ইমেল হতে পারত।” রবিবার সূর্যকুমারদের কাছে যেভাবে আত্মসমর্পন করেছেন শাহিন আফ্রিদিরা, সেই কথাই তুলে ধরল গুগল (Google)। অর্থাৎ গুগল ইন্ডিয়া একপ্রকার বোঝাতে চেয়েছে, ম্যাচের ফলাফল যেখানে অনুমেয় ছিল, সেখানে একটা ইমেল করে দিলেই হতো, এত সময় ধরে ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল না। আর এ নিয়ে জোর চর্চা চলছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।

  • India Vs Pakistan: “হর হর মহাদেব”, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা জয় দেশবাসীকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের

    India Vs Pakistan: “হর হর মহাদেব”, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা জয় দেশবাসীকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ফের একবার প্রমাণ করল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে এখন আর লড়াই হয় না। ম্যাচ হয় এক তরফাই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে ম্যাচটা নিয়ে সবচেয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ম্যাচে একেবারে এক তরফা খেলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল ভারত। কলম্বোর ম্যাচে ৬১ রানে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে সুপার এইটে উঠে গেল মেন ই ব্লু। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে সব ম্যাচেই জয় পেল ভারত। এই জয়কে দেশবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করলেন ভারত অধিনায়ক। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর সূর্য স্মরণ করলেন মহাদেবকে।

    ‘হর হর মহাদেব’ পোস্ট

    কলম্বোতে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৬১ রানের বিশাল জয়ের পর, ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তার নিজস্ব ভঙ্গিতে জয় উদযাপন করেছেন। ম্যাচ জয়ের পর এক্স (পূর্বে টুইটার) -এ গিয়ে, অধিনায়ক ম্যাচের কিছু ছবি শেয়ার করেছেন এবং তিন শব্দের সংক্ষিপ্ত ক্যাপশন দিয়েছেন, “হর হর মহাদেব।” পোস্টটির সময় বিশেষভাবে অনুরণিত হয়েছে, কারণ এটি হিন্দু উৎসব মহা শিবরাত্রির সঙ্গে মিলে যায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে ভক্তদের মধ্যে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এই জয়ের মাধ্যমে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসেবে টানা চতুর্থ টি-টোয়েন্টি জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন সূর্য। দলের বাকি সদস্যদের মধ্যেও এই উদযাপন ছড়িয়ে পড়ে, তারকা স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ইনস্টাগ্রামে নিজের শ্রদ্ধাঞ্জলি শেয়ার করেন। বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী চক্রবর্তী মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে ঐতিহাসিক জয়টি ভারতের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। তার পোস্টটি অধিনায়কের অনুভূতির প্রতিধ্বনি।

    এই জয় ভারতের জন্য

    ম্যাচ বয়কট নিয়ে আইসিসি-র সঙ্গে লম্বা টানাপোড়েনের পর ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান। আশা করা হয়েছিল, বাইশ গজে ভারতকে অন্তত খানকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে পাক দল। কিন্তু বাস্তবে হল তার উল্টো। উসমানের স্পিন হোক বা শাহিনের পেস- ভারতীয় ব্যাটারদের আঘাতে সবই ভোঁতা হল শেষমেশ। আর ম্যাচ (India Vs Pakistan) কীভাবে জিততে হয়, তা বুমরা, হার্দিক, বরুণদের থেকে ভালো আর কেই বা জানে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিসংখ্যান ৭-১ থেকে ৮-১ করে অধিনায়ক সূর্যকুমার (Suryakumar Yadav) বললেন, “এই জয় ভারতের জন্য।” পাকিস্তানকে আরও একবার হারিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবেই খেলেছি। এই পিচে প্রথমে ব্যাটিং করাই সুবিধার ছিল। ক্রিজে দাঁড়িয়ে ঈশান যেভাবে স্কোরবোর্ডের দায়িত্ব নিয়েছে, সেটা অসাধারণ। ঈশান ব্যতিক্রমী ইনিংস খেলে গেল। ওর মাথায় হয়তো অন্য কোনও ভাবনা ছিল।” তবে শুধু ব্যাটার নয়, বোলারদের দলগত পারফরম্যান্সেও খুশি সূর্য। এদিকে পাকবধের এই সন্ধ্যার ‘নায়ক’ যে ঈশান কিষান (Ishan Kishan), তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তাঁর ৪০ বলে ঝোড়ো ৭৭ রানের ইনিংস থেকেই ভারতীয় দলের জয়ের ভিত তৈরি হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই হেইভোল্টেজ এই ম্যাচে মেগা-পারফরম্যান্স করে আরও আত্মবিশ্বাস বাড়বে ভারতীয় দলের এই বাঁ হাতি ওপেনারের। ম্যাচ শেষে একথা তিনি নিজেও জানিয়েছেন। ঈশান বলেন, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই বিশেষ। এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”

