Tag: Indian Air Force

Indian Air Force

  • Rajnath Singh: প্রতিরক্ষা খাতে ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন কেন্দ্রের! ৮২% কেনাকাটা দেশীয় সংস্থার কাছ থেকে

    Rajnath Singh: প্রতিরক্ষা খাতে ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন কেন্দ্রের! ৮২% কেনাকাটা দেশীয় সংস্থার কাছ থেকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও এক বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার মূলধনী সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে প্রাথমিক অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বিপুল অঙ্কের কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশই করা হবে ভারতীয় শিল্পসংস্থাগুলির কাছ থেকে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার সামরিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও বড়সড় উৎসাহ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে বসে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি-র (DAC) বৈঠক। সেখানেই তিন বাহিনীর একাধিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি কেনার প্রস্তাবে Acceptance of Necessity (AoN) বা প্রয়োজনীয়তার প্রাথমিক প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলির আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় ২,১২,০০০ কোটি টাকা।

    স্থলসেনার জন্য আধুনিক কামান, হেলিকপ্টার ও আত্মঘাতী ড্রোন

    স্থলসীমান্তে অভিযান, দুর্গম এলাকায় সেনা চলাচল, নজরদারি এবং শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলা মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে ভারতীয় সেনার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    অনুমোদিত সরঞ্জামগুলির মধ্যে রয়েছে হাই মোবিলিটি ভেহিকল (HMV), স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম, গান শট রেসপন্স সিস্টেম (GSRS), লাইট মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার (LMRH), ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (VSHORADS), প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক কাউন্টার-আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (C-UAS), দূরপাল্লার আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম, নজরদারি ড্রোন, সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চ গতিশীলতাসম্পন্ন যানগুলি দুর্গম ভূখণ্ডে সেনার চলাচল, রসদ সরবরাহ এবং অভিযানের সক্ষমতা বাড়াবে। অন্যদিকে, স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম যান্ত্রিক বাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কামানের গতিশীলতা ও গোলাবর্ষণের ক্ষমতা বাড়াবে। গান শট রেসপন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সেনা আরও দ্রুত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কোথা থেকে গুলি চালানো হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য শনাক্ত করতে ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বুঝতে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    ড্রোন হামলা মোকাবিলা ও নজরদারিতে বাড়তি জোর

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট ড্রোন, মনুষ্যবিহীন আকাশযান এবং নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সেনার জন্য একাধিক ড্রোন ও ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (VSHORADS) নতুন প্রজন্মের ছোট আকারের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সাহায্য করবে। অন্যদিকে, কাউন্টার-আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (C-UAS) আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাঙ্কের সুরক্ষা ও টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

    এছাড়া নজরদারি ইউএভি, সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন সেনার শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করা, লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াবে।

    বিশেষত, দূরপাল্লার ড্রোন ও সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থার সংযোজনের ফলে দূরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কার্যকর হতে পারে।

    সেনা ও বায়ুসেনার জন্য একসঙ্গে হেলিকপ্টার

    লাইট মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার (LMRH) কেনার প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে ভারতীয় সেনা এবং ভারতীয় বায়ুসেনা—দুই বাহিনীই।

    পুনরীক্ষণ ও নজরদারি, যুদ্ধকালীন অভিযান, বিপদে পড়া সেনাকর্মীদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং মানবিক সহায়তা ও বিপর্যয় মোকাবিলার মতো একাধিক কাজে এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।

    দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত এমন এলাকায় সেনার কাছে দ্রুত পৌঁছনো, আহতদের উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    নৌসেনার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য অ্যাক্টিভ অফবোর্ড ডিকয় সিস্টেম (AODS) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সামরিক প্ল্যাটফর্ম কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    AODS-এর প্রধান উদ্দেশ্য হল শত্রুপক্ষের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে নৌসেনার প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো। এই ধরনের ডিকয় সিস্টেম শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রকে আসল জাহাজ থেকে সরিয়ে অন্যদিকে আকৃষ্ট করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলে জাহাজের উপর সরাসরি আঘাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এই প্রযুক্তি।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য, দেশীয় প্রযুক্তিতে নকশা ও নির্মাণ করা গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলি আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে এবং ভারতীয় নৌসেনার সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা বাড়াবে।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স ও আবহাওয়া রেডার

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অস্ত্রশস্ত্র এবং মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রেডার সিস্টেম কেনার প্রস্তাবেও প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষ উপযোগিতার হেলিকপ্টারগুলি বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহণের চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে। সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ, দুর্গম এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন অভিযানে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের হেলিকপ্টার কার্যকর হতে পারে।

    অন্যদিকে, মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রেডার সামনের সারির সামরিক এলাকাগুলিতে স্থানীয় আবহাওয়ার উচ্চ রেজোলিউশনের তথ্য সরবরাহ করবে। এর সাহায্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

    সামরিক অভিযানে দৃশ্যমানতা, বৃষ্টিপাত, ঝড় এবং অন্যান্য আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই রেডার ব্যবস্থা বিমান অভিযান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।

    দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় সুযোগ

    এই অনুমোদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল, মোট প্রস্তাবিত কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশ ভারতীয় শিল্পসংস্থাগুলির কাছ থেকে করা হবে। অর্থাৎ, প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার মোট প্রস্তাবিত ব্যয়ের বড় অংশ দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

    এর সম্ভাব্য প্রভাব একাধিক ক্ষেত্রে পড়তে পারে। প্রথমত, দেশীয় সংস্থাগুলির জন্য সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি উৎপাদনের বাজার সম্প্রসারিত হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং উৎপাদন পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে। তৃতীয়ত, দেশীয় সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    তবে মনে রাখতে হবে, AoN বা Acceptance of Necessity চূড়ান্ত বরাত কিংবা সরঞ্জাম সরবরাহের সমান নয়। এটি কেনাকাটার প্রয়োজনীয়তার প্রাথমিক অনুমোদন। এর পরে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী দরপত্র, চুক্তি, উৎপাদন এবং সরবরাহের মতো একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

    সব মিলিয়ে, তিন বাহিনীর জন্য এই বিপুল অঙ্কের প্রস্তাবিত সামরিক কেনাকাটা ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়ার ফলে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যও আরও গতি পেতে পারে। তবে বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলি কত দ্রুত চুক্তি, উৎপাদন ও কার্যকর সামরিক ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছয়, তার উপর।

  • Air Force Chief: চার দশকের অভিজ্ঞতা, দেশের পরবর্তী বায়ুসেনা প্রধান এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত

    Air Force Chief: চার দশকের অভিজ্ঞতা, দেশের পরবর্তী বায়ুসেনা প্রধান এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নতুন বায়ুসেনা প্রধান (Air Force Chief) হচ্ছেন এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত (Air Marshal Ashutosh Dixit)। এখন তিনি ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ পদে কর্মরত। আগামী ৩১ অক্টোবর বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান অমরপ্রীত সিং অবসর নেবেন। ওই দিন বিকেলে তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নেবেন আশুতোষ। পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল, অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল সহ একাধিক সম্মান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ সদর দফতরে চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ (সিআইএসসি) এবং সেন্ট্রাল এয়ার কমান্ডের এয়ার অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ সহ গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও কৌশলগত পদেও কর্মরত ছিলেন এয়ার মার্শাল দীক্ষিত।