    করমর্দন হল না

    কলম্বোয় করমর্দন করলেন না ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আঘা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও পাক অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলালেন না সূর্য। রবিবার টসের সময় বিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে গেলেন তিনি। গত বছর এশিয়া কাপের তিনটি ম্যাচে যে জিনিস দেখা গিয়েছিল, সেটাই দেখা গেল বিশ্বকাপের ম্যাচেও। গত বছর পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষিতে এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং পাকিস্তান। তিন বারের সাক্ষাতে এক বারও দুই অধিনায়ক হাত মেলাননি। একই জিনিস দেখা গেল বিশ্বকাপের ম্যাচেও। বোঝাই গিয়েছে, ভারতের অবস্থানে কোনও বদল হয়নি।

    পাকিস্তান দাঁড়াতেই পারেনি

    ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে সুনীল গাওস্কর পরিষ্কার বলে দেন, ‘‘এই ম্যাচে পাকিস্তান দাঁড়াতেই পারেনি। প্রথম ওভারে অভিষেক শর্মার উইকেট পাওয়া ছাড়া আর কখনওই ওরা ম্যাচে ছিল না।’’ যোগ করেন, ‘‘পরের দিকে একটা-দু’টো বল ওরা ভাল করেছিল, উইকেট পেয়েছিল। কিন্তু কখনও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিতে পারেনি।’’ টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। ভারত ২০ ওভারে তোলে ১৭৫-৭। অভিষেক শর্মা খাতা খোলার আগে ফিরলেও অন‌্য ওপেনার ঈশান কিষান দশটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায‌্যে করেন ৪০ বলে ৭৭ রান। শেষ দিকে সূর্যকুমার যাদব (৩২) ও শিবম দুবে (২৭) ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। জবাবে প্রথম থেকেই নিয়মিত ব‌্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ৭৮-৬ স্কোর হয়ে যাওয়ার পরে ম‌্যাচের ভাগ‌্য কার্যত নির্ধারণ হয়ে যায়। দু’টি করে উইকেট পান হার্দিক, বুমরা, অক্ষর ও বরুণ।

    জয়ের রেকর্ড ভারতের

    রবিবার কলম্বোতে টি২০ বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্স করে দুরন্ত জয়ে পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় ম্যাচ জিতল ভারত। এই জয়ে ভারত গ্রুপ থেকে প্রথম দল হিসেবে সুপার এইটে যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের মোট জয় দাঁড়াল আটটি, যা এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বাধিক জয়ের বিশ্বরেকর্ড। আগে কোনও দলই এই প্রতিযোগিতায় একটি নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে ছয়টির বেশি ম্যাচ জিততে পারেনি। সামগ্রিক টি২০ আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে ভারত ১৭ ম্যাচের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।

  • T20 World Cup 2026: টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ মহারণ! ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা, এগিয়ে কারা?

    T20 World Cup 2026: টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ মহারণ! ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা, এগিয়ে কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) আজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় খেলা। ভারত এবং পাকিস্তান দুই দলই দুটি করে ম্যাচ জিতে একে অপরের মুখোমুখি হবে। সেখানে এই ম্যাচ জিতে দুই দলই পরের রাউন্ডে জায়গা করতে চাইবে। তবে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় ভারত পাকিস্তানের থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। ফলে সেখান থেকে সূর্যকুমার যাদবরা যে ফের একবার সেই ধারা ধরে রাখতে চাইবেন সেটা বলাই বাহুল্য।

    ভারত-পাকিস্তান ‘হেড টু হেড’

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের স্পষ্ট আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত, এই মেগা টুর্নামেন্টে দুই দল মোট ৮বার মুখোমুখি হয়েছে। এই ৮টি ম্যাচের মধ্যে ভারত ৭টিতে জিতেছে। অপরদিকে পাকিস্তান মাত্র একবার জিতেছে। গত ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ১০ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে দেয়। সেটি ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই ভারত জিতেছে। সামগ্রিকভাবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেও, ১৬টি ম্যাচের মধ্যে ভারত ১৩টিতে জিতেছে এবং পাকিস্তান মাত্র ৩টি ম্যাচ জিততে সক্ষম হয়েছে।

    কলম্বোয় পারফরম্যান্স

    কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে দীর্ঘদিন ধরেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে টিম ইন্ডিয়া। ২০০৯ সালের পর থেকে এই মাঠে ১৫টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে ভারত, যার মধ্যে জিতেছে ১১টি এবং হেরেছে মাত্র ৪টি। শ্রীলঙ্কার মাটিতে ভারতের ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম বড় প্রমাণ এই পরিসংখ্যান। ২০১২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এই মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জয় পায় তারা। শুধুমাত্র হারতে হয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আয়োজক শ্রীলঙ্কা ছাড়া কেবল অস্ট্রেলিয়াই প্রেমদাসায় ভারতকে হারাতে পেরেছে। কলম্বোর এই ঐতিহাসিক ভেন্যুতে ভারতের আধিপত্য কার্যত স্পষ্ট। এই মাঠে সাধারণত রান তাড়া করা দলগুলির সুবিধা বেশি। তবে, চলতি টুর্নামেন্টে পাকিস্তান সবকটি ম্যাচই শ্রীলঙ্কায় খেলছে। তাই পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছে পাক বাহিনী।