    কোন কোন অপারেশনে দায়িত্বে ছিলেন আশুতোষ

    ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী আশুতোষ পরে বাংলাদেশে ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ এবং নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৬-র ৬ ডিসেম্বর তিনি যোগ দেন বায়ুসেনার ফাইটার শাখায় (যুদ্ধবিমান)। দক্ষতার সঙ্গে টেস্ট পাইলট এবং ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টরের দায়িত্ব সামলেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় চার দশকের কর্মজীবন তাঁর। ফাইটার জেট, প্রশিক্ষণ বিমান ও ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট মিলিয়ে ৩,৫০০ ঘণ্টারও বেশি বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে আশুতোষের ঝুলিতে। এক সময়ে মিরাজ-২০০০ স্কোয়াড্রনেরও দায়িত্বে ছিলেন আশুতোষ। পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ঘাঁটি এবং ফাইটার জেট ট্রেনিং ঘাঁটির কম্যান্ডারেরও দায়িত্বও সামলেছেন। অংশ নিয়েছেন অপারেশন সফেদ সাগর, অপারেশন রক্ষক এবং অপারেশন সিঁদুরে। মিরাজ-২০০০, বিভিন্ন মিগ বিমান, জাগুয়ার, তেজস, হক, অ্যান-৩২ এবং আইএল-৭৮ ওড়ানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।

    কোন কোন পদক রয়েছে আশুতোষের ক্যাবিনেটে

    আশুতোষ বর্তমানে ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফের দায়িত্বে রয়েছেন। তার আগে সেন্ট্রাল এয়ার কম্যান্ডের এয়ার অফিসার কম্যান্ডিং ইন চিফ ছিলেন। পরে চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যানের অধীনে চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ করা হয় তাঁকে। এয়ার হেডকোয়ার্টার্সের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এয়ার স্টাফের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর, প্রজেক্টস এবং প্ল্যানস বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ এবং ডেপুটি চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ হিসেবেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। দেশীয় যুদ্ধবিমান তেজস তৈরির প্রকল্পেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন ভূমিকায় তাঁর অবদান ভারতীয় বিমান বাহিনীর পরিচালনগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। তাঁর বিশিষ্ট ও অসাধারণ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বায়ু সেনা পদক (২০০৬), বিশিষ্ট সেবা পদক (২০১১), অতি বিশিষ্ট সেবা পদক (২০২৩) এবং পরম বিশিষ্ট সেবা পদক (২০২৬)-এ ভূষিত করা হয়েছে।

  • Rafale Indian Weapons: পুরো সোর্স কোড নয়, তবু রাফালে যুক্ত হবে দেশীয় অস্ত্র! ভারতের জন্য ‘পথ’ খুলছে ফ্রান্স?

    Rafale Indian Weapons: পুরো সোর্স কোড নয়, তবু রাফালে যুক্ত হবে দেশীয় অস্ত্র! ভারতের জন্য ‘পথ’ খুলছে ফ্রান্স?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমানে দেশীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিকে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়ার পথ খোঁজা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ফ্রান্স। ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব নিয়ে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যেই এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভবিষ্যতে বিদেশি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলেও তার অস্ত্রভাণ্ডার ও প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের ক্ষেত্রে ভারত আরও বেশি আত্মনির্ভর হতে চাইছে।

    ফরাসি এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সের ভাইস চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডমিনিক তার্দিফ বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ার আবহে তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় বায়ুসেনার প্রয়োজনীয়তা ফ্রান্স বুঝতে পারছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, রাফালকে এমনভাবে ব্যবহারের একটি ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে, যাতে ভারত ভবিষ্যতে শুধু বিমানের সঙ্গে আগে থেকেই সংযুক্ত অস্ত্রের উপর নির্ভরশীল না থাকে।

    ভারতের ‘সার্বভৌমত্ব’ ও আত্মনির্ভরতার প্রশ্ন

    তার্দিফ বলেন, একটি দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সার্বভৌমত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্সও এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্বের সঙ্গে দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

    ভারত গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার উপর বিশেষ জোর দিয়েছে। দেশীয় অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র, সেন্সর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিকে বিদেশি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়টিও সেই বৃহত্তর নীতির অংশ। রাফাল যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লির লক্ষ্য একই—বিদেশি বিমান ব্যবহার করলেও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যাতে সম্পূর্ণভাবে বিদেশি সরবরাহকারীর উপর নির্ভর করতে না হয়।

    তার্দিফের বক্তব্য, এমন একটি ব্যবস্থা খুঁজে বের করাই মূল বিষয়, যার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনা রাফালের সঙ্গে মূলত আগে থেকে সংযুক্ত নয়—এমন অস্ত্রও ব্যবহার করতে পারে। এই বিষয়ে ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা, ভারতীয় শিল্প সংস্থা এবং দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    সম্পূর্ণ সোর্স কোড না পেলেও কি দেশীয় অস্ত্র যুক্ত করা সম্ভব?

    রাফাল নিয়ে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানেই। আধুনিক যুদ্ধবিমানের সফটওয়্যার অত্যন্ত জটিল। বিমানের মিশন সিস্টেম, রেডার, সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং অস্ত্র ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি সফটওয়্যার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে কোনও নতুন অস্ত্রকে বিমানের সঙ্গে সংযুক্ত করতে গেলে বিমানের অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার সম্পর্কে নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্যের প্রয়োজন হয়।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরো যুদ্ধবিমানের ‘সোর্স কোড’ হাতে তুলে দিতে হবে। বরং একটি সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট বা আইসিডি-র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য দেওয়া।

    সহজভাবে বললে, আইসিডি হল এমন একটি প্রযুক্তিগত নথি, যেখানে একটি অস্ত্র, সেন্সর বা অন্য কোনও সরঞ্জাম কীভাবে বিমানের বিভিন্ন সিস্টেমের সঙ্গে যোগাযোগ করবে, তার নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে। এই ধরনের ইন্টারফেস-স্তরের তথ্য পাওয়া গেলে সম্পূর্ণ সোর্স কোডের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই দেশীয় অস্ত্রকে রাফালের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    ভারতের দৃষ্টিতে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সম্পূর্ণ সোর্স কোড পাওয়া একদিকে যেমন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে দেশীয় অস্ত্র সংযুক্ত করার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সফটওয়্যার কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া অপরিহার্য নাও হতে পারে।

    ১১৪ রাফালের প্রস্তাবিত চুক্তিতে কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারত ইতিমধ্যেই ফ্রান্সের কাছ থেকে পাওয়া ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। এবার আরও ১১৪টি রাফাল কেনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকার কথা রয়েছে। ফলে শুধু বিমান কেনাই নয়, ভারতের নিজস্ব শিল্পক্ষেত্রকে এর সঙ্গে কতটা যুক্ত করা যায়, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    এই বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যেই দেশীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তি রাফালে সংযুক্ত করার দাবি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, ভারত যদি ভবিষ্যতে নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র, সেন্সর বা অন্যান্য যুদ্ধ-প্রযুক্তি তৈরি করে, তা হলে প্রতিটি নতুন ব্যবস্থাকে বিদেশি যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হতে চাইছে না নয়াদিল্লি।

    অর্থাৎ, ১১৪ রাফালের সম্ভাব্য চুক্তিতে ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধু কতগুলি বিমান আসবে তা নয়। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—বিমানগুলির সঙ্গে ভারতীয় শিল্পের সম্পর্ক কতটা গভীর হবে এবং ভবিষ্যতে ভারত নিজস্ব অস্ত্র ও প্রযুক্তি কতটা স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারবে।

    রাফাল এফ৪ থেকে এফ৫—ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

    রাফাল নিজেও ক্রমাগত আধুনিকীকরণের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে ফ্রান্স রাফালের উন্নত এফ৪ মানের দিকে এগোচ্ছে। পাশাপাশি ২০৩০-এর দশকের জন্য পরবর্তী বড় আধুনিকীকরণ ধাপ হিসেবে এফ৫ নিয়ে কাজ চলছে।