    বৃষ্টিতে ভেস্তে যেতে পারে ম্যাচ

    হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের দিন প্রায় চার ঘণ্টা বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি বজ্রপাত এবং ঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। ফলে গোটা বিশ্ব যে লড়াই দেখার অপেক্ষায়, তা বৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হয়েছে এক বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত। এর জরে উত্তাল হবে সমুদ্র। বইতে পারে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হওয়া। আন্দামান এবং শ্রীলঙ্কা উপকূলের বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস। ফলে ভারত -পাক ম্যাচের আগে খেলা হওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় খেলা শুরু হওয়ার কথা। তবে কিছু আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, খেলা শুরুর ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টায় প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে টস হতে দেরি হতে পারে অথবা ওভার কমিয়ে ছোটো ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাত ৮টার পর আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও,সারা রাত জুড়ে মাঝে মাঝে বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের একটি বড় সুবিধা হলো এর উন্নত জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অভিজ্ঞ মাঠকর্মী, যারা কলম্বোর এই ভারী বৃষ্টি সামলাতে অভ্যস্ত। বিশ্বের অনেক স্টেডিয়ামে শুধু পিচ ঢেকে রাখা হলেও, প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে পুরো খেলার মাঠ ঢেকে ফেলার মতো পর্যাপ্ত কভার বা ত্রিপল রয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির জল সরাসরি আউটফিল্ডে পড়ে মাঠকে ভেজাতে বা কর্দমাক্ত করতে পারে না।

    হ্যান্ডশেক বিতর্ক

    ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যেখানে সূর্যকুমার যাদব অ্যান্ড কোং পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের জার্সি পরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করতে অস্বীকার জানায়৷ সেই জঙ্গি হামলায় ২০ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক, যাদের বেশিরভাগই পর্যটক, নিহত হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে ভারত তিনবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল, এবং তিনবারের- তিনবারই জিতেছিল৷ কিন্তু ভারতীয় খেলোয়াড়রা প্রতিবারই ম্যাচ চলাকালীন যে হ্যান্ডশেকের ট্র্যাডিশানাল পদ্ধতি তার থেকে বিরত ছিল৷ সেই ঘটনার পর চার মাস পেরিয়েছে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আবার কলম্বোতে মুখোমুখি হতে চলেছে, এবং ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর কী ঘটে তা দেখার বিষয়। আপাতত, সূর্যকুমার তার তাস লুকিয়ে রেখেছেন। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে করমর্দনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, ভারতীয় অধিনায়ক কেবল মিডিয়াকে “অপেক্ষা করুন এবং দেখুন” – এই উত্তরই দিয়েছেন৷

    মেগা সানডেতে ধুন্ধুমার

    মেগা সানডেতে ধুন্ধুমার। কলম্বোতে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান (IND vs PAK)। আর প্রেমদাসায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ২২ গজের মহারণ শুরু হওয়ার প্রহর গুনছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। টি২০ বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান মহারণকে ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। রবিবার কলম্বোতে ম্যাচের আগে বিজ্ঞাপনের দর হু হু করে বেড়েছে। ১০ সেকেন্ডের টিভি বিজ্ঞাপনের স্লটের দাম পৌঁছেছে ৩০–৪০ লাখ টাকায়, যেখানে অন্য বড় বিশ্বকাপ ম্যাচে একই স্লটের রেট থাকে ২০–২৫ লাখ। সম্প্রচারকারী জিওস্টার এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন রাজস্ব আয়ের আশা করছে। উল্লেখ্য বিষয় হল প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে কিন্তু ভারত বনাম পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দ্বৈরথ এই প্রথম নয়। এর আগে এই মাঠে দুই দল বিশ ওভারের ফর্ম্যাটে একবার মুখোমুখি হয়েছিল, তাও আবার বিশ্বকাপেই। ১৪ বছর আগে ২০১২ সালে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সেই ম্যাচে ভারত হেসেখেলে জয় পেয়েছিল। এবারও সেই ধারা বজায় রাখতে চাইবে ভারত।

  • T20 World Cup 2026: ধরা পড়ে গেল পাকিস্তানের নাটক! বিসিবিকে দিয়ে আবেদনপত্র লেখান নকভি, সত্যি কী?

    T20 World Cup 2026: ধরা পড়ে গেল পাকিস্তানের নাটক! বিসিবিকে দিয়ে আবেদনপত্র লেখান নকভি, সত্যি কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের হুমকি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল নিয়ে এতদিন ধরে যে টানাপোড়েন চলছিল, সোমবার গভীর রাতে পাকিস্তান সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে তার ইতি পড়েছে। সরকারি নির্দেশেই পাক দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত খেলাটি খেলতে নামতে হবে, সোমবার রাতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। সেই সঙ্গে শেষ হয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি দামের এই ‘দুনিয়ার সবচেয়ে দামি ম্যাচ’ নিয়ে অনিশ্চয়তা। তবে সেই নাটকের অবসানে একের পর এক অস্বস্তিকর তথ্য সামনে আসছে, যা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সূত্রের খবর, নিজের প্রভাব ও গুরুত্ব জাহির করতেই পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে অনুরোধ করেছিলেন—পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে যেন একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র লেখা হয়, যাতে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার অনুরোধ জানানো থাকে।

    ‘সম্মানজনকভাবে পিছু হটার চেষ্টা’

    বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম ‘বুলবুল’ সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করে নকভির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত এক কর্তার কথায়, “নকভি নিজেই বুলবুলকে ফোন করে বলেন, পাকিস্তানের কাছে যেন একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়। এতে করে পুরো পরিস্থিতি থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসা যাবে।” অর্থাৎ, সরাসরি আইসিসির চাপে মাথা নত না করে তৃতীয় পক্ষের অনুরোধকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল পিসিবির কৌশল। সেই পরিকল্পনা মতোই বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রশংসা করে বলেন, “এই সময় বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে পাকিস্তান যে অতিরিক্ত উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে আপ্লুত। আমাদের ভ্রাতৃত্ব দীর্ঘজীবী হোক।” তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান সফরের পর আলোচনার সম্ভাব্য ইতিবাচক ফলাফলের প্রেক্ষিতে আমি অনুরোধ করছি—১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটি খেলুক পাকিস্তান, যা পুরো ক্রিকেট বিশ্বের স্বার্থেই প্রয়োজন।”

    আইসিসির ভূমিকা

    ভারত-পাকিস্তান (India Vs Pakistan) ম্যাচের আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ম্যাচ ইতিমধ্যেই রেকর্ড ভিউয়ারশিপ ও বিপুল রাজস্বের সম্ভাবনা তৈরি করেছে—যা শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটের ব্যবসায়িক দিককেই আবারও সামনে এনে দিচ্ছে। ক্রিকেটের উন্নতিতে এই ম্যাচ আয়োজনের জন্য যা করার করেছে আইসিসি। তবে, কোনও অনৈতিক দাবিকে প্রশ্রয় দেয়নি জয় শাহ-র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। আইসিসি-ও জানত, পাকিস্তান আসলে দেখানোর জন্য এই খেলা খেলছিল। তারা বাংলাদেশ ও সেখানকার জনতাকে খুশি করতে চাইছিল। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানও ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে। মহম্মদ ইউনূসের সরকার আসার পর থেকেই পাকিস্তান বাংলাদেশকে ভারতের থেকে দূরে সরাতে চেষ্টা করছে। ভারতের বিরুদ্ধে টি২০ না খেলার কৌশলও সেই দিকেই ছিল। কিন্তু আইসিসির সামনে পাকিস্তানের কোনও জারিজুরি কিছুই কাজ করেনি। বহুপাক্ষিক আলোচনা, বন্ধুরাষ্ট্রগুলির অনুরোধ ও ক্রিকেটীয় চেতনার চাপ পাকিস্তানকে পিছু হটতে বাধ্য করে। আইসিসিতে ভারত স্পষ্ট অবস্থান নেয়। আইসিসিও বড় অঙ্কের জরিমানার হুমকি দেয়। শাস্তি এড়াতে পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে খেলতেই হতো। কিন্তু পাক প্রধানমন্ত্রী জনসমক্ষে এই ম্যাচ বয়কটের কথা বলেছিলেন, তাই মুখ-রক্ষার জন্য ঘুরিয়ে পথ দেখার চেষ্টা করল পাকিস্তান, অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

  • T20 World Cup 2026: শাস্তির ভয়েই মাথা নত পিসিবির! বয়কট-নাটক শিকেয় তুলে ভারতের সঙ্গে খেলতে রাজি পাকিস্তান

    T20 World Cup 2026: শাস্তির ভয়েই মাথা নত পিসিবির! বয়কট-নাটক শিকেয় তুলে ভারতের সঙ্গে খেলতে রাজি পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবারও নিজেদের শর্ত থেকে সরল পাকিস্তান। সীমান্ত হোক বা ক্রিকেটের ময়দান, পরাজয় নিশ্চিত জেনেও বারবার একই পথে পা বাড়ায় পাক-সরকার। নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করার মরিয়া চেষ্ট করে পাকিস্তান। ফের একবার তার প্রমাণ মিলল। যাবতীয় নাটকের অবসান ঘটিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হল পাকিস্তান।(India Pakistan) সোমবার রাতে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকার। এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয় সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির। বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাক সরকার জানিয়েছে, বন্ধু দেশগুলোর অনুরোধে ও ক্রিকেটের স্বার্থে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে বাবর আজমরা। তবে, ক্রিকেট মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল সকলেই জানে আসল সত্য। আইসিসি-র চাপের মুখেই পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। এক কথায় বিনা শর্তেই ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে হবে তাদেরকে। পিসিবি প্রধানের পেশ করা তিন শর্তই খারিজ করেছে আইসিসি।

    আট দিনে সিদ্ধান্ত বদল সরকারের

    টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার ব্যাপারে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ছাড়পত্র দিয়ে দিল সেই দেশের সরকার। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে সরকারের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, টি২০ বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে পাকিস্তান। এ দিন রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয় সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভির। তিনি আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে রবিবার রাতে হওয়া বৈঠকের ব্যাপারে জানান শরিফকে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফেও পাকিস্তানকে অনুরোধ করা হয়েছিল ভারত ম্যাচ খেলার জন্য। একই অনুরোধ এসেছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং শ্রীলঙ্কা থেকেও। এই অনুরোধের পর পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আলোচনার নির্যাস এবং বন্ধু দেশগুলির অনুরোধের পর পাকিস্তান সরকার সে দেশের ক্রিকেট দলকে ভারতের বিরুদ্ধে ‘মাঠে নামার’ নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেটের সংস্কৃতিকে রক্ষা করা এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে ক্রিকেট কে আরও বেশি করে জনপ্রিয় করে তোলার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    পাকিস্তানের তিন শর্তই খারিজ

    ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার জন্য রবিবারের বৈঠকে মোট পাঁচটি দাবি আইসিসির সামনে তুলে ধরে পিসিবি। মহসিন নকভিদের মূল তিনটি শর্তই খারিজ করে দিয়েছেন জয় শাহেরা। পিসিবির তিনটি প্রধান শর্ত ছিল—

    ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ: পাকিস্তানের দাবি ছিল, ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ যেন পুনরায় শুরু করা হয়। আইসিসি এই প্রস্তাব খারিজ করে জানায়, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন তাদের আওতায় পড়ে না, এমনকী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কাঠামোর মধ্যেও নয়।

    ত্রিদেশীয় সিরিজ: ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের কথা বলা হয়। আইসিসি এই প্রস্তাবও খারিজ করে জানায়, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের মতোই ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন তাদের আওতায় পড়ে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের বক্তব্য, দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে তাদের কোনও নির্দেশ দেওয়ার অধিকার নেই।

    ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর আয়োজনের দাবিও নাকচ করে আইসিসি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দাবি, এগুলি একদমই দুই দেশের বোর্ডের বিষয়। এখানে আইসিসি হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

    মুখরক্ষার পথ

    পিসিবির দু’টি শর্ত মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন আইসিসি কর্তারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে বাংলাদেশকে যেন কোনওভাবেই শাস্তি না দেওয়া হয় এবং আইসিসি রাজস্বের পূর্ণ অংশ পায় বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্ত অবশ্য আইসিসি আগেই স্বাধীনভাবে নিয়ে ফেলেছিল। দ্বিতীয়ত, গত বছর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশকে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার দাবি তোলে পাকিস্তান। এমনকী, আগামী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে। রবিবার লাহোরে মুখোমুখি বসেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। সেখানে মূলত এই নিয়েই আলোচনা হয়। এরপর, সোমবার ঢাকায় এক বিবৃতিতে বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম (Aminul Islam) পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, মাঠে নামার অনুরোধ করেন। “ক্রিকেটের স্বার্থে পাকিস্তানকে ম্যাচটি খেলতে অনুরোধ করছি।” আসলে পাকিস্তানের জন্য এটিই ছিল মুখরক্ষা করার পথ। কারণ পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ভারত ম্যাচ বয়কট করবে পাকিস্তান। তাই আমিনুলের চিঠি পাকিস্তানের অবস্থান বদলের আড়াল তৈরি করল, এমনই মত বিশেষজ্ঞদের। শেষমেশ বহুপাক্ষিক চাপেই পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পাল্টাল।

    পাকিস্তানের ভয়

    পাকিস্তান এমনিতেই আত্মসমর্পণ করত, তবে বলা হচ্ছে—বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বোঝানোর পরই পাকিস্তান সরকার বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে। যদিও আসলে ভয় পেয়েছিল পাকিস্তান। আইসিসির কঠোর শাস্তির আশঙ্কা করেছিল পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একঘরে হয়ে পড়ার ভয় ছিল তাদের মধ্যে। ভারতের সঙ্গে না খেললে বড় রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করছিল পিসিবি। বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টে অনুপস্থিত থাকলে ভাবমূর্তি আরও খারাপ হতে পারত। তাই শেষ পর্যন্ত ইউ-টার্ন পাকিস্তানের।

  • T20 World Cup 2026: শাস্তির ভয়ে থামল বিদ্রোহ! লাহোরে পিসিবির সঙ্গে আইসিসি-র বৈঠক, ভারত ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান?

    T20 World Cup 2026: শাস্তির ভয়ে থামল বিদ্রোহ! লাহোরে পিসিবির সঙ্গে আইসিসি-র বৈঠক, ভারত ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ (T20 World Cup 2026) ফের মুখোমুখি হতে চলেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বয়কট জল্পনার মাঝেই সূচিভুক্ত এই মহারণ ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে। এই ম্যাচ ঘিরে বিতর্কও কম নয়। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার জেরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রথমে এই ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির নেতৃত্বে এই অবস্থান নেওয়া হলেও, লাহোরে আইসিসি বৈঠকের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে পাকিস্তান। এমনই ইঙ্গিত মিলেছে বোর্ড সূত্রে। উল্লেখ্য, এই ম্যাচের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৩০–৩৫ মিলিয়ন ডলার বলে জানা গিয়েছে।

    গুটিয়ে গেল বিদ্রোহ!

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান আইসিসি-র বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। পুরো বিশ্বকাপ খেললেও তারা ভারতের বিরুদ্ধে (India Vs Pakistan) খেলবে না বলে জানিয়েছে। কিন্তু কয়েকদিনেই বিদ্রোহ গুটিয়ে গেল। আইসিসি-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে পাকিস্তান। যার ফলে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। সূত্রের খবর, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আইসিসি-র একটি প্রতিনিধি দল লাহোরে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে আইসিসি-র পক্ষ থেকে ছিলেন ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা, পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি। সেখানে ছিলেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলামও। তার আগে কলম্বোতে পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আইসিসি-র সিইও সংযোগ গুপ্তা।

    শাস্তির ভয়ে সিদ্ধান্ত!