    ফরাসি সংসদের নথি অনুযায়ী, রাফাল এফ৫ কর্মসূচিতে সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং প্রপালশন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে উন্নতির পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আজ রাফালের সঙ্গে কোন অস্ত্র বা প্রযুক্তি সংযুক্ত করা যাবে, সেই প্রশ্নটি শুধুমাত্র বর্তমান ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত নয়। আগামী এক-দুই দশকে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা কীভাবে গড়ে উঠবে, তার সঙ্গেও বিষয়টি সম্পর্কিত।

    ভারত ইতিমধ্যেই দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরিসর দ্রুত বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যতে সেই প্রযুক্তি যদি রাফালের মতো অত্যাধুনিক বিদেশি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সহজে যুক্ত করা যায়, তা হলে একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধবিমানকে কেন্দ্র করে তৈরি করা দেশীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহারিক পরিসরও বাড়তে পারে।

    শুধু রাফাল নয়, বৃহত্তর আত্মনির্ভরতার প্রশ্ন

    রাফালে দেশীয় অস্ত্র সংযুক্তির বিষয়টি তাই একটি নির্দিষ্ট চুক্তির প্রযুক্তিগত শর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা-আত্মনির্ভরতার প্রশ্নও জড়িত।

    বিদেশি যুদ্ধবিমান কেনার পর তার অস্ত্র, সফটওয়্যার এবং আপগ্রেডের ক্ষেত্রে যদি ব্যবহারকারী দেশকে প্রতিবার মূল নির্মাতার অনুমতির উপর নির্ভর করতে হয়, তা হলে যুদ্ধবিমানের পূর্ণ অপারেশনাল স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে। ভারত সেই নির্ভরতা কমিয়ে এমন একটি মডেল চাইছে, যেখানে বিদেশি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সমন্বয় করা সম্ভব হবে।

    ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বার্তা সেই আলোচনাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে ঠিক কী ধরনের প্রযুক্তিগত তথ্য ভারত পাবে, দেশীয় কোন কোন অস্ত্র রাফালের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে এবং প্রস্তাবিত ১১৪টি বিমানের চুক্তিতে এই বিষয়টি কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে—তা এখনও আলোচনার বিষয়।

  • Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাব দিতে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ভারতে হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা। কিন্তু পাকিস্তান পাল্টা সামরিক আক্রমণ শুরু করতেই সংঘাতের পরিধি বাড়ে। এরপর পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেই নিশানা করে অভিযান চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা (আইএএফ)। এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে সেই অভিযানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এল।

    ২২ এপ্রিল ২০২৫ পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। তার পর ৭ মে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তান পাল্টা ভারতীয় সামরিক ও অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালালে শুরু হয় তীব্র চার দিনের সামরিক সংঘাত। ১০ মে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

    ফাইটার জেট, এডব্লিউঅ্যান্ডসি ও ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ মে পাকিস্তানের চারটি বিমান হ্যাঙ্গারকে নিশানা করে আইএএফ। সেখানে যুদ্ধবিমান, এডব্লিউঅ্যান্ডসি (এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল) প্ল্যাটফর্ম এবং আনম্যানড কমব্যাট এরিয়াল ভেহিকল (ইউসিএভি) রাখা ছিল।

    রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জ্যাকোবাবাদে একাধিক এফ-১৬, একটি এডব্লিউঅ্যান্ডসি বিমান এবং আকিঞ্চি ও টিবি-২ শ্রেণির একাধিক ইউসিএভি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাক বায়ুসেনার কয়েকজন কর্মীর মৃত্যুর কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যাকোবাবাদ ছাড়াও ভোলারি, সুক্কুর ও মুরিদে থাকা হ্যাঙ্গারও হামলার নিশানায় ছিল।

    রানওয়েতেও নির্ভুল আঘাত

    পাকিস্তানের সারগোধা এবং রহিম ইয়ার খান সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতেও হামলা চালায় আইএএফ। লক্ষ্য ছিল রানওয়ের কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে ওই ঘাঁটিগুলিকে লাগাতার সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা কঠিন করে দেওয়া। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টে এই হামলার নির্ভুলতাকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি নিষ্ক্রিয় করার আইএএফের অভিযানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

    পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডেও আঘাত

    শুধু বিমান বা রানওয়ে নয়, পাকিস্তানের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল পরিকাঠামোকেও নিশানা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, চক্লালা এবং মুরিদে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল চক্লালার পরিকাঠামো, কারণ সেখানে পাকিস্তান বায়ুসেনার এয়ার ডিফেন্স কমান্ডের সদর দফতর ছিল।অর্থাৎ, ভারতীয় হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা নয়; বরং শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা ও সমন্বয়ের পরিকাঠামোকেও দুর্বল করে দেওয়া।

    আকাশ প্রতিরক্ষায় আইএসিসিএস-এর বড় ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরে ভারতের নিজস্ব ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (আইএসিসিএস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, সামরিক ও অসামরিক সমস্ত নজরদারি সেন্সরকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে একটি ‘কমন রিকগনাইজড এয়ার সিচুয়েশন পিকচার’ তৈরি করা হয়েছিল। একাধিক আইএএফ নেটওয়ার্কড ট্যাকটিক্যাল নোডের মাধ্যমে আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

    ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে ‘এস-৪০০ কিল’!

    অপারেশন সিঁদুর সংক্রান্ত রিপোর্টের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্ভবত এই ঘটনাটিই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, একটি এস-৪০০ ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি স্পেশাল-মিশন বিমানকে ধ্বংস করে। রিপোর্টে এটিকে ‘লংগেস্ট সারফেস-টু-এয়ার কিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই ঘটনা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন বলে দাবি করেছে মন্ত্রক। রিপোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রেডার নীরবে লক্ষ্যবস্তুটি ট্র্যাক করে এবং এস-৪০০-এর দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে তার ‘ফার বাউন্ডারি’ পর্যন্ত পরিচালিত করা হয়। অর্থাৎ, নজরদারি, ট্র্যাকিং, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং দীর্ঘপাল্লার ইন্টারসেপশন—এই গোটা ব্যবস্থার সমন্বয়েই ওই হামলা সম্ভব হয়।

    বায়ুসেনার সদস্যদের সম্মান

    অপারেশন সিঁদুরের পর ১২ মে ২০২৫ এয়ারফোর্স স্টেশন আদমপুরে গিয়ে বায়ুসেনার জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁদের সাহস ও ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পরে ১৫ অগস্ট ২০২৫ অপারেশন সিঁদুরে সাহসিকতা ও দৃঢ়তার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার ২১৯ জন সদস্যকে প্রেসিডেন্টস গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট, অপারেশন সিঁদুর শুধু জঙ্গি ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি, রানওয়ে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন পরিকাঠামো এবং এয়ার ডিফেন্স কমান্ড—সমগ্র সামরিক নেটওয়ার্ককেই চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছিল ভারত।

  • Defence Acquisition Council: শত্রুর ড্রোন ঠেকাতে ‘আকাশ তরঙ্গ’, ট্যাঙ্ক রক্ষায় এপিএস! ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা অনুমোদন কেন্দ্রের

    Defence Acquisition Council: শত্রুর ড্রোন ঠেকাতে ‘আকাশ তরঙ্গ’, ট্যাঙ্ক রক্ষায় এপিএস! ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা অনুমোদন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে শুক্রবার বসা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি (AoN) বা প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে।

    সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক দেশীয় ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই অনুমোদনের তালিকায়। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ড্রোন-বিরোধী যুদ্ধ, আকাশ প্রতিরক্ষা, ট্যাঙ্ক সুরক্ষা, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক সক্ষমতা এবং দীর্ঘক্ষণ নজরদারি চালানোর প্রযুক্তি-তে জোর দেওয়া। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যে ধরনের প্রযুক্তি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেই ক্ষেত্রগুলিতেই একসঙ্গে সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে ভারত।

    সেনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র

    ভারতীয় সেনার জন্য আকাশ তরঙ্গ (Akash Tarang) অ্যান্টি-ইউএভি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW Suite) ব্যবস্থা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত করা এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি, হামলা এবং লক্ষ্য চিহ্নিতকরণে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে সেনা গঠনের নিরাপত্তায় অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এছাড়াও সেনার জন্য ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM) কেনার অনুমোদন মিলেছে। হালকা ও বহনযোগ্য এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পদাতিক বাহিনীর হাতে শত্রুর সাঁজোয়া যান ও ট্যাঙ্ক মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াবে। একইসঙ্গে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM) ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবেও। বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় মাঝারি পাল্লার এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেনার সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

    স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা থেকে ট্যাঙ্কের সুরক্ষা

    সেনার জন্য ভেরি শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (V-SHORADS)-এরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সিং প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ এই ব্যবস্থা শত্রুর পাল্টা ব্যবস্থা মোকাবিলা করে আকাশ প্রতিরক্ষার কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি রয়েছে অ্যাকটিভ প্রোটেকশন সিস্টেম (APS)। ট্যাঙ্কের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক অস্ত্রের আঘাত প্রতিহত করে ট্যাঙ্ক ও তার ভিতরে থাকা সেনাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ানোই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।

    ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল জেট-চালিত কামিকাজে ড্রোন ব্যবস্থা কেনারও অনুমোদন দিয়েছে। এই ধরনের ড্রোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একইসঙ্গে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা, বেশি ধ্বংসক্ষমতা, টিকে থাকার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম খরচ—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে এগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নৌসেনার জন্য সমুদ্রের নিচে নতুন সক্ষমতা

    ভারতীয় নৌসেনার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাল্টি ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (MIGM)। সমুদ্রে শত্রুর গতিবিধি ও চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করার ক্ষেত্রে এই মাইন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    এছাড়াও নৌসেনার জন্য নেভাল শিপবোর্ন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (NSUAS) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অত্যাধুনিক সেন্সর-সমৃদ্ধ এই মানবহীন আকাশযানগুলি যুদ্ধজাহাজ থেকে পরিচালিত হয়ে সমুদ্র এলাকায় নজরদারি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করবে। ফলে নৌসেনার সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা আরও শক্তিশালী হবে।

    ভবিষ্যতের নৌযানের বৈদ্যুতিক প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা ও মূল্যায়নের জন্য ল্যান্ড বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (LBTF) তৈরিরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পরিকাঠামোয় বৈদ্যুতিক মোটর এবং সংশ্লিষ্ট প্রপালশন ব্যবস্থার পরীক্ষা করা যাবে। ভবিষ্যতের আরও উন্নত ও বিদ্যুৎচালিত নৌ প্ল্যাটফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    বায়ুসেনায় হাপস্ প্রযুক্তির প্রবেশ

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্যও বড় পদক্ষেপ করেছে প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ। ফিক্সড-উইং হাই অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (FW-HAPS) এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নামেই স্যাটেলাইটের সঙ্গে মিল থাকলেও হাপস্ আসলে উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করতে সক্ষম বিশেষ ধরনের প্ল্যাটফর্ম। এগুলির মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ ধরে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রিকোনেসঁস (ISR) বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, যোগাযোগ এবং রিমোট সেন্সিংয়ের কাজ করা সম্ভব। ফলে বায়ুসেনার দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি ও অপারেশনাল পরিসর বাড়ানোর ক্ষেত্রে এফডব্লিউ-হাপস্ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি চালানোর প্রয়োজন হলে এই প্রযুক্তি প্রচলিত প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।

    ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি

    ৫২ হাজার কোটি টাকার এই অনুমোদনের দিকে সামগ্রিকভাবে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণে শুধু প্রচলিত অস্ত্র কেনার বদলে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কামিকাজে ড্রোন, মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা, ট্যাঙ্কের সুরক্ষা, সমুদ্রের নিচে মাইন যুদ্ধ, জাহাজভিত্তিক মানবহীন আকাশযান এবং উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘস্থায়ী নজরদারি—প্রস্তাবগুলির পরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অনুমোদনগুলির মূল লক্ষ্য হল উন্নত দেশীয় এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের যুদ্ধপ্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা। অর্থাৎ, ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, নজরদারি, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং বাহিনীর টিকে থাকার ক্ষমতা—সব ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে ভারত।

  • China: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চিনের ক্ষতি কত? তথ্য গোপনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ড্রাগনের দেশ

    China: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চিনের ক্ষতি কত? তথ্য গোপনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ড্রাগনের দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে কয়েক দিন আগে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হলেও একই দুর্যোগে চিনের তিব্বত অঞ্চলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার প্রকৃত হিসাব পাওয়া কঠিন। তিব্বত থেকে পাওয়া তথ্যের উপর চিনা (China) সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণেই এই পরিস্থিতি বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চিনা কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যার প্রবল স্রোতে কাদা ও বিশালাকার পাথর ভেসে এসে এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে (Flood Damage Assessment)। তবে নেপাল সীমান্তবর্তী চিনা অংশের গ্রামগুলিতে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করতেন বলে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    চিনের ক্ষতি কত (China)

    দুর্যোগের পর নেপালের সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলের দিকে যান। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তাঁরা যতটা সম্ভব দুর্গত এলাকার কাছাকাছি পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ক্যামেরার সামনে তাঁদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন সাংবাদিকেরা। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের একটি সামগ্রিক চিত্র প্রকাশ্যে আসে।অন্যদিকে, চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে মূলত উদ্ধারকাজ নিয়েই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বন্যার স্রোতে ঠিক কী কী ধ্বংস হয়েছে বা কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সেই বিষয়ে তেমন কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “তিব্বতের একটি ত্রাণকেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত প্রতিবেদনে চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক তাঁর পিছনে বসে থাকা কোনও মানুষের সঙ্গেই কথা বলেননি।”

    সুড়ঙ্গে আটকে বহু শ্রমিক

    তিব্বত চিনের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঞ্চল। স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে তিব্বতিদের বিক্ষোভের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। এর মধ্যে আত্মদাহের ঘটনাও রয়েছে। চিনা সরকারের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বিশেষ সফর ছাড়া বিদেশি সংবাদমাধ্যমের পক্ষে তিব্বতে সহজে প্রবেশ করাও কঠিন। এদিকে নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে সফলভাবে একটি পাইপ ঢোকানোর পর তাঁদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে (China)।

    নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “ছোট ওই খোলা জায়গা দিয়ে বাতাস পাঠানো শুরু হয়েছে।” তবে বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকারী দলগুলিকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

    আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনও ১০০-র বেশি শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে জীবিত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন। ত্রিশূলী-৩এ এবং ত্রিশূলী-৩বি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাতেই উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গ ধসের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

    রাষ্ট্রসংঘের বক্তব্য

    রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিল এক বিবৃতিতে বলেন, “হিমবাহের আকস্মিক ধস এবং আকস্মিক বন্যা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, পাহাড়ি পরিবেশ কতটা ভঙ্গুর হতে পারে।”

    এদিকে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিশেষ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নিয়ে ভারতের আরও একটি বিমান আজ কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    তিনি জানান, ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ বিমান নেপালে অতিরিক্ত সহায়তা নিয়ে পৌঁছেছে। বিমানে বিশেষজ্ঞ দল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এর (Flood Damage Assessment) মধ্যে রয়েছে সুড়ঙ্গ-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের একটি দল, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম (China)।

     

  • R-37M Missile: গতি ম্যাক ৬, পাল্লা ৪০০ কিমি! রাশিয়ার থেকে ৩০০টি আর-৩৭এম ‘অ্যাওয়াক্স-কিলার’ কিনছে ভারত?