    রিপোর্টে প্রকাশ, বৈঠকে পাকিস্তানকে আইসিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি তারা ১৫ তারিখ কলম্বোতে খেলতে না নামে তা হলে তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে। পাশাপাশি জানিয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত মানতে গেলে আর্থিক দিক থেকে ধাক্কা খাবে পাকিস্তান ক্রিকেট। এর পর দু’পক্ষ আলোচনা করে। তার পর পাকিস্তান ভারত ম্যাচ খেলতে রাজি হয়েছে। তবে তার আগে পিসিবি একবার পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। তার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। আইসিসি পাকিস্তানের কাছে জানতে চেয়েছে কেন তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ আনা হবে না। তারা পাকিস্তানের কাছে ভারতের ম্যাচ বয়কটের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলে। রিপোর্টে প্রকাশ, সেটা ব্যাখ্যা করতে পারেননি পিসিবি কর্তারা।

    বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু দুই দলের

    ইতিমধ্যেই ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপ-যাত্রা শুরু করেছে ভারত ও পাকিস্তান। মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকে দুই দলই চাপের মধ্যে রয়েছে। ভারত তাদের প্রথম ম্যাচে ইউএসএ-র বিরুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতি থেকে সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটে জয় ছিনিয়ে আনে। অন্যদিকে, পাকিস্তান নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে ফাহিম আশরাফের নৈপুণ্যে রক্ষা পায়। এটাই ২০২৫ এশিয়া কাপের পর ভারত-পাকিস্তানের প্রথম মুখোমুখি হওয়া। নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তানের গ্রুপের সব ম্যাচই শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন ভেন্যু কলম্বো ও ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাকিস্তান সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠলে সেই ম্যাচগুলিও কলম্বোতেই স্থানান্তরিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • T20 World Cup 2026: আলোচনা শুরু, পটপরিবর্তনের সম্ভাবনা! টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট নিয়ে জলঘোলা পাকিস্তানের

    T20 World Cup 2026: আলোচনা শুরু, পটপরিবর্তনের সম্ভাবনা! টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট নিয়ে জলঘোলা পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে না নামার হুমকি দিলেও এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি জারি করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। খোলা রেখেছে সিদ্ধান্ত বদলের পথ। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) ঘিরে পাকিস্তানের নাটকীয়তা থেমে নেই। সূত্রের খবর, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আবারও তার সরকারের কাছ থেকে পরামর্শ চাইছে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

    শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট কেন চিন্তিত

    ভারত বনাম পাকিস্তান (India vs Pakistan) দ্বৈরথ। ক্রিকেটীয় উন্মাদনা তো থাকেই, এই লড়াই ঘিরে কোষাগারও ভরে ওঠে আইসিসি-র। সে টিকিটের চাহিদা হোক বা সম্প্রচারকারী চ্যানেল মারফত মুনাফা। অথচ টি-২০ বিশ্বকাপে নাকি ভারতের বিরুদ্ধেই ম্য়াচ বয়কট করতে চলেছে পাকিস্তান? পাকিস্তান সরকার পিসিবিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে বাধা দিয়েছে, এই ম্যাচটি আইসিসি এবং এর সম্প্রচারকদের জন্য সর্বোচ্চ আয়ের ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। ১৫ ফেব্রুয়ারির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি না হলে টিকিট বিক্রিতে (গেটের টাকা) বিরাট ক্ষতি হবে, আতিথেয়তা এবং স্পনসরশিপের রাজস্ব হ্রাস পাবে,
    শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনই মেল করে পিসিবি-কে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট।

    নকভির সঙ্গে কথা শ্রীলঙ্কার

    সূত্রের খবর, “পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে সরকার এবং ক্রিকেট উভয় স্তরেই সবসময়ই ভালো এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের সম্পৃক্ততা উপেক্ষা করা যায় না।” সূত্রটি আরও জানিয়েছে যে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির সাথে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি শাম্মি সিলভা সরাসরি যোগাযোগ করেছেন। সিলভা নকভিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে শ্রীলঙ্কার এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সমর্থন প্রয়োজন, কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি না হলে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট অতিরিক্ত রাজস্ব হারাবে। সূত্রটি জানায়, মহসিন নকভি শাম্মি সিলভাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের কাছে উত্থাপন করবেন এবং তারপর প্রতিক্রিয়া জানাবেন। সোমবারের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    টিকিট বিক্রি আপাতত বন্ধ

    শত উস্কানিতেও টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরাতে পারেনি পাকিস্তান। আইসিসি বোর্ড মিটিংয়ে ভোটাভুটিতে জঘন্য হার হজম করতে হয়েছিল। অনেকে ভেবেছিলেন, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে না সরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। তা করেনি পিসিবি। বরং সাত পাঁচ না ভেবে ভারতের বিরুদ্ধে টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট করার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও এখনও আইসিসি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পাকিস্তান। তবে এই পরিস্থিতিতে ওই ম্যাচের টিকিট বিক্রি আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে আইসিসি।

  • T20 World Cup 2026: ভারত-পাক ম্যাচ বয়কট, নকভির নয়া রাজনীতি! বাংলাদেশ নির্বাচন শেষে ইউ-টার্ন নিতে পারে পিসিবি?