    R-37M Missile: গতি ম্যাক ৬, পাল্লা ৪০০ কিমি! রাশিয়ার থেকে ৩০০টি আর-৩৭এম ‘অ্যাওয়াক্স-কিলার’ কিনছে ভারত?

    সুশান্ত দাস

    ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি আরও বাড়াতে রুশ আর-৩৭এম ভেরি-লং-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার বিষয়ে ভারত এগোচ্ছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। প্রায় ৩০০টি আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। চুক্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ন্যাটো নামকরণ ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’

    ন্যাটো নামকরণ অনুযায়ী, আর-৩৭এম মিসাইলকে ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’ বলা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র সুখোই-৩০ এমকেআই-তে যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনা হাতে থাকা প্রচলিত আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় আরও অনেক বেশি দূরপাল্লার একটি অস্ত্র পাবে। তবে সর্বোচ্চ ঘোষিত পাল্লা এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর পাল্লা এক বিষয় নয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি কোন উচ্চতা থেকে ছোড়া হচ্ছে, উৎক্ষেপণের সময় বিমানের গতি কত, লক্ষ্যবস্তু কত দূরে এবং লক্ষ্য কীভাবে গতিপথ পরিবর্তন করছে—এসব বিষয়ের উপর প্রকৃত কার্যকর পাল্লা নির্ভর করে।

    কেন এত শক্তিশালী আর-৩৭এম?

    আর-৩৭এম মূলত কাছাকাছি দূরত্বের বিমানযুদ্ধ বা ডগফাইটের জন্য তৈরি নয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানকে অনেক দূর থেকেই আক্রমণ করা।

    এই তালিকায় রয়েছে—

    • ● এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স) বিমান
    • ● আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমান
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্ম
    • ● আকাশে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম

    এই ধরনের বিমান সরাসরি শত্রু যুদ্ধবিমানের মতো আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন না করলেও আধুনিক বিমানযুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    অ্যাওয়াক্স বিমানগুলি বিশাল এলাকার আকাশ পর্যবেক্ষণ করে শত্রু বিমান শনাক্ত ও অনুসরণ করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ট্যাঙ্কার বিমান যুদ্ধবিমানগুলিকে দীর্ঘসময় আকাশে থাকার সুযোগ দেয়। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্মগুলি শত্রুর রেডার, যোগাযোগ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এই সহায়ক বিমানগুলিকে দূরপাল্লা থেকে সরিয়ে দিতে পারলে গোটা শত্রু বিমান অভিযানের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

    আর-৩৭এমকে কেন ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ বলা হয়?

    আর-৩৭এম এমন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলি সাধারণত যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক পিছনে অবস্থান করে। একটি অ্যাওয়াক্স বিমান সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারিতে থাকে না। নিরাপদ দূরত্বে থেকে সেটি বিশাল এলাকার আকাশ পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজেদের যুদ্ধবিমানকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে। দূরপাল্লার আর-৩৭এম-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র সেই তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বকেই চ্যালেঞ্জ করতে পারে। একইভাবে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার কিংবা ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমানও শত্রুর বিমানবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্ল্যাটফর্মগুলির উপর দূর থেকে হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে শত্রুকে তার যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমানগুলিকে আরও পিছনে সরিয়ে রাখতে হতে পারে। এই কারণেই আর-৩৭এম-কে অনেক সময় ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

    আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের মারণ ক্ষমতা কত দূর?

    আর-৩৭এম-এর পাল্লা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। কিছু রিপোর্টে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাল্লার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে কার্যকর পাল্লা পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। উৎক্ষেপণের উচ্চতা, যুদ্ধবিমানের গতি, লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব এবং লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি—সবকিছুই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। আর-৩৭এম-এর সর্বোচ্চ গতি প্রায় ম্যাক ৬ পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.০৬ মিটার, ওজন প্রায় ৫১০ কিলোগ্রাম এবং এতে প্রায় ৬০ কেজির ফ্র্যাগমেন্টেড ওয়ারহেড রয়েছে। অর্থাৎ আকার ও ওজন—দুই দিক থেকেই এটি অত্যন্ত বড় আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র।

    কীভাবে লক্ষ্য খুঁজে নেয় আর-৩৭এম?

    আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর উন্নত নির্দেশনা ব্যবস্থা। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করে এগোতে পারে। উড়ানের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে থেকে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে নতুন তথ্যও পাওয়া যায়। এরপর লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছলে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব রেডার সিকার সক্রিয় হয়ে লক্ষ্যকে অনুসরণ করতে পারে। অর্থাৎ উৎক্ষেপণকারী সুখোই-৩০ এমকেআই-কে পুরো উড়ানজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে একইভাবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নির্দেশ করে যেতে হয় না। শেষ পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব রেডার ব্যবস্থা লক্ষ্য শনাক্ত করে আঘাত হানতে পারে।

    সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আর-৩৭এম-এর সমন্বয় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের কাছে বিপুল সংখ্যায় থাকা সুখোই-৩০ এমকেআই ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান। বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র বহনে সক্ষম এই যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আর-৩৭এম যুক্ত হলে ভারতের দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধের ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বড় আকারের সুখোই-৩০ এমকেআই-এর শক্তিশালী রেডার, দীর্ঘসময় আকাশে থাকার ক্ষমতা এবং বড় অস্ত্র বহনের সক্ষমতার সঙ্গে অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার আর-৩৭এম-এর সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষমতা তৈরি করতে পারে। এর ফলে শুধু শত্রু যুদ্ধবিমান নয়, শত্রুর পিছনের সারিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানকেও লক্ষ্য করার সুযোগ বাড়বে।

    চিন ও পাকিস্তানের মোকাবিলায় কেন দরকার দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র?

    আধুনিক আকাশযুদ্ধে বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ বা বিআরআর যুদ্ধের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ যুদ্ধবিমানগুলি একে অপরের খুব কাছে গিয়ে লড়াই করার পরিবর্তে অনেক দূর থেকেই প্রতিপক্ষকে শনাক্ত ও আঘাত করার চেষ্টা করছে। চিনের পিএল-১৫-এর মতো দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে। পাকিস্তানও আধুনিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দিকে এগিয়েছে। ভারত নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র, বিশেষ করে অস্ত্র পরিবারের উন্নত সংস্করণ নিয়েও কাজ করছে। কিন্তু দেশীয় এই প্রকল্পগুলির উন্নয়ন ও পরীক্ষা চলতে থাকায় আর-৩৭এম-এর মতো ইতিমধ্যে তৈরি ও ব্যবহৃত একটি অস্ত্র দ্রুত দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা দিতে পারে।

    ‘সুপার সুখোই’-এর সঙ্গে ভয়ঙ্কর সমন্বয়

    ভারত ইতিমধ্যেই সুখোই-৩০ এমকেআই-কে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য ‘সুপার সুখোই’ আধুনিকীকরণ কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে। এই আধুনিকীকরণের আওতায় বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● উন্নত এইএসএ রেডার
    • ● অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা
    • ● উন্নত অ্যাভিওনিক্স
    • ● নতুন সেন্সর ও মিশন ব্যবস্থা
    • ● দেশীয় ও বিদেশি দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের সংযুক্তি
    • ● দেশীয় অ্যাস্ট্রা ক্ষপণাস্ত্র পরিবারের বিভিন্ন সংস্করণের সংযুক্তি
    • ● ব্রহ্মোস-এর দীর্ঘপাল্লার সংস্করণের মতো অস্ত্রের সংযুক্তি
    • ● আর-৩৭এম-এর মতো অতিদূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য সংযুক্তি

    ফলে সুখোই-৩০ এমকেআই আগামী বহু বছর ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান হিসেবে কার্যকর থাকার সুযোগ পাবে।

    সুখোই-৩০ এমকেআই-তে আর-৩৭এম যুক্ত হলে ভারতের কী লাভ?

    আর-৩৭এম সংযুক্তির সম্ভাব্য গুরুত্ব শুধু নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশযুদ্ধের কৌশলেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

    এর মাধ্যমে—

    • ● প্রথমত, ভারতীয় যুদ্ধবিমান আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ পাবে।
    • ● দ্বিতীয়ত, শত্রুর অ্যাওয়াক্স, ট্যাঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্ল্যাটফর্মের উপর চাপ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
    • ● তৃতীয়ত, শত্রুর বিমানবাহিনীকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান আরও পিছনে সরিয়ে রাখতে বাধ্য করা যেতে পারে।
    • ● চতুর্থত, স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় ভারতের আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
    • ● পঞ্চমত, উন্নত রেডার, সেন্সর এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধব্যবস্থার সঙ্গে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার সমন্বিত আকাশ অভিযান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    ইউক্রেন যুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়েছে আর-৩৭এম

    আর-৩৭এম ইতিমধ্যেই রুশ যুদ্ধবিমানগুলির সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার মিগ-৩১ এবং বিভিন্ন সুখোই যুদ্ধবিমান। ইউক্রেন যুদ্ধে আর-৩৭এম ব্যবহারের বিভিন্ন রিপোর্টও সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা আধুনিক বিমানযুদ্ধে অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি শত্রু যুদ্ধবিমানকে নিজেদের অবস্থান, গতি এবং পরিচালন এলাকার বিষয়ে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করতে পারে।

    বদলে যেতে পারে আঞ্চলিক আকাশযুদ্ধের সমীকরণ

    ভারতের সুখোই-৩০ এমকেআই বহরে আর-৩৭এম যুক্ত হওয়ার খবর সত্যি হলে তা শুধু ভারতীয় বায়ুসেনার অস্ত্রভাণ্ডারেই নতুন সংযোজন হবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আকাশশক্তির ভারসাম্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আধুনিক বিমানযুদ্ধে শুধু কতগুলি যুদ্ধবিমান রয়েছে, সেটাই এখন মূল বিষয় নয়। কোন বিমান কত দূর থেকে লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে, কত দূরের লক্ষ্যকে আঘাত করতে পারে এবং কত দ্রুত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য পেতে পারে—এসব বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কোনও পক্ষই চুক্তি নিয়ে খোলসা করেনি

    এই জায়গাতেই আর-৩৭এম এবং ‘সুপার সুখোই’-এর সম্ভাব্য সমন্বয় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে প্রায় ৩০০টি আর-৩৭এম কেনার ১.২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং নির্দিষ্ট সরবরাহের সময়সীমা নিয়ে প্রকাশ্য সরকারি বিবৃতি না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে রিপোর্টভিত্তিক সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবেই দেখা উচিত। চূড়ান্ত চুক্তি, অস্ত্রের সংখ্যা, সংযুক্তিকরণের সময়সূচি এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সামনে এলে ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের প্রকৃত সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হবে।

  • Nepal Floods: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ধসে মৃত ১৬০, পাশে থাকার আশ্বাস মোদির, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত

    Nepal Floods: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ধসে মৃত ১৬০, পাশে থাকার আশ্বাস মোদির, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬০। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশো মানুষ। এর (Nepal Floods) মধ্যে রয়েছেন অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ভারত (PM Modi)। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস (C-130 Super Hercules) বিমানে করে নেপালে ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

    নেপালকে সমবেদনা ভারতের (Nepal Floods)

    ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর সমবেদনা এবং সহায়তার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির “উষ্ণ সংহতির বার্তা” এবং “উদার সহায়তার প্রস্তাবে”র জন্য কাঠমান্ডু গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। বলেন্দ্র বলেন, ‘‘এই সংহতির প্রকাশ আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। এই সম্পর্ককে আমরা গভীরভাবে মূল্য দিই।’’

    ‘‘নেপালের বোন ও ভাইদের পাশে ভারত’’

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নেপালের মানুষের পাশে ভারতের থাকার কথা জানান। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ভারত সব ধরনের সম্ভাব্য মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মোদি বলেন, ‘‘এই কঠিন সময়ে ভারতের মানুষ নেপালের তাঁদের বোন ও ভাইদের পাশে রয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, ভারত নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দল উদ্ধার ও ত্রাণকাজ নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।

    ভোটে কোশি নদীর জলস্ফীতিতে ভয়াবহ বন্যা

    বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলে আচমকাই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভোটে কোশি নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ফলে রসুয়া ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অঞ্চলগুলি তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত। পাশাপাশি নুওয়াকোট জেলায়ও বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

    প্রবল জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বসতি। একাধিক সেতু ভেসে গিয়েছে এবং অন্তত এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যকলাপ ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বন্যার পাশাপাশি ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধার এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছনোও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নেপালি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৫৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। সব (Nepal Floods) মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৬০-এ পৌঁছেছে।

    তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এখনও কয়েকশো মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধারকারী বিভিন্ন দল দুর্গত এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদার নীচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (PM Modi)।

    নিখোঁজ ১৩৩ ভারতীয় নাগরিক

    নেপালের এই ভয়াল বন্যায় অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতীয় প্রশাসনও পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

    ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং বিদেশমন্ত্রক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উদ্ধার ও দেশে ফেরাতে জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে। নেপালের পাশাপাশি চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, বিশেষ করে রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে (Nepal Floods)।

    ১০ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠাল ভারত

    দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ করেছে ভারত। ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে করে প্রায় ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী নেপালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম, মেডিক্যাল কিট এবং সৌরচালিত বাতিও রয়েছে। দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সৌরবাতি উদ্ধারকাজে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়াও একটি সি-১৭ (C-17) সামরিক পরিবহণ বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী দ্রুত নেপালে পাঠানো হতে পারে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (National Disaster Response Force) এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে উদ্ধারকারী দল ও বিশেষ সরঞ্জাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।

    সীমান্তজুড়ে যৌথ উদ্ধার অভিযান

    রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত অঞ্চল নেপাল ও চিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় সেখানে বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ওই এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর জন্য ভারত নেপাল ও চিন—দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই সমন্বয় রেখে চলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে স্থলপথের পাশাপাশি বিমানপথে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন

    এই পরিস্থিতিতে ভারতের দ্রুত সাহায্য শুধু উদ্ধার ও ত্রাণকাজেই নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগের সময়ে ভারতের এই সহায়তা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেই মনে করছে কাঠমান্ডু (নেপালের রাজধানী)। নেপালে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। নিখোঁজদের সন্ধান, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের (PM Modi) নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য (Nepal Floods)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলি ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের সন্ধান (PM Modi) এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ (Nepal Floods)।

     

  • Rafale vs J-16: রাফাল বনাম জে-১৬! চিনা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে মিশরের রাফালের ‘ডগফাইট’, কেন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত?

    Rafale vs J-16: রাফাল বনাম জে-১৬! চিনা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে মিশরের রাফালের ‘ডগফাইট’, কেন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত?