    T20 World Cup 2026: ভারত-পাক ম্যাচ বয়কট, নকভির নয়া রাজনীতি! বাংলাদেশ নির্বাচন শেষে ইউ-টার্ন নিতে পারে পিসিবি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারত-পাক ম্যাচ (India vs Pakistan)বয়কট নিয়ে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। তাই কূটনৈতিক ফায়দা তুলে বাংলাদেশের নির্বাচন মিটলেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত-ম্যাচ নিয়ে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারেন মহসিন নকভি। ভারত-ম্যাচ বয়কটের নেপথ্যে পাকিস্তান ক্রিকেটের স্বার্থের থেকে বেশি রয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার কৌশল। এমনই দাবি খোদ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এক কর্তার। মহসিন নকভি তো ক্রিকেট প্রশাসকের থেকেও আগে একজন রাজনীতিবিদ। জাতীয় দলকে নিয়ে বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নন নকভি, এমনই মত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিসিবির এক কর্তার।

    পিসিবির একাংশ ক্ষুব্ধ

    ভারত-ম্যাচ বয়কট নিয়ে পিসিবির একাংশ ক্ষুব্ধ। এই সিদ্ধান্ত বুঝে শুনে পাক ক্রিকেটকে বিপদে ফেলে দেওয়ার মতো। সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে উপমহাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ। বাংলাদেশের নির্বাচন মিটে গেলেও পিসিবি চেয়ারম্যান মত বদলে ফেলতে পারেন বলে মনে করছে পিসিবি কর্তাদের একাংশ। ওই কর্তা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘নকভি যতটা ক্রিকেট প্রশাসক তার চেয়েও বেশি রাজনীতিবিদ। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী। উপমহাদেশের রাজনীতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। পাকিস্তানের জাতীয় দলের উন্নতি নিয়ে উনি খুব একটা আন্তরিক নন। বরং বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বেশি আগ্রহী। নির্বাচনের আগে পাকিস্তান মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের পাশে থাকতে চাইছে। এই সুযোগে নকভি নিজের নম্বর বাড়িয়ে নিতে চান। বাংলাদেশের নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি। ভারত-পাক ম্যাচ ১৫ ফেব্রুয়ারি। মাঝে দু’দিন থাকবে। তার মধ্যে নকভি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারেন। না খেললে পাকিস্তানকে আইসিসি বহিষ্কার করতে পারে। সেই ঝুঁকি না-ও নিতে পারেন তিনি।’’

    বিক্ষুব্ধ পাক ক্রিকেটাররাও

    পিসিবির ওই কর্তা পিটিআইকে বলেছেন, ‘‘ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে জরিমানার কথা বলা হচ্ছে। বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী সংস্থাকে দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। এ সবের বিরুদ্ধে ডিআরসিতে গেলেও লাভ হবে না বলেও জানানো হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, পিসিবির দাবি মেনে নিরপেক্ষ দেশে ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। ভারতের মাটিতে খেলতে না চাওয়ার দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তার পরও সরকারের নির্দেশে ভারত-ম্যাচ না খেললে চুক্তিভঙ্গ হবে। আইসিসির বিপুল আর্থিক ক্ষতির দায় পাকিস্তানকেই নিতে হবে।’’ পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বকাপ নিয়ে বৈঠক করার আগে ক্রিকেটারদের সঙ্গেও আলোচনা করেননি নকভি। যা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে সলমন আলি আঘাদের মধ্যেও।

    কলম্বোয় যাবে ভারতীয় দল

    পিটিআইয়ের রিপোর্টের এই দাবি কিন্তু সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। পাকিস্তান সেই ম্যাচ খেলুক বা না খেলুক, ভারত কিন্তু এমনিও সেই ম্যাচের জন্য শ্রীলঙ্কায় সফর করবে। নিয়ম কিন্তু তাই দাবি করছে। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ভারতকে সেদিন নিয়মমত মাঠে পৌঁছতে হবে। এমনকী সূর্যকুমারকে টস করতেও নামতে হবে মাঠে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যদি পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা মাঠে না থাকেন। তাহলে তখন ম্যাচ রেফার সেই ম্যাচ ওয়াকওভার ঘোষণা করবেন। আর ভারত পয়েন্ট ঝুলিতে পুরে নেবে। অর্থাৎ পাকিস্তান শুধু বয়কট করে দিল বলেই যে পয়েন্ট ঢুকে যাবে ভারতের ঝুলিতে, তা কিন্তু নয়। টিম ইন্ডিয়াকে কলম্বোয় পৌঁছতে হবে ও মাঠেও নামতে হবে। বিসিসিআইয়ের সূত্র মারফতও জানা গিয়েছে যে ভারত ১৫ ফেব্রুয়ারির সেই ম্যাচের আগে যথারীতি অনুশীলন, সাংবাদিক বৈঠক সারবে এবং ম্যাচের দিনও মাঠে উপস্থিত থাকবেন সূর্যকুমার যাদবরা। ফলে পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলালে ম্যাচ আয়োজিত হতেই পারে।