    সুশান্ত দাস

    চিন ও মিশরের যৌথ বিমান মহড়া  ‘ঈগল্স অফ সিভিলাইজেশন’ (Eagles of Civilisation) ঘিরে নতুন করে নজর পড়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমানকে নিয়ে। ২২ অগাস্ট শুরু হওয়া এই মহড়ায় প্রথমবারের মতো চিনের অত্যাধুনিক জে-১৬ (J-16) ফাইটার জেট মিশরের রাফালের বিরুদ্ধে সরাসরি সিমুলেটেড এয়ার কমব্যাটে অংশ নিয়েছে। ফলে চিনা পাইলটদের সামনে এমন একটি পশ্চিমী নকশার যুদ্ধবিমানকে কাছ থেকে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যে ধরনের যুদ্ধবিমান ভারতীয় বায়ুসেনাও ব্যবহার করে। তবে এই মহড়াকে সরাসরি ভারতীয় বায়ুসেনার রাফালের বিরুদ্ধে চিনা জে-১৬-এর পরীক্ষা হিসেবে দেখলে বিষয়টি অতিরঞ্জিত হবে। কারণ মিশরীয় ও ভারতীয় রাফালের অস্ত্র, সেন্সর, সফটওয়্যার, মিশন কনফিগারেশন এবং অপারেশনাল ডকট্রিন এক নয়। তা সত্ত্বেও চিনের জন্য এই মহড়া যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতের কাছেও বিষয়টি নজর রাখার মতো।

    কী ঘটছে চিন-মিশরের বায়ুসেনা মহড়ায়?

    চিন ও মিশরের বিমানবাহিনী যৌথভাবে এই মহড়া পরিচালনা করছে। মহড়ার প্রথম পর্যায়ে মূলত এক বনাম এক বিমানযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। চিনা ও মিশরীয় পাইলটরা একে অপরের যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য বিনিময় করছেন। এর পাশাপাশি বিমান নিরাপত্তা বিধি, আকাশসীমা ব্যবহারের নিয়ম, টেক-অফ ও ল্যান্ডিং পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, সেই বিষয়গুলিও অনুশীলন করা হচ্ছে। চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) এয়ার ফোর্স জানিয়েছে, মহড়া ধাপে ধাপে আরও জটিল হবে। প্রথমে এক বনাম এক লড়াইয়ের পর দুই বনাম দুই এয়ার কমব্যাট এবং পরে আরও জটিল যৌথ বিমান অভিযান অনুশীলন করা হবে।

    প্রথমবার রাফালের বিরুদ্ধে জে-১৬

    এই মহড়ার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, চিনা জে-১৬ প্রথমবার রাফালের সঙ্গে সিমুলেটেড কমব্যাট পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেল। চিন সাধারণত নিজেদের তৈরি বিভিন্ন যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রশিক্ষণ এবং ডগফাইট অনুশীলন করে। কিন্তু পশ্চিমী প্রযুক্তি ও নকশার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। সেই জায়গা থেকেই মিশরের রাফাল চিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিমুলেটেড এয়ার কমব্যাটের মাধ্যমে চিনা পাইলটরা রাফালের উড়ানগত বৈশিষ্ট্য, ম্যানুভারিং ক্ষমতা এবং সম্ভাব্য কৌশলগত আচরণ সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পেতে পারেন। অর্থাৎ, শুধু জে-১৬ কীভাবে উড়বে বা আক্রমণ করবে, তা নয়— প্রতিপক্ষ হিসেবে রাফালকে সামনে রেখে চিনা পাইলটদের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    ভারতের রাফালের সঙ্গে এর সম্পর্ক কোথায়?

    এখানেই বিষয়টি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান আধুনিক যুদ্ধবিমান হল দাসো রাফাল। ফলে মিশরের রাফালের বিরুদ্ধে চিনা জে-১৬-এর প্রশিক্ষণকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি ঘটনা হিসেবে দেখা কঠিন। চিনা বিমান বিশেষজ্ঞ ওয়াং ইয়ানানও উল্লেখ করেছেন, রাফাল সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এই মহড়া চিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে। কারণ ভারত ও মিশর—দুই দেশই রাফালের প্রধান ব্যবহারকারী। তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। মিশরের রাফাল এবং ভারতের রাফাল একই পরিবারের যুদ্ধবিমান হলেও তাদের অস্ত্রভাণ্ডার, সেন্সর, সফটওয়্যার, ডেটা-লিঙ্ক, মিশন সিস্টেম এবং অপারেশনাল ব্যবহারে পার্থক্য থাকতে পারে। ফলে মিশরীয় রাফালের বিরুদ্ধে জে-১৬-এর অভিজ্ঞতাকে সরাসরি ভারত-চিন আকাশযুদ্ধের মহড়া বলা ঠিক হবে না।

    জে-১৬ বনাম রাফাল: চিন কী শিখতে পারে?

    চিনা পাইলটদের জন্য এই ধরনের প্রশিক্ষণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল প্রতিপক্ষের যুদ্ধবিমানের আচরণ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা তৈরি করা। রাফালের বিরুদ্ধে সিমুলেটেড কমব্যাটে চিনা পাইলটরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন—

    • ● রাফাল কীভাবে আক্রমণাত্মক ম্যানুভার করে
    • ● কাছাকাছি আকাশযুদ্ধে তার গতিবিধি কেমন
    • ● বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রাফালের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে
    • ● জে-১৬-এর কৌশলগত অবস্থান কীভাবে পরিবর্তন করা যায়
    • ● কোন ধরনের পরিস্থিতিতে জে-১৬ পাইলটদের কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করা উচিত

    এই অভিজ্ঞতা শুধু পাইলটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রশিক্ষক, কৌশলবিদ এবং সামরিক পরিকল্পনাকারীরাও এই মহড়া থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে ভবিষ্যতের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং এয়ার-কমব্যাট ট্যাকটিক্স আরও উন্নত করতে পারেন।

    কতটা শক্তিশালী চিনের জে-১৬?

    জে-১৬ চিনা বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভারী শ্রেণির, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট মাল্টিরোল ফাইটার। বিভিন্ন ধরনের আকাশযুদ্ধ এবং স্ট্রাইক মিশনে ব্যবহারের জন্য বিমানটিকে তৈরি করেছে চিন। অন্যদিকে রাফালও একটি অত্যাধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল ফাইটার, যা আকাশ প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে গ্রাউন্ড অ্যাটাক—বিভিন্ন ধরনের মিশনে ব্যবহার করা যায়। তাই জে-১৬ ও রাফালের মধ্যে সিমুলেটেড কমব্যাট চিনা পাইলটদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে এই ধরনের মহড়ার ফলাফল দেখেই কোনও একটি যুদ্ধবিমান অন্যটির তুলনায় নিশ্চিতভাবে শ্রেষ্ঠ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। কারণ আধুনিক আকাশযুদ্ধে শুধু বিমানটির ক্ষমতাই নয়, পাইলটের দক্ষতা, অস্ত্র, সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ডেটা-লিঙ্ক, এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম এবং সামগ্রিক যুদ্ধকৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

    ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই মহড়া?

    ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল উদ্বেগের জায়গা হল—চিনা বায়ুসেনা এমন একটি যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে, যার একটি সংস্করণ ভারতীয় বায়ুসেনার হাতেও রয়েছে। ভারত-চিন সীমান্তে ভবিষ্যতে আকাশযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে রাফাল চিনা বিমানবাহিনীর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে। সেই কারণে চিনা পাইলটদের রাফালের উড়ানগত আচরণ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা তৈরি হওয়া ভারতের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের নজর এড়াবে না।

    তবে মিশরীয় রাফালের বিরুদ্ধে মহড়া মানেই চিন ভারতীয় রাফালের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে—এমনটা বলা যাবে না। কারণ ভারতীয় রাফাল শুধু একটি বিমান নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভারতীয় অস্ত্রব্যবস্থা, সেন্সর, সফটওয়্যার, ডেটা-লিঙ্ক, প্রশিক্ষণ ও নিজস্ব অপারেশনাল কৌশল। ফলে মিশরীয় রাফালকে সামনে রেখে চিন যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তা ভারতের ক্ষেত্রে আংশিকভাবে প্রাসঙ্গিক, কিন্তু সম্পূর্ণ সমতুল্য নয়।

    ‘ঈগল্স অফ সিভিলাইজেশন’ কেন নজরে রাখছে নয়াদিল্লি?