  • T-20 World Cup 2026: ভারত ম্যাচ বয়কট, পাশে নেই বাকি বোর্ড! আইসিসির সঙ্গে সংঘাতে বিপাকে পাকিস্তান

    T-20 World Cup 2026: ভারত ম্যাচ বয়কট, পাশে নেই বাকি বোর্ড! আইসিসির সঙ্গে সংঘাতে বিপাকে পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের পাশে নেই অন্য কোনও ক্রিকেট বোর্ড। আইসিসির বিরুদ্ধে অসহায় পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T-20 World Cup 2026) ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করে বিপাকে পড়েছে পিসিবি। টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেও ভারত ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু সরাসরি আইসিসিকে কিছু জানায়নি। নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়ায় সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কিন্তু তারপরই রক্তচক্ষু রাঙায় আইসিসি। এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ডের দ্বারস্থ হয় পাকিস্তান। কিন্তু কোনও সাপোর্ট মেলেনি। পাশে দাঁড়ায়নি অন্য কোনও ক্রিকেট বোর্ড। পিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ম্যাচ বয়কটের কথা আইসিসিকে জানায়নি। যার ফলে আরও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

    কোনও আইনি অবস্থানও নেই পাকিস্তানের

    সূত্রের খবর, পিসিবির পাশে দাঁড়াতে চায়নি অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড। পাকিস্তানের কোনও লোকাস স্ট্যান্ডি নেই। কোনও আইনি অবস্থানও নেই। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বাকি ক্রিকেট বোর্ডগুলো। পাকিস্তানের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সম্প্রতি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সেখানে বয়কটের প্রসঙ্গ ওঠেনি। পাকিস্তানের মেয়েদের দলের ভারতীয় এ দলের বিরুদ্ধে খেলার কথা। এইক্ষেত্রে কোনও আপত্তি জানায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কট কেন? আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তান সব ম্যাচ কলম্বোয় খেলবে। শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু। তাই কোনও সমস্যা হওয়ার কথা না পাকিস্তানের। বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানের এই অবস্থান মানতে পারছে না বাকি বোর্ডগুলো।

    পাকিস্তানের ওপর কী কী শাস্তি

    পাকিস্তান যদি ভারতের বিপক্ষে মাঠে না নামে তাহলে আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচটি ভারতকে ওয়াকওভার হিসেবে দেওয়া হবে। ভারতকে পয়েন্ট পেতে হলে তাদের মাঠে উপস্থিত থাকতে হবে। যদি ভারতের অধিনায়ক (Suryakumar Yadav) টসের জন্য মাঠে আসেন এবং পাকিস্তান অধিনায়ক (Salman Ali Agha) না আসেন, তাহলে ম্যাচ রেফারি আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ এবং ২ পয়েন্ট ভারতকে দিয়ে দেবে। ডিফল্ট করা দল (পাকিস্তান) কে ২০ ওভারের পুরো ইনিংস খেলেছে কিন্তু ০ রান করেছে বলে ধরা হবে। এতে তাদের নেট রান রেট অনেক কমে যাবে, ফলে তারা অন্য ম্যাচগুলো জিতলেও শেষ ৮-এ ওঠা খুব কঠিন হবে। তবে, আর্থিক ও বাণিজ্যিক শাস্তিই পিসিবি-র আসল সমস্যা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুধু টুর্নামেন্ট নয়, পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমে টাকা রোজগারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রচারকারী সংস্থা আনুমানিক $২৫ মিলিয়ন থেকে $৩০ মিলিয়ন বিজ্ঞাপন আয় হারাবে। তারা আইসিসি-র কাছে ছাড় চাইতে পারে। আইসিসি এই আইনি দাবি ও আর্থিক ক্ষতি সরাসরি পিসিবি-র ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। আইসিসি পিসিবি-র বার্ষিক আয়ের অংশ আটকে রাখতে পারে, যা পাকিস্তানের ক্রিকেট বাজেটের প্রায় ৭০-৮০%। এতে বোর্ড আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।

    আইসিসি সংবিধানের লঙ্ঘন

    আইসিসির “সরকারি হস্তক্ষেপ” ধারা অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, সরকারি হস্তক্ষেপ এড়াতে হবে। যদিও প্রাক্তন পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানি বলেছেন, সরকারি নির্দেশ মানলে পাকিস্তান আইসিসি-র শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে, কিন্তু পাকিস্তানের “নির্বাচিত অংশগ্রহণ” এখনও টুর্নামেন্টের সততার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে (১৯৯৬ ও ২০০৩)-এ নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে দলগুলো ম্যাচ বয়কট করেছিল (যেমন Australia, Sri Lanka-র ম্যাচ বাদ দিয়েছিল)। তবে, পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা-তে, যেটা নিরপেক্ষ ভেন্যু, ম্যাচ বয়কট করছে, তাই সরকারি হস্তক্ষেপের কোনো কারণ নেই। তাই, এই পদক্ষেপ সরাসরি আইসিসি সংবিধানের লঙ্ঘন।

LinkedIn
Share