    এই মহড়ার তাৎপর্য শুধু চিন-মিশরের সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়। চিনের জন্য এটি পশ্চিমী নকশার একটি উন্নত যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের বিরল সুযোগ। আর ভারতের জন্য এর গুরুত্ব অন্য জায়গায়। চিনা বায়ুসেনা যত বেশি রাফালের মতো যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ করবে, তত বেশি তাদের পাইলট ও প্রশিক্ষকদের কাছে এই প্ল্যাটফর্মের আচরণ পরিচিত হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে ভারত-চিন উত্তেজনা বাড়লে এই অভিজ্ঞতা চিনা কৌশল নির্ধারণে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।

    অন্যদিকে, ভারতের কাছেও এই পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে—আধুনিক আকাশযুদ্ধে শুধু উন্নত যুদ্ধবিমান হাতে থাকলেই হবে না, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সেই যুদ্ধবিমান সম্পর্কে কতটা জানে এবং তার মোকাবিলায় কী ধরনের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ‘ঈগল্স অফ সিভিলাইজেশন’-এ জে-১৬ ও রাফালের মুখোমুখি হওয়া কোনও সরাসরি ভারত-চিন যুদ্ধের মহড়া নয়। কিন্তু এটি এমন একটি প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা, যা চিনা বায়ুসেনাকে রাফাল সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিচ্ছে। আর সেই কারণেই ভারতীয় বায়ুসেনার রাফালকে ঘিরে এই চিন-মিশর মহড়ার দিকে কৌশলগত নজর রাখা স্বাভাবিক।

  • India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে শুধু যুদ্ধের পরিকল্পনা বা কৌশলগত দায়িত্বেই ছিলেন না ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটরা। সরাসরি যুদ্ধ অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (PoJK) জঙ্গি ঘাঁটি এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোয় হামলার জন্য পরিচালিত একাধিক মিশনে মহিলা পাইলটরা অংশ নেন। প্রতিরক্ষা সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে এমনই দাবি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় এক মহিলা ফাইটার পাইলট সুখোই সু-৩০ (Su-30MKI) যুদ্ধবিমান উড়িয়েছিলেন। এই যুদ্ধবিমান ব্রহ্মোস (BrahMos) ও র‌্যামপেজ  (Rampage) -এর মতো অত্যাধুনিক এয়ার-টু-গ্রাউন্ড অস্ত্র বহনে সক্ষম। তবে ওই নির্দিষ্ট অভিযানে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা প্রকাশ করেনি প্রতিরক্ষা সূত্র। অস্ত্র ব্যবহারের বিস্তারিত এখনও গোপনীয় বলে জানানো হয়েছে। সূত্রের দাবি, হামলার পর পাকিস্তান কয়েকটি জায়গা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করে সেগুলির ধরন ও উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণেই ব্যবহৃত অস্ত্রের নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

    একাধিক মহিলা পাইলট ছিলেন অপারেশন সিঁদুরে

    সম্প্রতি ১৫ অগস্ট মুক্তি পেয়েছে  ডিসকভারির দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘Declassified: Operation Sindoor’। ২০২৫ সালের মে মাসে ৮৮ ঘণ্টার ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের নেপথ্যের পরিকল্পনা ও সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে ওই তথ্যচিত্রে। সেখানে এক মহিলা অফিসারের বক্তব্যও রয়েছে, যদিও তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে একাধিক মহিলা ফাইটার পাইলট অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা সুখোই-৩০ এবং রাফাল (Rafale)— দুই ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেন। কেউ ককপিটের সামনের আসনে বসে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, আবার কেউ পিছনের আসনে বসে উইপন সিস্টেম অপারেটর (WSO) হিসেবে অভিযানে যুক্ত ছিলেন। প্রতিরক্ষা সূত্রের ব্যাখ্যা, ফাইটার স্ট্রিমে যোগ দেওয়ার পর পুরুষ ও মহিলা পাইলটের মধ্যে কার্যত কোনও পার্থক্য থাকে না। একই প্রশিক্ষণ, একই অপারেশনাল দায়িত্ব এবং একই ধরনের যুদ্ধ মিশনে তাঁদের নিয়োগ করা হয়।

    ৭ মে-র ব্রিফিংয়ের বাইরেও ছিল মহিলা অফিসারদের ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরের সময় মহিলা অফিসারদের ভূমিকা প্রথম থেকেই নজর কেড়েছিল। ৭ মে-র সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় সেনার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং বায়ুসেনার হয়ে সামনে এসেছিলেন উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। তাঁরা অপারেশনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই তথ্য সামনে আসায় স্পষ্ট হচ্ছে, মহিলা অফিসারদের ভূমিকা শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁরা ভারতের প্রথম সারির যুদ্ধবিমান নিয়ে সরাসরি অপারেশনাল মিশনেও অংশ নিয়েছিলেন।

    প্রথম দিনেই ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা

    ২০২৫ সালের ৭ মে ভোরে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়। প্রথম দফায় মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিকে টার্গেট করে ভারত। এর মধ্যে পাকিস্তানের মুরিদকেতে থাকা মারকাজ তৈবা ছিল লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ সদর দফতর ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বাহাওয়ালপুরের মারকাজ সুবহানাল্লা ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। এছাড়াও মুজফফরাবাদ, কোটলি, শিয়ালকোট এবং ভিম্বরে একাধিক জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের নয়টি টার্গেটের মধ্যে মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। অন্য লক্ষ্যগুলিতে ভারতীয় সেনা লয়টারিং মিউনিশন এবং দূরপাল্লার আর্টিলারি ব্যবহার করে আঘাত হানে।

    বালাকোটের তুলনায় অনেক বড় অভিযান

    মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলার তাৎপর্য ছিল যথেষ্ট বেশি। মুরিদকে দীর্ঘদিন ধরেই লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বাহাওয়ালপুর ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ২০১৯ সালের বালাকোট অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছিল ভারত। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে একসঙ্গে নয়টি টার্গেটে হামলা চালানো হয়। এরপর অভিযান আরও বিস্তৃত হয়। পাকিস্তান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ শুরু করলে সংঘাত জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলার গণ্ডি পেরিয়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেও লক্ষ্য করে। ভারতীয় বায়ুসেনা বিভিন্ন পর্যায়ে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ব্রহ্মোস, স্ক্যাল্প-সহ একাধিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে।

    পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতেও ব্রহ্মোস হামলা?

    অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী পর্যায়ে সুখোই-৩০ এমকেআই থেকে ব্রহ্মোস উৎক্ষেপণ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিও ছিল বলে জানা যায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও পরে প্রকাশ্যে দাবি করেন যে ভারতীয় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির একটি সামরিক ঘাঁটিও ছিল।

    অর্থাৎ, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটদের ভূমিকা শুধুমাত্র প্রতীকী বা সহায়ক ছিল না। প্রতিরক্ষা সূত্রের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ অভিযানে সরাসরি অপারেশনাল কমব্যাট মিশনের অংশ ছিলেন। তবে কোন পাইলট কোন নির্দিষ্ট মিশনে কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, তার বিস্তারিত এখনও সামরিক গোপনীয়তার আওতায় রয়েছে।

LinkedIn
Share